আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে সন্তানদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাক্তন প্রেমিকের গুলিতে প্রাণ দিলেন পাঁচ সন্তানের মা

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৭:১৫
সন্তানদের নিরাপদ রাখতে নিজের জীবন উৎসর্গ করলেন এক সাহসী মা ড্যানিয়েল রিভেরা (৪০)
সন্তানদের নিরাপদ রাখতে নিজের জীবন উৎসর্গ করলেন এক সাহসী মা ড্যানিয়েল রিভেরা (৪০)

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে প্রাক্তন প্রেমিকের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ড্যানিয়েল রিভেরা (৪০) নামের পাঁচ সন্তানের এক মা। পরিবারের দাবি, সন্তানদের সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতেই নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন তিনি। শনিবার মধ্যরাতে ইলিনয়ের কাহোকিয়া হাইটসে একটি পরিত্যক্ত আমেরিকান লিজিয়ন পোস্টের বাইরে জেভিয়ার হ্যারিসন (৩০) নামের ওই ব্যক্তি রিভেরাকে গুলি করে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেন। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে রিভেরার ১৬ বছর বয়সী মেয়ের চোখের সামনেই।

 

পুলিশ প্রাথমিকভাবে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা জানালেও রিভেরার পরিবার তা অস্বীকার করেছে। পরিবারের ভাষ্যমতে, তাদের মধ্যে একসময় সম্পর্ক থাকলেও হ্যারিসন গত কয়েক বছর ধরে রিভেরাকে ক্রমাগত হয়রানি করে আসছিল। ঘটনার রাতে রিভেরা হ্যারিসনের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হয়েছিলেন কেবল তার সন্তান এবং বয়স্ক মাকে বাঁচানোর তাগিদে। পরিবারের সদস্য তেরেসা ফিউডো জানান, রিভেরা যদি সেদিন হ্যারিসনের সাথে দেখা না করতেন, তবে সে সরাসরি তাদের বাড়িতে এসে আরও বড় ধরনের ক্ষতি বা ট্র্যাজেডির জন্ম দিতে পারত। রিভেরার মা কারেন রিভেরা বলেন, "সে মূলত আমাদের জীবন বাঁচাতেই নিজের জীবন বিপন্ন করেছে।" ঘটনার সময় রিভেরার কিশোরী মেয়ে কোনোমতে দৌড়ে পালিয়ে নিজের প্রাণ রক্ষা করে এবং ৯১১ নম্বরে কল করে পুলিশকে খবর দেয়।

 

আদালতের নথি থেকে জানা যায়, রিভেরা গত মার্চ মাসে হ্যারিসনের বিরুদ্ধে একটি সুরক্ষা আদেশের (অর্ডার অব প্রটেকশন) আবেদন করেছিলেন, যা কয়েক সপ্তাহ পর এপ্রিলে বাতিল হয়ে যায়। শুধু রিভেরাই নন, গত মাসে এবং ২০১৯ সালেও আরও দুই নারী হ্যারিসনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা আদেশ পেয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, হ্যারিসন এর আগেও রিভেরা ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়েছিল। গত কয়েক বছরে বেলভিলে অবস্থিত রিভেরার বাড়িতে অন্তত ৫০ বার পারিবারিক সহিংসতার কারণে পুলিশকে ডাকতে হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তার বোনেরা।

 

পরিবারের ভাষ্যমতে, রিভেরাই ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। পাঁচ সন্তান ও মায়ের ভরণপোষণের জন্য তিনি প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা কাজ করতেন। তেরেসা ফিউডো বলেন, "সে তার সন্তানদের নিজের পুরো হৃদয় দিয়ে ভালোবাসত। সন্তানদের জন্য সে করতে পারে না, এমন কিছুই ছিল না।" এখন থেকে নিহত এই সাহসী মায়ের পাঁচ সন্তানের লালনপালনে তার মা কারেন রিভেরা সহায়তা করবেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
বমিতে শ্বাসনালি আটকে যাওয়া তিন বছর বয়সী এক মুমূর্ষু শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা
ক্যালিফোর্নিয়ায় শ্বাসনালিতে বমি আটকে মৃত্যুর মুখে তিন বছরের শিশু, প্রাণ বাঁচাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বমিতে শ্বাসনালি আটকে যাওয়া তিন বছর বয়সী এক মুমূর্ষু শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। স্যান বার্নার্ডিনো কাউন্টির রিয়াল্টো পুলিশের এই বীরত্বপূর্ণ উদ্ধার অভিযানের একটি শ্বাসরুদ্ধকর ভিডিও সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। মায়ের চোখের সামনেই দম বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া ওই শিশুকে একটি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে আনেন তারা।   জানা যায়, গত ৫ আগস্ট দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে ওই শিশুর মা তার সাদা এসইউভি (SUV) গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে হঠাৎ তিনি বুঝতে পারেন যে তার সন্তানের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে এবং সে বমি করে ফেলেছে। অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি ইস্ট ফুটহিল বুলেভার্ডের ৩০০ ব্লকের কাছে গাড়ি থামিয়ে আতঙ্কিত অবস্থায় ৯১১ নম্বরে কল করেন। পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন ওই অসহায় মা ফুটপাতে তার সন্তানের নিথর দেহ কোলে নিয়ে বসে ছিলেন। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে শিশুটির মা বলেন, "আমার মনে হচ্ছিল ছেলেটা আমার চোখের সামনেই মারা যাচ্ছে।"   পরিস্থিতি বুঝতে পেরে এক পুলিশ কর্মকর্তা দ্রুত তার গাড়ি থেকে ‘লাইফভ্যাক’ (LifeVac) নামের একটি বিশেষ ডিভাইস বের করে আনেন। এরপর অন্য কর্মকর্তাদের সহায়তায় শিশুটিকে ফুটপাতে শুইয়ে ডিভাইসটির মাধ্যমে তার শ্বাসনালিতে আটকে থাকা প্রতিবন্ধকতা সরাতে পাম্প বা সাকশন তৈরি করতে থাকেন। বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর অবশেষে শিশুটি শ্বাস নেয় এবং তার জ্ঞান ফেরে। এরপর রিয়াল্টো ফায়ার ডিপার্টমেন্টের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের জন্য স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান।   বডি-ক্যামেরার অপর একটি ফুটেজে দেখা যায়, হাসপাতালে সুস্থ হয়ে ওঠা সন্তানকে কোলে নিয়ে বসে আছেন ওই মা এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের মাধ্যমে জীবন বাঁচানোর জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। এ বিষয়ে রিয়াল্টো পুলিশের ক্যাপ্টেন ল্যামন্ট কোয়ার্কার গণমাধ্যমকে বলেন, "এই ঘটনাটি আমাদের প্রথম সাড়াদানকারী (ফার্স্ট রেসপন্ডার) কর্মীদের জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করার গুরুত্ব প্রমাণ করে। পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসায় কার্যকরভাবে সাড়া দিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঠিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে।"

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৭:৪২
বাংলাদেশি-আমেরিকান ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা শাজিয়া হক

ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেবেলো সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান শাজিয়া হক

সন্তানদের নিরাপদ রাখতে নিজের জীবন উৎসর্গ করলেন এক সাহসী মা ড্যানিয়েল রিভেরা (৪০)

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে সন্তানদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাক্তন প্রেমিকের গুলিতে প্রাণ দিলেন পাঁচ সন্তানের মা

স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ম্যাককেসন

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ম্যাককেসনে শত শত চাকরি, বাংলাদেশিদের জন্য যেসব সুযোগ

বামে: মিফতাহ সিদ্দিকী | ডানে: জুয়েল সাদত
মিফতাহ সিদ্দিকীর নিয়োগে সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে আশাবাদ জুয়েল সাদতের

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মিফতাহ সিদ্দিকীর নেতৃত্ব, ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জুয়েল সাদত। সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান হিসেবে মিফতাহ সিদ্দিকীর নিয়োগের প্রসঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের পরিচয় ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি এ মন্তব্য করেন।   জুয়েল সাদত বলেন, ১৯৯০ সালে সিলেটের এমসি কলেজে পড়ার সময় থেকেই মিফতাহ সিদ্দিকীর সঙ্গে তার পরিচয়। রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন অবস্থানে থাকলেও তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় ছিল। তার ভাষায়, ১৯৯০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৬ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় মিফতাহ সিদ্দিকী যে ইমেজ ধরে রেখেছেন, তা সহজ বিষয় নয়।   তিনি বলেন, মিফতাহ সিদ্দিকী শান্ত স্বভাবের এবং ঠান্ডা মাথার মানুষ। বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন সিলেটে সাংবাদিকতা করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মিফতাহ সিদ্দিকী ও এমরান আহমদ চৌধুরীকে তার দেখা উল্লেখযোগ্য ছাত্রনেতাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করেন।   মিফতাহ সিদ্দিকী বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সিলেট বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে।   জুয়েল সাদত বলেন, সিলেটের উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। তার মতে, এখন সিলেটের উন্নয়নে সরকার ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ, আইনশৃঙ্খলা ও পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান।   সিলেট নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নেও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। তার প্রত্যাশা, মিফতাহ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ওয়াসা কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে নগরবাসীর নিরাপদ ও সুপেয় পানির চাহিদা পূরণে অগ্রগতি হবে।   জুয়েল সাদত বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সিলেটের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি সিলেটে রাজনৈতিক সহাবস্থান, আইনের শাসন ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   তার ভাষায়, “ভালকে ভাল এবং সত্যকে সত্য বলতে হয়। কাউকে খুশি করার জন্য নয়, বিবেক ও দায়িত্ববোধ থেকেই কথা বলতে হয়।”   সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জুয়েল সাদত। তিনি রাজপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নারীদের নিরাপদ চলাচল এবং পর্যটকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান।   সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের নিরবচ্ছিন্ন ব্যবস্থা, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে সিলেটের অর্থনীতি ও পর্যটন খাত আরও এগিয়ে যাবে।   মিফতাহ সিদ্দিকীর নতুন দায়িত্বকে সামনে রেখে সিলেটের উন্নয়নে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান জুয়েল সাদত।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৬:২৮
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের ধরতে আইসিইর নতুন হাতিয়ার ‘ইলেকট্রিক শক’ গ্লাভস

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের ধরতে আইসিইর নতুন হাতিয়ার ‘ইলেকট্রিক শক’ গ্লাভস, উদ্বেগ মানবাধিকার কর্মীদের

যুক্তরাষ্ট্রে কার্ড স্কিমিংয়ের ভয়াল ফাঁদ, সোয়াইপ করলেই হাতিয়ে নিচ্ছে লাখো ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে কার্ড স্কিমিংয়ের ভয়াল ফাঁদ, সোয়াইপ করলেই হাতিয়ে নিচ্ছে লাখো ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে চীনা নাগরিকদের গ্রিন কার্ড পাইয়ে দিতে ভুয়া বিয়ের রমরমা ব্যবসা, অভিযুক্ত ১১ জন

যুক্তরাষ্ট্রে চীনা নাগরিকদের গ্রিন কার্ড পাইয়ে দিতে ভুয়া বিয়ের রমরমা ব্যবসা, অভিযুক্ত ১১ জন

চট্টগ্রামের মেজবানের স্বাদে মাতবে ভার্জিনিয়া, নকিব খান-প্রতীক হাসানের গানে জমবে প্রবাসীদের মিলনমেলা
চট্টগ্রামের মেজবানের স্বাদে মাতবে ভার্জিনিয়া, নকিব খান-প্রতীক হাসানের গানে জমবে প্রবাসীদের মিলনমেলা

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য এক আনন্দঘন মিলনমেলার প্রস্তুতি চলছে। আগামী ২৩ আগস্ট আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কের শেল্টার ওয়ানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আমেরিকাপ্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন’ বা বাইটপো-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসব ঘিরে প্রবাসীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের আয়োজনটি বিগত বছরগুলোর তুলনায় পরিসরে আরও বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ হবে।   চট্টগ্রামের সুস্বাদু মেজবানের পাশাপাশি এই আয়োজনের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো জমকালো সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের গানে গানে মাতাতে মঞ্চে উঠবেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নকিব খান এবং প্রতীক হাসানসহ আরও বেশ কয়েকজন গুণী শিল্পী। সুস্বাদু খাবার আর আড্ডার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় র‍্যাফেল ড্র-এর ব্যবস্থা। এতে ভাগ্যবান বিজয়ীদের জন্য হিরের আংটি, ল্যাপটপ ও টেলিভিশনসহ নানা মূল্যবান পুরস্কার জেতার সুযোগ রাখা হয়েছে।   আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য স্যাম রিয়া জানান, প্রবাসীদের এক ছাদের নিচে এনে আনন্দময় সময় উপহার দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি সবাইকে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। আয়োজকদের মতে, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় সংস্কৃতি ও চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সামাজিক ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করতে এই মেজবান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উত্তর ভার্জিনিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এই আয়োজন একটি প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৫:৩২
গর্ভপাত চেয়েছিলেন চুক্তিবদ্ধ বাবা-মা, রাজি হননি সারোগেট মা; শিশুর প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে এলো টেক্সাস আদালত

গর্ভপাত চেয়েছিলেন চুক্তিবদ্ধ বাবা-মা, রাজি হননি সারোগেট মা; শিশুর প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে এলো টেক্সাস আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার ডে-কেয়ারে অন্য শিশুদের সামনেই স্ত্রী-সন্তানকে হ ত্যার পর বাবার আত্মহ ত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার ডে-কেয়ারে অন্য শিশুদের সামনেই স্ত্রী-সন্তানকে হ ত্যার পর বাবার আত্মহ ত্যা

ফ্লোরিডায় কুমিরের আক্রমণে হাত হারালেন ৫৮ বছর বয়সী নারী, টিকটকারদের দুষছেন ছেলে

ফ্লোরিডায় কুমিরের আক্রমণে হাত হারালেন ৫৮ বছর বয়সী নারী, টিকটকারদের দুষছেন ছেলে

0 Comments