- প্রচ্ছদ
- Topic
#খাদ্যনিরাপত্তা
বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের দাম বাড়তে থাকায় খাদ্যসংকটের ঝুঁকি আরও বাড়ছে। উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন ক্ষুদ্র কৃষকেরা। একই সঙ্গে বাড়ছে কৃষিপণ্যের দাম, যার প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের খাদ্য কেনার সামর্থ্যের ওপর। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (আইএফএডি) প্রধান সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের খাদ্যসংকট সামনে আসছে। আইএফএডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্ববাজারে কৃষিপণ্যের দাম ১৩ শতাংশ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। জ্বালানি ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সারের দামও বেড়েছে। ফলে কৃষিকাজ থেকে শুরু করে উৎপাদিত পণ্য বাজারে পৌঁছে দেওয়ার খরচ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। আইএফএডির প্রেসিডেন্ট আলভারো লারিও মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী ছয় থেকে নয় মাসেও খাদ্যের দাম বাড়তে পারে। একই সঙ্গে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন সেই মানুষ, যাঁদের আয় কম এবং যাঁদের পক্ষে বাড়তি দামে প্রয়োজনীয় খাবার কেনা কঠিন। লারিওর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় প্রতি তিনজন মানুষের একজনই স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য রাখেন না। খাদ্যের দাম বাড়লে তাঁদের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে। কারণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় থাকা ডাল, শাকসবজি ও মাংসের মতো পণ্যের ব্যয় বাড়লে অনেক পরিবারকে খাবারের পরিমাণ বা ধরন বদলাতে হতে পারে। এতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সুযোগও কমে যেতে পারে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৬ কোটি মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অর্থাৎ, তাঁদের নিয়মিত পর্যাপ্ত ও নিরাপদ খাবার পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। খাদ্যের দাম বাড়তে থাকলে এই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পরিস্থিতির প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে। কারণ, এসব দেশের বহু পরিবারের আয়ের বড় অংশই খাবার কেনার পেছনে ব্যয় হয়। ফলে খাদ্যের দাম সামান্য বাড়লেও তাঁদের দৈনন্দিন ব্যয়ে বড় চাপ তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকে যোগ দিতে ব্যাংককে অবস্থানকালে লারিও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই সংকটের সবচেয়ে বড় চাপের মুখে রয়েছেন ক্ষুদ্র কৃষকেরা। আইএফএডির হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের মোট খাদ্য উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তাঁদের মাধ্যমে আসে। অনেক উন্নয়নশীল দেশে মোট খাদ্য উৎপাদনের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত তাঁদের অবদান রয়েছে। অথচ জ্বালানি ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের উৎপাদন খরচ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে রাসায়নিক সার কেনার ব্যয় কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। সার ও জ্বালানি ছাড়া অনেক ফসলের উৎপাদন এবং পরিবহন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও কৃষকেরা সব সময় সেই অনুপাতে পণ্যের দাম বাড়াতে পারেন না। ফলে তাঁদের আয় কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এর প্রভাব ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনেও পড়তে পারে। লারিও বলেন, স্বল্পমেয়াদে সরকারগুলোর হাতে সংকট মোকাবিলার সুযোগ সীমিত। তবে প্রয়োজন হলে সার কেনার খরচ বা জ্বালানির দাম কমাতে ভর্তুকি দেওয়া যেতে পারে। এতে কৃষকদের তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে তাঁর মতে, শুধু সাময়িক সহায়তা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান করা যাবে না। খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে সহায়তা দিতে বৃহস্পতিবার জি-৭ জোটের দেশগুলো ২৫০ কোটি ডলার সংগ্রহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ সহায়তায় সারের সরবরাহ ও প্রাপ্যতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি ও সারের বাড়তি ব্যয়ের কারণে কৃষি উৎপাদন যেন আরও বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে লারিও মনে করেন, ভবিষ্যতের জন্য কৃষি খাতকে আরও সহনশীল করে তোলা জরুরি। তাঁর মতে, জ্বালানি, সার ও অন্যান্য উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির মতো ধাক্কা ভবিষ্যতেও আসতে পারে। তাই আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের কথা মাথায় রেখে কৃষি উৎপাদনব্যবস্থার দুর্বলতা কমাতে হবে। এ জন্য ফসলের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং খাদ্য সরবরাহের বিভিন্ন পথ গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। কোনো একটি ফসল বা সরবরাহব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থাকলে সংকটের সময় খাদ্যের ঘাটতি আরও তীব্র হতে পারে। পাশাপাশি, যেসব দেশ নিজেদের প্রয়োজনীয় খাদ্যের বড় অংশ নিজেরাই উৎপাদন করতে পারে, তাদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। লারিও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য মাটির স্বাস্থ্য ও পানির প্রাপ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই দুই ক্ষেত্রেই সমস্যা বাড়ছে। খরা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং পানির সংকট কৃষি উৎপাদনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। অন্যদিকে, ক্ষুদ্র কৃষকদের জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করার জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়নও অপর্যাপ্ত। লারিওর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বরাদ্দ করা জলবায়ু অর্থায়নের এক শতাংশেরও কম পেয়েছেন ক্ষুদ্র কৃষকেরা। অথচ কৃষি উৎপাদন সচল রাখা এবং ভবিষ্যতের খাদ্যসংকট মোকাবিলায় তাঁদের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধি তাই শুধু কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়ের সমস্যা নয়; এটি সাধারণ মানুষের খাদ্য কেনার সামর্থ্য এবং বিভিন্ন দেশের খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। সাময়িক ভর্তুকি ও আন্তর্জাতিক সহায়তা তাৎক্ষণিক চাপ কমাতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদনের বৈচিত্র্য, জলবায়ু অভিযোজন এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানো না গেলে খাদ্যের দাম ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন ও যু দ্ধের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি থমকে গেছে। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে (জিএইচআই) অঞ্চলটির দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। পাকিস্তানও রয়েছে গুরুতর ক্ষুধা পরিস্থিতির মধ্যে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত সূচকের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘খাদ্যনিরাপত্তা ছাড়া কোনো নিরাপত্তা নেই’ প্রতিপাদ্যে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে ওয়েলথাঙ্গারহিলফে, রুর বিশ্ববিদ্যালয় বোখুমের শান্তি ও সশস্ত্র সং ঘাতবিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন ইনস্টিটিউট এবং সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা হেলভেটাস। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার স্কোর ২৩ দশমিক ৫। অন্যদিকে, বৈশ্বিক স্কোর ১৮ দশমিক ১। সূচকের হিসাবে স্কোর যত বেশি, ক্ষুধার পরিস্থিতি তত গুরুতর। ২০০০ সালে দক্ষিণ এশিয়ার স্কোর ছিল ৩৭ দশমিক ৫। দীর্ঘ সময়ে অগ্রগতি হলেও ২০১৮ সালের পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তানের স্কোর ২৮ দশমিক ৬ এবং পাকিস্তানের ২৫ দশমিক ৫। ভারতের স্কোর ২৪ দশমিক ১। এসব স্কোর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে ক্ষুধার গুরুতর পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে ২০১৮ সালের পর খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পাকিস্তানে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে অনেক পরিবারের পক্ষে পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটিতে অপুষ্টির হার ২০১৮ সালের তুলনায় বেড়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হারও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তবে পাকিস্তানে শিশুদের বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা বা স্টান্টিংয়ের হার কমছে। আফগানিস্তানে ২০১৮ সালের পর এই হার কিছুটা বেড়েছে। দুই দেশেই ২০০০ সালের তুলনায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃ ত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্যসংকটের পেছনে প্রাকৃতিক দুর্যোগও বড় ভূমিকা রাখছে। অতিবৃষ্টি ও বন্যায় পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কয়েকটি এলাকায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের শস্য উৎপাদন মৌসুমে আফগানিস্তানে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত ও বেশি তাপমাত্রা কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায়, ইরানসহ, প্রায় ২১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগেছে। এ সংখ্যা বিশ্বজুড়ে অপুষ্টিতে থাকা মানুষের মোট সংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বিশ্বজুড়েও ক্ষুধা পরিস্থিতি আবার খারাপ হচ্ছে। প্রায় দুই দশকের অগ্রগতির পর ২০২৬ সালে বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকের স্কোর দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ১, যা ২০১৮ সালের ১৭ দশমিক ৬-এর চেয়ে বেশি। ২০১৮ সালের পর থেকে ৩২টি দেশে ক্ষুধা বেড়েছে। আর ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধার মাত্রা অন্তত নিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনে ৫৭টি দেশ পিছিয়ে পড়ার পথে রয়েছে। সূচকের চারটি প্রধান নির্দেশকের মধ্যে তিনটির অবনতি হয়েছে। এগুলো হলো অপুষ্টির হার, শিশুদের বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা এবং শিশুদের তীব্র অপুষ্টি। শুধু শিশুমৃ ত্যুর হার সামান্য কমেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযু দ্ধের পর বর্তমানে রাষ্ট্রভিত্তিক সশস্ত্র সং ঘাতের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর সঙ্গে ঘন ঘন চরম আবহাওয়ার ঘটনা যুক্ত হয়ে খাদ্য উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারদরে চাপ তৈরি করছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যু দ্ধ এবং হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নৌপরিবহনে বিঘ্নের কারণে জ্বালানি, পরিবহন ও সার উৎপাদনের ব্যয় বাড়ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যু দ্ধ এবং কৃষ্ণসাগর দিয়ে পণ্য রপ্তানিতে বিধিনিষেধও গমের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের খাদ্য কেনার সামর্থ্যে। এদিকে, খাদ্যনিরাপত্তা খাতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে ২০১৬-২০১৭ সালের পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি সংকুচিত হচ্ছে এবং জরুরি খাদ্য বরাদ্দ কমানোর প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে। প্রতিবেদনটির প্রণেতারা সরকারগুলোর প্রতি মানবিক সহায়তা ও খাদ্যনিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে অর্থায়ন কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ভবিষ্যতের খাদ্যসংকট প্রতিরোধ, আগাম ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
ষাট বছর আগের তুলনায় বর্তমানে শাকসবজি, ফলমূল ও বিভিন্ন শস্যে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, গম, আপেল ও গাজরের মতো পরিচিত খাবারে কয়েকটি প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের পরিমাণ ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ফলে আগের মতো সমপরিমাণ পুষ্টি পেতে এখন কিছু ক্ষেত্রে দ্বিগুণ পরিমাণ ফলমূল ও শাকসবজি খেতে হতে পারে। এর পেছনে মাটির গুণমানের অবনতি এবং অধিক ফলন নিশ্চিত করতে কৃষিকাজে দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করা পদ্ধতিকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকেরা। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিপ সায়েন্স ভেঞ্চারসের (ডিএসভি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘হলো হারভেস্টস: রিবিল্ডিং দ্য নিউট্রিশনাল ভ্যালু অব ক্রপস ইন অ্যান এজ অব অ্যাবান্ড্যান্ট ক্যালোরিজ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ফসলের পুষ্টিমান কমে যাওয়ার কারণ, এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত প্রভাব এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার উপায় বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শস্য, রুটি, গাজর, আপেল ও মটরশুঁটির মতো খাবারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, তামা, দস্তা ও সেলেনিয়ামের মতো খনিজ উপাদানের পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকেরা। এসব উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, গত কয়েক দশকে কৃষির প্রধান লক্ষ্য ছিল প্রতি হেক্টর জমিতে ফসলের উৎপাদন বাড়ানো। নতুন জাত উদ্ভাবন, উন্নত কৃষিপদ্ধতি এবং অধিক ফলনশীল ফসল চাষের ফলে খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে ফসলের ভেতরে থাকা পুষ্টি উপাদানের দিকে তুলনামূলকভাবে কম নজর দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ডিএসভির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০-এর দশকের তুলনায় প্রতি হেক্টর জমিতে শস্য উৎপাদন ২১৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে উন্নয়নশীল বিশ্বে অপুষ্টির হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ১২ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো এবং মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু খাদ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া গেলেই যে শরীর প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি পাবে, তা নিশ্চিত হচ্ছে না। গবেষকদের হিসাবে, বিশ্বে এখনো ২০০ কোটির বেশি মানুষ অন্তত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন বা খনিজ উপাদানের ঘাটতিতে ভুগছেন। একে অনেক সময় ‘লুকানো ক্ষুধা’ বলা হয়। এ ক্ষেত্রে মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার খাচ্ছেন, এমনটা সব সময় নয়। বরং পর্যাপ্ত ক্যালরি গ্রহণের পরও খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাব থাকতে পারে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশেও এ সমস্যা দেখা যায়। এসব দেশে অনেকের খাদ্যাভ্যাসে ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকলেও সেলেনিয়াম ও ফোলেটের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না। ফলে বাইরে থেকে খাবারের পরিমাণ যথেষ্ট মনে হলেও শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থেকে যেতে পারে। সেলেনিয়ামের উদাহরণ দিয়ে প্রতিবেদনে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পূর্ণশস্য ও ব্রাজিল নাটে সেলেনিয়াম পাওয়া যায়। তবে গমের পুষ্টিঘনত্ব কমে যাওয়ার কারণে এখন নারীদের দৈনিক সুপারিশকৃত সেলেনিয়ামের চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ পূরণ করতে চার টুকরা পূর্ণগমের রুটি খেতে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে, ১৯৬০-এর দশকের পর বাজারে আসা রুটির জন্য ব্যবহৃত গমের জাতগুলোর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও কম জাত সুপারিশকৃত দস্তার মাত্রা পূরণ করতে পারে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে। দস্তার ঘাটতি হলে ত্বক, চুল ও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, সেলেনিয়ামের অভাব রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করতে পারে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ফসলের পুষ্টিমান কমে যাওয়ার সঙ্গে মাটির স্বাস্থ্যের সম্পর্কও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। মাটিতে প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের প্রাপ্যতা কমে গেলে গাছের পক্ষে সেগুলো শোষণ করে খাদ্যশস্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে জমা করা কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে উচ্চ ফলন নিশ্চিত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত প্রজনন ও কৃষিপদ্ধতি ফসলের আকার ও উৎপাদন বাড়ালেও পুষ্টির ঘনত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ পরিস্থিতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে ওজন কমানোর জন্য ব্যবহৃত জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধের জনপ্রিয়তা। ওজেম্পিক ও মাউঞ্জারোর মতো ওষুধ ক্ষুধা কমাতে এবং খাবার গ্রহণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। ফলে এসব ওষুধ ব্যবহারকারীরা আগের তুলনায় কম খাবার খেলে প্রতিবার খাবার থেকে পর্যাপ্ত পুষ্টি পাওয়ার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফসলের পুষ্টিমান কমতে থাকার প্রবণতা এবং ওজন কমানোর ওষুধের ব্যবহার বৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাবে যুক্তরাজ্যের কর্মক্ষম বয়সী প্রায় ৫০ লাখ মানুষ প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের নিরাপদ মাত্রার নিচে চলে যেতে পারেন। এটি একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির হিসাব; বর্তমানে ওই সংখ্যক মানুষ পুষ্টির ঘাটতিতে আক্রান্ত হয়েছেন, এমন দাবি নয়। ডিএসভির জলবায়ুবিষয়ক জ্যেষ্ঠ সহযোগী উইল সামার্স বলেন, গত ৬০ বছর ধরে খাদ্যনিরাপত্তা মূল্যায়নে মূলত ক্যালরির পরিমাণ এবং প্রতি হেক্টরে উৎপাদিত ফসলের হিসাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এলেও খাবারের ভেতরে থাকা পুষ্টি উপাদানের মান ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। তিনি আরও বলেন, ওজন কমানোর ওষুধের কারণে মানুষ যখন কম খাবেন, তখন প্রতিবার খাবার থেকে কতটা পুষ্টি পাওয়া যাচ্ছে, তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলার উপায়ও রয়েছে। উন্নত ফসলের জাত উদ্ভাবন, মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার, বাজারব্যবস্থায় পুষ্টিমানকে গুরুত্ব দেওয়া এবং কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যাটি সমাধানের সুযোগ আছে বলে তিনি মনে করেন। প্রতিবেদনে ফসলের উৎপাদনের পরিমাণের পাশাপাশি পুষ্টিমান পরিমাপ ও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কৃষক, খাদ্যশিল্প ও নীতিনির্ধারকেরা যদি পুষ্টিঘনত্ব বাড়ানোর বিষয়টিকে উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করেন, তাহলে বিদ্যমান পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব হতে পারে। গবেষকদের মতে, ফসলের পুষ্টিঘনত্ব ৩০ শতাংশের বেশি বাড়ানো গেলে ওজন কমানোর ওষুধের কারণে খাবার গ্রহণ কমে যাওয়ার প্রভাব সামাল দেওয়া সম্ভব হতে পারে। এতে যুক্তরাজ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের বিদ্যমান ঘাটতির হারও প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সব ফলমূল ও শাকসবজির পুষ্টিমান একই হারে কমেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। গবেষণাটির মূল বক্তব্য হলো, কয়েক দশক ধরে অনেক ফসলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান কমেছে। তাই খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খাবারের প্রকৃত পুষ্টিমান নিশ্চিত করাও এখন কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের ঘটনার তদন্তে নতুন তথ্য দিয়েছে খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। শুক্রবার সংস্থাটি জানিয়েছে, সং ক্র মণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেক্সিকোর একটি খামারে সাইক্লোস্পোরা নামের পর জী বি শনাক্ত করেছেন তদন্তকারীরা। মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতোতে অবস্থিত ওই খামারে এফডিএর তদন্তকারীরা গিয়েছিলেন ছয় সপ্তাহেরও বেশি আগে। সেখানে লেটুস চাষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি স্থানে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় একটি বর্জ্যপানি সংরক্ষণ ট্যাংক এবং একটি ড্রেনেজ খালে সাইক্লোস্পোরা শনাক্ত হয়েছে। তবে কীভাবে ওই পর জী বি লেটুসে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এফডিএ জানিয়েছে, পাওয়া নমুনাগুলোতে এমন শক্তিশালী মহামারিবিদ্যাগত তথ্য রয়েছে, যা সং ক্র মণের ঘটনাটির সঙ্গে টেইলর ফার্মসের ওই খামারের সম্পর্ককে আরও জোরালো করে। টেইলর ফার্মস অবশ্য আলাদা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এফডিএ যে দূষণের কথা বলেছে, সেটি তাদের একজন স্বতন্ত্র চাষির সঙ্গে সম্পর্কিত। ওই চাষি এখন আর প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহকারী কর্মসূচির অংশ নন বলেও জানিয়েছে কোম্পানিটি। কোম্পানিটি আরও বলেছে, মধ্য মেক্সিকোতে তাদের সংশ্লিষ্ট স্থাপনা এখনো বন্ধ রয়েছে। মাঠ থেকে শুরু করে উৎপাদনস্থল পর্যন্ত খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে গবেষণা দলের সঙ্গে কাজ করছে তারা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা গত মাসে এই সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের প্রা দু র্ভা ব শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন। এফডিএ জানিয়েছে, এই নির্দিষ্ট সং ক্র মণের সঙ্গে সম্পর্কিত বাজার থেকে প্রত্যাহার করা সব আইসবার্গ লেটুস সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে তারা নিশ্চিত। তবে এবারের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের ব্যাপকতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যজুড়ে এই সং ক্র মণের ঘটনায় প্রায় ১৩ হাজার রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছর পর জী বি জনিত ডায়রিয়ায় আ ক্রা ন্তের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বড় অংশই এই প্রা দু র্ভা বের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের জন্য সবচেয়ে খারাপ বছর ছিল ২০১৯ সাল। সে বছর দেশজুড়ে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ অসুস্থতার খবর পাওয়া যায়। এবারের সংখ্যা সেই রেকর্ডের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সাইক্লোস্পোরা একটি অতি ক্ষুদ্র গোলাকার পর জী বি। এটি মানুষের অন্ত্রে সং ক্র মণ ঘটিয়ে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস নামের অসুস্থতা তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এই রোগের অন্যতম প্রধান উপসর্গ হলো পানির মতো পাতলা পায়খানা। এর সঙ্গে পেটের অস্বস্তি, ক্লান্তি ও অন্যান্য হজমজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের ঘটনা সাধারণত বসন্তের শেষ দিক ও গ্রীষ্মকালে বেশি দেখা যায়। অন্যান্য জীবাণু, যেমন সালমোনেলা ও ই. কোলাইয়ের কারণে হওয়া খাদ্যজনিত অসুস্থতার তুলনায় এটি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেলেও অনেক ক্ষেত্রেই সং ক্র মণের নির্দিষ্ট খাদ্য বা উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। এফডিএর নতুন তদন্তের তথ্য তাই সং ক্র মণের সম্ভাব্য উৎস চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রা দু র্ভা ব শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছে, মেক্সিকোর খামারে পর জী বি শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।
ফ্লোরিডায় বাটার পেকান আইসক্রিম খাওয়ার পর পেরেক ও ধাতব টুকরো গিলে গুরুতর স্বাস্থ্যজটিলতায় পড়া এক নারীকে ১৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জুরি। ব্র্যান্ডি বাকলি নামের ওই নারী ২০১৮ সালে পাম বে শহরের একটি ব্রাস্টার্স আইসক্রিমের দোকান থেকে আইসক্রিম কিনেছিলেন। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বিচার শেষে ২০২৬ সালের মার্চে ব্রেভার্ড কাউন্টির ছয় সদস্যের জুরি তার পক্ষে রায় দেন। ঘটনার দিন বাকলি তার ছেলেকে নিয়ে দোকান থেকে বাটার পেকান আইসক্রিম কিনেছিলেন। আইসক্রিম খাওয়ার পর তার গলায় কিছু আটকে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়। প্রথমে তিনি সেটিকে পেকানের টুকরো বলে মনে করেছিলেন। পরে আরও আইসক্রিম নেওয়ার সময় তিনি আইসক্রিমের মধ্যে একটি ধাতব পেরেক দেখতে পান। হাসপাতালে এক্স-রে করার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, তিনি ধাতব একটি বস্তু গিলে ফেলেছেন। বাকলির আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা তার শরীর থেকে একটি পেরেক ও একাধিক ধাতব টুকরো বের করেন। এরপরও তার চিকিৎসা চলতে থাকে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, তিনি পোর্টাল ভেইন থ্রম্বোসিস অর্থাৎ রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধার জটিলতায় আক্রান্ত হন এবং উল্লেখযোগ্য অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়। পরে তাকে আরও একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বাকলির আইনজীবীদের দাবি, চিকিৎসার পর তিনি স্থায়ীভাবে সন্তান ধারণের সক্ষমতা হারান। এই স্বাস্থ্যজটিলতার পাশাপাশি আইসক্রিমে ধাতব বস্তু থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০১৯ সালে তিনি মালাবার ক্রিমারিজের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটির ব্রাস্টার্স আইসক্রিমের পণ্যে ধাতব পেরেক ও অন্যান্য ধাতব টুকরো ছিল, যার কারণে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। মামলার জবাবে প্রতিষ্ঠানটি একাধিক অভিযোগ অস্বীকার করে। তাদের দাবি ছিল, বাকলির নিজের অবহেলাও ঘটনার জন্য দায়ী বা আংশিকভাবে দায়ী হতে পারে। একই সঙ্গে তারা দাবি করে, বিক্রি করা আইসক্রিম ত্রুটিপূর্ণ ছিল না। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিচার চলার পর জুরি স্থানীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ও জাতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজার—দুই পক্ষকেই দায়ী করেন। এরপর বাকলির জন্য মোট ১৪,১৪৭,৫২৫ দশমিক ৩৯ ডলার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়। মামলার আইনজীবী প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা ব্যয়, শারীরিক ক্ষতি ও ভোগান্তিসহ বিভিন্ন ক্ষতির জন্য এই অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জুরির রায়ের পরও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। বাকলির আইনজীবী জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ওয়েশ জানিয়েছে, মামলায় অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে জুরির নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অর্থ বাকলি কবে হাতে পাবেন, তা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। সোর্স- ওয়েশ, কেসিসিআই, ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো, ব্রেভার্ড কাউন্টি আদালতের নথি, আলপিজার ল
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।