নিউইয়র্কের বুকে এক খণ্ড বাংলাদেশ: বর্ণাঢ্য আয়োজনে সম্পন্ন হলো তৃতীয় বাংলাদেশ ডে প্যারেড
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালিদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও দেশীয় আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হলো তৃতীয় 'বাংলাদেশ ডে প্যারেড'। স্থানীয় সময় গত রবিবার (১৭ মে) দুপুরে নিউইয়র্ক সিটির অন্যতম প্রধান প্রবাসী কেন্দ্রস্থল জ্যাকসন হাইটসে এই বর্ণাঢ্য প্যারেডের আয়োজন করা হয়। আমেরিকার বুকে বাংলাদেশের গৌরবময় সংস্কৃতিকে তুলে ধরার এই আয়োজনে নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট প্রশাসনের অর্ধ ডজনাধিক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিসহ হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। ফলে পুরো জ্যাকসন হাইটস এলাকা কিছু সময়ের জন্য রূপ নিয়েছিল এক খণ্ড বাংলাদেশে।
উৎসবের এই দিনে প্রবাসী বাঙালিদের হাতে হাতে শোভা পাচ্ছিল বাংলাদেশের লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা, মুখে মুখে ছিল চিরচেনা দেশাত্মবোধক গান, আর চারপাশ মুখরিত ছিল ঐতিহ্যবাহী ঢাক—ঢোলের বাজনায়। বাঙালি শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির নানা প্রতিকৃতি ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে নিজ দেশের গৌরবকে এক অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরা হয় এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে। এবারের প্যারেডের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশ থেকে আসা একঝাঁক জনপ্রিয় তারকার উপস্থিতি। রূপালী পর্দার চিত্রনায়িকা মৌসুমী, জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী শুভ্রদেব, বিশিষ্ট অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, সজল, জনপ্রিয় অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান ও নওরিনসহ দেশ ও প্রবাসের সাংস্কৃতিক জগতের একাধিক পরিচিত মুখ এই আয়োজনে শামিল হন। তারকাদের একনজর দেখতে এবং তাদের সাথে প্যারেডে অংশ নিতে বিপুলসংখ্যক দেশী—বিদেশী জনতা রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পুরো আয়োজন উপভোগ করেন। প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাশাপাশি ভিনদেশী আমেরিকানদেরও এই প্যারেডকে ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। বিশেষ করে স্প্যানিশ কমিউনিটির শিল্পীদের চমৎকার লোকনৃত্য পরিবেশনা প্যারেডে ভিন্ন এক বৈচিত্র্যময় মাত্রা যোগ করে।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত প্যারেডের মূল কর্মসূচী নির্ধারিত থাকলেও, ঘড়ির কাঁটা ৯টা ছোঁয়ার আগে থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশীরা নির্ধারিত স্থানে এসে সমবেত হতে থাকেন। গ্রীষ্মকালের গরম হাওয়া উপেক্ষা করেই সর্বস্তরের প্রবাসীরা রঙিন ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হন। প্রত্যেকেই নিজ নিজ সংগঠনের ব্যানার এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে অত্যন্ত উদ্দীপনার সাথে যোগ দেন। বেলা ১১টার দিকে প্যারেড শুরুর মূল স্পটটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ঠিক এই সময়েই নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানস্থলে এসে সমবেত হন এবং একটি সুসজ্জিত ট্রাকের ওপর তৈরি চলমান মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
এবারের প্যারেডে আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় ছিলেন মার্কিন কংগ্রেসউয়োম্যান গ্রেস মেং ও কংগ্রেসওম্যান টম সোয়াজি, স্টেট সিনেটর জেসিকা রামোস, স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান স্টেভেন রাগা, অ্যাসেম্বলিউয়োম্যান জেসিকা গঞ্জালেস রোহাস এবং নিউইয়র্ক সিটির কাউন্সিলম্যান শেকার কৃষ্ণানসহ আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মার্কিন জনপ্রতিনিধি। প্যারেডের চীফ গ্র্যান্ড মার্শাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি এম আজিজ এবং ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন। মার্কিন মূলধারার রাজনীতিকদের এই বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, আমেরিকার রাজনীতিতে বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রভাব ও গুরুত্ব দিন দিন কতটা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পরিবেশনের মধ্যদিয়ে প্যারেডের আনুষ্ঠানিক কর্মকান্ড শুরু হয়। প্যারেড শুরুর প্রাক্কালে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্যারেড কমিটির কনভেনর গিয়াস আহমেদ, চেয়ারম্যান এটনীর্ মঈন চৌধুরী এবং গ্র্যান্ড মার্শাল লায়ন শাহ নেওয়াজসহ অন্যান্য মার্শালরা। এছাড়াও কমিউনিটি নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ডা. ওয়াদুদ ভুঁইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও প্রথম প্যারেড আয়োজন কমিটির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ফখরুল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, প্রবীণ প্রবাসী ব্যক্তিত্ব নাসির খান পল, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সহ-সভাপতি ওয়াসী চৌধুরী প্রমুখ। সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সরকার, বিশিষ্ট পৃষ্ঠপোষক ডা. বর্ণালী হাসান, সারাহ কেয়ার ইউএসএ’র প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড সিইও ডা. শাহজাদী পারভীন সারাহ, অল কাউন্টি হেলথ কেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান শিফা ভুঁইয়া, জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন (জেবিএ)—এর সাবেক সভাপতি আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম ও জাকারিয়া মাসুদ জিকো, ঢাকা জিলা এসোসিয়েশনের সভাপতি দুলাল বেহেদো ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট কাজী আযম, মূলধারার রাজনীতিক ড. دীলিপ নাথ এবং নিউইয়র্ক বাংলাদেশী আমেরিকান লায়ন্স ক্লাব ডিষ্ট্রিক্ট ২০—আর টু এর সভাপতি জেএফএম রাসেলসহ আরও অনেকে তাদের বক্তব্যে প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর জোর দেন। এই পুরো পর্বটি পরিচালনা করেন প্যারেড কমিটির সদস্য সচিব ফাহাদ সোলায়মান। তাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন প্যারেড কমিটির চীফ ইভেন্ট কো—অর্ডিনেটর এফইএমডি এবং সুপরিচিত উপস্থাপিকা সোনিয়া সিরাজ।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে একটি বিশালাকার বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সামনে নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) চৌকষ বাদ্যযন্ত্রী দলের চমৎকার সুরের মধ্য দিয়ে মূল প্যারেড বা শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এরপর সিটির বিভিন্ন সরকারি বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশী—আমেরিকানদের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন এবং অসংখ্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে হাজার হাজার মানুষ সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে চলেন। প্যারেডটি জ্যাকসন হাইটসের ৩৭ এভিনিউ ও ৬৯ স্ট্রিট সংলগ্ন পার্কিং লট থেকে যাত্রা শুরু করে এবং ৩৭ এভিনিউ ধরে অত্যন্ত চমৎকারভাবে এগিয়ে ৮৭ স্ট্রিটে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে সেখানে দেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের মনমুগ্ধকর সঙ্গীত আর লোকনৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সফল সমাপ্তি ঘটে।
এবারের প্যারেডে অংশগ্রহণকারী উল্লেখযোগ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ বিভাগের ব্যান্ড দলের সাথে এনওয়াইপিডি, নিউইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্ট (এফডিএনওয়াই) এবং ইউএস আর্মি অংশ নিয়ে প্যারেডের মর্যাদা বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া অন্যান্য সংগঠনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বাংলাদেশী—আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন (বাপা), আগামীতে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম ফোবানা কনভেনশন—২০২৬-এর আয়োজক কমিটি, সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পারফার্মিংস আর্টস (বিপা), বাংলাদেশ একাডেমী অব ফাইন আর্টস (বাফা), প্রবাসী সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন কমিটি, প্রবাসী মতলব সমিতি ইনক, ঢাকা জেলা এসোসিয়েশন ইউএসএ, গোল্ড—স্যান্ডস গ্রুপ, বাংলাদেশী—আমেরিকান বোলডেস্ট এসোসিয়েশন (বিএবিএ), গ্রেটার খুলনা সোসাইটি অব ইউএসএ, মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর এশোসিয়েশন, জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী, কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ইউএসএ, মনি হোম কেয়ার, দ্যা ভয়েস অব ওম্যান এমপাওয়ারমেন্ট, হেলথ ফার্স্ট, আমেরিকান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস, ফার্স্ট এইড হোমকেয়ার, নবাবগঞ্জ উপজেলা এসোসিয়েশন অব ইউএসএ, বরিশাল সিটি ও সদর সোসাইটি ইউএসএ, বরিশাল বিভাগীয় সমিতি ইউএসএ, বাংলাদেশী—আমেরিকান পোস্টাল এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশন ইউএসএ, পাবনা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এবং দোহার উপজেলা সমিতি ইউএসএ। অপরদিকে সাবেক সিটি কাউন্সিলম্যান হাইরাম মানসেরাত এবং নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট—৩০ এর আগামী প্রাইমারী নির্বাচনে প্রার্থী বাংলাদেশী—আমেরিকান শামসুল হকের সমর্থকরাও বিশাল বহর নিয়ে প্যারেডে যোগ দেন। এছাড়া মেলায় হেলথ ফার্স্ট ও অল কাউন্টি হেলথ কেয়ারসহ কয়েকটি ব্যবসায়িক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান স্টল বসিয়ে দর্শনার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানি ও নানা উপহার সামগ্রী বিতরণ করে। বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী সারোয়ার খান বাবু দর্শকদের মাঝে আঙুর বিতরণ করেন।
তবে এত বড় ও উৎসবমুখর আয়োজন সত্ত্বেও পুরো প্যারেড অনুষ্ঠানজুড়ে শৃঙ্খলার চরম অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে বলে সাধারণ প্রবাসী ও পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন। সময় ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে শোভাযাত্রার রুট নিয়ন্ত্রণে এক ধরণের সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট ছিল। এছাড়া প্যারেড কমিটি আগে থেকে অনেক বড় বড় তারকার উপস্থিতির কথা ঘোষণা করলেও, তাদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত প্যারেডে অনুপস্থিত ছিলেন, যা সাধারণ দর্শকদের কিছুটা ক্ষুব্ধ ও হতাশ করেছে। তবে সব ছাড়িয়ে কমিউনিটিতে সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে প্রবাসীদের অভিভাবক সংগঠন হিসেবে পরিচিত 'বাংলাদেশ সোসাইটি'র আনুষ্ঠানিক অনুপস্থিতি। সোসাইটির কোনো কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে প্যারেডে অংশ নিলেও সংগঠনটির কোনো ব্যানার বা আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ ছিল না। প্রবাসীদের এত বড় একটি জাতীয় উৎসবে কেন প্রধানতম আঞ্চলিক ছাতা-সংগঠনটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অংশ নিল না, তা নিয়ে কমিউনিটির ভেতরে নানা প্রশ্ন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আয়োজকদের সাথে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য বা সমন্বয়ের অভাবের কারণেই এমনটি ঘটেছে, যা ভবিষ্যতে দূর করা জরুরি। তা সত্ত্বেও, লাল-সবুজের এই মহোৎসব নিউইয়র্কের বুকে বাংলাদেশের গৌরবময় সংস্কৃতিকে এক অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমিনেসোটায় গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্ট ক্রিশ্চিয়ান কাস্ত্রোকে টেক্সাস থেকে মিনেসোটায় হস্তান্তর ঠেকাতে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ফেডারেল আদালত। বুধবার টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের ফেডারেল বিচারক ফার্নান্দো রদ্রিগেজ জুনিয়র এই সিদ্ধান্ত দেন। ফলে ৯০ দিনের আটকসীমা শেষ হওয়ায় কাস্ত্রোর টেক্সাসের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। ৫২ বছর বয়সী কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মিনেসোটায় সেকেন্ড-ডিগ্রি অ্যাসল্টের চারটি অভিযোগ এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার একটি অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলোর সূত্রপাত গত ১৪ জানুয়ারি মিনিয়াপলিসে একটি ইমিগ্রেশন অভিযান চলাকালে গুলির ঘটনায়। ওই ঘটনায় ভেনেজুয়েলার নাগরিক হুলিও সিজার সোসা-সেলিস পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। মিনেসোটার হেনেপিন কাউন্টি কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর গত ২৯ মে টেক্সাস রেঞ্জার্স তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি ক্যামেরন কাউন্টি জেলে আটক ছিলেন। তবে মিনেসোটার বারবার অনুরোধের পরও টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট কাস্ত্রোকে মিনেসোটায় পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজে স্বাক্ষর করেননি। মিনেসোটার অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসন আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন, কাস্ত্রোকে মুক্তি না দিয়ে তাকে মিনেসোটায় পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে টেক্সাসকে বাধ্য করা হোক। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছিলেন, মুক্তি পেলে কাস্ত্রো পালিয়ে যেতে পারেন। তবে বিচারক রদ্রিগেজ বলেন, টেক্সাসের গভর্নর অ্যাবট এখনো কাস্ত্রোর প্রত্যর্পণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেননি। বরং বিষয়টি পর্যালোচনায় রয়েছে। ফলে এ পর্যায়ে আদালতের হস্তক্ষেপের মতো চূড়ান্ত আইনি পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বিদ্যমান আইনে গভর্নরকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রত্যর্পণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই হবে, এমন বাধ্যবাধকতাও নেই বলে আদালত উল্লেখ করেন। অ্যাবটের অবস্থানের পেছনে মূল প্রশ্ন হলো, কাস্ত্রোকে আদৌ ‘ফিউজিটিভ’ বা আইন এড়িয়ে পালিয়ে থাকা আসামি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে কি না। অ্যাবটের পক্ষের যুক্তি, কাস্ত্রো নিজে মিনেসোটা থেকে পালিয়ে টেক্সাসে যাননি। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে টেক্সাসে পুনর্নিয়োগ করা হয়েছিল। তাই তাকে প্রচলিত অর্থে পলাতক আসামি বলা যায় কি না, তা নিয়ে টেক্সাসের প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে মিনেসোটার কর্মকর্তারা বলছেন, কথাটি অপ্রাসঙ্গিক। তাদের দাবি, কথিত অপরাধের সময় কাস্ত্রো মিনেসোটায় ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি টেক্সাসে আটক আছেন। তাই তার বিরুদ্ধে জারি হওয়া পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে মিনেসোটায় ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চালানো উচিত। মিনেসোটার অভিযোগ অনুযায়ী, জানুয়ারির ওই ঘটনায় কাস্ত্রো একটি বন্ধ দরজার ভেতর দিয়ে গুলি চালান এবং পরে ঘটনাটির পরিস্থিতি সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেন। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, কাছাকাছি একটি ক্যামেরার ফুটেজ তার দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে অসঙ্গতি দেখিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং কাস্ত্রো দোষী সাব্যস্ত হননি। মিনেসোটা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এর আগে জানিয়েছিল, কাস্ত্রোকে মিনেসোটায় ফিরিয়ে এনে অভিযোগগুলোর বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি করাই তাদের লক্ষ্য। অন্যদিকে টেক্সাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রত্যর্পণের বিষয়ে গভর্নরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে রাজ্যের তদন্ত শেষ করার সুযোগ থাকা উচিত। আদালতের বুধবারের সিদ্ধান্ত কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মিনেসোটার ফৌজদারি অভিযোগ বাতিল করেনি। তবে টেক্সাসে তার আটক থাকার আইনি ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় তাকে মুক্তি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন কাস্ত্রো মুক্তি পাওয়ার পর মিনেসোটার অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
বর্জ্য প্লাস্টিক ও উদ্ভিদবর্জ্য থেকে তৈরি হচ্ছে ভ্যানিলা স্বাদের প্রোটিন বিস্কিট
মানুষকে ধনী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইয়ের লেখক নিজেই ১২০ কোটি ডলার ঋণে
কাজ ও ভালো বেতনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ২৫ শহরের তালিকা প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের বাড়তি দাম কমাতে বিদেশ থেকে মাংস আমদানির সুযোগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার, ২৬ আগস্ট নতুন এক ঘোষণায় গরুর মাংসের নির্দিষ্ট অংশ, বিশেষ করে কিমা তৈরিতে ব্যবহৃত চর্বিহীন মাংসের টুকরার জন্য শুল্ক-সুবিধাপ্রাপ্ত আমদানির পরিমাণ অতিরিক্ত ৩ লাখ মেট্রিক টন বাড়ানো হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গরুর মাংসের সরবরাহ বাড়ানো এবং সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কিমা করা গরুর মাংসের দাম কমানো। নতুন এই সুবিধা ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে এবং তিন ধাপে মোট ৩ লাখ মেট্রিক টন মাংস আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে। হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ মেট্রিক টন আমদানির সুযোগ থাকবে। দ্বিতীয় ধাপে ১ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত আরও ১ লাখ মেট্রিক টন এবং তৃতীয় ধাপে ৩১ অক্টোবর থেকে সর্বোচ্চ ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাকি ১ লাখ মেট্রিক টন আমদানি করা যাবে। বরাদ্দ পূর্ণ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট সময়সীমার আগেই আমদানি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। এই অতিরিক্ত আমদানি সুবিধা মূলত ‘লিন বিফ ট্রিমিংস’ বা তুলনামূলক চর্বিহীন মাংসের টুকরার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এসব মাংস সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে অন্যান্য গরুর মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে কিমা করা গরুর মাংস তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। নতুন ৩ লাখ মেট্রিক টনের বরাদ্দটি নির্দিষ্ট কোনো একটি দেশের জন্য নয়, বরং ‘অন্যান্য দেশ বা অঞ্চল’-এর জন্য রাখা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের গরুর মাংসের সরবরাহ সংকটকে বড় কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে গরুর সংখ্যা ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। যদিও জুলাইয়ে গবাদিপশুর সংখ্যা বাড়ার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা গেছে, খরা, দাবানল এবং খাদ্য ও চারণের সংকটের কারণে খামারিদের ওপর চাপ এখনো রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত দেশটির খামারগুলোতে গরু ও বাছুরের মোট সংখ্যা ছিল ৯ কোটি ৪২ লাখ। এর মধ্যে মাংস উৎপাদনকারী গাভীর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৮৫ লাখ, যা এক বছর আগের তুলনায় ১ শতাংশ কম। ২০২৬ সালের বাছুর উৎপাদনের হিসাবও আগের বছরের তুলনায় ২ শতাংশ কমে ৩ কোটি ২৫ লাখে দাঁড়িয়েছে। এই সরবরাহ সংকটের মধ্যেই গরুর মাংসের চাহিদা বাড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্ধৃত কৃষি বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বাকি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার আরও বাড়তে পারে। একই সময়ে চলতি বছর দেশটির গরুর মাংস উৎপাদন ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ কমতে পারে। ফলে সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান মাংসের দামকে উঁচুতে রাখছে বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও গরুর মাংসের দাম কমাতে আমদানির সুযোগ বাড়িয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সে সময় আর্জেন্টিনা থেকে চর্বিহীন গরুর মাংসের টুকরা আমদানির জন্য ২০২৬ সালের কোটা ৮০ হাজার মেট্রিক টন বাড়ানো হয়। তবে বুধবার ঘোষিত নতুন ৩ লাখ মেট্রিক টনের সুবিধা ওই আর্জেন্টিনা-নির্দিষ্ট বরাদ্দের বাইরে রাখা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের সঙ্গে দাম কমানোর একটি শর্তও যুক্ত করেছে প্রশাসন। কৃষিমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি আমদানিকৃত চর্বিহীন মাংস বাজারদরের তুলনায় ২৫ শতাংশ কম দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করবেন। যদি দেখা যায়, অতিরিক্ত কোটার আওতায় আসা মাংস ওই হারে কম দামে বিক্রি হচ্ছে না, তাহলে বিষয়টি ট্রাম্পকে জানাতে হবে। এরপর অবশিষ্ট আমদানি সুবিধা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য, এই ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে আমদানির মাধ্যমে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পান, আবার যুক্তরাষ্ট্রের গরু পালনকারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপও না পড়ে। প্রশাসনের হিসাবে, নতুন আমদানি ব্যবস্থা সাময়িকভাবে গরুর মাংসের সরবরাহ বাড়াবে এবং দেশীয় খামারিরা নিজেদের গবাদিপশুর সংখ্যা পুনর্গঠনের সুযোগ পাবেন। তবে আমদানি বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি যুক্তরাষ্ট্রের গরু খামারিদের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি করেছে। গবাদিপশু উৎপাদনকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বিদেশি মাংসের প্রবেশ বাড়লে দেশীয় খামারিরা দামের দিক থেকে চাপের মুখে পড়তে পারেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হলো, বর্তমান সরবরাহ দিয়ে ভোক্তাদের চাহিদা ও যুক্তিসংগত দামের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। মেক্সিকো থেকেও জীবন্ত গরু আমদানির ওপর সাম্প্রতিক বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রের গরুর মাংসের সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে। নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম নামে একটি পরজীবী রোগের বিস্তার ঠেকাতে মেক্সিকো থেকে জীবন্ত গবাদিপশু প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একই সময়ে খরা ও দাবানলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গবাদিপশু উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতেও পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ তাই একদিকে মার্কিন ভোক্তাদের জন্য গরুর মাংসের দাম কমানোর চেষ্টা, অন্যদিকে দেশটির দীর্ঘদিনের গবাদিপশু সরবরাহ সংকট সাময়িকভাবে সামাল দেওয়ার উদ্যোগ। আগামী কয়েক মাসে আমদানি বাড়ার পর বাজারে কিমা করা গরুর মাংসের দাম কতটা কমে, সেটিই এখন এই নীতির সাফল্য পরিমাপের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে। সূত্র: হোয়াইট হাউস, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) ও ফক্স বিজনেস।
ফ্লোরিডা নয়, কম কর আর সমুদ্রসৈকতের টানে ডেলাওয়্যারে ছুটছেন অবসরপ্রাপ্ত আমেরিকানরা
স্বপ্নের আমেরিকায় এসেও পূর্ণ হলো না স্বপ্ন, ১৬ মাসে প্রাণ গেল অন্তত ৮ বাংলাদেশির
নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ দুজনকে গুলি করে হ ত্যা, পলাতক ঘাতকের খোঁজে পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সাধারণত ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা গেলেও, শিশুদের ভবিষ্যতের প্রশ্নে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। সম্প্রতি অঙ্গরাজ্যটির শিশুদের শিক্ষা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য তিনি 'ক্যালিফোর্নিয়া গোল্ডেন স্টার্ট চ্যালেঞ্জ' নামের একটি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো 'ক্যালকিডস' (CalKIDS) প্রোগ্রামের প্রচার ও প্রসারে কাজ করা, যার মাধ্যমে যোগ্য শিশুরা তাদের উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সর্বোচ্চ দেড় হাজার ডলার পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকে। ২০২২ সালে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব অর্থায়নে এই যুগান্তকারী কর্মসূচিটি চালু করা হয়েছিল। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, ক্যালিফোর্নিয়ার এই কর্মসূচির পাশাপাশি রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চালু করা ফেডারেল 'ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট' ব্যবহারেরও জোরালো প্রচার চালাচ্ছেন নিউসম। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে ট্রাম্পের এই উদ্যোগের প্রশংসাও করেন তিনি। নিউসম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই বিষয়গুলো কোনো দলীয় রাজনীতির অংশ নয়। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তিনি বলেন, ট্রাম্প অ্যাকাউন্টের অর্থ ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কোনো অর্থ নয়, বরং এটি নাগরিকদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার ৬০ লাখেরও বেশি ক্যালকিডস অ্যাকাউন্টের জন্য ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থায়ন করেছে, তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ১০ লাখ পরিবার এই তহবিলের সুবিধা গ্রহণ করেছে। গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের এই উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হলেও কিছু সমালোচনাও রয়েছে। প্যাসিফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ল্যান্স ইজুমির মতো বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি (K-12) পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সঞ্চয় অ্যাকাউন্টের (ESA) ক্ষেত্রে নিউসম কেন বরাবরই বিরোধিতা করেন। ক্যালিফোর্নিয়ার অনেক পাবলিক স্কুল শিশুদের মৌলিক শিক্ষা প্রদানে পিছিয়ে পড়ায় কম বয়সেই এই ধরনের সঞ্চয় অ্যাকাউন্টের সুবিধা দেওয়া উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন এখন সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের নেতাদেরও ক্যালকিডস এবং ফেডারেল অ্যাকাউন্টগুলোতে অনুদান প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
নিউইয়র্কে ঈদে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানিয়ে সম্প্রীতির আহ্বান মেয়র মামদানির
নিউইয়র্কে ১৫ বছরের কিশোরকে মাথায় গু লি করে হ ত্যা, পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ ১৬ বছরের কিশোরের