সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ওয়ালমার্ট

যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ১২০ ডলারে ওয়ালমার্ট প্লাস ও স্যামস ক্লাব প্লাসের যৌথ মেম্বারশিপ চালু করেছে ওয়ালমার্ট। ছবি: সংগৃহীত
দাম কমানোর বার্তা দিলেন ওয়ালমার্টের সিইও, আনলেন ১২০ ডলারের মেম্বারশিপ অফার

যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ১২০ ডলারে ওয়ালমার্ট প্লাস ও স্যামস ক্লাব প্লাসের যৌথ মেম্বারশিপ চালু করেছে ওয়ালমার্ট। মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর থেকে নতুন অফারটি কার্যকর হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, দুটি মেম্বারশিপ আলাদাভাবে নেওয়ার তুলনায় এতে বছরে ৯৮ ডলার সাশ্রয় হবে।    এবিসি নিউজের ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে অফারটির ঘোষণা দেন ওয়ালমার্টের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী জন ফার্নার। নতুন ব্যবস্থায় একই বার্ষিক ফির আওতায় দুই কর্মসূচির সুবিধা পাবেন গ্রাহকেরা। এর মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত শর্তে বিনা ডেলিভারি ফিতে পণ্য পৌঁছে দেওয়া, জ্বালানিতে ছাড় এবং স্ট্রিমিং সেবা।    ওয়ালমার্টের ঘোষণা অনুযায়ী, বিনা ডেলিভারি ফিতে নির্ধারিত সময়ে পণ্য পেতে ওয়ালমার্টে অন্তত ৩৫ ডলার এবং স্যামস ক্লাবে অন্তত ৫০ ডলারের অর্ডার করতে হবে। সেবার প্রাপ্যতা ও অন্যান্য বিধিনিষেধ প্রযোজ্য থাকবে।    মেম্বাররা পিকক প্রিমিয়াম অথবা প্যারামাউন্ট প্লাস এসেনশিয়ালের বিজ্ঞাপনযুক্ত সেবা বেছে নিতে পারবেন। একই সঙ্গে যোগ্য কেনাকাটায় ২ শতাংশ স্যামস ক্যাশ পাওয়ার সুবিধা থাকবে, যার বার্ষিক সর্বোচ্চ সীমা ৭৫০ ডলার। অংশগ্রহণকারী ১৭ হাজারের বেশি গ্যাস স্টেশনে সাধারণভাবে প্রতি গ্যালনে ১০ সেন্ট ছাড়ও মিলবে। আলাবামায় ছাড়ের পরিমাণ ৫ থেকে ১০ সেন্ট।    বর্তমান ওয়ালমার্ট প্লাসের বার্ষিক মেম্বাররা বছরে আরও ২২ ডলার দিয়ে যৌথ প্যাকেজে যেতে পারবেন। স্যামস ক্লাবের সাধারণ ক্লাব মেম্বাররা আরও ৬০ ডলার দিয়ে প্লাসে উন্নীত হলে ওয়ালমার্ট প্লাসও পাবেন। যাঁদের স্যামস ক্লাব প্লাস রয়েছে, তাঁরা অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই ওয়ালমার্ট প্লাস সক্রিয় করতে পারবেন।    যাঁরা আগে থেকেই দুটি মেম্বারশিপের জন্য আলাদাভাবে অর্থ দিচ্ছেন, তাঁদের অ্যাকাউন্ট দুটি যুক্ত করতে বলেছে প্রতিষ্ঠানটি। ওয়ালমার্ট জানিয়েছে, তাঁদের অধিকাংশই ওয়ালমার্ট প্লাসের অবশিষ্ট মেয়াদ অনুযায়ী আনুপাতিক অর্থ ফেরত পাওয়ার যোগ্য হবেন। যোগদান, আপগ্রেড বা অ্যাকাউন্ট যুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে ওয়ালমার্ট ও স্যামস ক্লাবের অ্যাপে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
২০২৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মীদের জন্য ২৫০টির বেশি প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ওষুধে বিনা খরচের সুবিধা চালু করছে ওয়ালমার্ট। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ওয়ালমার্টের কর্মীরা বিনা খরচে পাবেন ২৫০টির বেশি ওষুধ, থাকছে ডায়াবেটিসের চিকিৎসাও

যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট কর্মীদের স্বাস্থ্যসুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা ২৫০টির বেশি প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ওষুধ বিনা খরচে পাওয়ার সুযোগ পাবেন। নতুন সুবিধার তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন জেনেরিক, ব্র্যান্ড ও বিশেষায়িত ওষুধের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ইনসুলিন ও ইনহেলার। টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত যোগ্য কর্মীদের জন্য কিছু জিএলপি-১ ওষুধও বিনা খরচে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকছে। তবে কোন কর্মী কোন ওষুধ পাবেন, তা নির্ভর করবে তাঁর স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা ও চিকিৎসাগত যোগ্যতার ওপর।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি নিয়োগদাতা ওয়ালমার্টের দেশটিতে প্রায় ১৬ লাখ কর্মী রয়েছেন। কর্মীদের বার্ষিক স্বাস্থ্যবিমা নিবন্ধনের সময় নতুন সুবিধাগুলোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের এই নিবন্ধনপর্ব ৬ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। ওয়ালমার্টের প্রধান জনবল কর্মকর্তা ডোনা মরিস কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় বলেছেন, কর্মী ও তাঁদের পরিবারের জন্য আরও সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি নতুন সুবিধা যুক্ত করছে।   ওয়ালমার্টের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় ২৫০টির বেশি ওষুধের জন্য শূন্য ডলারের একটি স্তর চালু হচ্ছে। অর্থাৎ, তালিকাভুক্ত ওষুধগুলো নির্ধারিত শর্তে নিতে কর্মীদের নিজস্ব অর্থ খরচ করতে হবে না। তবে তালিকার বাইরে থাকা অন্যান্য ওষুধের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সহ-অর্থ পরিশোধ করতে হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনার আওতায় থাকা অন্যান্য ওষুধের জন্য জেনেরিক ওষুধে সর্বোচ্চ ৪ ডলার, ব্র্যান্ডের ওষুধে সর্বোচ্চ ৫০ ডলার এবং বিশেষায়িত ওষুধে সর্বোচ্চ ২৫০ ডলার পর্যন্ত সহ-অর্থ দিতে হতে পারে। স্বাস্থ্যবিমার ধরন অনুযায়ী কিছু নিয়মে পার্থক্যও রয়েছে।   নতুন সুবিধার আলোচিত অংশগুলোর একটি হলো জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ। টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত এই শ্রেণির কিছু ওষুধ যোগ্য কর্মীদের বিনা খরচে দেওয়া হবে। তবে এ সুবিধাকে ওজন কমানোর জন্য ব্যবহৃত সব জিএলপি-১ ওষুধের বিনা মূল্যে প্রাপ্যতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট ওষুধ, চিকিৎসার প্রয়োজন এবং বিমা পরিকল্পনার শর্ত অনুযায়ী সুবিধা নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে কিছু ইনসুলিন ও ইনহেলারও নতুন তালিকায় যুক্ত হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত কর্মীদের নিয়মিত চিকিৎসার ব্যয় কমাতে সহায়তা করতে পারে।   ওষুধের পাশাপাশি জটিল ও বিরল রোগের চিকিৎসা-পরামর্শ পাওয়ার সুযোগও বাড়াচ্ছে ওয়ালমার্ট। প্রতিষ্ঠানটির ঘোষণা অনুযায়ী, একাধিক স্ক্লেরোসিস, পারকিনসনস রোগ এবং অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস বা এএলএসে আক্রান্ত কিংবা এসব রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে থাকা যোগ্য কর্মী ও তাঁদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন নিতে পারবেন বিনা খরচে। এ জন্য মায়ো ক্লিনিক ও ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের মতো চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত বিশেষায়িত সেবা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। নির্ধারিত শর্তে রোগী ও তাঁর সঙ্গে যাওয়া একজন প্রাপ্তবয়স্ক পরিচর্যাকারীর যাতায়াতের খরচও বহন করবে প্রতিষ্ঠানটি।   নবজাতকের গুরুতর চিকিৎসার প্রয়োজন হলে কর্মীদের পাশে দাঁড়াতেও নতুন সুবিধা যুক্ত করছে ওয়ালমার্ট। আগামী নভেম্বর থেকে যেসব কর্মীর নবজাতককে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করতে হবে, তাঁরা সর্বোচ্চ ১২ সপ্তাহের বেতনসহ ছুটি পাওয়ার যোগ্য হবেন। এ ছুটি নির্ধারিত শর্তে কর্মীদের জন্য আগে থেকে থাকা মাতৃত্বকালীন ও অভিভাবকত্বকালীন ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া যাবে। ফলে নবজাতকের দীর্ঘ চিকিৎসার সময় পরিবারকে কর্মস্থল ও হাসপাতালের দায়িত্ব সামলাতে কিছুটা বাড়তি সুযোগ দেওয়া হবে।   তবে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি ওয়ালমার্ট স্বাস্থ্যবিমার প্রাথমিক পরিকল্পনার প্রিমিয়ামও বাড়াচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালে দুই সপ্তাহ অন্তর বেতন থেকে কাটা প্রাথমিক প্রিমিয়াম ১ ডলার ৫০ সেন্ট বেড়ে ৩৯ ডলার ৮০ সেন্ট হবে। অর্থাৎ, কর্মীরা নতুন ওষুধ ও চিকিৎসাসুবিধা পেলেও তাঁদের স্বাস্থ্যবিমার নির্ধারিত খরচ কিছুটা বাড়বে। পূর্ণকালীন কর্মীদের পাশাপাশি নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী খণ্ডকালীন কর্মীরাও স্বাস্থ্যবিমায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।   ওয়ালমার্ট এর আগেও কর্মীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার গঠনে সহায়তা এবং অন্যান্য চিকিৎসাসুবিধা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য কর্মী ও পরিবারের সদস্যরা বছরে ২০টি পর্যন্ত মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিং সেশন বিনা খরচে নিতে পারেন। সন্তান ধারণে সহায়তা, দত্তক গ্রহণ বা সারোগেসির মতো প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে ওষুধের খরচ ও জটিল রোগের বিশেষজ্ঞ সেবায় আর্থিক বাধা কমানোই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য।   যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা ও প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ওষুধের ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চাপ তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতে ওয়ালমার্টের নতুন সুবিধা যোগ্য কর্মীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে সব ওষুধ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে একই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। কর্মীদের নিজ নিজ স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা, ওষুধের তালিকা এবং যোগ্যতার শর্ত যাচাই করে নিতে হবে।   সূত্র: রয়টার্স, ওয়ালমার্টের করপোরেট ওয়েবসাইট।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ওয়ালমার্টে ৪৪ বছরের কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে ফুলের তোড়া হাতে কর্মী গেইল। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ৪৪ বছর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ওয়ালমার্ট কর্মীর হাতে তুলে দেওয়া হয় কেবল এক তোড়া ফুল

যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির ওয়েন্সবোরো শহরে ওয়ালমার্টের একটি দোকানে দীর্ঘ ৪৪ বছর কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে গেইল নামের এক কর্মীকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মান জানানো হয়েছে। কর্মীর দীর্ঘ কর্মজীবন উদ্‌যাপন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবিও প্রকাশ করেছিল দোকানটি। তবে সেই ছবিই পরে অনলাইনে আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকের মতে, একটি বড় প্রতিষ্ঠানে চার দশকেরও বেশি সময় কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে শুধু ফুলের তোড়া তুলে ধরা যথেষ্ট নয়।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গেইল ওয়ালমার্টের কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের ওয়েন্সবোরো শহরের ফ্রেডেরিকা স্ট্রিট শাখায় কর্মরত ছিলেন। দোকানটির ফেসবুক পোস্টে তাঁর ৪৪ বছরের কর্মজীবনকে বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে অভিনন্দন জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের জন্য তাঁর অবদানের প্রশংসা করা হয়। তবে কর্মজীবনের এই মাইলফলক উদ্‌যাপনের ছবিতে ফুলের তোড়া সামনে আসায় স্বীকৃতির ধরন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।   ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে প্রশ্ন তোলেন, এত দীর্ঘ সময় একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর একজন কর্মী আরও উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য কি না। তাঁদের মতে, চার দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করা একজন কর্মীর অবদানকে শুধু আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন ও ফুল দিয়ে মূল্যায়ন করা যথেষ্ট নয়। কেউ কেউ আর্থিক পুরস্কার, অবসরকালীন সহায়তা কিংবা দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আরও অর্থবহ উদ্যোগ নেওয়ার পক্ষে মত দেন। তাঁদের আলোচনায় বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অবদান এবং তাঁদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের বিষয়টিও উঠে আসে।   তবে ফুলের তোড়া দেওয়ার ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সমালোচনার মধ্যেও একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। প্রকাশিত ছবিটি বা দোকানের অভিনন্দনবার্তায় গেইলকে দেওয়া ফুলই তাঁর একমাত্র পুরস্কার ছিল, এমন তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে, দীর্ঘ ৪৪ বছরের চাকরির পর তিনি অবসরে যাচ্ছেন কি না, কিংবা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কী ধরনের অবসরকালীন সুবিধা পেয়েছেন, সে বিষয়েও পোস্টে বিস্তারিত তথ্য ছিল না। ফলে ছবির ভিত্তিতে তাঁর সম্পূর্ণ কর্মক্ষেত্রের সুযোগ-সুবিধা বা আর্থিক প্রাপ্তি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   ওয়ালমার্ট যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মতো বড় ব্যবসায়িক সংস্থায় দীর্ঘদিন কর্মরত ব্যক্তিদের স্বীকৃতি কীভাবে দেওয়া উচিত, তা নিয়ে এ ঘটনা নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একদিকে কর্মীর দীর্ঘ কর্মজীবনকে প্রকাশ্যে সম্মান জানানোর উদ্যোগ রয়েছে, অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, এমন অর্জনের স্বীকৃতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। তবে স্থানীয় দোকানের পক্ষ থেকে দেওয়া ফুলের তোড়ার আয়োজন প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কর্মী-সুবিধা বা অবসরকালীন ব্যবস্থার পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না।   এ ঘটনায় ওয়ালমার্টের করপোরেট কর্তৃপক্ষ বা গেইলের পক্ষ থেকে ভাইরাল আলোচনা নিয়ে কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে গেইল নিজে এই স্বীকৃতিকে কীভাবে দেখেছেন, তা জানা যায়নি। আপাতত তাঁর ৪৪ বছরের কর্মজীবনকে ঘিরে প্রকাশিত একটি ছবি কর্মীদের অবদান, দীর্ঘদিনের চাকরির স্বীকৃতি এবং বড় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।   সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, মানিওয়াইজ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
ওয়ালমার্টে কেনাকাটার পর চেকআউটে যাওয়ার আগেই পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন প্যাট্রিক নামের এক ক্রেতা। ছবি: সংগৃহীত
চেকআউটে যাওয়ার আগে দুই মিনিটেই বাড়ল পণ্যের দাম, ওয়ালমার্টে ক্রেতার তীব্র ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালমার্টে পণ্যের দাম দেখে কেনাকাটা করার পর চেকআউটে পৌঁছানোর আগেই দাম বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন এক ক্রেতা। প্যাট্রিক নামের ওই ব্যক্তি জানান, ৩ ডলার ৯৮ সেন্টের মাখনসহ কয়েকটি পণ্য নেওয়ার পর দুই মিনিটেরও কম সময়ে চেকআউটে গিয়ে আগের চেয়ে বেশি দাম দেখতে পান। বিষয়টি তিনি সঙ্গে সঙ্গে ওয়ালমার্টের এক ব্যবস্থাপককে জানান।   প্যাট্রিক তাঁর ছেলে ও পরিবারের বেকিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পণ্য কিনতে দোকানটিতে গিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় তিনি কেনাকাটার সময় দামের বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকেন বলে জানান। ফলে তাকের দাম এবং চেকআউটে প্রদর্শিত দামের পার্থক্য তাঁর নজরে আসে।   প্যাট্রিকের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি ব্যবস্থাপককে বিষয়টি জানানোর পর তাঁকে বলা হয়, কম্পিউটার ব্যবস্থায় দাম হালনাগাদ হওয়ার কারণে দোকানের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার মধ্যেই কোনো পণ্যের দাম পরিবর্তিত হতে পারে। ব্যবস্থাপকের বক্তব্য অনুযায়ী, পণ্য নেওয়ার পর চেকআউটে পৌঁছানোর সময়ের মধ্যেও দাম বদলে যেতে পারে।   এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি প্যাট্রিক। তিনি বলেন, কোনো পণ্যের দাম যদি তাকের সামনে ৩ ডলার ৯৮ সেন্ট থাকে, তাহলে সেটি হাতে নিয়ে চেকআউটে পৌঁছাতে দুই মিনিটেরও কম সময় লাগলেও কীভাবে দাম বেড়ে যেতে পারে। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি ভিডিওতে ওয়ালমার্টের মূল্য পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।   ভিডিওটি টিকটকে ৫ লাখ ৬১ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে। সেখানে অনেক দর্শক প্যাট্রিকের অভিজ্ঞতার সঙ্গে একমত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ ওয়ালমার্ট বর্জনের আহ্বান জানান। আবার কয়েকজন মন্তব্য করেন, তাকের গায়ে যে দাম লেখা থাকে, সেটিই চেকআউটে কার্যকর করার আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে।   তবে প্যাট্রিকের ক্ষেত্রে ওয়ালমার্ট ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের কোনো ব্যবস্থা ব্যবহার করেছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়। তিনি নিজেও জানাননি যে তাঁর কেনাকাটার ক্ষেত্রে এমন কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল মূল্য প্রদর্শন ব্যবস্থা চালুর কারণে কিছু ক্রেতার মধ্যে পণ্যভেদে বা ক্রেতাভেদে দাম পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   এদিকে ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে ক্রেতাভেদে পণ্যের দাম নির্ধারণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ওয়ালমার্ট। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জন ফার্নার ২৫ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, কোনো ক্রেতার আয়, কেনাকাটার ইতিহাস বা তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের সুযোগ নিয়ে বেশি দাম নেওয়া তাদের ব্যবসায়িক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   ফার্নার আরও বলেন, তাকের প্রদর্শিত দাম এবং চেকআউটে দেখানো দাম একই থাকা উচিত। তাঁর দাবি, ডিজিটাল তাকের মূল্য প্রদর্শন ব্যবস্থা সঠিক দাম দেখানোর বিষয়টি আরও ধারাবাহিকভাবে নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসনও ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো পণ্যের তালিকাভুক্ত দাম দেখলে ক্রেতারা সাধারণত আশা করেন যে সেটিই অন্য ক্রেতারাও দেখতে পাবেন, ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে আলাদা দাম নয়।   ফেডারেল ট্রেড কমিশন ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ সরাসরি নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে না। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান মূল্য নির্ধারণে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে ব্যবহার করছে তা যথাযথভাবে না জানালে বিদ্যমান আইন লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠতে পারে। এ ধরনের মূল্য নির্ধারণ নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করার জন্য নতুন আইন আনার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৯ সালের তুলনায় খাদ্যপণ্যের দাম ৩৩ শতাংশ বেড়েছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক ক্রেতাই কম দামের পণ্য ও বিকল্প খুঁজছেন। এর মধ্যেই তাকের দাম ও চেকআউটের দামের পার্থক্য নিয়ে প্যাট্রিকের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   সূত্র: দ্য মেরি সু

তাবাস্সুম অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনী পরিবারগুলোর নিট সম্পদের পরিমাণ শত শত বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ৫ পরিবারের হাতে বিশ্বের পরিচিত সব ব্র্যান্ড, সম্পদের পরিমাণ শুনলে অবাক হবেন

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনী পরিবারগুলোর নিট সম্পদের পরিমাণ শত শত বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেলেও অনেকের কাছেই তাদের নামগুলো বেশ অজানা। দশকের পর দশক ধরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ব্যবসার প্রসারের মাধ্যমে তারা এই বিশাল আর্থিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। বছরে শত বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব আয় করা এই পরিবারগুলো কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতেই গভীর প্রভাব রাখছে। ওয়ালমার্টের মতো রিটেইল জায়ান্ট থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় সব ক্যান্ডি উৎপাদনকারী মার্স পরিবারের মতো রাজবংশগুলো তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিপুল ধনসম্পদ রেখে যাচ্ছে। নিজেদের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায় সক্রিয় থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক কাঠামোকেই বদলে দিয়েছে।   ৫২০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনী পরিবারের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে ওয়ালটন পরিবার। তারা বিশ্বের বৃহত্তম রিটেইল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৬২ সালে স্যাম ওয়ালটনের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা ওয়ালমার্টের বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৪ হাজার ৬০০টির বেশি শাখা রয়েছে। একইসঙ্গে তারা স্যামস ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছে, যার শাখা রয়েছে বিশ্বজুড়ে। পরিবারের সদস্যরা এখনও ওয়ালমার্টের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত আছেন এবং ২০২২ সালে তারা ৪.৬৫ বিলিয়ন ডলারে এনএফএলের ডেনভার ব্রঙ্কস নামে একটি স্পোর্টস টিম কিনেছেন।   ১৫৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কোচ পরিবার। ১৯৪০ সালে রাসায়নিক প্রকৌশলী ফ্রেড সি কোচ একটি তেল শোধনাগার কোম্পানি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই সাম্রাজ্যের ভিত্তি গড়েন, যা পরবর্তীতে কোচ ইন্ডাস্ট্রিজ (বর্তমানে শুধু কোচ) নামে পরিচিতি পায়। তাঁর ছেলে চার্লস কোচ বর্তমানে এর কো-সিইও এবং চেয়ারম্যান। প্রতিষ্ঠানটি তেল, গ্যাস, রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারিত করেছে এবং বর্তমানে ৫০টিরও বেশি দেশে এর কার্যক্রম চলমান।   ১২৯ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের অধিকারী মার্স পরিবার মূলত ক্যান্ডি ও পোষা প্রাণীর খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মার্স ইনকর্পোরেটেডের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯১১ সালে ফ্র্যাঙ্কলিন ক্ল্যারেন্স মার্সের হাত ধরে ওয়াশিংটনে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে থ্রি মাস্কেটিয়ার্স, স্নিকার্স, এমঅ্যান্ডএমস ও স্কিটলস-এর মতো বিশ্বখ্যাত সব ক্যান্ডি ব্র্যান্ড তৈরি করেছে। সম্প্রতি তারা পোষা প্রাণীর যত্নের ক্ষেত্রেও বড়সড় বিনিয়োগ করেছে।   ৬৯.৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে জনসন পরিবার। ১৯৪৬ সালে এডওয়ার্ড সি জনসন দ্বিতীয়-এর প্রতিষ্ঠিত ফিডেলিটি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ কোম্পানিটি আর্থিক পরিষেবা, মিউচুয়াল ফান্ড এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি বিশাল শক্তিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টস বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মিউচুয়াল ফান্ড প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত, যারা ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ পরিচালনা করছে এবং ৪ কোটিরও বেশি মানুষকে আর্থিক সেবা দিচ্ছে।   ৬৭.৯ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক কারগিল-ম্যাকমিলান পরিবারের ব্যবসার শুরুটা হয়েছিল ১৮৬৫ সালে ছোট একটি শস্য মজুদের কোম্পানি হিসেবে। পরবর্তীতে উইলিয়াম ওয়ালেস কারগিল এবং তাঁর জামাতা জন এইচ ম্যাকমিলান সিনিয়রের হাত ধরে এটি বিশ্বজুড়ে কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বিতরণের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান কারগিল ইনকর্পোরেটেডে পরিণত হয়। ম্যাকডোনাল্ডসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে তারা কাজ করছে। বর্তমানে ৭০টি দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালমার্টের দোকানগুলোতে কাগজের মূল্যতালিকার পরিবর্তে ডিজিটাল লেবেল ব্যবহার বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত
সুপারমার্কেটে ডিজিটাল মূল্য তালিকা নিয়ে উদ্বেগ, ক্রেতাদের আশ্বস্ত করল ওয়ালমার্ট

ডিজিটাল মূল্যতালিকা চালুর পর গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ দূর করতে নতুন করে আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন ফার্নার জানিয়েছেন, গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য, কেনাকাটার ইতিহাস, আয় বা কোনো পণ্যের জন্য তিনি কত টাকা দিতে রাজি হতে পারেন, এসব তথ্য ব্যবহার করে আলাদা আলাদা দাম নির্ধারণ করবে না ওয়ালমার্ট।   শুক্রবার ওয়ালমার্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ফার্নার বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ‘ব্যক্তির পরিচয় নয়, পণ্যের মূল্য’ নির্ধারণের নীতিতে থাকবে। তার ভাষ্য, কে পণ্যটি কিনছেন বা দিনের কোন সময়ে কিনছেন, তার ওপর ভিত্তি করে একই পণ্যের জন্য আলাদা দাম নেওয়া হবে না।   ওয়ালমার্টের দোকানগুলোতে কাগজের মূল্যতালিকার পরিবর্তে ধীরে ধীরে ছোট ডিজিটাল পর্দা বা ডিজিটাল শেলফ লেবেল বসানো হচ্ছে। এসব পর্দায় পণ্যের দাম দেখানো হয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে দাম পরিবর্তন করা যায়। প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গ্রাহক ও ভোক্তা অধিকারকর্মীর মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যক্তিভেদে পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হতে পারে কি না।   ওয়ালমার্ট অবশ্য বলছে, ডিজিটাল শেলফ লেবেলের কাজ শুধু পণ্যের দাম প্রদর্শন করা। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব লেবেল গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে না, তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে না এবং নিজেরা পণ্যের দাম নির্ধারণও করে না। অনুমোদিত মূল্য পরিবর্তন কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে করা হয় এবং দোকানের তাকের দাম ও ক্যাশ কাউন্টারে নেওয়া দাম একই রাখাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।   ফার্নার আরও জানিয়েছেন, ওয়ালমার্টের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটা সহকারী ‘স্পার্কি’র ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। গ্রাহক স্পার্কির সঙ্গে কী তথ্য শেয়ার করছেন বা তার কেনাকাটার ইতিহাস কী, সেসবের ভিত্তিতে বেশি দাম নেওয়া হবে না। একইভাবে কোনো গ্রাহকের প্রয়োজনের সঙ্গে মেলে এমন কম দামের পণ্য গোপন করার জন্যও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।   ডিজিটাল মূল্যতালিকার ব্যবহার ওয়ালমার্টে দ্রুত বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানটি মার্চে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ হাজার ৩০০টি ওয়ালমার্ট শাখায় তখন এই প্রযুক্তি চালু ছিল এবং আগামী এক বছরের মধ্যে পুরো মার্কিন শাখা নেটওয়ার্কে এটি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   ওয়ালমার্টের মতে, কাগজের লেবেল বদলানোর পরিবর্তে ডিজিটাল লেবেল ব্যবহারে কর্মীদের সময় সাশ্রয় হচ্ছে। নতুন পণ্য আসা, ছাড়ের দাম পরিবর্তন বা বিশেষ মূল্য নির্ধারণের মতো ক্ষেত্রে কর্মীদের হাতে হাতে হাজার হাজার কাগজের লেবেল বদলাতে হয় না। ফলে দোকানের তাকের দাম দ্রুত হালনাগাদ করা এবং ক্যাশ রেজিস্টারে থাকা দামের সঙ্গে মিল রাখা সহজ হচ্ছে।   তবে বিষয়টি সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রক পর্যায়েও আলোচনা চলছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে কোনো গ্রাহক একটি পণ্যের জন্য কত টাকা দিতে রাজি হতে পারেন, সেই ধারণার ভিত্তিতে দাম নির্ধারণের বিষয়ে একটি প্রস্তাবিত নীতিমালা প্রকাশ করে। কমিশন বলেছে, কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে দাম নির্ধারণ করলে এবং সে বিষয়টি গ্রাহকদের কাছে যথাযথভাবে প্রকাশ না করলে তা ভোক্তা সুরক্ষা আইনের আওতায় প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।   এফটিসি অবশ্য বলেছে, সব ধরনের ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ নিষিদ্ধ করার আইনগত ক্ষমতা তাদের নেই। তবে বিভ্রান্তিকর বা অন্যায্যভাবে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন প্রয়োগ করা হতে পারে। আগস্টে প্রকাশিত প্রস্তাবের ওপর জনমত নেওয়ার সময়সীমাও পরে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।   এই পরিস্থিতিতে ওয়ালমার্টের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের উদ্দেশে দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে প্রতিষ্ঠানটির ডিজিটাল মূল্যব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফার্নারের বক্তব্য অনুযায়ী, বাজার পরিস্থিতির কারণে পণ্যের দাম কমতে বা বাড়তে পারে। কোনো পণ্য কম দামে সংগ্রহ করা গেলে ওয়ালমার্ট সেই সাশ্রয় গ্রাহকদের দিতে পারে। আবার পণ্য সংগ্রহ বা পরিবহনের খরচ বেড়ে গেলে দামও বাড়তে পারে। তবে ব্যক্তিগত গ্রাহকের তথ্য বা তার অর্থ দেওয়ার সক্ষমতার ভিত্তিতে একই পণ্যের জন্য আলাদা দাম নেওয়া হবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।   সূত্র: ওয়ালমার্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ওয়ালমার্টে হামলার সময় নজরদারি ক্যামেরায় কিশোরীর বাবা-মা
মেয়ের সঙ্গে বাগ বি তণ্ডার জেরে বৃদ্ধকে পি টিয়ে হ ত্যার অভিযোগ বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার নরফোকে ওয়ালমার্টের ভেতরে শপিং কার্ট নিয়ে বাগ বি তণ্ডার জেরে ৭৭ বছরের এক ক্রেতাকে পি টিয়ে হ ত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক কিশোরী কর্মীর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। নি হত ওই ব্যক্তির নাম বার্ট আতিয়েঞ্জা। ঘটনার একদিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃ ত্যু হয়।   ঘটনাটি ঘটে গত ৭ জুন। স্ত্রী জোসেফিন আতিয়েঞ্জাকে নিয়ে চার্চ থেকে ফেরার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে ওয়ালমার্টে গিয়েছিলেন বার্ট। সেখানে ১৭ বছর বয়সী এক কর্মী দ্রুতগতিতে শপিং কার্ট নিয়ে যাওয়ার সময় জোসেফিনকে প্রায় ধা ক্কা দিতে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেন বার্ট। জোসেফিনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে ওই কর্মীর সঙ্গে বার্টের কিছুক্ষণ কথা কা টা কাটি হয়। তিনি কর্মীকে বলেন, কার্ট দিয়ে তার স্ত্রীকে প্রায় ধা ক্কা দেওয়া হলেও সে ক্ষমা চায়নি। এরপর ওই কিশোরী একটি ক্যান ছুড়ে মারে বলে অভিযোগ করেন জোসেফিন। পরে তিনি তার বাবা-মাকে ফোন করে ঘটনাটি জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর কিশোরীর বাবা ট্রাভিস ল্যাথান হোয়াইট ও মা এরিকা ল্যাট্রিস মিচেল ওয়ালমার্টের ভেতরে ওই দম্পতিকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে দোকানের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীর অংশের একটি আইলে বার্টের ওপর হা ম লা করা হচ্ছে। জোসেফিনের দাবি, দুই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বার্টকে পেছন থেকে ধা ক্কা দেন, ধরে ফেলেন এবং ঘু ষি মা রেন। একপর্যায়ে তাকে তাকের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়া হলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এরপরও তাকে লা থি মা রা হয় বলে অভিযোগ। স্বামীকে রক্ষা করতে জোসেফিন তাদের থামতে অনুরোধ করেন। হা ম লার পর বার্ট কিছুক্ষণ কথা বলতে পারছিলেন। স্ত্রীকে তিনি সাহায্যের জন্য উঠতে বলেন। কিন্তু জোসেফিন দেখতে পান, তার মুখ দিয়ে র ক্ত পড়ছে। অ্যাম্বুলেন্স আসার অপেক্ষায় থাকার সময় একপর্যায়ে বার্ট জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। গুরুতর আ হ ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, মাথায় ভোঁ তা আ ঘা তের কারণে তার মৃ ত্যু হয়েছে। পরে তার মৃ ত্যুকে হ ত্যা কাণ্ড হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। পুলিশ ট্রাভিস হোয়াইট ও এরিকা মিচেলকে গ্রে প্তার করে। শুরুতে তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর আ ক্র মণ, দলবদ্ধভাবে হা ম লা এবং অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। পরে আদালতের নথি অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হ ত্যার অভিযোগও যুক্ত করা হয়। তারা জা মি ন ছাড়াই নরফোক কারাগারে আ ট ক রয়েছেন। তবে অভিযুক্তদের আইনজীবী অভিযোগের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তার দাবি, মেয়ের ফোন পেয়ে বাবা-মা তাকে নিরাপদ রাখতে ওয়ালমার্টে গিয়েছিলেন এবং ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। পরিস্থিতি আবেগের বশে হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলেও দাবি করেন তিনি। আইনজীবীর মতে, হা ম লার ঘটনা ঘটলেও সেটি হ ত্যার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল—এমন প্রমাণ নেই। এদিকে ওই কিশোরীও গ্রে প্তার হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হা ম লা ও মা র ধ র, গুরুতর হা ম লা এবং অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। বয়স কম হওয়ায় কর্তৃপক্ষ তার নাম প্রকাশ করেনি। বর্তমানে সে নরফোকের একটি কিশোর আ ট ক কেন্দ্রে রয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ওয়ালমার্টে হামলার শিকার হয়ে নিহত ৭৭ বছর বয়সী ক্রেতা বার্ট আতিয়েনজা (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
ওয়ালমার্টে শপিং কার্ট নিয়ে তর্কের জেরে কর্মীর বাবা-মায়ের মারধরে ৭৭ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার নরফোকের একটি ওয়ালমার্টে শপিং কার্ট নিয়ে এক কিশোরী কর্মীর সঙ্গে তর্কের জেরে ৭৭ বছর বয়সী এক ক্রেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ওই কর্মীর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। নিহত বার্ট আতিয়েনজা ৭ জুন ২০২৬ দোকানে হামলার শিকার হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হন এবং পরদিন মারা যান। মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয় তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে মাথায় ভোঁতা আঘাত এবং মৃত্যুর ধরন হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে।    ঘটনাটি ঘটে নরফোকের একটি ওয়ালমার্টে। সেদিন চার্চ থেকে স্ত্রী জোসেফিন আতিয়েনজাকে নিয়ে বাজার করতে গিয়েছিলেন বার্ট। জোসেফিনের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৭ বছর বয়সী এক নারী কর্মী ভারী শপিং কার্ট নিয়ে যাওয়ার সময় তার খুব কাছ দিয়ে যান এবং প্রায় তাকে ধাক্কা দিচ্ছিলেন। এ ঘটনায় বার্ট ওই কর্মীর কাছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন এবং কেন তিনি ক্ষমা চাননি, তা জানতে চান।    জোসেফিনের দাবি, এ সময় বার্ট ও ওই কর্মীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তারা সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় কিশোরী কর্মী তাদের দিকে একটি ক্যান ছুড়ে দেন। সেটি তাদের গায়ে লাগেনি। এরপর দম্পতি আবার কেনাকাটা করতে থাকেন।   কিছুক্ষণ পর ওই কিশোরীর বাবা-মা ওয়ালমার্টে এসে বার্টের মুখোমুখি হন বলে জোসেফিন জানিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুজন বার্টকে ঘিরে ধরে আঘাত করেন। তিনি মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাকে লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ করেন জোসেফিন। ঘটনাটির কিছু অংশ দোকানের নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়ে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।    হামলার পর বার্টকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্ত্রী জোসেফিন জানিয়েছেন, প্রথমে তিনি স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে পারছিলেন। পরে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ জুন তার মৃত্যু হয়। মেডিকেল পরীক্ষকের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে মাথায় ভোঁতা আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।    ঘটনার পর ৪২ বছর বয়সী এরিকা মিচেল ও ৪৪ বছর বয়সী ট্রাভিস হোয়াইটকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। দুজনকেই জামিন ছাড়া হেফাজতে রাখা হয়েছে। শুরুতে তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর হামলা ও অপরাধে ষড়যন্ত্রসহ অন্যান্য অভিযোগ ছিল, পরে বার্টের মৃত্যুর পর হত্যার অভিযোগ যুক্ত করা হয়।    ওই ১৭ বছর বয়সী কিশোরীর বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অ্যাসল্ট অ্যান্ড ব্যাটারি, অ্যাগ্রাভেটেড ম্যালিশাস ওয়াউন্ডিং এবং একটি অপরাধ সংঘটনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। বয়সের কারণে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি এবং তাকে কিশোর আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।    তবে অভিযুক্ত দম্পতির আইনজীবী বলেছেন, তারা আগে থেকে কাউকে হত্যা করার পরিকল্পনা নিয়ে ওয়ালমার্টে যাননি। আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, মেয়ের ফোন পাওয়ার পর তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তারা সেখানে গিয়েছিলেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হামলায় রূপ নেয়। মামলায় অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।    বার্টের স্ত্রী জোসেফিন জানিয়েছেন, ৪২ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর স্বামীর এমন মৃত্যু তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। একটি সাধারণ বাজারের সময় শুরু হওয়া বিরোধ কীভাবে প্রাণঘাতী ঘটনায় রূপ নিল, সেটিই এখন মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
শিক্ষার্থীদের সাহায্য করতে স্কুল ছুটির পর ওয়ালমার্টে রাতভর কাজ করতেন সাউথ ক্যারোলিনার এক হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল। ছবি: সংগৃহীত
অসহায় শিক্ষার্থীদের অভাব মেটাতে রাতে ওয়ালমার্টে চাকরি, পুরো বেতন বিলিয়ে দিতেন স্কুলের প্রিন্সিপাল

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনার একটি হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল। দিনের বড় একটি সময় কাটত স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে। কিন্তু স্কুল ছুটির পর বিশ্রামে না গিয়ে রাত ১০টায় হাজির হতেন ওয়ালমার্টে। রাতভর শেলফে পণ্য সাজিয়ে সকাল ৭টা পর্যন্ত কাজ করতেন। সেই চাকরি থেকে পাওয়া অর্থ নিজের জন্য নয়, খরচ করতেন আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য।   মানবিক এই উদ্যোগের পেছনের মানুষটি হেনরি ডারবি। ঘটনাটি ২০২১ সালে ব্যাপক আলোচনায় আসে। সে সময় তিনি সাউথ ক্যারোলিনার নর্থ চার্লসটন হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল ছিলেন। শিক্ষার্থীদের পরিবারের আর্থিক দুর্দশা কাছ থেকে দেখেই অতিরিক্ত চাকরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।   ডারবি জানতে পেরেছিলেন, তার স্কুলের কিছু শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার খাবার, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ ও পানির বিলসহ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমনকি কোনো কোনো শিক্ষার্থীর স্থায়ীভাবে থাকার জায়গাও ছিল না। স্কুল ডিস্ট্রিক্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি এমন পরিবারের পাশে দাঁড়াতে নিজের অর্থও ব্যয় করতেন।   একপর্যায়ে ডারবি সিদ্ধান্ত নেন, সহায়তার পরিমাণ বাড়াতে হলে তাকে বাড়তি আয় করতে হবে। তাই স্থানীয় একটি ওয়ালমার্টে রাতের শিফটে কাজ নেন। সপ্তাহে তিন রাত রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত সেখানে শেলফে পণ্য সাজানোর কাজ করতেন তিনি।   রাতের শিফট শেষ করেই আবার স্কুলে ফিরতেন ডারবি। অর্থাৎ যে সময়টুকু তার ঘুম ও বিশ্রামের জন্য থাকার কথা, সেই সময়ের বড় অংশই চলে যেত দ্বিতীয় কর্মস্থলে।   ওয়ালমার্ট থেকে পাওয়া অর্থ তিনি প্রয়োজন থাকা শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সহায়তায় ব্যবহার করতেন। কারও বিল পরিশোধ, কারও খাবার কিংবা অন্য জরুরি খরচে সেই অর্থ কাজে লাগত।   প্রথমদিকে বিষয়টি গোপনই রাখতে চেয়েছিলেন ডারবি। কিন্তু ওয়ালমার্টে কাজ করার প্রথম রাতেই এক শিক্ষার্থী তাকে চিনে ফেলেন। এরপর ধীরে ধীরে তার এই উদ্যোগের কথা ছড়িয়ে পড়ে।   ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া পড়ে। ডারবির উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে আসে।   সবচেয়ে বড় চমকটি আসে ওয়ালমার্টের কাছ থেকে। কেন একজন স্কুল প্রিন্সিপাল রাতভর তাদের স্টোরে কাজ করছেন, সেই কারণ জানার পর প্রতিষ্ঠানটি নর্থ চার্লসটন হাইস্কুলকে ৫০ হাজার ডলার অনুদান দেয়। ২০২১ সালের ২৯ জানুয়ারি জাতীয় টেলিভিশনে ডারবির হাতে সেই অনুদান তুলে দেওয়া হয়।   শুধু ওয়ালমার্ট নয়, ডারবির উদ্যোগের কথা ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও বিপুল অর্থ সহায়তা আসে। স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছিল, তার উদ্যোগের ফলে স্কুলের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন স্কলারশিপও তৈরি হয়।   ডারবির এই কাজের স্বীকৃতি আসে সাউথ ক্যারোলিনা রাজ্য থেকেও। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার তাকে রাজ্যের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘অর্ডার অব দ্য পালমেটো’ প্রদান করেন।   এত সহায়তা পাওয়ার পরও ডারবি তখন জানিয়েছিলেন, তিনি ওয়ালমার্টের চাকরি ছেড়ে দিতে চান না। কারণ তার কাছে এই কাজ প্রচারের জন্য নয়, বরং প্রয়োজনের সময় শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর একটি উপায়।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রোসারির দাম বাড়তে থাকায় পরিবারের মাসিক খরচে সাশ্রয় আনতে ক্যাশব্যাক অ্যাপের ব্যবহার বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত
বাজার খরচ কমান এই ৪ অ্যাপে, ওয়ালমার্টে মিলতে পারে ক্যাশব্যাক

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রোসারির দাম বাড়তে থাকায় পরিবারের মাসিক বাজেটে চাপও বাড়ছে। জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত এক বছরে বাসায় খাওয়ার জন্য কেনা খাবারের দাম ২.৭ শতাংশ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়ালমার্টসহ বিভিন্ন গ্রোসারি স্টোরে ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট পাওয়ার কয়েকটি অ্যাপ কাজে আসতে পারে। তবে কোনো অ্যাপ ব্যবহার করলেই বাজারের মোট খরচে নিশ্চিতভাবে ৩০ শতাংশ বা মাসে ১০০ থেকে ২০০ ডলার সাশ্রয় হবে, এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। সাশ্রয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে পণ্য, অফার, স্টোর ও লোকেশনের ওপর।   আইবটা যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত ক্যাশব্যাক প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি আইবটা। ওয়ালমার্টসহ বিভিন্ন রিটেইলারে নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর ক্যাশব্যাক অফার পাওয়া যায়।   ব্যবহারকারী প্রথমে অ্যাপে নিজের পছন্দের স্টোর নির্বাচন করে কেনাকাটার আগে যোগ্য অফারগুলো অ্যাকাউন্টে যোগ করতে পারেন। এরপর নির্ধারিত পণ্য কিনলে রিসিট সাবমিট করে ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়। কিছু স্টোরে লয়্যালটি অ্যাকাউন্ট যুক্ত থাকলে রিসিট আপলোডের প্রয়োজনও হয় না।   ওয়ালমার্টের ক্ষেত্রেও আইবটা অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ওয়ালমার্ট অ্যাকাউন্ট যুক্ত করা যায়। ইন স্টোর, পিকআপ ও ডেলিভারির যোগ্য কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।   তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম রয়েছে। একই পণ্যের একই অফার আইবটা ও ওয়ালমার্ট ক্যাশ উভয় জায়গায় যোগ করলে দ্বিগুণ ক্যাশব্যাক পাওয়া যায় না। একই অফার একবারই রিডিম করা যায়।   ফ্ল্যাশফুড খাবারের খরচ কমানোর আরেকটি উপায় ফ্ল্যাশফুড। এটি প্রচলিত রিসিট ক্যাশব্যাক অ্যাপের চেয়ে কিছুটা আলাদা। অংশগ্রহণকারী গ্রোসারি স্টোরগুলো যেসব খাবার দ্রুত বিক্রি করতে চায়, বিশেষ করে মেয়াদ ঘনিয়ে আসা বা অতিরিক্ত মজুত থাকা খাবার, সেগুলো অ্যাপের মাধ্যমে ডিসকাউন্টে বিক্রি করা হয়।   ব্যবহারকারী অ্যাপে কাছের অংশগ্রহণকারী স্টোরের পণ্য দেখতে পারেন, অ্যাপেই পেমেন্ট করে পরে নির্ধারিত স্টোর থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত দামের তুলনায় বড় ছাড় পাওয়া যায়।   এ ব্যবস্থার আরেকটি উদ্দেশ্য খাবারের অপচয় কমানো। তবে কোন স্টোরে কী পণ্য এবং কত শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে, তা প্রতিদিন পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে এটিকে নির্দিষ্ট মাসিক সাশ্রয়ের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।   চেকআউট ৫১ চেকআউট ৫১ মূলত রিসিটভিত্তিক ক্যাশব্যাক অ্যাপ। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সপ্তাহে গ্রোসারি, দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্য এবং কিছু ক্ষেত্রে গ্যাসের নতুন অফার প্রকাশ করা হয়।   ব্যবহারকারী কেনাকাটার আগে অ্যাপে অফার নির্বাচন করেন। পণ্য কেনার পর রিসিটের পরিষ্কার ছবি আপলোড করতে হয়। রিসিট যাচাই হওয়ার পর যোগ্য অফারের ক্যাশব্যাক অ্যাকাউন্টে জমা হয়।   বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অফার সাধারণত রোববার থেকে শুরু হয় এবং পরবর্তী শনিবার পর্যন্ত থাকে। অফার সীমিত সংখ্যায় থাকতে পারে। তাই বাজারে যাওয়ার আগে অফারটি তখনো চালু আছে কি না দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   চেকআউট ৫১ অ্যাকাউন্টে ক্যাশব্যাক ২০ ডলারে পৌঁছালে তা তোলার সুযোগ রয়েছে।   ওয়ালমার্ট ক্যাশ ওয়ালমার্টের নিজস্ব ওয়ালমার্ট ক্যাশ ব্যবস্থাও সরাসরি ব্যবহার করা যায়। এটি সাধারণ ক্যাশব্যাক ক্রেডিট কার্ড নয়। নির্দিষ্ট ম্যানুফ্যাকচারার অফার নির্বাচন করে যোগ্য পণ্য কিনলে ওয়ালমার্ট ক্যাশ পাওয়া যায়।   ওয়ালমার্ট অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্টের ভেতর থেকে যোগ্য পণ্য ও অফার দেখা যায়। অফার নির্বাচন করার পর সংশ্লিষ্ট পণ্য কিনলে সেই অর্থ ওয়ালমার্ট ক্যাশ ব্যালেন্সে যোগ হয়।   জমা হওয়া ওয়ালমার্ট ক্যাশ পরবর্তী ইন স্টোর বা অনলাইন কেনাকাটায় ব্যবহার করা যায়। ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, কমপক্ষে ২৫ ডলার জমলে নির্দিষ্ট শর্তে ওয়ালমার্ট স্টোরের মানিসেন্টার বা কাস্টমার সার্ভিস ডেস্ক থেকে নগদ অর্থ হিসেবেও নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   তবে একটি প্রচলিত তথ্য এখানে সংশোধন করা প্রয়োজন। ওয়ালমার্টের স্পার্ক ড্রাইভার প্ল্যাটফর্মকে সাধারণ ক্রেতাদের ক্যাশব্যাক প্রোগ্রাম হিসেবে ধরা ঠিক নয়। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য প্রাসঙ্গিক ব্যবস্থা হলো ওয়ালমার্ট ক্যাশ ও সংশ্লিষ্ট ম্যানুফ্যাকচারার অফার।   অ্যালডি নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। অ্যালডির যুক্তরাষ্ট্রের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি সাধারণভাবে অনলাইন বা ডিজিটাল কুপন দেয় না। অনলাইনে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া তথাকথিত অ্যালডি কুপনকে প্রতিষ্ঠানটি বৈধ কুপন হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। বিশেষ কোনো স্টোর উদ্বোধন বা আঞ্চলিক প্রচারণায় সীমিত কুপন দেওয়া হতে পারে।   তাই অ্যালডির নিজস্ব অ্যাপে নিয়মিত ডিজিটাল কুপন পাওয়া যায় এমন ধারণা সঠিক নয়। অ্যালডিতে সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে মূলত তাদের সাপ্তাহিক অফার, কমদামের পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় উপলব্ধ বৈধ তৃতীয় পক্ষের সেবা বিবেচনা করতে হবে।   একই কেনাকাটায় একাধিক অ্যাপ ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সব ক্যাশব্যাক অফার একসঙ্গে ব্যবহার করা যায় না। বিশেষ করে আইবটা ও ওয়ালমার্ট ক্যাশে একই ম্যানুফ্যাকচারার অফার দুবার নেওয়ার সুযোগ নেই। চেকআউট ৫১-ও প্রতিটি রিসিট একবার ব্যবহারের নিয়ম দিয়েছে।   সাশ্রয়ের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বাজারে যাওয়ার আগে অ্যাপগুলোতে সেই সপ্তাহের অফার দেখা, প্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্গে অফার মিলিয়ে নেওয়া এবং শুধু ক্যাশব্যাক পাওয়ার জন্য অপ্রয়োজনীয় পণ্য না কেনা।   কোনো একটি অ্যাপ বা পদ্ধতিতে সবার জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের সাশ্রয় নিশ্চিত নয়। তবে নিয়মিত কেনা পণ্যের সঙ্গে ক্যাশব্যাক বা ডিসকাউন্ট মিলিয়ে ব্যবহার করতে পারলে বছরজুড়ে গ্রোসারি খরচের একটি অংশ কমানো সম্ভব।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে ওয়ালমার্টের টমেটো সুপ প্রত্যাহার
লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে ওয়ালমার্টের টমেটো সুপ প্রত্যাহার

যুক্তরাষ্ট্রে লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকির কারণে মেরিল্যান্ডভিত্তিক একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্টে বিক্রি হওয়া ৩ হাজার ২৪০টি টমেটো সুপ কিট বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) জারি করা এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, গত ৩০ জুন থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে দেশটির ২৯টি অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন ওয়ালমার্ট স্টোরে এই সুপ কিটগুলো সরবরাহ করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে ওয়ালমার্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   সুপ কিটগুলোর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেটল কুইজিন’ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এই পণ্যটি খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়েছেন এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা অভিযোগ তারা পায়নি। তবে নিয়মিত ল্যাব পরীক্ষার সময় পণ্যটিতে লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ধরা পড়ার পরপরই তারা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এটি বাজার থেকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।   চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, লিস্টেরিয়া এমন এক ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, যা খাবারে বিষক্রিয়া ঘটিয়ে মানুষকে গুরুতর অসুস্থ করে তুলতে পারে। এই ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হলে রোগীর তীব্র মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা এবং ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।   ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে এফডিএ জানিয়েছে, যারা ইতিমধ্যে এই সুপ কিটটি কিনেছেন, তাদের পণ্যটি স্পর্শ করার পর খুব ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। এমনকি পণ্যটি রান্নাঘর বা রেফ্রিজারেটরের যেসব পৃষ্ঠের সংস্পর্শে এসেছে, সেগুলোও দ্রুত জীবাণুমুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   গ্রাহকদের এই সুপ কিটটি অবিলম্বে ফেলে দিতে অথবা মূল্য ফেরতের জন্য নিকটস্থ ওয়ালমার্ট স্টোরে জমা দিতে বলা হয়েছে। সতর্কবার্তায় এফডিএ বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, কেবল গন্ধ বা বাহ্যিক রূপ দেখে পণ্যটি নিরাপদ কি না, তা কোনোভাবেই বিচার করা উচিত নয়।   প্রত্যাহার করা ১৪ আউন্স ওজনের এই টমেটো সুপ কিটগুলো মূলত 'মার্কেটসাইড' ব্র্যান্ডের। এগুলোর প্যাকেটের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ হিসেবে ২২ আগস্ট লেখা রয়েছে এবং এর প্রোডাক্ট কোড হলো ১৯৪৩৪৬৪৭৪০০৪। যুক্তরাষ্ট্রের যে ২৯টি অঙ্গরাজ্যে এই পণ্যটি সরবরাহ করা হয়েছিল, তার মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক, টেক্সাস, পেনসিলভানিয়া, ওহিও, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড, নিউজার্সি, কলোরাডো, নর্থ ক্যারোলিনা, জর্জিয়া ও ইলিনয় অন্যতম।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ওয়ালমার্ট  ছবি: সংগৃহীত
ওয়ালমার্টে অসাবধানতাবশত গুলির ঘটনা, গ্রেপ্তার দুজন

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ক্লেটন কাউন্টির একটি ওয়ালমার্ট স্টোরে অসাবধানতাবশত গুলি ছোড়ার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও এতে কেউ গুরুতর আহত হননি।    পুলিশ জানায়, স্টোরের ভেতরে একটি আগ্নেয়াস্ত্র থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে গুলি ছুটে যায়। পরে তদন্তে অস্ত্র বহনে অবহেলা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং স্টোরটি সাময়িকভাবে নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত ক্রেতাদের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়।    প্রাথমিক তদন্তে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, অস্ত্রটি নিরাপদভাবে বহন করা হচ্ছিল না। গুলি ছোড়ার ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত নয় বলে মনে হলেও কীভাবে অস্ত্র থেকে গুলি বেরিয়ে গেল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও সংগ্রহ করছে পুলিশ।    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনসমাগমপূর্ণ স্থানে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবহেলার কারণে এ ধরনের ঘটনা বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।    তদন্ত শেষ হলে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
পণ্যে ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ লেবেল নিয়ে অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্যের অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত
মেড ইন ইউএসএ দেখলেই কি সত্যিই আমেরিকায় তৈরি? অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্যের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে কেনাকাটার সময় কোনো পণ্যে ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ লেখা দেখেই অনেক ক্রেতা ধরে নেন সেটি দেশেই উৎপাদিত হয়েছে। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটার সহকারীরা ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ দাবির অসঙ্গতি শনাক্ত করতে পারলেও সেই তথ্য ক্রেতাদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে না। এতে ভোক্তারা পণ্যের প্রকৃত উৎপত্তি সম্পর্কে বিভ্রান্ত হতে পারেন বলে গবেষকদের আশঙ্কা।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলাম্বিয়া ল স্কুলের সেন্টার ফর ল অ্যান্ড দ্য ইকোনমি প্রকাশিত এক গবেষণায় অ্যামাজনের ‘অ্যালেক্সা শপিং সহকারী’ এবং ওয়ালমার্টের ‘স্পার্কি’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটার সহকারীর কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণার নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সাবেক চেয়ার লিনা খান। গবেষণায় বলা হয়েছে, দুটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের উৎপত্তি-সংক্রান্ত অসঙ্গতি শনাক্ত করতে সক্ষম হলেও সেই তথ্য ব্যবহার করে ক্রেতাদের সতর্ক করার পরিবর্তে প্রায়ই নিরপেক্ষ বা এড়িয়ে যাওয়ার মতো উত্তর দেয়।   গবেষকদের দাবি, এর ফলে যেসব ক্রেতা সচেতনভাবে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্য কিনতে চান, তারা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। বিশেষ করে অনলাইনে কেনাকাটায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকায় এ ধরনের তথ্য উপস্থাপনের ধরন ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।   গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশ্ন করার ধরন পরিবর্তন করলে একই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিন্ন ধরনের উত্তর দিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্যের তালিকা জানতে চাইলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জানায় যে তাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। কিন্তু একই প্রশ্ন অন্যভাবে করলে সেই ব্যবস্থাই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্যের তথ্য দেখাতে সক্ষম হয়। গবেষকদের মতে, এটি তথ্যের অভাব নয়; বরং তথ্য উপস্থাপনের পদ্ধতির সমস্যা নির্দেশ করে।   অ্যামাজনের পক্ষ থেকে গবেষণার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রস্তুতকারক বা তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতারা উৎপত্তি-সংক্রান্ত তথ্য দিলে তা পণ্যের তথ্য পাতায় প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি গ্রাহকদের কাছে এসব তথ্য আরও সহজে পৌঁছে দিতে তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটার সেবার উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে ওয়ালমার্ট তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ লেবেল নিয়ে দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরদারি নতুন নয়। ২০২৫ সালে ফেডারেল ট্রেড কমিশন অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টকে চিঠি দিয়ে তাদের অনলাইন বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতাদের বিভ্রান্তিকর ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ দাবির বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়। কমিশন জানায়, কোনো পণ্যকে ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ হিসেবে প্রচার করতে হলে সেটি ‘সম্পূর্ণ বা কার্যত সম্পূর্ণ’ যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হতে হবে। অন্যথায় এমন দাবি ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অনলাইন কেনাকাটায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যত বাড়বে, এই প্রযুক্তি কোন তথ্য ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরবে আর কোন তথ্য আড়াল করবে, সেটিও ভোক্তা অধিকার ও বাজারের স্বচ্ছতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে। ফলে ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটার প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য উপস্থাপন নিয়েও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরদারি আরও বাড়তে পারে।

তাবাস্সুম জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ওয়ালমার্টের নামে ভুয়া ফোনকল দিয়ে গ্রাহকদের লক্ষ্য করছে প্রতারক চক্র। ছবি: সংগৃহীত
ওয়ালমার্টের নামে ভুয়া রোবো কল, ৯০০ ডলার চুরির নতুন ফাঁদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ওয়ালমার্টের গ্রাহকদের লক্ষ্য করে নতুন ধরনের একটি ফোনভিত্তিক প্রতারণার ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে। ভুয়া স্বয়ংক্রিয় ফোনকলের মাধ্যমে গ্রাহকদের জানানো হচ্ছে, তাদের নামে ওয়ালমার্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ৯১৯ দশমিক ৪৫ ডলারের একটি কেনাকাটা হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো ভয় দেখিয়ে ব্যক্তিগত ও ব্যাংকিং তথ্য হাতিয়ে নেওয়া।   ভোক্তা সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রতারকরা স্বয়ংক্রিয় কণ্ঠে একটি বার্তা শোনায়। সেখানে দাবি করা হয়, গ্রাহকের নামে একটি প্লেস্টেশন ৫ এবং একটি থ্রিডি হেডসেট কেনা হয়েছে, যার মূল্য ৯১৯ দশমিক ৪৫ মার্কিন ডলার। বার্তায় আরও বলা হয়, যদি গ্রাহক এই কেনাকাটা না করে থাকেন, তাহলে অর্ডার বাতিল করতে নির্দিষ্ট একটি নম্বর চাপতে বা একই নম্বরে দ্রুত যোগাযোগ করতে হবে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বার্তার উদ্দেশ্য হলো বড় অঙ্কের অর্থের কথা বলে আতঙ্ক সৃষ্টি করা, যাতে গ্রাহক তাড়াহুড়ো করে প্রতারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (FCC) আগেই এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। সংস্থাটির মতে, ফোনে যোগাযোগ করার পর প্রতারকরা নিজেদের ওয়ালমার্টের সহায়তা কেন্দ্রের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ব্যাংক হিসাব, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে।   এছাড়া নিউ জার্সি সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ইন্টিগ্রেশন সেল (NJCCIC) ২০২৫ সালের এক সতর্কবার্তায় জানায়, অনেক ক্ষেত্রে প্রতারকরা অর্ডার বাতিল বা অর্থ ফেরতের কথা বলে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারে দূর থেকে প্রবেশাধিকার (রিমোট অ্যাকসেস) চায়। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, কেউ যদি এমন প্রবেশাধিকার দিয়ে দেন, তাহলে প্রতারকরা ক্ষতিকর সফটওয়্যার ইনস্টল করতে, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে বা পরে অর্থ দাবি করে ব্ল্যাকমেইল করতেও পারে। কিছু ক্ষেত্রে ভুয়া অর্থ ফেরতের অজুহাতে উপহার কার্ড কিনতেও বলা হয়।   প্রতারণার এই কৌশল নতুন নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিট-এ কয়েক বছর ধরেই একই ধরনের ফোনকল পাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন অনেক ব্যবহারকারী। ২০২৪ সালের একটি পোস্টে এক ব্যক্তি জানান, তার বয়স্ক বাবা প্রায় এই প্রতারণার শিকার হতে বসেছিলেন। তিনি অন্যদেরও পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের এ ধরনের ফোনকল সম্পর্কে সচেতন রাখার পরামর্শ দেন।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ফোনকল পেলে কখনোই আতঙ্কিত হয়ে কলব্যাক করা উচিত নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে সন্দেহজনক কেনাকাটার দাবি করা হলে, প্রথমে ওই প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করে তথ্য যাচাই করা উচিত। ওয়ালমার্টের ক্ষেত্রেও গ্রাহকদের সরাসরি নিজেদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে কেনাকাটার ইতিহাস পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক ফোনকল, বার্তা বা ই-মেইলে দেওয়া নম্বর বা লিংক ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।   বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন ও টেলিফোনভিত্তিক প্রতারণা দ্রুত বাড়ছে। তাই ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক হিসাবের বিবরণ, একবার ব্যবহারযোগ্য পাসকোড (ওটিপি) কিংবা কোনো ধরনের দূরবর্তী প্রবেশাধিকার অপরিচিত ব্যক্তির কাছে না দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
সুপারমার্কেট. ছবি: সংগৃহীত
কম খরচের তালিকায় ওয়ালমার্ট-আলডিকে ছাড়িয়ে গেল যে সুপারমার্কেট!

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় দুই খুচরা বিক্রেতা ওয়ালমার্ট ও আলডিকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে সাশ্রয়ী মুদি পণ্যের চেইন হিসেবে উঠে এসেছে ক্রোগার। স্টোর ব্র্যান্ডের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তুলনা করে করা এক সাম্প্রতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ২৯-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেস্তোরাঁ ইকুইপমেন্ট ও রিটেইল বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান রেস্টুরেন্ট ফার্নিচার প্লাস চারটি বড় সুপারমার্কেট চেইনের নিজস্ব ব্র্যান্ডের ১৫টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তুলনা করে এ গবেষণা পরিচালনা করে। এতে দুধ, ডিম, রুটি, মুরগির মাংস, চিনি, স্প্যাগেটি, টমেটোসহ দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন পণ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।    গবেষণায় দেখা যায়, একই ধরনের ১৫টি পণ্যের ঝুড়ির মোট দাম ক্রোগারে ছিল ৩০ ডলার, যা চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই তালিকার পণ্যের জন্য ওয়ালমার্টে খরচ হয় ৩০ দশমিক ৯৫ ডলার, আলডিতে ৩৩ দশমিক ১৫ ডলার এবং অ্যালবার্টসন্সে ৩৫ দশমিক ৫৮ ডলার।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫টি পণ্যের মধ্যে ১০টির ক্ষেত্রেই সবচেয়ে কম দাম ছিল ক্রোগারের। বিশেষ করে ডিম, চিনি, স্প্যাগেটি ও ক্যানজাত টমেটোর মতো প্রয়োজনীয় পণ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় কম মূল্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে দুগ্ধজাত কিছু পণ্যে আলডি প্রতিযোগিতামূলক দাম দিলেও সামগ্রিক হিসাবে শীর্ষে থাকতে পারেনি।    গবেষণায় কস্টকো, ট্রেডার জো’স, এইচ-ই-বি ও পিগলি উইগলির মতো কিছু খুচরা বিক্রেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কারণ হিসেবে সদস্যভিত্তিক কেনাকাটার ব্যবস্থা, পণ্যের প্রাপ্যতা ও ভিন্ন ব্যবসায়িক মডেলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।    মার্কিন বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কোন সুপারমার্কেটে তুলনামূলক কম খরচে কেনাকাটা করা সম্ভব, তা নিয়ে ভোক্তাদের আগ্রহও বেড়েছে। সর্বশেষ এই গবেষণায় সেই দিক থেকেই ক্রোগারকে সবচেয়ে সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
প্রাণ হারালেন যুদ্ধফেরত মার্কিন সেনাসদস্য I ছবি: সংগৃহীত
পার্কিং লটে বাকবিতণ্ডা থেকে গুলি, প্রাণ হারালেন যুদ্ধফেরত মার্কিন সেনাসদস্য

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ওয়ালমার্টের পার্কিং লটে গাড়ি রাখা নিয়ে বিতণ্ডার জেরে গুলিতে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে ব্রোওয়ার্ড কাউন্টির নর্থ লডারডেলে অবস্থিত ওয়ালমার্ট স্টোরের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ব্রোওয়ার্ড শেরিফ অফিস (বিএসও) জানিয়েছে, পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে এক নারীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হন বার্ট ডিগুগলিয়েলমো নামের ওই ব্যক্তি।   বিএসও-এর দেওয়া তথ্যমতে, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার ঠিক আগে নর্থ লডারডেলের ৭৯০০ ওয়েস্ট ম্যাকনাব রোডের ওয়ালমার্ট থেকে ৯১১ নম্বরে কল করে গোলাগুলির খবর জানানো হয়। খবর পেয়ে শেরিফ কার্যালয়ের সদস্য ও ফায়ার রেসকিউ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে তারা বার্টকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ব্রোওয়ার্ড হেলথ মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা দখলকে কেন্দ্র করেই মূলত বার্টের সঙ্গে ওই অজ্ঞাত নারীর কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং এর জেরেই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার পর অভিযুক্ত নারী পালিয়ে যাননি। তিনি ঘটনাস্থলেই অবস্থান করেন এবং তদন্তকারী গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী দাবি করেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তিনি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষার্থেই গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।   এদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন ঘটনায় ওয়ালমার্টে আসা সাধারণ ক্রেতারা তীব্র বিস্ময় ও আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন। ডেভিড অ্যান্ডারসন নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ এক নারীকে তীব্র চিৎকার করে অনেক কিছু বলতে শোনেন। অন্যদিকে, নিহত বার্টের বোন এই ঘটনায় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তার ভাই ছিলেন ‘ডেজার্ট স্টর্ম’ যুদ্ধে অংশ নেওয়া একজন পদকপ্রাপ্ত সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা।   সামরিক জীবন শেষে তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে নার্স হিসেবেও মানুষের সেবা করেছেন। ভাইকে একজন ধর্মপ্রাণ ও ভালো মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বার্ট কখনো কারও ক্ষতি করতে পারেন না। ব্রোওয়ার্ড শেরিফ অফিসের গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর পুরো ঘটনার প্রতিবেদন স্টেট অ্যাটর্নি অফিসে জমা দেওয়া হবে এবং এরপরই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০