- প্রচ্ছদ
- Topic
হামাস
বিখ্যাত র্যাপার ম্যাকলেমোরের আসন্ন যুক্তরাজ্য ট্যুরের আয়ের একটি অংশ এমন একটি গোষ্ঠীর তহবিলে যাচ্ছে, যারা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের জিম্মি করার ঘটনাকে 'বৈধ' এবং 'কার্যকর' বলে আখ্যায়িত করেছিল। দ্য জিউইশ ক্রনিকলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ অক্টোবর লন্ডনের ১২ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতার ওয়েম্বলি অ্যারেনায় ম্যাকলেমোরের একটি কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে। লাইভ নেশন পরিচালিত এই কনসার্টের আয় থেকে 'প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্ট'সহ বেশ কয়েকটি সংগঠনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্টের যুক্তরাজ্যের মুখপাত্র জেনিন হুরানি ৭ অক্টোবরের হামলা ও জিম্মি করার ঘটনাকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন এবং সংগঠনটি এই হত্যাযজ্ঞকে 'কারাগার ভাঙার' (prison break) সমতুল্য বলে মন্তব্য করেছিল। এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে দ্য জিউইশ লিডারশিপ কাউন্সিল (জেএলসি)। তারা সতর্ক করে বলেছে, কনসার্টের আয়ের মাধ্যমে প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্টকে অর্থায়ন করার অর্থ হলো ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতাকে পরোক্ষভাবে বৈধতা দেওয়া। জেএলসি কনসার্ট আয়োজক প্রতিষ্ঠান লাইভ নেশনের কাছে তাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে ইহুদি কর্মী ও দর্শকদের সুরক্ষায় কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। উল্লেখ্য, বেঞ্জামিন হ্যাগারটি, যিনি সংগীতাঙ্গনে ম্যাকলেমোর নামেই বেশি পরিচিত, সম্প্রতি পপ তারকা অ্যাড শিরানের মার্কিন ট্যুর থেকে বাদ পড়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দুটি পারফরম্যান্সের সময় তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে 'ফ্রি প্যালেস্টাইন' স্লোগান দেন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও বর্ণবাদের অভিযোগ তোলেন। যদিও ইসরায়েল সরকার এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তার এই মন্তব্যের পর জিলেট স্টেডিয়ামের মালিক রবার্ট ক্রাফটসহ বেশ কয়েকজন ভেন্যু মালিক আয়োজকদের জানিয়ে দেন যে তারা ম্যাকলেমোরকে তাদের ভেন্যুতে পারফর্ম করতে দেবেন না। ফলশ্রুতিতে আয়োজক সংস্থা মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপ তাকে ট্যুর থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয়। ম্যাকলেমোরকে বাদ দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েলি-আমেরিকান কাউন্সিল। তারা একে 'ইহুদি-বিদ্বেষী বক্তব্য' থেকে হাজার হাজার দর্শককে বাঁচানোর একটি সঠিক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছে। সংগঠনটির মতে, বাকস্বাধীনতার অধিকার থাকলেও মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিদ্বেষ ছড়ানোর কোনো অধিকার তার নেই। তবে মার্কিন ট্যুর থেকে বাদ পড়ার পর ম্যাকলেমোর দমে যাননি, বরং নিজস্ব উদ্যোগে 'ম্যাকলেমোর অ্যান্ড ফ্রেন্ডস — ফ্রি প্যালেস্টাইন ট্যুর' নামের এই নতুন কনসার্ট সিরিজের ঘোষণা দিয়েছেন, যা এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে হামাসের জন্য অর্থ সংগ্রহে সহায়তা এবং সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেইডে দুই লাখ ২৪ হাজার ডলারের বেশি জালিয়াতির অভিযোগে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে হামাসের অর্থায়নে জড়িত একটি নেটওয়ার্কে এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর লুইজিয়ানার সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ এলাকায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মুরিলের কার্যালয়। লুইজিয়ানা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ৩৫ বছর বয়সী আবদেল আদহামি, তাঁর স্ত্রী ২৯ বছর বয়সী ইমান এইচ ডি স্রুর, ৩৩ বছর বয়সী ওমর আদহামি, তাঁর স্ত্রী ২৮ বছর বয়সী আমানি আবু জেনাহ এবং দুই ভাইয়ের ছোট ভাই ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ আই আদহামি। তাঁরা লুইজিয়ানার কভিংটন এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারের পর পাঁচজনকেই সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ জেলে নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এফবিআইয়ের নেতৃত্বে ফেডারেল ও স্টেট পর্যায়ের যৌথ তদন্তে দুই ভাই আবদেল ও ওমরের বিরুদ্ধে হামাসের জন্য অর্থ সংগ্রহের একটি নেটওয়ার্কে অংশ নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের দাবি, নেটওয়ার্কটি হামাসের সহায়তায় ১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ ও স্থানান্তর করেছে। এর মধ্যে ওই দুই ভাই এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হামাসকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ফলে সংগঠনটির জন্য জেনেশুনে অর্থ বা অন্যান্য বস্তুগত সহায়তা প্রদান যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনে গুরুতর অপরাধ। দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে এই অর্থায়নসংক্রান্ত অভিযোগ ফেডারেল পর্যায়ে আনা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অর্থায়নের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিবারের মেডিকেইড সুবিধা গ্রহণের বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে শুরু করে কর্তৃপক্ষ। লুইজিয়ানা ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এবং লুইজিয়ানা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ যৌথভাবে তাঁদের আয় ও সরকারি স্বাস্থ্যসুবিধা গ্রহণের তথ্য পর্যালোচনা করে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের প্রকৃত আয় কম দেখিয়ে মেডিকেইডের সুবিধা নিয়েছেন। এভাবে সরকারি কর্মসূচি থেকে মোট দুই লাখ ২৪ হাজার ৬৪০ ডলারের সুবিধা অনিয়মের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে বলে হিসাব করেছে কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃত আয় সঠিকভাবে জানানো হলে তাঁরা এসব সুবিধার সবটুকু পাওয়ার যোগ্য হতেন না। মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি হেলথ ইন্স্যুরেন্স কর্মসূচি, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা ব্যক্তি ও পরিবারসহ যোগ্য ব্যক্তিরা চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পান। এই কর্মসূচিতে আবেদন ও যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিবারের আয় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে জানানো বাধ্যতামূলক। ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে সুবিধা নেওয়া হলে তা সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির আওতায় পড়তে পারে। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযুক্ত আবদেল আদহামি ও তাঁর স্ত্রী ইমান স্রুরের বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির পাঁচটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মেডিকেইড কর্মসূচির আনুমানিক এক লাখ ১৩ হাজার ৩৪৪ ডলারের ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে ওমর আদহামি ও তাঁর স্ত্রী আমানি আবু জেনাহর বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির তিনটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের হিসাবে তাঁদের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মসূচির ক্ষতির পরিমাণ ৮১ হাজার ৯৯ ডলার। পরিবারের আরেক সদস্য মোহাম্মদ আই আদহামির বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির তিনটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের হিসাবে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনিয়মের ফলে মেডিকেইড কর্মসূচির ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার ১৯৭ ডলার। অন্যদিকে ফেডারেল বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামাসে অর্থায়নের অভিযোগে আবদেল আদহামির বিরুদ্ধে প্রায় ৯৪ হাজার ডলার এবং ওমর আদহামির বিরুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার ডলার দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব অর্থ পাঠানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ব্যাংক ট্রান্সফার এবং মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে অর্থ পাঠানোর বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অর্থ সংগ্রহের নেটওয়ার্কটির কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হিসেবে সালিম আলজাক নামের একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজার মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা সংগ্রহের নামে অর্থ তুলতেন। তবে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ হামাসের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ওই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ফ্রান্সেও তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্থ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে লুইজিয়ানার অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মুরিল সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির অভিযোগকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, লুইজিয়ানার করদাতাদের অর্থ থেকে পরিচালিত কর্মসূচিতে জালিয়াতির ঘটনা ঘটলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, তাঁর কার্যালয় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন উদ্যোগে স্টেটের করদাতাদের জন্য আট কোটি ডলারের বেশি অর্থ উদ্ধার করেছে। তবে এ মামলায় দুটি পৃথক অভিযোগের বিষয় স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ। হামাসের জন্য অর্থায়নের অভিযোগ মূলত দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ফেডারেল পর্যায়ে তদন্ত ও বিচারের বিষয়। অন্যদিকে মেডিকেইডে আয়সংক্রান্ত ভুল তথ্য দিয়ে সরকারি সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে স্টেট পর্যায়ের মামলা। মেডিকেইডের অর্থ সরাসরি হামাসের কাছে পাঠানো হয়েছে, এমন কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা আর্থিক যোগসূত্র কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি। পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় লুইজিয়ানা ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, এফবিআই, সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ শেরিফ অফিস, হ্যামন্ড পুলিশ ডিপার্টমেন্ট, ম্যান্ডেভিল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং লুইজিয়ানা স্টেট পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করেছেন। মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় স্টেটের পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন সেন্ট ট্যামানি প্যারিশের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কলিন সিমস। ফেডারেল পর্যায়ে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা দেওয়া, এ ধরনের সহায়তার ষড়যন্ত্র, ওয়্যার ফ্রড এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকলেই অভিযুক্তদের সেই সাজা হবে, এমন নয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট আইনের প্রয়োগ এবং বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর শাস্তি নির্ভর করবে। লুইজিয়ানার এই ঘটনায় সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিতে জালিয়াতির অভিযোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নেটওয়ার্কে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্থ পাঠানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে অভিযুক্ত পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। মার্কিন আইন অনুযায়ী, আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। সূত্র: বাফলো প্রতিদিন
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে গাজার মানবিক সহায়তার নামে অর্থ সংগ্রহ করে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের কাছে অর্থ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ফেডারেল আদালতে সম্প্রতি প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, আবদেল আদহামি ও ওমর আদহামির বিরুদ্ধে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে বস্তুগত সহায়তা দেওয়া ও তারের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। বড় ভাই আবদেলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। তারা গত মাসে লুইজিয়ানায় গ্রেপ্তার হন এবং আদালতে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো তাদের দোষ প্রমাণিত হয়নি। ফেডারেল তদন্তকারীদের অভিযোগ, দুই ভাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গাজার মানুষের জন্য মানবিক সহায়তার কথা বলে অর্থ সংগ্রহ করতেন। পরে সেই অর্থের একটি অংশ গাজায় থাকা সালিম আলজাক নামের এক ব্যক্তির কাছে পাঠানো হতো। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, আলজাক হামাসের সঙ্গে যুক্ত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠনটির প্রচারণা চালাতেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট তহবিল সংগ্রহের কার্যক্রম থেকে ২০২০ সাল থেকে অন্তত ১৭ লাখ ডলার সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছেন। তদন্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে আবদেল হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ৮৩ হাজার ডলারের বেশি পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওমরের বিরুদ্ধে প্রায় ৬ হাজার ডলার পাঠানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে বিভিন্ন আদালত নথি ও প্রতিবেদনে অর্থের সময়কাল ও মোট পরিমাণে কিছু পার্থক্য রয়েছে। এসব অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং কোন কোন লেনদেন সরাসরি হামাসের কাছে গেছে, তা মামলার প্রমাণের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। আদালতের অভিযোগে বলা হয়েছে, আবদেল একাধিক স্ন্যাপচ্যাট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে হামাসের পক্ষে প্রচারণামূলক কনটেন্ট প্রকাশ করতেন এবং অনুসারীদের একটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে পাঠাতেন। ওই টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের পক্ষে বার্তা, ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পাশাপাশি অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানানো হতো বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। অর্থ লেনদেন গোপন রাখতে কথোপকথনে সাংকেতিক শব্দ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। আদালতের নথিতে ‘রুটি’ শব্দটি অর্থ বা হামাসের যোদ্ধাদের বোঝাতে ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত আবদেল দুটি পেপ্যাল অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩৫ হাজার ও ৪৬ হাজার ডলার পাঠান। পরে এসব অর্থ আলজাকের কাছে পৌঁছেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। মামলাটি সামনে আসার ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের অনলাইন গোপন তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে আলজাক ভুল করে ‘হুসেইন’ নামে পরিচয় দেওয়া একজন গোপন এনওয়াইপিডি কর্মকর্তার সঙ্গে স্ন্যাপচ্যাটে যোগাযোগ করেন। ওই কর্মকর্তা অনলাইনে তার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন এবং পরবর্তী সময়ে আলজাক তাকে আবদেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। আদালতের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আলজাক ওই গোপন কর্মকর্তাকে আবদেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ পাঠানোর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করতে বলেন। পরে আবদেল ওই কর্মকর্তার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন এবং অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে কথা বলেন। তবে ওই গোপন কর্মকর্তা শেষ পর্যন্ত আবদেলকে কোনো অর্থ পাঠিয়েছিলেন কি না, তা আদালতের নথিতে স্পষ্ট নয়। তদন্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন অর্থ লেনদেনের ব্যবহার বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দাতাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা এবং পরে বিভিন্ন ডিজিটাল অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তা গাজায় পাঠানো হতো। এই কার্যক্রমের সঙ্গে হামাসের যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিই তদন্তের অন্যতম প্রধান বিষয়। আবদেল ও ওমর দুজনের বিরুদ্ধেই বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে বস্তুগত সহায়তা দেওয়া এবং তারের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। আবদেলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগও আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। এই মামলায় আলজাকের বিরুদ্ধেও আলাদা অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার ষড়যন্ত্র, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্র, অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ এক বিবৃতিতে বলেছেন, এনওয়াইপিডির সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম নিউইয়র্কের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার দাবি, বিভাগের গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা একটি আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে এবং হামাসের কাছে ২০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ যাওয়ার অভিযোগের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে এটি পুলিশের পক্ষের দাবি এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর প্রমাণ মূল্যায়ন করা হবে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন অর্থ লেনদেন এবং দাতব্য তহবিল ব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসী সংগঠনে অর্থ যাওয়ার অভিযোগে ফেডারেল তদন্ত বাড়ছে। চলতি বছরেও মার্কিন বিচার বিভাগ হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এসব মামলায় কর্তৃপক্ষ মানবিক সহায়তার নামে সংগৃহীত অর্থের প্রকৃত ব্যবহার এবং বিদেশি সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ সংঘাতে একাধিক ফ্রন্ট একসঙ্গে সক্রিয় করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। ইসরায়েলি গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাত দিয়ে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, তেহরান হিজবুল্লাহ, হামাস, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের ইরানপন্থি মিলিশিয়াদের সমন্বয় করে একই সময়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ তৈরির কৌশল নিয়ে কাজ করছে। জেরুজালেম পোস্টের ৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের লক্ষ্য হলো ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সময় যে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল, ভবিষ্যতে তা এড়ানো। ওই হামলায় হামাস আকস্মিকভাবে ইসরায়েলে আক্রমণ চালালেও একই সময়ে ইরানপন্থি অন্যান্য গোষ্ঠী বড় পরিসরে আলাদা ফ্রন্ট খুলতে পারেনি। নতুন পরিকল্পনায় শুরু থেকেই একাধিক ফ্রন্টকে একই অভিযানের অংশ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে ইসরায়েলি মূল্যায়নে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহ, হুথি ও ইরাকের ইরানপন্থি মিলিশিয়াদের কমান্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও বৈঠক করছেন। এর উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে সংঘাত শুরু হলে বিভিন্ন গোষ্ঠীর কার্যক্রম যেন বিচ্ছিন্নভাবে না চলে, বরং সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়। ইসরায়েলি সামরিক মূল্যায়নে এরই মধ্যে হামাস ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আবারও সমন্বয় বাড়ার কথা বলা হয়েছে। আগস্টে জেরুজালেম পোস্টের আরেক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মূল্যায়নের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, ইরানের সহায়তায় হামাস ও হিজবুল্লাহ নিজেদের কার্যক্রমের সমন্বয় বাড়াচ্ছে। নতুন কৌশলের পেছনে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। হামাসের ওই হামলার পর হিজবুল্লাহ লেবানন সীমান্ত থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করলেও শুরুতেই হামাসের সঙ্গে সমন্বিতভাবে বড় ধরনের আক্রমণ চালায়নি। ইসরায়েলি মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান ও হিজবুল্লাহ হামাসের ওই অভিযানের সব বিস্তারিত তথ্য বা সঠিক সময় সম্পর্কে আগে থেকে অবহিত ছিল না। এবার তেহরান সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে আগাম সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানপন্থি এই নেটওয়ার্কে লেবাননের হিজবুল্লাহ, গাজার হামাস, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর সামরিক সক্ষমতা ও ভৌগোলিক অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় একযোগে তাদের সক্রিয় করা হলে ইসরায়েলের ওপর একাধিক দিক থেকে চাপ তৈরি হতে পারে বলে ইসরায়েলি বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিবর্তনও ইরানের কৌশলে প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন এবং হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পর ইরাক ও ইয়েমেনভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোর গুরুত্ব তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর মধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ ও সামরিক সমন্বয় জোরদারের বিষয়ও রয়েছে। তবে এসব প্রস্তুতির কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং কোনো নির্দিষ্ট হামলার সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এই সম্ভাব্য সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে বর্তমানে বিষয়টি মূলত ইসরায়েলি গোয়েন্দা মূল্যায়ন ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের একটি কৌশলগত এলাকায় হিজবুল্লাহর টানেল নেটওয়ার্ক থেকে যোদ্ধাদের সরিয়ে দেওয়ার দাবি করে। হিজবুল্লাহ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি। বিশ্লেষকদের কাছে তাই ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর খবরটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ হামাস, হিজবুল্লাহ, হুথি ও ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী একই সময়ে সক্রিয় হলে সংঘাত শুধু ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তবে ইরান সত্যিই এমন একটি সমন্বিত হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, কিংবা এ ধরনের কোনো অভিযান বাস্তবে কবে বা কীভাবে হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট
হামাসের কাছে কোনো ইসরায়েলি বন্দি না থাকা সত্ত্বেও ভবিষ্যতে বন্দি বিনিময় চুক্তিতে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ইসরায়েলের শিন বেত প্রধান। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎস মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে শীর্ষ পর্যায়ের ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক আলোচনার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। হারেৎসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের হাতে থাকা মরদেহগুলোর বেশিরভাগই ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং পরবর্তী যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। তবে এসব মরদেহের মধ্যে বেসামরিক ফিলিস্তিনিও রয়েছেন। মরদেহগুলো ভবিষ্যতে কোনো বন্দি বা মরদেহ বিনিময় চুক্তিতে ইসরায়েলের জন্য আলোচনার হাতিয়ার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের মরদেহ আটকে রাখা ইসরায়েলের নতুন কোনো নীতি নয়। পশ্চিম তীর ও গাজায় নিহত ফিলিস্তিনিদের মরদেহ দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করে রাখার অভিযোগ রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও বহু বছর ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছে। হারেৎসের তথ্য অনুযায়ী, মরদেহ আটকে রাখার বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়ে সাম্প্রতিক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে কোনো বিনিময় চুক্তির প্রয়োজন হলে এসব মরদেহকে আলোচনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করার সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। মরদেহ আটকে রাখার এই নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে মৃতদের মর্যাদা রক্ষা এবং যথাযথভাবে তাদের দাফন বা সৎকারের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি আরও গভীর মানবিক সংকট তৈরি করেছে। স্বজনের মৃত্যুর পরও মরদেহ ফিরে না পাওয়ায় অনেক পরিবার তাদের প্রিয়জনকে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন করতে পারছে না। একই সঙ্গে মরদেহগুলোকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বা সামরিক দর-কষাকষিতে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। হারেৎসের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হাতে থাকা প্রায় ১ হাজার ৭০০ মরদেহের বিষয়টি এখন ভবিষ্যৎ বিনিময় আলোচনার সম্ভাব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে সামনে এসেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মরদেহ আটকে রাখার নীতি নতুন করে আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার মহলের নজরে এসেছে।
হামাসকে অর্থ, খাদ্য ও অন্যান্য রসদ সরবরাহের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে যুক্তরাজ্যে তুরস্কের এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ৪৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইউসুফ হাসনা একটি ভুয়া আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে হামাসের জন্য অর্থ ও সরঞ্জাম সংগ্রহে কাজ করতেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে আইনি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাকে নিউইয়র্কে নেওয়া হবে। সেখানে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনকে বস্তুগত সহায়তা প্রদান, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের ষড়যন্ত্র এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগে বিচার হবে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অন্তত ২০২৩ সাল থেকে হাসনা হামাসের শীর্ষ নেতা গাজী হামাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। তিনি বিভিন্ন উপায়ে সংগঠনটির জন্য অর্থ, খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহ ও সরবরাহে ভূমিকা রাখেন বলে তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে নিজের কার্যক্রম আড়াল করার চেষ্টা করেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি হামাসের জন্য সহায়তা সংগ্রহ ও স্থানান্তরের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর অর্থায়ন ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই মামলাটিও সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে একটি ‘ঐতিহাসিক সমঝোতা’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর মাধ্যমে এই সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়ে তিনি একে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির পথে ‘স্মরণীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো সংশয় প্রকাশ করেছে ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতার আওতায় হামাস এবং গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী ধাপে ধাপে তাদের অস্ত্র সমর্পণ করবে। একই সঙ্গে তাদের টানেল নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হবে এবং গাজার নিরাপত্তার দায়িত্ব একটি নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনারা গাজা থেকে সরে যাবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রায় ২০০ থেকে ৩৫০ দিনের ধাপভিত্তিক সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হামাসের ভারী ও হালকা অস্ত্র, অস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামো এবং টানেল নেটওয়ার্ক নিষ্ক্রিয় করার কথা রয়েছে। এরপর একটি নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসন গাজার শাসনভার গ্রহণ করবে। এই উদ্যোগ সফল করতে মিসর, কাতার ও তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে বলে ট্রাম্প তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে গাজাকে আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘাঁটি হতে দেওয়া হবে না। তবে সমঝোতার বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে। রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তা হামাসের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দিহান। অন্যদিকে হামাসের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ইসরায়েল যদি নিজস্ব প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে বা সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে, তাহলে চুক্তি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ‘বোর্ড অব পিস’ ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নতুন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, যার লক্ষ্য গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা, পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক রূপান্তর তদারকি করা। তবে এই কাঠামোর বৈধতা, প্রতিনিধিত্ব এবং কার্যকারিতা নিয়ে শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্বের সীমাবদ্ধতা এবং কিছু পশ্চিমা দেশের অনাগ্রহ নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সমঝোতা বাস্তবে কার্যকর হয়, তাহলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস হামলার পর শুরু হওয়া দীর্ঘ সংঘাতের অবসানের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। তবে নিরস্ত্রীকরণ, নিরাপত্তা হস্তান্তর এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের ওপরই পুরো পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।
গাজায় দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে নতুন একটি শান্তি উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত একটি ধাপভিত্তিক রোডম্যাপে শর্তসাপেক্ষে নিরস্ত্রীকরণে সম্মতি দিয়েছে হামাস। তবে সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে, ইসরায়েল প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করলেই কেবল তারা নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ জানিয়েছেন, নিরস্ত্রীকরণ কোনো একতরফা পদক্ষেপ হবে না। এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে ইসরায়েল চুক্তির অধীনে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছে কি না তার ওপর। তার ভাষায়, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরুর নিশ্চয়তা মিললেই ধাপে ধাপে অস্ত্র হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার দাবি করেন, ‘বোর্ড অব পিস’ হামাস ও গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি ‘ঐতিহাসিক’ সমঝোতায় পৌঁছেছে। তার দাবি, এই পরিকল্পনার আওতায় ধাপে ধাপে হামাসের অস্ত্র অপসারণ করা হবে এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলও পর্যায়ক্রমে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় থাকা পরিকল্পনায় হামাসের অস্ত্র একটি ফিলিস্তিনি জাতীয় কারিগরি কমিটির তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণের কথা রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে এবং প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে গাজায় নতুন একটি বেসামরিক প্রশাসন গঠনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা কার্যকর হয়নি। হামাস বলছে, ইসরায়েল যদি সেনা প্রত্যাহার, মানবিক সহায়তা প্রবেশ এবং পুনর্গঠনের বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে না। অন্যদিকে ইসরায়েল সরকারও এখন পর্যন্ত পরিকল্পনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেয়নি এবং এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আপত্তি রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এই পরিকল্পনা মূলত চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত একটি ১৫ দফা রোডম্যাপের ধারাবাহিকতা। সেখানে যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি, গাজার প্রশাসন একটি নিরপেক্ষ ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির হাতে হস্তান্তর, ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণ এবং পরে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গাজার দীর্ঘ সংঘাত নিরসনের পথে বড় অগ্রগতি হতে পারে। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং চুক্তির প্রতিটি ধাপ বাস্তবায়নের জটিলতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। ফলে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও বাস্তবায়নের পথ সহজ হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস তাদের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খলিল আল-হাইয়া-কে নির্বাচিত করেছে। সোমবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ ঘোষণা দেয়। আল-হাইয়া দায়িত্ব নিচ্ছেন হামাসের সাবেক প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে সিনওয়ার নিহত হন। হামাসের গাজা শাখার সাবেক প্রধান এবং সংগঠনটির অন্যতম প্রধান আলোচক হিসেবে পরিচিত খলিল আল-হাইয়া দীর্ঘদিন ধরেই কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থান করছেন। ২০২৪ সালে হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার মৃত্যু এবং পরে সিনওয়ারের নিহত হওয়ার পর থেকেই তিনি সংগঠনের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে উঠে আসেন। হামাসের নেতৃত্বের দৌড়ে সাবেক রাজনৈতিক প্রধান খালেদ মেশআল-এর নামও আলোচনায় ছিল। তবে আল-হাইয়াকে তুলনামূলকভাবে আরও কঠোর অবস্থানের নেতা হিসেবে দেখা হয়। হামাসের নতুন প্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে শুরু হলেও ইরান, লেবানন ও গাজায় চলমান সংঘাতের কারণে তা বিলম্বিত হয়। শেষ পর্যন্ত গাজা, পশ্চিম তীর, ইসরায়েলের কারাগারে থাকা হামাস সদস্য এবং বিদেশে অবস্থানরত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচনী পরিষদ আল-হাইয়াকে সংগঠনের নেতৃত্বে নির্বাচিত করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন হামাসের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। এর মাধ্যমে সংগঠনটি জানিয়ে দিল, তারা এখনই নিরস্ত্রীকরণের পথে হাঁটতে প্রস্তুত নয় এবং নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের লক্ষ্য থেকে সরে আসছে না। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এ পর্যন্ত হামাস, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনায় স্থায়ী কোনো সমঝোতা হয়নি। দুই বছরের যুদ্ধের পর গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সংঘাতে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় প্রায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল।
অর্থপাচার ও হামাসকে সহায়তার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়ায় স্পেনের পর্যটন দ্বীপ ইবিজায় গ্রেপ্তার হয়েছেন মার্কিন ধনকুবের পরিবারের উত্তরাধিকারী জেমস "ফার্গি" কক্স চেম্বার্স জুনিয়র। বর্তমানে তিনি ইবিজার একটি কারাগারে রয়েছেন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের বিষয়ে স্পেনের আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। স্পেনের বালেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জ পুলিশের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে এক মার্কিন নাগরিককে আটক করা হয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, তবে একাধিক গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী আটক ব্যক্তি ফার্গি চেম্বার্স। ফক্স নিউজ ডিজিটালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) ও এফবিআই চেম্বার্সের বিরুদ্ধে অর্থপাচার এবং হামাসকে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করছে। তবে এফবিআই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং চেম্বার্স বা তার প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। চেম্বার্স মার্কিন গণমাধ্যম ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান কক্স এন্টারপ্রাইজেস প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কারণে আলোচনায় ছিলেন। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর বিভিন্ন ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন ও কর্মসূচিতে অর্থায়ন করেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। গ্রেপ্তারের পর চেম্বার্সের সমর্থকেরা ইবিজা কারাগারের বাইরে তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে তার সমালোচকেরা গ্রেপ্তারকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। এখন স্পেনের আদালত যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যর্পণ আবেদন পর্যালোচনা করবে। আদালত অনুমোদন দিলে চেম্বার্সকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হতে পারে, যেখানে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ইরানের দীর্ঘদিনের অবস্থান ও সমর্থনের প্রশংসা করেছে ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক যোগাযোগের সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতায় এই অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে। বুধবার হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাসেম নাইম হামাস নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আলোচনায় বাসেম নাইম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তেহরানকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের দৃঢ় অবস্থান এবং প্রতিরোধমূলক ভূমিকাকেও তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইরানের ধারাবাহিক নীতিগত অবস্থানের কথা তুলে ধরে বাসেম নাইম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের পক্ষে ইরানের যে অবস্থান, তা এই অঞ্চলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। তার মতে, এই সমর্থন ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করছে। অন্যদিকে হামাসের পক্ষ থেকে পাওয়া সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ জাতীয় অধিকার পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তাদের ন্যায্য দাবির পক্ষে অবস্থান অব্যাহত রাখবে। আরাঘচি আরও জানান, গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং ক্রমাবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতির বিষয়টি ইরান নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরাম, মধ্যস্থতাকারী দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় তুলে ধরছে। তিনি ফিলিস্তিনিদের পক্ষে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইরান ও হামাসের এই ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। একই সঙ্গে গাজা পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর প্রচেষ্টাও এতে আরও জোরালো হতে পারে।
ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন রূপ নিচ্ছে। যুদ্ধের দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করার পর প্রথমবারের মতো ইয়েমেন থেকে ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা নিশ্চিত করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, তারা ইয়েমেন থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নিক্ষেপের ঘটনা শনাক্ত করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও হুমকি মোকাবিলার জন্য দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়ার হুমকি দেয়ার পর হামলার ঘটনা ঘটেছে। যদিও শুরু থেকেই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসরাইলের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিল, তবে সরকারি ভাবে ইয়েমেন থেকে আসা কোনো হামলার কথা এবার প্রথমবার স্বীকার করা হলো। এর ঠিক একদিন আগে তেল আবিব লক্ষ্য করে ইরান থেকে কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল, যা পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটেছিল এবং এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল। ইয়েমেন থেকে শুরু হওয়া এই নতুন ফ্রন্ট মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।