টিকটক বিরোধ থেকে অপহরণ মামলায় দোষী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলতানা রাজিয়া, আদালতে সাজা ঘোষণার অপেক্ষা
নিউইয়র্কে টিকটককে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সংঘটিত অপহরণ ও সহিংসতার মামলায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলতানা রাজিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল জুরি। গত ২৬ জুন ব্রুকলিনের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্ক ফেডারেল আদালতে বিচার শেষে এই রায় দেওয়া হয়। বর্তমানে মামলাটি সেন্টেন্সিং বা সাজা নির্ধারণের পর্যায়ে রয়েছে। আদালত এখনও সাজা ঘোষণার নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করেনি।
মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির কয়েকজন সদস্যকে ঘিরে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে চলমান ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এক প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ, আটকে রাখা এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। ওই ঘটনায় সুলতানা রাজিয়াসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়।
আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জুরি সুলতানা রাজিয়া এবং মামলার আরেক আসামিকে অপহরণসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জুরি প্রায় একদিনের আলোচনা শেষে তাদের রায়ে পৌঁছায়।
এই মামলার সূত্রপাত ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি অফিস সাতজনের বিরুদ্ধে সহিংস অপহরণের অভিযোগে সুপারসিডিং অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান বিরোধই শেষ পর্যন্ত বাস্তব জীবনে সহিংস অপরাধে রূপ নেয়।
ফেডারেল আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় জুরির দোষী রায়ের পরই সাজা ঘোষণা করা হয় না। এর আগে আদালতের প্রবেশন বিভাগ আসামির অতীত, অপরাধের প্রকৃতি, ক্ষয়ক্ষতি এবং অন্যান্য আইনি বিষয় পর্যালোচনা করে একটি প্রি-সেন্টেন্স তদন্ত প্রতিবেদন (Pre-Sentence Investigation Report) প্রস্তুত করে। এরপর বিচারক ফেডারেল সেন্টেন্সিং গাইডলাইন, প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তবে প্রতিটি মামলার পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা যায় না। আদালত এখন পর্যন্ত সুলতানা রাজিয়ার সেন্টেন্সিং শুনানির তারিখ প্রকাশ করেনি।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত বিরোধ কীভাবে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে রূপ নিতে পারে এবং তার আইনি পরিণতি কতটা কঠোর হতে পারে, সেই বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
সেন্টেন্সিং শুনানিতে বিচারক যে সাজা ঘোষণা করবেন, সেটিই হবে সুলতানা রাজিয়ার বিরুদ্ধে মামলার পরবর্তী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক ধাপ। আদালতের চূড়ান্ত আদেশ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তার দণ্ডের মেয়াদ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রাজধানী আলবানিতে স্টেট ক্যাপিটল ভবনে বোমা হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ৩৫ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে এফবিআই। জেসিকা বাউইকে ১৯ আগস্ট যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে আটক করা হয়। মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, বাউই এমন একটি বিস্ফোরক সংগ্রহের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন, যেটি তিনি নিউইয়র্ক স্টেট ক্যাপিটল ও সেখানে থাকা অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের লক্ষ্য করে হামলায় ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, বাউই কয়েকবার স্টেট ক্যাপিটল এলাকায় গিয়ে ভবনের ছবি তোলেন এবং আইনপ্রণেতারা ভবনের ভেতরে থাকা অবস্থায় হামলার বিষয়ে আলোচনা করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, হামলার পর সিরিয়ায় গিয়ে আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাউই অনলাইনে আইএসের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছিলেন এবং সংগঠনটির প্রতি আনুগত্যের শপথও প্রচার করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে এফবিআইয়ের গোপন সদস্যরা তাকে বিস্ফোরক ও অন্যান্য অস্ত্র সংগ্রহে সহায়তা করতে পারে এমন ব্যক্তিদের ভূমিকায় ছিলেন। তদন্তে যুক্ত ছিল এফবিআই, মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস, নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি তদন্ত বিভাগ, আলবানি কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ও আলবানি পুলিশ। ২০ আগস্ট বাউইকে ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম পর্যন্ত হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ ২০ বছর কারাদণ্ড, জরিমানা এবং তত্ত্বাবধানে মুক্তির শাস্তি হতে পারে। তবে আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুল হামলার কথিত পরিকল্পনা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি নেই এবং স্টেট ক্যাপিটলসহ সরকারি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কাজ অব্যাহত থাকবে।
জালাপেনো মরিচে সালমোনেলা, যুক্তরাষ্ট্রে ৩২ অঙ্গরাজ্যে ৪৩১ জন আক্রান্ত
১০ মাসের নাতনিকে গাড়িতে রেখেই কাজে চিকিৎসক দাদি, ৮ ঘণ্টা পর মিলল শিশুর মরদেহ
টেক্সাসে বাবার সঙ্গে ৫ বছরের শিশুকেও আটক করে অভিবাসন আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আয়েশা ওয়াহাব। ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের বিশেষ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেলিসা হার্নান্দেজকে হারিয়ে তিনি এই ইতিহাস গড়েন। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিশেষ নির্বাচনের সব ভোট গণনা শেষে ওয়াহাব ৫৩ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হার্নান্দেজ পেয়েছেন ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট। এই ফলের মাধ্যমে কংগ্রেসে নতুন ইতিহাস তৈরি হলো। এই আসনটি সাবেক কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েলের পদত্যাগের পর শূন্য হয়। তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর তিনি পদ ছেড়ে দেন। সেই শূন্য আসন পূরণ করতেই বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আয়েশা ওয়াহাব এর আগে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম এবং প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন। এবার কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন মাইলফলক তৈরি করলেন। ওয়াহাব ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিসেবে তুলনামূলকভাবে প্রগতিশীল রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। ফিলিস্তিনের প্রতি তার সমর্থনও নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। অন্যদিকে মেলিসা হার্নান্দেজ ইসরায়েলপন্থী অবস্থান নিয়ে প্রচার চালান। তার নির্বাচনী প্রচারে আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা দেয়। পলিটিকোর তথ্য অনুযায়ী, হার্নান্দেজের প্রচারে প্রায় ৩০ লাখ ডলার সহায়তা দেয় সংগঠনটি। জুলাই থেকে দুই প্রার্থীর প্রচারে মোট প্রায় ৪০ লাখ ডলার ব্যয় হয়। এর মধ্যে প্রায় ৩৭ লাখ ডলার হার্নান্দেজের প্রচারে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জয়ের পর ওয়াহাব বলেন, নির্বাচনী এলাকায় বিপুল পরিমাণ বাইরের অর্থ ব্যয় এবং বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের মধ্যেও ভোটাররা তাকে সমর্থন করেছেন। তার মতে, ভোটাররা প্রচারের বিভিন্ন দাবির পরিবর্তে নিজেদের বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এই বিশেষ নির্বাচনের ফলেই দুই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ হচ্ছে না। আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনে আবারও ওয়াহাব ও হার্নান্দেজ মুখোমুখি হবেন। হার্নান্দেজ জানিয়েছেন, নতুন করে নির্ধারিত কংগ্রেসনাল মানচিত্রে ১৪তম ডিস্ট্রিক্টে প্রায় ২৬ হাজার নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে। তার দাবি, এর ফলে নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি ওয়াহাবের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে জয় পাওয়ার সুযোগ দেখছেন। বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আয়েশা ওয়াহাব এখন কংগ্রেসে আফগান-আমেরিকান প্রতিনিধিত্বের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। তবে আগামী নভেম্বরের নির্বাচনেও তাকে নিজের আসন ধরে রাখার জন্য আবারও ভোটারদের সমর্থন চাইতে হবে।
আলাস্কায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা, চার্টার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৮ আরোহী
৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ, বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ
টেলর সুইফটের সাবেক প্রেমিক কনর কেনেডি আন্তর্জাতিক মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায়!
ক্যালিফোর্নিয়ার হাইস্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বা ইউসি সিস্টেমে ভর্তির নতুন পরিসংখ্যানে চমকপ্রদ চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের ফল অনুযায়ী, সান ফ্রান্সিসকোর মিশন হাইস্কুল ইউসি বার্কলিতে ভর্তির হারে রাজ্যের সরকারি ও বেসরকারি সব হাইস্কুলকে ছাড়িয়ে গেছে। ইউসি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মিশন হাইস্কুল থেকে ইউসি বার্কলিতে আবেদন করা ৭৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪ জন ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। অর্থাৎ স্কুলটির গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ৪৫ শতাংশ। একই সঙ্গে মিশন হাইস্কুলের আবেদনকারীদের গড় জিপিএ ছিল ৩.৯৩, আর যারা ভর্তির সুযোগ পেয়েছে তাদের গড় জিপিএ ছিল ৪.০৮। মিশন হাইস্কুলের এই সাফল্য আরও উল্লেখযোগ্য, কারণ স্কুলটিতে আর্থসামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউসি বার্কলিতে ভর্তির ক্ষেত্রে স্কুলটি ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করছে। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফ্রেসনোর এডিসন হাইস্কুল। স্কুলটি থেকে ইউসি বার্কলিতে আবেদন করা ৬২ জনের মধ্যে ২১ জন ভর্তি হয়েছে, যা ৩৪ শতাংশ গ্রহণযোগ্যতার হার। এরপর রয়েছে ইউসিএলএর জেফেন একাডেমি, যেখানে ৬১ জন আবেদনকারীর মধ্যে ১৯ জন ভর্তি হয়েছে এবং গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ৩১ শতাংশ। বে এরিয়ার আরও কয়েকটি হাইস্কুলও ইউসি বার্কলিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। রেডউড সিটির স্ট্যানফোর্ড অনলাইন হাইস্কুলের গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ২৭ শতাংশ। অকল্যান্ডের বেসরকারি বিশপ ও’ডাউড হাইস্কুলেও একই হার দেখা গেছে। বার্কলে হাইয়ের হার ছিল ২৩ শতাংশ, এল সেরিটো হাইয়ের ২৩ শতাংশ, হারকিউলিস হাইয়ের ২২ শতাংশ এবং ড্যানভিলের সান রামন ভ্যালি হাইয়ের ২২ শতাংশ। অন্যদিকে, কিছু স্কুলের শিক্ষার্থীদের ইউসি বার্কলিতে ভর্তির হার ছিল তুলনামূলকভাবে কম। ক্যাম্পবেলের ওয়েস্টমন্ট হাইস্কুলে এই হার ছিল ৪ শতাংশ, এলক গ্রোভের প্লেজ্যান্ট গ্রোভ হাইস্কুলে ৪ শতাংশ এবং ওয়েস্ট স্যাক্রামেন্টোর রিভার সিটি হাইস্কুলে ৫ শতাংশ। ২০২৫ সালের সামগ্রিক ইউসি ভর্তি চিত্রেও কিছুটা স্বস্তির খবর ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য। রাজ্যের যেসব শিক্ষার্থী ইউসি ক্যাম্পাসে আবেদন করেছিল, তাদের ৭৭ শতাংশের বেশি অন্তত একটি ইউসি ক্যাম্পাসে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। প্রায় এক দশকের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতার হার। তবে ইউসি সিস্টেমের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্যাম্পাসগুলোতে ভর্তি এখনও কঠিন। ২০২৫ সালের হিসাবে ইউসিএলের গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ৯.৪ শতাংশ এবং ইউসি বার্কলির ১১.৪ শতাংশ। এরপর ইউসি সান দিয়েগোর ২৮.৪ শতাংশ, ইউসি আরভাইনের ২৮.৭ শতাংশ এবং ইউসি সান্তা বারবারার ৩৮.৩ শতাংশ। বিষয়ভেদেও ভর্তির প্রতিযোগিতায় বড় পার্থক্য রয়েছে। ইউসি বার্কলিতে পাবলিক হেলথ ছিল সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক বিষয়গুলোর একটি, যেখানে গ্রহণযোগ্যতার হার মাত্র ২ শতাংশ। অন্যদিকে আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজে এই হার ছিল ২৫ শতাংশ। ইউসিএলে নার্সিংয়ে ভর্তি সবচেয়ে কঠিন ছিল, গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল মাত্র ১ শতাংশ। বে এরিয়ার আরও কিছু হাইস্কুল ইউসি মার্সেড ও ইউসি রিভারসাইডে প্রায় শতভাগ ভর্তি সাফল্য দেখিয়েছে। ইউসি মার্সেডে সান ফ্রান্সিসকোর ১৩টি হাইস্কুলের আবেদনকারীদের গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ১০০ শতাংশ। পুরো ইউসি মার্সেড ক্যাম্পাসের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ৯৫.১ শতাংশ। ইউসি রিভারসাইডের সামগ্রিক হার ছিল ৮৭.১ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, ক্যালিফোর্নিয়ার হাইস্কুল থেকে ইউসি ক্যাম্পাসে ভর্তির ক্ষেত্রে স্কুলভেদে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে ইউসি বার্কলির মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ক্যাম্পাসে মিশন হাইস্কুলের ৪৫ শতাংশ গ্রহণযোগ্যতার হার স্কুলটির শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক সাফল্যকে আরও নজরকাড়া করে তুলেছে।
মিশিগানে সরকারি চাকরির সুযোগ! ঘণ্টায় প্রায় ২২ থেকে ৩০ ডলার আয়
নিউইয়র্কে বাবা-মায়েদের একান্ত সময়ের সুযোগ, মামদানির ‘পেরেন্টস নাইট আউট’-এ ৪ ঘণ্টার ফ্রি চাইল্ডকেয়ার