ছিদ্দিকুর রহমান বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজার ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে নিজের অবস্থান শক্ত করছে। নীল সমুদ্র, সবুজ পাহাড়, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী ভ্রমণ ব্যয়ের কারণে বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে বাংলাদেশের এই পর্যটন নগরীকে ঘিরে। তবে কক্সবাজারের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়লেও সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ এখনও বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপুল প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও নীতিগত সীমাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, আন্তর্জাতিক প্রচারণার ঘাটতি এবং পর্যটকবান্ধব সেবার অভাব বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। কক্সবাজার কেন বিদেশিদের কাছে আকর্ষণীয় পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, কক্সবাজারের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে এর ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ অবিচ্ছিন্ন সমুদ্রসৈকত। বিশ্বের অন্যান্য জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকতগুলোর তুলনায় এর বিস্তৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একে অনন্য করেছে। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ বর্তমানে বিদেশি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। একদিকে উত্তাল বঙ্গোপসাগর, অন্যদিকে পাহাড়ি বনাঞ্চল—এই সড়ককে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম মনোরম উপকূলীয় পথ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, ছেঁড়াদ্বীপ, ইনানী সৈকত, হিমছড়ি, মহেশখালী এবং টেকনাফের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতার সুযোগ সৃষ্টি করছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ, আধুনিক রেল যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক মানের হোটেল প্রতিষ্ঠার ফলে বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যটন বিকাশে বাংলাদেশের প্রধান বাধা ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা বিদেশি পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশে প্রবেশের প্রথম বাধা হচ্ছে ভিসা ব্যবস্থা। অনেক দেশের নাগরিককে আগাম ভিসা সংগ্রহ করতে হয় এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়। পর্যটন খাতের উদ্যোক্তারা মনে করেন, পূর্ণাঙ্গ ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু এবং ভিসা অন অ্যারাইভালের সুযোগ সম্প্রসারণ করলে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক প্রচারণার ঘাটতি বাংলাদেশের পর্যটন সম্পদ নিয়ে বিশ্বব্যাপী কার্যকর প্রচারণা প্রায় নেই বললেই চলে। মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড কিংবা ভারতের মতো দেশগুলো আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করলেও বাংলাদেশের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে সীমিত। ফলে বিশ্বের অনেক পর্যটক এখনও বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের বড় একটি অংশ নগদ অর্থ বহনের পরিবর্তে কার্ড বা ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহার করতে অভ্যস্ত। কিন্তু দেশের অধিকাংশ পর্যটন এলাকায় আন্তর্জাতিক কার্ড গ্রহণের সুবিধা এখনও সীমিত। হোটেল ছাড়া অনেক রেস্টুরেন্ট, পরিবহন সেবা ও স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক লেনদেনের সুযোগ না থাকায় বিদেশি পর্যটকদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। পেশাদার গাইড ও সেবার অভাব বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের বহুভাষিক ট্যুর গাইডের সংখ্যা এখনও অপ্রতুল। ইংরেজির পাশাপাশি ফরাসি, জাপানি, চীনা বা স্প্যানিশ ভাষায় দক্ষ গাইডের অভাব বিদেশি পর্যটকদের অভিজ্ঞতাকে সীমিত করে। এছাড়া পর্যটনসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, মূল্য নিয়ে বিভ্রান্তি এবং অপ্রফেশনাল আচরণের অভিযোগও রয়েছে। যাতায়াত ও ট্রাফিক সমস্যা বিদেশি পর্যটকদের একটি বড় অংশ ঢাকা হয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ভ্রমণ করেন। রাজধানীর দীর্ঘ যানজট, বিমানবন্দরের চাপ এবং কিছু ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা তাদের জন্য নেতিবাচক অভিজ্ঞতা তৈরি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চ্যালেঞ্জ বিদেশি পর্যটক, বিশেষ করে নারী পর্যটকদের ক্ষেত্রে অনেক সময় অতিরিক্ত কৌতূহলী দৃষ্টি, অনাকাঙ্ক্ষিত ছবি তোলা কিংবা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অভাবের অভিযোগ পাওয়া যায়। পর্যটন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্থানীয় জনগণের মধ্যে পর্যটন সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পর্যটকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নৈশকালীন বিনোদনের সীমাবদ্ধতা বিশ্বের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলোতে সন্ধ্যার পরও পর্যটকদের জন্য নানা ধরনের সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে এ ধরনের সুযোগ সীমিত। ফলে দীর্ঘ সময় অবস্থানকারী আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত বিনোদন নিশ্চিত করা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যটনের নতুন গন্তব্য হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রাখে। এ জন্য প্রয়োজন, সহজ ও দ্রুত ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু করা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং ও প্রচারণা বৃদ্ধি। পর্যটন এলাকাগুলোতে আধুনিক ডিজিটাল পেমেন্ট নিশ্চিত করা। বহুভাষিক প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইড তৈরি করা। পর্যটক নিরাপত্তা ও সেবার মান উন্নয়ন। বিশেষ পর্যটন অঞ্চল গড়ে তোলা। পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামোর আরও উন্নয়ন। বিশ্ব পর্যটন শিল্পে প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্র, পাহাড়, বনভূমি, সংস্কৃতি এবং আতিথেয়তার সমন্বয়ে বাংলাদেশ একটি ব্যতিক্রমী পর্যটন গন্তব্য হওয়ার সব উপাদান ধারণ করে। কক্সবাজার ইতোমধ্যে সেই সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। তবে শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়ে নয়, বরং আধুনিক নীতি, আন্তর্জাতিক মানের সেবা, সহজ ভিসা ব্যবস্থা এবং কার্যকর বৈশ্বিক প্রচারণার মাধ্যমেই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যটনের বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।