সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

কর্মসংস্থান

এইচ-১বি ভিসার বেতনসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব কংগ্রেসে
এইচ-১বি ভিসায় বেতনের সীমা ৬০ হাজার থেকে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে নিতে চায় রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে বেতনের শর্ত আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা। নতুন একটি প্রস্তাবিত বিলে নির্দিষ্ট নিয়োগদাতাদের জন্য বর্তমানে কার্যকর বার্ষিক ৬০ হাজার ডলারের বেতনসীমা বাড়িয়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার করার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হলে এইচ-১বি ভিসার ওপর বেশি নির্ভরশীল কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগের নিয়ম আরও কঠিন হতে পারে।   উইসকনসিনের রিপাবলিকান প্রতিনিধি গ্লেন গ্রথম্যান ‘প্রোটেক্টিং আমেরিকান ওয়ার্কার্স থ্রু এইচ-১বি মডার্নাইজেশন অ্যাক্ট’ নামে বিলটি উত্থাপন করেছেন। ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেড একই বিষয়ে সিনেটে একটি সমজাতীয় বিল এনেছেন। প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য, যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগে উল্লেখযোগ্যভাবে এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষায় থাকা কিছু শর্ত এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত করা। তবে প্রস্তাবটি সব এইচ-১বি ভিসাধারীর জন্য ন্যূনতম বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার নির্ধারণের কথা বলছে না। এখানে মূল বিষয় হলো, নির্দিষ্ট ধরনের নিয়োগদাতারা কোন পরিস্থিতিতে মার্কিন কর্মী নিয়োগের চেষ্টা এবং তাঁদের চাকরি সুরক্ষাসংক্রান্ত কিছু বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পাবেন। বর্তমান নিয়মে, এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মীর সংখ্যা কোনো প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীর তুলনায় নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেলে সেটিকে ‘এইচ-১বি-নির্ভর নিয়োগদাতা’ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাধারণত সংশ্লিষ্ট পদে যোগ্য মার্কিন কর্মী নিয়োগের চেষ্টা করা এবং বিদ্যমান মার্কিন কর্মীদের চাকরি থেকে সরিয়ে বিদেশি কর্মী দিয়ে তাঁদের জায়গা পূরণ না করার বিষয়ে শর্ত রয়েছে। কিন্তু বর্তমান আইনে নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম আছে। কোনো এইচ-১বি কর্মীর বার্ষিক বেতন অন্তত ৬০ হাজার ডলার হলে অথবা তাঁর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বা তার চেয়ে উচ্চতর ডিগ্রি থাকলে, সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতা এসব শর্তের কিছু থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন। নতুন বিলটি বেতনের ভিত্তিতে অব্যাহতি পাওয়ার সীমা পরিবর্তন করতে চায়। তবে প্রস্তাবিত ভাষায় উচ্চতর ডিগ্রির ভিত্তিতে অব্যাহতির পথটি বাদ দেওয়ার কথা নেই। কেন বেতনের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব বর্তমান ৬০ হাজার ডলারের সীমাটি ১৯৯৮ সালে নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন এর পরিমাণ সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের জাতীয় গড় মজুরি সূচকের দ্বিগুণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে অঙ্কটি আর হালনাগাদ করা হয়নি। আইনপ্রণেতাদের যুক্তি, কয়েক দশকে গড় মজুরি বেড়ে গেলেও পুরোনো সীমা অপরিবর্তিত থাকায় কিছু প্রতিষ্ঠান সহজেই বিদ্যমান শর্তের ব্যতিক্রমের সুবিধা নিতে পারছে। নতুন প্রস্তাবে নির্দিষ্ট অঙ্কের পরিবর্তে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের সর্বশেষ জাতীয় গড় মজুরি সূচকের দ্বিগুণকে বেতনসীমা হিসেবে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে ওই সূচকের পরিমাণ প্রায় ৭০ হাজার ডলার হওয়ায় নতুন সীমা দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে। ভবিষ্যতে গড় মজুরি বাড়লে বা কমলে এই সীমাও পরিবর্তিত হবে। গ্রথম্যান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে মার্কিন কর্মীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, প্রায় তিন দশক আগে নির্ধারিত বেতনসীমা ব্যবহার করে নিয়োগদাতাদের যোগ্য মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষার নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। তাঁর মতে, বেতনের সীমা সময়মতো হালনাগাদ করা হলে মার্কিন কর্মীরা চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতার আরও ন্যায্য সুযোগ পাবেন। সিনেটর হাস্টেডও একই ধরনের যুক্তি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এইচ-১বি ভিসার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলো যেন পুরোনো আইনের সুযোগ নিয়ে যোগ্য মার্কিন কর্মীদের নিয়োগের চেষ্টা এড়িয়ে যেতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই বিলটির উদ্দেশ্য। বিলটি এখন কোন পর্যায়ে প্রস্তাবটি এখনো আইন হয়নি। সিনেটের সমজাতীয় বিলটি ৩০ সেপ্টেম্বর উত্থাপনের পর বিচার বিভাগবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে গ্রথম্যানের বিলটি ১৩ অক্টোবর উত্থাপন করা হয় এবং সেটিও বিচার বিভাগবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। আইনে পরিণত হতে হলে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বিলটিকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেতে হবে এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর লাগবে। এই উদ্যোগ রিপাবলিকানদের বৃহত্তর এইচ-১বি নীতির পরিবর্তন প্রচেষ্টার অংশ। দলটির কয়েকজন আইনপ্রণেতা ভিসার সংখ্যা কমানো, কর্মসূচির অপব্যবহারের জন্য কঠোর শাস্তি এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগে বাড়তি শর্ত আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রযুক্তি খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান যুক্তি দেয়, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের সুযোগ তাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে দুটি বিষয়—মার্কিন কর্মীদের চাকরির সুযোগ রক্ষা এবং প্রযুক্তি ও অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ বজায় রাখা। নতুন বিলে বেতনের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব সেই বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ খুঁজতে এইচ-১বি কর্মসূচির দিকে তাকিয়ে থাকেন। তবে প্রস্তাবটি পাস হলে তার প্রভাব সবার ওপর একইভাবে পড়বে না। বিশেষ করে এইচ-১বি কর্মীর ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠান এবং বর্তমান নিয়মে বেতনের ভিত্তিতে অব্যাহতি পাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আপাতত এটি একটি আইনপ্রস্তাব; কার্যকর নিয়মে পরিবর্তন আসবে কি না, তা নির্ভর করছে কংগ্রেসের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন কংগ্রেসে ন্যূনতম মজুরি ২৫ ডলার করার প্রস্তাব নিয়ে শ্রমিকদের আয় ও কর্মসংস্থানের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিতর্ক চলছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ৭.২৫ থেকে ২৫ ডলার করার উদ্যোগ, বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল পর্যায়ে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ৭ ডলার ২৫ সেন্ট থেকে বাড়িয়ে ২৫ ডলার করার একটি প্রস্তাব কংগ্রেসে আটকে আছে। ‘লিভিং ওয়েজ ফর অল অ্যাক্ট’ নামে এ বিলটি পাস হলে কয়েক বছরের মধ্যে দেশটির কর্মীদের ন্যূনতম মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তবে প্রস্তাবটি এখনো প্রতিনিধি পরিষদের সংশ্লিষ্ট কমিটিতে শুনানির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। চলতি কংগ্রেসের অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে বিলটি নিয়ে অগ্রগতি না হলে এর ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।   ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজ গত ২৮ এপ্রিল প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি উত্থাপন করেন। এর নম্বর এইচআর ৮৫৫৫। প্রস্তাব অনুযায়ী, বড় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ২০৩১ সালের মধ্যে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ২৫ ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, তুলনামূলক ছোট নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য ২০৩৮ সাল পর্যন্ত সময় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, সব প্রতিষ্ঠানের ওপর একসঙ্গে বাড়তি মজুরির চাপ না দিয়ে ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টাপ্রতি ৭ ডলার ২৫ সেন্ট। ২০০৯ সালের পর থেকে এ হার বাড়ানো হয়নি। যদিও দেশটির বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকার ফেডারেল হারের চেয়ে বেশি ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করেছে, তবু জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের। বিলটির সমর্থকদের বক্তব্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে অনেক কর্মীর পক্ষে বাসাভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও যাতায়াতের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।   রামিরেজ বিলটি উত্থাপনের সময় বলেন, একদিকে বড় কোম্পানিগুলো রেকর্ড পরিমাণ মুনাফার কথা জানাচ্ছে, অন্যদিকে অনেক কর্মজীবী মানুষ দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাঁর মতে, শুধু চাকরি থাকলেই চলবে না, সেই চাকরি থেকে পাওয়া আয় দিয়ে মৌলিক চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হতে হবে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও মজুরির মধ্যে ব্যবধান কমানোই এ প্রস্তাবের অন্যতম উদ্দেশ্য।   বিলে বড় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান বলতে বছরে অন্তত ১০০ কোটি ডলার আয় করে এমন প্রতিষ্ঠান অথবা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অন্তত ৫০০ কর্মী রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য মজুরি বাড়ানোর পৃথক বার্ষিক লক্ষ্য থাকবে। অন্য নিয়োগদাতাদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক দীর্ঘ সময় ধরে ধাপে ধাপে মজুরি বাড়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রস্তাবটির লক্ষ্য হলো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগে নির্ধারিত মজুরির পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং ছোট ব্যবসাগুলোকে পরিবর্তনের জন্য বাড়তি সময় দেওয়া।   বিলটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভবিষ্যতে ন্যূনতম মজুরিকে দেশের মধ্যম ঘণ্টাপ্রতি মজুরির দুই-তৃতীয়াংশের সঙ্গে যুক্ত করা। মধ্যম মজুরি বলতে এমন একটি আয়কে বোঝায়, যার নিচে দেশের অর্ধেক কর্মীর মজুরি এবং ওপরে বাকি অর্ধেক কর্মীর মজুরি থাকে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত অনুপাতে পৌঁছানোর পর দেশের মধ্যম মজুরি পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতি বছর তা সমন্বয় করা হবে। এর ফলে দীর্ঘ মেয়াদে মজুরি ও কর্মীদের আয়ের পরিবর্তনের মধ্যে একটি সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কিছু কর্মীর জন্য সাধারণ ন্যূনতম মজুরির চেয়ে কম হারে মজুরি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বকশিশনির্ভর রেস্তোরাঁকর্মী, তরুণ কর্মী এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রতিবন্ধী কর্মী রয়েছেন। প্রস্তাবিত আইনটি এসব পৃথক কম মজুরির ব্যবস্থা ধাপে ধাপে তুলে দেওয়ার কথা বলেছে। বিশেষ করে বকশিশনির্ভর কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাকে সরাসরি যে ন্যূনতম অর্থ দিতে হয়, তা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। শেষ পর্যন্ত কর্মীর বকশিশকে নিয়োগদাতার ন্যূনতম মজুরি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা পূরণের বিকল্প হিসেবে গণনা করার ব্যবস্থাও বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।   বিলটির পক্ষে শ্রমিক সংগঠন ও অধিকারকর্মীরা সমর্থন জানিয়েছেন। সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়নের সভাপতি এপ্রিল ভেরেটের মতে, কর্মীদের নেতৃত্বে চলা আন্দোলন ন্যায্য ও জীবনধারণের উপযোগী মজুরির দাবিকে সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, প্রস্তাবটি কর্মীদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য পাওনা ও সম্মানের দাবির প্রতিফলন। প্রতিনিধি পরিষদে বিলটির ৩২ জন সহ-উদ্যোক্তা রয়েছেন, যাঁরা সবাই ডেমোক্র্যাট দলের সদস্য। তাঁদের মধ্যে মিশিগানের রাশিদা তালিব, ক্যালিফোর্নিয়ার রো খান্না এবং ওয়াশিংটনের প্রমিলা জয়পাল রয়েছেন।   তবে প্রস্তাবটি নিয়ে অর্থনৈতিক উদ্বেগও রয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠন ও কিছু অর্থনীতিবিদের আশঙ্কা, ন্যূনতম মজুরি দ্রুত বাড়লে বিশেষ করে ছোট ব্যবসা ও কম মুনাফার প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমব্যয় বেড়ে যাবে। এর ফলে কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগ কমাতে পারে, কর্মঘণ্টা কমাতে পারে অথবা পণ্যের দাম বাড়াতে পারে। রক্ষণশীল অবস্থানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমপ্লয়মেন্ট পলিসিজ ইনস্টিটিউটের একটি গবেষণার বরাত দিয়ে ডেইলি সিগন্যাল জানিয়েছে, ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ২৫ ডলারে উন্নীত হলে প্রায় ৫০ লাখ কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এটি গবেষণাভিত্তিক পূর্বাভাস, নিশ্চিত ফল নয়। গবেষণাটি বিশেষ করে আতিথেয়তা খাত এবং ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী কর্মীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা বলেছে।   আইনটি এখনো প্রতিনিধি পরিষদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কোনো শুনানি হয়নি এবং প্রতিনিধি পরিষদে ভোটের তারিখও নির্ধারিত হয়নি। কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি জুনে একই ধরনের একটি বিল সিনেটে উত্থাপনের কথা জানিয়েছিলেন। তবে সিনেটের প্রস্তাবের সময়সূচি ও ধাপগুলো প্রতিনিধি পরিষদের বিলের সঙ্গে পুরোপুরি এক নয়। ফলে দুই কক্ষের অগ্রগতি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।   বর্তমান ১১৯তম কংগ্রেসের মেয়াদ ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শেষ হবে। তার আগে বিলটি পাস না হলে পরবর্তী কংগ্রেসে নতুন করে উত্থাপন করতে হবে। রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেসে প্রস্তাবটি কতটা সমর্থন পাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ২৫ ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাবটি আপাতত আইন হওয়ার চেয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্কের বিষয় হিসেবেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।   সূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রকাশনা দপ্তর, ওয়াশিংটন পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে নিয়োগের গতি কমে যাওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিযোগিতা বাড়ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে কেন এত সংকট, মাসের পর মাস আবেদন করেও কাজ পাচ্ছেন না অনেকে

যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক কম থাকলেও চাকরি খুঁজে পাওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। মাসের পর মাস আবেদন করেও সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাচ্ছেন না বহু চাকরিপ্রার্থী। বিশেষ করে ব্যাংকিং, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, ব্যবসায়িক সেবা ও বিভিন্ন দাপ্তরিক পেশায় নিয়োগের গতি কমে যাওয়ায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও আতিথেয়তা খাতের কিছু অংশে নতুন কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান তৈরি হলেও সব খাতের চাকরিপ্রার্থীরা সমানভাবে সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগদাতাদের অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার চাকরির বাজারকে জটিল করে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারির পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সময় প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে দ্রুত কর্মী নিয়োগ করেছিল, বর্তমানে সেই প্রবণতা আর দেখা যাচ্ছে না। বরং অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান কর্মীদের দিয়ে বেশি কাজ করানো এবং ব্যয় কমানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। চাকরির বাজারের এই পরিস্থিতি শুধু বেকারত্বের পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন কাজ না পেলে বাড়ি কেনা, পরিবার গঠন, ঋণ পরিশোধ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে হয়। কর্মজীবনের শুরুতে থাকা তরুণদের জন্য সমস্যাটি আরও প্রকট। কারণ, অভিজ্ঞ কর্মীদের তুলনায় তাঁদের পেশাগত যোগাযোগের সুযোগ কম এবং কাজের অভিজ্ঞতাও সীমিত। ফলে একই পদের জন্য বহু আবেদনকারীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেও তাঁরা সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাচ্ছেন না। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় নিয়োগে সতর্ক প্রতিষ্ঠানগুলো নিউজউইকের প্রতিবেদনে ইউনিভার্সিটি অব টেনেসি অ্যাট মার্টিনের আর্থিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষক অ্যালেক্স বীনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার থেকে শুরু করে কিছু খাতে ভোক্তাদের ব্যয় কমে আসা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় বর্তমান চাকরির বাজারে চাপ তৈরি করছে। তবে নিয়োগদাতাদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের একটি হলো আগামী ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কোন দিকে যাবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে পণ্য ও সেবার চাহিদা কেমন থাকবে, পরিচালন ব্যয় কতটা বাড়বে এবং নতুন কর্মী নিয়োগ করে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব হবে কি না, তা বিবেচনা করছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সম্ভাব্য শুল্ক এবং ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের মতো আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। এ অবস্থায় অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখছে, বিশেষ করে যেসব পদে কর্মজীবনের শুরুতে থাকা প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। বীনের মতে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভোক্তাদের চাহিদা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা না পাওয়া পর্যন্ত নিয়োগের গতি ধীর থাকতে পারে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে নতুন কর্মী নেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান কর্মীদের দায়িত্ব বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে যেসব কাজ প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পন্ন করা সম্ভব, সেগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর ফলে চাকরির বাজারে সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও নতুন নিয়োগের জন্য অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। মানবসম্পদবিষয়ক পরামর্শক ব্রায়ান ড্রিসকলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য চাকরিপ্রার্থীদের এককভাবে দায়ী করা যায় না। তাঁর বক্তব্য, অনেক নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী না নিয়েও কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। একই সময়ে বাড়িভাড়া, খাবার, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়ায় কর্মীদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে আয় সমানতালে না বাড়লে কম বেতন বা অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে চাকরি ছেড়ে দেওয়াও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। পরিসংখ্যানে কর্মসংস্থান বাড়লেও সব খাতে একই চিত্র নয় যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থানবিষয়ক এডিপি ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশটির বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট ৯০ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছিল। তবে এই প্রবৃদ্ধি সব খাতে সমান ছিল না। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৫৫ হাজার এবং অবসর ও আতিথেয়তা খাতে ২২ হাজার কর্মসংস্থান বাড়ে। নির্মাণ খাতে ১৫ হাজার এবং উৎপাদন খাতে ১৭ হাজার কর্মী যুক্ত হন। বিপরীতে আর্থিক কর্মকাণ্ডে ১৬ হাজার এবং পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবায় ১১ হাজার কর্মসংস্থান কমে যায়। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে কর্মসংস্থান বাড়লেও অনেক দাপ্তরিক পেশায় চাকরির সুযোগ সংকুচিত হওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। তবে বেসরকারি খাতের এই পরিসংখ্যানকে যুক্তরাষ্ট্রের পুরো শ্রমবাজারের চিত্র হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২ অক্টোবর প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে কৃষিবহির্ভূত মোট কর্মসংস্থান বেড়েছে মাত্র ২৯ হাজার। একই সময়ে বেকারত্বের হার আগের মাসের ৪ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়ায়। সরকারি ও বেসরকারি খাতের হিসাবের আওতা ও পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় এডিপি এবং সরকারি প্রতিবেদনের সংখ্যাও এক নয়। তবে দুটি হিসাবের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও সামগ্রিক শ্রমবাজারে নিয়োগের গতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সমস্যাটি শুধু বেকারত্বের হার দিয়ে বোঝা সম্ভব নয়। কোনো দেশে কর্মরত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও নতুন চাকরির সুযোগ যদি নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে অন্য খাতের আবেদনকারীদের জন্য প্রতিযোগিতা তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীদের পাশাপাশি নতুন স্নাতকদেরও একই পদের জন্য আবেদন করতে হলে কর্মজীবনের শুরুতে থাকা প্রার্থীদের সুযোগ পাওয়া আরও কঠিন হয়ে ওঠে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি চাকরির সুযোগ কমাচ্ছে চাকরির বাজারে অনিশ্চয়তার আরেকটি কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন মূল্যায়ন করছে, প্রযুক্তির সাহায্যে কোন কাজগুলো দ্রুত ও কম খরচে সম্পন্ন করা সম্ভব। বিশেষ করে তথ্য বিশ্লেষণ, দাপ্তরিক কাজ, গ্রাহকসেবা এবং কিছু লেখালেখি ও যোগাযোগের দায়িত্বে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর অর্থ এই নয় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতিমধ্যে অধিকাংশ কর্মীকে সরাসরি প্রতিস্থাপন করেছে। বরং প্রযুক্তিটি ভবিষ্যতে কর্মীদের দায়িত্ব কীভাবে বদলে দিতে পারে, তা নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই অনিশ্চয়তার কারণে কিছু নিয়োগদাতা নতুন কর্মী নেওয়ার আগে অপেক্ষা করছে। যেসব কাজ বিদ্যমান কর্মী বা প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পন্ন করা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে, সেসব পদে নতুন নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করতে পারেন নতুন চাকরিপ্রার্থীরা। কারণ, কর্মজীবনের শুরুতে থাকা অনেকেই এমন পদে আবেদন করেন, যেগুলোতে আগে তুলনামূলক কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীদের সুযোগ দেওয়া হতো। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো যদি একই দায়িত্ব বর্তমান কর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দেয় অথবা প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায়, তাহলে নতুনদের প্রবেশের সুযোগ কমে যেতে পারে। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেককে দীর্ঘ সময় ধরে আবেদন চালিয়ে যেতে হচ্ছে। কোন খাতে চাকরির সুযোগ তুলনামূলক বেশি বর্তমান পরিস্থিতিতেও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু খাতে কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা, নার্সিং, আবাসিক পরিচর্যা, বাড়িতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, নির্মাণ এবং দক্ষ কারিগরি পেশা উল্লেখযোগ্য। দেশটির বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা ও পরিচর্যাসেবার চাহিদাও বাড়ছে। ফলে হাসপাতাল, পরিচর্যাকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট সেবাপ্রতিষ্ঠানে কর্মীর প্রয়োজন তৈরি হচ্ছে। এডিপির সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৫৫ হাজার কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে। অবসর ও আতিথেয়তা খাতেও ২২ হাজার কর্মসংস্থান বেড়েছে। নির্মাণ খাতে ১৫ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান কোনো নির্দিষ্ট পেশায় সারা দেশে সমানসংখ্যক শূন্য পদ থাকার নিশ্চয়তা দেয় না। অঞ্চল, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নিয়োগদাতার চাহিদা অনুযায়ী চাকরির সুযোগ ভিন্ন হতে পারে। নাইনআই ক্যাপিটাল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন থম্পসন নিউজউইককে বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি বড় অংশ বর্তমানে তথ্যকেন্দ্র ও নির্মাণের মতো নির্দিষ্ট খাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অবসর ও আতিথেয়তা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্থিক সেবার মতো খাতে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি তুলনামূলক দুর্বল। অন্যদিকে ব্যাংকিং, আর্থিক কর্মকাণ্ড, পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবা, প্রযুক্তি, করপোরেট প্রশাসন এবং সংবাদমাধ্যম ও যোগাযোগ খাতের কিছু অংশে নিয়োগের গতি কমেছে। এসব ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। কোথাও নতুন নিয়োগ কমেছে, আবার কোথাও কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা নতুন পদ তৈরির প্রবণতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। থম্পসনের পরামর্শ হলো, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চাকরিপ্রার্থীদের প্রয়োজনে পদমর্যাদা, বেতন কিংবা দায়িত্বের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত লক্ষ্য ঠিক রেখে কাছাকাছি ধরনের অন্য পদ বা চুক্তিভিত্তিক কাজের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগও খতিয়ে দেখা যেতে পারে। চাকরি পেতে কী কৌশল নিতে পারেন প্রার্থীরা বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২১ ও ২০২২ সালের তুলনামূলক সক্রিয় নিয়োগের সময়ের মতো শুধু অনলাইনে আবেদন করে অপেক্ষা করার কৌশল এখন অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। বরং কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ চলছে, কী ধরনের দক্ষতা চাওয়া হচ্ছে এবং নিজের অভিজ্ঞতা সংশ্লিষ্ট পদের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা যাচাই করে আবেদন করা গুরুত্বপূর্ণ। পেশাগত যোগাযোগও চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাবেক সহকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট পেশার পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন নিয়োগের খবর পাওয়া যেতে পারে। কিছু পদে পরিচিত ব্যক্তির সুপারিশ বা অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের মাধ্যমে প্রার্থীরা নিয়োগদাতার নজরে আসার সুযোগ পান। তবে সুপারিশ থাকলেই চাকরি নিশ্চিত হয় না, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ। ড্রিসকল চাকরিপ্রার্থীদের এমন শিল্প ও প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যেখানে নিয়োগের ধারাবাহিকতা রয়েছে এবং বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ইতিহাস তুলনামূলক কম। পাশাপাশি জীবনবৃত্তান্তে দায়িত্বের তালিকা দেওয়ার পরিবর্তে আগের কাজের সুনির্দিষ্ট অর্জন ও ফলাফল তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। আবেদন করা পদের প্রয়োজন অনুযায়ী জীবনবৃত্তান্ত সাজাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তাও নেওয়া যেতে পারে। তবে সেখানে উল্লেখ করা তথ্য অবশ্যই সত্য ও যাচাইযোগ্য হতে হবে। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিকল্প পেশার সুযোগ বিবেচনা করা। নিজের মূল ক্ষেত্রের পাশাপাশি কাছাকাছি দক্ষতা প্রয়োজন এমন অন্য খাতেও আবেদন করা যেতে পারে। সাময়িক বা চুক্তিভিত্তিক কাজ দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণের একটি ধাপ হতে পারে। তবে বেতন, কাজের শর্ত এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা যাচাই না করে শুধু চাকরি পাওয়ার তাগিদে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। সামনে কী হতে পারে বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ধসের চেয়ে ধীরগতির নিয়োগ ও তীব্র প্রতিযোগিতার পরিস্থিতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রাখলেও অন্যরা ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ফলে চাকরির বাজারে সামগ্রিক কর্মসংস্থান বাড়লেও নতুন চাকরি খোঁজা মানুষের জন্য সুযোগ পাওয়া সহজ হচ্ছে না। বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয়ও এই পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। ড্রিসকলের মতে, অনেক কর্মী নিজেদের প্রত্যাশার চেয়ে কম বেতন বা অনুকূল নয় এমন কাজ গ্রহণ করছেন পেশাগত পছন্দের কারণে নয়, বরং নিয়মিত খরচ মেটানোর প্রয়োজন থেকে। চাকরি না থাকার আর্থিক ঝুঁকি বেশি হলে কর্মীদের পক্ষে ভালো সুযোগের অপেক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে বর্তমান চ্যালেঞ্জের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিভিন্ন খাতে অসম কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি, নিয়োগদাতাদের সতর্কতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য প্রভাব পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ভবিষ্যতে নিয়োগের গতি বাড়বে কি না, তা নির্ভর করবে অর্থনীতির অবস্থা, ব্যবসায়িক চাহিদা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তের ওপর। সূত্র: নিউজউইক

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
ক্রস রিভার অঙ্গরাজ্যে তেল-গ্যাস খাতের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তরুণরা। ছবি: সংগৃহীত
তেলকূপ ফিরে পাওয়ার প্রস্তুতিতে নাইজেরিয়ায় ২ হাজার তরুণকে তেল-গ্যাস প্রশিক্ষণ

নাইজেরিয়ার ক্রস রিভার অঙ্গরাজ্য নিজেদের তেলকূপ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার মধ্যেই স্থানীয় ২ হাজার তরুণকে তেল ও গ্যাস খাতের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে তেল-গ্যাস খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় তরুণরা যেন প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা ও পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে সরাসরি সেই বাজারে প্রবেশ করতে পারেন।   বৃহস্পতিবার কালাবারে ‘স্কিল আপ ইন দ্য সিজন অব সুইটনেস’ নামে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করা হয়। ক্রস রিভারের গভর্নর ব্যাসি এডেট ওতুর পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য হাউস অব অ্যাসেম্বলির স্পিকার এলভার্ট আয়ামবেম। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া তরুণদের সিপিডি-স্বীকৃত সার্টিফিকেট ও ডিপ্লোমা কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে।   রাজ্য সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, তেল ও গ্যাস খাত মানেই শুধু তেল উত্তোলন নয়। এই শিল্পে ইঞ্জিনিয়ারিং, লজিস্টিকস, মেরিন সার্ভিস, নিরাপত্তা, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, প্রোকিউরমেন্ট, রক্ষণাবেক্ষণ ও ডেটা সার্ভিসের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ জনবলের প্রয়োজন রয়েছে। প্রশিক্ষণে এসব সম্ভাব্য কর্মক্ষেত্রের জন্য তরুণদের প্রস্তুত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।   কর্মসূচির আয়োজক রিসার্চ গেটওয়ে ইনস্টিটিউটের পরিচালক থ্যাঙ্কগড আরং ওন্ডা জানিয়েছেন, প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে রাজ্য সরকারের অর্থায়নে ৫ লাখ নাইরা সমমূল্যের স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে। তবে কয়েকটি প্রতিবেদনে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ নিয়ে সংখ্যাগত অসামঞ্জস্য রয়েছে—প্রতি জন ৫ লাখ নাইরা হিসেবে ২ হাজার অংশগ্রহণকারীর সরল হিসাব ১০০ কোটি নাইরা হলেও একটি প্রতিবেদনে মোট বিনিয়োগ ৭০ কোটির বেশি নাইরা বলা হয়েছে। তাই মোট অর্থের অঙ্কটি সরকারি বিস্তারিত হিসাব ছাড়া নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে না।   ওন্ডার ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রশিক্ষণের সঙ্গে ক্রস রিভারের তেলকূপ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। রাজ্যটি ৭৬টি তেলকূপ ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছে এবং সেগুলো ঘিরে ভবিষ্যতে সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় তরুণদের যেন দক্ষতার অভাবে পিছিয়ে পড়তে না হয়, সে লক্ষ্যেই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।    প্রশিক্ষণ শুধু কালাবারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ক্রস রিভারের ১৮টি স্থানীয় সরকার এলাকায় পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। উত্তরাঞ্চলের জন্য ওগোজা এবং মধ্যাঞ্চলের জন্য ইকোমে আঞ্চলিক সেশন আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এরপর চূড়ান্ত পর্ব ও গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠিত হবে।    গভর্নরের বিশেষ উপদেষ্টা উকপং উমোহ বলেন, কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু সার্টিফিকেট দেওয়া নয়। তরুণদের এমন দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যাতে তারা চাকরিপ্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তা, সেবাদাতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবেও তেল-গ্যাস অর্থনীতিতে অংশ নিতে পারেন।    তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের এই উদ্যোগ ক্রস রিভার সরকারের বৃহত্তর কর্মসংস্থান নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। রাজ্য সরকারের যুব ক্ষমতায়ন কর্মসূচিতে দক্ষতা অর্জন, উদ্যোক্তা তৈরি ও স্বনির্ভরতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক আরেকটি সরকারি কর্মসূচিতেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণদের ব্যবসা শুরু ও কর্মসংস্থান তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।   ফলে ২ হাজার তরুণের এই প্রশিক্ষণকে শুধু একটি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং সম্ভাব্য তেল-গ্যাস অর্থনীতিতে স্থানীয় জনশক্তির অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবেও দেখছে রাজ্য সরকার। তবে ৭৬টি তেলকূপ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফল এবং এর মাধ্যমে ঠিক কত কর্মসংস্থান তৈরি হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   সূত্র: ক্রস রিভার ওয়াচ, লিডারশিপ, নিউ টেলিগ্রাফ, ক্রস রিভার স্টেট গভর্নমেন্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে নতুন সরকারি ও স্কুলভিত্তিক বিভিন্ন পদে নিয়োগের সুযোগ
নিউইয়র্কে সরকারি চাকরির একাধিক পদের নতুন বিজ্ঞপ্তি, জেনে নিন বিস্তারিত

নিউইয়র্কে সরকারি চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর একাধিক নতুন পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেটের অফিসিয়াল চাকরির পোর্টাল স্টেটজবসএনওয়াইয়ের তালিকায় একই দিনে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি পদে এখনো আবেদন করা যাচ্ছে। পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল চাকরির তালিকাতেও নতুন স্কুলভিত্তিক পদ যুক্ত হয়েছে।   স্টেটজবসএনওয়াইয়ের পাবলিক তালিকা অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত পদগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মেডিকেইড ফ্রড কন্ট্রোল ইউনিটের দুটি আইটি সাপোর্ট স্পেশালিস্ট পদ রয়েছে। একটি পদ মনরো কাউন্টিতে, যার ভ্যাকেন্সি আইডি ২২৫৪৮৬ এবং আবেদনের শেষ তারিখ ২৩ অক্টোবর। আরেকটি নিউইয়র্ক কাউন্টিতে, ভ্যাকেন্সি আইডি ২২৫৪৬৪ এবং এর শেষ তারিখও ২৩ অক্টোবর।   নিউইয়র্ক সিটির পদটির ক্ষেত্রে অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে বার্ষিক বেতন ৮৬ হাজার ৬৮৬ ডলার এবং লোকেশন পে হিসেবে আরও ৪ হাজার ১৫০ ডলারের কথা উল্লেখ রয়েছে। এটি ফুলটাইম পদ এবং কর্মস্থল নিউইয়র্ক সিটির ২৮ লিবার্টি স্ট্রিট। পদটির দায়িত্বের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহায়তা, কম্পিউটার ও সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণ, নেটওয়ার্ক সংযোগ সমস্যা সমাধান এবং সিকিউরিটি আপডেটসহ বিভিন্ন কাজ রয়েছে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ হলো হিয়ারিং অফিসার ১, প্যারোল রিভোকেশন, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ল জাজ। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনস অ্যান্ড কমিউনিটি সুপারভিশনের অধীনে থাকা এই পদটির ভ্যাকেন্সি আইডি ২২৫৪৭৫। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের শেষ তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর এবং বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৬৭১ ডলার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৭৫ ডলার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। পদটি ফুলটাইম এবং নিউইয়র্ক কাউন্টিতে।   এ ছাড়া নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের সিনিয়র অ্যাটর্নি, এসজি-২৫ পদটিও ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছে। ভ্যাকেন্সি আইডি ২২৫৫১৯-এর এই পদে আবেদনের শেষ তারিখ ৭ অক্টোবর। অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে বার্ষিক বেতন ৬৯ হাজার ৯৬৪ ডলার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৭৫ ডলার পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে এবং পদটি ফুলটাইম।   অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল চাকরির তালিকায় ২৩ সেপ্টেম্বর বেশ কয়েকটি নতুন স্কুলভিত্তিক পদ দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি ওয়ার্কার এবং স্কুল এইডের একাধিক পদ রয়েছে। একই দিনে ডিউইট ক্লিনটন হাইস্কুলে কমিউনিটি অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের আবেদনের শেষ তারিখ ৫ অক্টোবর, ব্রুকলিন কলেজ একাডেমিতে প্যারেন্ট কো-অর্ডিনেটর পদের শেষ তারিখ ৬ অক্টোবর এবং পি১৮৬এক্স ওয়াল্টার জে. ড্যামরশ স্কুলে প্যারেন্ট কো-অর্ডিনেটর পদের শেষ তারিখ ৯ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।   চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একই পদের যোগ্যতা, বেতন, কর্মস্থল, প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা এবং আবেদনের নিয়ম পদভেদে আলাদা হতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা তৃতীয় পক্ষের চাকরির সাইটের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে স্টেটজবসএনওয়াই এবং নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করা উচিত। বিশেষ করে আইনি, পেশাগত বা লাইসেন্সনির্ভর পদে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট যোগ্যতা ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।   ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এসব বিজ্ঞপ্তির বেশ কয়েকটির আবেদনের সময়সীমা অক্টোবরের প্রথম বা তৃতীয় সপ্তাহে শেষ হচ্ছে। ফলে আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদনের আগে শেষ তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট পদের বিস্তারিত শর্ত যাচাই করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি চাকরির আবেদন করার ক্ষেত্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি এবং পদভেদে নির্ধারিত শিক্ষাগত, পেশাগত বা লাইসেন্স সংক্রান্ত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।  

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
কারাগারে থেকেও রিমোট কাজ, ঘণ্টায় ২৫ ডলার বেতনের সুযোগ
কারাগারে থেকেও ঘণ্টায় ২৫ ডলার আয়, ব ন্দি দের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কর্মসূচি

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে কা রা ব ন্দিদের জন্য রিমোট কাজের সুযোগ তৈরি করতে নতুন একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নির্বাচিত ব ন্দি রা কারাগারে থেকেই সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা রিমোট কাজ করবেন এবং প্রতি ঘণ্টায় ২৫ ডলার করে বেতন পাবেন। ম্যাসাচুসেটস ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন (ডিওসি) ১৭ সেপ্টেম্বর কর্মসূচিটি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। ছয় মাসের এই পাইলট কর্মসূচিতে শুরুতে দুজন ব ন্দি অংশ নেবেন। তাঁরা দুজনই বোস্টন কলেজের প্রিজন এডুকেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের নির্বাচন করা হয়েছে। কর্মসূচিটি ম্যাসাচুসেটস ডিওসি ও ‘অ্যালায়েন্স ফর হায়ার এডুকেশন ইন প্রিজন’-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা এমসিআই-শার্লির নির্দিষ্ট একটি জায়গা থেকে কাজ করবেন এবং কা রা কর্তৃপক্ষের কর্মীরা সেখানে তাঁদের সরাসরি তদারকি করবেন। নির্বাচিত দুজন বিভিন্ন গবেষণা ও শিক্ষা-সংক্রান্ত কাজে যুক্ত থাকবেন। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ইনকারসারেটেড স্কলার্স কনফারেন্সের জন্য উপকরণ তৈরি, বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সহায়তা, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কারাগারে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে গবেষণা এবং শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ তৈরির কাজ রয়েছে। এই কাজের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা গবেষণা, যোগাযোগ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও তথ্য-উপকরণ তৈরির মতো পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। ডিওসি কমিশনার শন জেনকিন্স বলেন, কর্মসূচিটির লক্ষ্য হলো ব ন্দি দের বর্তমান চাকরির বাজারের জন্য প্রস্তুত করা এবং মুক্তির পর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করা। ম্যাসাচুসেটস ডিওসি জানিয়েছে, কা রা ব ন্দি দের শিক্ষা ও কর্মদক্ষতা উন্নয়নের জন্য তারা আগে থেকেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে কম্পিউটার কোডিং, প্রিন্টিং, কম্পিউটার-এইডেড ডিজাইন, রান্নাবিষয়ক প্রশিক্ষণ, ধাতব কাজসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ রয়েছে। নতুন এই কর্মসূচি ডিওসির পাঁচ বছরের ‘অ্যালাইন ইনিশিয়েটিভ’-এরও অংশ। ওই পরিকল্পনায় কা রা ব ন্দি দের মুক্তির পর সমাজে ফিরে গিয়ে কাজ করার প্রস্তুতি হিসেবে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং রিমোট ও সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মাত্র দুজনকে নিয়ে কর্মসূচিটি শুরু হলেও ছয় মাসের পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এর কার্যক্রম ও ফলাফল মূল্যায়ন করা হবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ডাউন সিনড্রোমে বেড়ে ওঠা দুই সন্তানকে নিয়ে আইসক্রিম ব্যবসায় বাবা
ডাউন সিনড্রোমের কারণে চাকরি না পাওয়া দুই সন্তানের জন্য আইসক্রিমের ব্যবসা গড়লেন বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের জোয়েল ওয়েগেনার চেয়েছিলেন, তাঁর দুই সন্তান মেরি ও জশ যেন নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করতে পারে। ডাউন সিনড্রোম নিয়ে বেড়ে ওঠা সন্তানদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজে পাওয়া কঠিন হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই তৈরি করেন একটি নতুন পথ। পুরোনো একটি আইসক্রিম ট্রাক কিনে সন্তানদের নিয়ে শুরু করেন পারিবারিক ব্যবসা ‘স্পেশাল নিট ট্রিটস’। ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের পেছনে শুধু ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ছিল না। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর মেয়ে মেরি কেট কী ধরনের কাজ করতে পারবে, তা নিয়ে পরিবারে চিন্তা তৈরি হয়েছিল। প্রচলিত কর্মক্ষেত্রে ভিন্ন সক্ষমতার মানুষের জন্য উপযুক্ত সুযোগ সীমিত হওয়ায় জোয়েল সিদ্ধান্ত নেন, অপেক্ষা না করে সন্তানদের জন্য নিজেরাই একটি কর্মক্ষেত্র তৈরি করবেন। এরপর ইন্ডিয়ানার একটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরিবারের কাছ থেকে ব্যবহৃত একটি আইসক্রিম ট্রাক কিনে সেটি মেরামত করেন জোয়েল। সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন আইসক্রিম বিক্রির কাজ। ছোট পরিসরে শুরু হলেও ধীরে ধীরে এই উদ্যোগ হয়ে ওঠে মেরি ও জশের বাস্তব কর্মজীবনের প্রশিক্ষণের জায়গা। আইসক্রিম বিক্রির মাধ্যমে প্রতিদিনই নতুন কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা। গ্রাহকের কাছ থেকে অর্ডার নেওয়া, টাকা সামলানো, প্রশ্ন করা, মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং সামাজিক যোগাযোগ—এসব দক্ষতা কাজ করতে করতেই অনুশীলন করছেন মেরি ও জশ। জোয়েলের মতে, সন্তানদের জন্য এই উদ্যোগ শুধু একটি কাজের সুযোগ তৈরি করেনি, বরং তাঁদের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে। মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ফলে তাঁরা নিজেদের আরও স্বচ্ছন্দভাবে প্রকাশ করতে পারছেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব নেওয়া ও নিয়মিত কাজ করার অভ্যাসও তৈরি হচ্ছে। ওহাইওর লোভল্যান্ড এলাকায় শুরু হওয়া ‘স্পেশাল নিট ট্রিটস’ পরে বৃহত্তর সিনসিনাটি অঞ্চলেও পরিচিত হয়ে ওঠে। স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান, স্কুল এবং কমিউনিটি আয়োজনে আইসক্রিম বিক্রি করতে দেখা যায় ওয়েগেনার পরিবারকে। ২০২১ সালের প্রথম কয়েক মাসেই তাঁদের বিক্রি প্রায় ৫ হাজার আইসক্রিমে পৌঁছেছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এক প্রতিবেদনে মোট বিক্রি ১০ হাজারের বেশি ট্রিটে পৌঁছানোর কথা বলা হয়। তবে জোয়েলের কাছে এই ব্যবসার সাফল্য শুধু বিক্রির হিসাব দিয়ে মাপার বিষয় নয়। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল সন্তানদের এমন একটি পরিবেশ দেওয়া, যেখানে তাঁরা নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগাতে পারবেন এবং অন্যদের সঙ্গে সমানভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান নিয়েও একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন জোয়েল। তাঁর বিশ্বাস, উপযুক্ত পরিবেশ, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলে ভিন্ন সক্ষমতার মানুষও কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। মেরি ও জশের গল্প তাই শুধু একটি আইসক্রিম ব্যবসার গল্প নয়। এটি এমন এক বাবার গল্প, যিনি সন্তানদের জন্য সুযোগের অপেক্ষা না করে নিজেরাই সেই সুযোগ তৈরি করেছেন। একটি পুরোনো আইসক্রিম ট্রাক তাঁদের কাছে হয়ে উঠেছে কাজ শেখা, আত্মবিশ্বাস অর্জন এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের একটি নতুন দরজা।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার আড়াই ঘণ্টার মধ্যে ছাঁটাইয়ের দাবি করেছেন ম্যানহাটনের এক কর্মী। ছবি: সংগৃহীত
অপরিষ্কার থাকার অভিযোগে চাকরিতে যোগ দেওয়ার আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই চাকরি গেল নিউইয়র্কের প্রযুক্তিকর্মীর

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে চাকরি হারানোর দাবি করেছেন ক্রিস স্মলস নামে ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। তাঁর ভাষ্য, একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে বলা হয়, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সমস্যার কারণে তাঁর চাকরি আর থাকছে না।   স্মলসের দাবি, প্রায় নয় মাস বেকার থাকার পর একটি অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ওই চাকরি পান। তাঁর দায়িত্ব ছিল প্রতিষ্ঠানের কর্মী ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত কাজে সহায়তা করা। নতুন কর্মস্থলে প্রথম দিনটি শুরু হয়েছিল স্বাভাবিকভাবেই। কয়েক ঘণ্টা পরিচিতিমূলক কাজ ও প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পর তাঁকে আগেভাগে মধ্যাহ্নভোজে যেতে বলা হয়।   তবে ভবন থেকে বের হওয়ার আগেই অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাঁকে ফোন করে জানানো হয়, ‘পরিচ্ছন্নতার সমস্যা’র কারণে তাঁকে আর কাজে রাখা হচ্ছে না।   স্মলস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে ‘Havocko’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাত হাজার পাঁচশর বেশি আপভোট পায় বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের মধ্যে সহানুভূতি, সন্দেহ এবং নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়।   স্মলসের দাবি, চাকরির প্রথম দিন সকালে তিনি নতুন একটি পোলো শার্ট পরে কর্মস্থলে যান। আগের রাতেই তিনি গোসল করেছিলেন বলেও জানান। অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের যে প্রতিনিধি তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার খবর দেন, তিনিও নাকি ঠিক কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি। শুধু তাঁকে ওই দিন কী পোশাক পরেছিলেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল।   নিজের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে স্মলস বলেন, তিনি নিয়মিত নিজের যত্ন নেন এবং কর্মস্থলে যাওয়ার আগে ভালোভাবেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়েছিলেন। তবে তাঁর প্যান্টে কিছুটা ধুলা বা পশুর লোম থাকতে পারে বলে তিনি স্বীকার করেন।   চাকরি হারানোর পর নিজের পরিচিতদের কাছ থেকেও বিষয়টি যাচাই করার চেষ্টা করেন স্মলস। তিনি তাঁর এক রুমমেট ও এক বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেন, তাঁর শরীর থেকে কোনো দুর্গন্ধ পাওয়া যায় কি না। দুজনই তা অস্বীকার করেন বলে জানান তিনি। স্মলস আরও বলেন, তাঁর একটি বিড়াল ও একটি কুকুর রয়েছে। তবে তাঁর দাবি, বাসা পরিষ্কার থাকে এবং তিনি এমন একজন রুমমেটের সঙ্গে থাকেন যিনি পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে বেশ সতর্ক।   চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়াই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেডিটে নিজের পোস্টে তিনি অনুমান করেন, কর্মস্থলে হয়তো নাক চুলকানোর মতো কোনো অঙ্গভঙ্গিকে ভুলভাবে দেখা হয়েছিল। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলার মতো কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই।   ঘটনার পর স্মলস অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠাটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর দাবি, শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে তাঁর সঙ্গে আবার কাজ করার আগ্রহ দেখালেও পরে আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এমনকি নতুন চাকরিতে যে অল্প সময় কাজ করেছিলেন, সেটির পারিশ্রমিকও তিনি তখন পর্যন্ত পাননি বলে জানান।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে অবশ্য সবাই স্মলসের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হননি। কেউ কেউ মনে করেন, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার প্রকৃত কারণ হতে পারে। আবার অন্যরা প্রশ্ন তুলেছেন, চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য এটিকে হয়তো একটি অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।   কয়েকজন রেডিট ব্যবহারকারী ‘হায়ার-টু-ফায়ার’ বা দ্রুত নিয়োগ দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে কর্মী ছাঁটাই করার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। তবে স্মলস নিজেই এই ব্যাখ্যাকে খুব একটা সম্ভাব্য মনে করছেন না। কয়েক সপ্তাহ ধরে ঘটনাটি নিয়ে ভাবার পর তাঁর নিজের ধারণা, কর্মস্থলে কোনো আচরণ বা অঙ্গভঙ্গি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকতে পারে।   ঘটনার পর আবার চাকরির সন্ধানে ফিরেছেন স্মলস। নিউইয়র্কের কর্মসংস্থান আইনের কাঠামো নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, অস্থায়ী কর্মীদের চাকরি শেষ করার ক্ষেত্রে আরও স্পষ্ট সুরক্ষা থাকা প্রয়োজন।   যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্যের মতো নিউইয়র্কেও সাধারণভাবে ‘অ্যাট-উইল’ কর্মসংস্থান ব্যবস্থা কার্যকর। এর অর্থ, আইন বা চুক্তিতে বিশেষ কোনো ব্যতিক্রম না থাকলে নিয়োগকর্তা বা কর্মী নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কর্মসম্পর্ক শেষ করতে পারেন, যদিও বৈষম্য বা প্রতিশোধমূলক বরখাস্তের মতো বেআইনি কারণের ক্ষেত্রে আলাদা আইনি সুরক্ষা রয়েছে। তবে স্মলসের নির্দিষ্ট চাকরি হারানোর ঘটনায় নিয়োগকর্তা কোনো বেআইনি আচরণ করেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।   এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার বড় অংশই স্মলসের নিজের বক্তব্য ও রেডিটে প্রকাশিত প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে। তাঁর সাবেক কর্মস্থল বা অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ নেই। ফলে চাকরি হারানোর প্রকৃত কারণ কী ছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট ও স্মলসের রেডিট পোস্ট।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্যারামাউন্টের কার্যক্রম ও সম্ভাব্য স্থানান্তরকে ঘিরে প্রতীকী চিত্র
ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার হুমকি প্যারামাউন্টের, বড় ধাক্কার শঙ্কা অর্থনীতিতে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্যারামাউন্ট তাদের প্রধান কার্যালয় ও কার্যক্রম সরিয়ে নিলে অঙ্গরাজ্যটির অর্থনীতিতে বছরে ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রায় ৫৮ হাজার কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির (ডব্লিউবিডি) সঙ্গে প্যারামাউন্টের সম্ভাব্য একীভূতকরণ নিয়ে চলমান অ্যান্টিট্রাস্ট বিতর্কের মধ্যে ফাঁস হওয়া একটি প্রাথমিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এমন সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের ইনস্টিটিউট ফর অ্যাপ্লাইড ইকোনমিকস প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। এতে প্যারামাউন্ট ক্যালিফোর্নিয়া থেকে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে নিলে অঙ্গরাজ্যের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রথম হাতে পায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো। ডব্লিউবিডির সঙ্গে প্যারামাউন্টের একীভূতকরণ নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টার নেতৃত্বে ১২টি ডেমোক্র্যাট অঙ্গরাজ্যের আইনি পদক্ষেপের পর। অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, এই একীভূতকরণ হলে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন খাতে প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত না হলে আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্যারামাউন্টকে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে তাদের প্রধান কার্যালয় ও হাজার হাজার কর্মসংস্থান সরিয়ে নিতে হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি ইঙ্গিত দিয়েছে। সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে জর্জিয়া, টেনেসি ও টেক্সাসের নামও আলোচনায় এসেছে। প্রতিবেদনে সবচেয়ে বড় প্রভাব হিসেবে কর্মসংস্থানের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্যারামাউন্ট ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকা তাদের সব কার্যক্রম সরিয়ে নিলে অঙ্গরাজ্যটিতে স্থায়ীভাবে ২৮ হাজার ৯৯০ থেকে সর্বোচ্চ ৫৭ হাজার ৯৮০টি পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে। এর মধ্যে প্যারামাউন্টের সরাসরি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং কর্মীদের ব্যয়ের মাধ্যমে সৃষ্ট কর্মসংস্থানও অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের পরিবর্তনের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বছরে ১০ দশমিক ৬ বিলিয়ন থেকে ২১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমতে পারে। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারের কর রাজস্ব বছরে প্রায় ৫৮৫ মিলিয়ন থেকে ১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব হিসাব মূলত সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য প্রভাবের একটি চিত্র। এর কারণ, প্যারামাউন্ট অঙ্গরাজ্যভিত্তিক পরিচালন ব্যয় ও কর্মসংস্থানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে না। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির মোট পরিচালন ব্যয় ছিল প্রায় ১৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়েছে, প্যারামাউন্টের মোট পরিচালন ব্যয়ের ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। অর্থের হিসাবে এর পরিমাণ বছরে প্রায় ৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন থেকে ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এদিকে একীভূতকরণসংক্রান্ত প্রায় ১ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত ফি ও অর্থায়ন ব্যয় সামাল দিতে প্যারামাউন্ট যদি ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যয় কমায়, সেক্ষেত্রেও অর্থনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে। পাঁচ বছরে সমান হারে ব্যয় কমানো হলে প্রতিবছর ৫৫০ থেকে ১ হাজার ১১০টি পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মসংস্থান এবং ২০২ দশমিক ৭ মিলিয়ন থেকে ৪০৫ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমতে পারে। প্যারামাউন্ট ও ডব্লিউবিডির সম্ভাব্য একীভূতকরণ নিয়ে আইনি বিরোধের সূত্রপাত হয় গত ১৩ জুলাই। সেদিন ১২টি অঙ্গরাজ্য চুক্তিটি রোধ করতে আইনি পদক্ষেপ নেয়। তাদের দাবি, একীভূতকরণ হলে বড় পরিসরের সিনেমা, সম্ভাব্য ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র এবং বেসিক কেবল চ্যানেলের স্বত্ব বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন বিচার বিভাগ গত জুনে নিজস্ব পর্যালোচনা শেষ করলেও একীভূতকরণ ঠেকাতে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। বিভাগের মূল্যায়ন ছিল, এই চুক্তির ফলে স্ট্রিমিং, প্রচলিত টেলিভিশন কিংবা চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রযোজনা ও বিতরণ খাতে প্রতিযোগিতার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। এদিকে ৩০ সেপ্টেম্বরের পর চুক্তি সম্পন্ন হলে ডব্লিউবির শেয়ারহোল্ডারদের অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার শর্ত রয়েছে। এলএইডিইসির প্রতিবেদনের হিসাবে, ১ অক্টোবর থেকে এই অতিরিক্ত অর্থ বা ‘টিকিং ফি’ বাবদ প্যারামাউন্টকে প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হতে পারে। বিরোধ নিরসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে প্যারামাউন্ট একীভূত প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে অন্তত ৩০টি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে পাঁচ বছরে ক্যালিফোর্নিয়ায় ১ হাজার ২০ থেকে ২ হাজার ৭৬০টি চাকরির সমপরিমাণ কর্মসংস্থান এবং ৩৭৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন থেকে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে। .ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় বলেছে, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি এবং ব্যবসার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তাদের মতে, শক্তিশালী অ্যান্টিট্রাস্ট আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতা ও ভোক্তাদের সুবিধা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। .তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে প্যারামাউন্টের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ঐতিহাসিকভাবে কম থাকলেও দীর্ঘ সময় চাকরি না পাওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব বৃদ্ধি! চাকরি না পেয়ে হতাশ লাখ লাখ মার্কিন নাগরিক

যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক কম থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি না পাওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রায় ১৮ লাখ মানুষ অন্তত ২৭ সপ্তাহ ধরে বেকার ছিলেন। মোট বেকার মানুষের প্রায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের মধ্যে ছিলেন।   বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের শুরুর দিক থেকে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে বেকার থাকা মানুষের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে কারণ যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে কোনো অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে নেই। অতীতে এত বড়সংখ্যক মানুষ দীর্ঘ সময় বেকার থাকলে সাধারণত বেকারত্বের হারও বেশি থাকত এবং দেশ অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে থাকত বা সেখান থেকে বের হওয়ার পর্যায়ে থাকত।   ম্যাসাচুসেটসের বাসিন্দা জেরেমি স্পিগেলের অভিজ্ঞতা এই দীর্ঘ চাকরিসন্ধানের একটি উদাহরণ। ২০২৪ সালে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে পরিচালকের চাকরি হারানোর পর তিনি নতুন কাজের সন্ধান শুরু করেন। দুই দশকের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও প্রায় দুই বছর ধরে তিনি চাকরি খুঁজছেন। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ না পাওয়ার কারণে এখন তিনি নিজেকেও প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন।   স্পিগেল জানিয়েছেন, চাকরির আবেদন করে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তার মনে হয়েছে, হয়তো সমস্যাটি তার নিজের মধ্যেই রয়েছে। তার পরিবারের একজন সদস্য পর্যন্ত প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবেদন করেছেন সেখানে কারও সঙ্গে তার কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না। চাকরি খোঁজার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হতে পারে এমন আশঙ্কায় তিনি কখনো কখনো সামাজিক অনুষ্ঠানও এড়িয়ে চলেন।   দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের কারণ নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নানা ধরনের ধারণা তৈরি হয়েছে। কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবকে দায়ী করছেন, কেউ বয়সভিত্তিক বৈষম্যের কথা বলছেন। আবার কেউ এমন চাকরির বিজ্ঞাপনের বিষয়টি সামনে আনছেন, যেগুলোতে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হলেও বাস্তবে নিয়োগের উদ্যোগ নেই। তবে এসব বিষয়কে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের নিশ্চিত কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।   ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী ওফার শ্যারোন দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব নিয়ে গবেষণা করেন। তার মতে, চাকরিপ্রার্থীরা যখন দীর্ঘদিন কাজ না পাওয়ার পেছনে কোনো স্পষ্ট বাহ্যিক কারণ খুঁজে পান না, তখন তারা নিজেদের মধ্যেই সমস্যার কারণ খুঁজতে শুরু করেন। এতে আত্মদোষারোপ বাড়তে পারে এবং দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি খোঁজার প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাসও কমে যেতে পারে।   ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা জন ম্যাককার্টিও দীর্ঘ চাকরিসন্ধানের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ২০২২ সালে সফটওয়্যার প্রকৌশলীর চাকরি হারানোর পর তিনি ১৮ মাস ধরে নতুন কাজ খুঁজেছেন। পরে তিনি পেশা পরিবর্তন করে কারিগরি কাজ শুরু করেন এবং বর্তমানে একটি খুচরা প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছেন।   ম্যাককার্টি জানান, কয়েকটি চাকরির ক্ষেত্রে তিনি প্রাথমিক ফোন ও কারিগরি সাক্ষাৎকার পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। কিন্তু ভিডিও সাক্ষাৎকারের পর তাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। একের পর এক প্রত্যাখ্যানের পর তার মনে হয়েছে, বয়স হয়তো চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে তার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে তিনি নিজেই নিশ্চিত নন, বয়সকে কারণ হিসেবে ভাবাটা বাস্তবতা নাকি দীর্ঘদিন চাকরি না পাওয়ার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার একটি উপায়।   ওফার শ্যারোন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খোঁজা মানুষের জন্য আশা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘমেয়াদি চাকরিসন্ধান একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। কিন্তু সমস্যার কারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেশি থাকলে চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষে সেই আশা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।   তবে দীর্ঘ সময় চাকরি খোঁজার পর কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত কাজে ফিরতে পারছেন। কিন্তু নতুন চাকরি পেলেও অনেকের ক্ষেত্রে আগের কর্মজীবনে ফিরে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কেউ কেউ পেশা পরিবর্তন করছেন, আবার কেউ আগের তুলনায় কম বেতনের চাকরি গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ কাজ খোঁজা পুরোপুরি ছেড়ে দিচ্ছেন।   কিম্বারলি ম্যাকক্লেইন ২০২৪ সালে একটি ছোট অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে উপপরিচালকের চাকরি থেকে পদত্যাগ করার পর দ্রুত নতুন কাজ পাওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস ধরে কোনো চাকরির প্রস্তাব না পাওয়ায় তিনিও নিজের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করেন। এমনকি কোনো প্রতিষ্ঠানের অনানুষ্ঠানিক নিয়োগ-নিষেধ তালিকায় তিনি আছেন কি না, সেটিও ভাবতে শুরু করেছিলেন।   চাকরি খোঁজা শুরুর প্রায় দুই বছর পর সম্প্রতি একটি কল সেন্টারে পূর্ণকালীন গ্রাহকসেবা পেশায় চাকরি পেয়েছেন ম্যাকক্লেইন। তবে নতুন চাকরিতে তার আয় আগের চাকরির প্রায় অর্ধেক। তারপরও দীর্ঘ সময়ের প্রত্যাখ্যানের পর একটি চাকরির প্রস্তাব পাওয়াকে তিনি স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব এখন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, জুলাইয়ে ২৭ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় বেকার থাকা মানুষের সংখ্যা আগের মাসের ১৯ লাখ থেকে কিছুটা কমে ১৮ লাখে দাঁড়ালেও দীর্ঘমেয়াদি বেকারদের সংখ্যা এখনও উল্লেখযোগ্য।   আগামী দিনে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কমলে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়োগে আরও আত্মবিশ্বাসী হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। আবার অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হলে বর্তমান চাকরির বাজার আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খোঁজা অনেক মানুষকে পেশা পরিবর্তন, কম বেতনের কাজ গ্রহণ অথবা চাকরির সন্ধান পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।   সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
এভিয়েশন প্রেপ অ্যাকাডেমির বিনামূল্যের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কে এভিয়েশন ক্যারিয়ার গড়তে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ, নতুন ব্যাচ শুরু ২৪ অক্টোবর

নিউ ইয়র্কে এভিয়েশন খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের সুযোগ দিচ্ছে এভিয়েশন প্রেপ অ্যাকাডেমি। প্রতিষ্ঠানটির চতুর্থ ব্যাচের ৫৫ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হবে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। প্রশিক্ষণটি নিউ ইয়র্কের রকভিল সেন্টারে সরাসরি উপস্থিত হয়ে করতে হবে।   এভিয়েশন প্রেপ অ্যাকাডেমির তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিটি মূলত এভিয়েশন খাতের প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরির জন্য অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তুত করতে তৈরি করা হয়েছে। যেসব চাকরির জন্য চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি প্রয়োজন হয় না, সেসব পেশায় প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক জ্ঞান ও কর্মদক্ষতার ওপর প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়।   এই প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আবেদনকারীদের উচ্চবিদ্যালয়ের ডিপ্লোমা অথবা জিইডি থাকতে হবে। পাশাপাশি এভিয়েশন খাতে কাজ করার আগ্রহ থাকতে হবে। চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি না থাকলেও এ কর্মসূচির মাধ্যমে এভিয়েশন খাতে ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানা এবং চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটির অর্থায়নে রয়েছে এমঅ্যান্ডটি ব্যাংক। রকভিল সেন্টারের হিস্পানিক ব্রাদারহুডের সহযোগিতায় এটি পরিচালিত হচ্ছে। অ্যাকাডেমির তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যাচটি হবে কর্মসূচিটির চতুর্থ ব্যাচ।   এভিয়েশন প্রেপ অ্যাকাডেমি জানিয়েছে, কর্মসূচিটি শুধু নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নয়। যারা পেশা পরিবর্তন করতে চান কিংবা ইতিমধ্যে এভিয়েশন খাতে কাজ করছেন এবং ক্যারিয়ারে আরও এগিয়ে যেতে চান, তারাও এই প্রশিক্ষণ থেকে উপকৃত হতে পারেন।   অ্যাকাডেমির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এভিয়েশন খাতে এমন বেশ কিছু পেশা রয়েছে যেখানে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি ছাড়াই ভালো বেতন ও বিভিন্ন সুবিধাসহ ক্যারিয়ার শুরু করার সুযোগ রয়েছে। সেই সম্ভাব্য কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা দেওয়াও প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য।   ২৪ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া নতুন ব্যাচে আসন সীমিত। তাই এভিয়েশন খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের আবেদন ও যোগ্যতার বিস্তারিত তথ্য জেনে দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন বিল গেটস। ছবি: সংগৃহীত
'সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রযুক্তি' এআই, কেড়ে নিবে কোটি মানুষের চাকরি, ঘটতে পারে জৈবসন্ত্রাস: বিল গেটস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বড় সতর্কবার্তা দিয়েছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তাঁর আশঙ্কা, আগামী এক দশকে এআই দ্রুত বিভিন্ন পেশার কাজ দখল করে নেওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে এই প্রযুক্তি সাইবার হামলা, প্রতারণা, ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং এমনকি প্রাণঘাতী জীবাণু তৈরির সক্ষমতাও সহজ করে দিতে পারে।   ২৬ আগস্ট নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় ৬ হাজার শব্দের এক দীর্ঘ প্রবন্ধে গেটস এআই যুগের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও তা মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন। একই সময়ে ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি এআই নিয়ে তাঁর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। গেটসের মতে, এআই আগের প্রযুক্তিগত বিপ্লবগুলোর মতো নয়। অতীতে প্রযুক্তি কিছু কাজের ধরন বদলে দিলেও মানুষের চিন্তাশক্তির প্রয়োজন হয় এমন নতুন কাজ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এআই সরাসরি মানুষের চিন্তা, বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার একটি বড় অংশকে প্রতিস্থাপন করতে পারে। ফলে চাকরি হারানো মানুষের জন্য নতুন কাজ তৈরির সুযোগ আগের তুলনায় অনেক কম হতে পারে।   তিনি লিখেছেন, আইন, গ্রাহকসেবা, চিকিৎসা, সফটওয়্যার ও উৎপাদন খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই দ্রুত কাজের অংশ হয়ে উঠবে। এই পরিবর্তন কয়েক প্রজন্ম ধরে নয়, মাত্র এক দশকের মধ্যেই বড় আকারে ঘটতে পারে। নতুন কিছু চাকরি তৈরি হলেও যথাযথ নীতি না থাকলে বর্তমানে যত চাকরি রয়েছে, তার তুলনায় নতুন চাকরির সংখ্যা অনেক কম হতে পারে। বিশেষ করে প্রবেশ পর্যায়ের ও মধ্যম পর্যায়ের চাকরি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন গেটস। তাঁর মতে, তরুণরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবেন, কারণ কর্মজীবন শুরু করার সময় তাদের জন্য আগের তুলনায় কম সুযোগ থাকতে পারে। সফটওয়্যার প্রকৌশল, বিক্রয় ও গ্রাহকসেবা, আইনি সহায়তা, ঋণের আবেদন যাচাই, তথ্য বিশ্লেষণ এবং রোগীদের প্রাথমিক পর্যায়ের মূল্যায়নের মতো কাজেও এআই ক্রমেই ভূমিকা নিতে পারে।   শুধু দাপ্তরিক কাজ নয়, শারীরিক শ্রমের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করেন গেটস। তাঁর ধারণা, দশকের শেষ নাগাদ উন্নত রোবট নির্মাণ ও আতিথেয়তা খাতের কিছু কাজে মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা শুরু করতে পারে। একটি প্রতিষ্ঠান রোবট ও এআই ব্যবহার করে খরচ কমিয়ে পণ্যের দাম কমালে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে একই পথে যেতে বাধ্য হবে। এতে স্বয়ংক্রিয়করণের গতি আরও বাড়তে পারে। গেটসের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো, এআই যখন প্রায় ভুলহীনভাবে কাজ করতে পারবে এবং মানুষের তদারকির প্রয়োজনও কমে যাবে। তখন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আরও বেশি কাজ যন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়ার শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রণোদনা থাকবে। এর ফলে কর্মসংস্থান, আয় এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রচলিত ধারণাই বদলে যেতে পারে।   তিনি ১৯৩০-এর দশকের মহামন্দার কথাও উল্লেখ করেছেন। ১৯৩৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব প্রায় ২৫ শতাংশে পৌঁছেছিল। তবে গেটস বলেন, এআইয়ের কারণে বেকারত্ব সেই পর্যায়ে পৌঁছাবে এমন পূর্বাভাস তিনি দিচ্ছেন না। তাঁর বক্তব্য হলো, এআইয়ের প্রভাব যদি ব্যাপক হয়, তা শুধু অর্থনৈতিক চক্রের পরিবর্তনের সঙ্গে শেষ হয়ে যাবে না। বরং অর্থনীতির কাঠামোর ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। এআইয়ের অপব্যবহার নিয়েও সতর্ক করেছেন গেটস। তাঁর মতে, অনলাইনে আগে থেকেই সাইবার হামলা, প্রতারণা, ক্ষতিকর সফটওয়্যার ও জৈব অস্ত্র সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এআই এসব তথ্য ব্যবহার করা এবং বাস্তবে প্রয়োগ করার সক্ষমতা আরও সহজ করে দিতে পারে। দক্ষতা কম থাকা ব্যক্তিরাও বড় পরিসরে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারি ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ক্ষমতা পেতে পারেন।   হাসপাতাল, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং সরকারি সেবার ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা এআই-সহায়িত সাইবার হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। জীবাণু অস্ত্রের সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়েও তাঁর উদ্বেগ রয়েছে। গেটসের মতে, এআই যেমন নতুন ওষুধ ও টিকা তৈরির কাজ দ্রুত করতে পারে, তেমনি ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে নতুন প্রাণঘাতী রোগজীবাণু তৈরির কাজও সহজ করে দিতে পারে। এ কারণেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে এমন এআই ব্যবস্থার বাধ্যতামূলক পর্যালোচনার পক্ষে তিনি মত দিয়েছেন।   তবে গেটস শুধু এআইয়ের বিপদ তুলে ধরেননি। তাঁর মতে, সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে এই প্রযুক্তি চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে নতুন ওষুধ ও টিকা আবিষ্কার, স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দিতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   এআইয়ের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে কয়েকটি পদক্ষেপের প্রস্তাবও দিয়েছেন গেটস। এর মধ্যে অন্যতম হলো কিছু নির্দিষ্ট কাজকে মানুষের জন্য সংরক্ষিত রাখা। তিনি এই ধারণার নাম দিয়েছেন ‘হিউম্যান রিজার্ভড’। বিশেষ করে এমন কাজ, যেখানে মানুষের সহানুভূতি, সম্পর্ক বোঝার ক্ষমতা ও মানবিক উপস্থিতি অপরিহার্য, সেসব ক্ষেত্রে মানুষকে সরিয়ে না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়া এআই ও রোবটের ওপর কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন গেটস। তাঁর যুক্তি, বর্তমানে একজন কর্মী নিয়োগ করলে প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ধরনের শ্রম কর দিতে হয়, কিন্তু রোবট কেনার ক্ষেত্রে অনেক সময় কর সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে করব্যবস্থা পরোক্ষভাবে মানুষকে বাদ দিয়ে যন্ত্র ব্যবহারে উৎসাহ দিতে পারে। রোবট ও এআই ব্যবহারের ওপর কর আরোপ করলে স্বয়ংক্রিয়করণের গতি কিছুটা কমানোর পাশাপাশি কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অর্থ জোগানো সম্ভব হতে পারে বলে তাঁর মত।   গেটস আরও বলেছেন, এআইয়ের প্রভাব সামলাতে শুধু একটি দেশের নীতি যথেষ্ট নয়। জাতীয় পর্যায়ে নতুন প্রতিষ্ঠান ও নীতিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন। এআই যেহেতু কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা, নির্বাচন, অর্থনীতি ও অবকাঠামোসহ বহু ক্ষেত্রকে একসঙ্গে প্রভাবিত করতে পারে, তাই এসব বিষয়কে আলাদা আলাদাভাবে দেখলে ঝুঁকি মোকাবিলা কঠিন হবে। এআই উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন তিনি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কিছু মাত্রায় সমন্বয় দরকার বলে মনে করেন গেটস। তাঁর মতে, প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু অভিন্ন নীতি ও নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করা উচিত।   এআই নিয়ে নিজের অবস্থানকে গেটস একেবারে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন না। বরং তাঁর বক্তব্য, এখনই ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এই প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য বড় সুফল বয়ে আনতে পারে। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে চাকরি হারানো, সামাজিক অস্থিরতা এবং জনআস্থার সংকট তৈরি হওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অনেক কঠিন হবে। তাঁর ভাষায়, এআইয়ের সুবিধা যেন শুধু ধনী ও প্রভাবশালী মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটি নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্ন পক্ষকে এআই নিয়ে আলোচনায় যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   গেটসের এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে এবং কর্মক্ষেত্রে এর ব্যবহারও বিস্তৃত হচ্ছে। তাঁর মতে, এখনই নীতি নির্ধারণ ও প্রস্তুতি শুরু করা গেলে এআইয়ের সম্ভাব্য সুফল সবার মধ্যে ভাগ করে নেওয়া সম্ভব। আর তা না হলে প্রযুক্তির অগ্রগতি অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।   সংবাদসূত্র: গেটস নোটস, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, নিউইয়র্ক পোস্ট।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
বড় শহরের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি শহরও জায়গা করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা কর্মস্থলের তালিকায়। ছবি: সংগৃহীত
কাজ ও ভালো বেতনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ২৫ শহরের তালিকা প্রকাশ

চাকরি খোঁজা কিংবা ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা শহর হিসেবে উঠে এসেছে ম্যাসাচুসেটসের বোস্টন। চাকরি খোঁজার ওয়েবসাইট ইনডিডের ২০২৬ সালের নতুন এক তালিকায় ২৩৩টি মার্কিন মহানগর এলাকা বিশ্লেষণ করে বোস্টনকে প্রথম স্থান দেওয়া হয়েছে।   ইনডিডের এই প্রথমবারের মতো প্রকাশিত ‘বেস্ট সিটিজ ফর ওয়ার্ক ২০২৬’ তালিকায় শহরগুলোকে শুধু বেতন বা চাকরির সংখ্যা দিয়ে বিচার করা হয়নি। চাকরির সুযোগ, পারিশ্রমিক, চাকরির মান ও নিরাপত্তা, ক্যারিয়ারে অগ্রগতির সুযোগ, কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সুযোগ, এই ছয়টি দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।   ইনডিড ২ লাখ বা তার বেশি জনসংখ্যার মহানগর এলাকাগুলোকে এই বিশ্লেষণের আওতায় নেয়। বিভিন্ন সরকারি ও নিজস্ব তথ্য মিলিয়ে ৪০টির বেশি সূচকের ভিত্তিতে প্রতিটি এলাকার কর্মসংস্থান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। চাকরির সুযোগ ও পারিশ্রমিককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, আর বাকি চারটি বিষয়ও সামগ্রিক ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   বোস্টনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো কোনো একটি সূচকে শুধু এগিয়ে থাকা নয়, বরং সবগুলো ক্ষেত্রেই তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা। ইনডিডের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শহরটি ক্যারিয়ারে অগ্রগতির সুযোগে বিশেষভাবে শক্তিশালী। বড় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং চাকরি পরিবর্তনের সুযোগের ঘনত্ব কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।   বোস্টন মহানগর এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা, পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবা, শিক্ষা ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বড় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক কাজের সুযোগও এখানে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি দূরবর্তী ও আংশিক অফিসভিত্তিক কাজের সুযোগ থাকায় কর্মীদের জন্য নমনীয়তার ক্ষেত্রটিও তুলনামূলক ভালো।   তবে বোস্টনের শীর্ষে থাকার অর্থ এই নয় যে শহরটি প্রতিটি ক্ষেত্রেই সবার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক। জীবনযাত্রার ব্যয়, বিশেষ করে বাসস্থান ও শিশুসেবার খরচ, তুলনামূলক বেশি। ফলে বেশি বেতনের চাকরি থাকলেও বাসস্থান ও অন্যান্য ব্যয় হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। ইনডিডের বিশ্লেষণেও বোস্টনের সামগ্রিক শক্তির পাশাপাশি এসব ব্যয়ের বিষয়টি উঠে এসেছে।   তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি। ক্যারিয়ারে অগ্রগতির সুযোগের দিক থেকে শহরটি প্রথম অবস্থানে রয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বড় নিয়োগদাতা, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন পেশাজীবী খাতের ঘনত্বের কারণে কর্মীদের জন্য চাকরি পরিবর্তন ও ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ এখানে বেশি।   তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের বার্লিংটন। বড় শহরের মতো উচ্চ বেতন না থাকলেও চাকরির সুযোগের দিক থেকে শহরটি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শীর্ষে। তুলনামূলক ছোট শ্রমবাজারে চাকরিপ্রার্থীর চাহিদা বেশি থাকায় কর্মীদের দর-কষাকষির ক্ষমতাও শক্তিশালী বলে ইনডিড জানিয়েছে।   চতুর্থ স্থানে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে। পারিশ্রমিকের দিক থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় মহানগর এলাকা। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক উচ্চ বেতনের চাকরির আধিক্য এর অন্যতম কারণ। পঞ্চম স্থানে রয়েছে সান ফ্রান্সিসকো, যেখানে দূরবর্তী ও আংশিক অফিসভিত্তিক কাজের সুযোগও উল্লেখযোগ্য।   তালিকার পরের দিকে রয়েছে বেশ কয়েকটি মাঝারি আকারের শহর। ষষ্ঠ স্থানে উইসকনসিনের ম্যাডিসন এবং সপ্তম স্থানে মিনেসোটার রচেস্টার। রচেস্টার অর্থনৈতিক সুযোগের সূচকে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মহানগর এলাকাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর করেছে। শহরটি মায়ো ক্লিনিকের জন্যও পরিচিত, যা স্থানীয় কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখে।   অষ্টম স্থানে রয়েছে ওয়াশিংটনের সিয়াটল, নবমে টেক্সাসের অস্টিন এবং দশমে ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিল। শার্লটসভিল চাকরির মান ও নিরাপত্তার সূচকে দেশটির মধ্যে প্রথম হয়েছে। অস্টিন কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য শিশু পরিচর্যার সুযোগ ও ক্যারিয়ার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে রয়েছে।   ইনডিডের তালিকায় আরও দেখা যায়, কর্মসংস্থানের জন্য শুধু নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া বা ওয়াশিংটনের মতো বড় শহরই এগিয়ে নেই। নর্থ ডাকোটার ফার্গো, নেব্রাস্কার ওমাহা, আইওয়ার সিডার র‌্যাপিডস এবং সাউথ ডাকোটার সিওক্স ফলসের মতো তুলনামূলক ছোট মহানগর এলাকাও সেরা ২৫-এর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে।   এতে বোঝা যাচ্ছে, চাকরির বাজারে বড় শহরের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি শহরগুলোর গুরুত্বও বাড়ছে। ছোট শহরগুলোর কিছু এলাকায় চাকরির সুযোগের সঙ্গে তুলনামূলক কম যাতায়াতের চাপ, কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য এবং স্থানীয়ভাবে স্থিতিশীল কর্মসংস্থানের সুবিধা রয়েছে।   ইনডিডের অর্থনীতিবিদদের মতে, কোনো একটি শহর সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী নয়। একজন তরুণ চাকরিপ্রার্থীর জন্য যেখানে দ্রুত ক্যারিয়ার পরিবর্তন ও বেতন বৃদ্ধির সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ, অন্য কারও কাছে কাজের সময়ের নমনীয়তা, যাতায়াত, জীবনযাত্রার ব্যয় বা দীর্ঘমেয়াদি চাকরির নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই তালিকাটি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সম্ভাব্য কর্মস্থল বাছাইয়ের একটি নির্দেশনা হিসেবে দেখা উচিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।   ইনডিডের ২০২৬ সালের সেরা ২৫ শহরের পূর্ণ তালিকায় রয়েছে:   ১. বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস ২. ওয়াশিংটন ডিসি ৩. বার্লিংটন, ভারমন্ট ৪. সান হোসে, ক্যালিফোর্নিয়া ৫. সান ফ্রান্সিসকো, ক্যালিফোর্নিয়া ৬. ম্যাডিসন, উইসকনসিন ৭. রচেস্টার, মিনেসোটা ৮. সিয়াটল, ওয়াশিংটন ৯. অস্টিন, টেক্সাস ১০. শার্লটসভিল, ভার্জিনিয়া ১১. ফার্গো, নর্থ ডাকোটা ১২. ওমাহা, নেব্রাস্কা ১৩. অ্যালবানি, নিউইয়র্ক ১৪. সিডার র‌্যাপিডস, আইওয়া ১৫. মিনিয়াপোলিস, মিনেসোটা ১৬. অ্যান আরবার, মিশিগান ১৭. ডেনভার, কলোরাডো ১৮. হনোলুলু, হাওয়াই ১৯. বোল্ডার, কলোরাডো ২০. সিরাকিউজ, নিউইয়র্ক ২১. বাল্টিমোর, মেরিল্যান্ড ২২. ডারহাম, নর্থ ক্যারোলাইনা ২৩. ম্যানচেস্টার, নিউ হ্যাম্পশায়ার ২৪. কলম্বাস, ওহাইও ২৫. সিওক্স ফলস, সাউথ ডাকোটা।   তবে মূল তালিকায় ১৭ নম্বরে ডেনভার, কলোরাডো থাকার কথা। প্রকাশিত কপিতে এটিকে ভুল করে ‘ডেনভার, মিশিগান’ লেখা হয়েছিল। একইভাবে তালিকাটি মূলত শহরের চেয়ে মহানগর এলাকা বা মেট্রো এলাকা বিবেচনা করে তৈরি করা হয়েছে। সূত্র: ইনডিড, ট্রাভেল + লেজার ও ফোর্বস।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
mature-businessman-walking
যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমী মানুষের বসবাস যেসব অঙ্গরাজ্যে, তালিকা প্রকাশ ওয়ালেটহাবের

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মানুষের কর্মঘণ্টা ও কর্মসংস্থানের বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমী অঙ্গরাজ্যের তালিকা প্রকাশ করেছে ওয়ালেটহাব। তালিকায় দক্ষিণ ডাকোটা শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে উত্তর ডাকোটা, আলাস্কা, হাওয়াই ও ওয়াইওমিং।   ওয়ালেটহাব ১০টি সূচকের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যগুলোকে তুলনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গড় সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা, কর্মসংস্থানের হার, একাধিক চাকরি করা মানুষের সংখ্যা, অব্যবহৃত ছুটির দিন এবং প্রতিদিনের অবসর সময়। সূচকগুলোকে মূলত ‘প্রত্যক্ষ কর্ম-সূচক’ ও ‘পরোক্ষ কর্ম-সূচক’—এই দুই ভাগে বিবেচনা করা হয়েছে।   শীর্ষে দক্ষিণ ডাকোটা   দক্ষিণ ডাকোটা সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমী অঙ্গরাজ্য হিসেবে প্রথম স্থান পেয়েছে। রাজ্যটির প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কর্মী একাধিক চাকরি করেন, যা সারা দেশের মধ্যে ১১তম সর্বোচ্চ হার।   একাধিক চাকরি করার পেছনে আর্থিক প্রয়োজন যেমন থাকতে পারে, তেমনি অতিরিক্ত সময় কাজ করার আগ্রহও এর কারণ হতে পারে বলে জানিয়েছে ওয়ালেটহাব। দক্ষিণ ডাকোটা ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী এমন তরুণদের অনুপাতের দিক থেকেও শীর্ষস্থানীয়, যারা কাজ করেন না, পড়াশোনাও করেন না এবং উচ্চমাধ্যমিকের পর আর কোনো শিক্ষা নেননি।   তবে রাজ্যটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো কর্মসংস্থানের হার। দক্ষিণ ডাকোটায় কর্মসংস্থানের হার প্রায় ৯৮ শতাংশ, যা যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ।   দ্বিতীয় উত্তর ডাকোটা, তৃতীয় আলাস্কা   কঠোর পরিশ্রমী অঙ্গরাজ্যের তালিকায় উত্তর ডাকোটা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ওয়ালেটহাবের হিসাবে, সেখানে কর্মসংস্থানের হার ৯৭ শতাংশের বেশি, যা দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ।   ১৬ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মীরা উত্তর ডাকোটায় গড়ে সপ্তাহে ৩৯ দশমিক ৪ ঘণ্টা কাজ করেন। এই হিসাবে অঙ্গরাজ্যটি সারা দেশে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।   অন্যদিকে আলাস্কা সামগ্রিক তালিকায় তৃতীয় হলেও কর্মঘণ্টার দিক থেকে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে ১৬ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মীরা সপ্তাহে গড়ে ৪১ দশমিক ৪ ঘণ্টা কাজ করেন, যা দেশের সর্বোচ্চ।   আলাস্কাই একমাত্র অঙ্গরাজ্য যেখানে গড় সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা ৪০ ঘণ্টার বেশি। তুলনায় ওয়াশিংটন ডিসিতে গড় কর্মঘণ্টা ৪০ ঘণ্টা। অর্থাৎ আলাস্কার কর্মীরা সপ্তাহে গড়ে আরও ১ দশমিক ৪ ঘণ্টা বেশি কাজ করেন।   শীর্ষ পাঁচে হাওয়াই ও ওয়াইওমিং   ওয়ালেটহাবের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে হাওয়াই এবং পঞ্চম অবস্থানে ওয়াইওমিং। কর্মঘণ্টা, কর্মসংস্থানের হার, একাধিক চাকরি এবং অবসর সময়সহ বিভিন্ন সূচকে তাদের অবস্থান বিবেচনা করেই সামগ্রিক র‌্যাংকিং তৈরি করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্কৃতি কতটা কঠোর?   ওয়ালেটহাবের তথ্য অনুযায়ী, একজন মার্কিন কর্মী বছরে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ঘণ্টা কাজ করেন। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তথ্য উদ্ধৃত করে ওয়ালেটহাব জানিয়েছে, এই সময় জার্মানির কর্মীদের তুলনায় বছরে প্রায় ৪৬৮ ঘণ্টা বেশি, তবে মেক্সিকোর কর্মীদের তুলনায় ৪০৫ ঘণ্টা কম।   শুধু কর্মঘণ্টাই নয়, ছুটির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্কৃতিতে দীর্ঘ সময় কাজ করার প্রবণতা দেখা যায়। ওয়ালেটহাবের হিসাবে, দেশটির প্রায় অর্ধেক কর্মীই তাদের জন্য বরাদ্দ সব ছুটির দিন ব্যবহার করতে পারবেন বলে মনে করেন না।   ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো বলেন, কঠোর পরিশ্রম করা প্রশংসনীয় হলেও সবচেয়ে বেশি কাজ করা অঙ্গরাজ্যগুলোর মানুষের মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত অবসর না থাকলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।   সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমী ৫ অঙ্গরাজ্য   ১. দক্ষিণ ডাকোটা ২. উত্তর ডাকোটা ৩. আলাস্কা ৪. হাওয়াই ৫. ওয়াইওমিং   অর্থাৎ, শুধু বেশি ঘণ্টা কাজ করাই নয়—উচ্চ কর্মসংস্থানের হার, একাধিক চাকরি করার প্রবণতা, কম অবসর সময়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আর সেই সামগ্রিক বিচারে দক্ষিণ ডাকোটাই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমী অঙ্গরাজ্য হিসেবে উঠে এসেছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ম্যাককেসন
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ম্যাককেসনে শত শত চাকরি, বাংলাদেশিদের জন্য যেসব সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ম্যাককেসন। ১৩ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৩৬৩টি পদে কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী ম্যাককেসনের মোট ৫৩৯টি পদে নিয়োগ কার্যক্রম চলছে।   বর্তমান নিয়োগে ডিস্ট্রিবিউশন অপারেশন, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসা ও কৌশল, গ্রাহকসেবা, ফার্মেসি, চিকিৎসা ও চিকিৎসা গবেষণা, অর্থ ও হিসাব এবং বিপণন ও বিক্রয়সহ বিভিন্ন বিভাগে কর্মী নেওয়া হচ্ছে।   সবচেয়ে বেশি নিয়োগ চলছে ডিস্ট্রিবিউশন অপারেশন বিভাগে। এই বিভাগে ১১৫টি পদে কর্মী নিচ্ছে ম্যাককেসন। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিতে ৬৭টি, ব্যবসা ও কৌশলে ৩৯টি, গ্রাহকসেবা ও সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায় ৩২টি, অর্থ ও হিসাব বিভাগে ৩১টি, বিপণন ও বিক্রয়ে ২২টি, ফার্মেসিতে ১৬টি এবং চিকিৎসা ও চিকিৎসা গবেষণায় ১৪টি পদে নিয়োগ চলছে।   বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি আগ্রহের হতে পারে ওয়্যারহাউস ও ডিস্ট্রিবিউশন-সংক্রান্ত চাকরিগুলো। জর্জিয়ার এলাবেল ও বুফোর্ড, টেক্সাসের গ্রেপভাইন ও হিউস্টন, ক্যালিফোর্নিয়ার চিনো ও রোজভিল, ভার্জিনিয়ার ক্লিয়ার ব্রুক, নিউ জার্সির রবিনসভিল এবং মিসৌরির কানসাস সিটি ও ও’ফ্যালনসহ বিভিন্ন শহরে ওয়্যারহাউস কর্মী নিয়োগ করছে প্রতিষ্ঠানটি।   ডেলিভারি পেশাতেও কর্মী নিচ্ছে ম্যাককেসন। অ্যারিজোনার টলেসনে ১২ আগস্ট নতুন করে ডেলিভারি প্রফেশনাল–পার্সেল ভ্যান পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। নিউ জার্সি ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও ডেলিভারি-সংক্রান্ত পদে নিয়োগ চলছে। এসব পদের ক্ষেত্রে সাধারণত বৈধ ড্রাইভার লাইসেন্স, গ্রহণযোগ্য ড্রাইভিং রেকর্ড এবং নির্দিষ্ট শারীরিক সক্ষমতার শর্ত থাকতে পারে।   অফিসভিত্তিক কাজ বা গ্রাহকসেবায় আগ্রহীদের জন্যও রয়েছে একাধিক সুযোগ। কাস্টমার সার্ভিস রিপ্রেজেন্টেটিভ, কাস্টমার অনবোর্ডিং স্পেশালিস্ট, অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার এবং গ্রাহক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পদে কর্মী নেওয়া হচ্ছে। টেক্সাসের আরভিংয়ে ১২ আগস্ট কাস্টমার অনবোর্ডিং স্পেশালিস্ট এবং ১০ আগস্ট অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার পদে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।   তথ্যপ্রযুক্তিতে অভিজ্ঞ বাংলাদেশিদের জন্যও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সুযোগ। সফটওয়্যার ডেভেলপার, ফুল-স্ট্যাক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ডেটা ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিক্যাল আর্কিটেক্ট এবং বিভিন্ন ডিজিটাল ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা পদে নিয়োগ দিচ্ছে ম্যাককেসন। টেক্সাসের আরভিং ও ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট একাধিক পদে কর্মী নেওয়া হচ্ছে।   ফার্মেসি ও স্বাস্থ্যসেবা খাতেও নিয়োগ চলছে। নিউ জার্সির ডেলরান টাউনশিপে ফার্মাসিস্ট, নর্থ ক্যারোলিনায় রিইম্বার্সমেন্ট কেস ম্যানেজার এবং বিভিন্ন স্থানে রোগী সহায়তা ও ক্লিনিক্যাল-সংক্রান্ত পদে কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে। তবে এসব চাকরির অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের পেশাগত লাইসেন্স, যুক্তরাষ্ট্রে স্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হতে পারে।   বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রে কাজের বৈধ অনুমতি। ম্যাককেসনের সব পদে বিদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা স্পনসরশিপ দেওয়া হয় না। প্রতিষ্ঠানটির বেশ কিছু বর্তমান চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীকে কোম্পানির ইমিগ্রেশন স্পনসরশিপ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণকালীন কাজ করার বৈধ অনুমতি থাকার শর্ত দেওয়া হয়েছে।   ফলে মার্কিন নাগরিক, গ্রিন কার্ডধারী, বৈধ ওয়ার্ক পারমিটধারী অথবা অন্য কোনো বৈধ ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতি থাকা বাংলাদেশিরা যোগ্যতা অনুযায়ী এসব চাকরিতে আবেদন করতে পারেন। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি আবেদন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট পদে ভিসা স্পনসরশিপের সুযোগ রয়েছে কি না, সেটি অবশ্যই আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।   ম্যাককেসনের কর্মসংস্থানের সুযোগ আগামী কয়েক বছরে আরও বাড়তে পারে। ওকলাহোমার মুর শহরে ৩ লাখ ৩০ হাজার বর্গফুটের নতুন একটি আঞ্চলিক বিতরণকেন্দ্র নির্মাণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। গত ২৪ জুন প্রকল্পটির ঘোষণা দেয় ওকলাহোমা ডিপার্টমেন্ট অব কমার্স।   নতুন কেন্দ্রটিতে প্রাথমিকভাবে ২০০-এর বেশি সরাসরি চাকরি তৈরি হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হলে সরাসরি ও পরোক্ষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মিলিয়ে প্রায় ৬৩৩টি কর্মসংস্থানের প্রভাব তৈরি হতে পারে। তবে এই ৬৩৩টির সবই ম্যাককেসনের সরাসরি চাকরি নয়।   চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ প্রতারণা সম্পর্কেও সতর্ক করেছে ম্যাককেসন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চাকরির আবেদন বা নিয়োগের নামে তাদের নিয়োগ কর্মকর্তারা কখনো অর্থ বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চান না। সাধারণ জিমেইল বা হটমেইল ঠিকানা কিংবা অনলাইন চ্যাটরুম ব্যবহার করেও আনুষ্ঠানিক নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় না।   সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকা বাংলাদেশিদের জন্য ম্যাককেসনের বর্তমান নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। উচ্চ দক্ষতার প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা পদের পাশাপাশি ওয়্যারহাউস, ডেলিভারি এবং গ্রাহকসেবার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রেও চাকরি রয়েছে। তবে চাকরির তালিকা নিয়মিত পরিবর্তিত হওয়ায় আবেদন করার আগে পদের অবস্থান, যোগ্যতা, বেতন, কাজের সময়, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স এবং ইমিগ্রেশন বা ভিসা স্পনসরশিপের শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে জুলাইয়ে কর্মসংস্থান কমেছে ২৩ হাজার, বেকারত্বের হার নেমেছে ৪.১ শতাংশে। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে দুর্বলতার ইঙ্গিত, জুলাইয়ে কর্মসংস্থান কমেছে।

চাকরিপ্রার্থীদের সরাসরি নিয়োগদাতা ও কর্মসংস্থান সহায়তা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে কুইন্সে চাকরি নিয়োগ মেলা আয়োজন করতে যাচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি। অনুষ্ঠানটি ২৫ আগস্ট ২০২৬, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।   অনুষ্ঠানের স্থান দ্য গ্রেটার অ্যালেন এএমই ক্যাথেড্রাল অব নিউইয়র্ক, ১১০-৩১ মেরিক বুলেভার্ড, কুইন্স। এখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ, নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, কর্মদক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত সহায়তা পাওয়া যাবে।   চাকরিপ্রার্থীদের আগেভাগে নিবন্ধন করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে পরিপাটি পেশাগত পোশাক, ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র এবং কয়েক কপি জীবনবৃত্তান্ত সঙ্গে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। কিছু নিয়োগদাতা ঘটনাস্থলেই সাক্ষাৎকার নিতে পারেন।   আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের চাকরির সুযোগের পাশাপাশি জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, চাকরির আবেদন এবং কর্মজীবন উন্নয়ন সম্পর্কিত সহায়তাও পাওয়া যাবে।   নিউইয়র্ক সিটি বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের চাকরির মেলার মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে নতুন চাকরি খুঁজছেন এমন ব্যক্তি ও কর্মজীবন পরিবর্তনে আগ্রহীদের জন্য এসব আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে।  

Unknown আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় মানুষের স্থানান্তর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার হিড়িক, কেন অ্যারিজোনার দিকে ছুটছেন হাজারো পরিবার?

ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় মানুষের স্থানান্তর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত অভ্যন্তরীণ অভিবাসন প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। উচ্চ আবাসন ব্যয়, তুলনামূলক বেশি রাজ্য আয়কর এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগের কারণে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক পরিবার ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে অ্যারিজোনায় বসতি গড়ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর জনসংখ্যা ও অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের তথ্যেও দুই রাজ্যের বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে ক্যালিফোর্নিয়া জনসংখ্যা হারাচ্ছে, অন্যদিকে অ্যারিজোনা দ্রুত জনসংখ্যা বাড়ানো রাজ্যগুলোর একটি হয়ে উঠছে।   ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এগুলো হলো রাজ্য আয়কর, বাড়ির দাম এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ।   প্রথম কারণ, আয়করের বড় পার্থক্য   ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যক্তিগত আয়কর আয়ের স্তর অনুযায়ী ১ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত। এর পাশাপাশি ১০ লাখ ডলারের বেশি করযোগ্য আয়ের ওপর অতিরিক্ত ১ শতাংশ কর রয়েছে। ফলে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রাজ্য আয়করের হার দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে, অ্যারিজোনায় ২০২৩ সাল থেকে ব্যক্তিগত আয়করের সমতল হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য দুই রাজ্যের আয়করের ব্যবধান বেশ বড়।   তবে শুধু আয়কর দিয়েই একজন মানুষের মোট করের বোঝা নির্ধারিত হয় না। বাড়ির দাম, সম্পত্তি কর, বিক্রয় কর, বাড়ির বীমা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয়ও হিসাব করতে হয়। তারপরও ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনায় কম রাজ্য আয়কর অ্যারিজোনাকে অনেক পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।   দ্বিতীয় কারণ, তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ   ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ আবাসন ব্যয়। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ডিয়েগো, অরেঞ্জ কাউন্টি ও সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকার মতো ব্যয়বহুল অঞ্চলের তুলনায় অ্যারিজোনার অনেক এলাকায় একই বাজেটে বড় বাড়ি কেনা সম্ভব। রিয়েল এস্টেট কোম্পানি রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার বড় শহর ও মহানগর এলাকাগুলোতে বাড়ির দাম দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিপরীতে ফিনিক্স ও টুসনের মতো অ্যারিজোনার বড় শহরগুলোতে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে।   তবে দুই রাজ্যের বাড়ির দাম সরাসরি তুলনা করার সময় শহর ও এলাকার পার্থক্য বিবেচনায় নিতে হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার সব এলাকার বাড়ির দাম যেমন সমান নয়, তেমনি অ্যারিজোনার সব এলাকাও সস্তা নয়। তারপরও ক্যালিফোর্নিয়ার উচ্চ আবাসন ব্যয় বহু পরিবারকে অন্য রাজ্যে যাওয়ার কথা ভাবতে বাধ্য করছে। অ্যারিজোনায় তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার পাশাপাশি অনেক পরিবার কম মাসিক ঋণের কিস্তির সুবিধাও পাচ্ছে।   তৃতীয় কারণ, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থান   অ্যারিজোনার আকর্ষণ শুধু কম আবাসন ব্যয় বা কম করের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাজ্যটি দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও অর্ধপরিবাহী শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। তাইওয়ানের অর্ধপরিবাহী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি অ্যারিজোনার ফিনিক্স এলাকায় বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। কোম্পানিটি সেখানে তিনটি কারখানা নির্মাণের জন্য ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।   এর মধ্যে প্রথম কারখানায় ৪ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। পরবর্তী কারখানাগুলো চালু হলে অ্যারিজোনায় উন্নত প্রযুক্তির অর্ধপরিবাহী উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রযুক্তি জায়ান্ট ইন্টেলও অ্যারিজোনার চ্যান্ডলারে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে দুটি নতুন অর্ধপরিবাহী কারখানা নির্মাণের প্রকল্প নিয়েছে।   এসব বিনিয়োগের ফলে শুধু কারখানায় সরাসরি চাকরি নয়, প্রকৌশল, নির্মাণ, সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন, প্রযুক্তি ও অন্যান্য সহযোগী খাতেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।   ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার প্রবণতা অবশ্য নতুন নয়   ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অন্য রাজ্যে মানুষের চলে যাওয়ার প্রবণতা কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে। উচ্চ আবাসন ব্যয়, জীবনযাত্রার খরচ, কর এবং কিছু ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের অবস্থান পরিবর্তন এর পেছনে ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে অ্যারিজোনা, টেক্সাস, নেভাদা ও ফ্লোরিডার মতো রাজ্যগুলো তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের কারণে নতুন বাসিন্দাদের আকর্ষণ করছে।   তবে অ্যারিজোনায় মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানেও আবাসনের চাহিদা ও দাম বাড়ছে। পানি, পরিবহন, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য অবকাঠামোর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে শুধু কম কর বা কম বাড়ির দামের হিসাব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। পরিবারের আয়, চাকরির ধরন, দূর থেকে কাজের সুযোগ, সন্তানদের শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনাও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   তারপরও সাম্প্রতিক বছরগুলোর অভ্যন্তরীণ জনসংখ্যা স্থানান্তরের চিত্রে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনার দিকে মানুষের আগমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা হিসেবে উঠে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার উচ্চ আবাসন ব্যয় ও করের চাপের বিপরীতে অ্যারিজোনার তুলনামূলক কম রাজ্য আয়কর, আবাসনের সুযোগ এবং প্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগ অনেক পরিবারের কাছে নতুন করে বসতি গড়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কর্মসংস্থানের বড় অংশ পেয়েছেন নারী কর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সৃষ্ট নতুন চাকরির প্রায় ৯০ শতাংশই পেয়েছেন নারীরা, কারণ জানালেন অর্থনীতিবিদ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সৃষ্টি হওয়া নতুন চাকরির বড় অংশই নারীদের দখলে গেছে। নতুন এক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার নতুন নন-ফার্ম বেতনভুক্ত চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৬ শতাংশ, অর্থাৎ ৪ লাখ ৩ হাজার চাকরি পেয়েছেন নারী কর্মীরা। পুরুষদের ভাগে এসেছে মাত্র ৬৫ হাজার চাকরি।   অর্থনীতিবিদ জাস্টিন উলফার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের মূল কারণ কর্মসংস্থানের ধারা। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে যেখানে ঐতিহাসিকভাবেই নারী কর্মীর সংখ্যা বেশি। ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুবিধাও তুলনামূলকভাবে নারীরাই বেশি পেয়েছেন।   বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নন-ফার্ম খাতে কর্মরত নারীর সংখ্যা পুরুষদের চেয়ে সামান্য বেশি। দেশটির ইতিহাসে এটি মাত্র তৃতীয়বারের মতো ঘটল। ১৯৭০ সালে একই খাতে পুরুষ কর্মীর সংখ্যা নারীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল। তবে গত পাঁচ দশকে ধীরে ধীরে সেই ব্যবধান কমে এসে এখন উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। নন-ফার্ম কর্মসংস্থানের হিসাবের বাইরে কৃষি খাতের চাকরি রাখা হয়।   উলফার্সের মতে, এটি নারীদের প্রতি নিয়োগদাতাদের বিশেষ পক্ষপাতের ফল নয়। বরং অর্থনীতির যে খাতগুলো দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, সেগুলোতেই আগে থেকেই নারী কর্মীর আধিক্য ছিল। তার বিশ্লেষণে দেখা যায়, নারী-প্রধান শিল্পখাতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে ৮ লাখ ২৮ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। বিপরীতে পুরুষ-প্রধান খাতে ২ লাখ ১৮ হাজার এবং তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ খাতে ১ লাখ ৪২ হাজার চাকরি কমেছে।   বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মসংস্থান দ্রুত বেড়েছে। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই খাতে কর্মরতদের ৭৫ শতাংশের বেশি ছিলেন নারী। ফলে নতুন নিয়োগের বড় অংশও স্বাভাবিকভাবেই নারীদের ঝুলিতে গেছে।   অর্থনীতিবিদ উলফার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখন ক্রমেই সেবাভিত্তিক হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিচর্যা, শিক্ষা এবং বয়স্কদের সেবার মতো খাতে চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একটি দেশ যখন আরও সমৃদ্ধ, উৎপাদনশীল এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীসমৃদ্ধ হয়, তখন অর্থনীতিতে এ ধরনের পরিবর্তন স্বাভাবিক।   তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় অংশের মানুষ কৃষি ও উৎপাদনশিল্পে কাজ করলেও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারণে এখন অনেক কম শ্রমিক দিয়েই একই বা তার চেয়ে বেশি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। ফলে শ্রমশক্তি ধীরে ধীরে সেবা খাতে স্থানান্তরিত হচ্ছে। আধুনিক কারখানা ও খামারে যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের ধরণও বদলে যাচ্ছে।   উলফার্সের ভাষায়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে যে খাতগুলো সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে, সেগুলোকে অনেক সময় "পিঙ্ক-কলার অর্থনীতি" বলা হয়। এসব পেশায় ঐতিহাসিকভাবে নারীদের অংশগ্রহণ বেশি এবং এখনও পুরুষদের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে পুরুষদের কর্মসংস্থানও বাড়াতে হলে দ্রুত সম্প্রসারিত এসব খাতে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
কারখানা স্থাপন। ছবি:সংগৃহীত
জর্জিয়ায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের নতুন কারখানা, তৈরি হবে ৫০০ কর্মসংস্থান

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ম্যাকন-বিব কাউন্টিতে ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের নতুন উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগ করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উৎপাদন প্রতিষ্ঠান ইউনিফাইড লিগ্যাসি । এই প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে ৫০০ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।   কোম্পানির নতুন কারখানাটি ম্যাকনের বার্নস ফেরি রোডে নির্মিত হবে। এখানে প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, ডেটা সেন্টার এবং শিল্প খাতের জন্য উচ্চ-নির্ভুলতার ধাতব যন্ত্রাংশ, জেনারেটর এনক্লোজার, জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক, ওয়েল্ডেড অ্যাসেম্বলি এবং অন্যান্য বিশেষায়িত সরঞ্জাম উৎপাদন করা হবে। নির্মাণকাজ ২০২৬ সালেই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।   ইউনিফাইড লিগ্যাসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরিক উইলিয়ামস বলেন, মধ্য জর্জিয়ার দক্ষ জনশক্তি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের ওপর আস্থা রেখেই এই বিনিয়োগ করা হচ্ছে। নতুন কারখানার মাধ্যমে কোম্পানির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে এবং আরও বড় ও জটিল প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।   নতুন এই প্রকল্পে উৎপাদন, দক্ষ কারিগরি, প্রকৌশল, লজিস্টিকস, মান নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।   জর্জিয়ার গভর্নর ব্রায়ান কেম্প বলেন, এই বিনিয়োগ প্রমাণ করে যে শক্তিশালী জনশক্তি, উন্নত অবকাঠামো এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের কারণে জর্জিয়া উৎপাদনশিল্পের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। তার মতে, দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় এ ধরনের বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।    ইউনিফাইড লিগ্যাসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনিফাইড ডিফেন্স ২০২২ সাল থেকে জর্জিয়ার বাইরন শহরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নতুন এই বিনিয়োগের মাধ্যমে কোম্পানিটি মধ্য জর্জিয়ায় তাদের কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জর্জিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট, ম্যাকন-বিব কাউন্টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল অথরিটি এবং জর্জিয়া পাওয়ার যৌথভাবে কাজ করছে।

Unknown আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে আকাশছোঁয়া মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে দিশেহারা মানুষ, বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে একাধিক কাজ
যুক্তরাষ্ট্রে আকাশছোঁয়া মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে দিশেহারা মানুষ, বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে একাধিক কাজ

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকলেও বর্তমানে কেবল একটি চাকরির আয় দিয়ে স্বচ্ছন্দে জীবন যাপন করা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়েছে। বাড়িভাড়া, খাবার, স্বাস্থ্যসেবা ও গাড়িসহ দৈনন্দিন অন্যান্য খরচের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সামাল দিতে গিয়ে আমেরিকানরা এখন তাদের মূল পেশার পাশাপাশি দ্বিতীয় আয়ের পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।   ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক চিত্র। জরিপ অনুযায়ী, দেশটির ৫৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক মনে করেন যে, আগের বছরের তুলনায় ক্রমাগত বাড়তে থাকা পণ্যের দাম তাদের আর্থিক অবস্থাকে চরম নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে। এমনকি ১৬ শতাংশ মানুষ আগের মাসের সব বিল পরিশোধ করতেও ব্যর্থ হয়েছেন।   এই তীব্র আর্থিক চাপের কারণে অনেকেই এখন সন্ধ্যার পর বা সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে অতিরিক্ত কাজ করছেন। বাড়তি আয়ের আশায় কেউ রাইড শেয়ারিং বা খাবার ডেলিভারির কাজ করছেন, আবার কেউবা ফ্রিল্যান্সিং ও বিভিন্ন খণ্ডকালীন পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকদের জন্য এখন আর শুধু আয় বাড়ানোই মূল লক্ষ্য নয়, বরং প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার খরচের সঙ্গে কোনোমতে তাল মিলিয়ে চলাই পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের তথ্যে আরও জানা যায়, গত এক বছরে ৫৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অন্তত একটি বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত খরচের মুখোমুখি হয়েছেন। অন্যদিকে, ৪০০ ডলারের মতো জরুরি খরচ সহজে সামলাতে পারবেন—এমন মানুষের সংখ্যা মাত্র ৬৩ শতাংশ। সার্বিক পরিস্থিতি থেকে এটি স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্রে এখন দ্বিতীয় চাকরি আর কোনো বাড়তি আয়ের শখ বা সুবিধা নয়, বরং ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার এক অনিবার্য উপায় হয়ে উঠেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থানের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছেন লেসলি সোনেনক্লার। ছবি: সংগৃহীত
৩২ বছরের অভিজ্ঞতাই যখন বড় বাধা: ৩০০ প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেও চাকরি পাচ্ছেন না ৫৫ বছর বয়সী মার্কিন পেশাজীবী

সুদীর্ঘ তিন দশকের পেশাগত সাফল্য, বিশাল অভিজ্ঞতা এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের দক্ষতা যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই যা হওয়ার কথা ছিল সবচেয়ে বড় সম্পদ। অথচ বর্তমান বিশ্বব্যাপী পরিবর্তিত শ্রমবাজারে সেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ বছর বয়সী মার্কিন যোগাযোগের মাধ্যম ও বিষয়বস্তু (কন্টেন্ট) বিশেষজ্ঞ লেসলি সোনেনক্লারের জন্য। গত বছরের মার্চ মাসে চাকরি হারানোর পর টানা ১৪ মাসে তিনি ৩০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করেছেন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নিজের এই হতাশাজনক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন আমেরিকার এরিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরের বাসিন্দা লেসলি। পেশাগত জীবনে এত বড় ধাক্কা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি তিনি এর আগে কখনো হননি। ১৯৯৪ সালে একজন বিপণন সমন্বয়ক (মার্কেটিং কোঅর্ডিনেটর) হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন লেসলি। পরবর্তীতে তিনি টানা ১১ বছর নিজস্ব ব্যবসা সফলভাবে পরিচালনা করেন এবং সম্প্রতি একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় বিষয়বস্তু ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান বা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু অর্থনৈতিক মন্দা ও প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের প্রবাহে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তিনি চাকরিচ্যুত হন।   চাকরি হারানোর পর থেকে নতুন কর্মসংস্থানের জন্য লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই অভিজ্ঞ নারী। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় নিজের অভিজ্ঞতা পুনর্মূল্যায়ন করে প্রতিটি আবেদনের জন্য আলাদা ‘জীবনবৃত্তান্ত’ (রিজিউমি) তৈরি করেছেন। পেশাদার নেটওয়ার্ক লিংকডইন থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এমনকি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের পদ মর্যাদার চাকরির জন্যও আবেদন করতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। তবুও বারবার তিনি উপেক্ষিত হয়েছেন।   নিজের এই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লেসলি বিজনেস ইনসাইডারকে বলেন, “চাকরির বিজ্ঞাপনে দেখা যায় শত শত মানুষ আবেদন করছেন। লিংকডইনে যখন দেখি এক একটি পদের জন্য শতাধিক আবেদন জমা পড়েছে, তখন ভাইভা বা সাক্ষাতকারের আগেই মনে হয় আমার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। কোম্পানিগুলো অভিজ্ঞতা চায় ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে তারা এমন এক অদ্ভুত যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী খোঁজে যিনি একই সাথে কৌশল তৈরি করবেন, লেখালেখি করবেন, এসইও সামলাবেন, আবার ডিজাইনও করবেন। একজন জ্যেষ্ঠ পেশাজীবীর ক্ষেত্রে সব বিষয়ে একসাথে সর্বগুণসম্পন্ন হওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে না।”   লেসলির ধারণা, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তার বয়সই প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। অনেক নিয়োগকারী সংস্থাই তাকে জীবনবৃত্তান্তে পুরো ৩২ বছরের অভিজ্ঞতার কথা না লিখে কেবল শেষ ১০ বছরের কাজের বিবরণ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা ও বয়সভিত্তিক বৈষম্য (এজইজম) এখন স্পষ্ট। প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় বয়স কম এমন তরুণ কর্মীদের কম বেতনে নিয়োগ দিয়ে নিজের মতো গড়ে নিতে পছন্দ করে, যা জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের সুযোগ সংকুচিত করে দিচ্ছে।   প্রথমে শুধুমাত্র ঘরে বসে বা দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে (রিমোট জব) কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও, দীর্ঘ ৯ মাস পর বাধ্য হয়ে নিজের এলাকার স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে সরাসরি কাজের আবেদন শুরু করেন লেসলি। অনলাইনে সরাসরি আবেদনের চেয়ে পরিচিতদের মাধ্যমে বা রেফারেন্সে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘদিনের পরিচিত ও সহকর্মীদের অনেকেই এখন আর মেসেজের জবাব দেন না, যা তাকে মানসিকভাবে আরও ভেঙে ফেলছে।   তবে দীর্ঘ সময় বেকার থাকলেও আগাম আর্থিক পরিকল্পনার কারণে লেসলির অবসরকালীন ফান্ড বা বর্তমান জীবনযাত্রায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি। তিনি আগে থেকেই সঞ্চয়মুখী হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে টানা এক বছর ধরে অবসরকালীন তহবিলে জমা করতে না পারায় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে খানিকটা চিন্তা থেকে যাচ্ছে।   এত সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করছেন এই প্রবীণ পেশাজীবী। তার বিশ্বাস, এটি একটি সাময়িক বিপর্যয় মাত্র এবং দ্রুতই তিনি তার যোগ্যতার মর্যাদা পাবেন। এই ঘটনাটি শুধু লেসলির একার নয়, বরং বিশ্বজুড়ে অভিজ্ঞ ও বয়স্ক কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে যে বৈষম্য ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, এটি তারই একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০