ইসলাম ধর্ম

ইসলাম নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ব্রিটিশ ইহুদি নারী খলিলা লিস্টার
ইসলাম নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ব্রিটিশ ইহুদি নারী খলিলা লিস্টার

লন্ডনের একটি ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা ব্রিটিশ নারী খলিলা লিস্টার জীবনের এক পর্যায়ে ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকে ধর্মটি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও ব্যক্তিগত উপলব্ধির পর ১৯ বছর বয়সে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি একজন পাবলিক স্পিকার, যোগাযোগ প্রশিক্ষক এবং পাওয়ার অব ভয়েস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা।   নিজের ইসলাম গ্রহণের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে কথা বলেছেন খলিলা। তার বক্তব্য ও একাধিক সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, মুসলিম হওয়ার আগে তিনি বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রেডিও উপস্থাপনা, অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং হিপহপ ঘরানার বিভিন্ন আয়োজনে কাজ করতেন তিনি। বিভিন্ন তারকার সাক্ষাৎকার নেওয়ার পাশাপাশি বড় মঞ্চেও কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল তার।   পেশাগতভাবে এগিয়ে গেলেও জীবনের অর্থ ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে তার মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। সেই সময় তার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু ইসলাম গ্রহণ করেন। বন্ধুর জীবনে পরিবর্তন দেখেই ইসলাম সম্পর্কে তার আগ্রহ আরও বাড়ে।   এক সাক্ষাৎকারে খলিলা জানিয়েছেন, শুরুতে ইসলামকে নিজের জীবনধারার সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়নি তার। মুসলিম নারীদের পোশাক ও জীবনযাপন থেকে শুরু করে ধর্মটির বিভিন্ন বিষয় তার কাছে অপরিচিত ছিল। তবে ইসলাম গ্রহণের পর নিজের বন্ধুর আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান এবং জীবনবোধে পরিবর্তন তাকে ধর্মটি সম্পর্কে আরও জানতে উৎসাহিত করে।   খলিলার ভাষ্য অনুযায়ী, তার বন্ধু প্রায় এক বছর ধরে তার সঙ্গে ইসলাম, হাদিস ও ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। একপর্যায়ে তিনি নিজেও ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা ও চিন্তাভাবনা শুরু করেন। ধীরে ধীরে এক স্রষ্টার উপাসনা এবং ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের প্রতি আস্থা তৈরি হয় তার।   শেষ পর্যন্ত ১৯ বছর বয়সে শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেন খলিলা। নিজের পুরোনো জীবনধারার সঙ্গে নতুন ধর্মীয় বিশ্বাসের সমন্বয় করতে না পেরে সে সময় বিনোদন জগতের ক্যারিয়ার থেকেও সরে আসেন তিনি।   খলিলা নিজেই ২০২২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ১৯ বছর বয়সে মুসলিম হওয়ার পর তার জীবনের অনেক কিছু বদলে যায়। যে মূল্যবোধের সঙ্গে তিনি আগে যুক্ত ছিলেন, ইসলাম গ্রহণের পর সেগুলোর অনেক কিছুর সঙ্গে আর নিজেকে মেলাতে পারছিলেন না। ফলে সে সময়ের পেশাগত জীবন ছেড়ে নতুনভাবে পথচলা শুরু করেন।   তার পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গেও ধর্মীয় এই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। খলিলা জানিয়েছেন, তার বাবা ছিলেন ইহুদি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাবার মৃত্যুর পর তিনি দাবি করেন, মৃত্যুর প্রায় ৩০ মিনিট আগে তার বাবা শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে পরে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।   ইসলাম গ্রহণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে আবারও পেশাগতভাবে সক্রিয় হন খলিলা। বর্তমানে তিনি পাওয়ার অব ভয়েস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিশেষ করে মুসলিম নারী, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের পাবলিক স্পিকিং এবং যোগাযোগ দক্ষতার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।   তিনি ইসলাম চ্যানেলে উপস্থাপনার পাশাপাশি পাবলিক স্পিকিং কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চ ও অনুষ্ঠানে নিজের ধর্মীয় যাত্রা, মুসলিম নারীদের প্রতিনিধিত্ব এবং যোগাযোগ দক্ষতা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।   ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা থেকে ইসলাম গ্রহণ পর্যন্ত নিজের যাত্রাকে খলিলা ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আত্মঅনুসন্ধানের ফল হিসেবেই তুলে ধরেছেন। তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ধুর জীবনে ইসলামের প্রভাব প্রত্যক্ষ করা তাকে ধর্মটি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী করেছিল। সেই কৌতূহল থেকেই শুরু হওয়া অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত ১৯ বছর বয়সে তার ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
ইসলাম ধর্মে শান্তি খুজে পেয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন ভারতীয় অভিনেত্রী দীপিকা
ইসলাম ধর্মে শান্তি খুজে পেয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন ভারতীয় অভিনেত্রী দীপিকা

ভারতের জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী দীপিকা কাকর কেন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, অভিনেতা শোয়েব ইব্রাহিমকে বিয়ে করার কারণেই তিনি ধর্মান্তরিত হন। তবে এই ধারণাকে নাকচ করে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার সহশিল্পী জয়তী ভাটিয়া।   ভারতীয় টেলিভিশন উপস্থাপক সিদ্ধার্থ কান্নানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়তী ভাটিয়া বলেন, ‘সসুরাল সিমর কা’ ধারাবাহিকে একসঙ্গে কাজ করার সময় দীপিকা ও শোয়েবের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার ভাষায়, দীপিকা যে কাজই করেন, মনপ্রাণ দিয়ে করেন। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তিনি একই আন্তরিকতা দেখিয়েছিলেন।   জয়তী জানান, একসময় তিনি নিজেই দীপিকাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, শোয়েবকে বিয়ে করার জন্যই কি তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। উত্তরে দীপিকা তাকে জানান, বিষয়টি মোটেও তা নয়।   জয়তীর বক্তব্য অনুযায়ী, জীবনের এক কঠিন সময়ে দীপিকা আজমীর শরীফ দরগাহে গিয়েছিলেন। সেই সফরের সময় তিনি মানসিক শান্তি ও ভেতরের শক্তি অনুভব করেন। এরপরই ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। দীপিকার ভাষায়, এটি ছিল সম্পূর্ণ তার নিজের অনুভূতি ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, যার সঙ্গে বিয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না।   জয়তী আরও বলেন, যদি কোনো ধর্মের প্রার্থনা একজন মানুষকে মানসিক শক্তি দেয় এবং সেই বিশ্বাস থেকে তিনি নতুন জীবনদর্শন বেছে নেন, তবে সেটি তার একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।   দীপিকা স্বামীর ধর্মের কাছে নতিস্বীকার করেছেন— এমন সমালোচনারও জবাব দেন জয়তী। তিনি বলেন, দীপিকা ও শোয়েব সবসময় একে অপরকে সমানভাবে সমর্থন করেছেন। দীপিকা অসুস্থ হলে শোয়েব তার পাশে ছিলেন। আবার দীর্ঘদিন ধরে শোয়েবের পরিবারকেও সমর্থন দিয়ে আসছেন দীপিকা।   ২০২৫ সালে দীপিকা কাকরের ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর তিনি ও শোয়েব তাদের ভিডিও ব্লগের মাধ্যমে চিকিৎসা এবং সুস্থতার বিভিন্ন আপডেট ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন।   জয়তী আরও উল্লেখ করেন, তাদের ইউটিউব চ্যানেলের নাম ‘দীপিকা কি দুনিয়া’। তার মতে, এটি দেখায় যে দীপিকার নিজস্ব পরিচয় ও ব্যক্তিত্বকে সবসময় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও দর্শকদের কাছে তিনি এখনো ‘সিমর’ চরিত্রের জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।   উল্লেখ্য, দীপিকা কাকর ও শোয়েব ইব্রাহিম ২০১৮ সালে বিয়ে করেন। বর্তমানে তাদের রুহান নামে এক পুত্রসন্তান রয়েছে। দীপিকার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে জয়তী ভাটিয়ার এই সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
সরকারি পরিসংখ্যানে ইসলাম গ্রহণের হার ঊর্ধ্বমুখী
কেরালায় ধর্মান্তরের প্রবণতা: সরকারি পরিসংখ্যানে ইসলাম গ্রহণের হার ঊর্ধ্বমুখী

ভারতের কেরালা রাজ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্মান্তরের প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে সরকারি পরিসংখ্যান। রাজ্য সরকারের গেজেটভুক্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইসলাম ধর্ম গ্রহণের হার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যা একই সময়ে ইসলাম ত্যাগকারীদের তুলনায় অনেক বেশি।   কেরালা সরকারের প্রকাশিত গেজেট তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে রাজ্যে ইসলাম ত্যাগ করেছিলেন ৪০ জন। বিপরীতে ওই বছর ১৪৪ জন নতুন করে ইসলাম গ্রহণ করেন। অর্থাৎ, গ্রহণকারীর সংখ্যা ত্যাগকারীদের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি ছিল। এদের একটি বড় অংশই হিন্দু সম্প্রদায় থেকে এসেছিলেন, যাদের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য।   চার বছরের ব্যবধানে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর ইসলাম ত্যাগ করেছেন মোট ৫৭ জন। এর মধ্যে ৩৬ জন হিন্দু ধর্মে এবং ২১ জন খ্রিষ্টধর্মে যোগ দেন। অন্যদিকে একই সময়ে ৩৪৩ জন ইসলাম গ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে ২৭৬ জন হিন্দু এবং ৬৭ জন খ্রিষ্টান সম্প্রদায় থেকে এসেছেন। সে হিসেবে ইসলাম গ্রহণের হার ত্যাগের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি।   ধর্মান্তরের এই চিত্র শুধু ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রেই নয়, হিন্দু ধর্মের ক্ষেত্রেও একটি ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরছে। ২০২০ সালে অন্য ধর্ম থেকে ২৪১ জন হিন্দু ধর্মে ফিরে এলেও, সরকারি তথ্য বলছে তাদের বেশিরভাগই দলিত খ্রিষ্টান পটভূমির মানুষ। সংরক্ষণ সুবিধা পুনরুদ্ধারের মতো সামাজিক ও প্রশাসনিক কারণে তারা পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।   অন্যদিকে ২০২৪ সালের তথ্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ওই বছর অন্য ধর্ম থেকে ৩৬৫ জন হিন্দু ধর্মে এলেও, একই সময়ে ৫১০ জন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করেছেন। এদের মধ্যে ২৭৬ জন ইসলাম এবং ২৩৪ জন খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছেন। ফলে নিট হিসাবে হিন্দু ধর্ম ত্যাগকারীর সংখ্যাই বেশি।   বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালে যেখানে ১১১ জন হিন্দু ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, সেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭৬-এ। বিপরীতে ইসলাম থেকে হিন্দু ধর্মে যাওয়ার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কেরালার মতো শিক্ষিত ও সামাজিকভাবে সচেতন রাজ্যে ধর্মান্তরের এই প্রবণতা ব্যক্তিগত বিশ্বাস, সামাজিক অবস্থান এবং কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বাস্তবতার সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি, আন্তঃসম্প্রদায় সম্পর্ক এবং আইনগত কাঠামোও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।   তবে এই পরিসংখ্যানের ব্যাখ্যা নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, ধর্মান্তরের পেছনে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও আস্থার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, আবার অন্যরা সামাজিক ও কাঠামোগত কারণকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন।   সার্বিকভাবে সরকারি গেজেটের তথ্য বলছে, কেরালায় ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে একটি ধীর কিন্তু স্পষ্ট পরিবর্তন ঘটছে, যা ভবিষ্যতে রাজ্যের সামাজিক ও জনমিতিক কাঠামোয় প্রভাব ফেলতে পারে।   সূত্র: নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, নিউজলন্ড্রি

নীলুফা নিশাত জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০