- প্রচ্ছদ
- Topic
কলকাতা
বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই জাল সনদ নিয়ে এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখানোর একটি চক্রের চিত্র উঠে এসেছে যমুনা টিভির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অনুমোদনহীন বা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের সনদ ব্যবহার করে অনেকে চিকিৎসক পরিচয়ে কাজ করছেন। এমনকি বিএমডিসির ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করেও রোগীদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে। যমুনা টিভির অনুসন্ধানে দেখানো হয়েছে, ভুয়া এমবিবিএস সনদ সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি কতটা সহজ হতে পারে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এক সাংবাদিক ছদ্মবেশে কলকাতার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ২২ হাজার ভারতীয় রুপির বিনিময়ে একটি এমবিবিএস সনদ সংগ্রহ করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু সনদ সংগ্রহই নয়, ভুয়া চিকিৎসকের পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। কেউ অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করছেন, আবার কেউ এমন প্রতিষ্ঠানের পরিচয় দিচ্ছেন যার বাস্তবে অস্তিত্বই নেই। রোগীদের কাছে নিজেদের চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন কাগজপত্র ও পরিচয়ও দেখানো হচ্ছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, দেশে প্রায় ১০ হাজার ভুয়া চিকিৎসক থাকতে পারেন। তবে এই সংখ্যাটি যমুনা টিভির প্রতিবেদনে উত্থাপিত একটি অনুমান বা দাবি হিসেবে এসেছে। এর স্বাধীন সরকারি যাচাই বা নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ্যে পাওয়া না গেলে সংখ্যাটিকে নিশ্চিত পরিসংখ্যান হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এসব ব্যক্তির কেউ কেউ সরাসরি রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। চিকিৎসা বিষয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ না থাকা কোনো ব্যক্তি চিকিৎসকের পরিচয়ে রোগী দেখালে ভুল রোগ নির্ণয়, ভুল ওষুধ দেওয়া কিংবা চিকিৎসা জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে সাধারণ রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। বাংলাদেশে বৈধভাবে চিকিৎসা পেশা পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল বা বিএমডিসির নিবন্ধন গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি চিকিৎসক হিসেবে দাবি করলে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি বিএমডিসির নিবন্ধন যাচাই করা যায়। তবে অনুসন্ধানে ভুয়া বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের জন্য এই ধরনের প্রতারণা শুধু আর্থিক প্রতারণার বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ঝুঁকি। একজন রোগী চিকিৎসকের যোগ্যতা যাচাই না করে চিকিৎসা নিলে তার স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে জটিল রোগের ক্ষেত্রে অযোগ্য ব্যক্তির পরামর্শে চিকিৎসা নেওয়া পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলতে পারে। যমুনা টিভির অনুসন্ধানে উঠে আসা এই চিত্রের পর ভুয়া চিকিৎসক শনাক্তকরণ, সনদের সত্যতা যাচাই এবং বিএমডিসি নিবন্ধন ব্যবস্থার কার্যকর তদারকির বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: যমুনা টিভি
কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজে কম উপস্থিতির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভের জেরে প্রায় ২৩ ঘণ্টা ঘেরাও থাকার পর পদত্যাগ করেছেন কলেজের উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তারান্নুম। শুক্রবার পুলিশি নিরাপত্তায় ক্যাম্পাস ছাড়ার পর তিনি দাবি করেন, স্বেচ্ছায় নয়, আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। তার চলে যাওয়ার পর বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের একাংশ কলেজ ভবনে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ও ধূপ জ্বালিয়ে কথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ করে। ঘটনাটি নিয়ে কলকাতায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত কম উপস্থিতি নিয়ে। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, যেসব শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নির্ধারিত সীমার নিচে রয়েছে, তাদের সেমিস্টার পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, কলেজে নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং ক্লাসের সময় পরিবর্তনের কারণে তাদের উপস্থিতি কমেছে। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনার পর বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ তীব্র আকার নেয় এবং শিক্ষার্থীরা উপাধ্যক্ষের কক্ষ ঘেরাও করে। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, কম উপস্থিতির কারণে তাদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। অন্যদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষের অবস্থান ছিল, পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে উপস্থিতির নিয়ম মানা প্রয়োজন। এ নিয়ে সমাধানের চেষ্টা হলেও বৃহস্পতিবার পরীক্ষার ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় ২৩ ঘণ্টা ঘেরাও থাকার পর শুক্রবার উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তারান্নুম কলেজ থেকে বের হন। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছিল এবং আলো, ফ্যানসহ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পানি ও খাবারের মতো মৌলিক সুবিধা থেকেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি সময়মতো সহায়তা পাননি। পদত্যাগপত্রে পরিবার, স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত সমস্যার কথা উল্লেখ থাকলেও কলেজ থেকে বের হওয়ার পর তারান্নুম বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি। আন্দোলনের চাপের কারণে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেন। অন্যদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপাধ্যক্ষকে জোর করে পদত্যাগ করানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অধিকার রক্ষার জন্যই তারা আন্দোলন করেছে। কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি কৌস্তভ বাগচীও উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। এদিকে উপাধ্যক্ষ কলেজ ছাড়ার পর বিক্ষোভকারীদের একাংশ ধূপ জ্বালিয়ে ও গঙ্গাজল ছিটিয়ে কলেজ ভবনের কথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ করে। এই কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে। বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের একাংশ এটিকে কলেজে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখালেও ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার থেকেই কলেজের সামনে পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবে উপাধ্যক্ষকে উদ্ধারের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাওয়া যায়নি বলে পুলিশের দাবি। শুক্রবার সকালে উপাধ্যক্ষের পক্ষ থেকে ই-মেইল পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। কম উপস্থিতির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ, কলেজে ক্লাসের পরিবেশ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং উপাধ্যক্ষের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিরোধ এখন বৃহত্তর প্রশাসনিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে। একদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের তদন্তের দাবি উঠেছে, অন্যদিকে উপাধ্যক্ষের জোরপূর্বক পদত্যাগের অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। পুরো ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভয়াবহ হোটেল অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতা প্রশাসনের নিরাপত্তা অভিযানে একের পর এক কম খরচের হোটেল ও গেস্টহাউস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসার জন্য শহরটিতে যাওয়া বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনেরা বড় আবাসন সংকটে পড়েছেন। অনেককে আগের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে, আবার কেউ কেউ হাসপাতালের কাছাকাছি থাকার জায়গাই খুঁজে পাচ্ছেন না। গত ১৯ আগস্ট নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ আগুনে নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। আগুনের পর কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন, দমকল বিভাগ ও পুলিশ শহরের হোটেল-গেস্টহাউসগুলোতে নিরাপত্তা ও অনুমোদন যাচাই শুরু করে। এরপরই শুরু হয় ব্যাপক অভিযান। ২২ আগস্টের মধ্যে কেন্দ্রীয় কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় অন্তত ৫২টি হোটেল বন্ধ হয়ে যায় বলে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে। পরে অভিযান আরও বিস্তৃত হয় এবং দ্য ডেইলি স্টারের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতাজুড়ে ১০০টির বেশি হোটেল ও গেস্টহাউস বন্ধ হয়েছে অথবা বন্ধ হওয়ার মুখে রয়েছে। বাংলাদেশিদের জনপ্রিয় আবাসিক এলাকাতেই বেশি চাপ নিউ মার্কেট, মার্কুইস স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, লিন্ডসে স্ট্রিট, কলিন লেন ও মির্জা গালিব স্ট্রিটের মতো এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি রোগী, স্বজন ও পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয়। কারণ, এসব এলাকায় তুলনামূলক কম দামে থাকার জায়গা পাওয়া যেত এবং হাসপাতাল, ফার্মেসি, রেস্তোরাঁ ও যাতায়াতের সুবিধাও কাছাকাছি। হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন সেই কম খরচের আবাসনের বড় অংশই হারিয়ে গেছে। ফলে অবশিষ্ট হোটেলগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে এবং সঙ্গে বাড়ছে ভাড়াও। টিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু হোটেলে আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশি এক ব্যবসায়ী জানান, আগে তিনি যে হোটেলে প্রতি রাত ৯০০ রুপি দিতেন, বিকল্প হোটেলগুলোতে এখন ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ রুপি পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে এসে হোটেলই বন্ধ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়া রোগীরা। টিবিএস জানিয়েছে, ঢাকার উত্তরা থেকে যাওয়া দুই বোনের একজন ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। তারা নিয়মিত যে হোটেলে থাকতেন, সেটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে থাকার জায়গা খুঁজতে হয়। তাদের চিকিৎসার একটি রিপোর্ট পাওয়ার কথা ছিল ৮ সেপ্টেম্বর এবং পরদিন দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল। আরেক বাংলাদেশি পরিবার তাদের পাঁচ বছর বয়সী সন্তানের ফলোআপ চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়ে দেখেন, আগে থেকে বুক করা হোটেলটিই বন্ধ হয়ে গেছে। তারা ১ হাজার রুপির মধ্যে থাকার জায়গা খুঁজছিলেন, কিন্তু ওই এলাকায় এমন কক্ষ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ক্যানসার রোগীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ও একাধিকবার হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় হাসপাতালের কাছাকাছি থাকা অনেক সময় অপরিহার্য। দূরের হোটেলে চলে গেলে প্রতিদিনের যাতায়াত যেমন বাড়ে, তেমনি অসুস্থ রোগীর শারীরিক কষ্টও বাড়ে। শুধু নিউ মার্কেট নয়, সংকট ছড়িয়েছে মুকুন্দপুরেও অভিযানের প্রভাব এখন শুধু নিউ মার্কেট এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই। দক্ষিণ কলকাতার মুকুন্দপুর এলাকাতেও কয়েকটি হোটেল বন্ধের নির্দেশ পেয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ মার্কেট থেকে সরে যাওয়া অনেক বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজন মুকুন্দপুরের হোটেলগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেও অভিযান শুরু হওয়ায় তাদের কেউ কেউ বেশি ভাড়ার বাণিজ্যিক হোটেলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার কেউ চিকিৎসার ফলোআপ শেষ হওয়ার আগেই দেশে ফেরার কথা ভাবছেন। অভিযানে যেসব সমস্যার কথা সামনে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে ধোঁয়া ও তাপ শনাক্তকারী ব্যবস্থা না থাকা, অ্যালার্মের ঘাটতি এবং জরুরি বের হওয়ার পথ না থাকা। কেন এত বড় অভিযান? এই অভিযানের পেছনে রয়েছে ১৯ আগস্টের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। তদন্তে উঠে এসেছে, শিখা ইন যে ভবনে ছিল সেখানে একাধিক হোটেল, গেস্টহাউস ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ছিল। ভবনটির ভেতরে ঘনবসতিপূর্ণ ও সংকীর্ণ ব্যবস্থাপনার কারণে আগুনের ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করা হলেও নয়জনের মৃত্যু হয়। পুলিশের তদন্তে হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, হোটেলটির বৈধ ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট ছিল না এবং দ্বিতীয় তলায় থাকা অতিথিদের জন্য জরুরি বের হওয়ার পথও ছিল না বলে এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলের লিজধারী আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মালিক বীরেশ্বর মিত্রকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে বৈদ্যুতিক ত্রুটি, অবহেলা ও অগ্নিনিরাপত্তা ঘাটতির মতো বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তা দরকার, কিন্তু বিকল্প কোথায়? হোটেলগুলোর নিরাপত্তা যাচাই ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আপত্তি নেই। কিন্তু একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক বাজেট হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে নতুন সমস্যা। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে স্থানীয় ব্যবসায়ী রমেন মল্লিক প্রশ্ন তুলেছেন, ১০ থেকে ১৫ দিনের চিকিৎসার জন্য যারা কলকাতায় আসেন, হঠাৎ তাদের থাকার জায়গা বন্ধ হয়ে গেলে দায়িত্ব নেবে কে? তার মতে, হোটেল বন্ধ করার আগে বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে পরিবহন ব্যবসায়ী সোনা সাহার মতে, দীর্ঘমেয়াদে অভিযান ইতিবাচক ফল দিতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ হোটেলগুলো চিহ্নিত করে নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশি রোগী ও পর্যটকরাই বেশি উপকৃত হবেন। বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য সতর্কতা পরিস্থিতির মধ্যে কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশন বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক করেছে। চিকিৎসা বা অন্য কোনো প্রয়োজনে কলকাতা যাওয়ার আগে হোটেল বুকিং নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেটি তখনও চালু আছে কি না, কক্ষ পাওয়া যাবে কি না এবং হাসপাতাল থেকে দূরত্ব কত - এসব যাচাই করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, এখন শুধু কলকাতায় যাওয়ার টিকিট ও চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকলেই হচ্ছে না। হোটেলটি বাস্তবে চালু আছে কি না এবং সেখানে গিয়ে থাকা যাবে কি না - সেটিও আগে নিশ্চিত করতে হবে। একদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে কলকাতা প্রশাসনের অভিযান চলছে, অন্যদিকে সেই অভিযানের কারণে সাশ্রয়ী থাকার জায়গা হারিয়ে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশিরা পড়েছেন নতুন সংকটে। এখন বড় প্রশ্ন - ঝুঁকিপূর্ণ হোটেল বন্ধের পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা কত দ্রুত করা যায়।
ভারতের কলকাতার কাশীপুর এলাকার জ্যোতিনগর কলোনিতে প্রায় এক মাস ধরে পানির সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কলকাতা পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এই এলাকায় প্রায় ৫০০ পরিবার বসবাস করে। স্থানীয়ভাবে ‘মোল্লা পাড়া’ বা ‘মুসলিম কলোনি’ নামে পরিচিত এলাকাটির অধিকাংশ বাসিন্দা মুসলিম। পানির সংকটের কারণে বাসিন্দাদের অনেকে বাধ্য হয়ে দৈনন্দিন কাজের জন্য হুগলি নদীর ঘাটের পানি ব্যবহার করছেন। বাসিন্দাদের ভাষ্য, গত ২৭ জুলাই কলকাতা পুরসভার কর্মীরা এলাকায় পানির পাইপলাইন মেরামতের কাজ শুরু করেন। ২৯ জুলাই পর্যন্ত কাজ চলার পর ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাঁচটি রাস্তার কল থেকে পানি আসা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। পানির অভাবে অনেক পরিবারকে দূর থেকে পানি কিনে আনতে হচ্ছে। কেউ কেউ হুগলি নদীর ঘাটে গিয়ে গোসল, কাপড় ধোয়া ও অন্যান্য দৈনন্দিন কাজ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নদীর ঘাটে যেতে গিয়ে শিশু ও সাঁতার না জানা ব্যক্তিদের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। কাদামাটির সিঁড়িতে পিছলে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নদীর পানি ব্যবহারের পর কয়েকজন শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলেও স্থানীয়দের দাবি। জ্বর, মাথাব্যথা ও ত্বকের সমস্যার কথা জানিয়েছেন কয়েকটি পরিবার। তবে এসব অসুস্থতার সঙ্গে নদীর পানি ব্যবহারের সরাসরি চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক সম্পর্ক স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, তাদের এলাকার কলগুলোতে পানি না থাকলেও একই সড়কের আশপাশের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে পানি সরবরাহ চালু রয়েছে। এ কারণে পানি বন্ধের পেছনে বৈষম্যের অভিযোগও তুলেছেন তারা। এদিকে পানি সরবরাহ বন্ধের সঙ্গে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারির একটি নির্বাচনী বক্তব্যের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের দাবি, নির্বাচনের পর তিওয়ারি মুসলিম ভোটারদের নিয়ে এমন মন্তব্য করেছিলেন যে যারা তাকে ভোট দেয়নি, তাদের জন্য আগামী পাঁচ বছর তিনি কাজ করবেন না। তবে পানি সরবরাহ বন্ধের সঙ্গে ওই বক্তব্যের সরাসরি সম্পর্কের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিওয়ারি অবশ্য বিষয়টিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জ্যোতিনগরের বাসিন্দাদের ওই এলাকায় বসবাসের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং জায়গাটি কলকাতা পোর্টের বলে দাবি করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এলাকাটি খালি করার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। কলকাতা পুরসভা অবশ্য ইচ্ছাকৃতভাবে পানির লাইন কেটে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ১৯ আগস্ট পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই এলাকার পানির মূল লাইন কেটে দেওয়া হয়নি। দুটি কলের কারিগরি সমস্যা বা সংযোগের ত্রুটি থাকতে পারে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়েছে। পানির সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় বামপন্থী সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতি কয়েক দিন পরপর পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই সাময়িক ব্যবস্থায় কয়েক হাজার মানুষের দৈনন্দিন পানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রায় ছয় দশক ধরে জ্যোতিনগর কলোনিতে মানুষ বসবাস করছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই পানির সংকটের কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়লেও, এখন পর্যন্ত পানি সরবরাহ বন্ধের নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে পুরসভা ও বাসিন্দাদের বক্তব্যে স্পষ্ট মিল পাওয়া যায়নি।
পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বৈষম্যের অভিযোগের মধ্যেই কলকাতার কাশীপুরের জ্যোতিনগর কলোনিতে নাগরিক সুবিধা নিয়ে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ১৭ দিন ধরে কলোনির প্রায় ৫০০ মুসলিম পরিবার সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ সংকটে চরম দুর্ভোগে রয়েছে। কলকাতা সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর জেটিসংলগ্ন এই কলোনিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন এসব পরিবার। স্থানীয়দের দাবি, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাদের মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ ১৭ দিন ধরে কলোনিতে সুপেয় পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কিছু বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরলেও অনেক ল্যাম্পপোস্টে এখনো বিদ্যুৎ নেই বলে অভিযোগ তাদের। ফলে রাতের বেলায় চলাচলসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের। জ্যোতিনগর কলোনির অধিকাংশ বাসিন্দাই দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ। অনেক পরিবার ৫০ থেকে ৬০ বছর, আবার কেউ কেউ প্রায় ৭০ বছর ধরে বংশপরম্পরায় সেখানে বসবাস করছেন। দীর্ঘদিনের বসবাস সত্ত্বেও মৌলিক নাগরিক সুবিধার জন্য তাদের বারবার কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার এখন কলোনির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গা থেকে পানি সংগ্রহ করে রান্নাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে। তবে নদীতে বিভিন্ন স্থান থেকে দূষিত পানি মেশার কারণে এই পানি ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা। কলোনিতে পাঁচটি পানির কল রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, এসব কলের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে প্রায় ৫০০ মুসলিম পরিবার চরম সংকটে পড়েছে। সমস্যা সমাধানের জন্য কলকাতা সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের কাছে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি বলে দাবি তাদের। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণও রয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার কারণে তাদের ওপর ক্ষোভ থেকে এমন বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করছেন তারা। কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির রিতেশ তিওয়ারি নির্বাচিত হওয়ার পর মুসলিমদের ভোট না পাওয়ার বিষয়ে তাঁর প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, ওই বক্তব্যের পর তাদের আশঙ্কা আরও বেড়েছে যে ভোটের কারণে তাদের এলাকার সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। তবে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সঙ্গে বিধায়কের ওই বক্তব্য বা কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশের সরাসরি সম্পর্কের বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ সামনে আসেনি। এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, পানি সরবরাহ বন্ধ রাখার পেছনে কলোনি উচ্ছেদের পরিকল্পনাও থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষেও এখনো কোনো সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে, ১৭ দিন ধরে সুপেয় পানি না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি ও দিনমজুর পরিবারগুলো। দ্রুত পানি সরবরাহ পুনরায় চালু, বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি ফিরিয়ে দেওয়া এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দারা। নাগরিক সুবিধা বন্ধের প্রকৃত কারণ কী এবং এর সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক অবস্থানের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—তা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার তারাতলা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি গুদাম ভবন ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন আহত ব্যক্তির মৃত্যু হলে এই সংখ্যা বাড়ে। প্রশাসনের আশঙ্কা, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বুধবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার প্রায় ২১ ঘণ্টা পরও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে দমকল বাহিনী, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন। উদ্ধারকারীরা সেনাবাহিনীর অত্যাধুনিক ভূগর্ভ অনুসন্ধান যন্ত্র ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবনের কোনো চিহ্ন রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে মোট ৩০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কৃষ্ণ চৌধুরী, রোহিত চৌধুরী, রাহুল চৌধুরী, চন্দ্রমা চৌধুরী, পাপ্পু রজক, আজগার হোসেন, সাহিল সরদার এবং ঘি কুমার। আরও দুইজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে প্রশাসন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের অনেকেই গুরুতর আঘাত নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান তদারকি করতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন রাজ্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কলকাতা পুলিশ ও পৌরসভার কর্মকর্তারাও সারারাত উদ্ধারকাজে নজরদারি করেছেন। ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক দমকলকর্মী, উদ্ধারকারী দল এবং চিকিৎসা সহায়তা ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের সন্ধানে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে মানুষের নড়াচড়া, শব্দ বা হৃদস্পন্দনের মতো সংকেত শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় ভবনটিতে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। ফলে শুরু থেকেই হতাহতের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। রাতভর ঘটনাস্থল ও আশপাশের হাসপাতালগুলোতে স্বজনদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গুদাম ভবনটি কেন ধসে পড়ল, তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। নির্মাণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কলকাতার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডকে ঘিরে ঈদের নামাজ ও আন্তর্জাতিক যোগ দিবস আয়োজনের সময়সূচি ও ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে ভারতে নতুন করে বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, যেখানে একে সংখ্যালঘু অধিকার ও রাষ্ট্রীয় নীতির দ্বিচারিতা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। কলকাতার রেড রোড শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ঈদ জামাতের জন্য পরিচিত একটি স্থান। স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, ১৯১৯ সাল থেকে এখানে নিয়মিতভাবে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এই ঈদ জামাতে কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও বহু মানুষ অংশ নেন বলে দাবি করা হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এবার ঈদের নামাজ আয়োজনের জন্য রেড রোড ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নিরাপত্তা ও যানজটের অজুহাত দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় মহলে দাবি উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে একই রেড রোডে টানা সাত দিন সড়ক বন্ধ রেখে আয়োজন করা হয়। রোববার (২১ জুন) দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানের জন্য সেখানে বড় মঞ্চ তৈরি করা হয়। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শনিবার দুই দিনের রাজ্য সফরে এসে হুগলির তারকেশ্বরের অনুষ্ঠান শেষে রাতে লোকভবনে অবস্থান করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রোববার ভোরে তিনি রেড রোডে পৌঁছে যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে তিনি নিজে যোগব্যায়াম করেন। অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যে সড়ক দিয়ে বিধানসভা, কলকাতা হাইকোর্ট, রাজভবন ও ধর্মতলার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যুক্ত থাকে, সেটি যোগ দিবস উপলক্ষে কয়েক দিন বন্ধ থাকায় জনজীবনে প্রভাব পড়ে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। নেটিজেন, অধিকারকর্মী ও সচেতন মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে, শত বছরের পুরোনো ঈদের নামাজের জন্য কয়েক ঘণ্টা সড়ক ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা থাকলেও যোগ দিবসের জন্য সাত দিন সড়ক বন্ধ রাখা কীভাবে সম্ভব। অধিকারকর্মীদের একটি অংশ এটিকে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকার সংকোচনের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছে। তাদের দাবি, এটি পরিকল্পিত বৈষম্যের বহিঃপ্রকাশ। রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও বৈষম্যবোধ আরও বাড়িয়েছে। তবে আরেকটি অংশ মনে করে, এটি কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনার অংশ। রেড রোড ইস্যু ঘিরে চলমান এই বিতর্ক এখন ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে আবারও আদালতের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সদ্য সমাপ্ত রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফলের বৈধতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে একটি নির্বাচন সংক্রান্ত আবেদন (ইলেকশন পিটিশন) দায়ের করেছেন তিনি। তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, ভোট গণনার সময় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি করা হয়েছে। আর এই কারণেই আদালতের মাধ্যমে পুরো বিষয়টির একটি নিরপেক্ষ বিচারিক তদন্ত দাবি করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টে সশরীরে উপস্থিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় তার সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা, আইনজীবী ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আদালত চত্বরে পৌঁছে তিনি নিয়ম অনুযায়ী শপথ কমিশনের কার্যালয়ে যান এবং পিটিশন দায়েরের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পরও তিনি গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এবারের হাইভোল্টেজ নির্বাচনেও ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনি ফলাফলে তৃণমূল নেত্রীর পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই দলের পক্ষ থেকে ভোট গণনা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আপত্তি তোলা হতে থাকে। অবশেষে আইনি পথ বেছে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফলকে আদালতের এজলাসে চ্যালেঞ্জ করলেন তিনি। এদিকে একই দিনে কলকাতা হাইকোর্টে পশ্চিমবঙ্গের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মামলার শুনানি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার দ্বিতীয় দফার শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই মামলাটি দায়ের করেন। তার মূল দাবি, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিধানসভার প্রচলিত নিয়মাবলী ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ফলে বিধানসভার অধ্যক্ষের (স্পিকার) এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে এবং আদালত যেন এই সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করে। আদালতে মামলার শুনানিতে তৃণমূলের প্রবীণ আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জোরালো সওয়াল করে প্রশ্ন তোলেন, ঠিক কোন নিয়মের ওপর ভিত্তি করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য, এই পুরো প্রক্রিয়াটি যথাযথ আইনি নিয়ম মেনে করা হয়নি এবং আদালতের উচিত বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতে এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করে জানান, স্পিকারের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আইনসম্মত এবং এতে আদালতের হস্তক্ষেপ করার কোনো প্রয়োজন নেই। উল্লেখ্য, গত শুনানিতে আদালত এই বিষয়ে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয়নি। যার ফলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আপাতত বিরোধী দলনেতা হিসেবেই তার স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তবে মঙ্গলবারের এই দ্বৈত শুনানিকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, ভবানীপুরের নির্বাচনি ফল চ্যালেঞ্জ এবং বিরোধী দলনেতার পদের বৈধতা সংক্রান্ত মামলার শুনানি একই দিনে হওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মাত্রা পেয়েছে। আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণের ওপরই নির্ভর করছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন ও বিরোধী শিবিরের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল।
কলকাতার কালিঘাটে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বাড়ির সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে লক্ষ্য করে পচা ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চন্দন ও রবি নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে কালীঘাট থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতেই কুণাল ঘোষ এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতেই দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে কালিঘাটে মমতা ব্যানার্জীর বাসভবনে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠক শেষে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। কুণাল ঘোষ গেটের সামনে দাঁড়াতেই হরিশ চ্যাটার্জি গলির দিক থেকে এক যুবক হাতে একাধিক ডিম নিয়ে বেরিয়ে আসে এবং তাকে লক্ষ্য করে ছুড়ে মারে। হঠাৎ এই আক্রমণে কুণাল ঘোষ মাথা নিচু করে নিলেও ডিম তার মাথা ও পিঠে লাগে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা ওই যুবককে আটকানোর চেষ্টা করেন। ঘটনার পর সাংবাদিকদের সামনে অভিযুক্তদের একজন দাবি করেন, “কুণাল ঘোষ বহু মানুষকে অত্যাচার করেছেন, সেই কারণেই এই কাজ করেছি।” যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “এক সময় দেড়শো পুলিশ আমাকে সামলাতে পারত না। দু’টো কুকুর-বেড়াল আমার কিছু করতে পারবে না। আমি ওই পথ দিয়েই আবার যাব। মারার হলে সামনে থেকেই মারুক—সবাই দেখুক।” অন্যদিকে, তৃণমূলের সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার জন্য বিরোধী বিজেপিকে দায়ী করেন। তার অভিযোগ, “বিজেপির গুন্ডারাই এই হামলা চালিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর লোকজনের কাজ এটা। সাংবাদিকদের সামনেই এভাবে হামলা হচ্ছে—এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” পুলিশের ভূমিকাতেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষায়, “এত পুলিশ উপস্থিত থেকেও তারা কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্র কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটাই বড় প্রশ্ন।” উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা একাধিকবার সামনে এসেছে। তবে সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে এমন ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee কলকাতার ঐতিহাসিক Red Road-এর ঈদের জামাতে অংশ নিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-কে কটাক্ষ করে ‘সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী’ বলে মন্তব্য করেছেন। শনিবার পবিত্র Eid al-Fitr উপলক্ষে রেড রোডে রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে হালকা বৃষ্টি থাকলেও নামাজ আদায়ে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। দলে দলে মুসল্লির উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলিতে মেতে ওঠেন মুসল্লিরা। জামাতে যোগ দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি বলেন, রাজ্য ও দেশের উন্নয়ন এবং সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করা জরুরি। এ সময় নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেকের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং এ নিয়ে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, সবার অধিকার রক্ষায় এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মমতা প্রশ্ন তোলেন, বিদেশ সফরে গিয়ে ভিন্ন ধর্মের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্য দেখানো হলেও দেশে ফিরে বিভাজনের রাজনীতি করা হচ্ছে কি না। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদিজিই ভারতের সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী।” এ ছাড়া তিনি সতর্ক করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গকে লক্ষ্য করে কোনো ধরনের উসকানি দেওয়া হলে তা প্রতিহত করা হবে। একই সঙ্গে রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।