আমেরিকা

অসহায় শিক্ষার্থীদের অভাব মেটাতে রাতে ওয়ালমার্টে চাকরি, পুরো বেতন বিলিয়ে দিতেন স্কুলের প্রিন্সিপাল

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ৯:২৪
শিক্ষার্থীদের সাহায্য করতে স্কুল ছুটির পর ওয়ালমার্টে রাতভর কাজ করতেন সাউথ ক্যারোলিনার এক হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষার্থীদের সাহায্য করতে স্কুল ছুটির পর ওয়ালমার্টে রাতভর কাজ করতেন সাউথ ক্যারোলিনার এক হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনার একটি হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল। দিনের বড় একটি সময় কাটত স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে। কিন্তু স্কুল ছুটির পর বিশ্রামে না গিয়ে রাত ১০টায় হাজির হতেন ওয়ালমার্টে। রাতভর শেলফে পণ্য সাজিয়ে সকাল ৭টা পর্যন্ত কাজ করতেন। সেই চাকরি থেকে পাওয়া অর্থ নিজের জন্য নয়, খরচ করতেন আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য।

 

মানবিক এই উদ্যোগের পেছনের মানুষটি হেনরি ডারবি। ঘটনাটি ২০২১ সালে ব্যাপক আলোচনায় আসে। সে সময় তিনি সাউথ ক্যারোলিনার নর্থ চার্লসটন হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল ছিলেন। শিক্ষার্থীদের পরিবারের আর্থিক দুর্দশা কাছ থেকে দেখেই অতিরিক্ত চাকরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

 

ডারবি জানতে পেরেছিলেন, তার স্কুলের কিছু শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার খাবার, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ ও পানির বিলসহ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমনকি কোনো কোনো শিক্ষার্থীর স্থায়ীভাবে থাকার জায়গাও ছিল না। স্কুল ডিস্ট্রিক্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি এমন পরিবারের পাশে দাঁড়াতে নিজের অর্থও ব্যয় করতেন।

 

একপর্যায়ে ডারবি সিদ্ধান্ত নেন, সহায়তার পরিমাণ বাড়াতে হলে তাকে বাড়তি আয় করতে হবে। তাই স্থানীয় একটি ওয়ালমার্টে রাতের শিফটে কাজ নেন। সপ্তাহে তিন রাত রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত সেখানে শেলফে পণ্য সাজানোর কাজ করতেন তিনি।

 

রাতের শিফট শেষ করেই আবার স্কুলে ফিরতেন ডারবি। অর্থাৎ যে সময়টুকু তার ঘুম ও বিশ্রামের জন্য থাকার কথা, সেই সময়ের বড় অংশই চলে যেত দ্বিতীয় কর্মস্থলে।

 

ওয়ালমার্ট থেকে পাওয়া অর্থ তিনি প্রয়োজন থাকা শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সহায়তায় ব্যবহার করতেন। কারও বিল পরিশোধ, কারও খাবার কিংবা অন্য জরুরি খরচে সেই অর্থ কাজে লাগত।

 

প্রথমদিকে বিষয়টি গোপনই রাখতে চেয়েছিলেন ডারবি। কিন্তু ওয়ালমার্টে কাজ করার প্রথম রাতেই এক শিক্ষার্থী তাকে চিনে ফেলেন। এরপর ধীরে ধীরে তার এই উদ্যোগের কথা ছড়িয়ে পড়ে।

 

ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া পড়ে। ডারবির উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে আসে।

 

সবচেয়ে বড় চমকটি আসে ওয়ালমার্টের কাছ থেকে। কেন একজন স্কুল প্রিন্সিপাল রাতভর তাদের স্টোরে কাজ করছেন, সেই কারণ জানার পর প্রতিষ্ঠানটি নর্থ চার্লসটন হাইস্কুলকে ৫০ হাজার ডলার অনুদান দেয়। ২০২১ সালের ২৯ জানুয়ারি জাতীয় টেলিভিশনে ডারবির হাতে সেই অনুদান তুলে দেওয়া হয়।

 

শুধু ওয়ালমার্ট নয়, ডারবির উদ্যোগের কথা ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও বিপুল অর্থ সহায়তা আসে। স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছিল, তার উদ্যোগের ফলে স্কুলের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন স্কলারশিপও তৈরি হয়।

 

ডারবির এই কাজের স্বীকৃতি আসে সাউথ ক্যারোলিনা রাজ্য থেকেও। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার তাকে রাজ্যের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘অর্ডার অব দ্য পালমেটো’ প্রদান করেন।

 

এত সহায়তা পাওয়ার পরও ডারবি তখন জানিয়েছিলেন, তিনি ওয়ালমার্টের চাকরি ছেড়ে দিতে চান না। কারণ তার কাছে এই কাজ প্রচারের জন্য নয়, বরং প্রয়োজনের সময় শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর একটি উপায়।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
অ্যারিজোনার ফিনিক্সে একটি পার্কে সংঘর্ষে হামলায় নিহত হয়েছেন ১৯ বছর বয়সী তুমুসিফু বাজিরাকে। ছবি: সংগৃহীত
ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে ফুটবল মাঠে গণপিটুনি! প্রাণ গেল ১৯ বছরের তরুণের

কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার কথা ছিল মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে। স্বপ্ন ছিল একদিন ফায়ারফাইটার হওয়ার। কিন্তু অ্যারিজোনার ফিনিক্সে একটি পার্কে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একদল মানুষের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন ১৯ বছর বয়সী তুমুসিফু বাজিরাকে। ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়েই তিনি হামলার শিকার হন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।   ঘটনাটি ঘটে গত ৬ আগস্ট সন্ধ্যায় ফিনিক্সের সুয়েনো পার্কে। ফিনিক্স পুলিশ জানিয়েছে, পার্কের মাঠে ফুটবল খেলার সময় দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন মিলে বাজিরাকাকে মারধর করেন। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।   বাজিরাকার ভাই জিনপল জানিয়েছেন, খেলার ফলাফল নিয়ে প্রতিপক্ষ দলের কয়েকজন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে প্রথমে উত্তেজনা এবং পরে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকলে ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান বাজিরাকা। এরপর হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয়।   পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজিরাকাকে মাটিতে ফেলে ঘুষি ও লাথি মারা হয়। হামলার একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। তাকে নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যায় বলে পরিবারের দাবি।   রাত প্রায় ৮টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ সুয়েনো পার্কের কাছে পৌঁছে বাজিরাকাকে অচেতন অবস্থায় পায়। ফিনিক্স ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। তখন তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল।   এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর ১৩ আগস্ট মারা যান বাজিরাকা। তার মরদেহ মেরিকোপা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে পরীক্ষা চলছে।   বাজিরাকার সামনে তখন জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। ২৪ আগস্ট তার কলেজে ক্লাস শুরু করার কথা ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, পড়াশোনা নিয়ে তিনি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং ভবিষ্যতে ফায়ারফাইটার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।   ফিনিক্স পুলিশ এখন ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং কোনো সন্দেহভাজনের পরিচয়ও প্রকাশ করেনি পুলিশ।   কারা ওই রাতে মাঠে বাজিরাকার ওপর হামলা চালিয়েছিল, তা শনাক্ত করতে প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা ঘটনার বিষয়ে তথ্য থাকা ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।   একটি সাধারণ ফুটবল ম্যাচ থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ শেষ পর্যন্ত একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি নিয়ে এসেছে। যে তরুণের কয়েক দিনের মধ্যে কলেজে যাওয়ার কথা ছিল, তার পরিবারকে এখন তার শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১২:৪
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির ঘোষণা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আইসিসি প্রেসিডেন্টের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

আলাস্কার ইউএস সিনেট প্রাইমারিতে বর্তমান সিনেটর ড্যান সুলিভানকে (বামে) পেছনে ফেলে বড় চমক দেখিয়েছেন মেরি পেল্টোলা (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

আলাস্কায় দলনিরপেক্ষ সিনেট প্রাইমারিতে সুলিভানকে পেছনে ফেললেন ডেমোক্র্যাট মেরি পেল্টোলা

বিমানশিল্পে কর্মীর সংকট দূর করতে মেট্রো আটলান্টার বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের পাইলট হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

পাইলট সংকট কাটাতে আটলান্টার স্কুলে বিমানচালনা প্রশিক্ষণ

রোগীদের চিকিৎসা নথিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে হিউস্টনের সাবেক ট্রান্সপ্লান্ট চিকিৎসক ডা. জন স্টিভেনসন বাইনন জুনিয়রের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
রোগীর লিভার ট্রান্সপ্লান্ট ঠেকানোর অভিযোগ, সেই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা

হিউস্টনের সাবেক ট্রান্সপ্লান্ট চিকিৎসক ডা. জন স্টিভেনসন বাইনন জুনিয়রের বিরুদ্ধে রোগীদের চিকিৎসা নথিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ফেডারেল মামলা হয়েছে। অভিযোগ, এসব তথ্য পরিবর্তনের ফলে পাঁচজন লিভার ট্রান্সপ্লান্ট প্রার্থী কার্যত দাতা অঙ্গ পাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়েছিলেন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাইনন মেমোরিয়াল হারম্যান হেলথ সিস্টেমের টেক্সাস মেডিকেল সেন্টারে পেটের অঙ্গ প্রতিস্থাপন বিভাগের পরিচালক এবং লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের সার্জিক্যাল পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, রোগীদের লিভার ট্রান্সপ্লান্টের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখার পর তিনি তাদের চিকিৎসা নথিতে এমন তথ্য দেন, যার কারণে সম্ভাব্য দাতা অঙ্গ পাওয়ার সুযোগ ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে যায়।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, রোগী, তাদের পরিবার এবং চিকিৎসা দলের অন্য সদস্যরা এসব পরিবর্তনের বিষয়টি জানতেন না। ফলে কয়েকজন রোগী কয়েক মাস পর্যন্ত দাতা অঙ্গ পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অভিযোগে পাঁচজন রোগীর ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন পরে মারা যান। অন্য দুজন মেমোরিয়াল হারম্যানের বাইরে অন্য হাসপাতালে গিয়ে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট পান।   মামলায় বাইননের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার পাঁচটি ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে।   ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ২০২৪ সালে মেমোরিয়াল হারম্যান তাদের ট্রান্সপ্লান্ট কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। পরে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পর কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়।   এদিকে বাইনন অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার আইনজীবীদের বক্তব্য, রোগীরা তখন ট্রান্সপ্লান্টের জন্য অত্যন্ত অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত ছিল তাদের চিকিৎসার স্বার্থে নেওয়া।   ২০২৬ সালের জুনে আদালত তার বিরুদ্ধে আনা ফেডারেল অভিযোগ খারিজের আবেদন নাকচ করে দেয়। আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমে এসব অভিযোগের সত্যতা বিচার করা হবে।   তবে বাইননের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তিনি দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১০:২৩
গ্রিন কার্ড থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ নিশ্চিত হয় না বলে ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ থেকে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পরও এই ৩ ভুলে আটকে যেতে পারে নাগরিকত্ব

পাঁচ শতাধিক পেশার মানুষের মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের মধ্যে ক্যানসারে মৃত্যুর অনুপাত সবচেয়ে বেশি। ছবি: সংগৃহীত

আকাশে লুকিয়ে থাকা বিপদ, ক্যানসারে মৃত্যু ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হয়ে মিশিগান থেকে ইউএস সিনেটের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হয়েছেন আবদুল এল সাইদ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার ইতিহাস গড়তে চলেছেন এল সাইদ!

ভালোবাসার মানুষ ডনেলের জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিয়েছিলেন নিউইয়র্কের চিকিৎসক রিচার্ড বাতিস্তা। ছবি: সংগৃহীত
স্ত্রীকে বাঁচাতে দিয়েছিলেন কিডনি, ডিভোর্স চাইতেই ফেরত কিডনি চাইলেন স্বামী

ভালোবাসার মানুষটির জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিয়েছিলেন নিউইয়র্কের চিকিৎসক রিচার্ড বাতিস্তা। কিন্তু চার বছর পর স্ত্রী ডনেল বাতিস্তা ডিভোর্সের আবেদন করলে তাদের বিচ্ছেদের মামলা নেয় এক অস্বাভাবিক মোড়। স্ত্রীকে দেওয়া কিডনি ফেরত চাওয়া, তা সম্ভব না হলে এর জন্য ১৫ লাখ ডলার দাবি করেন রিচার্ড।   ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের। রিচার্ড ও ডনেল ১৯৯০ সালে বিয়ে করেন। তাদের তিন সন্তান রয়েছে। কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন ডনেল এবং এর আগে তার দুটি কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সফল হয়নি।   এরপর পরীক্ষা করে দেখা যায়, স্ত্রীর জন্য উপযুক্ত কিডনি ডোনার হতে পারেন রিচার্ড। ২০০১ সালের ১৮ জুন ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা মেডিকেল সেন্টারে নিজের একটি কিডনি স্ত্রীকে দান করেন তিনি।   সে সময় রিচার্ড জানিয়েছিলেন, তার প্রথম লক্ষ্য ছিল স্ত্রীর জীবন বাঁচানো। একই সঙ্গে তিনি আশা করেছিলেন, এই ঘটনা তাদের দাম্পত্য সম্পর্কেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।   কিন্তু কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের চার বছর পর, ২০০৫ সালের জুলাইয়ে ডিভোর্সের আবেদন করেন ডনেল। এরপর দীর্ঘ হতে থাকা ডিভোর্স প্রক্রিয়ার মধ্যে ২০০৯ সালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। রিচার্ড দাবি করেন, স্ত্রীকে দেওয়া কিডনি তাকে ফেরত দিতে হবে। সেটি সম্ভব না হলে কিডনিটির মূল্য হিসেবে ১৫ লাখ ডলার দেওয়ার দাবি তোলেন তিনি।   রিচার্ডের এই দাবি দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। প্রশ্ন ওঠে, একজন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নিজের অঙ্গ অন্য কাউকে দান করার পর সম্পর্ক ভেঙে গেলে সেই অঙ্গের ওপর কোনো মালিকানা দাবি করতে পারেন কি না।   শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি সুপ্রিম কোর্ট রিচার্ডের দাবি প্রত্যাখ্যান করে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া সিদ্ধান্তে আদালত জানায়, মানুষের অঙ্গ বা টিস্যুকে ডিভোর্সের সময় ভাগ করে নেওয়ার মতো বৈবাহিক সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।   কিডনিটির আর্থিক মূল্য নির্ধারণের দাবিও আইনি বাধার মুখে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের অঙ্গ কেনাবেচা আইনত নিষিদ্ধ। ফলে স্বেচ্ছায় দান করা কিডনিকে পরবর্তী সময়ে সম্পত্তির মতো মূল্য নির্ধারণ করে অর্থ দাবি করার সুযোগ নেই।   চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরাও কিডনি ফেরত নেওয়ার ধারণাটি বাস্তবসম্মত নয় বলে জানিয়েছিলেন। একজন সুস্থ মানুষের শরীরে কার্যকরভাবে প্রতিস্থাপিত কিডনি শুধু দাতার ব্যক্তিগত দাবির কারণে অস্ত্রোপচার করে বের করে নেওয়া রোগীর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   রিচার্ডের বক্তব্য ছিল, স্ত্রী ডিভোর্সের আবেদন করলেও কিডনি দানের সিদ্ধান্ত নিয়ে তার অনুশোচনা নেই। তবে বিচ্ছেদের সময় সেই কিডনির মূল্য বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন তিনি।   প্রায় দুই দশক পরও ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আলোচিত ডিভোর্স বিরোধগুলোর একটি হিসেবে ফিরে আসে। ভালোবাসার সম্পর্ক শেষ হয়ে যেতে পারে, কিন্তু কাউকে স্বেচ্ছায় দান করা একটি অঙ্গকে পরে সাধারণ সম্পত্তির মতো ফেরত চাওয়া বা তার দাম আদায় করা যায় না - বাতিস্তা দম্পতির আলোচিত মামলাটি সেই আইনি সীমারই একটি বিরল উদাহরণ।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ৯:১৭
বর কনে বিমান থেকে লাফ। ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ১৪ হাজার ফুট ওপরে বিয়ের শুরু, আকাশ থেকে লাফ দিয়ে নতুন জীবনে বর-কনে

কেন্টাকির লুইসভিলের বাসিন্দাআরমেল বন্ডোঙ্গা এবং টেরেন্স ব্র্যাডশকেতাদের শিশু ছবি:সংগৃহীত।

গ্রিন কার্ড ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে শিশু সন্তানের সামনেই আইসের হাতে আটক মা

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবি:সংগৃহীত।

টিকটকে মামদানিকে ট্যাগ করে দেখালেন দুই গর্ত, কাজ শেষে ফিরে দেখলেন দুটিই মেরামত

0 Comments