সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

অনুমতি ছাড়াই গুদামে রাখা হয়েছিল ৪৬টি বিষধর সাপ, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার ২

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ২২:২৩
কোবরা, অ্যানাকোন্ডা ও বিভিন্ন প্রজাতির র‍্যাটলস্নেক উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
কোবরা, অ্যানাকোন্ডা ও বিভিন্ন প্রজাতির র‍্যাটলস্নেক উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে অ্যানাকোন্ডা ও মারাত্মক বিষধর কোবরাসহ মোট ৪৯টি ভয়ংকর সরীসৃপ প্রাণী উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গুদামের মালিকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

কানেকটিকাট এনভায়রনমেন্টাল কনজারভেশন পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি বিস্তারিত তদন্তের সূত্র ধরে হ্যামডেন এলাকার ওই গুদামে তল্লাশি চালানো হয়। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চালানো এই অভিযানে উদ্ধারকৃত প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে দুটি বড় আকারের অ্যানাকোন্ডা, একটি ওয়াটার মনিটর লিজার্ড বা গুইশাপ এবং ৪৬টি মারাত্মক বিষধর সাপ।

 

উদ্ধার হওয়া ৪৬টি বিষধর সাপের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির র‍্যাটলস্নেক ও কোবরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৩টি টিম্বার র‍্যাটলস্নেক, ছয়টি প্রেইরি র‍্যাটলস্নেক, পাঁচটি ডাস্কি পিগমি র‍্যাটলস্নেক, চারটি কেরেটারান ডাস্কি র‍্যাটলস্নেক এবং দুটি করে অ্যারিজোনা ব্ল্যাক, ব্ল্যাক-টেইলড, মটলড রক, নিওট্রপিক্যাল, উরাকোয়ান ও ওয়েস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র‍্যাটলস্নেক। এ ছাড়াও সেখানে একটি ইস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র‍্যাটলস্নেক, একটি প্যানামিন্ট র‍্যাটলস্নেক, একটি অ্যালবিনো ওয়েস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র‍্যাটলস্নেক এবং একটি ভয়ংকর কেপ কোবরা পাওয়া গেছে।

 

এই বেআইনি কাজের দায়ে টাইলর ফস্টার এবং গুদামের মালিক ব্রায়ান রোমান নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ অনুমতি ছাড়া বন্যপ্রাণী নিজেদের দখলে রাখা এবং বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী আটকে রাখার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

কানেকটিকাট পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া এই প্রাণীগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক। বৈধ এবং সঠিক অনুমতিপত্র ছাড়া কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে এই ধরনের প্রাণী ব্যক্তিগত দখলে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উদ্ধার হওয়া সাপগুলোকে বর্তমানে একটি বিশেষায়িত কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে প্রাণীগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।

 

তবে ঠিক কী কারণে বা কোন উদ্দেশ্যে এই দুই ব্যক্তি এতগুলো বিপজ্জনক ও বিষধর সাপ নিজেদের কাছে রেখেছিলেন, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। প্রাণীগুলো কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল কি না, সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
সিজিপিএ কম হলেও যুক্তরাষ্ট্রে গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের পথ বন্ধ হয়ে যায় না। ছবি: সংগৃহীত
কম সিজিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্সে ফুল ফান্ড! জেনে নিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা

সিজিপিএ কম হলেই যুক্তরাষ্ট্রে গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের পথ বন্ধ হয়ে যায় না। তবে কম সিজিপিএতে ভর্তি হওয়া আর টিউশন ও জীবনযাত্রার খরচসহ পূর্ণ ফান্ডিং পাওয়া আলাদা বিষয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও সিজিপিএর তালিকা দেখে আবেদন করার আগে তাই নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের শর্ত যাচাই করা জরুরি।   যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি ইস্ট বে আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট আবেদনকারীদের জন্য ন্যূনতম ২.৫ জিপিএর সমতুল্য ফল চায়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শর্তও পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যূনতম জিপিএ দিয়ে তার সব প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ বোঝানো যায় না।    ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসেও প্রোগ্রামভেদে শর্তের পার্থক্য দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির একটি মনোবিজ্ঞান মাস্টার্স প্রোগ্রামে ন্যূনতম জিপিএ ২.৫। অন্যদিকে শিক্ষকতা শিক্ষা সংক্রান্ত একটি প্রোগ্রামে ২.৭৫-এর নিচে ফল থাকলে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আপিলের সুযোগের কথা বলা হয়েছে। আপিলের সুযোগ থাকা সরাসরি ভর্তির নিশ্চয়তা নয়।    ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রযোজ্য। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এডুকেশনইউএসএ জানিয়েছে, গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে টিউশন ছাড় কিংবা ভাতা পাওয়া যেতে পারে। তবে অনেক স্কলারশিপ মোট খরচের কেবল একটি অংশ বহন করে। ফলে কোনো প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকলেই সেখানে পূর্ণ ফান্ডিং মিলবে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।    প্রচলিত তালিকায় থাকা ইউনিভার্সিটি অব দ্য পিপলকেও ক্যাম্পাসে গিয়ে পড়াশোনা ও পূর্ণ ফান্ডিংয়ের সুযোগের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না। এটি অনলাইনভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি টিউশন ফি না নিলেও গ্র্যাজুয়েট কোর্সে অ্যাসেসমেন্ট ফি রয়েছে। আবেদনকারীদের তাই পড়াশোনার ধরন ও সম্ভাব্য খরচ আলাদাভাবে বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।    কম সিজিপিএ নিয়ে আবেদন করতে চাইলে প্রথমে নিজের বিষয়ের প্রোগ্রাম বাছাই করে তার ন্যূনতম জিপিএ, ইংরেজি দক্ষতার শর্ত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ফান্ডিংয়ের নিয়ম দেখতে হবে। রিসার্চ, কাজের অভিজ্ঞতা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস ও সুপারিশপত্র আবেদনকে শক্তিশালী করতে পারে; তবে এগুলো কোনো বাধ্যতামূলক ন্যূনতম শর্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করে না। এডুকেশনইউএসএও প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট ভর্তির শর্ত আলাদাভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেয়।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১:৯
যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় অঙ্গরাজ্য টেক্সাসে দ্রুত বাড়ছে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার। ছবি: সংগৃহীত

তেল শিল্পের আধিপত্যের মাঝেই টেক্সাসে দ্রুত গতিতে বাড়ছে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত

আইন স্কুলে জেডির চেয়ে ‘৫০ বিলিয়ন গুণ ভালো’ ছিলেন উষা ভ্যান্স

বাড়ির উঠানে কালো ভালুকের হামলা থেকে নিজেকে রক্ষা করে ১২ বছরের রবিন ওয়েস্টগেট। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটনে বাড়ির উঠানে কালো ভালুকের হামলা, লড়াই করে বাঁচল ১২ বছরের কিশোর

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা বিয়াঙ্কা সি. উইলকারসন কাতারে দায়িত্ব পালনের সময় মারা যান। ছবি: সংগৃহীত
কাতারে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু

কাতারে সামরিক কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের এক সেনা কর্মকর্তা মারা গেছেন। ৩৭ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন বিয়াঙ্কা সি. উইলকারসন ১৮ সেপ্টেম্বর কাতারের দোহায় অ-যুদ্ধজনিত একটি ঘটনায় মারা যান বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। মৃত্যুর পর তাঁকে মরণোত্তর মেজর পদে উন্নীত করা হয়েছে।   উইলকারসন দক্ষিণ ক্যারোলিনার শ' এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে অবস্থিত ইউএস আর্মি সেন্ট্রাল ও থার্ড আর্মির সদর দপ্তরের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কাতারের দোহায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করছিলেন বলে সেনাবাহিনীর তথ্য থেকে জানা গেছে।   মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যু কোনো যুদ্ধ বা সরাসরি সংঘর্ষের ঘটনায় হয়নি। তবে ঠিক কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর মরদেহ ফেরত নেওয়ার পর ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা হবে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে সামরিক কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে একটি ফ্লাইটে থাকা অবস্থায় উইলকারসনের শারীরিক জরুরি অবস্থা দেখা দেয়। তবে মার্কিন সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মৃত্যুর নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ জানানো হয়নি।   উইলকারসনের সামরিক জীবনের শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর রিজার্ভে। ২০১৩ সালে তিনি পরিবহন কর্মকর্তা হিসেবে সেনাবাহিনীর রিজার্ভে যোগ দেন। পরে ভার্জিনিয়ার নিউপোর্ট নিউজে ৬৭৮তম ট্রান্সপোর্টেশন কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।   ২০১৭ সালে তাঁকে সক্রিয় দায়িত্বে নেওয়া হয়। ২০২৫ সালে তিনি শ' এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে ইউএস আর্মি সেন্ট্রাল ও থার্ড আর্মির সঙ্গে যুক্ত হন। সেখানে তিনি জি-৪ সাপ্লাই অ্যান্ড সার্ভিসেস চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।   ভার্জিনিয়ার নরফোকের বাসিন্দা উইলকারসন ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি থেকে ইতিহাসে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর পড়াশোনার সঙ্গে মনোবিজ্ঞানেও ছিল বিশেষায়িত পাঠ।   সামরিক জীবনে তাঁর বিভিন্ন স্বীকৃতিও ছিল। এর মধ্যে মেরিটোরিয়াস সার্ভিস মেডেল, আর্মি কমেন্ডেশন মেডেল এবং আর্মি অ্যাচিভমেন্ট মেডেল উল্লেখযোগ্য।   উইলকারসনের মৃত্যুর খবর এমন সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তাঁর মৃত্যু মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রকাশ্য হতাহতের হিসাবেও যুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ ও সংশ্লিষ্ট বিদেশি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত মার্কিন সামরিক সদস্যদের মৃত্যুর হিসাব নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে উইলকারসনের মৃত্যু আনুষ্ঠানিকভাবে অ-যুদ্ধজনিত ঘটনা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।   মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   সূত্র: ইউএস আর্মি, ডব্লিউআইএস, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ২৩:৪৫
ভুয়া বিয়ের মামলায় ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন রোমানিয়ান নাগরিক আন্তোনিয়া-বিয়াত্রিস মিরচেয়া। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে ভুয়া বিয়ে, আদালতে দোষ স্বীকার রোমানিয়ান নারীর

জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পরিবারকে মাসিক বাজেট সামলাতে চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে পারিবারিক আর্থিক চাপ, সময়মতো সব বিল দিতে পারছে না ৩২ শতাংশ পরিবার

নিউইয়র্কবাসীর জন্য ৭০ হাজার বিনামূল্যের অপেরা টিকিট দেওয়ার উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কবাসীদের জন্য সুখবর, বিনামূল্যে ৭০ হাজার অপেরা টিকিট দিচ্ছেন মেয়র মামদানি

সাশ্রয়ী মূল্যের এই অ্যাপার্টমেন্টগুলোর লটারিতে অংশ নিতে পারবেন নিউইয়র্কবাসীরা। ছবি: সংগৃহীত
ম্যানহাটনে মাত্র ৮৬৩ ডলারে ২ বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট, লটারিতে আবেদনের সুযোগ

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের হেলস কিচেন এলাকায় তুলনামূলক কম ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ‘দ্য লিরিও’ নামে নতুন নির্মিত নয়তলা ভবনে ৪৪টি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন লটারির আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে দুই বেডরুমের কিছু অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া শুরু হচ্ছে মাত্র ৮৬৩ ডলার থেকে।   ৩৬৪ ওয়েস্ট ৫৪তম স্ট্রিটে অবস্থিত ভবনটিতে একাধিক ধরনের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির আবাসন লটারি ব্যবস্থার আওতায় নির্দিষ্ট আয়সীমা ও পারিবারিক আকারের শর্ত পূরণকারী নিউইয়র্কবাসীরা এসব বাসস্থানের জন্য আবেদন করতে পারবেন।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত ৪৪টি অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৮৬৩ থেকে ৩ হাজার ৬৫০ ডলারের মধ্যে। ভাড়া কত হবে, তা নির্ভর করবে অ্যাপার্টমেন্টের ধরন এবং আবেদনকারী পরিবারের নির্ধারিত বার্ষিক আয়ের সীমার ওপর।   সবচেয়ে কম ভাড়ার পাঁচটি দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৮৬৩ ডলার। এসব অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবেদন করতে পারবে বছরে ৩৫ হাজার ৩১৫ থেকে ৫৪ হাজার ৯৬০ ডলার আয় করা পরিবার।   এ ছাড়া ২৫টি দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ২ হাজার ৭৭২ ডলার। এগুলোর জন্য নির্ধারিত বার্ষিক পারিবারিক আয় ১ লাখ ৭৬৬ থেকে ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৪ ডলারের মধ্যে।   তিন বেডরুমের দুটি অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ১৮৬ ডলার। এসব বাসস্থানের জন্য পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ থেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩২০ ডলারের মধ্যে হতে হবে।   আরও আটটি দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ২৬৮ ডলার। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত বার্ষিক আয় ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৭২ থেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার ২০০ ডলার।   সবচেয়ে বেশি ভাড়ার চারটি দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ৬৫০ ডলার। এগুলোর জন্য আবেদনকারী পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৩০ হাজার ৮৬৯ থেকে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৪০ ডলারের মধ্যে হতে হবে।   দ্য লিরিও ভবনটি দুটি নিউইয়র্ক সিটি সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। ভবনটির ৬০ শতাংশ ইউনিট নিম্ন আয়ের পরিবার, আগে গৃহহীন ছিলেন এমন নিউইয়র্কবাসী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরিবারগুলোর জন্য সংরক্ষিত। বাকি ৪০ শতাংশ ইউনিট সাধারণ জনগণের জন্য আবাসন লটারির মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে।   ভবনটিতে বাসিন্দাদের জন্য বেশ কিছু সুবিধাও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৪ ঘণ্টা কর্মী থাকা প্রবেশ লবি, ভবন ব্যবস্থাপকের কার্যালয়, সূর্যস্নানের খোলা জায়গা, শরীরচর্চা কেন্দ্র, পাঠাগার, অনুষ্ঠান আয়োজনের কক্ষ এবং লিফট।   হেলস কিচেন ম্যানহাটনের একটি ব্যস্ত আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা। ভবনটির অবস্থান সেন্ট্রাল পার্ক এবং নিউইয়র্কের বিভিন্ন থিয়েটার এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় আবাসনটির অবস্থানও আকর্ষণীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   আবেদনকারীদের প্রথমে নিজেদের পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং মোট বার্ষিক আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। এরপর নিউইয়র্ক সিটির অফিসিয়াল হাউজিং কানেক্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। ডাকযোগেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।   তবে একটি পরিবারকে মাত্র একটি আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন ও ডাকযোগে আবেদন করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আবেদনের শেষ সময় ৫ অক্টোবর ২০২৬।   নিউইয়র্ক সিটির সাশ্রয়ী আবাসন লটারিতে আবেদন করলেই অ্যাপার্টমেন্ট নিশ্চিত হয় না। যোগ্য আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে পরবর্তী ধাপের জন্য বাছাই করা হয় এবং এরপর আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হয়। তাই আবেদনকারীদের সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   দ্য লিরিওর এই লটারির তথ্য নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং কানেক্টের তালিকার ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সরকারি পোর্টালটি সরাসরি যাচাই করার সময় প্রযুক্তিগত কারণে পেজটি খোলা যায়নি, তাই আবেদন করার আগে আবেদনকারীদের অফিসিয়াল হাউজিং কানেক্ট পোর্টালে বর্তমান ভাড়া, আয়সীমা, সময়সীমা ও যোগ্যতার শর্ত পুনরায় যাচাই করা উচিত।   সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কানেক্ট, Secret NYC, অ্যাসোসিয়েটেড তথ্য

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ২১:৩৫
কুইন্সের অপহরণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত আবু চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

নিজেকে নিউইয়র্কের রাজা দাবি করা বাংলাদেশি সুপারমার্কেট মালিক অপহরণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী সংকট কাটাতে স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদেশি কর্মীদের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক সংকট, স্থানীয় কর্মী না পেয়ে বৈশ্বিক জনশক্তির দিকে নজর

ক্যালিফোর্নিয়ায় জোড়া খু নের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার, সিরিয়াল কিলার আতঙ্কে তদন্তকারীরা

ক্যালিফোর্নিয়ায় জোড়া খু নের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার, সিরিয়াল কিলার আতঙ্কে তদন্তকারীরা

0 Comments