কেরালায় ধর্মান্তরের প্রবণতা: সরকারি পরিসংখ্যানে ইসলাম গ্রহণের হার ঊর্ধ্বমুখী
ভারতের কেরালা রাজ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্মান্তরের প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে সরকারি পরিসংখ্যান। রাজ্য সরকারের গেজেটভুক্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইসলাম ধর্ম গ্রহণের হার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যা একই সময়ে ইসলাম ত্যাগকারীদের তুলনায় অনেক বেশি।
কেরালা সরকারের প্রকাশিত গেজেট তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে রাজ্যে ইসলাম ত্যাগ করেছিলেন ৪০ জন। বিপরীতে ওই বছর ১৪৪ জন নতুন করে ইসলাম গ্রহণ করেন। অর্থাৎ, গ্রহণকারীর সংখ্যা ত্যাগকারীদের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি ছিল। এদের একটি বড় অংশই হিন্দু সম্প্রদায় থেকে এসেছিলেন, যাদের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য।
চার বছরের ব্যবধানে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর ইসলাম ত্যাগ করেছেন মোট ৫৭ জন। এর মধ্যে ৩৬ জন হিন্দু ধর্মে এবং ২১ জন খ্রিষ্টধর্মে যোগ দেন। অন্যদিকে একই সময়ে ৩৪৩ জন ইসলাম গ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে ২৭৬ জন হিন্দু এবং ৬৭ জন খ্রিষ্টান সম্প্রদায় থেকে এসেছেন। সে হিসেবে ইসলাম গ্রহণের হার ত্যাগের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি।
ধর্মান্তরের এই চিত্র শুধু ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রেই নয়, হিন্দু ধর্মের ক্ষেত্রেও একটি ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরছে। ২০২০ সালে অন্য ধর্ম থেকে ২৪১ জন হিন্দু ধর্মে ফিরে এলেও, সরকারি তথ্য বলছে তাদের বেশিরভাগই দলিত খ্রিষ্টান পটভূমির মানুষ। সংরক্ষণ সুবিধা পুনরুদ্ধারের মতো সামাজিক ও প্রশাসনিক কারণে তারা পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
অন্যদিকে ২০২৪ সালের তথ্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ওই বছর অন্য ধর্ম থেকে ৩৬৫ জন হিন্দু ধর্মে এলেও, একই সময়ে ৫১০ জন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করেছেন। এদের মধ্যে ২৭৬ জন ইসলাম এবং ২৩৪ জন খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছেন। ফলে নিট হিসাবে হিন্দু ধর্ম ত্যাগকারীর সংখ্যাই বেশি।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালে যেখানে ১১১ জন হিন্দু ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, সেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭৬-এ। বিপরীতে ইসলাম থেকে হিন্দু ধর্মে যাওয়ার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেরালার মতো শিক্ষিত ও সামাজিকভাবে সচেতন রাজ্যে ধর্মান্তরের এই প্রবণতা ব্যক্তিগত বিশ্বাস, সামাজিক অবস্থান এবং কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বাস্তবতার সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি, আন্তঃসম্প্রদায় সম্পর্ক এবং আইনগত কাঠামোও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।
তবে এই পরিসংখ্যানের ব্যাখ্যা নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, ধর্মান্তরের পেছনে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও আস্থার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, আবার অন্যরা সামাজিক ও কাঠামোগত কারণকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সার্বিকভাবে সরকারি গেজেটের তথ্য বলছে, কেরালায় ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে একটি ধীর কিন্তু স্পষ্ট পরিবর্তন ঘটছে, যা ভবিষ্যতে রাজ্যের সামাজিক ও জনমিতিক কাঠামোয় প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, নিউজলন্ড্রি
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreম্যাসাচুসেটসের লরেন্স শহরের মেয়র ব্রায়ান ডেপেনাকে ফেডারেল ওয়্যার ফ্রড ও মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, কোভিড মহামারির সময় তার ব্যবসার জন্য পাওয়া ফেডারেল রিলিফ লোনের অর্থ ব্যক্তিগত ট্যাক্স, রাজনৈতিক ক্যাম্পেইন এবং অন্যান্য ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট ব্রায়ান ডেপেনার বিরুদ্ধে অভিযোগের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। সিবিএস বোস্টনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে লরেন্সের মেয়র নির্বাচিত হওয়া ডেপেনা ২০২৫ সালে পুনর্নির্বাচিত হন। এর আগে ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি লরেন্স সিটি কাউন্সিলে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি লরেন্সে টেনারেস টায়ার সার্ভিসেস ইনকরপোরেটেড নামে একটি টায়ার ও অটোমোবাইল ব্যবসার মালিক। ফেডারেল ক্রিমিনাল কমপ্লেইন্ট অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৪ মে ডেপেনার ব্যবসা ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের ইকোনমিক ইনজুরি ডিজাস্টার লোন বা ইআইডিএলের অনুমোদন পায়। ওই বছরের ১৮ জুন কোম্পানিটি অর্থ পায়। এই লোন মূলত কোভিড মহামারির কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতি মোকাবিলা ও ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছিল। প্রসিকিউটরদের দাবি, ২০২১ সালের শুরুর দিকে ডেপেনা লরেন্সের ৩৪২ ব্রডওয়েতে ৭ লাখ ডলারে একটি কমার্শিয়াল প্রপার্টি কেনার পর নগদ অর্থের চাপে পড়েন। এরপর তিনি তার ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজারের সহায়তায় ব্যবসার ইআইডিএল বাড়ানোর চেষ্টা করেন। ক্রিমিনাল কমপ্লেইন্টে উল্লেখ করা টেক্সট মেসেজ অনুযায়ী, সে সময় ডেপেনা তার অ্যাডভাইজারের কাছে দ্রুত অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২১ সালের ১২ আগস্ট তার ব্যবসার ইআইডিএল বাড়িয়ে ৫ লাখ ডলার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, লোনের অর্থ কেবল ব্যবসার ক্ষতি সামাল দিতে ব্যবহারের কথা থাকলেও ডেপেনা তা অন্য কাজে খরচ করেন। ২০২১ সালের আগস্টে তিনি ইআইডিএল তহবিল থেকে ৮৫ হাজার ডলার ব্যক্তিগত ট্যাক্স পরিশোধে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরের মাসে আরও ৯০ হাজার ডলার তার মেয়র ক্যাম্পেইনে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন প্রসিকিউটররা। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরে ফেডারেল লোনের অর্থ থেকে তার ক্যাম্পেইন অ্যাকাউন্টে একাধিক ডিপোজিট করা হয়। ২০২১ সালের অক্টোবরে ব্যবসার ইআইডিএল আবারও বাড়ানো হয় এবং কোম্পানির অ্যাকাউন্টে ১১ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৮ ডলার আসে। এরপরও ওই অর্থের কিছু অংশ রাজনৈতিক ক্যাম্পেইন ও বিভিন্ন ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের হিসাবে, ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত টেনারেস টায়ারের ইআইডিএলের বিপরীতে মাত্র ১৬টি পেমেন্ট করা হয়েছিল। মোট পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ১৬০ ডলার, যার পুরোটাই জমে থাকা সুদের বিপরীতে গেছে। তখনও মূল ঋণের বকেয়া ১৬ লাখ ডলারের বেশি ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ডেপেনার বিরুদ্ধে ওয়্যার ফ্রড এবং সেই অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে বোস্টনের ফেডারেল কোর্টে হাজির করার কথা ছিল। মামলাটি এখন বিচারাধীন এবং আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। লরেন্স শহর ম্যাসাচুসেটসের একটি বড় অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকা, যেখানে ডোমিনিকান বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। ডেপেনার গ্রেপ্তার স্থানীয় রাজনীতিতে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ তিনি বর্তমানে দায়িত্বে থাকা মেয়র এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মহামারির সময় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাগুলোর জন্য বরাদ্দ করা ফেডারেল সহায়তা তহবিলের ব্যবহার।
বাবার আত্মত্যাগে দুই সন্তান বাঁচল, নিজে আর ফিরলেন না
মুসলিমদের ‘শিকারের পারমিট’ চেয়ে মিশিগানের জনপ্রতিনিধির পোস্ট, তীব্র বিতর্ক
অস্ট্রেলিয়ায় ডেলিভারি কর্মীদের জন্য সুখবর: ঘণ্টায় সর্বনিম্ন মজুরি ৩১ ডলারের বেশি, মিলবে বিমা সুবিধা
চার বছর ধরে শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বুকব্যথা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছিলেন যুক্তরাজ্যের দুই সন্তানের জননী অ্যাবিগেইল লুইস। বারবার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও তাকে বলা হয়, তিনি উদ্বেগজনিত সমস্যা ও প্যানিক অ্যাটাকে ভুগছেন। এমনকি পাঁচ থেকে ছয়বার তাকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তার হৃদযন্ত্রের একটি ভালভে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে এবং তিনি বিরল জন্মগত হৃদরোগ ‘এবস্টেইনের অ্যানোমালি’-তে আক্রান্ত। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা এসডব্লিউএনএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৬ বছর বয়সী অ্যাবিগেইল ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বহুবার পারিবারিক চিকিৎসকের কাছে যান। সে সময় তিনি শ্বাসকষ্ট, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া, ওজন বৃদ্ধি এবং শরীরচর্চা করতে গিয়ে অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো সমস্যার কথা জানান। কিন্তু চিকিৎসকেরা তার সমস্যাকে উদ্বেগ ও প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কর্মস্থলে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে না পেরে এবং তীব্র বুকব্যথা অনুভব করলে তিনি জরুরি বিভাগে যান। সেখানে পরীক্ষায় তার হৃদযন্ত্রে ‘রাইট বান্ডল ব্রাঞ্চ ব্লক (আরবিবিবি)’ নামে একটি বৈদ্যুতিক সংকেতজনিত সমস্যা এবং হার্ট মারমারের সন্দেহ ধরা পড়ে। পরে তাকে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়। ২৪ ঘণ্টার ইসিজি পর্যবেক্ষণ ও ইকোকার্ডিওগ্রাম পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, তার হৃদযন্ত্রের ট্রাইকাসপিড ভালভ দিয়ে রক্ত ফিরে যাচ্ছে, অর্থাৎ ভালভে লিক রয়েছে। আরও বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য তাকে লন্ডনের রয়্যাল ব্রম্পটন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই নিশ্চিত করা হয় যে তিনি ‘এবস্টেইনের অ্যানোমালি’ নামের একটি বিরল জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত। এই রোগে ট্রাইকাসপিড ভালভ স্বাভাবিকভাবে গঠিত হয় না। ফলে হৃদযন্ত্রের প্রকোষ্ঠগুলোর মধ্যে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয় এবং রক্ত উল্টো দিকে ফিরে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগটি অত্যন্ত বিরল। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়, যাদের অধিকাংশই শিশু। রোগ শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান, অ্যাবিগেইলের জীবন বাঁচাতে অস্ত্রোপচার জরুরি। তবে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি কমাতে প্রথমে তাকে প্রায় ১০ কেজি (২২ পাউন্ড) ওজন কমাতে বলা হয়। এরপর ২০২৬ সালের মে মাসে তার ওপর প্রায় নয় ঘণ্টাব্যাপী ‘কোন প্রক্রিয়া’ নামে একটি জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে চিকিৎসকেরা তার নিজের টিস্যু ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাইকাসপিড ভালভ পুনর্গঠন করেন। অস্ত্রোপচারের পরও তাকে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। বাইপাস অস্ত্রোপচারের পর তার নিউমোনিয়া হয়, দুই ফুসফুস সাময়িকভাবে ভেঙে পড়ে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যক্রমও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি চিকিৎসকেরা পেসমেকার বসানোর বিষয়টিও বিবেচনা করেছিলেন। তবে দুই সপ্তাহ পর হৃদযন্ত্র আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে। প্রায় চার সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর জুন মাসের মাঝামাঝি তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে অস্ত্রোপচারের নয় সপ্তাহ পর তিনি সুস্থতার পথে রয়েছেন। আগস্টের শেষ দিকে তার ১২ সপ্তাহের কার্ডিয়াক পুনর্বাসন কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অ্যাবিগেইল জানান, ছোটবেলাতেও তিনি অন্য শিশুদের মতো দৌড়ঝাঁপ করতে পারতেন না। ঠান্ডা না থাকলেও তার ঠোঁট নীলচে হয়ে যেত। তবে এত বছরেও কেউ তার জন্মগত হৃদরোগ শনাক্ত করতে পারেননি। তিনি বলেন, "আমি বুঝতেই পারি না কীভাবে ৩৬ বছর বয়স পর্যন্ত এই রোগ ধরা পড়েনি। এমনকি দুটি গর্ভধারণের সময়ও কেউ এটি শনাক্ত করতে পারেনি।" তিনি আরও বলেন, "আমি বারবার চিকিৎসকদের বলেছি, শুধু প্যানিক অ্যাটাক হলে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা অসম্ভব হয়ে যায় না। কিন্তু তারা বারবার বলতেন আমার উদ্বেগজনিত সমস্যা রয়েছে। একসময় আমিও সেটাই বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম।" অ্যাবিগেইল জানান, যেসব থেরাপিস্টের কাছে তাকে পাঠানো হয়েছিল, তারাও অবাক হয়েছিলেন। তাদের ভাষায়, তার মধ্যে উদ্বেগ বা বিষণ্নতার কোনো লক্ষণই ছিল না। অস্ত্রোপচারের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, "অস্ত্রোপচারের আগের দিনটাই ছিল সবচেয়ে ভয়ের। পরে চিকিৎসকেরা জানান, অপারেশন ছয় ঘণ্টা নয়, প্রায় নয় ঘণ্টা লাগবে।" তবে এখন তিনি আশাবাদী। তার ভাষায়, "আমি পুরোপুরি আগের মতো সুস্থ হব কি না জানি না। হয়তো আগের মতো স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাব, হয়তো একটু ধীরগতির জীবন হবে। তবে দুই বছর আগে আমি জানতাম না আদৌ বেঁচে থাকব কি না। তাই এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি আশাবাদী।"
বিস্ফোরিত রুশ জাহাজের ১০ লাখ ব্যারেল তেল ছড়িয়ে পরেছে ৮০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকায়
ফিলিপাইনে বিলাসবহুল জীবন কাটাচ্ছেন এফবিআইয়ের তালিকাভুক্ত মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী
স্কুলের প্রথম দিনের ছবি তুলতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ ডেকে ‘গ্রেফতার’ করালেন মা
বিষধর হাবু সাপের উপদ্রব কমাতে ১৯৭৯ সালে জাপানের আমামি ওশিমা দ্বীপে ছাড়া হয়েছিল মাত্র ৩০টির মতো বেজি। উদ্দেশ্য ছিল বেজি সাপ ও ইঁদুর শিকার করবে এবং মানুষের জন্য ঝুঁকি কমাবে। কিন্তু পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত উল্টো ফল দেয়। সাপের বদলে দ্বীপের বিরল ও স্থানীয় প্রাণীদের শিকার করতে শুরু করে বেজি। কয়েক দশকের মধ্যে তাদের সংখ্যা বেড়ে আনুমানিক ১০ হাজারে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ অভিযান চালিয়ে ২০২৪ সালে দ্বীপটিকে বেজিমুক্ত ঘোষণা করে জাপান সরকার। জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আমামি ওশিমায় ছাড়া বেজিগুলো ছিল স্মল ইন্ডিয়ান মঙ্গুজ। দ্বীপটিতে এ প্রাণী আনার পেছনে ছিল বিষধর হাবু সাপ নিয়ন্ত্রণের ভাবনা। তবে হাবু মূলত রাতে সক্রিয়, আর বেজি বেশি সক্রিয় দিনের বেলায়। ফলে যে সাপ দমনের জন্য বেজি আনা হয়েছিল, বাস্তবে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ ছিল তুলনামূলক কম। এর পরিবর্তে বেজির সহজ শিকারে পরিণত হয় আমামি ওশিমার স্থানীয় বন্যপ্রাণী। এর মধ্যে ছিল বিপন্ন আমামি খরগোশ এবং দ্বীপের বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাঙ, ইঁদুর ও অন্যান্য প্রাণী। পর্যাপ্ত খাবার ও অনুকূল পরিবেশ পেয়ে বেজির বিস্তার দ্রুত বাড়তে থাকে। জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আমামি ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে দ্বীপটিতে বেজির সংখ্যা আনুমানিক ১০ হাজারে পৌঁছেছিল। এই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশেরও একটি ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। জাপানের সরকারি নথি অনুযায়ী, ১৯১০ সালে গঙ্গা নদীর মোহনা অঞ্চল, যা বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ, সেখান থেকে বেজি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে। বিশ্ব ঐতিহ্যের মনোনয়নের জন্য জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুত করা নথিতে বলা হয়েছে, সে সময় ১৭টি বেজি ওকিনাওয়ায় ছাড়া হয়েছিল। কয়েক দশক পর ১৯৭৯ সালে ওকিনাওয়া থেকেই প্রায় ৩০টি বেজি নিয়ে আমামি ওশিমায় ছাড়া হয়। শুরুতে যে সিদ্ধান্তকে হাবু সাপ নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য উপায় মনে করা হয়েছিল, পরে সেটিই স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়। বেজির বিস্তারের সঙ্গে আমামি খরগোশসহ বিভিন্ন স্থানীয় প্রজাতির আবাস ও বিস্তৃতি সংকুচিত হওয়ার সম্পর্কও ধরা পড়ে সরকারি গবেষণায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৯৯৩ সালে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ক্ষতিকর বন্যপ্রাণী হিসেবে বেজি ধরার কাজ শুরু করে। ১৯৯৬ সাল থেকে জাপানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ ও কাগোশিমা প্রিফেকচার আরও বিস্তৃতভাবে বেজির সংখ্যা, বিস্তার এবং ধরার পদ্ধতি নিয়ে কাজ শুরু করে। ২০০০ সালে শুরু হয় বড় পরিসরের নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। পরবর্তী বছরগুলোতে ফাঁদ, ক্যামেরা এবং প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুরসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘ অভিযানের পর ২০১৮ সালের এপ্রিলে আমামি ওশিমায় সর্বশেষ বেজিটি ধরা পড়ে। এরপর কয়েক বছর আর কোনো বেজি পাওয়া যায়নি। কিন্তু শুধু বেজি ধরা না পড়ার ভিত্তিতে নির্মূল ঘোষণা করেনি জাপান। দ্বীপে কোনো প্রজননক্ষম বেজির জনগোষ্ঠী রয়ে গেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ২০২৩ অর্থবছরের শেষ পর্যন্ত অনুসন্ধান ও নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়। দুটি বৈজ্ঞানিক মডেল ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত বেজি নির্মূলের সম্ভাবনা হিসাব করা হয়। একটি মডেলে সফলতার সম্ভাবনা আসে ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অন্যটিতে ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ। বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মূল্যায়নের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে, আমামি ওশিমা থেকে স্মল ইন্ডিয়ান মঙ্গুজ নির্মূল হয়েছে। জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এই সাফল্যকে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিশেষ করে এত বড় একটি দ্বীপ থেকে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত বেজির প্রজননশীল জনগোষ্ঠী নির্মূলের ঘটনা বিশ্বেও বিরল। তবে আমামি ওশিমার অভিযান শেষ হলেও ওকিনাওয়ায় বেজির সমস্যা পুরোপুরি শেষ হয়নি। জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওকিনাওয়ার উত্তরাঞ্চলে এখনও বেজি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চলছে। অর্থাৎ এক শতাব্দীরও বেশি আগে হাবু সাপ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে আনা প্রাণীটির পরিবেশগত প্রভাব জাপানের অন্য অংশে এখনও সামলাতে হচ্ছে। আমামি ওশিমার ঘটনাটি এখন বহিরাগত প্রজাতি দিয়ে কোনো স্থানীয় সমস্যার সমাধান করতে গেলে তার অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি কত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। যে ৩০টি বেজি সাপের উপদ্রব কমানোর আশায় দ্বীপে ছাড়া হয়েছিল, তাদের সংখ্যা একসময় প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছায়। ১৯৭৯ সালে শুরু হওয়া সেই অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করতে জাপানকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২০২৪ সাল পর্যন্ত।
ইসলাম নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ব্রিটিশ ইহুদি নারী খলিলা লিস্টার
আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় যাওয়া শামীমা কি ফিরে পাবেন নাগরিকত্ব!