ভারতের কেরালা রাজ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্মান্তরের প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে সরকারি পরিসংখ্যান। রাজ্য সরকারের গেজেটভুক্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইসলাম ধর্ম গ্রহণের হার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যা একই সময়ে ইসলাম ত্যাগকারীদের তুলনায় অনেক বেশি।
কেরালা সরকারের প্রকাশিত গেজেট তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে রাজ্যে ইসলাম ত্যাগ করেছিলেন ৪০ জন। বিপরীতে ওই বছর ১৪৪ জন নতুন করে ইসলাম গ্রহণ করেন। অর্থাৎ, গ্রহণকারীর সংখ্যা ত্যাগকারীদের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি ছিল। এদের একটি বড় অংশই হিন্দু সম্প্রদায় থেকে এসেছিলেন, যাদের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য।
চার বছরের ব্যবধানে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর ইসলাম ত্যাগ করেছেন মোট ৫৭ জন। এর মধ্যে ৩৬ জন হিন্দু ধর্মে এবং ২১ জন খ্রিষ্টধর্মে যোগ দেন। অন্যদিকে একই সময়ে ৩৪৩ জন ইসলাম গ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে ২৭৬ জন হিন্দু এবং ৬৭ জন খ্রিষ্টান সম্প্রদায় থেকে এসেছেন। সে হিসেবে ইসলাম গ্রহণের হার ত্যাগের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি।
ধর্মান্তরের এই চিত্র শুধু ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রেই নয়, হিন্দু ধর্মের ক্ষেত্রেও একটি ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরছে। ২০২০ সালে অন্য ধর্ম থেকে ২৪১ জন হিন্দু ধর্মে ফিরে এলেও, সরকারি তথ্য বলছে তাদের বেশিরভাগই দলিত খ্রিষ্টান পটভূমির মানুষ। সংরক্ষণ সুবিধা পুনরুদ্ধারের মতো সামাজিক ও প্রশাসনিক কারণে তারা পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
অন্যদিকে ২০২৪ সালের তথ্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ওই বছর অন্য ধর্ম থেকে ৩৬৫ জন হিন্দু ধর্মে এলেও, একই সময়ে ৫১০ জন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করেছেন। এদের মধ্যে ২৭৬ জন ইসলাম এবং ২৩৪ জন খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছেন। ফলে নিট হিসাবে হিন্দু ধর্ম ত্যাগকারীর সংখ্যাই বেশি।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালে যেখানে ১১১ জন হিন্দু ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, সেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭৬-এ। বিপরীতে ইসলাম থেকে হিন্দু ধর্মে যাওয়ার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেরালার মতো শিক্ষিত ও সামাজিকভাবে সচেতন রাজ্যে ধর্মান্তরের এই প্রবণতা ব্যক্তিগত বিশ্বাস, সামাজিক অবস্থান এবং কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বাস্তবতার সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি, আন্তঃসম্প্রদায় সম্পর্ক এবং আইনগত কাঠামোও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।
তবে এই পরিসংখ্যানের ব্যাখ্যা নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, ধর্মান্তরের পেছনে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও আস্থার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, আবার অন্যরা সামাজিক ও কাঠামোগত কারণকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সার্বিকভাবে সরকারি গেজেটের তথ্য বলছে, কেরালায় ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে একটি ধীর কিন্তু স্পষ্ট পরিবর্তন ঘটছে, যা ভবিষ্যতে রাজ্যের সামাজিক ও জনমিতিক কাঠামোয় প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, নিউজলন্ড্রি
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
ভারতের অরুণাচল প্রদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তঘেঁষা আপার সুবানসিরি জেলায় চীনা সেনাবাহিনীর অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় নহ্ উপজাতি সম্প্রদায়। তাদের দাবি, গত কয়েক বছরে সীমান্তবর্তী এলাকায় ধীরে ধীরে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়ে ঐতিহ্যগত চারণভূমি, শিকার এলাকা ও কৃষিজমির একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি আপার সুবানসিরির ডেপুটি কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া এক স্মারকলিপিতে নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি কেরু চাদের এ অভিযোগ তুলে ধরেন। স্মারকলিপিতে তিনি উল্লেখ করেন, কয়েক বছর আগেও যেসব এলাকায় স্থানীয়রা অবাধে যাতায়াত করতেন, বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতেন এবং গবাদিপশু চরাতেন, সেসব অঞ্চল এখন তাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তার ভাষায়, “আমরা ধীরে ধীরে আমাদের পূর্বপুরুষদের ভূমি হারাচ্ছি।” সংগঠনটির দাবি, তাকসিং রাজস্ব সার্কেলের আওতায় অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চীনা বাহিনী কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। সীমান্ত বরাবর পরিকল্পিতভাবে তাদের উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির তথ্যমতে, ২০২০ সাল পর্যন্ত যেসব এলাকা স্থানীয়দের ঐতিহ্যগত ব্যবহারে ছিল, সেগুলোর বড় অংশ এখন পিএলএর নিয়ন্ত্রণে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাকসিং সীমান্ত এলাকায় চীনের তৎপরতা ধীরে ধীরে বাড়ছে বলেও তারা দাবি করেছে। অনুপ্রবেশের অভিযোগ ওঠা প্রধান এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে আসাফিলা অঞ্চলের ওইং, চুজারতার পানিয়ার, মারনাফের মারপান, পোত্রাং লেক এবং তিনদিংতাং। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব এলাকা শুধু অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং কিছু স্থান তাদের কাছে পবিত্র হিসেবেও বিবেচিত। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, সীমান্তের ভেতরে প্রবেশ করে চীনা বাহিনী সড়ক নির্মাণ ও স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের মতো কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা রেখেই স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি বলেন, সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছে, কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে চীনের তৎপরতার গতি ও ধরন নিয়ে নতুন করে চিন্তার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে দেখছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও। নাচো আসনের বিধায়ক নাকাপ নালো বলেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে দ্রুত সরকারি তদন্ত প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে আপার সুবানসিরির ডেপুটি কমিশনার গাম্বো তাসো বা অরুণাচল প্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-চীন উত্তেজনা বিদ্যমান। সাম্প্রতিক এই অভিযোগ সেই প্রেক্ষাপটেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিম সংগঠন ‘নেশন অব ইসলাম’-এর দীর্ঘদিনের নেতা লুইস ফাররাখানের স্ত্রী খাদিজা ফাররাখান আর নেই। গত শনিবার (২৭ জুন) ৯০ বছর বয়সে তিনি মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে। সংগঠনের অনুসারীদের কাছে তিনি ‘মাদার খাদিজা’ নামে সুপরিচিত ছিলেন। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে কৃষ্ণাঙ্গদের আত্মনির্ভরশীলতা ও পরিচয় পুনর্গঠনের আদর্শে গড়ে ওঠা এই প্রভাবশালী ধর্মীয়-রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে তিনি নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। নেশন অব ইসলামের শুরা এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানায়, “অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে, তবে আল্লাহর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সম্মানিত মন্ত্রী লুইস ফাররাখান ঘোষণা করছেন যে, তার ৭২ বছরের জীবনসঙ্গী এবং নেশন অব ইসলামের ফার্স্ট লেডি মাদার খাদিজা আল্লাহর কাছে ফিরে গেছেন।” শিকাগোর দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত মসজিদ মরিয়ম ছিল সংগঠনটির প্রধান কেন্দ্র। সেখানেই দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করতেন ফাররাখান পরিবার। এই মসজিদকে ঘিরেই তাদের ধর্মীয় ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো। খাদিজা ফাররাখানের জন্মনাম ছিল বেটসি রস। ১৯৫৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বোস্টনে তিনি লুইস ইউজিন ওয়ালকটের (পরবর্তীতে লুইস ফাররাখান) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৫৫ সালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। একই বছর ম্যালকম এক্সের প্রভাবে তার স্বামী নেশন অব ইসলামে যোগ দেন। তাদের সংসারে নয় সন্তান রয়েছে। শুধু একজন নেতার স্ত্রী হিসেবেই নয়, খাদিজা নিজেও ছিলেন একজন প্রভাবশালী বক্তা ও সংগঠক। ১৯৯৭ সালে ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘মিলিয়ন ওম্যান মার্চ’-এ দেওয়া তার বক্তব্য আজও সংগঠনের ভেতরে অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হয়। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “একটি জাতি তার নারীদের চেয়ে বেশি উচ্চতায় উঠতে পারে না। আমরা নারীদের নিয়ে কথা বলি, কিন্তু পুরুষ, নারী ও শিশু—সবাইকে নিয়ে একটি পরিবার হিসেবেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।” তার মৃত্যুতে সংগঠনের ভেতরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খাদিজা ফাররাখানের মরদেহ বুধবার (১ জুলাই) ও বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) শিকাগোর মসজিদ মরিয়মে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হবে। পরে শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ১১টায় একই স্থানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। নেশন অব ইসলামের পটভূমি নেশন অব ইসলামের যাত্রা শুরু হয় ১৯৩০ সালে, যখন ওয়ালেস ডি. ফার্ড মুহাম্মদ ডেট্রয়েট শহরের কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকায় ধর্মীয় প্রচার শুরু করেন। তার লক্ষ্য ছিল বঞ্চিত কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীকে তাদের আত্মপরিচয় ও বিশ্বাস সম্পর্কে সচেতন করে তোলা। পরবর্তীতে তার শিষ্য ইলিয়াহ মুহাম্মদ সংগঠনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং এর প্রধান কার্যালয় শিকাগোতে স্থানান্তর করেন। তার নেতৃত্বে সংগঠনটি দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং শিক্ষা, ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে। ১৯৫২ সালে ম্যালকম এক্স যোগ দেওয়ার পর সংগঠনটির সদস্যসংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। এক দশকের মধ্যে তা প্রায় তিন লাখে পৌঁছে যায়। ১৯৬৪ সালে কিংবদন্তি বক্সার মুহাম্মদ আলী ইসলাম গ্রহণ করে এই সংগঠনে যোগ দিলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক পরিচিতি পায় নেশন অব ইসলাম। ১৯৭৫ সালে ইলিয়াহ মুহাম্মদের মৃত্যুর পর নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। তার ছেলে ওয়ারিথ দীন মুহাম্মদ সংগঠনকে মূলধারার সুন্নি ইসলামের দিকে নিয়ে যান। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে লুইস ফাররাখান ১৯৭৭ সালে শিকাগোতে নতুনভাবে নেশন অব ইসলাম পুনর্গঠন করেন। কৃষ্ণাঙ্গদের অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতার সেই আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে খাদিজা ফাররাখান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের অবসানে সংগঠনটির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চীনের মহাকাশ প্রযুক্তি দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং জিপিএস-ধরনের নেভিগেশন ব্যবস্থা, আকাশ থেকে নজরদারি (রিকনেসান্স) ও স্যাটেলাইট বিধ্বংসী প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন ফাউন্ডেশন (আইটিআইএফ)। এ তথ্য প্রকাশ করেছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। সম্প্রতি প্রকাশিত আইটিআইএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তিশালী সরকারি সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ফলে চীন দ্রুত একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক মহাকাশ খাত গড়ে তুলেছে। এর ফলে মহাকাশ প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উদ্ভাবনের ব্যবধানও দ্রুত কমছে। প্রতিবেদনটি সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতিতে নেতৃত্ব চীনের হাতে চলে যেতে পারে। প্রতিবেদনে মহাকাশ প্রযুক্তির ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ খাতের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সুস্পষ্ট আধিপত্য রয়েছে। স্পেসএক্সের স্টারলিংক এবং অ্যামাজনের প্রজেক্ট কুইপার চীনের কিয়ানফান ও গুয়াওয়াং প্রকল্পের তুলনায় এগিয়ে। পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে সীমাবদ্ধতা চীনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। নেভিগেশন, অবস্থান নির্ধারণ ও সময় সমন্বয় (পিএনটি): চীনের বেইদু নেভিগেশন সিস্টেম আন্তর্জাতিকভাবে দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। বিপুল সংখ্যক স্যাটেলাইট ও বৈশ্বিক ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে এ ক্ষেত্রে চীনকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। রিমোট সেন্সিং ও স্যাটেলাইট চিত্রায়ন: গাওফেন ও জিলিন-১সহ সরকারি ও বেসরকারি স্যাটেলাইটের সমন্বয়ে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে চীন। ফলে এই খাতেও দেশটিকে এগিয়ে বলা হয়েছে। মহাকাশ স্টেশন: এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে প্রায় সমানে সমান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) দীর্ঘ অভিজ্ঞতার বিপরীতে চীন দ্রুত তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। স্যাটেলাইট বিধ্বংসী প্রযুক্তি (কাউন্টারস্পেস): প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাইনেটিক ইন্টারসেপ্টর, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং ডাইরেক্টেড এনার্জি অস্ত্রে চীন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এমনকি কক্ষপথে স্যাটেলাইট-টু-স্যাটেলাইট কৌশলগত সক্ষমতা উন্নয়নেও দেশটি অনেক দূর এগিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট: এই খাতে এখনো যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে এগিয়ে। স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯-এর পুনঃব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির সমপর্যায়ের সক্ষমতা চীন এখনো পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যের পেছনে রয়েছে নাসা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব। অন্যদিকে চীন সামরিক ও বেসামরিক খাতের সমন্বিত নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ, শিল্প ও গবেষণাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে। ২০১৪ সালে মহাকাশ খাতের কিছু অংশ বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করার পর দেশটিতে ৫০০টির বেশি মহাকাশ কোম্পানি গড়ে উঠেছে। ল্যান্ডস্পেস, গ্যালাকটিক এনার্জি ও আইস্পেসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। প্রতিবেদনের লেখক এলিস শেরার বলেন, উৎপাদন সক্ষমতায় চীন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকাতে এখনো সময় লাগবে। তবে আইটিআইএফ সতর্ক করে বলেছে, মহাকাশ প্রযুক্তিতে চীন যদি যুক্তরাষ্ট্রকে স্থায়ীভাবে ছাড়িয়ে যায়, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।