হামাসকে অর্থ ও রসদ সরবরাহের অভিযোগে যুক্তরাজ্যে তুর্কি নাগরিক গ্রেপ্তার, যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের প্রস্তুতি
হামাসকে অর্থ, খাদ্য ও অন্যান্য রসদ সরবরাহের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে যুক্তরাজ্যে তুরস্কের এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ৪৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইউসুফ হাসনা একটি ভুয়া আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে হামাসের জন্য অর্থ ও সরঞ্জাম সংগ্রহে কাজ করতেন।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে আইনি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাকে নিউইয়র্কে নেওয়া হবে। সেখানে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনকে বস্তুগত সহায়তা প্রদান, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের ষড়যন্ত্র এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগে বিচার হবে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অন্তত ২০২৩ সাল থেকে হাসনা হামাসের শীর্ষ নেতা গাজী হামাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। তিনি বিভিন্ন উপায়ে সংগঠনটির জন্য অর্থ, খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহ ও সরবরাহে ভূমিকা রাখেন বলে তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে নিজের কার্যক্রম আড়াল করার চেষ্টা করেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি হামাসের জন্য সহায়তা সংগ্রহ ও স্থানান্তরের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর অর্থায়ন ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই মামলাটিও সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreজাপানে প্রথমবারের মতো ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাবে, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাপানে এমন মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জন। গত বছরের তুলনায় শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ৭ হাজার ৯১৪ জন। এ নিয়ে টানা ৫৬ বছর জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা নতুন রেকর্ড গড়ল। ১৯৬৩ সালে এই বয়সী মানুষের সরকারি হিসাব রাখা শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম সংখ্যা ১ লাখের সীমা অতিক্রম করল। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি—৯৪ হাজার ২৯৮ জন, যা মোট শতবর্ষীর প্রায় ৮৮ শতাংশ। পুরুষের সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৭৯ জন। জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ২০১২ সালে প্রথম ৫০ হাজার ছাড়িয়েছিল। মাত্র ১৪ বছরের মধ্যে সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। দেশটির সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি বর্তমানে কিয়োটোতে বসবাসকারী ১১৪ বছর বয়সী ফুয়ো কিশিমোতো। সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ কুমামোতোতে বসবাসকারী ১১২ বছর বয়সী হিকারু কাতো। তবে দীর্ঘায়ুর এই রেকর্ডের পাশাপাশি জাপানকে বড় ধরনের জনমিতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দেশটির মধ্যম বয়স প্রায় ৪৯ দশমিক ৯ বছর এবং মোনাকোর পর জাপানের জনসংখ্যা বিশ্বের অন্যতম বয়স্ক। একই সময়ে দেশটিতে জন্মহারও ঐতিহাসিকভাবে নিচের দিকে নেমেছে। ফলে একদিকে মানুষের দীর্ঘ জীবনযাপন জাপানের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরছে, অন্যদিকে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কম জন্মহারের কারণে দেশটিতে শ্রমশক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপও বাড়ছে। সূত্র: জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়, এএফপি
১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে বসছেন আওয়ামী লীগের ২১ নেতা
সাবেক প্রেমিকের অ্যাসিড হামলায় মুখ পুড়েছিল, শেষ পর্যন্ত তাকেই বিয়ে করলেন নারী
রাশিয়া সীমান্তে ন্যাটোর ঘাঁটিতে সেনা পাঠাচ্ছে জার্মানি, বাড়ছে ৩য় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা!
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের ৩৫ বছর বয়সী লুক উডহাউসের কাছে দাঁতের ব্যথাটি শুরুতে তেমন গুরুতর কিছু মনে হয়নি। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সেই ব্যথার সঙ্গে জ্বর, কাঁপুনি, প্রচণ্ড ঘাম, বুকে চাপ এবং মাথায় তীব্র জ্বালাপোড়া শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে গিয়ে জানা যায়, তার শরীরে সেপসিস হয়েছে এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে হৃদযন্ত্রের ভালভ পর্যন্ত। জীবন বাঁচাতে তাকে ওপেন হার্ট সার্জারি করে ক্ষতিগ্রস্ত ভালভের বদলে মেকানিক্যাল ভালভ বসাতে হয়। কুইন্সল্যান্ডের মোরেটন বে এলাকার বাসিন্দা লুকের কোনো বড় ধরনের আগের স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল না। একটি বৃহস্পতিবার কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় তিনি দাঁতে ব্যথা অনুভব করেন। পরে বিকেলের দিকে অসুস্থ লাগার সঙ্গে জ্বরও আসে। বিষয়টিকে তিনি সাধারণ ভাইরাল অসুস্থতা ভেবে তেমন গুরুত্ব দেননি। কুইন্সল্যান্ড হেলথকে তিনি জানান, তার ধারণা ছিল ঘুমিয়ে নিলে হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ওই রাতেই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। প্রচণ্ড কাঁপুনি শুরু হয় এবং এত বেশি ঘাম হয় যে সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন বিছানা ভিজে গেছে। এরপর রবিবার তার মাথায় একটানা তীব্র জ্বালাপোড়া এবং বুকে চাপ অনুভূত হতে থাকে। তখন তিনি বুঝতে পারেন, বিষয়টি আর সাধারণ অসুস্থতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। লুকের স্ত্রী জেনিফার তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। রেডক্লিফ হাসপাতালে চিকিৎসকেরা তার হৃদযন্ত্রের চারপাশে প্রদাহের লক্ষণ দেখতে পান। পরে তাকে জানানো হয়, তার রক্তে সংক্রমণ হয়েছে এবং তিনি সেপসিসে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর সংক্রমণজনিত জটিলতায় তার ইনফেকটিভ এন্ডোকার্ডাইটিস ধরা পড়ে। এটি হৃদযন্ত্রের ভেতরের আবরণ ও ভালভে হওয়া গুরুতর সংক্রমণ, যা দ্রুত চিকিৎসা না পেলে জীবনহানির কারণ হতে পারে। লুকের ক্ষেত্রে সংক্রমণ এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে তার হৃদযন্ত্রের একটি ভালভ নষ্ট হয়ে যায়। ব্রিসবেনের দ্য প্রিন্স চার্লস হাসপাতালে চিকিৎসকেরা তাকে জানান, দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে তার আর বেশি দিন বেঁচে থাকা সম্ভব নাও হতে পারে। সেই সপ্তাহেই তার ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়। সংক্রমিত ভালভটি অপসারণ করে সেখানে একটি মেকানিক্যাল ভালভ বসানো হয়। অস্ত্রোপচারের আগে লুকের স্ত্রী জেনিফারের জন্য সময়টি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগের। চিকিৎসকেরা তার মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন পরীক্ষা করেন। জেনিফার পরিচিত কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গেও যোগাযোগ করে জানতে চেয়েছিলেন, তার স্বামী শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফিরতে পারবেন কি না। কুইন্সল্যান্ড হেলথ জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি বছর ৫৫ হাজারের বেশি মানুষ সেপসিসে আক্রান্ত হন এবং ৮ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এ কারণে। কুইন্সল্যান্ডের সরকারি হাসপাতালগুলোতেই বছরে ১৮ হাজারের বেশি রোগী সেপসিসের চিকিৎসা নেন। সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিক্রিয়া যখন নিজের সুস্থ টিস্যু ও অঙ্গের ক্ষতি করতে শুরু করে, তখন সেপসিস দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এটি কিডনি বিকল হওয়া, লাইফ সাপোর্টের প্রয়োজন, অঙ্গহানি এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। লুকের অস্ত্রোপচার সফল হয়। তবে এক বছর পরও তাকে নতুন কিছু দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। মেকানিক্যাল হার্ট ভালভ নিয়ে তাকে ভবিষ্যতেও নিয়মিত যত্ন ও চিকিৎসা অনুসরণ করতে হবে। তিনি জানান, এই অভিজ্ঞতার পর সাধারণ জীবনের ছোট ছোট বিষয়, যেমন গিটার বাজানো বা ছবি আঁকার মতো কাজও তার কাছে অনেক বেশি মূল্যবান হয়ে উঠেছে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে অন্যদের সতর্ক করতে চান লুক। তার মতে, গুরুতর অসুস্থতা সব সময় শুরুতেই স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। জ্বর, কাঁপুনি, দ্রুত শ্বাস নেওয়া বা শ্বাসকষ্ট, দ্রুত হৃদস্পন্দন, প্রস্রাব কমে যাওয়া, বমি, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বিভ্রান্তি কিংবা অস্বাভাবিক ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। কুইন্সল্যান্ড হেলথের তথ্য অনুযায়ী, সেপসিসের একটি নির্দিষ্ট উপসর্গ নেই। তাই সংক্রমণের সঙ্গে শরীরের অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে বিষয়টিকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। লুকের নিজের অভিজ্ঞতার পরামর্শও একই, শরীরের অস্বাভাবিক সংকেতকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের কাছে সেপসিসের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে হবে। দাঁতের ব্যথা থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনা লুকের জন্য শুধু একটি জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতিই তৈরি করেনি, বরং একটি সাধারণ উপসর্গও কখনো কখনো গুরুতর সংক্রমণের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে, সেই সতর্কতাও সামনে এনেছে। এক বছর পর সুস্থ হয়ে উঠলেও হৃদযন্ত্রে মেকানিক্যাল ভালভ নিয়ে তাকে বাকি জীবন সতর্কতার সঙ্গে চলতে হবে।
ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফে গরুর মাংস বলে শুকরের মাংস বিক্রি, কসাইয়ের ১০ বছরের কারাদণ্ড
বুধ গ্রহের গায়ে বাংলাদেশের জয়নুল আবেদিনের নাম, মহাকাশে লেখা এক শিল্পীর পরিচয়
মৃত্যুর আগে ১ হাজার প্রতিষ্ঠানে ছুটলেন বাবা, অটিজম ছেলের জন্য খুঁজলেন নিরাপদ আশ্রয়
ভারতে এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এক নারী, কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তির চাকরি কেড়ে নিতে পারে বলে তার আশঙ্কা। ম্যাচমেকার ও ডেটিং কোচ ওএন্দ্রিলা কাপুরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও ঘিরে ঘটনাটি আলোচনায় এসেছে। কাপুরের দাবি, ওই নারী তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে এআইয়ের কারণে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি অনিশ্চিত। বিষয়টি ভারতের বিয়ের বাজারে পেশা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। কাপুর জানান, ভারতীয় ম্যাচমেকিংয়ে দীর্ঘদিন ধরে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা পছন্দের পাত্রদের তালিকায় ওপরের দিকে ছিলেন। ভালো বেতন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজের সুযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজ বা ভিসার সম্ভাবনার কারণে অনেক পরিবার এই পেশার পাত্রদের বাড়তি গুরুত্ব দিত। কিন্তু প্রযুক্তি খাতে একের পর এক ছাঁটাই এবং এআইয়ের দ্রুত বিস্তারের খবরের মধ্যে কিছু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি মনে করেন। এবার সেই পরিবর্তনেরই একটি উদাহরণ হিসেবে ওই নারীর সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। কাপুরের ৫ সেপ্টেম্বরের পোস্টে বলা হয়, ওই নারী তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি কোনো সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করবেন না, কারণ এআই তার চাকরি নিয়ে নিতে পারে। কাপুর বলেন, ম্যাচমেকার হিসেবে তিনি নানা ধরনের পছন্দ ও শর্ত শুনেছেন, তবে এই কারণটি তাকে বিশেষভাবে ভাবিয়েছে। তার প্রশ্ন, এআইয়ের পরিবর্তনের প্রভাব থেকে আসলে কোন পেশা পুরোপুরি নিরাপদ? কাপুরের মতে, এআইয়ের প্রভাব এখন শুধু প্রযুক্তি খাতেই সীমাবদ্ধ নেই। ফাইন্যান্স, ডিজাইন, কনসাল্টিং, আইন, হেলথকেয়ারসহ বিভিন্ন পেশায় প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়ছে। ফলে শুধু বর্তমান পেশার নাম দেখে ভবিষ্যতের চাকরির নিরাপত্তা বিচার করলে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। তার বক্তব্য, একজন মানুষকে বিয়ের ক্ষেত্রে আগামী ৪০ বছরের জন্য একটি নির্দিষ্ট চাকরি বেছে নেওয়া হচ্ছে না, বরং এমন একজন সঙ্গী বেছে নেওয়া হচ্ছে, যিনি সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন। কাপুর আরও বলেন, চাকরির পদবি বা পেশা সময়ের সঙ্গে বদলে যেতে পারে। কোনো কোম্পানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, কোনো শিল্পে পরিবর্তন আসতে পারে, আবার নতুন প্রযুক্তির কারণে কাজের ধরনও পাল্টে যেতে পারে। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে শুধু পেশার স্থায়িত্বকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে দেখলে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি ভুল নিরাপত্তাবোধ তৈরি হতে পারে। তার মতে, কঠোর পরিশ্রম, মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা, আর্থিক দায়িত্বশীলতা এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতা একজন জীবনসঙ্গীর ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কাপুরের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কেউ মনে করছেন, বিয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ওই নারীর উদ্বেগ পুরোপুরি অযৌক্তিক নয়। অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, একটি নির্দিষ্ট পেশাকে এআইয়ের কারণে ভবিষ্যৎ অনিরাপদ ধরে নিয়ে পুরো পেশার মানুষকে বিয়ের জন্য অযোগ্য ভাবা ঠিক নয়। আলোচনায় উঠে এসেছে, প্রযুক্তির পরিবর্তন যখন প্রায় সব খাতেই প্রভাব ফেলছে, তখন জীবনসঙ্গী নির্বাচনে বর্তমান চাকরির পাশাপাশি ব্যক্তির দক্ষতা, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং আর্থিক দায়িত্বশীলতাও বিবেচনা করা উচিত। তবে ঘটনাটি কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা বড় পরিসরের জরিপের ফল নয়। এটি কাপুরের সঙ্গে কথা বলা এক নারীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বর্ণনা, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এআই ভবিষ্যতে বিভিন্ন পেশার কর্মসংস্থানে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চললেও এই একটি ঘটনার ভিত্তিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির নিরাপত্তা সম্পর্কে কোনো সার্বিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
নেটওয়ার্ক ঠিকমতো না পাওয়ায় টেকনিশিয়ানকে টাওয়ারে বেঁধে রাখল গ্রামবাসী
কলকাতা থেকে ২২ হাজার রুপিতে এমবিবিএস সনদ, দেশে ভুয়া চিকিৎসকের ভয়াবহ চিত্র