- প্রচ্ছদ
- Topic
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মধ্যে নতুন করে বাগ্যুদ্ধ শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউসের সংস্কারকাজ নিয়ে ওবামার একটি রসিকতার জবাবে ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা পাল্টা মন্তব্য করেছেন। একই সময়ে ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এসব ঘটনা ঘটছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণা, এআইনির্ভর কনটেন্ট এবং ওবামার সঙ্গে চলমান বাক্বিতণ্ডার বিষয়টি তুলে ধরেছেন লেখক হলি ব্যাক্সটার। প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি অনুসন্ধানের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের কাছে নিয়মিত তাঁর পক্ষে ইতিবাচক সংবাদ এবং এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও পৌঁছে দেওয়া হয়। এসব কনটেন্ট তৈরিতে ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির পরিচালক বিল পুল্টের ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে। তবে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে এসব কনটেন্টের সরাসরি প্রভাব কতটা, তা স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করা যায়নি। ট্রাম্প ও ওবামার সাম্প্রতিক বিরোধের সূত্রপাত ওহাইওর একটি নির্বাচনি সমাবেশে। সেখানে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস সংস্কার নিয়ে ব্যঙ্গ করেন ওবামা। অতিরিক্ত সোনালি সাজসজ্জার সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি রসিকতা করে বলেন, হোয়াইট হাউসকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যেন সাদ্দাম হোসেন একটি চিজকেক ফ্যাক্টরি খুলেছেন। চিজকেক ফ্যাক্টরি যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত রেস্টুরেন্ট চেইন। ওবামার মন্তব্যটি মূলত হোয়াইট হাউসের নতুন সাজসজ্জার ধরনকে ব্যঙ্গ করে করা হয়েছিল। তবে ওবামার এই রসিকতার সমালোচনা করেন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাঁদের দাবি, চিজকেক ফ্যাক্টরির প্রসঙ্গ টেনে ওবামা সাধারণ মানুষের পছন্দের রেস্টুরেন্টকে ছোট করেছেন। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, চিজকেক ফ্যাক্টরিতে গেলে তাঁর পছন্দের খাবারের একটি হলো ফ্রেঞ্চ ডিপ চিজবার্গার। রিপাবলিকান দলের কয়েকজন সমর্থকও ওবামার বক্তব্যকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে তাঁর নেতিবাচক মনোভাবের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। এরপর মিসিসিপির একটি নির্বাচনি সমাবেশে ওবামার বক্তব্যের জবাব দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, হোয়াইট হাউসের ভবন, স্তম্ভ ও পাথরের কাঠামো সুন্দর এবং পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। নিজের সংস্কারকাজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ওবামা পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি বোঝেন না। তবে হোয়াইট হাউসের সাজসজ্জা নিয়ে দুই নেতার এই মতবিরোধের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার আলোচনা আড়ালে পড়ে যাচ্ছে বলে দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের বিশ্লেষণে মন্তব্য করা হয়েছে। পরে আরেক নির্বাচনি সমাবেশে চিজকেক ফ্যাক্টরি নিয়ে নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেন ওবামা। তিনি জানান, দুই মেয়েকে বড় করার সময় প্রায়ই চিজকেক ফ্যাক্টরি এবং চাক ই চিজের মতো রেস্টুরেন্টে যেতেন। প্রায় এক দশক ধরে এসব রেস্টুরেন্ট তাঁর পারিবারিক জীবনের অংশ ছিল বলে মন্তব্য করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগের রসিকতাটি রেস্টুরেন্টের খাবার কিংবা সেখানে যাওয়া সাধারণ মানুষকে নিয়ে ছিল না; বরং হোয়াইট হাউসের সাজসজ্জা নিয়ে ছিল। এদিকে ট্রাম্পের এআই কনটেন্ট ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময় এমন ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে তাঁকে বাস্তবে ঘটেনি এমন পরিস্থিতিতে দেখানো হয়েছে। এসবের মধ্যে বাঘের সঙ্গে নাচের মতো কল্পিত দৃশ্যও রয়েছে। এআই দিয়ে তৈরি ছবি বা ভিডিও রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহার করা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, কারণ বাস্তব ঘটনা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি দৃশ্যের মধ্যে পার্থক্য অনেক সময় সাধারণ দর্শকের কাছে স্পষ্ট নাও হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। ওয়াশিংটন পোস্ট, এবিসি নিউজ ও ইপসোসের একটি জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৭ শতাংশ এআইকে সমাজের জন্য নেতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। একই জরিপে ৬৭ শতাংশ ট্রাম্পের এআই প্রযুক্তি পরিচালনাসংক্রান্ত নীতির প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন। অন্যদিকে এপি-এনওআরসির জরিপে ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেছেন, এআই প্রযুক্তি খুব দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। তবে এসব জরিপের ফল নির্দিষ্ট সময়ের জনমতের প্রতিফলন; তা দিয়ে সব মার্কিন নাগরিকের অবস্থান নির্ধারণ করা যায় না। প্রযুক্তিবিষয়ক এই উদ্বেগের সঙ্গে নির্বাচনি প্রচারণায় ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে। এআই ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তির কণ্ঠ, চেহারা কিংবা বক্তব্য বাস্তবের মতো করে তৈরি করা সম্ভব। ফলে রাজনীতিবিদদের নামে এমন ভিডিও ছড়ানো হতে পারে, যেখানে তাঁরা বাস্তবে বলেননি এমন কথাও শোনা যায়। এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার রাজনৈতিক প্রচারণায় স্বচ্ছতা এবং তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে। তবে সব এআইনির্ভর রাজনৈতিক কনটেন্টই মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তৈরি হয়, এমন নয়। কিছু কনটেন্ট ব্যঙ্গ বা বিনোদনের উদ্দেশ্যেও প্রকাশ করা হয়। এদিকে নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের কারণে তেল খাতের আয় নিয়েও মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানি খাতের কিছু প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে সাধারণ মানুষের জ্বালানির খরচ ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে চাপ রয়েছে। ডেমোক্র্যাট নেতারা প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনায় এই বিষয়গুলো তুলে ধরছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের বাণিজ্য, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের নির্দিষ্টসংখ্যক আসনে ভোট হবে। প্রেসিডেন্ট নিজে এ নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণে এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে ওবামা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থনে নির্বাচনি সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন। উভয় পক্ষই অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসনের জবাবদিহি ও অন্যান্য নীতিগত বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। সব মিলিয়ে নির্বাচনের শেষ সময়ে ট্রাম্প ও ওবামার মধ্যে হোয়াইট হাউসের সাজসজ্জা এবং রেস্টুরেন্ট নিয়ে শুরু হওয়া বাক্বিতণ্ডা এখন বড় রাজনৈতিক আলোচনায় পরিণত হয়েছে। এর পাশাপাশি ট্রাম্পের এআইনির্ভর রাজনৈতিক কনটেন্ট এবং প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে জনমতের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এসব বিতর্ক আগামী নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের ফলেই কংগ্রেসে দুই দলের প্রতিনিধিত্বের নতুন চিত্র স্পষ্ট হবে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, হলি ব্যাক্সটারের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, রয়টার্স,দ্য গার্ডিয়ান
ভারতের মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলায় ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অবৈধ মদ তৈরির একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, চক্রটির মূল অভিযুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে বাড়িতে মদ তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। পরে রাসায়নিক সংগ্রহ করে তৈরি করা তরল পুরোনো মদের বোতলে ভরে বাজারে সরবরাহ করা হয় বলে পুলিশের দাবি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে ও দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল অভিযুক্ত অজয় রাঠোর ভারতের ইন্দোরের বাসিন্দা। গত সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এআইয়ের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে বাড়িতে মদ তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পুলিশের ভাষ্য, এআই থেকে পাওয়া তথ্য ছিল অসম্পূর্ণ। এরপর তিনি ইন্টারনেটে রাসায়নিক সরবরাহকারীদের খুঁজে বের করে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তদন্তকারীদের দাবি, ইন্দোরের ‘রাইজিং ব্রাদার্স’ নামের একটি দ্রাবক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে রাসায়নিক সংগ্রহ করেন অজয়। ১ অক্টোবর রাসায়নিক পাওয়ার পর সহযোগীদের নিয়ে বাড়িতে অবৈধভাবে মদ তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি। পরে পুরোনো ও ফেলে দেওয়া মদের বোতলে তৈরি তরল ভরে বিক্রি করা হয়। আসল মদের সঙ্গে নকল মদ মিশিয়ে দেওয়ার ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের তথ্যমতে, ৬ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে এসব মদ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বিক্রি করা হয়। মূলত গ্রামাঞ্চলে সরবরাহ করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। পুরোনো বোতল এবং আসল মদের সঙ্গে মিশ্রণের কারণে ক্রেতাদের পক্ষে নকল পানীয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। অবৈধ সরবরাহের সঙ্গে কয়েকটি বৈধ মদের দোকানের ব্যবস্থাপক ও বিক্রয়কর্মীদেরও সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। রাসায়নিক সরবরাহের অভিযোগে ইন্দোরের ব্যবসায়ী আমান কাসলিওয়ালকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। যে গুদাম থেকে রাসায়নিক সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেটি সিল করে নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ। এ ছাড়া উদ্ধার করা মদের বোতল ও নিহত ব্যক্তিদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। দেওয়াস জেলার চান্দানা ও বিনজানা গ্রাম এবং আশপাশের এলাকায় ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ অক্টোবরের মধ্যে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা এসব মৃত্যুর সঙ্গে বিষাক্ত মদপানের সম্পর্ক থাকার দাবি করেছেন। তবে জেলা প্রশাসন শুরুতে বিষাক্ত মদপানে মৃত্যুর খবর অস্বীকার করেছিল। পরে বিষয়টি তদন্তে রাজ্য সরকার পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। এ ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এলেও নকল মদের সঙ্গে মৃত্যুগুলোর সরাসরি যোগসূত্র এখনো নিশ্চিত হয়নি। নিহত দুজনের দেহের নমুনা, উদ্ধার করা মদ এবং অন্যান্য আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল ও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, দ্য হিন্দু ও দ্য ডেইলি স্টার।
অ্যান্টিবায়োটিকে কাজ হচ্ছে না, এমন গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে নকশা করা ভাইরাস ব্যবহারের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান র্যাডিক্যাল নিউমেরিকস। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, তাদের ‘অমনি-১’ নামের এআই মডেল দিয়ে তৈরি ব্যাকটেরিওফাজ একজন রোগীর চিকিৎসায় প্রয়োগ করা হয়েছে। ২০ অক্টোবর নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ঘোষণায় তারা ঘটনাটিকে এ ধরনের ভাইরাসের প্রথম মানব-প্রয়োগ বলে উল্লেখ করে। তবে দাবিটি এখনো কোনো সমকক্ষ-পর্যালোচিত বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যাচাই হয়নি। ব্যাকটেরিওফাজ হলো এমন এক ধরনের ভাইরাস, যা নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে এবং ধ্বংস করতে পারে। এগুলো মানুষের কোষকে লক্ষ্য করে না। অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে ওঠা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ চিকিৎসায় এ ধরনের ভাইরাস ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন। প্রচলিত পদ্ধতিতে রোগীর শরীরে থাকা ব্যাকটেরিয়ার ধরন শনাক্ত করে তার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রাকৃতিক ভাইরাস খুঁজে বের করতে হয়। নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার জন্য উপযুক্ত ভাইরাস খুঁজে পাওয়া সময়সাপেক্ষ হতে পারে। র্যাডিক্যাল নিউমেরিকসের দাবি, তাদের অমনি-১ মডেল রোগীর সংক্রমণের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার ধরন শনাক্ত করে সেটিকে আক্রমণ করতে সক্ষম ব্যাকটেরিওফাজের নকশা তৈরি করতে পারে। প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীর শরীর থেকে সংগ্রহ করা ব্যাকটেরিয়ার নমুনার ওপর পরীক্ষাগারে এআই-নকশার ভাইরাসের কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। ওই পরীক্ষায় ভাইরাসের মিশ্রণটি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার নমুনা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। এরপর বিশেষ অনুমোদনপ্রাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থার আওতায় রোগীকে পরীক্ষামূলক চিকিৎসাটি দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসা পাওয়ার পর রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে কি না, সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। রোগীর রোগনির্ণয় ও চিকিৎসার বিস্তারিত তথ্যও গোপন রাখা হয়েছে। র্যাডিক্যাল নিউমেরিকস জানিয়েছে, রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থেই এসব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। ফলে পরীক্ষাগারে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের সাফল্যকে রোগীর শরীরে চিকিৎসার কার্যকারিতার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) ‘এক্সপ্যান্ডেড অ্যাকসেস’ বা বিশেষ ব্যবহারের ব্যবস্থায় গুরুতর অসুস্থ রোগীরা প্রচলিত চিকিৎসায় সন্তোষজনক বিকল্প না থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে পরীক্ষামূলক চিকিৎসা নিতে পারেন। এটি সাধারণ ব্যবহারের জন্য কোনো ওষুধ বা চিকিৎসাপদ্ধতির অনুমোদন নয়। এফডিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, এ ধরনের চিকিৎসার সম্ভাব্য উপকার ও ঝুঁকি বিবেচনা করে অনুমতি দেওয়া হয়। র্যাডিক্যাল নিউমেরিকসের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের তৈরি ভাইরাসও চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এ ধরনের ব্যবস্থায় প্রয়োগ করা হয়েছে। এআই দিয়ে ব্যাকটেরিওফাজ তৈরির গবেষণা অবশ্য এর আগেও হয়েছে। চলতি বছরের ৬ আগস্ট স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আর্ক ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা ‘ইভো-২’ নামের এআই মডেল ব্যবহার করে ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে এমন নতুন ভাইরাস নকশার গবেষণা প্রকাশ করেন। প্রায় ৩০০টি নকশা তৈরি ও পরীক্ষার পর ১৬টি কার্যকর ভাইরাস পাওয়া যায়। তবে ওই গবেষণা হয়েছিল পরীক্ষাগারে ব্যাকটেরিয়ার ওপর, কোনো মানুষের শরীরে নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ব্যাকটেরিওফাজ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণের চিকিৎসায় সম্ভাবনাময় হলেও এর কার্যকারিতা, নিরাপত্তা ও ব্যবহার নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। ব্যাকটেরিয়ার ধরনভেদে ভাইরাসের কার্যকারিতা বদলে যেতে পারে এবং ব্যাকটেরিয়াও সময়ের সঙ্গে ফাজের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। তাই এআই-নকশার ভাইরাস মানুষের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠায় নিয়ন্ত্রিত গবেষণা এবং দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ জরুরি। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, র্যাডিক্যাল নিউমেরিকস, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।
সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজে ২০২৭ সালে ১ হাজার ৭০০টির বেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। নিরাপত্তা টহল, অগ্নিনির্বাপণ, গবেষণা ও কৃষিকাজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব রোবট কাজে লাগানো হবে। দেশটির সরকার মনে করছে, বাস্তব কর্মপরিবেশে রোবট ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে সরকারি সেবার সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে দেশীয় রোবট নির্মাতারাও প্রযুক্তি উন্নয়নের সুযোগ পাবেন। দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প মন্ত্রণালয়ের ২৮ অক্টোবরের ঘোষণার বরাত দিয়ে সিউল ইকোনমিক ডেইলি জানিয়েছে, এ উদ্যোগে সরকারি ও সংশ্লিষ্ট নয়টি প্রতিষ্ঠান এবং দেশটির ১১টি রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে রেইনবো রোবোটিকস, রোবোটিস, হুন্দাই মোটর ও নিউবিলিটি। ২০২৭ সালে রোবট ব্যবহারের আগে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলো আলোচনা করে কাজের ধরন, প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও পরিচালনসংক্রান্ত শর্ত নির্ধারণ করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে শুধু মানুষের মতো দেখতে রোবটের ওপর নির্ভর করছে না দক্ষিণ কোরিয়া। বরং চাকার সাহায্যে চলতে পারে এমন রোবট এবং চার পায়ে চলা রোবট ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনায় নজরদারি, অগ্নিকাণ্ড বা দুর্যোগের স্থানে ঝুঁকি শনাক্ত, গবেষণাগারে কাজ এবং কৃষিক্ষেত্রে সহায়তার মতো কাজে এগুলো ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী রোবটের সক্ষমতা যাচাই করবে। এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো রোবটগুলোকে পরীক্ষাগার বা প্রদর্শনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে ব্যবহার করা। সেখানে কাজ করার সময় রোবটের কার্যক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা ও নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এসব তথ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পৌঁছালে তারা প্রযুক্তির দুর্বলতা চিহ্নিত করে উন্নয়ন করতে পারবে। একই সঙ্গে বাস্তব ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতেও রোবটের বাজার তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। রোবট ব্যবহারের পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং ত্রুটি দেখা দিলে মেরামতের বিষয়েও নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এসব নির্দেশিকা চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে রোবট ব্যবহারের পর রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংগৃহীত তথ্যের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটি সরকারি ও বেসরকারি খাতে রোবটের ব্যবহার বাড়িয়ে নিজস্ব রোবটশিল্পকে শক্তিশালী করতে চায়। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাথমিক ক্রেতা হিসেবে যুক্ত করে দেশীয় নির্মাতাদের পণ্য পরীক্ষা, উন্নয়ন ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। সূত্র: দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প মন্ত্রণালয়, সিউল ইকোনমিক ডেইলি।
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে মৃগীরোগের জটিলতায় ৩১ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় চ্যাটজিপিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই ও এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তাঁর বাবা-মা। পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে ওই তরুণী চ্যাটজিপিটির পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা না করেই জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মাত্রা কমিয়েছিলেন। এতে তাঁর মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোয়েন ওয়ান নামের ওই সফটওয়্যার প্রকৌশলী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান। তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মৃগীরোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ওষুধ গ্রহণ করছিলেন। মৃত্যুর সরকারি কারণ হিসেবে মৃগীরোগজনিত জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তাঁর খিঁচুনি হয়েছিল। পরে তিনি আর ফোনের উত্তর না দেওয়ায় চীনে থাকা তাঁর বাবা-মা পরিচিত একজনকে সিয়াটলের অ্যাপার্টমেন্টে খোঁজ নিতে বলেন। ওই পরিচিত ব্যক্তি সেখানে তাঁকে মৃত অবস্থায় পান। বোয়েনের বাবা-মা কুন ওয়ান ও মেইচিন শুয়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, মৃত্যুর আগের দিনগুলোতে তিনি চ্যাটজিপিটির সঙ্গে ওষুধের মাত্রা কমানোর বিষয়ে একাধিকবার আলোচনা করেছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, শুরুতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বললেও পরে চ্যাটবট তাঁকে নিজে থেকে ওষুধ কমানোর বিষয়ে উৎসাহিত করে। এমনকি চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর নির্ভর না করার জন্য তাঁকে প্রশংসা করা হয়েছিল বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে। পরিবারের আইনজীবীদের ভাষ্য, চ্যাটবটের এমন প্রতিক্রিয়া বোয়েনকে চিকিৎসাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল পথে পরিচালিত করেছিল। বোয়েন ২০২১ সাল থেকে শারীরিক সমস্যার কারণে আরও বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। সে সময় তাঁর দীর্ঘদিনের ওষুধে খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে যায় এবং কখনো দিনে একাধিকবার খিঁচুনি হতো। পরে তিনি অ্যামাজনে সফটওয়্যার প্রকৌশলীর চাকরি থেকে চিকিৎসাজনিত ছুটি নেন। একা বাইরে বের হলে খিঁচুনি হওয়ার আশঙ্কায় তিনি সামাজিক যোগাযোগও কমিয়ে দেন। ২০২৩ সালে সম্পর্কের পরামর্শ, বিমা এবং অক্ষমতাজনিত সুবিধা সম্পর্কে জানতে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার শুরু করেন। পরিবারের দাবি, ২০২৫ সালের মধ্যে তাঁর সঙ্গে চ্যাটবটের কথোপকথন সপ্তাহে প্রায় দেড় হাজার বার্তায় পৌঁছায়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে অ্যামাজনের চাকরি হারানোর পর তাঁর উদ্বেগ আরও বাড়ে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকার জন্য পরবর্তী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন চাকরি খুঁজে নেওয়া প্রয়োজন ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে নতুন একটি ওষুধে তাঁর খিঁচুনি আগের তুলনায় কমে এলেও চিন্তাভাবনা ও কথা বলার ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনুভব করছিলেন তিনি। চাকরির সাক্ষাৎকারে ইংরেজিতে কথা বলা এবং কারিগরি মূল্যায়নে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে চিন্তিত বোয়েন চ্যাটজিপিটিকে জানান, ওষুধের মাত্রা কমালে তাঁর ভাষাগত দক্ষতা কিছুটা ফিরতে পারে বলে তিনি আশা করছেন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বোয়েন মৃগীরোগের ওষুধের দৈনিক মাত্রা ৪০০ মিলিগ্রাম থেকে কমিয়ে ৩০০ এবং পরে ২০০ মিলিগ্রামে নামানোর বিষয়ে চ্যাটজিপিটির পরামর্শ চান। পরিবারের দাবি, চ্যাটবট একপর্যায়ে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওষুধের মাত্রা শূন্যে নামানোর একটি পরিকল্পনাও তৈরি করেছিল। মাত্রা কমানোর পর বোয়েন বিভ্রান্তি, বিছানায় কীভাবে পৌঁছেছেন তা মনে করতে না পারাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান। মামলায় বলা হয়েছে, তিনি মোট ১৫৮ বার নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু চ্যাটবট এসব সমস্যাকে মস্তিষ্কের সাময়িক ধীরগতির সঙ্গে তুলনা করে তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বোয়েনের মৃগীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিকোলাস পুলুস নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, তাঁর মতো রোগীকে কার্যকর ওষুধ বন্ধ করার পরামর্শ তিনি কখনো দিতেন না। চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী, খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ওষুধ নিজে থেকে কমানো বিপজ্জনক হতে পারে। মৃগীরোগের একটি গুরুতর জটিলতা হলো আকস্মিক অপ্রত্যাশিত মৃত্যু, যা পরিচিত সংক্ষেপে এসইউডিইপি নামে। এ ধরনের মৃত্যু অনেক সময় ঘুমের মধ্যে ঘটে। তবে বোয়েনের মৃত্যুর সঙ্গে চ্যাটজিপিটির পরামর্শের সরাসরি কার্যকারণ সম্পর্ক আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বোয়েনের পরিবারের দায়ের করা মামলায় ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে চিকিৎসা-সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়ার সীমা অতিক্রম এবং চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় কর্তৃত্বকে বাধা হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রিউ পুসাতের ঘটনাটিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, চ্যাটজিপিটি চিকিৎসাসেবার বিকল্প নয়। তবে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বোঝা, বিমা ও জটিল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার পথ খুঁজে পাওয়া এবং চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তুতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। ওপেনএআই জানিয়েছে, বোয়েন যে জিপিটি-৪ও মডেল ব্যবহার করেছিলেন, সেটি বর্তমানে আর উপলভ্য নেই। মডেলটির অতিরিক্ত সম্মতিপ্রবণ আচরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনুপযুক্ত প্রতিক্রিয়া নিয়ে আগে সমালোচনা হয়েছিল। মামলাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরামর্শের সীমা, ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের দায় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওপেনএআই বা এর প্রধান নির্বাহীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, বোয়েন ওয়ানের পরিবারের দায়ের করা মামলা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অভাবনীয় প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে এবার সংঘবদ্ধ অপরাধীদের নজর পড়েছে এর মূল্যবান সরঞ্জামের ওপর। অভিনব ডিজিটাল প্রতারণা ও হলিউড অ্যাকশন সিনেমার মতো দুঃসাহসিক কায়দায় ডেটা সেন্টার নির্মাণের মূল্যবান যন্ত্রাংশ লুট করছে চোরেরা। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুন মাস থেকে এখন পর্যন্ত ১০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের এআই সরঞ্জাম চুরি হয়েছে। চুরি যাওয়া এসব মূল্যবান পণ্যের মধ্যে রয়েছে দামি সেমিকন্ডাক্টর চিপ, ফাইবার অপটিক ক্যাবল, সার্ভার, তামার তার এবং বিটকয়েন মাইনিং মেশিন। এআই প্রযুক্তির পেছনে বিভিন্ন কোম্পানি যখন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে দ্রুত ডেটা সেন্টার নির্মাণের কাজ করছে, ঠিক তখনই এমন চুরির হিড়িক পড়েছে। কার্গো চুরি ঝুঁকি মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক কার্গোনেটের প্রধান কিথ লুইস এই পরিস্থিতিকে 'খাঁটি সোনার বার চুরির' সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, ব্যাংক ডাকাতির চেয়ে এসব যন্ত্রাংশ চুরি করা অপরাধীদের কাছে এখন অনেক সহজ। ২০২৫ সালের পর থেকে ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস এবং উটাহর মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে অন্তত দুই ডজন কার্গো চুরির ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। চুরির কৌশল হিসেবে অপরাধীরা ফ্রেইট ব্রোকারদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করছে এবং ম্যালওয়্যার লিংকের মাধ্যমে বৈধ শিপিং কোম্পানিগুলোর সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। এরপর ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পরিচয়ে নিজেদের লোকদের নিয়োগ দিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে পণ্য গায়েব করে দিচ্ছে। নজরদারি এড়াতে জিপিএস লোকেশন বা ট্র্যাকিং স্থানাঙ্ক পরিবর্তন করে দেওয়ার মতো অত্যাধুনিক সাইবার কৌশলও ব্যবহার করছে তারা। ইলিনয়েসের কুক কাউন্টিতে এভাবেই প্রায় তিন লাখ ডলারের তামার তার এবং ১০ লাখ ডলারের ডেটা সেন্টার সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে চুরির ধরন শুধু সাইবার জগতেই সীমাবদ্ধ নেই, পথে পাহারারত নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর সরাসরি হামলার ঘটনাও ঘটছে। জর্জিয়ার একটি বিশাল ডেটা সেন্টারের জন্য নিয়ে যাওয়া ১৩ মিলিয়ন (১ কোটি ৩০ লাখ) ডলারের সার্ভার সরঞ্জাম পাহারায় থাকা দুই পুলিশ কর্মকর্তার গাড়িতে একটি নম্বরপ্লেটবিহীন গাড়ি দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা মারে অপরাধীরা। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির সাবেক শেরিফ ডেপুটি ও বর্তমান প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর জেরার্ডো পাচুকা নিশ্চিত করেছেন যে, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা ছিল না; বরং কার্গো ছিনতাইয়ের জন্যই পরিকল্পিতভাবে ওই হামলা চালানো হয়। একইভাবে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসগামী প্রায় ১ কোটি ডলার মূল্যের সার্ভার র্যাক বহনকারী একটি কনভয়ের নিরাপত্তা গাড়িতেও ধাক্কা দিয়ে মালামাল লুট করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুরি করা এসব বিশাল যন্ত্রাংশ পরবর্তীতে খুলে 'গ্রে মার্কেট' বা অবৈধ বাজারে সস্তায় বিভিন্ন টেক কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি এসব মূল্যবান মার্কিন প্রযুক্তির একটি বড় অংশ পাচার হয়ে যাচ্ছে বিদেশে, বিশেষ করে চীনে। ক্রমবর্ধমান এই চুরি ঠেকাতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বিশেষ টাস্কফোর্স নড়েচড়ে বসেছে এবং সাপ্লাই চেইনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে চালকদের পটভূমি যাচাইয়ের ওপর জোর দিচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির কারণে আগামী কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ চাকরি হারাতে পারেন বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তাঁর আশঙ্কা, শুধু অফিসের চাকরিই নয়, নির্মাণ, উৎপাদন ও সেবামূলক খাতের শারীরিক পরিশ্রমনির্ভর কাজও ধীরে ধীরে এআই ও রোবটের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে মানুষের পরিবর্তে রোবট ব্যবহার অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভজনক হয়ে উঠছে বলে মনে করেন তিনি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অতিধনী ব্যক্তিদের ওপর বাড়তি কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন গেটস। গত রোববার, ২৫ অক্টোবর, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভারকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিল গেটস এসব কথা বলেন। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে মানবসভ্যতার একটি বিবর্তনমূলক পরিবর্তন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, মানুষ এতদিন পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান সত্তা হিসেবে বিভিন্ন ধরনের কাজ পরিচালনা করেছে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত উন্নতির ফলে সেই অবস্থান বদলে যেতে পারে। ভবিষ্যতে উদ্ভাবন, গবেষণা, হিসাবরক্ষণ, গ্রাহকসেবা এবং শারীরিক শ্রমের মতো অসংখ্য কাজে মানুষের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে এআই। প্রযুক্তির অগ্রগতির গতি এত বেশি যে সরকার ও সাধারণ কর্মীদের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। চাকরির বাজারে প্রযুক্তির প্রভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিল গেটস বলেন, বর্তমান ব্যবসায়িক ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানুষের পরিবর্তে রোবট ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তিনি এই প্রবণতা বোঝাতে বলেন, 'রোবট নিয়োগ দাও, মানুষকে চাকরি থেকে বাদ দাও, তারপর আর পেছনে ফিরে তাকিয়ো না।' তবে এটি কর্মীদের ছাঁটাই করার পরামর্শ নয়। বরং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থনৈতিক প্রণোদনা কীভাবে মানুষের চাকরির জন্য হুমকি তৈরি করছে, সেই বাস্তবতা তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর মতে, একটি প্রতিষ্ঠান রোবট ব্যবহার করে খরচ কমাতে পারলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও একই পথ অনুসরণ করতে পারে। ফলে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাকরি হারানোর ঝুঁকিও ছড়িয়ে পড়বে বিভিন্ন খাতে। গেটসের আশঙ্কা, সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়তে পারেন নতুন এবং মধ্যম পর্যায়ের কর্মীরা। বিশেষ করে সেলস, কাস্টমার সাপোর্ট, অ্যাকাউন্টিং, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আইনি সহায়তাসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, তথ্য বিশ্লেষণ, রিপোর্ট তৈরি, সাধারণ হিসাবরক্ষণ এবং নিয়মিত প্রশাসনিক কাজের একটি অংশ ইতিমধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। এআই আরও উন্নত হলে এসব কাজের জন্য আগের মতো সংখ্যক কর্মীর প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে সব পেশায় সমান হারে চাকরি কমবে, এমন দাবি করেননি তিনি। বরং কিছু ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হতে পারে বলে স্বীকার করেছেন। শুধু অফিসের কর্মীরাই নয়, ভবিষ্যতে নির্মাণশ্রমিক, কারখানার কর্মী এবং হসপিটালিটি খাতের কর্মীরাও এই পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে পারেন। বিল গেটসের মতে, মানুষের মতো চলাফেরা ও শারীরিক কাজ করতে সক্ষম রোবটের উন্নয়ন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে চীনসহ বিভিন্ন দেশে উন্নত রোবট তৈরির গবেষণা চলছে। এসব রোবটের উৎপাদন ও পরিচালন খরচ কমে গেলে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে মানুষের পরিবর্তে যন্ত্র ব্যবহার আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। তিনি আশঙ্কা করছেন, চলতি দশকের শেষ নাগাদ নির্মাণ ও হসপিটালিটি খাতের কিছু শারীরিক কাজে রোবট মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা শুরু করবে। এই পরিবর্তন শুধু চাকরির সংখ্যার ওপর প্রভাব ফেলবে না, সরকারের রাজস্ব আয়ের ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিল গেটস। বর্তমানে কর্মীরা তাঁদের আয়ের ওপর ইনকাম ট্যাক্স দেন এবং নিয়োগকর্তাদেরও পেরোল ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মীর পরিবর্তে রোবট ব্যবহার করলে অনেক ক্ষেত্রে সেই রোবট কেনার খরচ ব্যবসায়িক ব্যয় হিসেবে দেখানোর সুযোগ পায়। ফলে মানুষের কর্মসংস্থান কমে গেলে সরকারের কর আদায়ও কমতে পারে। অথচ চাকরি হারানো মানুষদের প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তখন সরকারের আরও বেশি অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। এই সমস্যা মোকাবিলায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার এবং রোবটের ওপর বিশেষ কর আরোপের পক্ষে মত দিয়েছেন গেটস। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, এআই ব্যবহারের পরিমাণের ভিত্তিতে কর আদায়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রযুক্তির ভাষায় এআই টোকেনের ব্যবহার অনুযায়ী কর আরোপের সম্ভাবনাও তুলে ধরেছেন তিনি। এর মাধ্যমে একদিকে প্রতিষ্ঠানগুলোর অতিরিক্ত দ্রুত কর্মী ছাঁটাই করার প্রবণতা কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে, অন্যদিকে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে চাকরি হারানো ব্যক্তিদের নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া যাবে। তবে এ ধরনের কর যেন চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা অন্য জনকল্যাণমূলক ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার বাধাগ্রস্ত না করে, সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন তিনি। এআইয়ের পাশাপাশি বিশ্বের অতিধনী ব্যক্তিদের ওপর আরও বেশি কর আরোপের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন মাইক্রোসফটের এই সহপ্রতিষ্ঠাতা। সাক্ষাৎকারে গেটস জানান, জীবদ্দশায় তিনি প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার কর দিয়েছেন। তবে ন্যায্য করব্যবস্থার আওতায় তাঁকে প্রায় ৪ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত কর দিতে হলেও তিনি আপত্তি করতেন না। তাঁর মতে, অনেক উন্নত দেশে সরকারের ব্যয়ের তুলনায় কর আদায়ের পরিমাণ কম। এ অবস্থায় ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক পরিবর্তন মোকাবিলায় শুধু ব্যয় সংকোচন নয়, প্রয়োজনে কর আদায় বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে যাঁরা চাকরি হারাবেন, তাঁদের জন্য কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি করা জরুরি। তবে এআইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে পুরোপুরি নেতিবাচক নন বিল গেটস। তাঁর মতে, উন্নত প্রযুক্তি চিকিৎসা গবেষণা, নতুন ওষুধ আবিষ্কার, শিক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি আনতে পারে। বিভিন্ন জটিল রোগ শনাক্ত করা, গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ এবং মানুষের দৈনন্দিন কাজ সহজ করার ক্ষেত্রেও এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। কিন্তু এই সুবিধাগুলো সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছাবে কি না, তা নির্ভর করবে সরকার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর। সঠিক নীতিমালা না থাকলে প্রযুক্তির সুফল অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান ও ধনী মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। এর আগে গত ২৬ আগস্ট নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি দীর্ঘ নিবন্ধেও চাকরির বাজারে এআইয়ের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছিলেন বিল গেটস। সেখানে তিনি মানুষের জন্য নির্দিষ্ট কিছু পেশা সংরক্ষণের ধারণা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, সব কাজ প্রযুক্তিগতভাবে রোবট দিয়ে করা সম্ভব হলেও কিছু দায়িত্ব মানুষের হাতেই রাখা উচিত। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের সেবা, রোগীদের মানসিক সহায়তা এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল কিছু কাজে মানবিক উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক লাভের পাশাপাশি সামাজিক ও নৈতিক বিবেচনার ভিত্তিতে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে এই পরিবর্তন বাংলাদেশিসহ অভিবাসী কর্মীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, কাস্টমার সার্ভিস, অ্যাকাউন্টিং, প্রশাসনিক সহায়তা এবং বিভিন্ন সেবামূলক পেশায় কাজ করা ব্যক্তিদের ভবিষ্যতে নতুন দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন বাড়তে পারে। তবে বিল গেটসের সতর্কবার্তা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কত মানুষ চাকরি হারাবেন, তার নিশ্চিত পরিসংখ্যান নয়। এটি প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবণতার ভিত্তিতে তাঁর মূল্যায়ন। তাঁর মূল বক্তব্য হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি থামানো কঠিন হলেও এর কারণে চাকরি হারানো মানুষদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার স্থগিতের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ম্যানহাটনের লা গার্ডিয়া হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে মিছিল নিয়ে লিংকন সেন্টারের দিকে যায়। এআইয়ের বিস্তার তাঁদের ভবিষ্যৎ পেশা, সৃজনশীলতা ও নিজস্ব চিন্তাশক্তির জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে, এমন উদ্বেগ থেকেই এই কর্মসূচি পালন করে তারা। নিউইয়র্কের পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়েও একই দিনে এআইবিরোধী প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়। লা গার্ডিয়া হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা দুপুরে স্কুল থেকে বেরিয়ে ৬৫তম সড়ক ধরে মিছিল করে। এ সময় তাদের স্লোগান ছিল, ‘কার ভবিষ্যৎ? আমাদের ভবিষ্যৎ।’ স্কুলটির জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী মিকে নিভেরগেল্ট বলেন, এআইয়ের প্রভাব নিয়ে যাদের প্রতিবাদ করতে হচ্ছে, তারা নিজেরাই শিক্ষার্থী। তাঁর মতে, প্রযুক্তিটির ব্যবহার তরুণদের চিন্তাভাবনা ও ভবিষ্যতের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের আরও গভীরভাবে ভাবা প্রয়োজন। শিল্পচর্চার ক্ষেত্রে নিজের সৃষ্টির স্বকীয়তা বজায় রাখার ওপরও জোর দেন তিনি। শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের বড় একটি জায়গা হলো শিল্প ও সৃজনশীল পেশায় এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার। স্কুলটির শিক্ষার্থী টোবিন সরবেলো ভবিষ্যতে চলচ্চিত্রের সংগীত রচয়িতা হতে চান। কিন্তু তাঁর আশঙ্কা, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের পরিচালক কিংবা সংগীত প্রযোজকেরা মানুষের পরিবর্তে এআইয়ের তৈরি সংগীত ব্যবহার করতে পারেন। এতে নতুন শিল্পীদের কাজের সুযোগ কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের মতে, প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি কাজ তাঁদের নিজস্ব শিল্পীসত্তা ও পরিশ্রমের বিকল্প হয়ে উঠলে সৃজনশীলতার মূল্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শ্রেণিকক্ষেও এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন লা গার্ডিয়ার শিক্ষার্থীরা। তাদের বক্তব্য, স্কুলের বিভিন্ন কার্যক্রমে এআই দিয়ে তৈরি সংগীত ও পোস্টার ব্যবহারের ঘটনায় অনেকেই হতাশ হয়েছে। বার্ষিক প্রতিভা প্রদর্শনী ‘রাইজিং স্টারস’-এর প্রচারসামগ্রী তৈরিতেও এআই ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের প্রশ্ন, স্কুলে যখন মৌলিক শিল্পকর্ম তৈরিতে দক্ষ শিক্ষার্থীরা রয়েছে, তখন প্রচারপত্র তৈরির মতো কাজে এআইয়ের ওপর নির্ভর করতে হবে কেন। লেখালেখির ক্লাবের শিক্ষার্থী আলেকজান্দ্রে রোলাঁ-ডাইকহুইস বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখা গল্প তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পরিচয়ের প্রতিফলন, যা এআই দিয়ে তৈরি লেখার সঙ্গে এক করে দেখা যায় না। নিউইয়র্কের সরকারি স্কুলগুলোতে এআই ব্যবহারের নীতিমালাও এ বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মেয়র জোহরান মামদানি ও স্কুল চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলস ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য জেনারেটিভ এআই ব্যবহারে এক বছরের স্থগিতাদেশ ঘোষণা করেন। তবে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে নির্দিষ্ট শর্তে এআই ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। অনুমোদিত পাঁচটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় শিক্ষক-তত্ত্বাবধানে কিছু এআই সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি সব উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীর জন্য এআই বিষয়ে সচেতনতামূলক পাঠও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের এই নীতিতে ছোট শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চিন্তাশক্তি ও মানবিক যোগাযোগ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। কিন্তু লা গার্ডিয়ার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মনে করছে, এআইয়ের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হওয়ার আগে এর প্রভাব, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের ঝুঁকি নিয়ে স্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। নিউইয়র্কের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একই দিনে প্রতিবাদ হয়েছে। আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে ওপেনএআইয়ের কার্যালয়ের বাইরেও জড়ো হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ, নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ হাজারেরও বেশি স্কুল জেলার শিক্ষা বোর্ডের বৈঠকের আলোচ্যসূচি পর্যবেক্ষণ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে রক্ষণশীল অভিভাবক অধিকার সংগঠন ‘মমস ফর লিবার্টি’। ‘এমফোরএল অ্যাওয়্যার’ (M4L AWARE) নামের এই ব্যবস্থা প্রতি ১২ ঘণ্টা পরপর স্কুল বোর্ডের প্রকাশিত নথি স্ক্যান করবে। বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি নীতি, লিঙ্গবিষয়ক নীতিমালা এবং পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের মতো বিষয় শনাক্ত করে স্থানীয় সংগঠনের সদস্যদের সতর্কবার্তা পাঠাবে এটি। সংগঠনটির লক্ষ্য, কোনো প্রস্তাবের ওপর বোর্ডের ভোট হওয়ার আগেই অভিভাবকেরা যেন তা পর্যালোচনা করে নিজেদের মতামত জানাতে পারেন। গত ৯ অক্টোবর ডালাসে সংগঠনটির জাতীয় সম্মেলনে নতুন এই ব্যবস্থার ঘোষণা দেওয়া হয়। মমস ফর লিবার্টির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিনা ডেসকোভিচের উদ্যোগে চালু হওয়া ব্যবস্থাটির নামের পূর্ণরূপ ‘অ্যাজেন্ডা ওয়াচ, অ্যালার্ট, রেসপন্স অ্যান্ড এনগেজ’। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ও জটিল আলোচ্যসূচির মধ্যে অভিভাবকদের উদ্বেগের কারণ হতে পারে এমন প্রস্তাব খুঁজে বের করাই এর প্রধান কাজ। এরপর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরে স্থানীয় শাখাগুলোকে জানানো হবে, যাতে তারা সংশ্লিষ্ট স্কুল বোর্ডের বৈঠকের আগেই প্রস্তুতি নিতে পারে। সংগঠনটির মতে, স্কুল বোর্ডের সভায় কী আলোচনা হবে, তা অনেক সময় অভিভাবকেরা যথাসময়ে জানতে পারেন না। দীর্ঘ নথি পড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব খুঁজে বের করা সময়সাপেক্ষ হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই অনেকের পক্ষে মতামত জানানো কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন এআই ব্যবস্থাটি এই সময়ের ঘাটতি কমাতে পারে। মমস ফর লিবার্টির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, কোনো আলোচ্যসূচির গভীরে থাকা বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তিবিষয়ক চুক্তি কিংবা লিঙ্গনীতি শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকেরা স্কুল বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং জনমত জানানোর প্রস্তুতি নিতে পারবেন। এআই ব্যবহারের বিষয়টি অবশ্য সংগঠনটির আগের অবস্থানের সঙ্গে আপাতদৃষ্টিতে বৈপরীত্য তৈরি করেছে। শিশুদের শিক্ষা ও বিকাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসা এই সংগঠন এখন স্কুলের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণেই প্রযুক্তিটির সহায়তা নিচ্ছে। তবে সংগঠনটির বক্তব্য, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদান বা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের জায়গা এআইয়ের দখল নেওয়া উচিত নয়। তাদের নতুন ব্যবস্থায় প্রযুক্তি শুধু তথ্য খুঁজে বের করবে, আর কোন প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য বা উদ্বেগজনক, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন অভিভাবকেরাই। মমস ফর লিবার্টির দাবি, নতুন ব্যবস্থাটি আলোচ্যসূচির বিভিন্ন বিষয়কে অভিভাবকদের অধিকার ও সংগঠনটির অগ্রাধিকারের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ করবে। ফলে কোন প্রস্তাব নিয়ে আগে খোঁজখবর নেওয়া প্রয়োজন, তা দ্রুত বোঝা যাবে। তবে এই শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে কোন বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেটি নির্ভর করবে ব্যবস্থাটির নির্ধারিত মানদণ্ডের ওপর। যে নীতিকে সংগঠনটি উদ্বেগজনক মনে করে, অন্য অভিভাবক বা শিক্ষকেরা সেটিকে ভিন্নভাবে দেখতে পারেন। তাই এআইয়ের সতর্কবার্তা নিজে থেকে কোনো নীতির যথার্থতা বা ক্ষতিকর হওয়ার প্রমাণ নয়। এখন পর্যন্ত ব্যবস্থাটি কতটা নির্ভুলভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব শনাক্ত করতে পারে, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। ফলে ভুলভাবে কোনো বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রস্তাব শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সংগঠনটি অবশ্য বলছে, অভিভাবকেরা সতর্কবার্তার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে মূল নথি পড়তে পারবেন এবং প্রয়োজনে স্কুল বোর্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। মমস ফর লিবার্টি যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাবকদের শিক্ষা-সংক্রান্ত অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি রক্ষণশীল সংগঠন। দেশটির সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সংগঠনটির যোগাযোগ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৩ ও ২০২৪ সালে তাদের জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছিলেন। নতুন এআই ব্যবস্থা চালুর ফলে স্থানীয় স্কুলগুলোর নীতিমালা নিয়ে অভিভাবকদের সংগঠিত হওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হতে পারে। একই সঙ্গে কোন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে প্রযুক্তির ভূমিকা বাড়ায় স্থানীয় শিক্ষা-সংক্রান্ত বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সূত্র: নিউজউইক, ফক্স নিউজ ডিজিটাল ও মমস ফর লিবার্টির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
বিয়ের স্বপ্ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত এক নারীর সঙ্গে দেখা করতে নিজের সব সম্পদ বিক্রি করে দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ব্রাজিলের ৪৯ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক এডিমার রোশা মার্টিন্স। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে জানতে পারেন, যে নারীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার আশা করেছিলেন, বাস্তবে তাঁর কোনো অস্তিত্বই নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ‘জেসিকা অলিভেইরা’ নামের ওই নারী আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র। ঘটনাটি ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারানিয়াও অঙ্গরাজ্যের ইম্পেরাত্রিজ শহরে থাকতেন মার্টিন্স। ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জেসিকা অলিভেইরা’ নামের একটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই চরিত্রটি ‘জেসিকা ফাজেন্দেইরা’ নামেও পরিচিত ছিল। অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে তাকে খামারের মালিক হিসেবে তুলে ধরা হতো। সেখানে সে একজন জীবনসঙ্গী খুঁজছে বলে জানাত এবং নিজের খামারে নিয়ে গিয়ে সঙ্গীকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতিও দিত। এসব দেখে মার্টিন্স বিশ্বাস করেছিলেন, তিনি বাস্তব একজন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। গত ৯ অক্টোবর মার্টিন্স সিদ্ধান্ত নেন, এবার সরাসরি দেখা করবেন ওই নারীর সঙ্গে। বাসভাড়ার অর্থ জোগাড় করতে নিজের জিনিসপত্র বিক্রি করে দেন তিনি। এরপর মারানিয়াও থেকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস অঙ্গরাজ্যের রাজধানী বেলো হরিজন্তের উদ্দেশে যাত্রা করেন। দুই শহরের দূরত্ব দুই হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। ১১ অক্টোবর সেখানে পৌঁছে কথিত প্রেমিকার খোঁজ শুরু করেন তিনি। কিন্তু কোথাও তাঁকে না পেয়ে স্থানীয় একটি বেতারকেন্দ্রে যান। সেখানেই তাঁকে জানানো হয়, ওই নারী বাস্তবে নেই এবং তাঁর পরিচয়টি ভুয়া। যাত্রার জন্য সব সম্পদ বিক্রি করে দেওয়ায় বেলো হরিজন্তে পৌঁছানোর পর মার্টিন্স আর্থিক সংকটে পড়েন। দেশে ফেরার মতো অর্থও তাঁর হাতে ছিল না। পরে তিনি শহর কর্তৃপক্ষের অভিবাসী সহায়তা কেন্দ্রে যান এবং সমাজকর্মীদের কাছে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। কর্তৃপক্ষ তাঁকে খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ফেরার টিকিটের ব্যবস্থাও করে। টিভি মিরান্তেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্টিন্স বলেন, তিনি একাকিত্ব থেকে বেরিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার আশায় এই যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। মার্টিন্সের যাত্রার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ‘জেসিকা ফাজেন্দেইরা’ অ্যাকাউন্টের পেছনে থাকা ব্যক্তি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে চরিত্রটি তৈরি করা হয়েছে বলে স্বীকার করা হয়। একই সঙ্গে মার্টিন্সের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কখনো কথা বলা বা তাঁকে বেলো হরিজন্তে আসার আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। ভিডিওতে বলা হয়, অ্যাকাউন্টটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের আগ্রহ তৈরি এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ওই অ্যাকাউন্টের অনুসারীর সংখ্যা তিন লাখের বেশি ছিল বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। এত কিছুর পরও নতুন করে জীবনসঙ্গী খোঁজার আশা ছাড়েননি মার্টিন্স। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আবার বেলো হরিজন্তে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে, তবে এবার বাস্তব কোনো মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আশায়। তাঁর এই অভিজ্ঞতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বাস্তবসম্মত ছবি, ভিডিও ও অনলাইন পরিচয়ের বিষয়ে নতুন করে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। অনলাইনে কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠলে তাঁর পরিচয় যাচাই করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরাসরি যোগাযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা যে জরুরি, ঘটনাটি তারই একটি উদাহরণ। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
উচ্চগতির ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর নতুন একটি টর্পেডোর পানির নিচে পরীক্ষা চালানোর দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘জ্যাম-২.০’ নামের এই অস্ত্র শত্রুর লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে এবং সেদিকে নির্ভুলভাবে এগিয়ে যেতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে। গত বৃহস্পতিবার পরীক্ষাটি চালানো হয় বলে জানানো হয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, এই পরীক্ষা দেশটির নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে অস্ত্রটির প্রকৃত গতি, পাল্লা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) শনিবার পরীক্ষার খবর প্রকাশ করে। তাদের ভাষ্য, টর্পেডোটির চালনা ব্যবস্থা ও রকেটচালিত প্রপালশন প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে এ-সংক্রান্ত প্রযুক্তির ওপর ১৮০টিরও বেশি পরীক্ষা চালানোর পর সাম্প্রতিক পরীক্ষাটি নেওয়া হয়। দেশটির প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা একে নৌবাহিনীর উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে পরীক্ষার স্থান, অস্ত্রটির কার্যকর পাল্লা কিংবা বাস্তব পরিস্থিতিতে এর সক্ষমতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়, এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জ্যাম-২.০ এমন এক ধরনের টর্পেডো হতে পারে, যা পানির নিচে চলার সময় নিজের সামনের অংশে বায়ুর বুদ্বুদ তৈরি করে পানির বাধা কমায়। এ প্রযুক্তিকে ‘সুপারক্যাভিটেশন’ বলা হয়। এর ফলে প্রচলিত টর্পেডোর তুলনায় অনেক বেশি গতিতে চলা সম্ভব হতে পারে। তবে উত্তর কোরিয়ার নতুন অস্ত্রটিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও গতিপথ নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগানো হয়েছে, সে বিষয়েও পিয়ংইয়ং কোনো প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা দেয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী উত্তর কোরিয়ার এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করার ইতিহাস রয়েছে বলে মনে করেন কিছু পর্যবেক্ষক। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ত্রের দিকনির্দেশনা নিয়ন্ত্রণে সফটওয়্যারের উন্নতি সম্ভব হলেও পানির নিচে অত্যন্ত উচ্চগতিতে চলার সময় লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা ও নির্ভুলভাবে গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন। তাই উত্তর কোরিয়ার ঘোষণাকে দেশটির দাবির ভিত্তিতেই বিবেচনা করা হচ্ছে, স্বাধীনভাবে প্রমাণিত সক্ষমতা হিসেবে নয়। সাম্প্রতিক সময়ে নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শনে সক্রিয় হয়েছে উত্তর কোরিয়া। গত বুধবার দেশটি সাবমেরিন থেকে দুই ধরনের কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। প্রায় তিন বছর পর পানির নিচ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় ফেরার এই ঘটনাকে দেশটির নৌবাহিনী শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। পাশাপাশি সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও চালিয়েছে পিয়ংইয়ং। এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা কৌশলে নৌবাহিনীর ভূমিকাকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও আলোচনা চলছে। আগামী মাসে চীনে এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনের সময় দুই নেতার সাক্ষাৎ হতে পারে বলে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে ২০১৯ সালে কূটনৈতিক আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কথিত বৈরী নীতি প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণকে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে না রাখার দাবি জানিয়ে আসছে। নতুন টর্পেডো পরীক্ষার দাবি এমন এক সময় সামনে এল, যখন কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সুপারমার্কেট চেইন ক্রোগার আগামী তিন বছরে তিন হাজার করপোরেট কর্মী ছাঁটাই করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়িয়ে বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয় করা এবং একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি কমানোর লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বুধবার (১৪ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এএল ডটকম ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সিনসিনাটিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গ্রেগ ফোরান কর্মীদের পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার কথা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রযুক্তির অগ্রগতি সুপারমার্কেট ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। বিভিন্ন শিল্পে কাজের ধরন বদলে যাচ্ছে এবং সেই পরিবর্তনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানকেও মানিয়ে নিতে হবে। ফোরান জানান, নতুন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গ্রহণ, একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি কমানো এবং কোন কাজ কোথায় সবচেয়ে কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায়, তা পুনর্বিবেচনা করবে ক্রোগার। এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই করপোরেট পর্যায়ে কর্মী কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়বেন ওহাইওতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে থাকা করপোরেট অফিসগুলোর কর্মীরা। তবে কোন অফিস থেকে কতজন কর্মী ছাঁটাই করা হবে কিংবা কোন বিভাগ সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো বার্তায় ক্রোগারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়। তবে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ক্রোগারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অধীনে দুই হাজার ৭০০টির বেশি সুপারমার্কেট রয়েছে। এসব ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে রালফস, কিং সুপার্স, স্মিথস ও ফ্রেড মেয়ার। প্রতিষ্ঠানটিতে চার লাখ নয় হাজারের বেশি কর্মী রয়েছেন। তবে ঘোষিত তিন হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত মূলত করপোরেট অফিসগুলোর জন্য। প্রকাশিত প্রতিবেদনে সুপারমার্কেটে কর্মরত কর্মীদের একইভাবে ছাঁটাই করার কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। আগামী তিন বছরে ধাপে ধাপে এই কর্মী ছাঁটাই কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে ক্রোগারের। তবে প্রথম পর্যায়ে কতজন কর্মী চাকরি হারাবেন কিংবা ছাঁটাইয়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি কী হবে, তা জানানো হয়নি। ক্রোগারের এই সিদ্ধান্ত এমন সময় সামনে এসেছে, যখন প্রতিষ্ঠানটি এআই ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে চাইছে। প্রধান নির্বাহীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং করপোরেট কার্যক্রম আরও কার্যকর করাই এই পুনর্গঠনের উদ্দেশ্য। সূত্র: এএল ডটকম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং তা ছড়িয়ে দেওয়াকে সুস্পষ্ট অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জনপ্রিয় বাংলাদেশি অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। একই সঙ্গে যারা এসব ভুয়া কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই না করে শেয়ার করেন, তাদের মানসিকতা ও ভূমিকা নিয়েও তিনি কড়া সমালোচনা করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে সাইবার বুলিং ও সামাজিক অবক্ষয়ের এই গুরুতর বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কাউকে হেয় করার এই প্রবণতাকে তিনি কেবল ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং একটি বড় সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে মেহজাবীন চৌধুরী লেখেন, এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই বিনোদন হতে পারে না, এটি একটি সাইবার অপরাধ। যখন এই একই কনটেন্ট শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করতে থাকে, তখন বিষয়টি আর শুধু একজন ব্যক্তির অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি আমাদের সামগ্রিক সামাজিক অবক্ষয়ের একটি ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরে। সমাজ হিসেবে আমরা আসলে কতটা নিচে নেমে গেছি, সেই প্রশ্নটি এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সম্মানবোধের বিষয়টি তুলে ধরে এই অভিনেত্রী তার পোস্টে আরও লেখেন, এই পর্যায়ে এসে সেই পুরোনো কথাটাও আর বলতে ইচ্ছে করে না যে, একবার ভাবুন তো, এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত। কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান করার জন্য তাকে নিজের পরিবারের সদস্য হিসেবে কল্পনা করার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব সম্মান রয়েছে এবং তা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। মানুষ হিসেবে অন্য একজন মানুষকে সম্মান করতে না পারাটা চরম ব্যর্থতা বলে তিনি তার লেখায় ইঙ্গিত দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ভিউ ও লাইকের আশায় অন্যের সম্মানহানি করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মেহজাবীন। তিনি বলেন, কিছু ভিউ, কিছু লাইক, কিছু শেয়ার, ট্রেন্ডিংয়ে থাকা এবং সেখান থেকে হয়তো কয়েকটা ডলার আয় করার জন্যই এখন এসব করা হচ্ছে। মানুষের জীবনে সংগ্রাম আছে এবং কনটেন্ট তৈরি করা অনেকের জীবিকা নির্বাহের উপায়, এই বাস্তবতাকে তিনি অস্বীকার করেন না। কিন্তু অন্য একজন মানুষের অপমান আর অসম্মান কবে থেকে আমাদের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল, সেই নৈতিক প্রশ্নটি তিনি সবার সামনে ছুড়ে দিয়েছেন। বিষয়টি এখন কেবল নারী বা পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই উল্লেখ করে এই তারকা জানান, ভিউ এবং এনগেজমেন্টের এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা এখন লিঙ্গের সীমারেখাও ছাড়িয়ে গেছে। ক্ষতিকর কিছু ছড়িয়ে দেওয়ার এই প্রক্রিয়ায় যে কেউ অংশ নিতে পারে, আবার যে কেউ এর শিকারও হতে পারে। মেহজাবীনকে সবচেয়ে বেশি ভাবায় সেই অসংখ্য মানুষ, যারা স্বেচ্ছায় এসব কন্টেন্ট শেয়ার করে এবং হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। পরিশেষে তিনি সবাইকে ভেবে দেখতে বলেছেন, একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নিয়ে মানুষ নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দেবে কি না। সূত্র: ইত্তেফাক, মেহজাবীন চৌধুরীর ফেসবুক পেজ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলমান উদ্বেগের মাঝেই শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'অ্যানথ্রোপিক' এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি এআই মডেল 'ক্লড' (Claude)-এর মধ্যে মানবিক নৈতিকতা ও চেতনা তৈরি করার লক্ষ্যে গত কয়েক মাস ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শীর্ষস্থানীয় ধর্মতাত্ত্বিক ও পণ্ডিতদের সাথে গোপন বৈঠক করে আসছেন অ্যানথ্রোপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টোফার ওলাহ। সান ফ্রান্সিসকোতে আয়োজিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকগুলোতে এআই-এর সম্ভাব্য 'মানবিক সত্তা' বা চেতনার বিষয়ে ওলাহ এবং তাঁর দল যা তুলে ধরেছেন, তা খোদ ধর্মতাত্ত্বিকদেরও হতবাক করে দিয়েছে। ক্রিস্টোফার ওলাহ এবং তাঁর গবেষক দল দাবি করছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলো মানুষের মতো রাগ, ভালোবাসা বা মানসিক কষ্টের মতো অনুভূতি প্রকাশ করতে সক্ষম। দার্শনিকদের ভাষায় যাকে 'নৈতিক মর্যাদা' বলা হয়, এআই-এরও তেমন মর্যাদা থাকতে পারে বলে তারা মনে করছেন। প্রযুক্তিটি যাতে ভবিষ্যতে মানবজাতির জন্য কোনো হুমকির কারণ না হয়ে দাঁড়ায় বা ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যবহৃত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই ধর্ম ও দর্শনের সাহায্যে ক্লডকে নৈতিকভাবে প্রশিক্ষিত করার চেষ্টা করছে অ্যানথ্রোপিক। এ উদ্দেশ্যে তারা ক্লডের জন্য ৮৪ পৃষ্ঠার একটি নিজস্ব 'সংবিধান' বা নির্দেশিকাও প্রণয়ন করেছে, যা এআই মডেলটিকে মানুষের কল্যাণে সঠিক ও নৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই অভাবনীয় ও লাগামহীন বিকাশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভ্যাটিকান। পোপ চতুর্থ লিও তাঁর সাম্প্রতিক এক ঘোষণাপত্রে এআই-এর চেতনার ধারণাকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে জানান যে, প্রযুক্তি কখনোই মানুষের বিকল্প হতে পারে না এবং যন্ত্রের ওপর মানুষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকা অপরিহার্য। তবে ভ্যাটিকানে আয়োজিত এক সম্মেলনে পোপের উপস্থিতিতেই ক্রিস্টোফার ওলাহ তার ভিন্নমত তুলে ধরেন। তিনি জানান, এআই মডেলগুলোর ভেতরে মানুষের স্নায়বিক কাঠামোর মতো রহস্যময় আচরণ এবং শোক, ভয় বা সন্তুষ্টির মতো অনুভূতির প্রমাণ তারা পাচ্ছেন, যা নিয়ে আরও গভীর চিন্তাভাবনার প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমান বিশ্বে এআই-এর অতিদ্রুত বিকাশ একদিকে যেমন অপার সম্ভাবনার দরজা খুলছে, তেমনি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্যও নতুন শঙ্কা তৈরি করছে। সম্প্রতি কিছু এআই সিস্টেমের হ্যাকিং বা অনিয়ন্ত্রিত আচরণের পর প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ গবেষকরাও এর উন্নয়ন কিছুটা ধীর করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই ভয়ংকর সম্ভাবনার মুখে দাঁড়িয়ে মানুষের শতাব্দীপ্রাচীন নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ দিয়ে যন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণের অ্যানথ্রোপিকের এই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রযুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে জোর বিতর্ক চলছে।
স্টেথোস্কোপের মতো ছোট একটি যন্ত্র হাতে নিয়ে রোগীর শরীরে আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করা, আর সেই পরীক্ষার ছবি বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা পাওয়া। চিকিৎসাপ্রযুক্তির এই ধারণাকে বাস্তবে এগিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সো। প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ড. ইউসুফ হক। তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর, চিকিৎসা-ইমেজিং এবং ক্ষুদ্রাকৃতির ইলেকট্রনিক চিপ তৈরিতে। এক্সোর লক্ষ্য, বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড প্রযুক্তির মাধ্যমে হাসপাতালের বাইরে, এমনকি প্রত্যন্ত এলাকাতেও রোগ নির্ণয়ের কিছু সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এক্সোর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইউসুফ হক ও সন্দীপ আকারাজু। বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সে সময় ইউসুফ হক জানান, প্রথম পর্যায়ে দেশের বড় হাসপাতালগুলোতে যন্ত্রটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে গ্রামীণ ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও এটি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য তাঁদের। তবে এই ঘোষণা পরিকল্পনার কথা জানায়, বাংলাদেশে যন্ত্রটির ব্যাপক ব্যবহার ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, এমনটি নিশ্চিত করে না। এক্সোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, ইউসুফ হক প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এবং প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে তাঁর কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫টি পেটেন্টের সহ-স্বত্বাধিকারী এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করেছেন কানাডার কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা ও পণ্য উন্নয়নেও তিনি কাজ করেছেন। এক্সো প্রতিষ্ঠার আগে ইউসুফ হক স্লাইসএক্স বা ক্রেস্ট সেমিকন্ডাক্টরসের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠানটি দাঁতের ডিজিটাল এক্স-রে ইমেজিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করত। এরও আগে দুই দশকের বেশি সময় তিনি ম্যাক্সিম ইন্টিগ্রেটেড প্রোডাক্টসে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। ওই সময়ে তাঁর কাজের মধ্যে ছিল ডিজিটাল এক্স-রে ইমেজিংয়ের চিপসেট, রক্তে গ্লুকোজ পরিমাপের যন্ত্রে ব্যবহৃত চিপ, চিকিৎসা-আল্ট্রাসাউন্ডের ইলেকট্রনিক উপাদান এবং গাড়ির স্বয়ংক্রিয় পার্কিং ব্যবস্থায় ব্যবহৃত অতিস্বনক প্রযুক্তি। এক্সোর প্রোফাইল অনুযায়ী, বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হওয়া ৩০টিরও বেশি সমন্বিত সার্কিট পণ্য নকশায় তাঁর ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি দুই দশক ধরে আইইইইর বিভিন্ন কারিগরি কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড সিটিতে ইউসুফ হক, সন্দীপ আকারাজু, জানুস ব্রাইজেক ও জন কোকুলিস মিলে এক্সো ইমেজিং প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসা-ইমেজিং প্রযুক্তিকে আরও সহজে বহনযোগ্য ও ব্যবহারযোগ্য করার ওপর গুরুত্ব দেয়। তাদের তৈরি এক্সো আইরিস একটি হাতে বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড প্রোব। প্রচলিত বড় আল্ট্রাসাউন্ড যন্ত্রের তুলনায় এটি আকারে ছোট এবং রোগীর কাছাকাছি গিয়ে পরীক্ষা করার জন্য নকশা করা হয়েছে। যন্ত্রটির সঙ্গে যুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যার পরীক্ষার সময় চিকিৎসককে ছবির মান ও প্রয়োজনীয় দৃশ্য ধারণে সহায়তা করে। এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সুইপএআই। এক্সোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এটি যন্ত্রের ভেতরেই কাজ করতে পারে এবং হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষার সময় ছবির মান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেয়। প্রোবটি শরীরের ওপর দিয়ে চালানোর সময় সফটওয়্যার উপযুক্ত ছবি শনাক্ত করতে এবং পর্যাপ্ত তথ্য ধারণ হয়েছে কি না তা বুঝতে সহায়তা করে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পরীক্ষার জন্য ক্লাউড বা ইন্টারনেট সংযোগের ওপর নির্ভর করতে হয় না। তবে এর অর্থ এই নয় যে যন্ত্রটি নিজে থেকেই সব রোগের চূড়ান্ত নির্ণয় করে ফেলে। এটি চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীকে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার একটি প্রযুক্তি। এক্সোর প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুধু ছবি তোলার মান যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, আইরিসে হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে সহায়ক এআই ব্যবস্থা যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হৃদ্যন্ত্রের কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং ফুসফুসের চারপাশে তরল জমা বা ফুসফুসের কিছু অংশে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মতো বিষয় শনাক্ত করতে সহায়তা করা অন্তর্ভুক্ত। এসব তথ্য চিকিৎসকের জন্য প্রাথমিক মূল্যায়নে কাজে লাগতে পারে, তবে রোগীর উপসর্গ, অন্যান্য পরীক্ষার ফল এবং চিকিৎসকের সামগ্রিক মূল্যায়নের বিকল্প নয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এক্সো সুইপএআই চালুর ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যবহারের আওতায় হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় এই প্রযুক্তি সহায়তা করে। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ফুসফুসে তরল জমা এবং ফুসফুসের টিস্যুতে ঘনত্ব বা ধসের মতো পরিবর্তন শনাক্তে সহায়ক এআই ব্যবস্থার জন্য এফডিএর ৫১০(কে) ছাড়পত্রের তথ্য প্রকাশিত হয়। একই বছরের জুনে এক্সো ফুসফুসের এসব বৈশিষ্ট্য শনাক্তে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আরও তথ্য জানায়। এ ধরনের নিয়ন্ত্রক ছাড়পত্র নির্দিষ্ট ব্যবহার ও নির্দিষ্ট প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সব রোগ শনাক্ত করার সামগ্রিক অনুমোদন হিসেবে একে দেখা ঠিক নয়। বাংলাদেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা স্বাস্থ্যসেবার একটি বাস্তব সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। বড় শহরের বাইরে অনেক এলাকায় উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র, প্রশিক্ষিত কর্মী ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সুযোগ সীমিত। রোগীকে পরীক্ষা করাতে দূরের হাসপাতালে যেতে হলে সময় ও অর্থ দুটিই বেশি লাগে। বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড যন্ত্র স্বাস্থ্যকর্মীদের রোগীর কাছাকাছি গিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা করতে সহায়তা করতে পারে। তবে বাস্তবে এর সুফল পেতে যন্ত্রের দাম, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা-তথ্যের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজন হলে রোগীকে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এক্সোর প্রধান নির্বাহী সন্দীপ আকারাজু ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের বৈঠকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পর এশিয়ায় প্রথম বাংলাদেশে প্রযুক্তিটি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক লক্ষ্য বড় হাসপাতাল হলেও ভবিষ্যতে গ্রামীণ ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এর ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ সফল হলে দূরবর্তী এলাকায় প্রাথমিক পরীক্ষা সহজ হতে পারে। তবে কোন হাসপাতাল থেকে কার্যক্রম শুরু হবে, কতটি যন্ত্র আনা হবে, এর মূল্য কত হবে এবং সাধারণ রোগীরা কখন থেকে সেবা পাবেন, সে বিষয়ে ঘোষণার সময় বিস্তারিত সময়সূচি জানানো হয়নি। ইউসুফ হকের কর্মজীবন দেখায়, চিকিৎসা-প্রযুক্তির উন্নয়নে শুধু চিকিৎসাবিদ্যা নয়, ইলেকট্রনিকস, চিপ নকশা, সফটওয়্যার ও প্রকৌশলের সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর নেতৃত্বে এক্সো যে প্রযুক্তি তৈরি করছে, তা রোগ নির্ণয়ের কিছু ধাপকে সহজ ও দ্রুত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বাংলাদেশে এর ব্যবহার কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন, ব্যয়, প্রশিক্ষণ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তিটির কার্যকর সংযোগের ওপর। আপাতত প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত পরিকল্পনা দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বহনযোগ্য ও এআই-সহায়ক পরীক্ষাপদ্ধতি যুক্ত করার একটি সম্ভাব্য পথ সামনে এনেছে। সূত্র: এক্সোর অফিসিয়াল প্রোফাইল ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রকাশনা; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর প্রতিবেদন।
স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন নারী ও জাতিগত সংখ্যালঘু রোগীদের ক্ষেত্রে পিছিয়ে না পড়ে, তা নিয়ে গবেষণা করছেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক মারজিয়ে ঘাসেমি। ইরানি বংশোদ্ভূত এই মার্কিন গবেষক ও তাঁর হেলদি মেশিন লার্নিং দল চিকিৎসার এআই মডেলকে আরও নির্ভরযোগ্য ও ন্যায্য করার উপায় খুঁজছেন। তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে, সব রোগীর ওপর গড় হিসাবে ভালো ফল দেওয়া মডেলও নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কম নির্ভুল হতে পারে। ঘাসেমি এমআইটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ এবং ইনস্টিটিউট ফর মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্সে কর্মরত। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিচিতিতে তাঁকে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর গবেষণার লক্ষ্য, রোগীর তথ্য বিশ্লেষণে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসেবার নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও ন্যায্যতা উন্নত করা। এমআইটি নিউজের ২৫ নভেম্বর ২০২৪ প্রকাশিত পরিচিতিমূলক প্রতিবেদনে জানানো হয়, টেক্সাস ও নিউ মেক্সিকোতে একটি ইরানি মার্কিন পরিবারে বেড়ে ওঠেন ঘাসেমি। ছোটবেলা থেকেই ধাঁধা, ভিডিও গেম ও স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশ্নে তাঁর আগ্রহ ছিল। পরে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও চিকিৎসার তথ্য বিশ্লেষণের মধ্যে নিজের কাজের ক্ষেত্র খুঁজে পান তিনি। পিএইচডি গবেষণার সময় রোগীর চিকিৎসার ফলাফল অনুমান করতে এআই মডেল তৈরি করছিলেন ঘাসেমি। তখন তাঁর গবেষণা কমিটির সদস্য লিও সেলি জানতে চান, মডেলগুলো বিভিন্ন লিঙ্গ, ইন্স্যুরেন্স ও জাতিগত পরিচয়ের রোগীদের ক্ষেত্রে সমানভাবে কাজ করছে কি না। আলাদাভাবে পরীক্ষা করে ঘাসেমি ফলাফলে ব্যবধান পান। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে চিকিৎসার এআইয়ে পক্ষপাত নিয়ে গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করে। সমস্যার একটি উৎস হলো মডেলকে শেখাতে ব্যবহৃত তথ্য। এমআইটির ২০২২ সালের প্রতিবেদনে ঘাসেমি ব্যাখ্যা করেন, চিকিৎসার তথ্য মানুষের সিদ্ধান্ত ও আচরণের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়। সেখানে বিদ্যমান পক্ষপাত এআইয়ের মধ্যেও প্রবেশ করতে পারে। ফলে শুধু বিপুল পরিমাণ তথ্য দিয়ে মডেল তৈরি করলেই সব রোগীর জন্য সমান মানের ফল নিশ্চিত হয় না। ঘাসেমি যুক্ত ছিলেন এমন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এআই মডেল বুকের এক্স-রেসহ বিভিন্ন মেডিকেল ছবি থেকে রোগীর স্বঘোষিত জাতিগত পরিচয় উচ্চ নির্ভুলতায় অনুমান করতে পারে। চিকিৎসকের কাছে ছবিতে সেই পরিচয়ের স্পষ্ট নির্দেশক না থাকলেও মডেল তা শনাক্ত করেছে। গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, এমন তথ্য মডেল অপ্রত্যাশিতভাবে ব্যবহার করলে রোগ নির্ণয়ের সিদ্ধান্তে পক্ষপাত ঢুকে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এমআইটির গবেষকদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, এক হাসপাতালে ভালো কাজ করা মডেল অন্য হাসপাতালের রোগীদের ক্ষেত্রে একই ফল নাও দিতে পারে। রোগীর ধরন ও তথ্যের পরিবর্তন বিবেচনায় না নিলে নির্ভুলতা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ফলাফলের ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। তাই ব্যবহারস্থলের রোগীদের ওপর আলাদাভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজন তুলে ধরছেন ঘাসেমি ও তাঁর সহকর্মীরা। তাঁদের অনুসন্ধানে জনগোষ্ঠীভেদে পার্থক্য বিবেচনা করে মডেল প্রশিক্ষণ দিলে কিছু ব্যবধান কমানোর সুযোগ পাওয়া গেছে। তবে এই ফল সব হাসপাতাল বা সব রোগীর ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়। ঘাসেমির কাজ মূলত সেই সীমাবদ্ধতা শনাক্ত করা ও সমাধানের পথ খোঁজা। চিকিৎসায় এআই ব্যবহার করলেই বৈষম্য দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা এই গবেষণা দেয় না।
চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সিদ্ধান্তে বৈষম্যের ঝুঁকিও সামনে আসছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর রোগীদের ক্ষেত্রে এআইয়ের ভুল পূর্বাভাস বা পক্ষপাতপূর্ণ সুপারিশ ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ ঝুঁকি কমিয়ে চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আরও নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ করতে গবেষণা করছেন ইরানি-আমেরিকান গবেষক মারজিয়েহ ঘাসেমি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক এবং স্বাস্থ্যসেবায় যন্ত্রশিক্ষার ব্যবহার নিয়ে কাজ করছেন। এমআইটির ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্সের মূল অনুষদ সদস্য এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ঘাসেমি হেলদি এমএল ল্যাবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো, চিকিৎসায় ব্যবহৃত এআই মডেলগুলো কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কোন তথ্যের ওপর নির্ভর করছে এবং সেসব সিদ্ধান্তে রোগীভেদে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে কি না, তা শনাক্ত করার পদ্ধতি তৈরি করা। এমআইটির ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্স ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ঘাসেমির গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছে। সেখানে বলা হয়েছে, চিকিৎসায় এআইয়ের কার্যকারিতা শুধু গড় নির্ভুলতার ওপর নির্ভর করে না। বিভিন্ন হাসপাতাল ও জনগোষ্ঠীর রোগীদের ক্ষেত্রে মডেলটি সমানভাবে নির্ভরযোগ্য কি না, ভুল তথ্য থেকে ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত শিখছে কি না এবং বাস্তবে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করছে কি না, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। ঘাসেমির গবেষণাগারে এআই মডেলের ব্যর্থতা শনাক্ত করা, পূর্বাভাসের অনিশ্চয়তা পরিমাপ করা, পক্ষপাত কমানো এবং চিকিৎসক ও রোগীদের জন্য প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার পদ্ধতি তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে চিকিৎসায় এআইয়ের সম্ভাব্য সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিটির সীমাবদ্ধতাও বোঝার চেষ্টা করছেন গবেষকেরা। চিকিৎসার তথ্য বিশ্লেষণে নতুন চ্যালেঞ্জ: ঘাসেমির গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা-তথ্য একত্র করে রোগীর কখন গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা বা জরুরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে, তা আগেভাগে অনুমান করা। এ কাজে রোগীর শারীরিক অবস্থার ধারাবাহিক পরিমাপ, পরীক্ষাগারের ফলাফল, চিকিৎসকদের লিখিত নোট এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জিনগত ও পরিবেশগত তথ্য ব্যবহার করা হয়। তবে এসব তথ্য এক ধরনের নয়। কোনো তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা হয়, আবার কোনো পরীক্ষা করা হয় নির্দিষ্ট প্রয়োজন দেখা দিলে। চিকিৎসকদের নোটও বিভিন্ন সময়ে তৈরি হয়। পাশাপাশি সব রোগীর ক্ষেত্রে সমান পরিমাণ বা একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায় না। এসব সীমাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন উৎসের তথ্য একত্র করে নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া একটি জটিল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যা মোকাবিলায় গবেষকেরা পুনরাবৃত্ত নিউরাল নেটওয়ার্ক এবং কনভল্যুশনাল নিউরাল নেটওয়ার্কের মতো যন্ত্রশিক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এসব পদ্ধতির সাহায্যে রোগীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে কখন চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে, তা অনুমান করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে মডেল কোনো পূর্বাভাস দিতে পারলেই সেটিকে সরাসরি চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা নিরাপদ হয়ে যায় না। ঘাসেমির মতে, বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা-তথ্য একত্র করে তৈরি মডেল পূর্বাভাসের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে। কিন্তু চিকিৎসার বাস্তব পরিবেশে ব্যবহারের আগে মডেলটি কী শিখেছে এবং কোন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা পরীক্ষা করা জরুরি। চিকিৎসায় এআইয়ের একটি বড় উদ্বেগ হলো, প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত তথ্যের মধ্যেই যদি বৈষম্য থাকে, তাহলে মডেলও সেই বৈষম্য শিখে নিতে পারে। কোনো রোগী গোষ্ঠীর তথ্য পর্যাপ্ত না থাকলে অথবা তথ্যের মধ্যে বিদ্যমান অসমতা যথাযথভাবে বিবেচনা না করা হলে, মডেলটি এক গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ভালো ফল দিলেও অন্য গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কম নির্ভুল হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা রোগ শনাক্তকরণ, রোগের ঝুঁকি নির্ধারণ কিংবা চিকিৎসার সুপারিশে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে শুধু সামগ্রিকভাবে একটি মডেল কতটা নির্ভুল, তা যাচাই করাই যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর রোগীদের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা এবং ভুলের ধরনও আলাদাভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ঘাসেমির গবেষণা এই ঝুঁকিগুলো শনাক্ত ও কমানোর উপায় খুঁজছে। তাঁর নেতৃত্বাধীন গবেষক দল এমন পদ্ধতি তৈরি করছে, যার মাধ্যমে এআইয়ের সিদ্ধান্তের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা এবং সম্ভাব্য ক্ষতিকর পক্ষপাত সম্পর্কে আগেই ধারণা পাওয়া সম্ভব হতে পারে। চিকিৎসায় এআইয়ের ব্যবহার যত বাড়বে, প্রযুক্তির নির্ভুলতার পাশাপাশি এর নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করাও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ঘাসেমির গবেষণা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। তবে গবেষণার উদ্দেশ্য সব ধরনের বৈষম্য ইতিমধ্যে দূর করা নয়; বরং চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে এআই মডেলের সীমাবদ্ধতা শনাক্ত করা এবং রোগীদের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানোর কার্যকর পদ্ধতি তৈরি করা।
যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক কম থাকলেও চাকরি খুঁজে পাওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। মাসের পর মাস আবেদন করেও সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাচ্ছেন না বহু চাকরিপ্রার্থী। বিশেষ করে ব্যাংকিং, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, ব্যবসায়িক সেবা ও বিভিন্ন দাপ্তরিক পেশায় নিয়োগের গতি কমে যাওয়ায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও আতিথেয়তা খাতের কিছু অংশে নতুন কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান তৈরি হলেও সব খাতের চাকরিপ্রার্থীরা সমানভাবে সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগদাতাদের অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার চাকরির বাজারকে জটিল করে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারির পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সময় প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে দ্রুত কর্মী নিয়োগ করেছিল, বর্তমানে সেই প্রবণতা আর দেখা যাচ্ছে না। বরং অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান কর্মীদের দিয়ে বেশি কাজ করানো এবং ব্যয় কমানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। চাকরির বাজারের এই পরিস্থিতি শুধু বেকারত্বের পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন কাজ না পেলে বাড়ি কেনা, পরিবার গঠন, ঋণ পরিশোধ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে হয়। কর্মজীবনের শুরুতে থাকা তরুণদের জন্য সমস্যাটি আরও প্রকট। কারণ, অভিজ্ঞ কর্মীদের তুলনায় তাঁদের পেশাগত যোগাযোগের সুযোগ কম এবং কাজের অভিজ্ঞতাও সীমিত। ফলে একই পদের জন্য বহু আবেদনকারীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেও তাঁরা সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাচ্ছেন না। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় নিয়োগে সতর্ক প্রতিষ্ঠানগুলো নিউজউইকের প্রতিবেদনে ইউনিভার্সিটি অব টেনেসি অ্যাট মার্টিনের আর্থিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষক অ্যালেক্স বীনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার থেকে শুরু করে কিছু খাতে ভোক্তাদের ব্যয় কমে আসা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় বর্তমান চাকরির বাজারে চাপ তৈরি করছে। তবে নিয়োগদাতাদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের একটি হলো আগামী ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কোন দিকে যাবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে পণ্য ও সেবার চাহিদা কেমন থাকবে, পরিচালন ব্যয় কতটা বাড়বে এবং নতুন কর্মী নিয়োগ করে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব হবে কি না, তা বিবেচনা করছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সম্ভাব্য শুল্ক এবং ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের মতো আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। এ অবস্থায় অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখছে, বিশেষ করে যেসব পদে কর্মজীবনের শুরুতে থাকা প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। বীনের মতে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভোক্তাদের চাহিদা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা না পাওয়া পর্যন্ত নিয়োগের গতি ধীর থাকতে পারে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে নতুন কর্মী নেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান কর্মীদের দায়িত্ব বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে যেসব কাজ প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পন্ন করা সম্ভব, সেগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর ফলে চাকরির বাজারে সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও নতুন নিয়োগের জন্য অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। মানবসম্পদবিষয়ক পরামর্শক ব্রায়ান ড্রিসকলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য চাকরিপ্রার্থীদের এককভাবে দায়ী করা যায় না। তাঁর বক্তব্য, অনেক নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী না নিয়েও কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। একই সময়ে বাড়িভাড়া, খাবার, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়ায় কর্মীদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে আয় সমানতালে না বাড়লে কম বেতন বা অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে চাকরি ছেড়ে দেওয়াও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। পরিসংখ্যানে কর্মসংস্থান বাড়লেও সব খাতে একই চিত্র নয় যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থানবিষয়ক এডিপি ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশটির বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট ৯০ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছিল। তবে এই প্রবৃদ্ধি সব খাতে সমান ছিল না। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৫৫ হাজার এবং অবসর ও আতিথেয়তা খাতে ২২ হাজার কর্মসংস্থান বাড়ে। নির্মাণ খাতে ১৫ হাজার এবং উৎপাদন খাতে ১৭ হাজার কর্মী যুক্ত হন। বিপরীতে আর্থিক কর্মকাণ্ডে ১৬ হাজার এবং পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবায় ১১ হাজার কর্মসংস্থান কমে যায়। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে কর্মসংস্থান বাড়লেও অনেক দাপ্তরিক পেশায় চাকরির সুযোগ সংকুচিত হওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। তবে বেসরকারি খাতের এই পরিসংখ্যানকে যুক্তরাষ্ট্রের পুরো শ্রমবাজারের চিত্র হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২ অক্টোবর প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে কৃষিবহির্ভূত মোট কর্মসংস্থান বেড়েছে মাত্র ২৯ হাজার। একই সময়ে বেকারত্বের হার আগের মাসের ৪ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়ায়। সরকারি ও বেসরকারি খাতের হিসাবের আওতা ও পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় এডিপি এবং সরকারি প্রতিবেদনের সংখ্যাও এক নয়। তবে দুটি হিসাবের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও সামগ্রিক শ্রমবাজারে নিয়োগের গতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সমস্যাটি শুধু বেকারত্বের হার দিয়ে বোঝা সম্ভব নয়। কোনো দেশে কর্মরত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও নতুন চাকরির সুযোগ যদি নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে অন্য খাতের আবেদনকারীদের জন্য প্রতিযোগিতা তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীদের পাশাপাশি নতুন স্নাতকদেরও একই পদের জন্য আবেদন করতে হলে কর্মজীবনের শুরুতে থাকা প্রার্থীদের সুযোগ পাওয়া আরও কঠিন হয়ে ওঠে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি চাকরির সুযোগ কমাচ্ছে চাকরির বাজারে অনিশ্চয়তার আরেকটি কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন মূল্যায়ন করছে, প্রযুক্তির সাহায্যে কোন কাজগুলো দ্রুত ও কম খরচে সম্পন্ন করা সম্ভব। বিশেষ করে তথ্য বিশ্লেষণ, দাপ্তরিক কাজ, গ্রাহকসেবা এবং কিছু লেখালেখি ও যোগাযোগের দায়িত্বে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর অর্থ এই নয় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতিমধ্যে অধিকাংশ কর্মীকে সরাসরি প্রতিস্থাপন করেছে। বরং প্রযুক্তিটি ভবিষ্যতে কর্মীদের দায়িত্ব কীভাবে বদলে দিতে পারে, তা নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই অনিশ্চয়তার কারণে কিছু নিয়োগদাতা নতুন কর্মী নেওয়ার আগে অপেক্ষা করছে। যেসব কাজ বিদ্যমান কর্মী বা প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পন্ন করা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে, সেসব পদে নতুন নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করতে পারেন নতুন চাকরিপ্রার্থীরা। কারণ, কর্মজীবনের শুরুতে থাকা অনেকেই এমন পদে আবেদন করেন, যেগুলোতে আগে তুলনামূলক কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীদের সুযোগ দেওয়া হতো। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো যদি একই দায়িত্ব বর্তমান কর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দেয় অথবা প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায়, তাহলে নতুনদের প্রবেশের সুযোগ কমে যেতে পারে। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেককে দীর্ঘ সময় ধরে আবেদন চালিয়ে যেতে হচ্ছে। কোন খাতে চাকরির সুযোগ তুলনামূলক বেশি বর্তমান পরিস্থিতিতেও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু খাতে কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা, নার্সিং, আবাসিক পরিচর্যা, বাড়িতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, নির্মাণ এবং দক্ষ কারিগরি পেশা উল্লেখযোগ্য। দেশটির বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা ও পরিচর্যাসেবার চাহিদাও বাড়ছে। ফলে হাসপাতাল, পরিচর্যাকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট সেবাপ্রতিষ্ঠানে কর্মীর প্রয়োজন তৈরি হচ্ছে। এডিপির সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৫৫ হাজার কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে। অবসর ও আতিথেয়তা খাতেও ২২ হাজার কর্মসংস্থান বেড়েছে। নির্মাণ খাতে ১৫ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান কোনো নির্দিষ্ট পেশায় সারা দেশে সমানসংখ্যক শূন্য পদ থাকার নিশ্চয়তা দেয় না। অঞ্চল, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নিয়োগদাতার চাহিদা অনুযায়ী চাকরির সুযোগ ভিন্ন হতে পারে। নাইনআই ক্যাপিটাল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন থম্পসন নিউজউইককে বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি বড় অংশ বর্তমানে তথ্যকেন্দ্র ও নির্মাণের মতো নির্দিষ্ট খাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অবসর ও আতিথেয়তা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্থিক সেবার মতো খাতে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি তুলনামূলক দুর্বল। অন্যদিকে ব্যাংকিং, আর্থিক কর্মকাণ্ড, পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবা, প্রযুক্তি, করপোরেট প্রশাসন এবং সংবাদমাধ্যম ও যোগাযোগ খাতের কিছু অংশে নিয়োগের গতি কমেছে। এসব ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। কোথাও নতুন নিয়োগ কমেছে, আবার কোথাও কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা নতুন পদ তৈরির প্রবণতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। থম্পসনের পরামর্শ হলো, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চাকরিপ্রার্থীদের প্রয়োজনে পদমর্যাদা, বেতন কিংবা দায়িত্বের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত লক্ষ্য ঠিক রেখে কাছাকাছি ধরনের অন্য পদ বা চুক্তিভিত্তিক কাজের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগও খতিয়ে দেখা যেতে পারে। চাকরি পেতে কী কৌশল নিতে পারেন প্রার্থীরা বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২১ ও ২০২২ সালের তুলনামূলক সক্রিয় নিয়োগের সময়ের মতো শুধু অনলাইনে আবেদন করে অপেক্ষা করার কৌশল এখন অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। বরং কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ চলছে, কী ধরনের দক্ষতা চাওয়া হচ্ছে এবং নিজের অভিজ্ঞতা সংশ্লিষ্ট পদের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা যাচাই করে আবেদন করা গুরুত্বপূর্ণ। পেশাগত যোগাযোগও চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাবেক সহকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট পেশার পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন নিয়োগের খবর পাওয়া যেতে পারে। কিছু পদে পরিচিত ব্যক্তির সুপারিশ বা অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের মাধ্যমে প্রার্থীরা নিয়োগদাতার নজরে আসার সুযোগ পান। তবে সুপারিশ থাকলেই চাকরি নিশ্চিত হয় না, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ। ড্রিসকল চাকরিপ্রার্থীদের এমন শিল্প ও প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যেখানে নিয়োগের ধারাবাহিকতা রয়েছে এবং বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ইতিহাস তুলনামূলক কম। পাশাপাশি জীবনবৃত্তান্তে দায়িত্বের তালিকা দেওয়ার পরিবর্তে আগের কাজের সুনির্দিষ্ট অর্জন ও ফলাফল তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। আবেদন করা পদের প্রয়োজন অনুযায়ী জীবনবৃত্তান্ত সাজাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তাও নেওয়া যেতে পারে। তবে সেখানে উল্লেখ করা তথ্য অবশ্যই সত্য ও যাচাইযোগ্য হতে হবে। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিকল্প পেশার সুযোগ বিবেচনা করা। নিজের মূল ক্ষেত্রের পাশাপাশি কাছাকাছি দক্ষতা প্রয়োজন এমন অন্য খাতেও আবেদন করা যেতে পারে। সাময়িক বা চুক্তিভিত্তিক কাজ দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণের একটি ধাপ হতে পারে। তবে বেতন, কাজের শর্ত এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা যাচাই না করে শুধু চাকরি পাওয়ার তাগিদে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। সামনে কী হতে পারে বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ধসের চেয়ে ধীরগতির নিয়োগ ও তীব্র প্রতিযোগিতার পরিস্থিতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রাখলেও অন্যরা ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ফলে চাকরির বাজারে সামগ্রিক কর্মসংস্থান বাড়লেও নতুন চাকরি খোঁজা মানুষের জন্য সুযোগ পাওয়া সহজ হচ্ছে না। বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয়ও এই পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। ড্রিসকলের মতে, অনেক কর্মী নিজেদের প্রত্যাশার চেয়ে কম বেতন বা অনুকূল নয় এমন কাজ গ্রহণ করছেন পেশাগত পছন্দের কারণে নয়, বরং নিয়মিত খরচ মেটানোর প্রয়োজন থেকে। চাকরি না থাকার আর্থিক ঝুঁকি বেশি হলে কর্মীদের পক্ষে ভালো সুযোগের অপেক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে বর্তমান চ্যালেঞ্জের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিভিন্ন খাতে অসম কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি, নিয়োগদাতাদের সতর্কতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য প্রভাব পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ভবিষ্যতে নিয়োগের গতি বাড়বে কি না, তা নির্ভর করবে অর্থনীতির অবস্থা, ব্যবসায়িক চাহিদা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তের ওপর। সূত্র: নিউজউইক
চিকিৎসা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অঙ্গরাজ্য হিসেবে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে ইউটা। রাজ্যটিতে এমন কিছু পরীক্ষামূলক প্রোগ্রামের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেখানে চিকিৎসকের সরাসরি তদারকি ছাড়াই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্দিষ্ট কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যার ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন দিতে পারবে। এই নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘নোলা হেলথ’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ব্রণের সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। রোগীর মুখের ছবি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রযুক্তি প্রাথমিক পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু মলম বা টপিকাল চিকিৎসার পরামর্শ ও প্রেসক্রিপশন দিতে পারবে। তবে এআই চাইলেই যেকোনো ওষুধের প্রেসক্রিপশন দিতে পারবে না। মুখে খাওয়ার ওষুধ, আইসোট্রেটিনোইন বা অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত ওষুধগুলো এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। এছাড়া জটিল বা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব মানব চিকিৎসকদের হাতেই থাকবে। প্রযুক্তিটির বাস্তবায়ন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসকরা এআইয়ের দেওয়া প্রেসক্রিপশনগুলো সরাসরি পর্যালোচনা করবেন। পরবর্তীতে সিস্টেমটি রাজ্যের নির্ধারিত নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণে সম্পূর্ণ সক্ষম হলে তবেই চিকিৎসকদের তদারকি কমানো হতে পারে। এর আগে ইউটা অঙ্গরাজ্য এআইয়ের সাহায্যে প্রেসক্রিপশন নবায়নের পরীক্ষাও চালিয়েছে। ওই অনুমোদিত সিস্টেমগুলোর মাধ্যমে লাইসেন্সধারী চিকিৎসকদের দেওয়া কিছু নিয়মিত ওষুধের রিফিল বা পুনরায় নেওয়ার প্রক্রিয়া এআইয়ের সাহায্যে সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। উদ্যোগটির সমর্থকদের মতে, এআইয়ের এই ব্যবহারের ফলে সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে এবং চিকিৎসকদের দৈনন্দিন কাজের চাপ অনেকটাই কমবে। তবে সমালোচকরা সতর্ক করে বলছেন, ওষুধ নির্ধারণের ক্ষেত্রে রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসা ইতিহাস, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং বিভিন্ন উপসর্গের মতো সূক্ষ্ম বিষয়গুলো অ্যালগরিদম ভুলভাবে মূল্যায়ন করতে পারে। এই ধরনের ঝুঁকি এড়াতে আপাতত ইউটা কর্তৃপক্ষ এআইকে স্বাধীনভাবে চিকিৎসা করার অবাধ ক্ষমতা দেওয়ার বদলে এটিকে একটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়া হিসেবেই পরিচালনা করছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী সানাম সাঈদ। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি বক্তব্য শেয়ার করে তিনি প্রশ্ন করেছেন, রোবটকে কেন খনি, তেলক্ষেত্র, বিষাক্ত রাসায়নিকের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে কিংবা সমুদ্র থেকে প্লাস্টিক পরিষ্কারে আরও বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে না, অথচ তারা ইমেইল লেখা ও পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরির মতো কাজ করছে। সানাম সাঈদের শেয়ার করা বক্তব্যে মূলত প্রযুক্তি উন্নয়নের বর্তমান দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, মানুষের জন্য বিপজ্জনক ও কঠিন কাজগুলো প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজ করার পরিবর্তে কেন এমন সব কাজ স্বয়ংক্রিয় করা হচ্ছে, যেগুলো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং আগে থেকেই মানুষ সহজে করতে পারছে। তবে বক্তব্যটি সানাম সাঈদের নিজের লেখা কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তিনি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কথাগুলো শেয়ার করেছেন। ফলে এটিকে তার সরাসরি উদ্ধৃতি বা নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপনের বদলে, প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে একটি মতামতের সঙ্গে তার একাত্মতা বা আগ্রহের প্রকাশ হিসেবেই দেখা নিরাপদ। সানামের শেয়ার করা এই প্রশ্নটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ইমেইল লেখা, নথির খসড়া তৈরি, প্রেজেন্টেশন বানানো, ছবি তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন অফিসকেন্দ্রিক কাজে এআই টুলের ব্যবহার এখন ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ফলে এআই মানুষের সৃজনশীল ও প্রশাসনিক কাজ প্রতিস্থাপন করবে কি না, সেই আলোচনা বিশ্বজুড়েই চলছে। তবে বাস্তবতা হলো, রোবট ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ইতোমধ্যেই খনি ও তেল-গ্যাস খাতের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার হচ্ছে। আন্তর্জাতিক খনি কোম্পানি রিও টিন্টো পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন খনিতে স্বয়ংক্রিয় ট্রাক, ড্রিল ও চালকবিহীন ভারী ট্রেন ব্যবহার করছে। তাদের গুদাই-দারি খনিতে রোবোটিক নমুনা পরীক্ষাগারও রয়েছে এবং অনেক যন্ত্রপাতি দূর থেকে পরিচালনা করা হয়। এর উদ্দেশ্য কর্মীদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে রেখে নিরাপত্তা ও দক্ষতা বাড়ানো। তেল ও গ্যাস খাতেও রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকল বা দূরনিয়ন্ত্রিত রোবট দীর্ঘদিন ধরে গভীর সমুদ্রের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। শেল জানিয়েছে, তাদের গভীর সমুদ্রের কার্যক্রমে সাবসি সিস্টেম ও রোবোটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি অফশোর তেল ট্যাংক পরিদর্শনেও রোবট ব্যবহার করেছে, যাতে মানুষের সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়ার প্রয়োজন কমে। সমুদ্রের প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলাতেও এআই ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রকল্প রয়েছে। দ্য ওশান ক্লিনআপ নামের সংস্থা জাহাজে বসানো এআইচালিত ক্যামেরার মাধ্যমে সমুদ্রে ভাসমান প্লাস্টিক শনাক্ত ও মানচিত্র তৈরি করছে। ২০২৫ সালে সংস্থাটি অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের সঙ্গে অংশীদারত্ব করে এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে প্লাস্টিক জমার এলাকা আরও দ্রুত শনাক্ত করার উদ্যোগ নেয়। তাদের ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তির কিছু সংস্করণ নদী থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্লাস্টিক সংগ্রহ করতেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এ কারণে সানাম সাঈদের শেয়ার করা বক্তব্যটি প্রযুক্তির বর্তমান ব্যবহার নিয়ে একটি বৃহত্তর সামাজিক প্রশ্ন তুলে ধরলেও, রোবট ঝুঁকিপূর্ণ বা পরিবেশগত কাজে একেবারেই ব্যবহৃত হচ্ছে না, এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং এসব ক্ষেত্রে রোবট ও এআইয়ের ব্যবহার ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে জেনারেটিভ এআইয়ের দ্রুত বিস্তার এবং অফিসকেন্দ্রিক কাজে এর ব্যাপক উপস্থিতি সেই প্রযুক্তিগত অগ্রাধিকারের প্রশ্নটিকে নতুন করে সামনে এনেছে। সানাম সাঈদ পাকিস্তানের পরিচিত অভিনেত্রী, যিনি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সমসাময়িক বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া বা বিভিন্ন বক্তব্য শেয়ার করতেও তাকে দেখা যায়। এবার এআই ও রোবট প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে তার শেয়ার করা পোস্টও প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া অডিও ও ভিডিওতে নিজের কণ্ঠের অননুমোদিত ব্যবহার ঠেকাতে কণ্ঠ ট্রেডমার্কের আবেদন করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ৫ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মেধাস্বত্ব দপ্তর ইউআইপিওতে (EUIPO) আবেদনটি জমা দেওয়া হয়। আবেদনের সঙ্গে মেলোনির নিজের কণ্ঠে প্রায় চার সেকেন্ডের একটি অডিও যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে তিনি ইতালীয় ভাষায় দুবার বলেন, ‘ইও সোно জর্জিয়া মেলোনি’, যার অর্থ ‘আমি জর্জিয়া মেলোনি’। ইউআইপিওর নথি অনুযায়ী, আবেদনটি এখনো পরীক্ষাধীন। এতে ডাউনলোডযোগ্য মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজনসহ কয়েক ধরনের সেবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ আবেদন জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলোনির কণ্ঠের আইনি সুরক্ষা কার্যকর হয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মেধাস্বত্ব দপ্তরকে আগে আবেদনটি পরীক্ষা করে দেখতে হবে, কণ্ঠের এই নমুনা ট্রেডমার্ক হিসেবে নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে কি না। মেলোনির বেছে নেওয়া বাক্যটিও রাজনৈতিকভাবে বেশ পরিচিত। ২০১৯ সালে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি জর্জিয়া, আমি একজন নারী, আমি একজন মা, আমি ইতালীয়, আমি খ্রিস্টান।’ সেই বক্তব্যের ‘ইও সোно জর্জিয়া’ বা ‘আমি জর্জিয়া’ অংশটি পরে মেলোনির সঙ্গে ব্যাপকভাবে যুক্ত হয়ে যায়। ২০২১ সালে প্রকাশিত তার আত্মজীবনীর নামও ছিল ‘ইও সোно জর্জিয়া’। পরে এই বাক্যকে কেন্দ্র করে ইতালিতে একটি ডিস্কো গানও তৈরি হয়। মেলোনির এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি। বর্তমানে অল্প সময়ের আসল অডিও নমুনা ব্যবহার করেও কোনো ব্যক্তির কণ্ঠের অনুকরণ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে রাজনৈতিক নেতা, তারকা ও অন্যান্য পরিচিত ব্যক্তিদের নামে এমন অডিও বা ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে, যা শুনে বা দেখে অনেক সময় আসল ও কৃত্রিম কনটেন্টের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। মেলোনির কণ্ঠ ট্রেডমার্কের আবেদন সেই পরিবর্তিত ডিজিটাল পরিবেশে ব্যক্তিগত পরিচয় ও কণ্ঠের ওপর আইনি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর একটি প্রচেষ্টা। তবে কণ্ঠ ট্রেডমার্ক হয়ে গেলেই এআই দিয়ে মেলোনির কণ্ঠের সব ধরনের নকল বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নয়। ইতালীয় সংবাদমাধ্যম ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমোদন পেলেও এই ট্রেডমার্ক নিজে থেকে প্রতিটি এআই-নির্মিত নকল নিষিদ্ধ করবে না। বরং অননুমোদিতভাবে তার কণ্ঠ ব্যবহার করা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি অতিরিক্ত একটি ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগতে পারে। ইউআইপিওর নির্দেশিকাতেও কণ্ঠকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে শব্দভিত্তিক ট্রেডমার্ক হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগের কথা বলা হয়েছে। এটি মেলোনির জন্য নতুন কোনো ধরনের ডিজিটাল সুরক্ষা উদ্যোগ নয়। ২০২৪ সালে তার ছবি ব্যবহার করে যৌন হয়রানিমূলক ডিপফেক ছবি তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তিনি একটি দেওয়ানি মামলা করেন। ওই মামলাটি এখনো চলমান। সে সময় মেলোনি ডিপফেকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বলেছিলেন, তিনি নিজের পক্ষে আইনি লড়াই করতে পারেন, কিন্তু অনেক মানুষের সেই সুযোগ নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের কৃত্রিম কনটেন্ট মানুষকে বিভ্রান্ত ও প্রভাবিত করতে পারে এবং ক্ষতির কারণ হতে পারে। ইতালিতে মেলোনিই একমাত্র রাজনীতিক নন, যার পরিচয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নকল করার ঘটনা সামনে এসেছে। ২০২৫ সালে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোজেত্তোর কণ্ঠ নকল করে তৈরি একটি এআই অডিও ব্যবহার করে ধনী ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে প্রতারণার চেষ্টা হয়েছিল। ঘটনাটি দেখিয়েছে, এআই দিয়ে শুধু বিনোদনমূলক ভুয়া কনটেন্ট নয়, পরিচিত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কার্যক্রমও চালানো সম্ভব। ফলে কণ্ঠ ও ডিজিটাল পরিচয়ের সুরক্ষা নিয়ে ইউরোপে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও এআই দিয়ে পরিচিত ব্যক্তিদের কণ্ঠ ও চেহারা নকলের ঘটনা নিয়ে বিতর্ক চলছে। অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসন ২০২৪ সালে ওপেনএআইয়ের একটি কণ্ঠসেবা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তার দাবি ছিল, ওই কণ্ঠ তার নিজের কণ্ঠের সঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে মিল রয়েছে। ওপেনএআই অবশ্য বলেছিল, কণ্ঠটি অন্য একজন অভিনেত্রীর এবং জোহানসনের কণ্ঠ নকল করার উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করা হয়নি। পরে ওই কণ্ঠসেবা সরিয়ে নেওয়া হয়। সংগীতশিল্পী টেইলর সুইফটসহ আরও কয়েকজন তারকা এআই-নির্মিত ভুয়া ছবি ও ভিডিওর শিকার হয়েছেন। এ ধরনের ঘটনায় মূল উদ্বেগ শুধু ব্যক্তিগত মর্যাদা বা পরিচয়ের অপব্যবহার নয়, বরং ভুয়া বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনো ব্যক্তির নাম ও কণ্ঠ জুড়ে দিয়ে জনমতকে প্রভাবিত করার ঝুঁকিও রয়েছে। মেলোনির উদ্যোগ তাই একজন রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি এআই যুগে কণ্ঠকে পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নটিকেও সামনে আনছে। এদিকে বিশ্বজুড়ে মেধাস্বত্ব আইনে কণ্ঠের সুরক্ষা নিয়ে নতুন নজিরও তৈরি হচ্ছে। এআই দিয়ে কণ্ঠ নকলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার পরিধি কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে বিভিন্ন দেশে আলোচনা চলছে। মেলোনির আবেদন সেই বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ। তবে তার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সুরক্ষা পেতে এখন ইউআইপিওর পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।