মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নাটকীয় পালাবদল ঘটেছে। একদিকে প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা, অন্যদিকে অল্প সময়ের মধ্যেই তা আবার বন্ধ—এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত শুক্রবার ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিলে আন্তর্জাতিক মহলে আশার সঞ্চার হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানান। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, প্রণালি খুলে দেওয়া হলেও জাহাজ চলাচল তেহরান নিয়ন্ত্রণ করবে।
এই ঘোষণার প্রভাব দ্রুতই বিশ্ববাজারে পড়ে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে যায়। তবে পরিস্থিতি বেশিক্ষণ স্থিতিশীল থাকেনি।
এরপর যুক্তরাষ্ট্র জানায়, কোনো শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ বহাল থাকবে। এই অবস্থার প্রেক্ষাপটে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ ঘোষণা করে।
আইআরজিসি জানায়, প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়াকে শত্রুর সঙ্গে সহযোগিতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং নির্দেশ অমান্যকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। পরিস্থিতির উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ওমান উপকূলের কাছে দুটি জাহাজে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নামে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের নৌবাহিনী ‘শত্রুদের নতুন করে পরাজয়ের স্বাদ’ দিতে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই টানাপোড়েন মূলত বৃহত্তর কৌশলগত দ্বন্দ্বের অংশ। জাহাজ চলাচল ছাড়াও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য এখনো গভীর।
এদিকে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নাও হতে পারে। এমনকি পরিস্থিতি খারাপ হলে পুনরায় সামরিক হামলা শুরু হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
অন্যদিকে ইরানও আপসহীন অবস্থানে রয়েছে। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে আরও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreশরীরের চেহারা আমূল বদলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া ব্রাজিলের মিশেল প্রাদ্দো এবার হাতকে নখরের মতো রূপ দিতে আরও আঙুল অপসারণের কথা জানিয়েছেন। ‘দিয়াবাও’ নামে পরিচিত ৫০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে তাঁর দুই হাতের আঙুলে ব্যান্ডেজ দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই হাতের কনিষ্ঠ ও অনামিকা আঙুল আর নেই। ফলে প্রতিটি হাতে এখন শুধু বুড়ো আঙুল, তর্জনী ও মধ্যমা রয়েছে। শরীরের এই পরিবর্তনকে তিনি ‘দ্য ক্লজ’ বা ‘নখর’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে দেখছেন। প্রাদ্দোর শরীর পরিবর্তনের এই যাত্রা নতুন নয়। ২০২৩ সালে তিনি প্রথমবার আঙুলের অংশ অপসারণ করে হাতের আকৃতি বদলানোর উদ্যোগ নেন। সেই প্রকল্পের নাম দেন ‘লাস গারাস’, যার অর্থ নখর। সাম্প্রতিক ভিডিওতে তিনি জানান, নিজের কাঙ্ক্ষিত রূপে পৌঁছানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য নিজের অনুপ্রেরণা ও শরীর পরিবর্তনের শিল্পীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। তবে সর্বশেষ অস্ত্রোপচারের বিস্তারিত সময় ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় শহর প্রাইয়া গ্রান্দের বাসিন্দা প্রাদ্দো দীর্ঘদিন ধরেই শরীরের নানা ধরনের পরিবর্তনের জন্য পরিচিত। তাঁর নিজের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত তিনি ৬০টির বেশি অস্ত্রোপচার ও অন্যান্য শারীরিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন। শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশজুড়ে রয়েছে উল্কি। দাঁতের আকৃতি পরিবর্তন এবং কানের অংশ অপসারণসহ আরও নানা পরিবর্তন করেছেন তিনি। মাথায় শিংয়ের মতো ত্বকের নিচে স্থাপন করা বিশেষ ইমপ্ল্যান্টের সংখ্যার জন্য তাঁর নাম গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও রয়েছে। ২০২৩ সালে তাঁর মাথায় এ ধরনের ৩৩টি ইমপ্ল্যান্ট থাকার রেকর্ড যাচাই করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাদ্দোর অনুসারীর সংখ্যা তিন লাখের বেশি। তাঁর সাম্প্রতিক শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে অনুসারীদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য একরকম নয়। কেউ তাঁর নতুন রূপের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ আঙুল ছাড়া দৈনন্দিন জীবনযাপনের অসুবিধা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কারও মতে, নিজের শরীর নিয়ে ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতা রয়েছে; অন্যরা এত বড় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এর আগেও তাঁর শরীর পরিবর্তনের বিভিন্ন উদ্যোগ অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল। প্রাদ্দোর এই ঘটনা শরীর পরিবর্তনের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং এমন প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনাকে সামনে এনেছে। হাতের আঙুল দৈনন্দিন কাজ, সূক্ষ্ম নড়াচড়া ও বিভিন্ন জিনিস ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এ ধরনের স্থায়ী পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শারীরিক সক্ষমতা, দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং চিকিৎসাজনিত ঝুঁকি বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রাদ্দোর সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচারের পর তাঁর দৈনন্দিন কাজে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সূত্র: ইউপিএসওসিএল, নিড টু নো, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।
১২ সন্তান লালন-পালনের স্বীকৃতি, রাশিয়ার মুসলিম নারীকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিলেন পুতিন
সব সম্পদ বিক্রি করে স্বপ্নের নারীর খোঁজে ছুটে গিয়েছিলেন, দেখা করতে গিয়ে জানলেন প্রেমিকা আসলে এআই
এআই চালিত সুপার স্পিড টর্পেডোর সফল পরীক্ষার দাবি উত্তর কোরিয়ার
চীনে পড়াশোনায় আগ্রহ হারানো ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে জীবনের বাস্তবতা বোঝাতে খাবার বিক্রির কাজে যুক্ত করেছিলেন তার মা। উদ্দেশ্য ছিল, কঠোর পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জনের অভিজ্ঞতা থেকে ছেলে পড়াশোনার গুরুত্ব বুঝতে পারবে। কিন্তু ঘটল উল্টোটা। মাত্র ১০ দিনে ১০ হাজার ইউয়ান, অর্থাৎ তৎকালীন হিসাবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ডলারের বিক্রি করার পর কিশোরটি পড়াশোনা ছেড়ে পুরোপুরি ব্যবসায় মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। শেন নামের ওই কিশোর চীনের পূর্বাঞ্চলের একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রন্ধনশিল্প বিষয়ে পড়াশোনা করছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে তার ফলাফল খারাপ হতে থাকে। এ নিয়ে মা ডেংয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় সে জানায়, পড়াশোনা তার কাছে অর্থহীন মনে হচ্ছে এবং সে আর স্কুলে যেতে চায় না। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝেজিয়াং প্রদেশের জিয়াশিং শহরে রাস্তার পাশে ভাজা মুরগি বিক্রি করছিলেন ডেং। ছেলেকে কাজের বাস্তবতা বোঝাতে তিনি তাকে খাবার বিক্রির অভিজ্ঞতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে ডেং বলেন, ছেলে পড়াশোনার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চাইছিল না। তাই তিনি চেয়েছিলেন, সে বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করুক এবং বুঝতে পারুক অর্থ উপার্জন সহজ নয়। মায়ের সহায়তায় শেন একটি বৈদ্যুতিক সাইকেল পরিবর্তন করে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান তৈরি করে। এরপর দ্রুতই কাজে নেমে পড়ে সে। মায়ের ধারণা ছিল, দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করে খাবার বিক্রি করতে গিয়ে ছেলে হয়তো পড়াশোনায় ফিরে আসার কথা ভাববে। শেনের প্রতিদিনের কর্মসূচি ছিল বেশ পরিশ্রমের। সকাল ৯টা থেকেই খাবার তৈরির প্রস্তুতি শুরু করত সে। বিকেল ৪টার দিকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিক্রির জায়গায় পৌঁছে রাতভর খাবার বিক্রি করত। অনেক দিন রাত ৩টার দিকে বাড়ি ফিরত সে। এই পরিশ্রমের মধ্যেই মাত্র ১০ দিনে তার বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ হাজার ইউয়ান, যা সে সময় প্রায় ১ হাজার ৪০০ ডলারের সমান। ডেং ছেলের এই সাফল্যের পেছনে তার পরিশ্রমের পাশাপাশি নিয়মিত ক্রেতাদের সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন। তবে এই অঙ্কটি বিক্রির পরিমাণ, নিট মুনাফা নয়। এত দ্রুত সাফল্য পাওয়ার পর শেনের লক্ষ্য এখন ব্যবসা থেকে পর্যাপ্ত অর্থ জমিয়ে একটি বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান কেনা। ডেং বলেন, ছেলে অত্যন্ত পরিশ্রমী। কাজের প্রতি তার এতটা আগ্রহ তৈরি হবে, তা তিনি আগে ভাবেননি। তবে ছেলের এই সাফল্যই তাকে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে আরও দৃঢ় করে তোলে। ডেং বারবার তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করলেও শেন নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডেং জানান, ১৭ বছর বয়সী একজন কিশোরের নিজস্ব চিন্তাভাবনা থাকে। অভিভাবক হিসেবে তাঁরা কেবল তাকে সহযোগিতা করতে পারেন। তাঁর কাছে ছেলের সুস্থতা ও সুখী জীবন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছেলে যেন নিজের পছন্দের জীবন গড়তে পারে, সেই সুযোগ দিতে চান তিনি। তবে তাকে বেআইনি কোনো কাজে জড়িয়ে না পড়ার বিষয়ে পথনির্দেশনা দেওয়াও নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন ডেং। ঘটনাটি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। কেউ কেউ মন্তব্য করেন, জীবনে সফল হওয়ার একমাত্র পথ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়; পড়াশোনায় আগ্রহ কম থাকলে কোনো দক্ষতা অর্জন করে জীবিকা গড়াও একটি বিকল্প হতে পারে। অন্যরা ডেংয়ের ছেলের মতামতকে সম্মান করার প্রশংসা করেন। চীনে পড়াশোনায় ভালো ফলের জন্য সন্তানদের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগকারী অভিভাবকদের বোঝাতে ‘টাইগার মাদার’ ও ‘উলফ ফাদার’ শব্দ ব্যবহার করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ডেংয়ের অবস্থানও আলোচনায় আসে। তবে অল্প সময়ে ব্যবসায় ভালো বিক্রি হওয়া মানেই দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা সফল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। একইভাবে পড়াশোনা ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন পরস্পরের বিকল্প না হয়ে একে অন্যের পরিপূরকও হতে পারে। শেনের ঘটনা একদিকে কিশোরটির ব্যবসায়িক আগ্রহ তুলে ধরেছে, অন্যদিকে পড়াশোনা, পেশাগত দক্ষতা ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিভাবকদের ভূমিকা সম্পর্কেও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, দ্য স্টার।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার দুই সপ্তাহ পর মারা গেলেন ৪০ বছর বয়সী পেশাদার বডিবিল্ডার মা
যুক্তরাজ্যে ৫ বছরের অপেক্ষা ছাড়াই স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে এক শ্রেণির প্রবাসীদের সন্তানরা
সাধারণ পাথরের সূত্র ধরে মিশরে মিলল রাজা দ্বিতীয় রামেসিসের বিশাল দুটি প্রাচীন মূর্তি
মহাকাশে প্রথমবারের মতো সবুজ আভাযুক্ত একটি নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। নক্ষত্রটির নাম WD J1330+6435। এটি আসলে একটি শ্বেত বামন—জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার পর একটি নক্ষত্রের অবশিষ্ট ঘন কেন্দ্র। বিজ্ঞানীদের ধারণা, একসময় নক্ষত্রটিকে প্রদক্ষিণ করা গ্রহগুলোর পাথুরে ধ্বংসাবশেষ এর পৃষ্ঠে জমা হওয়ার পর রাসায়নিক গঠনে পরিবর্তন এসেছে। আর সেই পরিবর্তনের কারণেই নক্ষত্রটি পেয়েছে বিরল সবুজাভ, চার্ট্রুজ রং। নক্ষত্রের রং সাধারণত তার তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। তুলনামূলক শীতল নক্ষত্রকে কমলা আভায় দেখা যায়, সূর্যের মতো নক্ষত্র সাধারণত সাদা দেখায়, আর অত্যন্ত উত্তপ্ত নক্ষত্রের রং হতে পারে হালকা নীল। তবে শ্বেত বামনের ক্ষেত্রে রঙের হিসাব কিছুটা আলাদা। এসব নক্ষত্রের বাইরের স্তর একসময় মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে, আর অবশিষ্ট ঘন কেন্দ্রটি থেকে যায়। তাদের গঠন ও বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক উপাদানের পরিবর্তনে রংও বদলে যেতে পারে। নতুন শনাক্ত হওয়া WD J1330+6435 মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথে অবস্থিত। পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২৮০ আলোকবর্ষ। এটি ড্রাকো নক্ষত্রমণ্ডলে রয়েছে। এক আলোকবর্ষ হলো আলো এক বছরে যত দূরত্ব অতিক্রম করে—প্রায় ৫ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন মাইল বা ৯ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার। ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী মার্ক হল্যান্ডসের নেতৃত্বে গবেষকেরা নক্ষত্রটির অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করেন। গবেষণায় দেখা যায়, গ্রহের পাথুরে ধ্বংসাবশেষ থেকে আসা বিভিন্ন উপাদান শ্বেত বামনটির বাইরের স্তরে জমা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম, লিথিয়াম এবং বিশেষ করে সোডিয়াম। সাধারণ নক্ষত্রে সোডিয়াম কমলা আলোর একটি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্য শোষণ করে। সোডিয়ামযুক্ত রাসায়নিক পদার্থ পোড়ালে বা উত্তপ্ত করলে যে পরিচিত কমলা আভা দেখা যায়, তার সঙ্গেও এই বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু WD J1330+6435-এর পরিবেশে সোডিয়ামের আচরণ বদলে গেছে। গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শ্বেত বামনটির ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি। সেখানে সোডিয়াম পরমাণুগুলো চারপাশের হিলিয়াম পরমাণুর সঙ্গে ক্রমাগত সংঘর্ষের মুখে পড়ে। এতে সোডিয়াম পরমাণুর শক্তিস্তরে পরিবর্তন আসে। ফলে সোডিয়াম আর শুধু কমলা আলোর একটি সংকীর্ণ তরঙ্গদৈর্ঘ্য শোষণ করে না; বরং হলুদ, কমলা এবং লাল আলোর কিছু অংশও শোষণ করে। এর ফলে নক্ষত্রটির দৃশ্যমান রং বদলে গিয়ে সবুজাভ চার্ট্রুজ আভা তৈরি হয়। গবেষকদের মতে, সূর্যের মতো সাধারণ নক্ষত্রে এমন রং দেখা সম্ভব নয়। কারণ, শ্বেত বামনের ঘনত্ব ও রাসায়নিক পরিবেশ একেবারেই আলাদা। নক্ষত্রটির এই ব্যতিক্রমী রং তাই শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এটি এর বায়ুমণ্ডল ও ভেতরের পদার্থবিজ্ঞানের সম্পর্কও তুলে ধরে। শ্বেত বামন কতটা ঘন হতে পারে, তা বোঝাতে গবেষকরা জানিয়েছেন, সাধারণত এ ধরনের নক্ষত্রে সূর্যের প্রায় অর্ধেক ভর থাকে, অথচ আকারে তা পৃথিবীর কাছাকাছি। গবেষণার সহলেখক বরিস গ্যানসিকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পৃথিবীর আকারের একটি বস্তুতে এত বিপুল ভর ঘনীভূত থাকায় অল্প পরিমাণ সোডিয়ামও নক্ষত্র থেকে বের হওয়া কমলা আলোর বড় অংশ শোষণ করতে পারে। রং মেশানোর সময় কোনো একটি রং কমিয়ে দিলে যেমন চূড়ান্ত রং বদলে যায়, এখানেও তেমন ঘটনা ঘটছে। গবেষণায় শুধু সবুজ নক্ষত্রটিই নয়, আরও অস্বাভাবিক রঙের শ্বেত বামনের সন্ধান মিলেছে। গবেষকেরা পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫ আলোকবর্ষের মধ্যে অবস্থিত ১৫১টি শ্বেত বামনের রং বিশ্লেষণ করেছেন। তাদের মধ্যে WD J1011+2845 নামের একটি নক্ষত্রের রং স্যামন মাছের মতো গোলাপি বলে চিহ্নিত হয়েছে। এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪৮ আলোকবর্ষ দূরে লিও মাইনর নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত। এই নক্ষত্রটির রং বদলে যাওয়ার পেছনে সোডিয়ামের বদলে কার্বনের ভূমিকা রয়েছে। গবেষক বরিস গ্যানসিকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সব ক্ষেত্রে বাইরের কোনো গ্রহের ধ্বংসাবশেষ থেকে উপাদান নক্ষত্রে প্রবেশ করে না। এই গোলাপি শ্বেত বামনের ক্ষেত্রে কার্বন এসেছে এর গভীর অভ্যন্তর থেকে। গবেষণায় দেখা গেছে, শ্বেত বামনের বায়ুমণ্ডলে কী ধরনের উপাদান রয়েছে, তার ওপর রং অনেকটাই নির্ভর করে। কার্বনসমৃদ্ধ শ্বেত বামন সাধারণত গোলাপি বা বেগুনি আভা দেখাতে পারে। গ্রহব্যবস্থার ভাঙা পাথুরে উপাদানে সমৃদ্ধ শ্বেত বামনের রং হলুদাভ হতে পারে। আবার হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের মিশ্র বায়ুমণ্ডলযুক্ত তুলনামূলক শীতল শ্বেত বামন সায়ান বা হালকা নীল দেখাতে পারে। অর্থাৎ, নক্ষত্রের রং নির্ধারণে শুধু তাপমাত্রাই নয়, রাসায়নিক গঠনও গুরুত্বপূর্ণ। এই গবেষণায় স্লোন ডিজিটাল স্কাই সার্ভের টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া আলোর বর্ণালি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি গবেষকেরা শ্বেত বামনের বর্ণালি বিশ্লেষণের জন্য নিজস্ব মডেল তৈরি করেছেন। এসব তথ্যের সাহায্যে নক্ষত্রগুলোকে মানুষের চোখে কী রঙের দেখানোর কথা, তা নির্ধারণ করা হয়েছে। গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে RAS Techniques and Instruments সাময়িকীতে। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার নক্ষত্রের রং সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে আরও বিস্তৃত করেছে। সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান কেবল বিরল একটি দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যের পরিচয় দেয় না, বরং গ্রহব্যবস্থার অবশিষ্ট উপাদান কীভাবে নক্ষত্রের বায়ুমণ্ডলকে বদলে দিতে পারে, সে সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। গবেষণার প্রধান লেখক মার্ক হল্যান্ডসের মতে, মহাবিশ্ব কখনো কখনো কল্পবিজ্ঞানের গল্পের মতোই বিস্ময়কর হয়ে উঠতে পারে। বাস্তবে শনাক্ত হওয়া এই সবুজ শ্বেত বামন সেই বিস্ময়েরই একটি উদাহরণ
‘জম্বি অ্যাঞ্জেলিনা জোলি’ নামে ভাইরাল, আসল চেহারা প্রকাশ্যে আসতেই জানা গেল ভিন্ন গল্প
আফগানিস্তানে খরায় নিঃস্ব পরিবার, ঋণ ও খাবারের জন্য বিয়ে দেওয়া হচ্ছে শিশু কন্যাদের