সুদীর্ঘ তিন দশকের পেশাগত সাফল্য, বিশাল অভিজ্ঞতা এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের দক্ষতা যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই যা হওয়ার কথা ছিল সবচেয়ে বড় সম্পদ। অথচ বর্তমান বিশ্বব্যাপী পরিবর্তিত শ্রমবাজারে সেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ বছর বয়সী মার্কিন যোগাযোগের মাধ্যম ও বিষয়বস্তু (কন্টেন্ট) বিশেষজ্ঞ লেসলি সোনেনক্লারের জন্য। গত বছরের মার্চ মাসে চাকরি হারানোর পর টানা ১৪ মাসে তিনি ৩০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করেছেন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নিজের এই হতাশাজনক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন আমেরিকার এরিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরের বাসিন্দা লেসলি। পেশাগত জীবনে এত বড় ধাক্কা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি তিনি এর আগে কখনো হননি। ১৯৯৪ সালে একজন বিপণন সমন্বয়ক (মার্কেটিং কোঅর্ডিনেটর) হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন লেসলি। পরবর্তীতে তিনি টানা ১১ বছর নিজস্ব ব্যবসা সফলভাবে পরিচালনা করেন এবং সম্প্রতি একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় বিষয়বস্তু ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান বা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু অর্থনৈতিক মন্দা ও প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের প্রবাহে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তিনি চাকরিচ্যুত হন। চাকরি হারানোর পর থেকে নতুন কর্মসংস্থানের জন্য লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই অভিজ্ঞ নারী। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় নিজের অভিজ্ঞতা পুনর্মূল্যায়ন করে প্রতিটি আবেদনের জন্য আলাদা ‘জীবনবৃত্তান্ত’ (রিজিউমি) তৈরি করেছেন। পেশাদার নেটওয়ার্ক লিংকডইন থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এমনকি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের পদ মর্যাদার চাকরির জন্যও আবেদন করতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। তবুও বারবার তিনি উপেক্ষিত হয়েছেন। নিজের এই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লেসলি বিজনেস ইনসাইডারকে বলেন, “চাকরির বিজ্ঞাপনে দেখা যায় শত শত মানুষ আবেদন করছেন। লিংকডইনে যখন দেখি এক একটি পদের জন্য শতাধিক আবেদন জমা পড়েছে, তখন ভাইভা বা সাক্ষাতকারের আগেই মনে হয় আমার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। কোম্পানিগুলো অভিজ্ঞতা চায় ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে তারা এমন এক অদ্ভুত যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী খোঁজে যিনি একই সাথে কৌশল তৈরি করবেন, লেখালেখি করবেন, এসইও সামলাবেন, আবার ডিজাইনও করবেন। একজন জ্যেষ্ঠ পেশাজীবীর ক্ষেত্রে সব বিষয়ে একসাথে সর্বগুণসম্পন্ন হওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে না।” লেসলির ধারণা, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তার বয়সই প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। অনেক নিয়োগকারী সংস্থাই তাকে জীবনবৃত্তান্তে পুরো ৩২ বছরের অভিজ্ঞতার কথা না লিখে কেবল শেষ ১০ বছরের কাজের বিবরণ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা ও বয়সভিত্তিক বৈষম্য (এজইজম) এখন স্পষ্ট। প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় বয়স কম এমন তরুণ কর্মীদের কম বেতনে নিয়োগ দিয়ে নিজের মতো গড়ে নিতে পছন্দ করে, যা জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের সুযোগ সংকুচিত করে দিচ্ছে। প্রথমে শুধুমাত্র ঘরে বসে বা দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে (রিমোট জব) কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও, দীর্ঘ ৯ মাস পর বাধ্য হয়ে নিজের এলাকার স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে সরাসরি কাজের আবেদন শুরু করেন লেসলি। অনলাইনে সরাসরি আবেদনের চেয়ে পরিচিতদের মাধ্যমে বা রেফারেন্সে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘদিনের পরিচিত ও সহকর্মীদের অনেকেই এখন আর মেসেজের জবাব দেন না, যা তাকে মানসিকভাবে আরও ভেঙে ফেলছে। তবে দীর্ঘ সময় বেকার থাকলেও আগাম আর্থিক পরিকল্পনার কারণে লেসলির অবসরকালীন ফান্ড বা বর্তমান জীবনযাত্রায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি। তিনি আগে থেকেই সঞ্চয়মুখী হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে টানা এক বছর ধরে অবসরকালীন তহবিলে জমা করতে না পারায় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে খানিকটা চিন্তা থেকে যাচ্ছে। এত সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করছেন এই প্রবীণ পেশাজীবী। তার বিশ্বাস, এটি একটি সাময়িক বিপর্যয় মাত্র এবং দ্রুতই তিনি তার যোগ্যতার মর্যাদা পাবেন। এই ঘটনাটি শুধু লেসলির একার নয়, বরং বিশ্বজুড়ে অভিজ্ঞ ও বয়স্ক কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে যে বৈষম্য ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, এটি তারই একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।
নিউইয়র্কে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আবারও সরাসরি নিয়োগের সুযোগ নিয়ে আসছে Jobs NYC। শহরের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন নিয়োগদাতার অংশগ্রহণে ম্যানহাটন ও ব্রঙ্কসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুটি বড় চাকরি মেলা, যেখানে আবেদনকারীরা নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগও পাবেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম PIX11 জানিয়েছে, Jobs NYC-এর উদ্যোগে আয়োজিত এসব চাকরি মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটির সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। কিছু ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থীদের ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক সাক্ষাৎকার নেওয়া হতে পারে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের অবশ্যই একটি বৈধ ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র এবং জীবনবৃত্তান্তের (রেজ্যুমে) একাধিক কপি সঙ্গে আনতে হবে। পাশাপাশি পেশাদার বা ব্যবসায়িক পোশাক পরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে নিয়োগদাতাদের সামনে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করা যায়। প্রথম চাকরি মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আপার ম্যানহাটন Workforce1 Career Center, ২১৫ ওয়েস্ট ১২৫তম স্ট্রিটে। এই আয়োজনটি মূলত গ্রাহকসেবা-সংশ্লিষ্ট চাকরির ওপর গুরুত্ব দেবে। অনলাইনে অগ্রিম নিবন্ধনের সব টিকিট শেষ হয়ে গেলেও আয়োজকরা জানিয়েছেন, নিবন্ধন ছাড়াই সরাসরি উপস্থিত হয়ে অংশ নেওয়া যাবে। এই চাকরি মেলায় ক্যাশিয়ার, ফ্রন্ট ডেস্ক ক্লার্ক, ব্যাংক টেলার এবং ডিসপ্যাচারসহ বিভিন্ন পদের জন্য নিয়োগদাতারা প্রার্থী খুঁজবেন। দ্বিতীয় চাকরি মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে ২৮ জুলাই সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ব্রঙ্কসের BronxWorks Classic Community Center, ২৮৬ ইস্ট ১৫৬তম স্ট্রিটে। তবে দুপুর ১টার পর প্রবেশের সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। এই আয়োজনে নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা সম্ভাব্য কর্মী নিয়োগের জন্য উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া কর্মসংস্থান উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিবন্ধনের সুযোগও থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের চাকরি মেলা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে। কারণ এখানে নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়, জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়া যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে একই দিনেই প্রাথমিক সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হয়, যা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত এগিয়ে নিতে সহায়তা করে। যারা নিউইয়র্কে নতুন চাকরি খুঁজছেন বা পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এই দুটি চাকরি মেলা গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা কর্মসূচিতে জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে বড় পরিসরের অভিযান শুরু করেছে দেশটির শ্রম বিভাগ (Department of Labor)। একই সঙ্গে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানব পাচার এবং শ্রমিক শোষণের অভিযোগও তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ এবং বিভাগের মহাপরিদর্শকের (Inspector General) কার্যালয় জানায়, তদন্তে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির পাশাপাশি প্রোগ্রাম ইলেকট্রনিক রিভিউ ম্যানেজমেন্ট (PERM) ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের প্রাথমিক ধাপে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, তদন্তে এমন বহু অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে যেখানে কিছু নিয়োগকর্তা এবং শ্রমিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভুয়া আবেদন জমা দিয়েছে, বিদেশি কর্মীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক বেতনের একটি অংশ ফেরত নিয়েছে এবং কম মজুরির বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন শ্রমবাজারে অন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করেছে। শ্রম বিভাগের মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক সংকট মোকাবিলার জন্য তৈরি সরকারি কর্মসূচির উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে এবং অসাধু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মার্কিন কর্মসংস্থানের ক্ষতি করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে শ্রম বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যদি কেউ মনে করেন এইচ-১বি বা PERM কর্মসূচির জালিয়াতির কারণে তিনি চাকরি হারিয়েছেন বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাহলে যেন তা কর্তৃপক্ষকে জানান। একই সঙ্গে বিদেশি কর্মীদেরও জোরপূর্বক শ্রম, প্রতারণামূলক নিয়োগ বা অন্য কোনো ধরনের শোষণের শিকার হলে অভিযোগ দায়ের করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শ্রম বিভাগের মহাপরিদর্শক অ্যান্থনি ডি'এসপোসিটো ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে কয়েক ডজন সমন জারি করা হয়েছে। তবে চলমান তদন্তের স্বার্থে তিনি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। ডি'এসপোসিটো বলেন, এই ধরনের জালিয়াতি শুধু অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়, অনেক ক্ষেত্রে তা সংঘবদ্ধ অপরাধ ও মানব পাচারের সঙ্গেও সম্পর্কিত। তার দাবি, কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আড়ালে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রও সক্রিয় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, তদন্ত কেবল কারখানা বা সাধারণ শ্রমিক নিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। স্বাস্থ্যসেবা খাতসহ বিভিন্ন পেশায় কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা হবে। শ্রম বিভাগ জানিয়েছে, এই তদন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘোষিত জালিয়াতি প্রতিরোধ টাস্কফোর্সের কার্যক্রমের অংশ। এইচ-১বি ভিসা হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ-অভিবাসী কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা, যার মাধ্যমে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীকে সাধারণত তিন বছরের জন্য নিয়োগ দিতে পারে। প্রয়োজন হলে এই মেয়াদ ছয় বছর পর্যন্ত বাড়ানো যায়। ১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট-এর আওতায় চালু হওয়া এই কর্মসূচি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠান যোগ্য মার্কিন কর্মীদের পরিবর্তে কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগে এই কর্মসূচির অপব্যবহার করে। অন্যদিকে, PERM ব্যবস্থা কর্মসংস্থানভিত্তিক ইবি-২ এবং ইবি-৩ গ্রিন কার্ডের আবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মাধ্যমে শ্রম বিভাগ যাচাই করে সংশ্লিষ্ট পদে যোগ্য, আগ্রহী ও উপলভ্য মার্কিন কর্মী রয়েছে কি না। পিউ রিসার্চ সেন্টার-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসাধারীদের মধ্যে প্রায় ৭৩ শতাংশই ভারতের নাগরিক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ ভিসাধারীর জন্ম চীনে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ বলেছে, তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যেখানে চাকরির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে না; বরং তরুণরাই নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটকে সরকার অস্বীকার করছে না। তবে এই সংকটকে কোনো অজুহাত হিসেবে ব্যবহার না করে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে তা মোকাবিলা করা হবে। এ ক্ষেত্রে জনগণকেই সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট চাপ দেশের মানুষও উপলব্ধি করেছে। এমন ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ সরকারকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা যথাযথভাবে পালনে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। সরকারের মূল দর্শন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই নীতিকে সামনে রেখেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে উপস্থাপিত প্রায় নয় লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটকে প্রধানমন্ত্রী শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং অর্থনীতিকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর রূপরেখা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, অর্থনীতিকে সীমিত গোষ্ঠীর হাত থেকে বের করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এই বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য। বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে উন্নয়ন ব্যয় পঞ্চাশ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে তিন লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে ব্যয়ের পরিমাণের চেয়ে মানুষের জীবনে তার প্রভাব এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। অর্থনৈতিক কৌশলের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথম ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন এবং রপ্তানি খাতের বহুমুখীকরণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আর শেষ ধাপে উদ্ভাবননির্ভর ও প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনশীল অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করা হবে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, কেবল মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি বাড়লেই প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত হয় এবং তরুণরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ পায়। তিনি জানান, ঋণনির্ভর অর্থনীতির পরিবর্তে উৎপাদন ও বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। দেশীয় শিল্পের বিকাশ, বন্ধ বা দুর্বল শিল্পকারখানার পুনরুজ্জীবন এবং নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সব মিলিয়ে, তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি টেকসই, রপ্তানিমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেছেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের কারণে তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে তাল মেলাতে উৎপাদন খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানবশক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো এখন সময়ের দাবি। রবিবার (৭ জুন) ইকবাল আহসানের সঞ্চালনায় ‘একাত্তর বিজনেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ কে আজাদ বলেন, বিশ্ব এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। বায়াররা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পণ্যের দাম বাড়ানো যাবে না। এ অবস্থায় দক্ষতা বাড়াতে এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে এআই ব্যবহার ছাড়া বিকল্প নেই। তার মতে, এ কারণে মানবশক্তি কমাতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর কাঠামোয় নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, হা-মীম গ্রুপে বর্তমানে প্রায় ৭৫ হাজার কর্মী কাজ করছেন। সেখান থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এসব দক্ষ কর্মী চাকরি হারালে তাদের ভবিষ্যৎ কোথায় যাবে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। এ কে আজাদ বলেন, অনেক কোম্পানি উৎপাদন ব্যয় সামাল দিতে না পেরে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রপ্তানিমুখী শিল্পের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে বেসরকারি খাতকে সক্ষম করে তুলতে হবে। এ জন্য ব্যাংক সুদের হার কমানো জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ কে আজাদ আরও বলেন, বাংলাদেশ যদি বৈশ্বিক উৎপাদন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে চায়, তাহলে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।
বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি যেভাবে ডালপালা মেলছে তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমাদের চেনা কর্মসংস্থানের চিত্রটি আমূল বদলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তির এই অভাবনীয় উৎকর্ষের ফলে অনেক প্রথাগত পেশা যেমন হারিয়ে যাচ্ছে ঠিক তেমনি তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন ও সৃজনশীল কাজের এক বিশাল ক্ষেত্র যা আগে কল্পনা করাও কঠিন ছিল। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে যারা নিজেদের দক্ষতার উন্নয়ন ঘটাতে পারবেন না তারা কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বেন এবং আধুনিক শ্রমবাজারে টিকে থাকা তাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে কেবল গাণিতিক বা প্রযুক্তিগত কাজ নয় বরং এখন চিকিৎসা, আইন এবং সাংবাদিকতার মতো সৃজনশীল পেশাতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দিন দিন অনিবার্য হয়ে পড়ছে। রোবটিক্স ও অটোমেশনের ফলে কলকারখানার কায়িক শ্রমের চাহিদা কমে গেলেও ডাটা সায়েন্স এবং অ্যালগরিদম বিশেষজ্ঞের মতো নতুন নতুন কারিগরি পদের চাহিদা এখন তুঙ্গে রয়েছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনোই মানুষের মেধা ও আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার পূর্ণ বিকল্প হতে পারবে না বরং এটি মানুষের কাজের গতি ও নির্ভুলতা বাড়াতে এক শক্তিশালী সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে নতুন প্রজন্মকে কোডিং ও ডিজিটাল লিটারেসিতে দক্ষ করে তোলা না গেলে বিশাল এক বেকার জনগোষ্ঠী তৈরির আশঙ্কা করছেন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদরা। বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এমন কর্মীদের খুঁজছে যারা প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন সমস্যার সমাধান করতে পারে এবং যাদের চিন্তাভাবনা অনেক বেশি আধুনিক। ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে হলে কেবল পুথিগত বিদ্যা যথেষ্ট নয় বরং প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার মানসিকতা ও খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সবচাইতে বেশি জরুরি। পরিশেষে বলা যায় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনো ভয়ের কারণ নয় বরং এটি আমাদের জীবন ও জীবিকাকে আরও সহজ ও উন্নত করার এক সুবর্ণ সুযোগ যা সঠিকভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন। ডিজিটাল এই রূপান্তরের ঢেউ যখন প্রতিটি দরজায় কড়া নাড়ছে তখন আমাদের প্রস্তুতিই নির্ধারণ করবে আমরা এই পরিবর্তনের সুফল কতটুকু ভোগ করতে পারব এবং বিশ্বমঞ্চে কতটা এগিয়ে থাকব।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।