গণভোট

রংপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। আজ রোববার রাতে রংপুরের কাউনিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে। ছবি: সংগৃহীত
গণভোটে প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ বললেও গোপনে না-এর কার্যক্রম চালাচ্ছে বিএনপি: হাসনাত আবদুল্লাহ

আসন্ন গণভোটে বিএনপি প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিলেও গোপনে ‘না’-এর কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।   রোববার রাতে রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। রাত আটটার দিকে কাউনিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ পথসভায় তিনি বলেন, বিএনপি ওপেনে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু গোপনে তারা না-এর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই ওপেন-গোপনের খেলা বন্ধ করে জনতার কাতারে নেমে এসে গণভোটে মুখে যেটা বলবেন, কাজে সেটাই করে হ্যাঁকে জিতিয়ে আগামী সংসদে ক্ষমতার কাঠামোয় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।   দেশে দুর্নীতি বন্ধ এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভোটারদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ভারতের যে রাজনৈতিক দলের বাংলাদেশ শাখা জাতীয় পার্টি ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই জাতীয় পার্টিকে ১২ তারিখ ভোটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দাফন করতে হবে। তারা ইতোমধ্যে রাজনৈতিকভাবে মৃত; ১২ তারিখ হবে তাদের জানাজা।   এ পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর আমির এ টি এম আজম খানসহ দলটির অন্যান্য নেতারা।   সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ রংপুর-৪ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে আখতার হোসেনকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আখতার হোসেন শুধু কাউনিয়ার জন্য নয়, বরং দেশের যেকোনো আসন থেকে নির্বাচন করার যোগ্যতা রাখেন।   হাসনাত বলেন, “তিনি শুধু নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হননি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে। যখন মিডিয়া নীরব ছিল, প্রশাসন ও মূলধারার শক্তিগুলো হাসিনাকে সমর্থন দিচ্ছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ক্যারিয়ারের চিন্তায় নির্যাতনের বিষয় উপেক্ষা করছিল, তখন একাই যিনি দাঁড়িয়েছিলেন নিপীড়নের বিরুদ্ধে—তিনি আমাদের মজলুম নেতা আখতার হোসেন।”

শাহারিয়া নয়ন ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ 0
তারেক রহমান
রংপুরে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট চাইলেন তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সংস্কার সনদ’ বিষয়ক গণভোটকে সামনে রেখে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে এক বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উত্তরবঙ্গের হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে।   তারেক রহমান তাঁর ভাষণের শুরুতেই জুলাই বিপ্লবের আইকন শহীদ আবু সাঈদ ও ওয়াসিমসহ প্রায় ১৪শ শহীদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “রংপুর কেবল একটি জেলা নয়, এটি ত্যাগের এক পবিত্র ভূমি। আবু সাঈদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের অবশ্যই সংস্কারের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। তাই ১২ ফেব্রুয়ারি ভোর থেকেই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষের বিজয়ের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে।”   রংপুরের সম্ভাবনা ও উন্নয়ন নিয়ে এক বিশেষ অর্থনৈতিক রূপরেখা পেশ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “রংপুরকে যারা গরিব অঞ্চল মনে করেন, তারা ভুল করছেন। আমাদের লক্ষ্য হলো রংপুরকে একটি আধুনিক শিল্প ও আইটি হাবে রূপান্তর করা। এখানে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কৃষিজাত পণ্যের কলকারখানা স্থাপন করা হবে এবং স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী কর ছাড় (Tax holiday) সুবিধা দেওয়া হবে।”   কৃষক ও নারীদের কল্যাণে বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে। প্রতিটি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে স্মার্ট কৃষি কার্ড, যার মাধ্যমে অন্তত এক ফসলের বীজ ও কীটনাশক সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাবেন তারা। এছাড়া নারীদের মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে।”   ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ঐক্য ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, এদেশের মানুষ আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন দেখতে চায় না। ভোটারদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি একটি জবাবদিহিমূলক এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রংপুরের এই জনসভা নির্বাচনী প্রচারণায় ধানের শীষের পালে এক নতুন হাওয়া যোগ করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসছে ১৬ দেশের ৫৭ পর্যবেক্ষক

বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই সংস্কার সনদ’ বিষয়ক ঐতিহাসিক গণভোটকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন আন্তর্জাতিক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে বিশ্বের ১৬টি দেশ থেকে ৫৭ জন দ্বিপক্ষীয় পর্যবেক্ষকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রায় ৪০০ জন প্রতিনিধি বাংলাদেশে আসছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   দ্বিপক্ষীয় পর্যবেক্ষকদের তালিকা: প্রেস উইংয়ের তথ্যমতে, দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে সবচেয়ে বড় প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া। দেশটির নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান দাতো শ্রী রামলান বিন দাতো হারুনের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি দল বাংলাদেশে আসছে। তুরস্ক থেকে আসছেন ১২ জন সংসদ সদস্য, যাদের নেতৃত্বে থাকবেন বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করা সাবেক তুর্কি রাষ্ট্রদূত মেহমেত ভাকুর এরকুল। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫ জন, জাপান থেকে ৪ জন এবং পাকিস্তান থেকে ৩ জন পর্যবেক্ষক আসার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। তালিকায় আরও রয়েছে ভুটান, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, জর্ডান, জর্জিয়া, রাশিয়া, কিরগিজস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলো।   আন্তর্জাতিক সংস্থার জোরালো নজরদারি: এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ জানান, কমনওয়েলথ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে প্রায় ৪০০ পর্যবেক্ষক এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকছেন। কমনওয়েলথের ১৪ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের দলটির নেতৃত্ব দেবেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানান আকুফো-আদ্দো। এই দলে আরও থাকছেন মালদ্বীপ ও সিয়েরা লিওনের সাবেক শীর্ষ কূটনীতিকরা। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লাতভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইজাবস, যাঁর সাথে যোগ দেবেন আরও সাতজন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য।   নির্বাচনী প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, ৩০০ আসনের এই সংসদ নির্বাচনে এবার ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের প্রায় দুই হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই দিনে ‘জুলাই সংস্কার সনদ’ নিয়ে দেশজুড়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মহলের এই বিশাল উপস্থিতি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
১ ফেব্রুয়ারি থেকে টেক্সটাইল মিল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত

সরকারের আশ্বাসে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সব টেক্সটাইল মিল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।   বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বিটিএমএ।   বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সভাপতিত্বে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের বিদ্যমান সমস্যাসমূহ নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্পিনিং সেক্টরের চলমান সংকট ও সমস্যাসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় বাণিজ্য উপদেষ্টা স্পিনিং শিল্পের সমস্যাগুলোর যৌক্তিকতা স্বীকার করে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও শিল্পখাতে এ খাতের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি সরকারের পক্ষ থেকে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সমস্যার কার্যকর, বাস্তবসম্মত ও ন্যায্য সমাধানে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।   সরকারের সুস্পষ্ট আশ্বাস, চলমান ফলপ্রসূ আলোচনার ইতিবাচক অগ্রগতি এবং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে বিটিএমএ তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।   সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রহিমা বেগম, এনবিআরের শুল্ক নীতির সদস্য মুবিনুল কবীরসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   এছাড়া বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বিজিএমইএ-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান, বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানসহ সংশ্লিষ্ট শিল্প সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারাও সভায় অংশ নেন। সভায় বিটিএমএ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে তাঁদের নিজ নিজ প্রস্তাবনা ও দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।   সভায় বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও জানান, টেক্সটাইল ও স্পিনিং সেক্টরের সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের অংশগ্রহণে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।   বিটিএমএ আশা প্রকাশ করেছে, সরকার ন্যায্যতা, বাস্তবতা ও দ্রুততার ভিত্তিতে স্পিনিং সেক্টরের বিদ্যমান সমস্যাসমূহের সমাধান করবে। এতে দেশের রপ্তানি শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সুরক্ষা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংগঠনটি মনে করে। পরিস্থিতি ও আলোচনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে সময়োপযোগী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

তাবাস্সুম জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
ভোট ঘিরে তিন দিন যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট কিছু যানবাহনের চলাচলে তিন দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।   নির্বাচন কমিশনের জারি করা চিঠি অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগের দিন রাত ১২টা থেকে ভোটের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে— যা কার্যকর থাকবে ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত, অর্থাৎ টানা তিন দিন।   তবে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, অনুমোদিত নির্বাচন পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক এবং জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন। এছাড়া ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী ও সংবাদপত্র পরিবহন এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার যান চলাচল অব্যাহত থাকবে।   নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী যাত্রী ও তাঁদের স্বজনরা টিকিট প্রদর্শন সাপেক্ষে যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাঁদের নির্বাচনী এজেন্টরা রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন এবং নির্ধারিত স্টিকার প্রদর্শনের মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন।   এছাড়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারদের স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় প্রয়োজনে নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা আরও কঠোর করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।   নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটকে কেন্দ্র করে সারাদেশে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই তিন দিনের যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
বক্তব্য দিচ্ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের
গণভোট বেআইনি ও অবৈধ: জি এম কাদের

রংপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী ও দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের গণভোট প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘এটা নিয়ে পার্লামেন্টে কথা হবে। পার্লামেন্টের বাইরে কথা হবে, চায়ের দোকানে কথা হবে ইউটিউবে কথা হবে। তখন মানুষ বুঝবে, এখানে এই জিনিসটা ভালো, এই জিনিসটা খারাপ– আমি হ্যাঁ ভোট দেবো, না “না” ভোট দেবো। আপনারা কেন আগে থেকে বলছেন– যেখানে মানুষকে আপনি সবগুলো জিনিস বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। এবং এই কাজটি যেহেতু সংবিধানসম্মত নয়, এই জন্য আমি মনে করি এই গণভোট বেআইনি ও অবৈধ।’   শনিবার বিকালে রংপুর নগরীর পায়রা চত্বর গ্রান্ড হোটেল মোড় এলাকায় গণসংযোগ করে লিফলেট বিতরণের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী তার সঙ্গে ছিলেন।   জিএম কাদের গণভোট প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘এখন বলা হচ্ছে, যারা “না” ভোটের পক্ষে বলছেন তারা স্বৈরাচারের দোসর। আমি বলতে চাই, যারা “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে বলছেন তারা নাৎসিবাদের দোসর। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এটা বেআইনি। এ জন্য যে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে সেটাও বেআইনি এবং অবৈধ।’   এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে জিএম কাদের বলেন, ‘আমি রংপুরের সন্তান আমাকে রংপুরের জনগণ বিপুল ভোটে লাঙ্গল মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে।’ তিনি সমবেত জনতাকে আবারও ভোট দিয়ে জয়ী করার আহ্বান জানান।   শনিবার বিকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করে লিফলেট বিতরণ করে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট চান।   বিকালে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোড এলাকায় জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জিএম কাদের। এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ এবং লাঙ্গল মার্কার পক্ষে ব্যাপকভাবে গণসংযোগ করার আহ্বান জানান।   এ সময় মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসিরসহ জাতীয় পার্টির জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ তার সঙ্গে ছিলেন।

তাবাস্সুম জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

যুক্তরাষ্ট্রে ধেয়ে আসছে বিশাল বরফ ও তুষার ঝড় — সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত থেকে কম বিপদগ্রস্ত রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।   CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।   সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।

নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়ল

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি।   এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে।   প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল।   অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।   সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী, সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানিরা

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার :  এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।   প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল

Top week

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র
আমেরিকা

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

তাবাস্সুম জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0