পার্কিং লটে বাকবিতণ্ডা থেকে গুলি, প্রাণ হারালেন যুদ্ধফেরত মার্কিন সেনাসদস্য
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ওয়ালমার্টের পার্কিং লটে গাড়ি রাখা নিয়ে বিতণ্ডার জেরে গুলিতে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে ব্রোওয়ার্ড কাউন্টির নর্থ লডারডেলে অবস্থিত ওয়ালমার্ট স্টোরের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ব্রোওয়ার্ড শেরিফ অফিস (বিএসও) জানিয়েছে, পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে এক নারীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হন বার্ট ডিগুগলিয়েলমো নামের ওই ব্যক্তি।
বিএসও-এর দেওয়া তথ্যমতে, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার ঠিক আগে নর্থ লডারডেলের ৭৯০০ ওয়েস্ট ম্যাকনাব রোডের ওয়ালমার্ট থেকে ৯১১ নম্বরে কল করে গোলাগুলির খবর জানানো হয়। খবর পেয়ে শেরিফ কার্যালয়ের সদস্য ও ফায়ার রেসকিউ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে তারা বার্টকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ব্রোওয়ার্ড হেলথ মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা দখলকে কেন্দ্র করেই মূলত বার্টের সঙ্গে ওই অজ্ঞাত নারীর কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং এর জেরেই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার পর অভিযুক্ত নারী পালিয়ে যাননি। তিনি ঘটনাস্থলেই অবস্থান করেন এবং তদন্তকারী গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী দাবি করেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তিনি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষার্থেই গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।
এদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন ঘটনায় ওয়ালমার্টে আসা সাধারণ ক্রেতারা তীব্র বিস্ময় ও আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন। ডেভিড অ্যান্ডারসন নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ এক নারীকে তীব্র চিৎকার করে অনেক কিছু বলতে শোনেন। অন্যদিকে, নিহত বার্টের বোন এই ঘটনায় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তার ভাই ছিলেন ‘ডেজার্ট স্টর্ম’ যুদ্ধে অংশ নেওয়া একজন পদকপ্রাপ্ত সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা।
সামরিক জীবন শেষে তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে নার্স হিসেবেও মানুষের সেবা করেছেন। ভাইকে একজন ধর্মপ্রাণ ও ভালো মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বার্ট কখনো কারও ক্ষতি করতে পারেন না। ব্রোওয়ার্ড শেরিফ অফিসের গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর পুরো ঘটনার প্রতিবেদন স্টেট অ্যাটর্নি অফিসে জমা দেওয়া হবে এবং এরপরই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreকানাডার আলবার্টা প্রদেশের প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কানাডায় পড়াশোনার জন্য দেওয়া শিক্ষার্থী ভিসা একটি সাময়িক অনুমতি। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোনো শিক্ষার্থী স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা কানাডায় থাকার অন্য বৈধ মর্যাদা অর্জন করতে না পারলে তাকে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। স্মিথের এই মন্তব্য এসেছে আলবার্টায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলমান অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে। বিশেষ করে পোর্টেজ কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পর স্নাতকোত্তর কাজের অনুমতি না পাওয়ায় প্রতিবাদ করছেন। তাঁদের অনেকেই দাবি করছেন, কানাডায় পড়াশোনার সময় তাঁরা ভবিষ্যতে কাজ করার সুযোগ পাবেন বলে প্রত্যাশা করেছিলেন। ১২ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে স্মিথ বলেন, শিক্ষার্থী ভিসা কানাডায় পড়াশোনার জন্য দেওয়া একটি সাময়িক নথি। আলবার্টার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত প্রদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ থাকলে তার শর্তও স্পষ্ট—শিক্ষা শেষ করা এবং এরপর সেই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে নিজ দেশে জীবন গড়ে তোলা। এর আগে ২৯ জুলাই রেড ডিয়ারে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনেও স্মিথ একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কেউ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় এসে শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যদি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি না পান, তাহলে তাকে দেশে ফিরে যেতে হবে। স্মিথের বক্তব্যের সঙ্গে বর্তমানে আলবার্টায় আলোচিত পোর্টেজ কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। কলেজটির কিছু সাবেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী স্নাতক হওয়ার পর স্নাতকোত্তর কাজের অনুমতির আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার প্রতিবাদ করছেন। তাঁদের একটি অংশের অভিযোগ, পড়াশোনায় ভর্তি হওয়ার সময় তাঁরা যে তথ্য পেয়েছিলেন, পরে অভিবাসন-সংক্রান্ত বাস্তবতার সঙ্গে সেটির মিল পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোর্টেজ কলেজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ব্যবসা ব্যবস্থাপনা কর্মসূচিতে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রায় দুই বছর ধরে পড়াশোনা করে এবং প্রায় ৩২ হাজার কানাডীয় ডলার পর্যন্ত টিউশন ফি দেওয়ার পর জানতে পারেন যে তাঁদের কর্মসূচি স্নাতকোত্তর কাজের অনুমতির জন্য যোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং কয়েকজন অনশন কর্মসূচিও পালন করেছেন। শিক্ষার্থীদের মূল দাবির একটি হলো পড়াশোনা শেষ করার পর কানাডায় কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাওয়া। তবে প্রিমিয়ার স্মিথের বক্তব্য অনুযায়ী, কানাডায় পড়াশোনার অনুমতি পাওয়া মানেই পরবর্তী সময়ে কাজের অনুমতি বা স্থায়ী বসবাসের অধিকার নিশ্চিত হওয়া নয়। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের কানাডায় আসার আগে তাঁদের কর্মসূচি এবং পরবর্তী অভিবাসন সুবিধা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট বা পিজিডব্লিউপি। কানাডায় নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পর এই অনুমতির মাধ্যমে দেশটিতে কাজের সুযোগ পেতে পারেন। তবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সব কর্মসূচি কিংবা সব শিক্ষার্থী এই সুবিধার জন্য যোগ্য নন। ফলে শুধু কানাডার কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কিংবা ডিগ্রি সম্পন্ন করলেই পিজিডব্লিউপি নিশ্চিত হয় না। পোর্টেজ কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে কারণ তাঁরা দাবি করছেন, তাঁদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে তাঁদের কাছে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, পরবর্তীতে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি। অন্যদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বা বাতিল করার ক্ষমতা তাদের নেই। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণ এবং আইনি পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী হিসেবে প্রবেশ এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার দুটি আলাদা বিষয়। কোনো শিক্ষার্থী বৈধভাবে পড়াশোনা শেষ করলেও পরবর্তী সময়ে তাকে কানাডায় থাকতে হলে নতুন কোনো বৈধ অনুমতি বা অভিবাসন মর্যাদা প্রয়োজন হতে পারে। তাই শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ীভাবে থাকার অধিকার তৈরি হয় না। একই সঙ্গে ড্যানিয়েল স্মিথের বক্তব্যকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করাও ঠিক হবে না যে কানাডায় থাকা সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে ভিসা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাধ্যতামূলকভাবে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। মূল বক্তব্য হলো, বৈধ থাকার অনুমতি শেষ হয়ে গেলে এবং স্থায়ী বসবাস বা অন্য কোনো বৈধ মর্যাদা না থাকলে কানাডায় থাকার অধিকার থাকে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিবাসন আইনের বিভিন্ন প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হতে পারে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কানাডার সামগ্রিক অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তনের কারণে। দেশটি সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী বাসিন্দাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষার মান নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে পড়াশোনা থেকে কাজ এবং পরবর্তীতে স্থায়ী বসবাসে যাওয়ার পথ আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক ও শর্তনির্ভর হয়ে উঠেছে। স্মিথ একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কানাডায় আসার আগে অভিবাসনের ভবিষ্যৎ পথ সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা পরামর্শদাতা যদি পড়াশোনার সঙ্গে স্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে সেটি যাচাই না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে কানাডায় পড়াশোনার পরিকল্পনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোন কর্মসূচি পিজিডব্লিউপির জন্য যোগ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ও যোগ্যতার আওতায় রয়েছে কি না, পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতির শর্ত কী এবং স্থায়ী বসবাসের জন্য আলাদা কী যোগ্যতা প্রয়োজন এসব আগে থেকেই যাচাই করা। আলবার্টার প্রিমিয়ারের সাম্প্রতিক বক্তব্য তাই শুধু পোর্টেজ কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া একটি রাজনৈতিক মন্তব্য নয়; এটি কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্কেরও প্রতিফলন। বিশেষ করে পড়াশোনা শেষে কানাডায় থেকে কাজ করার প্রত্যাশা নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য বার্তাটি স্পষ্ট শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় প্রবেশ করা স্থায়ীভাবে বসবাসের নিশ্চয়তা নয় এবং বৈধ থাকার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে আইনসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির সরবরাহ কমে ক্রেতাদের সংকট, উচ্চ দাম ও সুদে নতুন বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে
মার্কিন সেনাকে হত্যা বা বন্দি করলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা ইরানের সেনাপ্রধানের
যুক্তরাষ্ট্রের বড় অংশে তীব্র তাপপ্রবাহ, ঝুঁকিতে প্রায় ৯ কোটি ৭০ লাখ মানুষ
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘায়িত যুদ্ধ এখন শুধু ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাতেই সীমাবদ্ধ নেই; এর ধাক্কা পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরব মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কেও। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ ও কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে হতাশা বাড়ছে। এমনকি নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রাখার বিনিময়ে তারা আদৌ প্রত্যাশিত নিরাপত্তা পাচ্ছে কি না—সেই প্রশ্নও এখন উঠছে। ওয়াশিংটন পোস্টের সঙ্গে কথা বলা আরব ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বক্তব্যে এই অসন্তোষের গভীরতা উঠে এসেছে। তাদের আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসনের বারবার অবস্থান পরিবর্তন এবং ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থতা উপসাগরীয় দেশগুলোকে এমন এক যুদ্ধের মূল্য দিতে বাধ্য করছে, যেটি তারা শুরু করেনি এবং দীর্ঘায়িত হোক সেটিও তারা চায় না। একজন উপসাগরীয় কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করেছেন, আর মূল্য দিচ্ছি আমরা।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ওয়াশিংটনের প্রতি ক্ষোভ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মিত্র হয়েও যুদ্ধের মূল্য কেন দিচ্ছে উপসাগর? গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর সংঘাত দ্রুত আঞ্চলিক রূপ নেয়। ইরানের পাল্টা হামলার প্রভাব পড়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতেও। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা অংশীদারত্ব থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত নিজেদের ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। সমস্যার একটি বড় অংশ মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ঘিরে। উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে। কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলটির নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর এই ঘাঁটিগুলোই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছে—এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে। উপসাগরীয় কর্মকর্তাদের একটি অংশ এখন প্রশ্ন তুলছেন, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকার কারণে তাদের নিরাপত্তা বাড়ছে, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো যুদ্ধে তাদের দেশও স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে। ট্রাম্পের বদলে যাওয়া অবস্থানেও বিরক্তি উপসাগরীয় মিত্রদের আরেকটি বড় উদ্বেগ ট্রাম্পের ইরাননীতি কতটা অনুমানযোগ্য, তা নিয়ে।চলমান সংঘাতে ট্রাম্প কখনো সামরিক চাপ বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনো দ্রুত শান্তিচুক্তির সম্ভাবনার কথা বলেছেন। যুদ্ধ বন্ধের জন্য বিভিন্ন সময়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি উদ্যোগ নিয়েও উপসাগরীয় মিত্রদের উদ্বেগ ছিল—বিশেষ করে এমন কোনো সমঝোতা যাতে তেহরান আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসতে পারে। অর্থাৎ উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থানও একমাত্রিক নয়। তারা একদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ককে নিরাপত্তা হুমকি মনে করে; অন্যদিকে এমন দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধও চায় না, যার আঘাত তাদের শহর, বন্দর, তেল স্থাপনা এবং অর্থনীতির ওপর এসে পড়ে।এই দ্বৈত সংকটই এখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে। নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ঝুঁকির উৎসও কি যুক্তরাষ্ট্র? দশকের পর দশক ধরে উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিনিময়ে ওয়াশিংটন পেয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, কৌশলগত অবস্থান এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি।কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ সেই পুরোনো সমীকরণেই প্রশ্ন তুলেছে। মার্কিন সামরিক উপস্থিতি যদি ইরানের হামলা ঠেকাতে না পারে, বরং সেই উপস্থিতিই ইরানের কাছে কোনো উপসাগরীয় দেশকে বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরে—তাহলে সেই ঘাঁটির কৌশলগত মূল্য নতুন করে হিসাব করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন কিছু আঞ্চলিক কর্মকর্তা। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত কিছু উপসাগরীয় দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রাখার সুবিধা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। সৌদি আরব খুঁজছে বিকল্প নিরাপত্তা বলয় এই পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ সৌদি আরব। যুদ্ধটি নিজেদের শুরু করা নয়—এমন একটি সংঘাতে ক্রমেই টেনে নেওয়া হচ্ছে বলে রিয়াদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যেই সৌদি আরব আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব শক্তিশালী করার দিকে এগিয়েছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামো, পাশাপাশি লোহিত সাগরে বহুপক্ষীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা—এসব পদক্ষেপকে শুধু তাৎক্ষণিক যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া হিসেবে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একক নিরাপত্তা নির্ভরতা কমানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সৌদি আরব বা অন্য উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে যাচ্ছে—এমন নয়। তাদের সামরিক অবকাঠামো, অস্ত্রব্যবস্থা, গোয়েন্দা সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে জড়িত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, তারা একই সঙ্গে বিকল্প নিরাপত্তা অংশীদারও তৈরি করতে চাইছে। হরমুজ সংকট বাড়িয়েছে চাপ! ইরান যুদ্ধের আরেকটি বড় ধাক্কা এসেছে হরমুজ প্রণালিতে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ ছিল এই সরু নৌপথ। যুদ্ধের পর সেখানে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প রুট ও অবকাঠামো ব্যবহার করে হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করলেও ইরান ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর হামলা সেই বিকল্পগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামনে এখন কঠিন সমীকরণ—ইরানকে অতিরিক্ত শক্তিশালী হতে দেওয়া যাবে না, আবার এমন যুদ্ধও চলতে দেওয়া যাবে না যা তাদের অর্থনীতি ও জ্বালানি অবকাঠামোকে ক্রমাগত ঝুঁকির মধ্যে রাখে। পুরোনো সম্পর্ক কি নতুন দিকে যাচ্ছে? সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমান অসন্তোষ শুধু ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কূটনৈতিক ধরন নিয়ে নয়। এর কেন্দ্রে রয়েছে আরও বড় একটি প্রশ্ন—ভবিষ্যতে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তার প্রধান নিশ্চয়তাদাতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা নির্ভরযোগ্য মনে করা যাবে। একসময় এই অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণ ছিল তুলনামূলকভাবে সহজ—মার্কিন সামরিক শক্তির উপস্থিতির বিনিময়ে উপসাগরীয় মিত্ররা পেত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ সেই হিসাব বদলে দিয়েছে। এখন সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখছে, তেহরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ন্ত্রণের পথ খুঁজছে এবং তুরস্ক-পাকিস্তানসহ অন্য শক্তির সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা সম্পর্ক তৈরি করছে। তাই বর্তমান সংকটের সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক ফল শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে নির্ধারিত নাও হতে পারে। বরং সেটি নির্ধারিত হতে পারে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর—যখন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন হিসাব করবে, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তারা ভবিষ্যতে কতটা ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর করবে। কারণ উপসাগরীয় মিত্রদের মধ্যে যদি সত্যিই এই ধারণা স্থায়ী হয় যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি তাদের সুরক্ষার পাশাপাশি সংঘাতের লক্ষ্যবস্তুতেও পরিণত করছে, তাহলে কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে গড়ে ওঠা মার্কিন নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য সেটিই হতে পারে ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী কৌশলগত ধাক্কা।
সৌদির অর্থ, তুরস্কের প্রযুক্তি আর পাকিস্তানের পরমাণু শক্তি, নতুন সমীকরণে উদ্বেগ ভারতের
২০২৮-এর লড়াইয়ে তরুণ ডেমোক্র্যাটদের প্রথম পছন্দ কমলা হ্যারিস, পেছনে মিশেল ওবামা
কেয়ারগিভার সুবিধা পেতে মিথ্যা তথ্য, ভিএর ১ লাখ ৭০ হাজার ডলার প্রতারণায় সাবেক সেনাসদস্য
মার্কিন নৌবাহিনীর রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনে নাবিকদের খাবারের মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সামরিক গবেষক ও লেখক সেথ হার্প সামাজিক মাধ্যমে নাবিকদের পাঠানো কয়েকটি খাবারের ছবি প্রকাশ করার পর এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। প্রকাশিত ছবিগুলোতে পরিবেশন করা খাবারের পরিমাণ ও উপস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ দেখা যায়। তবে ছবির ভিত্তিতে খাবারের পুষ্টিমান বা সামগ্রিক খাদ্যব্যবস্থার মান নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছে। রণতরীটি দীর্ঘ সময় মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন দীর্ঘ মেয়াদে মোতায়েন থাকার সময় নাবিকদের কাজের চাপ, সরবরাহ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মতো বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নতুন করে জর্জ ওয়াশিংটনের খাবারের ছবি সামনে আসায় মার্কিন নৌবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের প্রস্তুতি ও রসদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সামরিক গবেষক সেথ হার্প তাঁর পোস্টে খাবারের ছবিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটের আকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তবে তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশ রাজনৈতিক মন্তব্য ও মতামত; এগুলোকে সরাসরি প্রমাণিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইরানকে ঘিরে সামরিক অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর রসদ ব্যবস্থাপনায়ও পরিবর্তন এসেছে। ইরানের হামলার পর বাহরাইনে থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের কিছু অংশ ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটির দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দিয়েগো গার্সিয়া ভারত মহাসাগরের একটি প্রত্যন্ত দ্বীপ। মূল ভূখণ্ড থেকে এর দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় সেখানে খাবার, জ্বালানি, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা তুলনামূলক জটিল। এর মধ্যেই ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে নতুন করে দীর্ঘ দূরত্বে মোতায়েন করা হচ্ছে। ফলে রণতরীটির নাবিকদের জন্য খাবার ও অন্যান্য সরবরাহ কতটা নিয়মিত রাখা সম্ভব হচ্ছে, তা নিয়ে নজর বাড়ছে। তবে খাবারের কয়েকটি ছবি থেকেই পুরো জাহাজের খাদ্য বা সরবরাহ ব্যবস্থার চিত্র পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া সামগ্রিক সংকটের মাত্রা নিশ্চিত করাও কঠিন। ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের নতুন দায়িত্ব এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘ মোতায়েন—দুই ঘটনাই এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্য ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর একসঙ্গে একাধিক কৌশলগত চাপ তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অনুমোদনে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা
১০০তম জন্মদিন উদযাপনে নাতির সাথে আকাশ থেকে ঝাঁপ দাদির