- প্রচ্ছদ
- Topic
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি শিক্ষায় সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি স্কুলে ৬০ হাজার ডলারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) মানবাকৃতির রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। রোবটটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাস্তবধর্মী যৌন পুতুল তৈরির একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের সালামাঙ্কা সিটি সেন্ট্রাল স্কুল ডিস্ট্রিক্ট তাদের উচ্চবিদ্যালয়ে ‘স্যালি’ নামে একটি এআইচালিত মানবাকৃতির রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিল। সেনেকা নেশন অব ইন্ডিয়ানস সংরক্ষিত এলাকার এই স্কুল ডিস্ট্রিক্টের কর্মকর্তাদের আশা ছিল, রোবটটি রোবোটিক্স ও প্রযুক্তি বিষয়ে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করবে। প্রায় ৬০ হাজার ডলার মূল্যের স্থির অবস্থানে ব্যবহারের উপযোগী এই রোবটটির লম্বা কালো চুল রয়েছে এবং এটি রিয়েলবোটিক্স (Realbotix) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি। স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট মার্ক বিহলার জানান, রোবটটি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিষয় বুঝিয়ে দিতে পারবে। যেমন, কোনো শিক্ষার্থী যদি ‘আরডুইনো’ বোর্ড প্রোগ্রামিংয়ে সমস্যায় পড়ে, তাহলে রোবটটি তা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা রোবটটির রক্ষণাবেক্ষণ, ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়াও কাছ থেকে শিখতে পারবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য কোনো শিক্ষককে প্রতিস্থাপন করা নয়। বরং এটি একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ, যার অংশ হিসেবে ভার্চুয়াল এআই সহকারী এবং বাড়িতে বসে শিক্ষার্থীদের জন্য এআইভিত্তিক সহায়ক শিক্ষাসেবাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে প্রকল্পটির খবর প্রকাশ্যে আসার পরই অভিভাবক ও শিক্ষক মহলের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, রোবটটি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ বা সংরক্ষণ করতে পারে। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, রোবটটি কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য সংগ্রহ করবে না এবং অডিও বা ভিডিওও ধারণ করবে না। এদিকে শিক্ষক ইউনিয়নের নেতারা আরেকটি বিষয় সামনে আনেন। তাদের অভিযোগ, রিয়েলবোটিক্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবধর্মী যৌন পুতুল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রিয়েলডলের মালিকানাগত সম্পর্ক রয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেট ইউনাইটেড টিচার্সের সভাপতি মেলিন্ডা পারসন বলেন, “যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌন পুতুল তৈরির ব্যবসার সম্পর্ক রয়েছে, তাদের তৈরি রোবটের শ্রেণিকক্ষে কোনো স্থান হওয়া উচিত নয়।” সমালোচনার জবাবে রিয়েলবোটিক্স জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো তথ্য এনক্রিপ্টেড থাকবে এবং সেগুলোর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ স্কুল ডিস্ট্রিক্টের হাতেই থাকবে। প্রতিষ্ঠানটি আরও দাবি করেছে, ‘স্যালি’ কোনো বিদ্যমান যৌন পুতুলকে পরিবর্তন করে তৈরি করা হয়নি। এটি সম্পূর্ণ নতুনভাবে শিক্ষা খাতের জন্য তৈরি একটি বিশেষ রোবট। রিয়েলবোটিক্স জানায়, তাদের বর্তমান ব্যবসার মূল লক্ষ্য স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক খাতে এআইচালিত মানবাকৃতির রোবট তৈরি করা। যদিও প্রতিষ্ঠানটি ইন্টিমা এলএলসির সঙ্গে যুক্ত, আর ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকানার অংশ রয়েছে যৌন পুতুল নির্মাতা রিয়েলডলে। বিতর্কের মধ্যে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সালামাঙ্কা সিটি সেন্ট্রাল স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, প্রকল্পটি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এ সময়ে তারা স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে আরও আলোচনা করবে এবং শিক্ষার্থীদের তথ্য সুরক্ষায় আরও কঠোর গোপনীয়তা চুক্তি চূড়ান্ত করবে। এরপরই প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে গবেষণায় এশিয়া মহাদেশের অভাবনীয় সাফল্যের চিত্র উঠে এসেছে সদ্য প্রকাশিত ইউএস নিউজের ২০২৬–২০২৭ সালের 'বেস্ট গ্লোবাল ইউনিভার্সিটিজ' সাবজেক্ট র্যাঙ্কিংয়ে। এই তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ দশটি এআই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ সিঙ্গাপুরের দুটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বৈশ্বিক এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি (এনটিইউ)। অন্যদিকে, আগের চেয়ে চার ধাপ এগিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর (এনইউএস)। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে কেবল সিঙ্গাপুরই শীর্ষ দশে অবস্থান করতে পেরেছে। এই অঞ্চলের অপর দেশ হিসেবে মালয়েশিয়ার চারটি বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ের ১৬৫ থেকে ২৪১তম স্থানের মধ্যে রয়েছে। তালিকায় চীন এককভাবে তাদের সুস্পষ্ট আধিপত্য বিস্তার করেছে। শীর্ষ দশে কোনো মার্কিন বা ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম না থাকলেও, আটটি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তালিকায় দাপট দেখাচ্ছে মূল ভূখণ্ডের চীন। চীনের স্বনামধন্য সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় বৈশ্বিকভাবে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এছাড়া তালিকায় নবম স্থানে রয়েছে দ্য চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকং। ইউএস নিউজের এই র্যাঙ্কিং তৈরিতে ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কমপক্ষে ২০০টি এআই গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বের ২,২৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এআই ছাড়াও এনটিইউ এবং এনইউএস কম্পিউটার সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স ও ফিজিক্সের মতো বিষয়গুলোতেও বৈশ্বিকভাবে শীর্ষ স্থানগুলোতে অবস্থান করছে। সার্বিক বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে এনইউএস এশিয়ায় দ্বিতীয় ও বিশ্বে ১৬তম এবং এনটিইউ এশিয়ায় চতুর্থ ও বিশ্বে ২৭তম স্থান লাভ করেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটার কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে ভারত সরকার। এ বিষয়ে জবাব দিতে মেটার বৈশ্বিক জননীতি বিভাগের প্রধানকে তলব করেছে দেশটির ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (মেইটি)। মেটা ইতোমধ্যে ঘটনাটিকে একটি প্রযুক্তিগত ভুল বলে স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, পোস্টটি ভুলবশত সীমাবদ্ধ হয়েছিল। পরে সেটি পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং এ ঘটনার জন্য প্রতিষ্ঠানটি দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে ভারত সরকার বলছে, শুধু ক্ষমা চাইলেই বিষয়টি শেষ হয়ে যাচ্ছে না; কীভাবে এমন ভুল হলো এবং ভবিষ্যতে এটি ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ জুলাই। সেদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তরুণদের উদ্দেশে একটি সেলফি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করা হলে কিছু সময়ের জন্য সেটির দৃশ্যমানতা সীমিত হয়ে যায়। এর ফলে অনেক ব্যবহারকারী ভিডিওটি দেখতে পারেননি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস. কৃষ্ণান বলেন, মেটা ভুল স্বীকার করেছে, যা ইতিবাচক। কিন্তু তাদের দেওয়া ব্যাখ্যায় সরকার সন্তুষ্ট নয়। তার ভাষায়, “তারা বলেছে ভুল হয়েছে এবং ক্ষমাও চেয়েছে। কিন্তু কীভাবে এই ভুল হলো এবং ভবিষ্যতে এটি ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চাই।” সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, মেটা জানিয়েছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট যাচাই ব্যবস্থার একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে মূল পোস্টটিও ভুলবশত সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও আলোচনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে সরকারের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটির ব্যাখ্যা দিয়ে দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। তাদের মতে, যদি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার কারণেই এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে মেটার উচিত দ্রুত তাদের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি আরও নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য করা। কারণ, কোটি কোটি ব্যবহারকারীর তথ্যপ্রবাহ পরিচালনা করা একটি প্ল্যাটফর্মের কাছ থেকে এ ধরনের ভুল গ্রহণযোগ্য নয়। বিজেপি নেত্রী প্রীতি গান্ধী প্রথম প্রকাশ্যে এ ঘটনাটির সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রীর একটি ভিডিও কীভাবে সীমাবদ্ধ করা হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ভারতীয় নাগরিকরা কী দেখবেন বা দেখবেন না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কোনো বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেই। এই ঘটনার মধ্যেই ভারতে মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে ঘিরে সরকারি নজরদারি আরও বেড়েছে। সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপে প্রস্তাবিত ব্যবহারকারী নাম (ইউজারনেম) সুবিধা এবং ইনস্টাগ্রামে অবৈধ কনটেন্ট নিয়েও প্রতিষ্ঠানটিকে নোটিশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আগামী ৩ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নীতিমালা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহি নিয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মেটাসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং স্থানীয় আইন মেনে চলার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিশ্বের বৃহত্তম পেমেন্ট নেটওয়ার্ক কোম্পানি ভিসা তাদের প্রযুক্তি ও পণ্য বিভাগে বড় ধরনের রদবদল আনতে যাচ্ছে। কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের মোট জনবলের প্রায় ৭ শতাংশ বা ২ হাজার ৬০০ কর্মীকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রায়ান ম্যাকইনারনি কর্মীদের কাছে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ মেমোতে এই কর্মী সংকোচনের কথা জানিয়েছেন। তিনি ওই মেমোতে উল্লেখ করেছেন, সামনের নতুন সুযোগগুলো কাজে লাগাতে এবং বর্তমান রূপান্তরের যুগে ভিসার নেতৃত্ব ধরে রাখতে কাজের ধরনে পরিবর্তন আনা জরুরি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিসার কাজের প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত ও আধুনিক করতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করছে। অবশ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই কর্মী ছাঁটাইয়ের পেছনে এআই একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করলেও এটিই একমাত্র কারণ নয়। মূলত গত কয়েক বছরের ব্যাপক নিয়োগের পর বর্তমানে আর্থিক ও প্রযুক্তি খাতজুড়ে যে ব্যয় সংকোচনের প্রবণতা চলছে, এটি তারই অংশ। পাশাপাশি, ভিসা এখন এমন কিছু লাভজনক খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চাইছে, যেগুলোকে তারা ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি বলে মনে করে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চবিত্ত গ্রাহক পরিষেবা, ক্রস-বর্ডার বা আন্তঃসীমান্ত লেনদেন, ব্যবসায়িক রেমিট্যান্স এবং ভৌগোলিক সম্প্রসারণ। ম্যাকইনারনি তার মেমোতে আরও জানান, গত কয়েক বছরে নেওয়া বিভিন্ন সময়োপযোগী কৌশলের কারণে ভিসা বর্তমানে বাণিজ্য জগতে এক দারুণ গতিশীলতার সাথে নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। জানা গেছে, ছাঁটাইয়ের শিকার হতে যাওয়া কর্মীদের সাথে খুব শিগগিরই যোগাযোগ শুরু করবে ভিসা কর্তৃপক্ষ এবং তাদের পরবর্তী কাজের সুযোগ বা ট্রানজিশনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। গত অর্থবছরের শেষে ভিসার মোট কর্মী সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৪ হাজার ১০০ জন। মঙ্গলবার মার্কিন শেয়ার বাজার বন্ধ হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির প্রান্তিক আয়ের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে, যেখানে তাদের আর্থিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার আরও বিস্তারিত চিত্র উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী এক দশকের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবট মানুষের তুলনায় বেশি পণ্য ও সেবা উৎপাদন করবে। এমন পরিস্থিতিতে অর্থের প্রচলিত গুরুত্ব অনেকটাই কমে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন ইলন মাস্ক। দ্য ইকোনমিস্ট-এর একটি পডকাস্টে ভবিষ্যতের অর্থনীতি ও এআই প্রযুক্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। মাস্কের ভাষ্য, এআই-নির্ভর প্রযুক্তি যদি খাবার, বাসস্থান, যাতায়াতসহ মানুষের প্রয়োজনীয় অধিকাংশ সেবা সহজে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ করতে সক্ষম হয়, তাহলে অর্থের বর্তমান ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যেতে পারে। তার মতে, উৎপাদন ও সেবার প্রাচুর্য তৈরি হলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হবে। তিনি আরও দাবি করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মিলিত মানব বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। ভবিষ্যতে মানুষের করা অধিকাংশ কাজ এআই ও রোবট সম্পন্ন করতে পারবে বলেও তার ধারণা। তবে অর্থের পরিবর্তে কী ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বা বিনিময় পদ্ধতি গড়ে উঠতে পারে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুধু ইলন মাস্কেই সীমাবদ্ধ নয়। ওপেনএআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্যাম অল্টম্যান, গুগল ডিপমাইন্ডের প্রধান ডেমিস হাসাবিস এবং এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের নেতৃত্বও উন্নত এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি এবং এর সম্ভাব্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন সময় সতর্কতা ও পূর্বাভাস দিয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এসব বক্তব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা দ্রুত বাড়লেও আগামী কয়েক বছরে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন ঘটবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি নীতিমালা, অর্থনৈতিক কাঠামো এবং সমাজের গ্রহণযোগ্যতার ওপরও ভবিষ্যতের বাস্তবতা অনেকাংশে নির্ভর করবে।
মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তত ৪৫টি পোস্ট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার সকাল ১১টা ১৬ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এসব পোস্টের বড় অংশজুড়ে ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি বা পরিবর্তিত ছবি। হিসাব অনুযায়ী, ওই ছয় ঘণ্টায় গড়ে প্রতি আট মিনিটে একটি করে পোস্ট করেছেন তিনি। অল্প সময়ে এমন ধারাবাহিক পোস্ট এবং সেগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রোববার ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টের পোস্টগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সকাল ১১টা ১৬ মিনিটে সিএনএনের সাংবাদিক কেইটলান কলিন্সকে নিয়ে একটি পরিবর্তিত ছবি প্রকাশের মধ্য দিয়ে দিনের আলোচিত ধারাবাহিক পোস্ট শুরু হয়। এরপর সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, কৌতুকাভিনেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিকে নিয়ে একের পর এক ব্যঙ্গাত্মক ও কৃত্রিম ছবি প্রকাশ করেন তিনি। বিকেলের দিকে পোস্টের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশেষ করে বিকেল ৩টা ২২ মিনিটের পর অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক ছবি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ছিল ট্রাম্পকে নিয়ে তৈরি কাল্পনিক চলচ্চিত্রের পোস্টার, হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারের দৃশ্য এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পকে দেখানো কৃত্রিম ছবি। পোস্টগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশে ছিল ‘ট্রাম্প ২০২৮’ বার্তা। কোনো ছবিতে ট্রাম্পকে ২০২৮ লেখা টুপি পরা অবস্থায় দেখা যায়, আবার কোনোটি ছিল নির্বাচনী প্রচারণার পোস্টারের আদলে তৈরি। একটি পোস্টারে প্রতিপক্ষকে দুঃস্বপ্ন দেওয়ার বার্তাও ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না। ট্রাম্প ২০১৬ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। ফলে ২০২৮ সালের নির্বাচন নিয়ে তার এসব পোস্টকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হলেও তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান সংবিধানে স্পষ্ট বাধা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ইরানকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি কৃত্রিম ছবি। একটি ছবিতে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার কাল্পনিক দৃশ্য দেখানো হয়। আরও কয়েকটি ছবিতে ট্রাম্পকে একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ দখল করে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একই ধরনের দৃশ্যের একাধিক সংস্করণও পোস্ট করা হয়। আরেকটি কৃত্রিম ছবিতে ইরানি জাহাজে বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখানো হয়। কোথাও ট্রাম্পকে নৌবাহিনীর কমান্ডারের মতো পোশাকে, কোথাও আবার সামরিক শক্তির প্রতীকী উপস্থাপনার মধ্যে দেখা গেছে। ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার সময় একজন ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের অ্যাকাউন্ট থেকে এমন কাল্পনিক সামরিক দৃশ্য প্রকাশ হওয়ায় বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। দিনের পোস্টে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের সমালোচকেরাও ছিলেন। জিমি ফ্যালন, জিমি কিমেল, স্টিফেন কোলবার্ট, রোজি ও’ডোনেল, সাবেক নিউ জার্সি গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টিসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক বা পরিবর্তিত ছবি প্রকাশ করা হয়। রিপাবলিকান সিনেটর জন থুনকে লক্ষ্য করেও একটি পোস্ট করেন ট্রাম্প। কৃত্রিম ছবিগুলোতে ট্রাম্পকে বিভিন্ন কাল্পনিক ভূমিকায়ও তুলে ধরা হয়েছে। কোথাও চিকিৎসক, কোথাও সামরিক কমান্ডার, আবার কোথাও জর্জ ওয়াশিংটনের সঙ্গে সময় ভ্রমণভিত্তিক কাল্পনিক চলচ্চিত্রের চরিত্র হিসেবে তাকে দেখানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরেও একাধিক ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। রোববারের এই ধারাবাহিক পোস্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মিডিয়াইট, ডেইলি বিস্টসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম ট্রাম্পের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ছবির ধারাবাহিক পোস্ট এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও পরিচিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে প্রকাশিত ছবিগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচকদের কেউ কেউ ট্রাম্পের আচরণ ও এত অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক পোস্ট প্রকাশের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ তার মানসিক সুস্থতা নিয়েও মন্তব্য করেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখে কারও মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা নির্ণয় করা যায় না এবং ট্রাম্প কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, এমন চিকিৎসাগত তথ্য প্রকাশ্যে নেই। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ট্রুথ সোশ্যালকে রাজনৈতিক বক্তব্য, নীতিগত ঘোষণা, প্রতিপক্ষের সমালোচনা এবং সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। তবে রোববার মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ৪৫টি পোস্ট এবং সেগুলোর বড় অংশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি রাজনৈতিক ও সামরিক ছবি ব্যবহারের ঘটনা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ধরন নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে বিশ্বজুড়ে অনেকের মনেই চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এই প্রযুক্তির কারণে মানুষের পেশা পুরোপুরি হুমকির মুখে পড়বে, এমনটি মানতে নারাজ খোদ মাইক্রোসফটের একজন সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। তাঁর মতে, এআই কাজের গতি বাড়িয়ে ডেডলাইন বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দারুণভাবে সাহায্য করলেও, এটি কখনোই মানুষের সম্পূর্ণ বিকল্প হতে পারবে না। সম্প্রতি ৩৪ বছর বয়সী এই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার রাহুল দেবিকর এআই নিয়ে তাঁর দীর্ঘ বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল এলাকার বাসিন্দা রাহুল ২০১৮ সাল থেকে টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফটে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন। গত কয়েক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে সফটওয়্যার তৈরির পুরো প্রক্রিয়াকে আমূল বদলে দিয়েছে, তিনি তা একদম কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। কাজের ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকগুলো স্বীকার করে তিনি জানান, এআই টুলস মূলত উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু সফটওয়্যার আর্কিটেকচার বা সূক্ষ্ম সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে মানুষের অভিজ্ঞতা ও তদারকির কোনো বিকল্প নেই। এআই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কাজের গতি বাড়ানোর একটি বড় উদাহরণও দিয়েছেন রাহুল। তিনি সম্প্রতি ‘মাইক্রোসফট ৩৬৫ এজেন্টস এসডিকে’ নামক একটি ওপেন-সোর্স লাইব্রেরি তৈরির প্রজেক্টে কাজ করেছেন, যা মূলত এআই এজেন্ট তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়। মাইক্রোসফটে এটিই ছিল তাঁর প্রথম ওপেন-সোর্স প্রজেক্ট। তিনি জানান, এআইয়ের সহায়তায় মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই একটি সাধারণ ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে প্রজেক্টটি পাবলিক প্রিভিউ পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। তাঁর এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, এআই মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং কর্মদক্ষতা বাড়ানোর এক অসাধারণ হাতিয়ার।
এমআইটির ৯ লেকচারে জেনারেটিভ এআই শেখার সুযোগ, উন্মুক্ত হলো পূর্ণাঙ্গ ভিডিও কোর্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত পরিবর্তনশীল জগৎ সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তিপ্রেমীদের ধারণা দিতে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একটি পূর্ণাঙ্গ ভিডিও কোর্স অনলাইনে উন্মুক্ত রয়েছে। ‘ফাউন্ডেশন মডেলস অ্যান্ড জেনারেটিভ এআই’ শিরোনামের কোর্সটিতে মোট নয়টি লেকচারের মাধ্যমে জেনারেটিভ এআইয়ের প্রাথমিক ধারণা থেকে শুরু করে ChatGPT, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল, ছবি তৈরি, জীববিজ্ঞান, রোবোটিক্স, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এমআইটি ওপেনকোর্সওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, ৬.এস০৮৭ নম্বরের কোর্সটি ২০২৪ সালের জানুয়ারির ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাকটিভিটিজ পিরিয়ডে পড়ানো হয়। কোর্সটির প্রশিক্ষক ছিলেন এমআইটির গবেষক রিকার্ড গ্যাব্রিয়েলসন। এটি মূলত একটি নন-টেকনিক্যাল লেকচার সিরিজ। ফলে কম্পিউটার বিজ্ঞান বা প্রোগ্রামিংয়ে গভীর অভিজ্ঞতা না থাকলেও আগ্রহীরা সহজে কোর্সটি অনুসরণ করতে পারবেন। ([MIT OpenCourseWare][1]) কোর্সের আলোচনায় ChatGPT, Copilot, DALL-E, Stable Diffusion, AlphaFold এবং স্বয়ংক্রিয় গাড়ির মতো বহুল আলোচিত প্রযুক্তির পেছনে থাকা ফাউন্ডেশন মডেল ও জেনারেটিভ এআইয়ের কার্যপ্রণালি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি সুপারভাইজড লার্নিং, রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং, সেলফ-সুপারভাইজড লার্নিং, নিউরাল নেটওয়ার্ক, অটো-এনকোডার, কনট্রাস্টিভ লার্নিং এবং ডিফিউশন মডেলের মতো বিষয়ও সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। ([Future of AI][2]) প্রথম লেকচার: জেনারেটিভ এআই ও ফাউন্ডেশন মডেলের পরিচিতি প্রথম লেকচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাসের পাশাপাশি জেনারেটিভ এআই ও ফাউন্ডেশন মডেলের মৌলিক ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রচলিত এআই ব্যবস্থা এবং আধুনিক জেনারেটিভ মডেলের মধ্যে পার্থক্য কী, একটি মডেল কীভাবে বিপুল পরিমাণ তথ্য থেকে সাধারণ প্যাটার্ন শেখে এবং পরে বিভিন্ন কাজে ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে—এসব প্রশ্নের প্রাথমিক উত্তর পাওয়া যাবে এই পর্বে। লিংক: [https://youtu.be/y1fGlAECNFM](https://youtu.be/y1fGlAECNFM) দ্বিতীয় লেকচার: প্রযুক্তিটি যেভাবে কাজ করে দ্বিতীয় লেকচারে ফাউন্ডেশন মডেল ও জেনারেটিভ এআইয়ের ভেতরের প্রযুক্তিগত কার্যপ্রণালি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ডেটা, মেশিন লার্নিং, মডেল প্রশিক্ষণ এবং সেলফ-সুপারভাইজড লার্নিংয়ের মাধ্যমে একটি এআই ব্যবস্থা কীভাবে নতুন দক্ষতা অর্জন করে, তা তুলনামূলক সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রযুক্তিটির ভিত্তি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা তৈরিতে এই লেকচারটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। লিংক: [https://youtu.be/D-pLXkS21fM](https://youtu.be/D-pLXkS21fM) তৃতীয় লেকচার: ChatGPT ও লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল এই পর্বে ChatGPT এবং লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএমের কার্যপ্রণালি আলোচনা করা হয়েছে। একটি ভাষা মডেল কীভাবে মানুষের লেখা বিশ্লেষণ করে, শব্দের পরবর্তী সম্ভাব্য বিন্যাস অনুমান করে এবং প্রশ্নের উত্তর, সারসংক্ষেপ, অনুবাদ কিংবা নতুন লেখা তৈরি করে—তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ডিজিটাল যোগাযোগ, শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মক্ষেত্রে এসব মডেলের প্রভাবও আলোচনায় এসেছে। লিংক: [https://youtu.be/RVFj88i63rU](https://youtu.be/RVFj88i63rU) চতুর্থ লেকচার: এআই দিয়ে ছবি তৈরি চতুর্থ লেকচারের বিষয় ইমেজ জেনারেশন। DALL-E, Stable Diffusion ও Midjourney-এর মতো ব্যবস্থা লিখিত নির্দেশনা থেকে কীভাবে নতুন ছবি তৈরি করে, তার পেছনের ধারণা এখানে তুলে ধরা হয়েছে। ডিফিউশন মডেল, প্রশিক্ষণ ডেটা, টেক্সট ও ছবির মধ্যে সম্পর্ক এবং প্রম্পটের ভূমিকা বুঝতে আগ্রহীদের জন্য এই পর্বটি কার্যকর হতে পারে। লিংক: [https://youtu.be/oTfXBw_Wnrw](https://youtu.be/oTfXBw_Wnrw) পঞ্চম লেকচার: জেনারেটিভ এআইয়ের ইকোসিস্টেম জেনারেটিভ এআই কেবল একটি অ্যাপ বা সফটওয়্যার নয়; এর সঙ্গে ডেটা, কম্পিউটিং অবকাঠামো, চিপ নির্মাতা, ক্লাউড পরিষেবা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, মডেল নির্মাতা, সফটওয়্যার ডেভেলপার ও ব্যবহারকারীদের একটি বড় নেটওয়ার্ক যুক্ত। পঞ্চম লেকচারে এই বিস্তৃত ইকোসিস্টেমের প্রযুক্তিগত, সামাজিক ও বাণিজ্যিক দিক ব্যাখ্যা করা হয়েছে। লিংক: [https://youtu.be/IWPo4pV6Jpo](https://youtu.be/IWPo4pV6Jpo) ষষ্ঠ লেকচার: জীববিজ্ঞানে জেনারেটিভ এআই এই লেকচারে জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষণায় জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার তুলে ধরা হয়েছে। প্রোটিনের গঠন ও কার্যকারিতা বিশ্লেষণ, জিনগত তথ্য বোঝা, সম্ভাব্য ওষুধের অণু শনাক্ত করা এবং ড্রাগ ডিসকভারির প্রক্রিয়া দ্রুত করার ক্ষেত্রে এআইয়ের সম্ভাবনা এখানে আলোচিত হয়েছে। অতিথি বক্তা হিসেবে লেকচারটি দিয়েছেন এমআইটির অধ্যাপক মানোলিস কেলিস। ([YouTube][3]) লিংক: [https://youtu.be/pHzdw6YWB9I](https://youtu.be/pHzdw6YWB9I) সপ্তম লেকচার: রোবোটিক্স ও স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থা সেলফ-ড্রাইভিং গাড়ি, স্বয়ংক্রিয় রোবট এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থা চারপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তা সপ্তম লেকচারের মূল বিষয়। বাস্তব জগতের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে একটি এআই ব্যবস্থা কীভাবে সম্ভাব্য ফলাফল বিবেচনা করে কাজ নির্বাচন করতে পারে, সেটিও এখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। লিংক: [https://youtu.be/ucfAlovLN-U](https://youtu.be/ucfAlovLN-U) অষ্টম লেকচার: নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল এআই জেনারেটিভ এআইয়ের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভুল তথ্য, পক্ষপাত, গোপনীয়তা, কপিরাইট, ডিপফেক, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। অষ্টম লেকচারে এসব নৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি দায়িত্বশীলভাবে এআই তৈরি ও ব্যবহারের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লিংক: [https://youtu.be/VBHmEwr7kf0](https://youtu.be/VBHmEwr7kf0) নবম লেকচার: বিশেষজ্ঞদের প্যানেল আলোচনা শেষ লেকচারে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে জেনারেটিভ এআইয়ের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ প্রবণতা, সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং বিভিন্ন খাতের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, গবেষণা, ব্যবসা ও সামাজিক জীবনে এআই কী ধরনের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যাবে এই পর্বে। লিংক: [https://youtu.be/ewnBsnr7QRA](https://youtu.be/ewnBsnr7QRA) কোর্সটি ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করলে একজন নতুন শিক্ষার্থী প্রথমে জেনারেটিভ এআইয়ের ভিত্তি বুঝতে পারবেন এবং পরে এর বিশেষায়িত প্রয়োগ, সীমাবদ্ধতা ও নৈতিক দিক সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি এআইয়ের সামাজিক প্রভাব বোঝার সুযোগ থাকায় কোর্সটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক, উদ্যোক্তা, কনটেন্ট নির্মাতা ও বিভিন্ন খাতের পেশাজীবীদের জন্য একটি কার্যকর প্রাথমিক শেখার গাইড হতে পারে।
শৈশব থেকেই স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক হবেন। কঠিন পথ পার হয়ে সেই লালিত স্বপ্ন সত্যিও করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের তরুণ থমাস কেলি। ২০১৭ সালে ডাক্তারি পাস করে নাম লেখান মহৎ এই পেশায়। তবে বাস্তবে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে কঠিন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি। কাজের মাত্রাতিরিক্ত চাপ, রোগীর উপচে পড়া ভিড় আর নিত্যদিনের প্রশাসনিক কাগজের পাহাড় তাকে ঠেলে দেয় তীব্র মানসিক ক্লান্তির (বার্নআউট) দিকে। অবশেষে সেই ক্লান্তিকর জীবন থেকে বাঁচতে ডাক্তারি পেশাকেই বিদায় জানান তিনি। কিন্তু গল্পটা সেখানে শেষ হয়নি। সেই অভিজ্ঞাতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তোলেন এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি, যার বাজারমূল্য এখন সাড়ে চারশো মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে অস্ট্রেলীয় এই তরুণ উদ্যোক্তার রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। ৩৩ বছর বয়সী ড. থমাস কেলি জানান, মেলবোর্নে ছোটবেলায় যে চিকিৎসকের কাছে তিনি যেতেন, তার অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। সেই অনুপ্রেরণাতেই ২০১৩ সালে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি ইউটিউবে শিক্ষামূলক ভিডিও তৈরি এবং মেডিকেলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের টিউটরিং শুরু করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের চাপ সামলাতে গিয়ে সময় বাঁচাতে তিনি প্রথম 'অস্কার' নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ইন্টারভিউ টিউটর তৈরি করেন, যা শিক্ষার্থীদের মেডিকেল ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতিতে সাহায্য করত। ২০২০ সালের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী এটি ব্যবহার শুরু করে। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে সরাসরি চিকিৎসাসেবায় যোগ দেওয়ার পর কেলি অনুধাবন করেন, বাস্তব চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। তিনি বলেন, "একজন রোগীর জন্য মাত্র ১০ মিনিট সময় পাওয়া যেত। দিনে প্রায় ১০০ জন রোগী দেখতে হতো, তার ওপর শত শত পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর কাজের সমন্বয় করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দৌড়ে কাটাতে হতো। একজন চিকিৎসকের মূল কাজ রোগীর কথা মন দিয়ে শোনা, কিন্তু সেই সুযোগটাই ছিল না।" এই অতিরিক্ত চাপ ও বার্নআউট থেকে মুক্তি পেতে এবং অন্যান্য চিকিৎসকদের কাজ সহজ করতে কেলি সিদ্ধান্ত নেন এআই প্রযুক্তিকে চিকিৎসাক্ষেত্রে কাজে লাগানোর। তিনি চিন্তা করেন, যে প্রযুক্তি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর আলাপচারিতা বুঝতে পারে, তা নিশ্চয়ই চিকিৎসক ও রোগীর সাধারণ কথোপকথন শুনে প্রেসক্রিপশন ও ক্লিনিক্যাল নোট তৈরি করতে পারবে। ২০২১ সালে এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হন কেলি। একদিকে ভাস্কুলার সার্জারির উচ্চতর প্রশিক্ষণ, অন্যদিকে নিজের উদ্ভাবিত এআই প্রযুক্তিকে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন। ঝুঁকি নিয়ে তিনি চিকিৎসকের ক্যারিয়ারে বিরতি দেন এবং পুরোদমে এআই টুল তৈরির কাজে নেমে পড়েন। গড়ে তোলেন 'হাইডি' (Heidi) নামের একটি এআই মেডিকেল স্ক্রাইব। এই প্রযুক্তি চিকিৎসক ও রোগীর কথোপকথন শুনে সরাসরি ক্লিনিক্যাল নোট তৈরি করে দেয়, যা চিকিৎসকদের প্রশাসনিক কাজের বড় বোঝা দূর করে। কেলি বলেন, "আমি ভেবেছিলাম এই সুযোগটা না নিলে সারাজীবন আফসোস থেকে যাবে। অংক, ব্যবসা আর চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভিজ্ঞতা যাদের আছে, তাদের মধ্যে আমি এই ঝুঁকিটা নিতে পেরেছি।" বর্তমানে ‘হাইডি’ চিকিৎসকদের কাছে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রযুক্তিতে পরিণত হয়েছে। গত অক্টোবরে কোম্পানিটি ৬৫ মিলিয়ন ডলারের সিরিজ-বি অর্থায়ন নিশ্চিত করে, যার মাধ্যমে এর আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬৫ মিলিয়ন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকারও বেশি)। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। একটি সরকারি প্রেসক্রিপশন লেখার যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে গোটা চিকিৎসা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা থমাস কেলি প্রমাণ করেছেন উদ্ভাবনী চিন্তা ও সাহসের মাধ্যমে যেকোনো অচলাবস্থাকেই বিরাট সাফল্যে রূপান্তর করা সম্ভব।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাবে যারা চাকরি হারাচ্ছেন, তাদের জন্য আশার আলো নিয়ে এসেছে 'এআই ডিভিডেন্ড' নামের ১২ মাস মেয়াদি একটি নতুন কর্মসূচি। এই উদ্যোগের আওতায় এআইয়ের কারণে কাজ হারানো কর্মীদের প্রতি মাসে ১ হাজার ডলার করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আপাতত ২৫ থেকে ৫০ জন কর্মীকে নিয়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি শুরু হলেও ভবিষ্যতে এর পরিসর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ‘এআই কমন্স প্রজেক্ট’ এবং ‘হোয়াট উই উইল’ নামের দুটি অলাভজনক সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো, এআই যুগে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি তাদের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করা। নিজেদের ধরনের প্রথম এই উদ্যোগটি যোগ্য প্রার্থীদের ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত মাসিক ১ হাজার ডলার দেওয়ার পাশাপাশি তাদের দক্ষতা উন্নয়নেও কাজ করবে। চাকরি হারানো এসব কর্মীকে নতুন করে দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন রি-স্কিলিং ও আপ-স্কিলিং প্রোগ্রাম, এআই ট্রেনিং সার্টিফিকেশন, জব কোচিং এবং ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রস্তুত করার মতো সহায়তা দেওয়া হবে। এই আর্থিক সহায়তা পেতে আগ্রহীদের ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট ফর্মে নিজেদের পদবি এবং এআই কীভাবে তাদের কাজে প্রভাব ফেলেছে, তা বিস্তারিত জানাতে হবে। পাশাপাশি প্রাপ্ত অর্থ তারা কীভাবে কাজে লাগাবেন, সে বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণীও জমা দিতে হবে। এআই কমন্স প্রজেক্টের প্রতিষ্ঠাতা নিক সালাজারের মতে, সামাজিক নিরাপত্তার জালকে এআইয়ের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, যা বর্তমানে বেশ পিছিয়ে আছে। তিনি জানান, মানুষ এখনই কাজ হারাচ্ছে, তাই এই সমস্যা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে কেবল গবেষণা করার মতো সময় নেই। ইতিমধ্যেই এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্যদের অর্থ ও সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে। শ্রমবাজারের পরিবর্তনের এই সময়ে এআই নীতিমালায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে কর্মসূচিটি চাকরি হারানো কর্মীদের বাস্তব তথ্য-উপাত্তও সংগ্রহ করছে। অন্যদিকে, সান ডিয়েগোর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০ শতাংশ চাকরি স্বয়ংক্রিয় হয়ে যেতে পারে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ক্ল্যারিক্যাল বা করণিক এবং কাস্টমার সার্ভিসের মতো চাকরিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ডিজিটাল ব্যাংকিং ও সেলফ-চেকআউট বৃদ্ধির ফলে ব্যাংক টেলার ও ক্যাশিয়ার পদের চাহিদাও দ্রুত কমছে। গবেষণার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী এক দশকের মধ্যে ৫৯ শতাংশ কর্মীর নতুন করে দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই শুধু চাকরি কেড়ে নিচ্ছে না, বরং কাজের ধরন পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে; তাই ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে এই পরিবর্তনগুলো বোঝা ও নতুন দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ ডাটা সেন্টার হাব হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ভার্জিনিয়ার "ডাটা সেন্টার অ্যালির" কাছাকাছি বসবাসকারী এক বাসিন্দার মাসিক বিদ্যুৎ বিল হঠাৎ এক ধাক্কায় ১০০ ডলার থেকে বেড়ে ২৮১ ডলারে পৌঁছেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড কম্পিউটিং প্রযুক্তির কারণে এ অঞ্চলে বিদ্যুতের যে তীব্র সংকট ও চাহিদা তৈরি হয়েছে, এই ঘটনা তা নতুন করে সামনে নিয়ে এল। উত্তর ভার্জিনিয়ায় বর্তমানে ৩০০টিরও বেশি ডাটা সেন্টার রয়েছে, যা সারা বিশ্বের বিপুল পরিমাণ ইন্টারনেট ট্রাফিক পরিচালনা করে। এসব এআই ও প্রযুক্তিগত স্থাপনার বিশাল বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে নতুন পাওয়ার লাইন, সাবস্টেশন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ভোক্তা অধিকার রক্ষায় সোচ্চার সংগঠনগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, ডাটা সেন্টারের কারণে বিদ্যুৎ খাতের এই বিশাল অবকাঠামো নির্মাণের খরচ শেষ পর্যন্ত সাধারণ আবাসিক গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো গ্রাহকের বিলে হঠাৎ এত বড় পরিবর্তনের পেছনে কেবল ডাটা সেন্টার নয়—পরিবর্তিত আবহাওয়া, গৃহস্থালি ব্যবহার এবং নির্ধারিত বিদ্যুৎ মাশুলের পরিবর্তনসহ একাধিক কারণও ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে চাকরির বাজার আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এর দ্রুত বিস্তার, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ব্যয় সংকোচন, ধারাবাহিক কর্মী ছাঁটাই এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের ফলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স ইঞ্জিনিয়ার, ডেভঅপস, ডেটা ও অন্যান্য আইটি পেশাজীবীদের জন্য চাকরি পাওয়া এখন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন বাস্তবতায় লিংকডইনে হাজার হাজার চাকরির বিজ্ঞাপন থাকলেও অনেক আবেদনকারী মাসের পর মাস কোনো সাড়া পাচ্ছেন না। কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করেন এমন পেশাজীবীদের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে তথাকথিত “ঘোস্ট জব” অর্থাৎ এমন চাকরির বিজ্ঞাপন, যেগুলো সক্রিয়ভাবে নিয়োগের জন্য নয় বা পদ পূরণ হয়ে যাওয়ার পরও সরানো হয়নি প্রার্থীদের বিভ্রান্ত করে। তবে এর অর্থ এই নয় যে লিংকডইনের সব চাকরির বিজ্ঞাপন ভুয়া। অনেক ক্ষেত্রেই তীব্র প্রতিযোগিতা, স্বয়ংক্রিয় আবেদন বাছাই ব্যবস্থা ATS এবং দুর্বল আবেদনপত্রের কারণেও যোগ্য প্রার্থীরা প্রাথমিক পর্যায়েই বাদ পড়ে যান। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু বেশি আবেদন করলেই হবে না; প্রতিটি আবেদন হতে হবে পরিকল্পিত, লক্ষ্যভিত্তিক এবং মানসম্মত। ডেলয়েট সার্ভিসেস এলপির ট্রানজিশন অ্যাসিস্ট্যান্স ম্যানেজার আইলিন ব্যাক্সটার বলেন, সব চাকরির জন্য একই রেজুমে ব্যবহার করার সময় এখন আর নেই। প্রতিটি চাকরির বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিল রেখে রেজুমে কাস্টমাইজ করা উচিত। তার মতে, নিয়োগকারী বা হায়ারিং ম্যানেজাররা সাধারণত মাত্র ৬ থেকে ১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে একটি রেজুমে প্রাথমিকভাবে মূল্যায়ন করেন। তাই আবেদনকারীর গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং অর্জন এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে অল্প সময়েই সেগুলো স্পষ্টভাবে নজরে আসে। একই প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস রিক্রুটিং স্পেশালিস্ট সোফিয়া ফানুচ্চি বলেন, চাকরির জন্য আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পদের চাহিদা ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে সেই অনুযায়ী রেজুমে প্রস্তুত করা জরুরি। পাশাপাশি সাক্ষাৎকারে রেজুমেতে উল্লেখ করা প্রতিটি অভিজ্ঞতা ও অর্জন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাখ্যা করার প্রস্তুতিও থাকতে হবে। তার মতে, ভালো প্রস্তুতি ও লক্ষ্যভিত্তিক আবেদনই একজন প্রার্থীকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রাখতে পারে। চাকরির জন্য আবেদন করার আগে প্রথমেই যাচাই করা উচিত, বিজ্ঞাপনটি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিজস্ব ক্যারিয়ার ওয়েবসাইটেও রয়েছে কি না। যদি একই পদ সেখানে সক্রিয় অবস্থায় থাকে, তাহলে সেটি সাধারণত বেশি নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি কোম্পানির ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করলে সেটি নিয়োগকারীদের কাছে বেশি গুরুত্বও পায়। একই জীবনবৃত্তান্ত বা রেজুমে দিয়ে শত শত চাকরিতে আবেদন করার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি চাকরির বিবরণ মনোযোগ দিয়ে পড়ে সেই অনুযায়ী রেজুমে হালনাগাদ করা উচিত। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা দক্ষতা, প্রযুক্তি বা সফটওয়্যারের সঙ্গে আবেদনকারীর বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকলে তা রেজুমেতে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা জরুরি। এতে ATS সফটওয়্যার এবং নিয়োগকারী উভয়ের কাছেই আবেদনটি বেশি গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। সম্ভব হলে প্রতিটি আবেদনের সঙ্গে আলাদা কভার লেটার যুক্ত করা উচিত। সেখানে কেন ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে চান এবং কীভাবে নিজের অভিজ্ঞতা চাকরির চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা সংক্ষেপে তুলে ধরলে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। বর্তমান চাকরির বাজারে একটি শক্তিশালী লিংকডইন প্রোফাইলও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রোফাইলে সর্বশেষ কর্ম-অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, প্রকল্প, অর্জন এবং সার্টিফিকেশন হালনাগাদ রাখা উচিত। অনেক নিয়োগকারী আবেদনকারীর রেজুমে দেখার আগেই তার লিংকডইন প্রোফাইল পর্যালোচনা করেন। সফটওয়্যার ডেভেলপার, টেস্ট অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ার কিংবা অন্যান্য প্রযুক্তি পেশাজীবীদের জন্য গিটহাব, ব্যক্তিগত পোর্টফোলিও বা প্রযুক্তিগত প্রকল্পের লিংক যুক্ত করা বড় সুবিধা হতে পারে। বাস্তব প্রকল্পে কাজের নমুনা নিয়োগকারীর কাছে আবেদনকারীর দক্ষতার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। নিয়োগকারী বা রিক্রুটারের ইমেইলের জবাবও পেশাদারভাবে দেওয়া উচিত। ইমেইলের ভাষা সংক্ষিপ্ত, ভদ্র ও আগ্রহপূর্ণ হওয়া জরুরি। পাশাপাশি একটি মানসম্মত ইমেইল সিগনেচারে নিজের পূর্ণ নাম, ফোন নম্বর, ইমেইল ঠিকানা, লিংকডইন প্রোফাইল এবং প্রয়োজন হলে পোর্টফোলিও বা গিটহাবের লিংক যুক্ত রাখা ভালো। চাকরির বাজারে পেশাগত সার্টিফিকেশনের গুরুত্বও বেড়েছে। অনেক অভিজ্ঞ পেশাজীবী বছরের পর বছর কাজ করলেও কোনো প্রযুক্তিনির্ভর বা পেশাগত সার্টিফিকেট অর্জন করেননি। কিন্তু বর্তমানে AWS, Microsoft Azure, Google Cloud, ISTQB, Scrum, PMP, CompTIA, Cisco, Salesforce কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির স্বীকৃত সার্টিফিকেশন অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। যে পেশায় কাজ করছেন, সেই ক্ষেত্রের প্রাসঙ্গিক সার্টিফিকেট অর্জন এখন আর অতিরিক্ত যোগ্যতা নয়; বরং প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার গুরুত্বপূর্ণ উপায়। লিংকডইনে পূর্বের ম্যানেজার, টিম লিড বা সহকর্মীদের কাছ থেকে রেকমেন্ডেশন সংগ্রহ করাও আবেদনকারীর বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়। বাস্তব কর্ম-অভিজ্ঞতার প্রশংসাসূচক মন্তব্য অনেক সময় নিয়োগকারীর কাছে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করে। শুধু লিংকডইনের ওপর নির্ভর না করে Indeed, Dice, Monster এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য চাকরির প্ল্যাটফর্মেও নিয়মিত সক্রিয় থাকা উচিত। প্রোফাইল ও রেজুমে নিয়মিত হালনাগাদ করলে অনেক প্ল্যাটফর্মে আবেদনকারীর প্রোফাইল সার্চ ফলাফলে বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া পেশাগত নেটওয়ার্কিং এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাবেক সহকর্মী, ম্যানেজার, রিক্রুটার কিংবা একই পেশার অন্যান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা, প্রযুক্তিভিত্তিক অনলাইন কমিউনিটিতে অংশ নেওয়া এবং ভার্চুয়াল বা সরাসরি নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে অংশগ্রহণ করলে নতুন চাকরির সুযোগ সম্পর্কে দ্রুত জানা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান চাকরির বাজারে সফল হতে শুধু বেশি আবেদন করাই যথেষ্ট নয়। প্রতিটি আবেদনকে লক্ষ্যভিত্তিক, মানসম্মত ও তথ্যসমৃদ্ধ করতে হবে। হালনাগাদ রেজুমে, শক্তিশালী লিংকডইন প্রোফাইল, প্রাসঙ্গিক সার্টিফিকেশন, পেশাদার যোগাযোগ এবং ধারাবাহিক দক্ষতা উন্নয়নের সমন্বয়ই চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে।
মাকে প্রাণঘাতী স্নায়ুরোগে হারানোর বেদনাই যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (জর্জিয়া টেক)-এর শিক্ষার্থী মেঘনা আইয়ারকে এমন এক গবেষণার পথে নিয়ে যায়, যা ভবিষ্যতে ALS, আলঝেইমারস ও ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়ার মতো জটিল স্নায়ুবিক রোগ নিয়ে গবেষণার ধরণ বদলে দিতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় তিনি ও তার গবেষণা দল প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ বায়োমেডিক্যাল গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করে এই তিনটি রোগের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক সম্পর্কের সন্ধান পেয়েছেন। জর্জিয়া টেক জানিয়েছে, মেঘনার মা সুনীতি আইয়ার অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস (ALS) রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি রোগটি সম্পর্কে গভীরভাবে জানার আগ্রহী হয়ে ওঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রথম বছরেই তিনি অধ্যাপক ক্যাসি মিচেলের নেতৃত্বাধীন ‘ল্যাবরেটরি ফর প্যাথোলজি ডায়নামিকস’-এ গবেষণায় যুক্ত হন। গবেষণায় এআই ব্যবহার করে বিশাল সংখ্যক বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, ALS, আলঝেইমারস এবং ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়ার মধ্যে এমন কিছু জৈবিক মিল রয়েছে, যা গবেষকদের রোগগুলোকে আলাদা করে নয়, বরং একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে বিশ্লেষণ করতে সহায়তা করতে পারে। গবেষকদের মতে, এই সম্পর্ক নতুন চিকিৎসা আবিষ্কার করে না, তবে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে। ২০২৫ সালের জুনে মেঘনার মা মারা যান। মেয়ের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের দিনটি তিনি দেখে যেতে পারেননি। কিন্তু ব্যক্তিগত সেই শোকই মেঘনাকে আরও দৃঢ় করে তোলে। মায়ের মৃত্যুর তিন সপ্তাহ পর তিনি আবার গবেষণাগারে ফিরে আসেন এবং গবেষণার কাজ সম্পন্ন করেন। পরে গবেষণাটি আন্তর্জাতিক পিয়ার-রিভিউ সাময়িকী Biomedicines-এ প্রকাশিত হয়। একজন স্নাতক শিক্ষার্থী হিসেবে গবেষণাপত্রটির প্রথম লেখক (ফার্স্ট অথর) হওয়ার বিরল কৃতিত্বও অর্জন করেন তিনি। মেঘনার গবেষণার ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে SemNet Explorer নামে একটি নতুন এআইভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গবেষকরা কোটি কোটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র দ্রুত বিশ্লেষণ করে রোগগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক খুঁজে বের করতে পারবেন। একই সঙ্গে এআই কীভাবে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, তার ব্যাখ্যাও দেখতে পারবেন গবেষকরা, যা ভবিষ্যৎ গবেষণাকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করতে সহায়তা করবে। জর্জিয়া টেকের অধ্যাপক ক্যাসি মিচেলের ভাষায়, মেঘনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও গবেষণার প্রতি অঙ্গীকার এই প্রকল্পকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। আর মেঘনার আশা, তার মাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলেও এই গবেষণা একদিন হয়তো অন্য কোনো পরিবারকে একই ধরনের বেদনা থেকে রক্ষা করার পথ তৈরি করবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পরিচালিত সাইবার হামলা এবং র্যানসমওয়্যার আক্রমণের সংখ্যা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এসব হামলায় প্রতিষ্ঠানের সংবেদনশীল তথ্য চুরি হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। সর্বশেষ কোকা-কোলার মালিকানাধীন ডেইরি কোম্পানি ফেয়ারলাইফ জানিয়েছে, তাদের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার একটি অংশে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং সিস্টেম স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠান এ ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় সাইবার হামলাগুলো আরও দ্রুত, জটিল এবং লক্ষ্যভিত্তিক হয়ে উঠছে। এর ফলে তথ্য চুরি, মুক্তিপণ দাবি এবং সেবা ব্যাহত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস একটি নতুন সমন্বয় উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে। এর আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো একসঙ্গে কাজ করবে। লক্ষ্য হচ্ছে, উন্নত এআই ব্যবস্থায় শনাক্ত হওয়া সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতাগুলো দ্রুত শনাক্ত করা, তথ্য বিনিময় করা এবং সমন্বিতভাবে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার না করলে ভবিষ্যতে সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতেই আরও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পরীক্ষায় নকলের সন্দেহে মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রের আইভি লিগভুক্ত ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কোর্সে গড় নম্বর ৯৬ শতাংশ থেকে নেমে ৪৮.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে ১৮ জন শিক্ষার্থী কোর্স থেকে নাম প্রত্যাহার করেন এবং প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। ঘটনাটি উচ্চশিক্ষায় এআই ব্যবহারের নৈতিকতা এবং একাডেমিক সততা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইনসাইড হায়ার এড-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রবার্তো সেরানো চলতি বসন্ত সেমিস্টারে ‘ওয়েলফেয়ার ইকোনমিক্স অ্যান্ড সোশ্যাল চয়েস থিওরি’ কোর্সে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো টেক-হোম মিডটার্ম পরীক্ষা নেন। পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর তিনি লক্ষ্য করেন, শিক্ষার্থীদের অনেক উত্তরপত্রে একই ধরনের ভাষা, গাণিতিক বিশ্লেষণ এবং প্রমাণ উপস্থাপনের ধরণ দেখা যাচ্ছে। তার সন্দেহ হয়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে উত্তর তৈরি করেছে। যদিও এ অভিযোগে কোনো শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে দোষী ঘোষণা করা হয়নি। এরপর অধ্যাপক সেরানো সিদ্ধান্ত নেন, চূড়ান্ত পরীক্ষা (ফাইনাল) হবে সম্পূর্ণ ইন-পার্সন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের জানান, মিডটার্ম ও ফাইনালের ফলাফলের মধ্যে বড় ধরনের অমিল দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে। এই ঘোষণার পর ১৮ জন শিক্ষার্থী কোর্স থেকে নাম প্রত্যাহার করেন। যারা ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেন, তাদের গড় নম্বর নেমে আসে ৪৮.৬ শতাংশে, যা ওই কোর্সের ইতিহাসে সর্বনিম্ন বলে দাবি করেন অধ্যাপক সেরানো। একই সঙ্গে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করতে ব্যর্থ হন। ঘটনার পর অধ্যাপক সেরানো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, সম্ভাব্য প্রতিটি একাডেমিক অসদাচরণের অভিযোগ আলাদাভাবে জমা দিতে বলা হয়েছে, যা এত বড় সংখ্যক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে একজন শিক্ষকের জন্য অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। অন্যদিকে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, একাডেমিক অসদাচরণের প্রতিটি অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী পৃথকভাবে তদন্ত করা হয় এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জেনারেটিভ এআই দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ইন-পার্সন পরীক্ষা, মৌখিক মূল্যায়ন, প্রকল্পভিত্তিক পরীক্ষা এবং এআই ব্যবহারের সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনাও দেখিয়ে দিয়েছে, এআই-নির্ভর যুগে একাডেমিক সততা রক্ষায় প্রচলিত মূল্যায়ন পদ্ধতি নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনে গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে কর্মী ছাঁটাই অব্যাহত রয়েছে। ২০২২ সাল থেকে শুরু হওয়া পুনর্গঠন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ৫৭ হাজারের বেশি করপোরেট কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। এর মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারিতেই প্রায় ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, শুধু চাকরি হারানো কর্মীরাই নন, প্রতিষ্ঠানে থেকে যাওয়া কর্মীরাও এখন বাড়তি কাজের চাপ, মানসিক ক্লান্তি এবং অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য নেক্সট ওয়েব (টিএনডব্লিউ)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে আগের সমপরিমাণ কাজ এখন কমসংখ্যক কর্মীকে সামলাতে হচ্ছে। অনেক কর্মী একাধিক দলের দায়িত্ব পালন করছেন, ফলে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ বেড়েছে। অনেকের মতে, চাকরি টিকে থাকলেও কাজের পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। একই সময়ে প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠান—মেটা, মাইক্রোসফট, সিসকো ও ওরাকল—এছাড়াও হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। ফলে প্রযুক্তি খাতে নতুন চাকরির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে এবং প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগে যেখানে একজন প্রযুক্তি পেশাজীবীর নতুন চাকরি পেতে গড়ে চার মাস সময় লাগত, এখন অনেকের ক্ষেত্রে সেই সময় বেড়ে ১৮ মাস পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতে নিয়োগের ধীরগতি এবং ব্যাপক ছাঁটাইয়ের কারণে অভিজ্ঞ পেশাজীবীরাও দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ছে বেতন, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও। অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি জ্যাসি এর আগে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানকে আরও দক্ষ, দ্রুতগতির এবং কম প্রশাসনিক স্তরবিশিষ্ট করতে পুনর্গঠন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগের ফলে অনেক ক্ষেত্রে কর্মীসংখ্যা পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে কিছু ধরনের করপোরেট চাকরির চাহিদা আরও কমতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যামাজনের এই পরিস্থিতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়; বরং পুরো প্রযুক্তি শিল্পের পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। মহামারির সময় দ্রুত সম্প্রসারণের পর এখন অধিকাংশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং এআই-নির্ভর কার্যক্রমে জোর দিচ্ছে। এর ফলে একদিকে কর্মী ছাঁটাই অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে যারা চাকরিতে রয়েছেন তাদের ওপরও বাড়ছে কাজের চাপ ও কর্মদক্ষতার প্রত্যাশা। শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরে প্রযুক্তি খাতের চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে। তাই বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাকরিপ্রার্থীদের নতুন প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডেটা-সংশ্লিষ্ট দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
ভারতের বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি সেবা প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে কার্যক্রম জোরদার করতে সর্বোচ্চ ৮,৯০০ জন বিশেষজ্ঞের একটি দল গঠনের পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে এআই, ডেটা সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা খাতে নতুন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে কোম্পানিটি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টিসিএসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে. কৃতিভাসন বলেন, ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীর ১ থেকে ১.৫ শতাংশকে ‘ফরওয়ার্ড-ডিপ্লয়েড ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। জুন মাসের শেষে প্রতিষ্ঠানের কর্মীসংখ্যার ভিত্তিতে এ সংখ্যা প্রায় ৫,৯০০ থেকে ৮,৯০০ জন হতে পারে। এই প্রকৌশলীরা সরাসরি গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে তাদের ব্যবসায়িক চাহিদা অনুযায়ী এআই প্রযুক্তি বাস্তবায়ন এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে নতুন প্রযুক্তির সমন্বয় করবেন। টিসিএসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা সমীর সেকসারিয়া জানান, দীর্ঘদিন নিজস্ব সক্ষমতার ওপর নির্ভর করলেও এখন কোম্পানিটি কৌশলগতভাবে এআই, ডেটা সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা খাতে অধিগ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনা করছে। কৃতিভাসনের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আইটি আউটসোর্সিং শিল্পের জন্য হুমকি নয়; বরং এটি নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এআই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য অভিজ্ঞ প্রযুক্তি অংশীদারের প্রয়োজন হবে, আর সেখানেই টিসিএস নিজেদের শক্ত অবস্থানে দেখতে চায়। জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে ভারতের প্রায় ৩১৫ বিলিয়ন ডলারের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারীর আশঙ্কা, এআইয়ের কারণে প্রকৌশলীর চাহিদা কমে যেতে পারে। তবে টিসিএসসহ ভারতের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে, এআই বরং নতুন ধরনের দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তি সেবার চাহিদা সৃষ্টি করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণের চাহিদা। আর সেই চাহিদা পূরণে এবার দেশটির বিভিন্ন আদিবাসী ভূমিকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করছে একাধিক প্রযুক্তি কোম্পানি। এতে কিছু উপজাতি অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ দেখলেও, অন্যরা পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের ওকলাহোমা সিটি থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত ক্যাডো নেশন সম্প্রদায়ের নেতৃত্বের একটি অংশ মনে করছে, ডেটা সেন্টার প্রকল্প তাদের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হতে পারে। ২০১৭ সালে উপজাতিটির ক্যাসিনো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে তাদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হারিয়ে যায়। এরপর থেকেই কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আয়ের নতুন পথ খুঁজছে সম্প্রদায়টি। ক্যাডো নেশনের চেয়ারম্যান ববি গঞ্জালেজ বলেন, তাদের সম্প্রদায় দরিদ্র নয়, তবে অর্থনৈতিকভাবে চরম সংকটে রয়েছে। তার মতে, ডেটা সেন্টার নির্মাণ নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং উপজাতির আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে একই সম্প্রদায়ের সবাই এই উদ্যোগকে সমর্থন করছেন না। ওকলাহোমার বিঙ্গার শহরে ক্যাডো সম্প্রদায়ের সাবেক কাউন্সিল সদস্য ট্রেসি নিউকুমেট বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াও জীবনযাপন করা সম্ভব, কিন্তু পানির বিকল্প নেই। তার আশঙ্কা, ডেটা সেন্টার পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহারের কারণে ভবিষ্যতে স্থানীয় জলসম্পদের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি হতে পারে। ডেটা সেন্টারগুলো সার্বক্ষণিক চালু রাখতে উচ্চক্ষমতার সার্ভার ঠান্ডা রাখার জন্য বিপুল পরিমাণ পানি ও বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ইতোমধ্যে এসব প্রকল্পকে কেন্দ্র করে পানি ব্যবহার, বিদ্যুৎ সরবরাহ, শব্দদূষণ এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও জানিয়েছেন। আদিবাসী ভূমিকে ঘিরে এই বিতর্ক আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বহুবার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি ও সম্পদ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। ফলে নতুন প্রকল্পগুলো নিয়েও অনেকের মধ্যে সতর্কতা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল কংগ্রেস অব আমেরিকান ইন্ডিয়ানস (এনসিএআই) এই খাতে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি হোয়াইট হাউসে জমা দেওয়া এক মতামতে বলেছে, উপজাতীয় ভূমি বিস্তৃত, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং সেখানে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে এসব অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণ পরিকল্পনার পর প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ আরও বেড়েছে। তবে আদিবাসী নেতারা জোর দিয়ে বলছেন, যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্মতি, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এআই প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হলেও, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার প্রশ্নও সমান গুরুত্ব নিয়ে সামনে এসেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি যে নতুন প্রজন্মের উদ্ভাবকদের জন্য অভাবনীয় সব সুযোগ তৈরি করছে, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মানা জাম্পালা। কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বাসিন্দা এই কিশোরীর বয়স মাত্র ১২ বছর। আর এই বয়সেই সে 'ভোক্সা' (Voxa) নামের একটি এআই-চালিত রিসেপশনিস্ট বা স্বয়ংক্রিয় অভ্যর্থনাকারী সিস্টেম তৈরি করে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে। মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে গ্রাহক সেবায় সহায়তা করার অভিনব এক লক্ষ্য নিয়েই প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করেছে খুদে এই উদ্যোক্তা। গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে 'ভোক্সা' বাজারে আনে মানা জাম্পালা। ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় লোকবলের অভাবে বা কাজের চাপে সব গ্রাহকের ফোন কল রিসিভ করতে পারে না, যার ফলে সম্ভাব্য ক্রেতা বা ক্লায়েন্ট হারানোর প্রবল ঝুঁকি থাকে। মানার তৈরি এই আধুনিক এআই রিসেপশনিস্ট ঠিক সেই সমস্যারই সমাধান নিয়ে এসেছে। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ভুলতার সাথে গ্রাহকদের ফোন কল গ্রহণ করতে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান করতে সক্ষম। এর ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানেরই আর নতুন কোনো গ্রাহক হারানোর ভয় থাকবে না। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মানা জানায়, এমন একটি দরকারি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পেছনের অনুপ্রেরণা সে পেয়েছিল তার বাবার কর্মস্থল থেকে। বাবার অফিসে সময় কাটানোর সময়ই সে প্রথম লক্ষ্য করে যে, কীভাবে ছোট ব্যবসাগুলো প্রতিদিন গ্রাহকদের কল সামলাতে গিয়ে হিমশিম খায়। সেখান থেকেই তার মাথায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি স্মার্ট ও সাশ্রয়ী রিসেপশনিস্ট তৈরির আইডিয়া আসে। মাত্র ১২ বছর বয়সেই এমন একটি বাস্তবমুখী ও কার্যকরী প্রযুক্তি তৈরি করে মানা প্রমাণ করেছে যে, মেধা ও উদ্ভাবনী চিন্তার কাছে বয়স কোনো বাধাই নয়।
১৭ বছর বয়সী মার্কিন স্কুলছাত্র এডওয়ার্ড ক্যাং 'রেটিনামাইন্ড' (RetinaMind) নামের একটি অভিনব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই টুল উদ্ভাবন করেছেন, যা কেবল চোখের রেটিনা স্ক্যান করেই অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (এএসডি) এবং অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (এডিএইচডি) শনাক্ত করতে সক্ষম। নিউজার্সির বার্গেন কাউন্টি অ্যাকাডেমির এই শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে কোডিং শিখে এই ডিপ-লার্নিং কনভোল্যুশনাল নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন। হংকংয়ের একটি গবেষণায় চোখের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মস্তিষ্কের বিকাশের যোগসূত্র আবিষ্কারের বিষয়টি মূলত তাকে এই কাজে অনুপ্রাণিত করেছিল। মানুষের সাধারণ দৃষ্টিতে রেটিনার ম্যাকুলা এবং নার্ভ স্তরের দৈর্ঘ্য, পুরুত্ব ও গভীরতার যে সূক্ষ্ম ও জটিল পার্থক্যগুলো ধরা পড়ে না, রেটিনামাইন্ড টুলটি সেটিই নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করতে পারে। একাধিক প্রেডিকটিভ মডেলের সমন্বয়ে তৈরি এই সিস্টেমটি রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রায় ৮৯ থেকে ৯০ শতাংশ নির্ভুল ফলাফল দিতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতে অটিজম ও এডিএইচডি শনাক্তকরণে একটি যুগান্তকারী, ব্যথামুক্ত এবং অত্যন্ত সাশ্রয়ী স্ক্রিনিং পদ্ধতি হয়ে উঠতে পারে। অটিজম এবং এডিএইচডির ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তরে রোগ নির্ণয় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রচলিত আচরণগত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল এবং এতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। নিজের এই গবেষণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি মজবুত করতে এডওয়ার্ড ক্যাং রেটিনার বিকাশ এবং স্নায়বিক ভিন্নতার জেনেটিক যোগসূত্র নিয়েও কাজ করেছেন। সেখানে তিনি রেটিনার কোষে পার্থক্যের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে 'এবিসিএ৪' (ABCA4) জিনকে চিহ্নিত করেন। এই যুগান্তকারী গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ 'রিজেনেরন সায়েন্স ট্যালেন্ট সার্চ' প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ১ লাখ ৭৫ হাজার ডলার পুরস্কার জিতেছেন এই কিশোর। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন যে রেটিনার এই সূক্ষ্ম কাঠামোগত পার্থক্য অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যার কারণেও হতে পারে। তবে ক্যাংয়ের এই এআই মডেলটি প্রমাণ করেছে যে, প্রযুক্তির সহায়তায় লুকানো বায়োমার্কারগুলো খুঁজে বের করে আগামী দিনে আরও দ্রুত, নিখুঁত ও কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি শুরু করা সম্ভব।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণে ব্যবহৃত মূল্যবান সরঞ্জাম ও তামার তার চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সম্প্রতি ১৩ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের ডেটা সেন্টার অবকাঠামো সরঞ্জাম ও তামার তার বহনকারী দুটি ট্রেলার চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কুক কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগোর একটি ট্রাক ইয়ার্ড থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি চুরি হওয়া ট্রাকের সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি ট্রেলারে প্রায় তিন লাখ ডলার মূল্যের তামার তার ছিল, যা আলাবামা থেকে চুরি করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা ট্রাকটির বিল্ট-ইন ট্র্যাকিং ডিভাইসের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখতে পান, ট্রেলারটি অক্ষত থাকলেও ট্রাকে ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নম্বরপ্লেট লাগানো ছিল। পরে তদন্তে জানা যায়, ওই নম্বরপ্লেটও উইসকনসিন থেকে চুরি করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, অপরাধীরা প্রথমে আলাবামা থেকে ট্রাকটি চুরি করে। এরপর পরিচয় গোপন করতে চুরি করা নম্বরপ্লেট লাগিয়ে সেটি ইলিনয়ে নিয়ে আসে। ট্রাক ইয়ার্ডের মালিক তদন্তকারীদের জানান, যে ব্যক্তি চুরি হওয়া ট্রাকটি সেখানে রেখে গিয়েছিল, সে এক সপ্তাহ আগেও আরেকটি ট্রাক একই স্থানে এনে রেখেছিল। পরে ওই দ্বিতীয় ট্রাকটির মালিক জানান, তার ট্রেলারটি ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিল থেকে চুরি হয়েছিল। এতে প্রায় ১০ লাখ ডলারের ডেটা সেন্টার অবকাঠামো সরঞ্জাম ছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ডেটা সেন্টারে সরবরাহ করার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই ট্রেলারের বর্তমান অবস্থান প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে ছয় মাসব্যাপী এক অনুসন্ধানে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র এখন সরবরাহ ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে মূল্যবান পণ্য চুরি করছে। তারা 'স্ট্র্যাটেজিক থেফট' নামে পরিচিত একটি কৌশল ব্যবহার করে ট্রাক পরিবহন প্রতিষ্ঠান, ব্রোকার বা ক্যারিয়ারদের প্রতারণার মাধ্যমে পণ্য কিংবা অর্থ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। কার্গো চুরি প্রতিরোধবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক কার্গোনেটের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর উত্তর আমেরিকায় প্রায় ৭২ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য চুরি হয়েছে। এসব চুরির বড় অংশই ছিল তামাসহ বিভিন্ন ধাতু এবং এন্টারপ্রাইজ কম্পিউটিং হার্ডওয়্যার। প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে ডেটা সেন্টারের কম্পিউটিং সরঞ্জাম এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং যন্ত্রপাতি। উচ্চ বাজারমূল্য ও বাড়তি চাহিদার কারণে এসব পণ্য চোরচক্রের কাছে ক্রমেই বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।