#Crime

ছবি: প্রতিকী
ভোরে নামাজের আগে মসজিদের ইমামকে গুলি করে হত্যা, সীমান্তে চাঞ্চল্য

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত শহর মিরজাভেহে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের হামলায় সুন্নি ধর্মীয় নেতা মাওলভি মোহাম্মদ আনভার রিগি নিহত হয়েছেন। সোমবার, ২০ জুলাই ভোরে সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশে এ হামলা ঘটে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।  মাওলভি আনভার রিগি মিরজাভেহ শহরের আলী ইবনে আবি তালিব মসজিদের জুমার নামাজের ইমাম ছিলেন। মিরজাভেহর গভর্নর মোখতার মোহসেন মোবারাকি জানান, সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় পরে তার মৃত্যু হয়।          হামলাকারীদের পরিচয় কিংবা হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কোনো গোষ্ঠীও হামলার দায় স্বীকার করেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।  স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা এবং সাম্প্রদায়িক বিভেদ উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলার পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।        হত্যাকাণ্ডের পর সিস্তান-বালুচিস্তানের শিয়া ও সুন্নি ধর্মীয় নেতারা পৃথকভাবে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি করেছেন।  পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী সিস্তান-বালুচিস্তানে বিপুলসংখ্যক সুন্নি বালুচ জনগোষ্ঠীর বসবাস। ইরানের দরিদ্রতম অঞ্চলগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত প্রদেশটিতে অতীতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

Unknown জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
সন্তানদের উগ্রবাদ শেখানোর অভিযোগ আটক আইএস মা এর জামিন, ক্ষুব্ধ অস্ট্রেলিয়ানরা

অস্ট্রেলিয়ায় সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত রায়ান এল হৌলিকে কঠোর শর্তে জামিন দিয়েছেন মেলবোর্ন ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্ট। ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর সদস্য হওয়া এবং সিরিয়ার ঘোষিত সংঘাতপূর্ণ এলাকায় অবস্থানের অভিযোগে অভিযুক্ত এই ৩৪ বছর বয়সী নারীর জামিন মঞ্জুর হওয়ায় মামলাটি দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছে।  আদালতের নথি অনুযায়ী, রায়ান এল হৌলির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০১৪ সালে স্বামীর সঙ্গে সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দেন। পরে তিনি দীর্ঘ সময় আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ছিলেন। ২০১৯ সালে আইএসের পতনের পর তিনি ও তার চার সন্তান সিরিয়ার আল-হাওল শিবিরে আটক ছিলেন। ২০২৫ সালে তারা অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসেন। চলতি বছরের মে মাসে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অভিযোগ আনে।        মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সিরিয়ায় অবস্থানকালে রায়ান তার শিশু সন্তানদের আইএসের প্রচারমূলক ভিডিও দেখিয়েছিলেন এবং উগ্রপন্থী মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন। এসব অভিযোগের পক্ষে ভিডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়।  তবে আসামিপক্ষ আদালতকে জানায়, রায়ান বর্তমানে আইএসের আদর্শ থেকে সরে এসেছেন এবং সহিংস উগ্রবাদকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার আইনজীবীর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুত জীবনের মানসিক আঘাত বহন করছেন এবং এখন সন্তানদের নিয়ে স্বাভাবিক জীবন শুরু করার চেষ্টা করছেন।      ম্যাজিস্ট্রেট ব্রেট সনেট জামিনের আদেশে বলেন, বিচার শুরু হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এছাড়া অভিযুক্ত ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। আদালত তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আট মাস সমাজে বসবাসের সময় নতুন কোনো অভিযোগ না ওঠা এবং মনোবৈজ্ঞানিক মূল্যায়নে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম বলে বিবেচনা করেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় কঠোর শর্তে জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।        জামিনের শর্ত অনুযায়ী, রায়ান এল হৌলিকে নির্দিষ্ট ঠিকানায় বসবাস করতে হবে, পুলিশের নজরদারিতে থাকতে হবে এবং আদালতের নির্দেশিত অন্যান্য বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। তার মুক্তি নিশ্চিত করতে পরিবারের একজন সদস্য ৭৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের আর্থিক নিশ্চয়তা দিয়েছেন।  অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ শুরু থেকেই জামিনের বিরোধিতা করে আসছিল। তাদের দাবি, অভিযোগগুলোর প্রকৃতি অত্যন্ত গুরুতর এবং জননিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, জামিন দেওয়া মানে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি নয়। মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলবে এবং অভিযোগের সত্যতা আদালতেই নির্ধারিত হবে।

Unknown জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ল্যাবে কী ঘটেছিল? নারী কর্মীর যৌন নিপীড়ন অভিযোগের পর পদ ছাড়লেন খ্যাতনামা বিজ্ঞানী

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক বিশ্বখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান সল্ক ইনস্টিটিউটের শীর্ষ বিজ্ঞানী ড. সাচিন পান্ডা যৌন অসদাচরণের অভিযোগে চলমান তদন্তের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চলতি বছরের মার্চে এক নারী গবেষণা সহকারী কর্মক্ষেত্রে অসদাচরণের অভিযোগ আনেন। এরপর অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হলে পান্ডাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়। পরে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।  সল্ক ইনস্টিটিউট এক বিবৃতিতে জানায়, ড. পান্ডার পদত্যাগ ১৩ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। তিনি প্রায় ২২ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত ছিলেন এবং সার্কাডিয়ান রিদম বা মানবদেহের জৈবিক ঘড়ি নিয়ে গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।          প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়। তবে তদন্ত চলমান থাকায় অভিযোগের বিস্তারিত বা সম্ভাব্য প্রমাণ সম্পর্কে তারা কোনো মন্তব্য করেনি।  ড. পান্ডা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীর মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সত্য নয় এবং তিনি কোনো ধরনের যৌন অসদাচরণ করেননি।  বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স-এর এক প্রতিবেদনে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, এক নারী গবেষণা সহকারীর সঙ্গে ড. পান্ডার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত শুরু করে।  এই ঘটনাকে ঘিরে সল্ক ইনস্টিটিউট আবারও আলোচনায় এসেছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি নারী বিজ্ঞানীদের প্রতি বৈষম্য এবং যৌন হয়রানির অভিযোগসংক্রান্ত একাধিক বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছিল। ২০১৭ সালে কয়েকজন নারী বিজ্ঞানী লিঙ্গবৈষম্যের অভিযোগে মামলা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে সেই ঘটনাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচিত হয়।          ড. পান্ডার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আদালতের রায় হয়নি। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো প্রমাণিত নয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে তাদের নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Unknown জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
DONALD TRUMP ছবি: সংগৃহীত
আমরা অপরাধীদের দেশে থাকতে দিচ্ছি না, কারণ তারা অপরাধী- ট্রাম্প

অপরাধের বড় অংশ অল্পসংখ্যক ব্যক্তির কারণে ঘটে বলে মন্তব্য; ওয়াশিংটন ডিসিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন একটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অপরাধের হার দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, অপরাধ দমনে কঠোর আইন প্রয়োগের নীতিই ইতিবাচক ফল দিচ্ছে।   এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, “আমরা অপরাধীদের দেশে থাকতে দিচ্ছি না, কারণ তারা অপরাধী। একটি পরিসংখ্যান আমার খুবই পছন্দ—শহরগুলোর ৯১ শতাংশ অপরাধ মাত্র ২ শতাংশ মানুষের কারণে ঘটে। সেই ২ শতাংশকে সরিয়ে দিতে পারলেই অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। ওয়াশিংটন ডিসি তার একটি উদাহরণ।”   তবে ট্রাম্প যে “৯১ শতাংশ অপরাধ ২ শতাংশ মানুষের কারণে ঘটে”—এমন পরিসংখ্যানের কথা বলেছেন, তার উৎস তিনি উল্লেখ করেননি। স্বাধীনভাবে এই দাবির সত্যতা যাচাইও সম্ভব হয়নি।   অপরাধ দমন ও অভিবাসন নীতি ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু। প্রশাসনের দাবি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে বিভিন্ন এলাকায় অপরাধের হার কমেছে। অন্যদিকে, অপরাধসংক্রান্ত পরিসংখ্যানের মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে এবং জাতীয় অপরাধ পরিস্থিতি নির্ধারণে সাধারণত সরকারি অপরাধ তথ্য ও স্বাধীন গবেষণা একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

বায়জিদ হাসান জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁদ পেতে থাই বিমানকর্মীদের দিয়ে মাদক পাচার, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক চক্র

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার বানিয়ে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্র থাইল্যান্ডের বিমানসংস্থাগুলোর পাইলট, কেবিন ক্রু ও অন্যান্য বিমানকর্মীদের টার্গেট করছে। আকর্ষণীয় পারিশ্রমিক, বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ কিংবা সহজ আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের একটি অংশকে মাদক বহনে জড়িয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে।   সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে, পাচারকারী চক্রগুলো প্রথমে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সম্ভাব্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে ধাপে ধাপে বিশ্বাস অর্জন করে বিদেশে ছোট প্যাকেট বা লাগেজ বহনের প্রস্তাব দেয়। অনেক ক্ষেত্রেই এসব প্যাকেটে যে অবৈধ মাদক রয়েছে, তা শুরুতে বহনকারীদের জানানো হয় না।   থাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিদেশি বিমানবন্দরে একাধিক থাই বিমানকর্মী মাদক বহনের অভিযোগে আটক হয়েছেন। এসব ঘটনার পর তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার যোগসূত্র সামনে আসে।   নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিমানকর্মীরা নিয়মিত আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াত করেন এবং বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে সহজে প্রবেশাধিকার থাকায় অপরাধচক্র তাদের ব্যবহার করতে আগ্রহী। তবে ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, চাকরি হারানো এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মতো কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়।   এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে থাই কর্তৃপক্ষ বিমানকর্মীদের জন্য সতর্কতা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে আসা সন্দেহজনক চাকরির প্রস্তাব বা লাগেজ বহনের অনুরোধ সম্পর্কে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

সাপ মারতে জাপানে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশি বেজি

সাপ মারতে জাপানে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশি বেজি, সেই বেজি নিধনেই লেগেছে ৪৫ বছর

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০