সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#NewYork

সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মহিউদ্দিন খান ও পরিবার
নিউইয়র্কে ক্যানসারের সঙ্গে তিন মাসের লড়াই শেষে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মহিউদ্দিন খানের ইন্তেকাল

নিউইয়র্কে ক্যানসারের সঙ্গে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে লড়াইয়ের পর ইন্তেকাল করেছেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাংক কর্মকর্তা মহিউদ্দিন খান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৬ বছর। সোমবার বিকেলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মহিউদ্দিন খান বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। ব্যাংকিং, অর্থায়ন, বিক্রয় ও বিপণন খাতে তার ১৯ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা ছিল। কর্মজীবনে তিনি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।     পরবর্তী সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানান্তরিত হন। সেখানে নতুন কর্মজীবন ও পেশাগত সুযোগের সন্ধান করছিলেন তিনি। গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছিলেন মহিউদ্দিন খান। চিকিৎসার পাশাপাশি মরণব্যাধিটির বিরুদ্ধে তার দীর্ঘ জীবনসংগ্রামের অবসান হলো সোমবার বিকেলে। ব্যক্তিগত জীবনে মহিউদ্দিন খান ছিলেন দুই সন্তানের বাবা। তার মৃত্যুতে স্ত্রী, সন্তান, পরিবারের সদস্য, স্বজন, সাবেক সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।     মহিউদ্দিন খানের স্ত্রী তামান্না মৌ নিউইয়র্কভিত্তিক টাইম টেলিভিশনের সংবাদ উপস্থাপিকা। স্বামীর মৃত্যুতে তিনি ও পরিবারের সদস্যরা গভীর শোকের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। মরহুমের জানাজা ও দাফনের সময়সূচিসহ বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে। মহিউদ্দিন খানের মৃত্যুতে টাইম টেলিভিশন শোক প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

Unknown জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি : সংগৃহীত
নিউইয়র্কে আইস সদর দপ্তরে হামলার চেষ্টা, অগ্নিসংযোগকারী ডিভাইসসহ আটক সশস্ত্র ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির লোয়ার ম্যানহাটনে অবস্থিত ফেডারেল সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের সামনে সোমবার সকালে হামলার চেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে আটক করায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।       স্থানীয় সময় সোমবার সকাল প্রায় সাড়ে ৮টার দিকে ২৬ ফেডারেল প্লাজায় অবস্থিত জ্যাকব কে. জাভিটস ফেডারেল বিল্ডিং-এর মূল ফটকের সামনে ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক ব্যক্তি ভবনের প্রবেশমুখের কাছে অগ্নিসংযোগকারী ডিভাইস ব্যবহার করে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে এবং শক্তিশালী আতশবাজি বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ভবনের সামনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পথচারীরা নিরাপদ স্থানে সরে যান। একই সময় ওই ব্যক্তি নিজের কাছে থাকা দূরপাল্লার এয়ারসফট রাইফেল উঁচিয়ে আশপাশের মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করে। তবে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত ফেডারেল প্রোটেকটিভ সার্ভিসের কর্মকর্তা ও ইমিগ্রেশন এজেন্টরা দ্রুত তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাকে মাটিতে ফেলে নিরস্ত্র করে হেফাজতে নেওয়া হয়।পরবর্তীতে সন্দেহভাজনের সঙ্গে থাকা একটি হাতগাড়ি তল্লাশি করে আরও আতশবাজি, একটি নকল রাইফেল এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, হাতগাড়িটির গায়ে “ICE Off Our Streets” লেখা ছিল, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমূলক উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছে। ২৬ ফেডারেল প্লাজা ভবনটি নিউইয়র্কে আইসের ফিল্ড অফিস, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির বিভিন্ন দপ্তর এবং অভিবাসন আদালতের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় ভবনটি বিভিন্ন বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।       প্রাথমিক তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাটিকে সরকার ও আইস-বিরোধী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার চেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে হামলাকারীর পরিচয়, মানসিক অবস্থা এবং তার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Unknown জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবিতে নিউইয়র্কের দুটি অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং প্রকল্প
নিউইয়র্কে কম ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্ট ও স্বল্পমূল্যের আবাসনের আবেদন চলছে, যেসব প্রকল্পে এখনই আবেদন করা যাবে

নিউইয়র্কে সাশ্রয়ী মূল্যের অ্যাপার্টমেন্ট বা স্বল্পমূল্যের আবাসন খুঁজছেন এমন পরিবারগুলোর জন্য নতুন সুযোগ এসেছে। নিউইয়র্ক স্টেট ও নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে একাধিক অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং প্রকল্পে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। যোগ্য আবেদনকারীরা নির্ধারিত আয় ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে লটারির মাধ্যমে এসব আবাসনের জন্য নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। সরকারি আবাসন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আবেদন গ্রহণ চলবে ২৪ জুলাই পর্যন্ত।     আবাসন কর্মকর্তারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন হাউজিং লটারির খবর ছড়িয়ে পড়লেও অনেকেই বুঝতে পারেন না কোন প্রকল্পে এখন আবেদন চলছে এবং কোনটি কেবল অপেক্ষমাণ তালিকার জন্য। তাই আবেদন করার আগে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা যাচাই করা জরুরি।     বর্তমানে নিউইয়র্ক স্টেট হোমস অ্যান্ড কমিউনিটি রিনিউয়াল এর আওতায় যেসব প্রকল্পে আবেদন চলছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:   * Twin Parks North West (ব্রঙ্কস) * Twin Parks South East (ব্রঙ্কস) * Twin Parks South West (ব্রঙ্কস) * Oceangate Apartments (ব্রুকলিন) * 212 Hegeman Avenue (ব্রুকলিন) * Fort Schuyler House (ব্রঙ্কস, ৬২ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য) * Kittay House (ব্রঙ্কস, ৬২ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য) * Comunilife Tiebout (ব্রঙ্কস, ৬২ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য) * King Garden Apartments (ব্রুকলিন, ৬২ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য) * 4519 WPR (ব্রঙ্কস, ৬২ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য)।     এসব প্রকল্পে স্টুডিও থেকে শুরু করে এক, দুই, তিন, চার ও পাঁচ বেডরুম পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ইউনিট রয়েছে। কোন প্রকল্পে কোন আয়ের আবেদনকারী যোগ্য হবেন, তা পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও বার্ষিক আয়ের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।     অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির NYC Housing Connect প্ল্যাটফর্মেও নিয়মিত নতুন অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং লটারি প্রকাশ করা হচ্ছে। আবেদনকারীরা একটি অ্যাকাউন্ট খুলে পরিবারের তথ্য ও আয়ের বিবরণ যুক্ত করে একাধিক প্রকল্পে আবেদন করতে পারেন। লটারিতে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হলে আয়, পরিচয় এবং অন্যান্য নথি যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।     এ ছাড়া Mitchell-Lama কর্মসূচির আওতায়ও সময়ে সময়ে নতুন অপেক্ষমাণ তালিকা (Waiting List) খোলা হয়। তবে এই কর্মসূচিতে আবেদন করলেই সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া যায় না। লটারির মাধ্যমে আবেদনকারীদের অপেক্ষমাণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে ইউনিট খালি হলে ক্রমানুসারে ডাকা হয়। প্রতিটি প্রকল্পে আলাদাভাবে আবেদন করতে হয় এবং সব সময় সব প্রকল্পের আবেদন খোলা থাকে না।     আবেদন করতে সাধারণত বৈধ পরিচয়পত্র, পরিবারের সদস্যসংখ্যার তথ্য, আয়ের প্রমাণ, সাম্প্রতিক ট্যাক্স রিটার্ন, চাকরির তথ্য, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং বর্তমান ঠিকানার তথ্য জমা দিতে হয়। আবেদনকারীর অনলাইন প্রোফাইলে আয় বা পরিবারের তথ্য পরিবর্তন হলে তা দ্রুত হালনাগাদ করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।     নিউইয়র্কে সাশ্রয়ী আবাসনের চাহিদা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় প্রতিটি প্রকল্পে হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ে। ফলে লটারিতে নির্বাচিত হওয়ার নিশ্চয়তা না থাকলেও যোগ্য আবেদনকারীদের যত বেশি উপযুক্ত প্রকল্পে আবেদন করা যায়, ততই সম্ভাবনা বাড়ে বলে জানিয়েছে আবাসন কর্তৃপক্ষ।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আলাবামায় মাকে হত্যার অভিযোগে কিশোর ছেলে আটক, ঘটনার আগে ‘উচ্চস্বরে ঝগড়া’ শুনেছিলেন প্রতিবেশী

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যে নিজ বাড়িতে নিহত সামান্থা বেকারের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। স্থানীয় এক প্রতিবেশী দাবি করেছেন, ঘটনার আগে বাড়ি থেকে উচ্চস্বরে তর্ক-বিতর্ক ও চিৎকারের শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন।   পুলিশ জানিয়েছে, সামান্থা বেকারকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে তাঁর কিশোর ছেলেকে আটক করা হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছেন এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।   প্রতিবেশীর ভাষ্য অনুযায়ী, মা–ছেলের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার শব্দ কিছু সময় ধরে শোনা যাচ্ছিল। এরপর এলাকায় জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যরা পৌঁছান। তবে ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তদন্তকারীরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি।   মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ফরেনসিক আলামত এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিহত মির্জা ফাহিম আহমেদ
লস অ্যাঞ্জেলেসে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি প্রবাসী মির্জা ফাহিম আহমেদের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে সড়ক দুর্ঘটনায় মির্জা ফাহিম আহমেদ (২৭) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ভ্যালি এলাকায় সংঘটিত ওই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে পরিবার ও প্রবাসী কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে।   নিহত মির্জা ফাহিম আহমেদ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ঝিগাতলার তল্লাবাগ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে তিনি বাংলাদেশে গিয়ে বিয়ে করেন এবং পরে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন।   ফাহিমের আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোক প্রকাশ করেছেন।   পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার জানাজার সময় ও স্থান পরে ঘোষণা করা হবে।   প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। ফলে দুর্ঘটনার কারণ ও অন্যান্য পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে সংবাদটি হালনাগাদ করা হবে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও শামীম ওসমান (সংগৃহীত)
একই সময়ে নিউইয়র্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও শামীম ওসমান, প্রবাসী মহলে চলছে নানা আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একই সময়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের উপস্থিতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের মধ্যে কোনো বৈঠক বা যোগাযোগ হয়েছে—এমন কোনো তথ্য বা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।     সরকারি তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ৫ জুলাই ঢাকা ত্যাগ করে নিউইয়র্কে পৌঁছান জাতিসংঘের পঞ্চম United Nations Chiefs of Police Summit (UNCOPS-V)-এ অংশ নিতে। ৭ ও ৮ জুলাই জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশপ্রধান এবং জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বৈঠকের সূচি রয়েছে। সফরটি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।     অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানকে সম্প্রতি নিউইয়র্কে দেখা যাওয়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং প্রবাসী বাংলা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।   একই সময়ে দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নিউইয়র্কে অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও জল্পনা দেখা গেলেও, কোনো বৈঠক বা যোগাযোগের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কিংবা শামীম ওসমানের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।     সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন বিএনপির শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত। ২০১৫ সালে নিখোঁজ হওয়ার পর ভারতের মেঘালয়ে তাকে পাওয়া যায় এবং সেখানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি বাংলাদেশে ফেরেন। এ বছরের সাধারণ নির্বাচনের পর তিনি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র সফরটি সম্পূর্ণ সরকারি কর্মসূচির অংশ।     অন্যদিকে, শামীম ওসমান ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সময়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়েও বাংলাদেশে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।     রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই সময়ে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিউইয়র্কে অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই জনমনে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। তবে এ মুহূর্তে তাদের মধ্যে কোনো সাক্ষাৎ বা যোগাযোগের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশিত না হওয়ায় এ ধরনের দাবি বা জল্পনার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। তাই বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে কেবল সমাপতন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সুলতানা রাজিয়া। ফেডারেল অপহরণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত; এখন সাজা ঘোষণার অপেক্ষা(সংগ্রহীত)
টিকটক বিরোধ থেকে অপহরণ মামলায় দোষী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলতানা রাজিয়া, আদালতে সাজা ঘোষণার অপেক্ষা

নিউইয়র্কে টিকটককে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সংঘটিত অপহরণ ও সহিংসতার মামলায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলতানা রাজিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল জুরি। গত ২৬ জুন ব্রুকলিনের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্ক ফেডারেল আদালতে বিচার শেষে এই রায় দেওয়া হয়। বর্তমানে মামলাটি সেন্টেন্সিং বা সাজা নির্ধারণের পর্যায়ে রয়েছে। আদালত এখনও সাজা ঘোষণার নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করেনি।     মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির কয়েকজন সদস্যকে ঘিরে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে চলমান ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এক প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ, আটকে রাখা এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। ওই ঘটনায় সুলতানা রাজিয়াসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়।   আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জুরি সুলতানা রাজিয়া এবং মামলার আরেক আসামিকে অপহরণসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জুরি প্রায় একদিনের আলোচনা শেষে তাদের রায়ে পৌঁছায়।     এই মামলার সূত্রপাত ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি অফিস সাতজনের বিরুদ্ধে সহিংস অপহরণের অভিযোগে সুপারসিডিং অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান বিরোধই শেষ পর্যন্ত বাস্তব জীবনে সহিংস অপরাধে রূপ নেয়।   ফেডারেল আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় জুরির দোষী রায়ের পরই সাজা ঘোষণা করা হয় না। এর আগে আদালতের প্রবেশন বিভাগ আসামির অতীত, অপরাধের প্রকৃতি, ক্ষয়ক্ষতি এবং অন্যান্য আইনি বিষয় পর্যালোচনা করে একটি প্রি-সেন্টেন্স তদন্ত প্রতিবেদন (Pre-Sentence Investigation Report) প্রস্তুত করে। এরপর বিচারক ফেডারেল সেন্টেন্সিং গাইডলাইন, প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করেন।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তবে প্রতিটি মামলার পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা যায় না। আদালত এখন পর্যন্ত সুলতানা রাজিয়ার সেন্টেন্সিং শুনানির তারিখ প্রকাশ করেনি।     ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত বিরোধ কীভাবে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে রূপ নিতে পারে এবং তার আইনি পরিণতি কতটা কঠোর হতে পারে, সেই বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।   সেন্টেন্সিং শুনানিতে বিচারক যে সাজা ঘোষণা করবেন, সেটিই হবে সুলতানা রাজিয়ার বিরুদ্ধে মামলার পরবর্তী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক ধাপ। আদালতের চূড়ান্ত আদেশ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তার দণ্ডের মেয়াদ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

বায়জিদ হাসান জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে নজরদারির জন্য এফবিআইয়ের নিয়োগ করা গোপন ইনফরম্যান্ট ক্রেইগ মন্টেইল ছদ্মবেশে। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম সেজে মসজিদে এফবিআইয়ের গুপ্তচর, তাকেই ‘উগ্রবাদী’ ভেবে এফবিআইকে জানিয়েছিলেন মুসল্লিরা

তাবাস্সুম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০