অস্ট্রেলিয়ায় ইতিহাস: প্রথমবারের মতো নারী সেনাপ্রধান হচ্ছেন সুসান কয়েল
অস্ট্রেলিয়ার সামরিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে। দেশটির সেনাবাহিনীর ১২৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো একজন নারী সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কয়েল।
সোমবার অস্ট্রেলিয়া সরকারের এক ঘোষণায় জানানো হয়, বর্তমানে জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিজ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সুসান কয়েল আগামী জুলাই মাসে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তিনি বর্তমান সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইমন স্টুয়ার্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এক বিবৃতিতে বলেন, “অস্ট্রেলীয় সেনাবাহিনীর দীর্ঘ ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রথমবারের মতো আমরা একজন নারীকে সেনাপ্রধান হিসেবে দেখতে যাচ্ছি।” প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এই নিয়োগকে “গভীর ঐতিহাসিক মুহূর্ত” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “সুসান কয়েলের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারী সদস্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হবে।”
৫৫ বছর বয়সী সুসান কয়েল ১৯৮৭ সালে অস্ট্রেলীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারের মতে, অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীর যেকোনো শাখার নেতৃত্বে আসা তিনিই প্রথম নারী।
এই নিয়োগ এমন এক সময়ে এলো, যখন অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী পদ্ধতিগত যৌন হয়রানি ও বৈষম্যের অভিযোগের মুখে রয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে দায়ের করা একটি যৌথ মামলায় অভিযোগ করা হয়, হাজার হাজার নারী সদস্যকে যথাযথ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এই বাহিনী।
বর্তমানে অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নারীর অংশগ্রহণ প্রায় ২১ শতাংশ, যার মধ্যে জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বে রয়েছেন ১৮.৫ শতাংশ নারী। ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে একই দিনে সামরিক নেতৃত্বে আরও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমান নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক হ্যামন্ডকে অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর (এডিএফ) প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি অ্যাডমিরাল ডেভিড জনস্টনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে, রিয়ার অ্যাডমিরাল ম্যাথিউ বাকলি নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব এবং কাঠামোগত সংস্কারের ইঙ্গিত বহন করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreনেপালে এক অবিশ্বাস্য উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। নিজের ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকার পর ১০৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার এই ঘটনাকে এক সত্যিকারের অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন সবাই। গত ২৮ আগস্ট আলেকজান্ডার লোপেজের করা এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চোখের পলকেই ওই বৃদ্ধার বাড়িটি ধসে পড়েছিল। চারপাশের সব কিছু মাটির সঙ্গে মিশে গেলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি ছোট্ট ফাঁকা জায়গায় আটকে ছিলেন তিনি। জায়গাটি এতটাই ছোট ছিল যে সেখানে শ্বাস নেওয়াও তার জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই অবস্থায় টানা ২৪ ঘণ্টা তিনি সেখানে একেবারে নিথর হয়ে পড়ে ছিলেন। বাইরে তখন উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের এক একটি স্তর সাবধানে সরিয়ে তাকে খুঁজছিল। তারা জানতেন না যে নিচে কোনো জীবিত মানুষ আছেন নাকি কেবল একটি মৃতদেহ পাওয়া যাবে। বুকের ওপর ধসে পড়া বাড়ির বিশাল ওজন নিয়ে বৃদ্ধা কেবল অপেক্ষাই করছিলেন। তার চিৎকার করার কোনো শক্তি ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার বেঁচে থাকার আশাও ক্ষীণ হয়ে আসছিল। উদ্ধারকর্মীরা সেন্সরের মাধ্যমে ক্ষীণ প্রাণের স্পন্দন শনাক্ত করে তাদের কাজ চালিয়ে যান। বৃদ্ধার যেন কোনো আঘাত না লাগে, সে জন্য শেষ কয়েক মিটার তারা কোনো ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করে খালি হাতেই মাটি ও ইটপাথর সরানোর কাজ করেন। অবশেষে যখন ধ্বংসস্তূপের শেষ ব্লকটি সরানো হয়, তখন উদ্ধারকর্মীরা দেখতে পান যে এক শতাব্দীরও বেশি সময় পার করা ওই বৃদ্ধা তখনও বেঁচে আছেন এবং তার জ্ঞান রয়েছে। জীবনের ১০৫টি বছর পার করে এসে তিনি গত ২৪ ঘণ্টা মৃত্যুর যতটা কাছাকাছি ছিলেন, এর আগে হয়তো কখনোই এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি তিনি। নেপালের মতো দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় এমন সফল উদ্ধার অভিযান মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। সূত্র: আলেকজান্ডার লোপেজের প্রতিবেদন
চাকরি ছেড়ে সারাদিন গেম খেলায় মগ্ন ছেলে, গেমে তাকে হারাতে পেশাদার গেমার ভাড়া করলেন বাবা
যুক্তরাজ্যে ৬০ টি বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্ত! কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাসিন্দারা
ইসরায়েলি কারাগার থেকে দুই বছর পর মুক্তি, চেহারায় যেন ২০ বছরের ছাপ ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের
সৌদি আরবে বসবাসকারী দৃষ্টিহীন বার্মিজ শিশু হুসেইন মোহাম্মদ তাহির শুধু কোরআন তেলাওয়াত শুনেই পুরো পবিত্র কোরআন মুখস্থ করেছে বলে জানা গেছে। জন্ম থেকেই দৃষ্টিহীন হুসেইনের এক হাতেও সামান্য শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। টেলিভিশন দেখতে না পারায় ছোটবেলায় তার বাবা তাকে একটি রেডিও কিনে দেন। সেই রেডিওতে ২৪ ঘণ্টাই কোরআন তেলাওয়াত সম্প্রচার করা একটি স্টেশন চালু থাকত। পরিবারের সদস্যরা তখনও বুঝতে পারেননি, নিয়মিত শুনতে শুনতেই শিশুটি আয়াতগুলো মুখস্থ করে ফেলছে। জেদ্দা থেকে মদিনায় যাওয়ার প্রায় তিন বছর পর হুসেইনের এই অসাধারণ প্রতিভার বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে। মদিনায় গিয়ে নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মসজিদে নববিতে একদিন তার বাবা তাকে সূরা আল-বাকারার কয়েকটি আয়াত তেলাওয়াত করতে বলেন। বাবার বিস্ময় আরও বেড়ে যায় যখন মাত্র পাঁচ বছর বয়সী হুসেইন পুরো সূরা আল-বাকারা নির্ভুলভাবে তেলাওয়াত করে শোনায়। এরপর মদিনার কোরআন শিক্ষক ও আলেমরা তার কোরআন মুখস্থের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে দৃষ্টিহীন শিশুদের জন্য পরিচালিত বিশেষ কোরআন হিফজের একটি হালকায় তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মুখস্থ কোরআন শেখার দক্ষতাকে আরও বিকশিত করার সুযোগ তৈরি হয়। হুসেইনের ঘটনা দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শ্রবণশক্তি, স্মরণশক্তি ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে কোরআন হিফজের একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তবে শিশুটির বিষয়ে প্রচারিত তথ্যের স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য বিস্তারিত নথি সীমিত।
ঝুঁকি উপেক্ষা করে মালয়েশিয়া থেকে ১,৫০০ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ
নেপালে ভয়াবহ বন্যার ২৪ ঘণ্টা পর কাদার নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার ৯৪ বছরের বৃদ্ধা
জানুয়ারির বিক্ষোভে আটকের পর ২ সন্তানের মাকে মৃত্যুদণ্ড দিল ইরান
উগান্ডার ঐতিহ্যবাহী তোরো রাজ্যের রাজা ওয়ো নিয়িম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থ ৩৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তোরো রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ক্যালভিন রোমউইরে আকিইকি। অজ্ঞাত এক অসুস্থতার কারণে বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রাজা ওয়ো মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে বসে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। ১৯৯৫ সালে তার বাবা রাজা প্যাট্রিক ডেভিড ম্যাথিউ কাবোয়ো অলিমি তৃতীয়ের মৃত্যুর পর তাকে তোরো রাজ্যের রাজা করা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত রিজেন্ট ও রাজপরিবারের সদস্যরা রাজ্যের দায়িত্ব পরিচালনা করেন। ১৮ বছর বয়সে তিনি নিজে রাজ্যের নেতৃত্ব নিতে শুরু করেন। তোরো রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজা ওয়োর একজন পুত্র ও উত্তরাধিকারী রয়েছেন। তবে তোরো রাজপরিবারের ঐতিহ্য অনুযায়ী উপযুক্ত সময়ে তার পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে রাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজমুকুটের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। ওয়োর মৃত্যুর আগে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তোরো রাজ্যে ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়েছিল। রাজ্য কর্তৃপক্ষ প্রথমে জানিয়েছিল, তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন। পরে বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। অসুস্থতার সুনির্দিষ্ট কারণ বা চিকিৎসার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ১৯৯২ সালের ১৬ এপ্রিল জন্ম নেওয়া ওয়ো প্রায় ৩১ বছর তোরো রাজ্যের সিংহাসনে ছিলেন। তিন বছর বয়সে রাজা হওয়ার কারণে তিনি দীর্ঘদিন বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সে সিংহাসনে বসা এবং সবচেয়ে কম বয়সী জীবিত রাজা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার শৈশবের রাজত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছিল। উগান্ডা একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হওয়ায় তোরো রাজা দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী নন। দেশটির ঐতিহ্যবাহী রাজ্যগুলো মূলত সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভূমিকা পালন করে। ১৯৬০-এর দশকে বিলুপ্ত করা ঐতিহ্যবাহী রাজতন্ত্রগুলো ১৯৯৩ সালে আবার পুনর্বহাল করা হয়। তোরো রাজ্য পশ্চিম উগান্ডায় অবস্থিত এবং এর জনগোষ্ঠী বাটো’রো নামে পরিচিত। রাজা ওয়ো ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন বেশ নিরিবিলি স্বভাবের। তিনি বিয়ে করেননি। খেলাধুলার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল এবং ফুটবলকে ঘিরে তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব আর্সেনালের সমর্থক ছিলেন এবং তোরো রাজ্যের স্থানীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা আমাসাজা কাপেরও নিয়মিত সমর্থন করতেন। তার মৃত্যুর পর তোরো রাজ্যে শোকের পরিবেশ নেমে এসেছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ নয় দিনের শোক পালন শুরু করেছে এবং রাজা ওয়োর শেষকৃত্যসহ পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার বিষয়ে ধাপে ধাপে তথ্য জানানোর কথা জানিয়েছে।
ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব নয়, ট্রাম্পকে বলেছিলাম চাপ আরও বাড়াতে: নেতানিয়াহু
৪৭ বছর পর বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় ফেরার পথে সিরিয়া, ভিসা কার্ডে বিল দিলেন আল-শারা