কানেকটিকাট

কোবরা, অ্যানাকোন্ডা ও বিভিন্ন প্রজাতির র‍্যাটলস্নেক উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
অনুমতি ছাড়াই গুদামে রাখা হয়েছিল ৪৬টি বিষধর সাপ, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার ২

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে অ্যানাকোন্ডা ও মারাত্মক বিষধর কোবরাসহ মোট ৪৯টি ভয়ংকর সরীসৃপ প্রাণী উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গুদামের মালিকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   কানেকটিকাট এনভায়রনমেন্টাল কনজারভেশন পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি বিস্তারিত তদন্তের সূত্র ধরে হ্যামডেন এলাকার ওই গুদামে তল্লাশি চালানো হয়। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চালানো এই অভিযানে উদ্ধারকৃত প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে দুটি বড় আকারের অ্যানাকোন্ডা, একটি ওয়াটার মনিটর লিজার্ড বা গুইশাপ এবং ৪৬টি মারাত্মক বিষধর সাপ।   উদ্ধার হওয়া ৪৬টি বিষধর সাপের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির র‍্যাটলস্নেক ও কোবরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৩টি টিম্বার র‍্যাটলস্নেক, ছয়টি প্রেইরি র‍্যাটলস্নেক, পাঁচটি ডাস্কি পিগমি র‍্যাটলস্নেক, চারটি কেরেটারান ডাস্কি র‍্যাটলস্নেক এবং দুটি করে অ্যারিজোনা ব্ল্যাক, ব্ল্যাক-টেইলড, মটলড রক, নিওট্রপিক্যাল, উরাকোয়ান ও ওয়েস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র‍্যাটলস্নেক। এ ছাড়াও সেখানে একটি ইস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র‍্যাটলস্নেক, একটি প্যানামিন্ট র‍্যাটলস্নেক, একটি অ্যালবিনো ওয়েস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র‍্যাটলস্নেক এবং একটি ভয়ংকর কেপ কোবরা পাওয়া গেছে।   এই বেআইনি কাজের দায়ে টাইলর ফস্টার এবং গুদামের মালিক ব্রায়ান রোমান নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ অনুমতি ছাড়া বন্যপ্রাণী নিজেদের দখলে রাখা এবং বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী আটকে রাখার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   কানেকটিকাট পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া এই প্রাণীগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক। বৈধ এবং সঠিক অনুমতিপত্র ছাড়া কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে এই ধরনের প্রাণী ব্যক্তিগত দখলে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উদ্ধার হওয়া সাপগুলোকে বর্তমানে একটি বিশেষায়িত কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে প্রাণীগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।   তবে ঠিক কী কারণে বা কোন উদ্দেশ্যে এই দুই ব্যক্তি এতগুলো বিপজ্জনক ও বিষধর সাপ নিজেদের কাছে রেখেছিলেন, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। প্রাণীগুলো কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল কি না, সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কানেকটিকাটের উইলটনে অবস্থিত হিন্দু টেম্পল।
যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু মন্দিরকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ, কানেকটিকাটে জরুরি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের উইলটনের একটি হিন্দু মন্দির জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য নতুন একটি জরুরি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু মন্দিরকে লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিটি ইনসাইডারের খবরে বলা হয়েছে, উইলটন হিন্দু টেম্পল কর্তৃপক্ষ শহরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি জরুরি প্রবেশ ও বহির্গমন সড়ক নির্মাণের আবেদন জমা দিয়েছে। পরিকল্পনায় পার্কিং এলাকা পুনর্বিন্যাস, নতুন গাছপালা রোপণ, একটি পুরোনো শেড পুনর্নির্মাণ এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত একটি উন্মুক্ত মঞ্চের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   প্রকল্পসংশ্লিষ্ট পরিবেশবিষয়ক পরামর্শক আলেকসান্দ্রা মোচ স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানান, বড় ধর্মীয় উৎসব ও নিয়মিত উপাসনার সময় শত শত মানুষ মন্দিরে সমবেত হন। এমন পরিস্থিতিতে অগ্নিকাণ্ড, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো জরুরি ঘটনা ঘটলে দ্রুত ও নিরাপদে সবাইকে বের করে আনতে বিকল্প একটি সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   মন্দিরটির সঙ্গে নিরাপত্তা উদ্বেগের বাস্তব অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ২০১৭ সালে উইলটন হিন্দু টেম্পলে পাথর নিক্ষেপ করে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, যা সে সময় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। যদিও স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মন্দিরটিকে লক্ষ্য করে নতুন কোনো বিদ্বেষমূলক অপরাধের অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি।   তবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর, দেয়ালে বিদ্বেষমূলক স্লোগান লেখা এবং ধর্মীয় স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পর বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন ও সম্প্রদায়ের নেতারা উপাসনালয়ের নিরাপত্তা জোরদার এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছেন।   উইলটন হিন্দু টেম্পলের প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ইতোমধ্যে ইনল্যান্ড ওয়েটল্যান্ডস কমিশনের অনুমোদন পেয়েছে। এখন এটি শহরের প্ল্যানিং অ্যান্ড জোনিং কমিশনের পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন মিললে জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বড় ধর্মীয় সমাবেশ পরিচালনাও আরও সহজ হবে বলে আশা করছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বড় আকারের ধর্মীয় সমাবেশে নিরাপদ প্রবেশ ও দ্রুত বহির্গমনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয় নয়, বরং সামগ্রিক জননিরাপত্তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

তাবাস্সুম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
সংগৃহীত
কানেকটিকাটে রক্তাক্ত সংঘর্ষ ছুরিকাঘাত ও গুলিতে নিহত ২, আহত কিশোর

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের হার্টফোর্ড শহরে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই ব্যক্তি নিহত এবং ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর আহত হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় শহরের ম্যাডিসন স্ট্রিট এলাকায় এই সহিংস ঘটনার পর পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসা দল পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   হার্টফোর্ড পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৭টার কিছু পরে ম্যাডিসন স্ট্রিটের ১০০ ব্লকে একটি বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পৌঁছে তারা ত্রিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে গুরুতর ছুরিকাঘাতের শিকার অবস্থায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।   পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলেই ওই ব্যক্তিকে বাঁচানোর জন্য সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) শুরু করেন। পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।   তদন্ত চলাকালেই পুলিশ জানতে পারে, একই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুইজনকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে কাছাকাছি একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ত্রিশোর্ধ্ব ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ ছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান। অপর আহত ব্যক্তি ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর। তার শরীরেও গুলির আঘাত রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   পরে হার্টফোর্ড পুলিশ নিহত দুই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করে। ছুরিকাঘাতে নিহত ব্যক্তি হলেন ৩৬ বছর বয়সী ট্রয়লন কুপার, যিনি ম্যানচেস্টারের বাসিন্দা। আর গুলিতে নিহত ব্যক্তি ৩০ বছর বয়সী ব্রায়ান অর্টিজ-সান্তিয়াগো, যার বাড়ি হার্টফোর্ডে।   ঘটনার পরপরই ম্যাডিসন স্ট্রিট ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করে। অপরাধস্থল ঘিরে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। আশপাশের ভবন ও সড়কের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   পুলিশের মেজর ক্রাইমস ইউনিট এবং ক্রাইম সিন ইউনিট যৌথভাবে তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ঘটনার আগে সংঘর্ষ কীভাবে শুরু হয়েছিল, কারা এতে জড়িত ছিল এবং কীভাবে ছুরিকাঘাত ও গুলির ঘটনা ঘটে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   পুলিশ এখন পর্যন্ত ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা ছিল নাকি তাৎক্ষণিক সংঘর্ষের জেরে সহিংসতা ছড়ায়—সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়।   তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনো কোনো সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ করেনি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।   হার্টফোর্ড পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে। যারা ঘটনার সময় এলাকায় ছিলেন অথবা কোনো তথ্য, ভিডিও কিংবা ড্যাশক্যাম ফুটেজ সংরক্ষণ করেছেন, তাদের পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়। সাইরেনের শব্দ ও জরুরি যানবাহনের আনাগোনায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।   হার্টফোর্ড শহরে সাম্প্রতিক সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে সহিংস অপরাধের ঘটনা ঘটলেও, একই ঘটনায় একজন ছুরিকাঘাতে এবং আরেকজন গুলিতে নিহত হওয়ার মতো ঘটনা নতুন করে জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো অতিরিক্ত নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য তাদের হাতে নেই। তবুও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় পুলিশি নজরদারি অব্যাহত থাকবে।   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এই ঘটনায় কী কারণে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল, কারা অস্ত্র ব্যবহার করেছিল এবং ঘটনার সম্পূর্ণ পটভূমি কী—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ কোনো সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে অনুমানভিত্তিক মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে।   হার্টফোর্ডের এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ড এখন কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের অন্যতম আলোচিত অপরাধ তদন্তে পরিণত হয়েছে। তদন্তকারীরা আশা করছেন, সংগৃহীত আলামত, নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিগগিরই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কয়েকশ ডলার আর একটি ব্যাকপ্যাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট সিনেটর, এমডি মাসুদুর রহমানের অনুপ্রেরণার গল্প

চাঁদপুর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি, সংগ্রাম পেরিয়ে কানেকটিকাটের মূলধারার রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নেতা বাংলাদেশ থেকে কয়েকশ ডলার ও একটি ব্যাকপ্যাক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছিলেন এমডি মাসুদুর রহমান। দীর্ঘ সংগ্রাম, ব্যবসায়িক সাফল্য এবং সামাজিক সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে আজ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটর।   একজন অভিবাসীর স্বপ্নপূরণের এই গল্প এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হিসেবে আলোচিত। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে জন্ম নেওয়া এমডি মাসুদুর রহমান বর্তমানে কানেকটিকাট স্টেট সিনেটের ৪র্থ জেলার প্রতিনিধিত্ব করছেন। তার নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ম্যানচেস্টার, গ্ল্যাস্টনবারি, অ্যান্ডোভার ও বোল্টন।   ২০২২ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হন তিনি। পরে বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে একই পদে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে এমডি রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তার পথচলা মোটেও সহজ ছিল না।   তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় এসেছিলাম মাত্র কয়েকশ ডলার ও একটি ব্যাকপ্যাক নিয়ে। শুরুতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছি, সংগ্রাম করেছি। কিন্তু লক্ষ্য ঠিক থাকলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।”   যুক্তরাষ্ট্রে এসে প্রথমে নিউইয়র্কে থাকলেও পরে কানেকটিকাটে স্থায়ী হন তিনি। জীবনের শুরুতে বিভিন্ন সাধারণ কাজ করার পাশাপাশি ধীরে ধীরে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন।   পরবর্তীতে স্বাস্থ্যসেবা, আমদানি-রপ্তানি, নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা গড়ে তোলেন। বর্তমানে তিনি একাধিক প্রতিষ্ঠানের মালিক ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। তার ভাষ্য, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কানেকটিকাটে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।   ব্যবসায় সফল হওয়ার পর সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হন এমডি রহমান। বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত হন তিনি। রাজনীতিতে আসার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব খুবই সীমিত ছিল।   তার ভাষায়, “আমি দেখেছি আমাদের কমিউনিটি থেকে স্টেট সিনেট, কংগ্রেস কিংবা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদে প্রতিনিধিত্ব খুব কম। তখন মনে হয়েছে, আমাদের কাউকে এগিয়ে আসতে হবে।”   ডেমোক্রেটিক পার্টির বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে দলের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে যুক্ত হন। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগও পান। ২০২২ সালে স্টেট সিনেট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তাকে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এক রাজনীতিবিদের মুখোমুখি হতে হয়।   তিনি বলেন, “অনেকে বলেছিলেন এটি বড় একটি পদ, ছোট জায়গা থেকে শুরু করা উচিত। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি নেতৃত্বের জন্য বড় লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন।”   নির্বাচিত হওয়ার পর কানেকটিকাট স্টেট সিনেটে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন এমডি রহমান। বর্তমানে তিনি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান। এছাড়া বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, অর্থ এবং বিচারবিষয়ক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।   তার নেতৃত্বে আবাসন সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কম আয়ের মানুষের জন্য আবাসনের সুযোগ বাড়াতে কাজ করছেন বলে জানান তিনি। এমডি রহমান বলেন, “জনগণের জীবন সহজ করা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করাই আমাদের দায়িত্ব। মানুষের জন্য কাজ করলে মানুষ তার মূল্যায়ন করে।”   বাংলাদেশি কমিউনিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, শুধু ব্যবসা বা চাকরির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাংলাদেশিদের মূলধারার রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হতে হবে।   তিনি বলেন, “আমাদের কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী করতে হলে রাজনীতিতে অংশ নিতে হবে। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে স্টেট এবং ফেডারেল পর্যায় পর্যন্ত আমাদের প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন।” বাংলাদেশের তরুণদের উদ্দেশে তার বার্তা, সফলতার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাসের বিকল্প নেই।   তিনি বলেন, “আপনি কতবার ব্যর্থ হয়েছেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, আপনি কতবার আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন।” চাঁদপুরের একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট সিনেটে জায়গা করে নেওয়া এমডি মাসুদুর রহমানের এই যাত্রা এখন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশির কাছে অধ্যবসায় ও সাফল্যের অনুপ্রেরণার প্রতীক।

Unknown জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
নিলামে কেনা পরিত্যক্ত বাড়িতে মিলল তিন কঙ্কাল, তদন্তে পুলিশ
নিলামে কেনা পরিত্যক্ত বাড়িতে মিলল তিন কঙ্কাল, তদন্তে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে নিলামে বিক্রি হওয়া একটি জব্দকৃত (ফোরক্লোজড) বাড়ির ভেতর থেকে তিনজনের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। সম্প্রতি বাড়িটি কিনে প্রবেশ করার পর নতুন মালিক ভয়াবহ এই ঘটনার সন্ধান পান।   রাজ্য পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশকে ডাকা হয়। নতুন মালিক ফোরক্লোজার নিলামের মাধ্যমে বাড়িটি ‘যেমন আছে’ অবস্থায় কিনেছিলেন। বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে তিনি মানবদেহের কঙ্কালসদৃশ অবশিষ্টাংশ দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।   পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া তিনটি কঙ্কালের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। একই সঙ্গে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে কাজ করছে প্রধান মেডিকেল পরীক্ষকের দপ্তর।   স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, কয়েক মাস আগে তিনি একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে ওই বাড়ি থেকে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে দেখেছিলেন। তবে তদন্তকারীরা এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা সহিংসতার সুস্পষ্ট আলামত পাননি।   শহরের সম্পত্তি রেকর্ড অনুযায়ী, বাড়িটি ২০১৯ সালে পল ক্যাশ ও স্যালি অ্যান ক্যাশ নামে দুই ব্যক্তি কিনেছিলেন। পরে গত গ্রীষ্মে সম্পত্তিটির ফোরক্লোজার বা জব্দ প্রক্রিয়া শুরু হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নিহতদের পরিচয়, মৃত্যুর সময়কাল এবং কীভাবে তারা সেখানে মারা গেছেন, তা উদঘাটনে কাজ করছেন তদন্তকারীরা।  

নীলুফা নিশাত জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আমেরিকার বিলাসবহুল শহর। ছবি:সংগৃহীত

নতুন বাসিন্দা খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য, দিচ্ছে ২৩ হাজার ডলার পর্যন্ত প্রণোদনা

সিদ্দিকুর রহমান আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০