সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

ভবানীপুরের নির্বাচনি ফল চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১১:৩৮
ছবি: ফাইল ফটো
ছবি: ফাইল ফটো

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে আবারও আদালতের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সদ্য সমাপ্ত রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফলের বৈধতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে একটি নির্বাচন সংক্রান্ত আবেদন (ইলেকশন পিটিশন) দায়ের করেছেন তিনি। তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, ভোট গণনার সময় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি করা হয়েছে। আর এই কারণেই আদালতের মাধ্যমে পুরো বিষয়টির একটি নিরপেক্ষ বিচারিক তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।

 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টে সশরীরে উপস্থিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় তার সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা, আইনজীবী ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আদালত চত্বরে পৌঁছে তিনি নিয়ম অনুযায়ী শপথ কমিশনের কার্যালয়ে যান এবং পিটিশন দায়েরের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পরও তিনি গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

 

এবারের হাইভোল্টেজ নির্বাচনেও ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনি ফলাফলে তৃণমূল নেত্রীর পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই দলের পক্ষ থেকে ভোট গণনা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আপত্তি তোলা হতে থাকে। অবশেষে আইনি পথ বেছে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফলকে আদালতের এজলাসে চ্যালেঞ্জ করলেন তিনি।

 

এদিকে একই দিনে কলকাতা হাইকোর্টে পশ্চিমবঙ্গের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মামলার শুনানি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার দ্বিতীয় দফার শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই মামলাটি দায়ের করেন। তার মূল দাবি, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিধানসভার প্রচলিত নিয়মাবলী ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ফলে বিধানসভার অধ্যক্ষের (স্পিকার) এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে এবং আদালত যেন এই সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করে।

 

আদালতে মামলার শুনানিতে তৃণমূলের প্রবীণ আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জোরালো সওয়াল করে প্রশ্ন তোলেন, ঠিক কোন নিয়মের ওপর ভিত্তি করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য, এই পুরো প্রক্রিয়াটি যথাযথ আইনি নিয়ম মেনে করা হয়নি এবং আদালতের উচিত বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতে এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করে জানান, স্পিকারের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আইনসম্মত এবং এতে আদালতের হস্তক্ষেপ করার কোনো প্রয়োজন নেই।

 

উল্লেখ্য, গত শুনানিতে আদালত এই বিষয়ে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয়নি। যার ফলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আপাতত বিরোধী দলনেতা হিসেবেই তার স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তবে মঙ্গলবারের এই দ্বৈত শুনানিকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, ভবানীপুরের নির্বাচনি ফল চ্যালেঞ্জ এবং বিরোধী দলনেতার পদের বৈধতা সংক্রান্ত মামলার শুনানি একই দিনে হওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মাত্রা পেয়েছে। আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণের ওপরই নির্ভর করছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন ও বিরোধী শিবিরের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
সংযুক্ত আরব আমিরাতে রেসিডেন্স ও কাজের ভিসা বাতিল হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা। ছবি: সংগৃহীত
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল, অনিশ্চয়তায় প্রবাসীরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির রেসিডেন্স ও কাজের ভিসা বাতিল হওয়ায় দেশে ফিরে আসা অনেক প্রবাসী আর ইউএইতে ফিরতে পারছেন না। এতে চাকরি, ব্যবসা ও পরিবারের সঙ্গে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সূত্রে ভিসা বাতিলের সংখ্যা ৪ হাজার ৮০০ জনে পৌঁছানোর কথা জানা গেলেও, ইউএই কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ্যে এই সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।    ভুক্তভোগীদের বড় একটি অংশ ছুটিতে বা পারিবারিক কারণে বাংলাদেশে এসেছিলেন। দেশে ফেরার পর তারা ইমেইল, মোবাইল মেসেজ অথবা ইউএইতে থাকা স্পনসরের মাধ্যমে জানতে পারেন, তাদের ভিসা বাতিল হয়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন, বাতিলের নোটিশে এর নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।    এমনই একজন আবুল কালাম আজাদ। প্রায় ২৭ বছর ইউএইতে থাকার পর তিনি গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশে আসেন। ২৪ জুলাই ইমেইলের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তার দাবি, ওই বার্তায় ভিসা বাতিলের কোনো কারণ উল্লেখ ছিল না। তিনি ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ভুক্তভোগী প্রবাসীদের একটি কর্মসূচিতেও অংশ নেন।    ভুক্তভোগীদের মধ্যে শুধু শ্রমিক নন, ইউএইতে ব্যবসা ও দোকান পরিচালনাকারী এবং দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা বাংলাদেশিরাও রয়েছেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাদের পরিবার ও ব্যবসা ইউএইতেই রয়েছে। ভিসা বাতিল হওয়ায় তারা দেশে আটকে পড়েছেন এবং নিজেদের কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না।    বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে ইউএইর কাছে তুলেছে এবং বাতিল হওয়া ভিসাগুলো পর্যালোচনার অনুরোধ জানিয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ভুক্তভোগীদের একটি অংশ সরকারকে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমাও দিয়েছে।    এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভিসা বাতিলের সংখ্যা ৬২৬ জন বলা হয়েছিল। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ তখন জানিয়েছিলেন, বিষয়টি শুধু বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ঘটছে না এবং পাকিস্তান, ফিলিপাইন, নেপালসহ অন্য দেশের নাগরিকরাও এ ধরনের ভিসা বাতিলের মুখে পড়েছেন। তখন ৪১৭ জনের তথ্য ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে ভিসা নবায়নের জন্য পাঠানোর কথাও জানানো হয়েছিল।    পরবর্তীতে আগস্টের শুরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস আবুধাবি ৯৮৫ জন ভুক্তভোগীর তথ্য যাচাই করে ইউএই সরকারের কাছে পাঠায়। তাদের ভিসা বাতিলের কারণ, পুনর্বহালের প্রক্রিয়া এবং ইউএইতে থাকা ব্যবসা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য সম্পদের বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হয়েছিল।    ভিসা বাতিলের কারণ নিয়ে এখনো সব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ হয়নি। সংশ্লিষ্ট একটি প্রবাসী সংগঠনের প্রতিনিধি ইউএইতে ভিসা ও কাগজপত্রের যাচাই আরও কঠোর হওয়ার কথা জানিয়েছেন। ভিসা নবায়নে দেরি, কাগজপত্রের সমস্যা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম কিংবা নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলোও যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে এসব কারণই যে ভিসা বাতিলের সরাসরি কারণ, তা তিনি দাবি করেননি।    ভুক্তভোগী প্রবাসীরা সরকারকে কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে তাদের আগের কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে মাসে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা এবং ইউএইতে ফেরা সম্ভব না হলে বিকল্প দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার দাবিও জানিয়েছেন তারা।    বাংলাদেশের জন্য ইউএই দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। ১৯৭৬ সালে দেশটিতে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান শুরু হওয়ার পর গত কয়েক দশকে সেখানে বড় একটি বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায় গড়ে উঠেছে। ফলে ভিসা বাতিলের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চাকরি ও ব্যবসার ওপর নয়, তাদের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট প্রবাসী অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১০:৯
১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লাখ ছাড়িয়েছে

জাপানে প্রথমবার লাখ ছাড়াল ১০০ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা, ৮৮ শতাংশ নারী

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বিক্ষোভ চলাকালে এক নারীকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ

এ ল জি বি টি কিউ+ কর্মীদের ধরপাকড়, তুরস্কে কয়েক ডজন গ্রে প্তার

লিথুয়ানিয়ার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করল ন্যাটো, ডেনিশ হেলিকপ্টারে রুশ হা মলা

লিথুয়ানিয়ার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করল ন্যাটো, ডেনিশ হেলিকপ্টারে রুশ হা মলা

৫ লাখের বেশি ভুয়া জিমেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে বোমা হামলার হু মকি, তদন্তে বাংলাদেশে থাকা ক্রেতার তথ্য
৫ লাখের বেশি ভুয়া জিমেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে বোমা হামলার হু মকি, তদন্তে বাংলাদেশে থাকা ক্রেতার তথ্য

ভারতের গুজরাটে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ভুয়া বোমা হামলার হুমকি পাঠানোর তদন্ত করতে গিয়ে ৫ লাখের বেশি ভুয়া জিমেইল অ্যাকাউন্টের একটি বিশাল নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ৫ লাখ ১৩ হাজার ৮৪৭টি জিমেইল আইডি ও পাসওয়ার্ডের তালিকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের একজনের সঙ্গে বাংলাদেশে থাকা এক ক্রেতার যোগাযোগ ছিল বলে জানিয়েছে গুজরাট পুলিশ।     গুজরাট পুলিশের সাইবার তদন্ত শুরু হয় ১০ সেপ্টেম্বর। সেদিন রাজ্য সরকারের একটি দপ্তরে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে ই-মেইল পাঠানো হয়। ওই বার্তায় গুজরাটের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেও হুমকির আওতায় আনা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে হুমকিটি ভুয়া বলে নিশ্চিত করা হয়।   হুমকির ই-মেইলের ডিজিটাল সূত্র অনুসরণ করে তদন্তকারীরা বিহারের ভাগলপুরে পৌঁছান। সেখানে রোশন কুমার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি যে তথ্য দেন, তার ভিত্তিতে ঝাড়খণ্ডের দেওঘর থেকে গুলশন কুমার সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, গুলশন দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক ই-মেইল অ্যাকাউন্ট ও পাসওয়ার্ড তৈরি করে অন্যদের কাছে সরবরাহ করছিলেন।   তদন্তে উদ্ধার হওয়া ৫ লাখ ১৩ হাজার ৮৪৭টি জিমেইল আইডি ও পাসওয়ার্ডই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অ্যাকাউন্ট সরকারি অফিস, স্কুল, কলেজ ও আদালতে হুমকিমূলক ই-মেইল পাঠানোসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধে ব্যবহারের জন্য তৈরি ও সরবরাহ করা হয়েছিল। তবে উদ্ধার হওয়া সব অ্যাকাউন্ট বাস্তবে বোমা হামলার হুমকিতে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।   এই তদন্তে বাংলাদেশ প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে গুজরাট পুলিশের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন বাংলাদেশে থাকা একজন ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন। ওই ব্যক্তি জিমেইল অ্যাকাউন্টের কয়েকটি চালান কিনেছিলেন এবং ভুয়া হুমকিমূলক ই-মেইল পাঠাতে সেগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। এসব লেনদেনের কিছু অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে হয়ে থাকতে পারে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।   তবে বাংলাদেশে থাকা ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তার নাগরিকত্বও প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে বাংলাদেশ সরকার বা বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ঘটনাটিকে আপাতত ভারতের পুলিশের তদন্তে উঠে আসা সম্ভাব্য আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   তদন্তকারীদের আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো, এত বিপুলসংখ্যক জিমেইল অ্যাকাউন্ট কীভাবে তৈরি ও পরিচালনা করা সম্ভব হলো। গুজরাট পুলিশের সাইবার অপরাধ কর্মকর্তা বিবেক ভেদার মতে, উদ্ধার হওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর প্রতিটিতেই দুই ধাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু ছিল। এত বড় পরিসরে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে গিয়ে কীভাবে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, সেটিও এখন তদন্তের অংশ।   এই ঘটনায় গুগলকেও তদন্তের আওতায় আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে গুজরাট পুলিশ। তদন্তকারীরা জানতে চান, কীভাবে এত বিপুলসংখ্যক অ্যাকাউন্ট তৈরি ও পরিচালিত হলো এবং গুগলের বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হলো। পুলিশ গুগলের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের বিষয়েও আলোচনা করতে চায়।   গুগলের পক্ষ থেকে রয়টার্সের প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে গুজরাট পুলিশ জানিয়েছে, বিপুলসংখ্যক ই-মেইল অ্যাকাউন্টের উৎস, ব্যবহার এবং সম্ভাব্য অন্যান্য সাইবার অপরাধের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৯:৫
সৌদি-আমিরাতি দ্বন্দ্বের সুযোগে শক্তিশালী হুতিরা, হু মকিতে তেল সরবরাহ

সৌদি-আমিরাতি দ্বন্দ্বের সুযোগে শক্তিশালী হুতিরা, হু মকিতে তেল সরবরাহ

মাত্র ৮ মিনিটে পাসপোর্ট নবায়ন, দুবাই বিমানবন্দরের দ্রুত সেবায় মুগ্ধ যাত্রী

মাত্র ৮ মিনিটে পাসপোর্ট নবায়ন, দুবাই বিমানবন্দরের দ্রুত সেবায় মুগ্ধ যাত্রী

ইরানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে চমকপ্রদ সাফল্য, টিকাদানে বিশ্বসেরা ও বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় তৃতীয় I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইরানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে চমকপ্রদ সাফল্য, টিকাদানে বিশ্বসেরা ও বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় তৃতীয়

বই পড়লেই মিলবে টাকা, নাগরিকদের পাঠাভ্যাস বাড়াতে সিঙ্গাপুরের অভিনব উদ্যোগ
বই পড়লেই মিলবে টাকা, নাগরিকদের পাঠাভ্যাস বাড়াতে সিঙ্গাপুরের অভিনব উদ্যোগ

ডিজিটাল দুনিয়ার ‘ব্রেইন রট’ বা মনোযোগ কমে যাওয়ার সমস্যা দূর করে নাগরিকদের মধ্যে বই পড়ার সংস্কৃতি আরও সুদৃঢ় করতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গাপুর। ‘রিডএসজি’ (ReadSG) নামক পাঁচ বছর মেয়াদি এই নতুন জাতীয় কর্মসূচির আওতায়, দিনে অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়লেই দেশের নাগরিকদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে।   ন্যাশনাল লাইব্রেরি বোর্ড (NLB)-এর চালু করা এই ক্যাম্পেইনের অধীনে আগ্রহীরা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের পড়ার সময় ট্র্যাক করে ভার্চুয়াল রিওয়ার্ড বা কয়েন জিততে পারবেন। জানা গেছে, প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়ার বিনিময়ে ২০টি ভার্চুয়াল কয়েন পাওয়া যাবে এবং ১০০০ কয়েন জমলে তা নগদ এক ডলারে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।   ক্যাম্পেইনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, প্রতিদিন তিনটি এমআরটি (MRT) স্টেশন পার হওয়ার সময়টুকু, বাসের জন্য অপেক্ষার প্রহর কিংবা সকালের কফি পানের ফাঁকে ব্যয় করা মাত্র ১৫ মিনিট সময়ই একটি শক্তিশালী পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট।   ন্যাশনাল লাইব্রেরি বোর্ডের প্রধান মেলিসা ট্যাম এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে জানান, শর্ট-ফর্ম কনটেন্ট মানুষকে দ্রুত তথ্য দিলেও দীর্ঘক্ষণ ধরে বই পড়ার অভ্যাস মনোযোগ, কল্পনাশক্তি এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনাকে শাণিত করে। দিন দিন জটিল হয়ে ওঠা বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নাগরিকদের আরও বেশি কৌতূহলী, চিন্তাশীল ও দূরদর্শী হিসেবে গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।   তাছাড়া নতুন পাঠকদের আকৃষ্ট করতে এই কার্যক্রমে বিভিন্ন মজার ‘ফ্লেভার অব রিডিং’ বা রিডিং প্রোফাইল যুক্ত করা হয়েছে— যেমন ‘কুইহ লাপিস’, ‘কুলফি’, ‘আং কু কুইহ’ এবং ‘তাং ইউয়ান’, যা অংশগ্রহণকারীদের ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনের গবেষক লোহ চিন ই-এর মতে, পড়ার অভ্যাসটিকে ‘গ্যামিফাই’ বা আনন্দদায়ক করে তোলার কৌশলটিই সিঙ্গাপুরের এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় শক্তি।   তিনি জানান, অনেকেই হয়তো স্ক্রিনে দ্রুত কিছু পড়ে নেন, কিন্তু গভীরভাবে পড়ার প্রতি যে নিবেদন, তা বর্তমানে অনেকটাই কমে গেছে; আর সেই গভীর মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে ১৫ মিনিটের এই লক্ষ্যমাত্রা একটি অত্যন্ত কার্যকর ও বাস্তবসম্মত উপায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৩:১৭
সৌদি আরবের জেদ্দায় আগামী ৮ থেকে ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ষষ্ঠ হজ সম্মেলন ও প্রদর্শনী। ছবি: সংগৃহীত

হজযাত্রীদের চিকিৎসাসহ আধুনিক প্রযুক্তির নতুন উদ্ভাবন উন্মোচনে জেদ্দায় ষষ্ঠ হজ সম্মেলন

যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালের পেনজ্যান্সে বাড়ি গুছাতে গিয়ে বিস্কুটের পুরোনো টিনে সোনার মুদ্রার সন্ধান পেয়েছেন এক বিধবা। ছবি: সংগৃহীত

বাড়ি গুছাতে গিয়ে স্বামীর লুকানো ১ লাখ ১৩ হাজার পাউন্ডের সোনার মুদ্রা খুঁজে পেলেন বিধবা

‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের পর বদলি হলেন বুশরা বানো। ছবি: সংগৃহীত

‘ইনশাআল্লাহ’, 'জাজাকাল্লাহ' বলায় বিতর্ক, ভারতে নারী আইপিএস কর্মকর্তাকে বদলি

0 Comments