যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক বিশ্বখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান সল্ক ইনস্টিটিউটের শীর্ষ বিজ্ঞানী ড. সাচিন পান্ডা যৌন অসদাচরণের অভিযোগে চলমান তদন্তের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চলতি বছরের মার্চে এক নারী গবেষণা সহকারী কর্মক্ষেত্রে অসদাচরণের অভিযোগ আনেন। এরপর অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হলে পান্ডাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়। পরে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
সল্ক ইনস্টিটিউট এক বিবৃতিতে জানায়, ড. পান্ডার পদত্যাগ ১৩ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। তিনি প্রায় ২২ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত ছিলেন এবং সার্কাডিয়ান রিদম বা মানবদেহের জৈবিক ঘড়ি নিয়ে গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়। তবে তদন্ত চলমান থাকায় অভিযোগের বিস্তারিত বা সম্ভাব্য প্রমাণ সম্পর্কে তারা কোনো মন্তব্য করেনি।
ড. পান্ডা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীর মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সত্য নয় এবং তিনি কোনো ধরনের যৌন অসদাচরণ করেননি।
বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স-এর এক প্রতিবেদনে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, এক নারী গবেষণা সহকারীর সঙ্গে ড. পান্ডার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত শুরু করে।
এই ঘটনাকে ঘিরে সল্ক ইনস্টিটিউট আবারও আলোচনায় এসেছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি নারী বিজ্ঞানীদের প্রতি বৈষম্য এবং যৌন হয়রানির অভিযোগসংক্রান্ত একাধিক বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছিল। ২০১৭ সালে কয়েকজন নারী বিজ্ঞানী লিঙ্গবৈষম্যের অভিযোগে মামলা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে সেই ঘটনাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচিত হয়।
ড. পান্ডার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আদালতের রায় হয়নি। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো প্রমাণিত নয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে তাদের নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়েস্ট হলিউডে শতবর্ষী একটি প্রধান পানির পাইপ বিস্ফোরণের পাঁচ দিন পরও মেরামতকাজ শেষ হয়নি। সোমবারও প্রকৌশলী ও জরুরি সেবাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত সানসেট বুলেভার্ড এবং আশপাশের এলাকা দ্রুত যান চলাচলের জন্য খুলে দিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কবে নাগাদ সড়ক পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিএলএ এবং লস অ্যাঞ্জেলেস পানি ও বিদ্যুৎ বিভাগ (এলএডিডব্লিউপি) জানায়, গত বৃহস্পতিবার ভোরে সানসেট বুলেভার্ড ও হোলোওয়ে ড্রাইভের সংযোগস্থলের নিচে থাকা প্রায় ১০০ বছর পুরোনো ৩৬ ইঞ্চি ব্যাসের একটি প্রধান পানির পাইপ হঠাৎ ফেটে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পানি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়। পানির তীব্র স্রোতে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কোথাও কোথাও বড় গর্তের সৃষ্টি হয় এবং একাধিক যানবাহন পানিতে আটকে পড়ে। পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আশপাশের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও। নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এলএডিডব্লিউপির কর্মকর্তারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পাইপ অপসারণ করে নতুন পাইপ বসানো, ঢালাই, চাপ পরীক্ষা এবং ভূগর্ভস্থ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো জটিল ধাপ সম্পন্ন করতে হচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণও চলছে। এসব কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সড়ক যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব নয়। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পানির সরবরাহ বেশিরভাগ এলাকায় স্বাভাবিক থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুরোপুরি নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত মেরামতকাজ অব্যাহত থাকবে। ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের পুরোনো পাইপের কাঠামোগত দুর্বলতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সড়ক বন্ধ থাকায় এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন হাজারো চালককে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তা বন্ধ থাকায় তাদের দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনেক দোকান ও রেস্তোরাঁয় ক্রেতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ওয়েস্ট হলিউড সিটি কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। মেরামতকাজ শেষ হলেই পর্যায়ক্রমে সড়ক খুলে দেওয়া হবে। লস অ্যাঞ্জেলেস অঞ্চলের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার বড় একটি অংশ কয়েক দশক আগে নির্মিত। ফলে পুরোনো পাইপলাইনগুলো ধীরে ধীরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনা আবারও নগরীর পুরোনো অবকাঠামো আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা সামনে নিয়ে এসেছে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তির মালিকদের জন্য সহায়তা কার্যক্রম চালু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে চালকদের বিকল্প সড়ক ব্যবহার এবং নির্মাণকাজ চলাকালে নির্ধারিত নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মাত্র ১৮ বছর বয়সী কলেজ ক্রীড়াবিদ ওয়েলসের রহস্যজনক মৃত্যুর দুই সপ্তাহও পেরোয়নি। এ সময় পরিবারের সদস্য, বন্ধু, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতিতে গির্জায় অনুষ্ঠিত হয় তার শেষকৃত্যের ধর্মীয় অনুষ্ঠান। হৃদয়বিদারক সেই মুহূর্তে গির্জায় প্রবেশ করেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ওয়েলসের মা। শোকের ভারে তিনি নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি। উপস্থিত অনেকেই এ দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে ওয়েলসের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি তার কলেজের সতীর্থ, কোচ, শিক্ষক এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ফুলে সাজানো কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে তারা নীরবে শ্রদ্ধা জানান। অনেকেই স্মরণ করেন, অল্প বয়সেই ওয়েলস খেলাধুলা, পড়াশোনা এবং ব্যক্তিত্ব দিয়ে সবার কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওয়েলসের আকস্মিক মৃত্যু তাদের জীবনে অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে। কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি এবং ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বজন ও বন্ধুরা বলেন, ওয়েলস ছিলেন প্রাণবন্ত, পরিশ্রমী এবং স্বপ্নবাজ একজন তরুণ। তার অকাল মৃত্যু শুধু পরিবারের জন্য নয়, পুরো কলেজ সম্প্রদায়ের জন্যও গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ওয়েলসকে স্মরণ করে অসংখ্য মানুষ শোকবার্তা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দ্রুত উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওয়েলসের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফলে তার মৃত্যু ঘিরে তৈরি হওয়া রহস্য এখনো কাটেনি। পরিবারের সদস্যরা ন্যায়সঙ্গত তদন্ত এবং সত্য উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
চুল প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারের পর আয়নায় নিজের চেহারা দেখে হতবাক হয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টিকটক নির্মাতা অ্যালেক্স ফিঙ্কেন। মুখমণ্ডল এতটাই ফুলে যায় যে হাস্যরস করে তিনি বলেন, ‘আমি তো একেবারে ডিমের মতো দেখাচ্ছি।’ সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর মুহূর্তেই লাখো মানুষের নজর কেড়ে নেয়। দীর্ঘদিন ধরে চুল পড়ার সমস্যায় ভুগছিলেন ফিঙ্কেন। আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে তিনি প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার ব্যয়ে চুল প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। অস্ত্রোপচারে তার মাথার পেছন থেকে ৩ হাজার ৫৩৬টি হেয়ার ফলিকল সংগ্রহ করে সামনের হেয়ারলাইন ও মাথার ওপরে প্রতিস্থাপন করা হয়। অস্ত্রোপচারের কয়েকদিন পর তার কপাল, চোখ ও মুখে তীব্র ফোলাভাব দেখা দেয়। ভিডিওতে তার বদলে যাওয়া চেহারা দেখে অনেকেই বিস্মিত হন, আবার অনেকে মজার মন্তব্য করেন। তবে চিকিৎসকেরা জানান, চুল প্রতিস্থাপনের পর এ ধরনের সাময়িক ফোলাভাব অস্বাভাবিক নয়। অস্ত্রোপচারের সময় ব্যবহৃত তরল নিচের দিকে নেমে আসার কারণেই এমনটি হতে পারে এবং কয়েক দিনের মধ্যে তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। ফিঙ্কেন পরে জানান, তার শারীরিক অবস্থায় কোনো গুরুতর জটিলতা তৈরি হয়নি। ফোলাভাব ধীরে ধীরে কমে গেছে এবং তিনি সুস্থ আছেন। বরং পুরো অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে অন্যদের আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি আরও স্বীকার করেন, অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ উপেক্ষা করে অ্যালকোহল পান করেছিলেন, যা ফোলাভাব কিছুটা বাড়িয়ে দিতে পারে। বর্তমানে তার মুখের ফোলাভাব প্রায় পুরোপুরি সেরে গেছে। নতুন চুল গজানোর ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা এই তরুণ বলছেন, শুরুতে অভিজ্ঞতাটি অস্বস্তিকর হলেও নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি মোটেও অনুতপ্ত নন। বরং এটি তার জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন।