গণভোট

ছবি: সংগৃহীত
গণভোটে হেরে গেল অভিবাসন কমানোর প্রস্তাব, স্বস্তিতে সুইজারল্যান্ড

সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ১ কোটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের একটি বিতর্কিত প্রস্তাব গণভোটে প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির ভোটাররা। ডানপন্থি রাজনৈতিক দল সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি-ইউডিসি) সমর্থিত এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৫৪ শতাংশেরও বেশি।   রোববার অনুষ্ঠিত এই গণভোটে প্রস্তাবটি বাতিল হওয়ার পর দেশটির প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সুইজারল্যান্ডের বিচার ও পুলিশমন্ত্রী বিট ইয়ান্স এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে নাগরিকেরা দেশের স্থিতিশীলতা, উন্মুক্ততা এবং নির্ভরযোগ্যতার পক্ষে তাদের রায় দিয়েছেন।   ইউডিসি প্রস্তাবিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল ২০৫০ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের স্থায়ী জনসংখ্যা কোনোভাবেই যেন ১ কোটি পার না হয়। বর্তমানে দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৯৫ লাখ, যার মধ্যে এক-চতুর্থাংশেরও বেশি বিদেশি নাগরিক। ইউডিসির দাবি ছিল, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করা না হলে দেশের আবাসন সংকট, যানজট, অপরাধ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ওপর চাপ আরও বাড়বে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব পাস হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের মানুষের অবাধ চলাচল সংক্রান্ত চুক্তি বাতিল করতে হতো, যা দেশটির অর্থনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করত।   ভোটের ফলাফলকে হতাশাজনক উল্লেখ করে ইউডিসির সভাপতি মার্সেল ডেটলিং বলেন, হেরে গেলেও ৪৫ শতাংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রমাণ করে যে দেশের একটি বড় অংশ বর্তমানের এই অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন নীতি পছন্দ করছে না। অন্যদিকে, সুইস ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন জানিয়েছে, এই প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে সুইস জনগণ আত্মগুটিয়ে নেওয়া এবং বিদেশিবিদ্বেষী রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।   এবারের গণভোটে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল রেকর্ড প্রায় ৫৯ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর গড় উপস্থিতির (৪৯%) চেয়ে অনেক বেশি। একই দিনে অনুষ্ঠিত অন্য আরেকটি গণভোটে সুইস ভোটাররা বেসামরিক সেবায় যোগদানের নিয়ম কঠোর করার সরকারি প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব ভোট দিয়ে প্রত্যাখ্যান করলেন নাগরিকরা

সুইজারল্যান্ডের মোট জনসংখ্যা কোনোভাবেই ১ কোটির ওপরে যেতে দেওয়া যাবে না—ডানপন্থী দলগুলোর এমন একটি বিতর্কিত প্রস্তাব গণভোটে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির নাগরিকরা। প্রাথমিক ফলাফলের বরাত দিয়ে রোববার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এই তথ্য জানিয়েছে। দেশটির শীর্ষ কট্টর ডানপন্থী দল ‘সুইস পিপলস পার্টি’ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের এই কঠোর প্রস্তাবটি সামনে এনেছিল।   প্রাথমিক ভোট গণনা অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোটার এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। দেশজুড়ে প্রায় ৫৯ শতাংশ ভোটার এই ঐতিহাসিক গণভোটে অংশ নেন। সুইজারল্যান্ডের পার্লামেন্টে সবচেয়ে বেশি আসন থাকা পপুলিস্ট এই ডানপন্থী দলটি দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসনবিরোধী মনোভাব উসকে আসছিল। বিশেষ করে প্রতিবেশী ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আসা কর্মীদের ঢল ঠেকাতে তারা এই গণভোটের আয়োজন করে।   সমালোচকরা এই প্রস্তাবটিকে ‘সুইস ব্রেক্সিট’ নামে অভিহিত করেছিলেন। কারণ এই আইন পাস হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের গভীর অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং মুক্ত যাতায়াতের চুক্তিগুলো বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ত। যদিও সুইজারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের একটি নয়, তবে এটি চারপাশ থেকে অন্যান্য সদস্য দেশগুলো দিয়েই পরিবেষ্টিত।   কট্টরপন্থী দলটির দাবি ছিল, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনসংখ্যা অতিরিক্ত বৃদ্ধির কারণে সুইজারল্যান্ডের আবাসন ব্যবস্থা, সামাজিক কর্মসূচি, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ঐতিহ্যগত জীবনযাত্রার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তবে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার, পার্লামেন্ট এবং প্রধান ব্যবসায়ী সংগঠন ‘ইকোনমিসুইস’ শুরু থেকেই এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। কারণ দেশটির চিকিৎসা, অর্থায়ন, ওষুধ এবং প্রযুক্তি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলো মূলত বিদেশী দক্ষ কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল।   সুইজারল্যান্ডের নিয়ম অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ২০৫০ সালের মধ্যে জনসংখ্যা ১ কোটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে সরকারকে বাধ্যতামুলক ব্যবস্থা নিতে হতো। এমনকি জনসংখ্যা ৯৫ লাখে পৌঁছালেই রাজনৈতিক আশ্রয়, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং রেসিডেন্সি পারমিট দেওয়া বন্ধ করতে হতো। তবে ভোটাররা সচেতনভাবে এই প্রস্তাবটি নাকচ করে দেওয়ায় সুইজারল্যান্ডের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বৈচিত্র্যময় সামাজিক কাঠামো আপাতত সুরক্ষিত রইল।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত রাখার প্রস্তাব নিয়ে গণভোট আজ
সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত রাখার প্রস্তাব নিয়ে গণভোট আজ: বিতর্কে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা

অভিবাসন কি সুইজারল্যান্ডের অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ, নাকি দেশের অবকাঠামো ও সামাজিক ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ—এই দীর্ঘদিনের বিতর্ক এবার পৌঁছেছে গণভোটের মঞ্চে। রোববার (১৪ জুন) ঐতিহাসিক এক গণভোটে অংশ নিচ্ছেন সুইস নাগরিকরা, যেখানে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের জনসংখ্যা কোনোভাবেই ১ কোটি ছাড়াতে না দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   এই প্রস্তাবটি সামনে এনেছে ডানপন্থী রাজনৈতিক দল Swiss People's Party। তাদের দাবি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আবাসন সংকট, সরকারি সেবার চাপ এবং পরিবেশগত সমস্যার সমাধান সহজ হবে। দলটি এটিকে ‘টেকসই উন্নয়নের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে তুলে ধরছে।   তবে সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলো এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করছে। তাদের মতে, এই সীমা কার্যকর হলে দেশের হাসপাতাল, হোটেল, নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে মারাত্মক কর্মী সংকট দেখা দেবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (European Union) সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।   সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০২ সালে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭৩ লাখ। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯১ লাখে। এর মধ্যে প্রায় ২৭ শতাংশ মানুষ বিদেশে জন্মগ্রহণকারী, যা দেশটির অভিবাসননির্ভর শ্রমবাজারের বাস্তবতাকেই তুলে ধরে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ট্রেনে ভিড়, বাসাভাড়ার ঊর্ধ্বগতি এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষও বাড়ছে।   সুইজারল্যান্ডের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের মাধ্যমে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরাসরি গণভোট আয়োজনের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। মাত্র এক লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করেই এ ধরনের প্রস্তাব ভোটে তোলা সম্ভব হয়, যা দেশটির গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।   সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ভোটের ফলাফল খুবই কাছাকাছি হতে পারে। প্রায় ৫২ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, আর ৪৫ শতাংশ পক্ষে রয়েছেন। বাকি অংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন।   প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেওয়া বার্ন ক্যান্টন পার্লামেন্টের প্রতিনিধি নিলস ফিয়েখটার বলেন, অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের কারণে দেশটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। তার মতে, আবাসন সংকট, যানজট এবং সামাজিক সেবার ওপর চাপ বৃদ্ধির পেছনে অভিবাসন একটি প্রধান কারণ।   অন্যদিকে বার্ন সিটি কাউন্সিলের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট সদস্য হেলিন জেনিস এই যুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, অভিবাসীদের দোষারোপ করা সমস্যার সমাধান নয়। তার মতে, বাসাভাড়া বৃদ্ধি বা অবকাঠামো সংকট মূলত নীতিগত সিদ্ধান্তের ফল, যা অভিবাসীরা নিয়ন্ত্রণ করেন না।   প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০৫০ সালের আগেই জনসংখ্যা ১ কোটিতে পৌঁছালে সরকারকে কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এর মধ্যে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমানো এবং বিদেশি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের আনার সুযোগ সীমিত করার মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে।   সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হলো, জনসংখ্যা নির্ধারিত সীমায় পৌঁছে গেলে সুইজারল্যান্ডকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত চলাচলসহ কিছু আন্তর্জাতিক চুক্তি পুনর্বিবেচনা বা বাতিল করতে হতে পারে। ব্যবসায়ী সংগঠন ইকোনমিসুইস এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছে, এতে ইউরোপের সঙ্গে দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।   সংগঠনটির প্রধান অর্থনীতিবিদ রুডলফ মিনশ বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। তাই সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   অন্যদিকে নিয়োগকর্তা সংগঠনগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, দক্ষ বিদেশি কর্মী হারালে সুইস অর্থনীতির গতি কমে যাবে। বর্তমানে দেশটির হোটেল খাতের প্রায় অর্ধেক কর্মীই অভিবাসী, পাশাপাশি হাসপাতাল ও কেয়ার হোমগুলোও বিদেশি কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।   বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করছেন, সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশই বর্তমানে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী। এমন পরিস্থিতিতে তরুণ কর্মশক্তির চাহিদা পূরণে অভিবাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যা সীমিত হলে ভবিষ্যতে সামাজিক ভারসাম্যেও প্রভাব পড়তে পারে।   বিশ্বে এখন পর্যন্ত কোনো দেশই মোট জনসংখ্যার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে এমন নীতি গ্রহণ করেনি। অতীতে চীন ‘এক সন্তান নীতি’ চালু করলেও পরে তা বাতিল করা হয়। ফলে সুইজারল্যান্ডের এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তা আন্তর্জাতিকভাবে নজিরবিহীন একটি সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

নীলুফা নিশাত জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
সময় শেষ হয়ে আসছে, পরিবর্তন না এলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন: শফিকুর রহমান

গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের রায় বাস্তবায়নে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে আর খুব বেশি সময় দেওয়া হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।   শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে ১১–দলীয় ঐক্যের এক বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।   গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, সময় অত্যন্ত সীমিত এবং তা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে; এই সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না এলে চরম পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।   সরকারকে ১৯৯৬ সালের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার যদি স্বেচ্ছায় জনদাবি মেনে না নেয়, তবে বাধ্য হয়েই তাদের দাবি মানতে হবে।   নেতা-কর্মীদের জেল-জুলুম বা ফাঁসির ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে তারা বারবার জীবন দিতে প্রস্তুত। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা।   তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জেলায় গিয়ে বিরোধী দল সম্পর্কে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য দিচ্ছেন, যা একটি রাষ্ট্রীয় পদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও চাঁদাবাজি না কমে উল্টো বেড়েছে এবং দুর্নীতিকে 'জাতীয়করণ' করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।   সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও প্রস্তাবিত বাজেটের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি এই বাজেটকে 'বাস্তবতা-বিবর্জিত' আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে দুর্নীতি, লুটপাট এবং ব্যাংক দখল বন্ধের কোনো রূপরেখা নেই। ব্যাংকিং খাতের চরম বিশৃঙ্খলার কথা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংককে আবারও এস আলমের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে, যা জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।   এছাড়া, চট্টগ্রামে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কর্তৃক জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, পুলিশ, দুদক ও বিচার বিভাগের সংস্কার না হওয়ায় জনগণের ওপর আবারও জুলুম শুরু হয়েছে।   সরকার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটলে জনগণ আবারও গণ-অভ্যুত্থানের পথে হাঁটতে বাধ্য হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। একইসঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, কাঁটাতার আর বন্দুকের গুলি দিয়ে কখনো বন্ধুত্ব হয় না; আধিপত্যবাদী কোনো শক্তিই বাংলাদেশে টিকতে পারবে না।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জাপানের পরিচয়ের অংশ হয়ে থাকা শান্তিবাদী সংবিধান এখন বড় পরিবর্তনের মুখে। ছবি: সংগৃহীত
সংবিধানের যুদ্ধবিরোধী অনুচ্ছেদ সংশোধনের আলোচনা জোরালো। গণভোটের দিকে এগোচ্ছে কি জাপান?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রায় আট দশক ধরে জাপানের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি হয়ে আছে তার শান্তিবাদী সংবিধান। বিশেষ করে সংবিধানের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ, যা দেশটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধক্ষমতা সম্পন্ন সামরিক বাহিনী গঠন থেকে বিরত রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং ডানপন্থী শক্তির উত্থানের ফলে সেই ঐতিহাসিক অবস্থান এখন বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়েছে।   জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন শিবির সংবিধান সংশোধনের পক্ষে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর তার সমর্থকরা এখন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষেও দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে বহুদিন ধরে আলোচিত সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া এবার বাস্তবে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের রক্ষণশীল রাজনীতিকরা দীর্ঘদিন ধরেই সংবিধানের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের চেষ্টা করে আসছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমর্থন, জনমত এবং সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে তারা সফল হতে পারেননি। এবার সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে।   রেইতাকু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং অধ্যাপক এবং রক্ষণশীল চিন্তাকেন্দ্র জাপান ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ফান্ডামেন্টালসের জ্যেষ্ঠ সদস্য সুতোমু নিশিওকা বলেন, “সংবিধান সংশোধনের পক্ষে আবারও গতি তৈরি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা।”   জাপানের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও বড় পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন জোটে থাকা শান্তিবাদী অবস্থানের জন্য পরিচিত কোমেইতো পার্টির প্রভাব কমেছে। তাদের জায়গায় উঠে এসেছে জাপান ইনোভেশন পার্টি, যারা জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশ্নে অনেক বেশি কঠোর অবস্থানের সমর্থক।   আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও জাপানের রাজনৈতিক আলোচনাকে নতুন দিকে ঠেলে দিয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন, উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির বিষয়গুলো জাপানি জনগণের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত চিন্তাভাবনায় বড় পরিবর্তন এনেছে।   টোকিওর ব্যবসায়ী কেন কাতো, যিনি সংবিধান সংশোধনের সমর্থক, বলেন, “আগে মানুষ মনে করত সামরিক বাহিনী থাকলে সংঘাত বাড়বে। এখন অনেকে মনে করেন, আত্মরক্ষার যথেষ্ট সক্ষমতা না থাকলে অন্যরা সেই দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারে। তাই প্রতিরোধক্ষমতা জরুরি।”   যদিও বাস্তবে জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনী বা সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও সুসজ্জিত বাহিনীর একটি। কয়েক দশক ধরেই তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে সংবিধানের ব্যাখ্যার মাধ্যমে এই বাহিনীর অস্তিত্ব বৈধ করা হয়েছে। রক্ষণশীলদের দাবি, বাস্তবতা ও আইনি অবস্থানের মধ্যে এই বৈপরীত্য দূর করতে হবে।   নিশিওকার মতে, বর্তমান সংবিধান আজকের বাস্তবতা কিংবা আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই সংশোধনের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।   সংসদের নিম্নকক্ষে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান এবং ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) আইনপ্রণেতা কেইজি ফুরুয়া মনে করেন, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখন তাদের হাতে রয়েছে।   সম্প্রতি জাপান ফরওয়ার্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই সংবিধান সংশোধন নিয়ে গণভোট আয়োজনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তার হিসাব অনুযায়ী, এলডিপি, জোটসঙ্গী দল, ছোট ডানপন্থী দল এবং কয়েকজন স্বতন্ত্র সদস্যের সমর্থন মিলিয়ে সংসদে সংশোধনী উত্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ভোটসংখ্যা অর্জন করা সম্ভব।   ফুরুয়ার মতে, এতদিন ধরে এই প্রশ্নে জনগণের মতামত নেওয়া না হওয়াটা সংসদের ব্যর্থতা। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ সংবিধান নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ সাধারণ নাগরিকদের প্রাপ্য।   তবে সংশোধনের পথ যে পুরোপুরি মসৃণ, তা নয়। জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে দীর্ঘ সময় ধরে সংবিধান পরিবর্তনের চেষ্টা করেও সফল হননি। তার উত্তরসূরি ফুমিও কিশিদাও এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারেননি।   টোকিওর সোফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক তাদাশি আন্নো মনে করেন, বর্তমান উদ্দীপনার মধ্যে কিছুটা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কাজ করছে।   তার ভাষায়, “তাকাইচি এখন জনপ্রিয়তা পাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু ইরান সংকট, জাপানে মূল্যস্ফীতি, ইয়েনের অবমূল্যায়ন এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক চাপ ভবিষ্যতে সেই সমর্থন কমিয়ে দিতে পারে।”   আন্নো নিজেও সংবিধান সংশোধনের পক্ষে, তবে এলডিপির প্রস্তাবিত পদ্ধতির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। তিনি সংবিধানের ২৪ নম্বর অনুচ্ছেদের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে বিবাহকে একজন নারী ও একজন পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। তার মতে, এই ধরনের পুরোনো ভাষা আধুনিক সমাজের বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায় না।   তবে ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ নিয়ে তিনি সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ২০১২ সালে এলডিপি যে খসড়া সংবিধান প্রস্তাব করেছিল, তা অত্যন্ত রক্ষণশীল ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, জাপানি জনগণের বড় অংশ হয়তো এমন পরিবর্তন সমর্থন করবে না।   দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের পর ১৯৪৭ সালে মিত্রবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রণীত জাপানের সংবিধান দেশটির শান্তিবাদী রাষ্ট্রপরিচয়ের ভিত্তি হয়ে ওঠে। সেই সংবিধানের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ যুদ্ধকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে এবং সামরিক শক্তি ব্যবহারে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।   কিন্তু বিশ্বরাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের ফলে সেই ঐতিহাসিক অনুচ্ছেদ এখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে। ফলে জাপান কি সত্যিই তার যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী অবস্থান থেকে সরে আসতে যাচ্ছে, নাকি সীমিত কিছু পরিবর্তনের মধ্যেই নিজেদের অবস্থান পুনর্নির্ধারণ করবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
গণভোটের রায় না মানলে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ১১ দলীয় ঐক্যের

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে আয়োজিত এক গণমিছিল কর্মসূচিতে জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, গণভোটের রায় মেনে না নিলে ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে যে আন্দোলন গড়ে তুলবে, তা সরকারের জন্য ভালো কোনো বার্তা বয়ে আনবে না।   এই কর্মসূচি থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়াও জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি তোলা হয়। ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকার চোখ রাঙিয়ে এই আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করলে জনগণকে সাথে নিয়ে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।   বিকেলে বিজয়নগরে সমাবেশ শেষে একটি বিশাল গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কাকরাইল হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় প্রদক্ষিণ করে। কর্মসূচিতে জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন এবং সরকারের প্রতি জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফাইল ছবি : রয়টার্স
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মাঠে ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ভার্জিনিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, এই প্রস্তাব সমর্থন করলে নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনা সম্ভব হবে এবং একতরফা সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা ঠেকানো যাবে।   আগামী ২১ এপ্রিলের এই গণভোটে মূল প্রশ্ন হচ্ছে—রাজ্যের আইনসভা নতুন করে কংগ্রেশনাল আসনের সীমানা নির্ধারণ করতে পারবে কি না। এরই মধ্যে প্রায় ১০ লাখের বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   প্রস্তাবটি পাস হলে চারটি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে, যা ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সুবিধাজনক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এই পরিবর্তন জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।   ডেমোক্র্যাটদের যুক্তি, এর আগে রিপাবলিকানদের পক্ষে যেসব আসন পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, তার প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তবে বিরোধীরা এটিকে পক্ষপাতদুষ্ট উদ্যোগ হিসেবে সমালোচনা করছে।   রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য জেন কিগগান্স বলেন, একটি বহুমাত্রিক রাজ্যে একদলীয় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা ভবিষ্যতে নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।   ২০২৪ সালের নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভার্জিনিয়ায় উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন, যা রাজ্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থানকে নির্দেশ করে।   গণভোট ঘিরে ‘হ্যাঁ’ প্রচারণা তুলনামূলক বেশি অর্থ ও জনসমর্থন পাচ্ছে। এতে হলিউড অভিনেত্রী ক্যারি ওয়াশিংটন এবং সংগীতশিল্পী জন লিজেন্ডের মতো পরিচিত মুখও যুক্ত হয়েছেন।   তবে ডেমোক্র্যাট শিবিরের ভেতরেও একমত নয় সবাই। কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচনী মানচিত্র এভাবে বদলানো ন্যায্যতার প্রশ্ন তোলে।   সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অল্প ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ পক্ষ এগিয়ে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি রিপাবলিকান ভোটারদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, ফলে তারা বেশি সক্রিয় হতে পারেন; অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তুলনামূলক কম আগ্রহ দেখা যেতে পারে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য। ছবি: সংগৃহীত
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জামায়াতসহ ১১ দলের বিক্ষোভ; রাজপথে বিরোধী দল

সরকার গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য। নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এই প্রথম সংসদের প্রধান বিরোধী দল রাজপথে কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি পালন করল। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।   বিকেল সোয়া পাঁচটায় কর্মসূচি শুরুর আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যানার ও ফেস্টুনসহ খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান। বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, জনগণের রায়কে উপেক্ষা করার পরিণাম শুভ হবে না।   জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন সমাবেশে অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর বিএনপি জনগণের রায়কে উদ্দেশ্যমূলকভাবে উপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করাকে যদি বৈধ বলা হয়, তবে সেই একই জনগণের ভোটে হওয়া সংস্কারকে কেন অবৈধ বলা হচ্ছে—এমন দ্বিচারিতা দেশের মানুষ মেনে নেবে না। তিনি সরকারের এই অবস্থানকে স্ববিরোধী বলে উল্লেখ করেন।   জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ তার বক্তব্যে বলেন, গণভোটকে অবজ্ঞা করার মাধ্যমে বিএনপি পুরো জাতিকে অপমান করেছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, সরকার যদি জনস্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে রাজপথ এবং সংসদ—উভয় জায়গাতেই কঠোর প্রতিবাদ গড়ে তোলা হবে। সমাবেশের পর নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা রাষ্ট্রপতি স্বীকার করেছিলেন: জামায়াত আমির

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর পদত্যাগপত্র সরাসরি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু স্বীকার করেছিলেন বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে ওয়াকআউটের পর তিনি সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।   ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার সীমাহীন ত্যাগের পর যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তার পরবর্তী সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণের প্রেক্ষিতে তারা বঙ্গভবনে বসেছিলেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় তিনি জানান, “তিনি (রাষ্ট্রপতি) সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র পেয়েছেন এবং মঞ্জুর করেছেন।” এ আলোচনার পর তারা দ্রুত নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক শাসনের দিকে ফেরার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন।   তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছিল এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর ধরে যে ফ্যাসিবাদী শাসন চলেছে, তা নিরসনে জনগণের রায় বা গণভোটের দাবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   বিরোধীদলীয় নেতা সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের বাস্তবায়নের জন্য সরকারের মনোভাবকে সমালোচনা করেন। তিনি জানান, যেহেতু সংসদে জনগণের ন্যায্য দাবি সম্মানিত হচ্ছে না, তাই আমরা জনগণের কাছে ফিরে যাব এবং গণভোটের মাধ্যমে রায় আদায়ের পথ অনুসরণ করব।   সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান আরও ঘোষণা দেন যে, গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে সংসদ এবং রাজপথ উভয় ক্ষেত্রেই বিরোধী দল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। শিগগিরই সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি জানান।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০ 0
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী।
জুলাই বিপ্লবের চেতনা অস্বীকার করছে সরকার? সংসদে বিস্ফোরক বক্তব্য মাহবুব সালেহীর

জাতীয় সংসদে আজ বিরোধী দলের জোরালো আলোচনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী তার বক্তব্যে ‘জুলাই বিপ্লব’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে সরকারের অবস্থান নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তুলেছেন।   তিনি বলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেশে ফেরা—সবকিছুর পেছনে মূল ভূমিকা ছিল জুলাই বিপ্লবের। তার ভাষায়, “জুলাই কোনো আবেগ নয়, জুলাই একটি বাস্তবতা, যার ভিত্তিতেই আজকের এই সংসদ গঠিত হয়েছে।”   মাহবুব সালেহী দাবি করেন, বর্তমান সংসদ কোনো সাধারণ সংসদ নয়। এখানে এমন সদস্য রয়েছেন যারা ফাঁসির সেল থেকে ফিরে এসে নির্বাচিত হয়েছেন, আবার কেউ কেউ ‘আয়নাঘর’ থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও একজন নারী সদস্য তার স্বামীর অনুভূতি ধারণ করেই সংসদে এসেছেন—যা এই সংসদের ব্যতিক্রমী চরিত্রকে তুলে ধরে।   তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি দল তাদের মেনিফেস্টোর সপ্তম পাতায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত ৫ অক্টোবর গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন, আইনের কোনো বাধা নেই এবং গণভোট পাস হলে সরকার তা বাস্তবায়ন করবে।   বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী রংপুরে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে জনগণের কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছিলেন। জুলাই সনদের গণভোটে চতুর্থ প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দলের তা মেনে চলার বিষয়ে ৬৯ শতাংশ মানুষ সমর্থন জানায়।   কিন্তু এখন সরকার সেই গণরায় অস্বীকার করার পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার প্রশ্ন, “জনগণের স্পষ্ট রায় থাকার পরও কেন সরকার পিছু হটছে?”   এই বক্তব্যের পর সংসদে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
সংসদে ক্ষোভ ঝাড়লেন নাহিদ ইসলাম: ‘বৈষম্য করলে আমাদের থাকার দরকার নেই’

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আজ রোববার (২৯ মার্চ) রাতে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটের বৈধতা নিয়ে আলোচনার সময় বাধা পেয়ে স্পিকারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বাধার মুখে তিনি সরাসরি স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আপনি যদি ফ্লোর দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য করেন, তবে আমাদের আর এখানে থাকার দরকার নেই।”   নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, তারা সংসদে সংবিধান 'সংশোধন' করতে আসেননি, এসেছেন সংবিধান 'সংস্কার' করতে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বর্তমান সংসদ দুটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গঠিত হয়েছে—একটি গণভোট এবং অন্যটি সাধারণ নির্বাচন। এই গণভোটের ভিত্তি ছিল ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’। কিন্তু সংসদে বারবার সেই গণরায় এবং আদেশকে অসাংবিধানিক বলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।   বক্তব্য চলাকালে সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্য বারবার বাধা দিলে নাহিদ ইসলাম উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “যে আদেশের ভিত্তিতে আমরা আজ সংসদে এসেছি, সেটাকে অসাংবিধানিক বলা হচ্ছে—এটা মেনে নেওয়া যায় না।” পরে স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হুঁশিয়ারি দেন যে, জনগণের রায় ও জুলাই সনদকে অবমাননা করলে সংসদের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দলের আমির শফিকুর রহমান। জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা। ২৫ মার্চ। ছবি: সংগৃহীত
জামায়াত আমির শফিকুর রহমান: গোশত মানেন, ঝোল খাইতে রাজি না

জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি সরকারের কাছে সংবিধানের অংশ মানা হচ্ছে, আবার অংশ উপেক্ষিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, একই দিনে দুই ভোট হলেও আচরণ ভিন্ন। আপনি গোশত খাচ্ছেন, ঝোলটা হারাম বলছেন। জনগণ এত বোকা নয়, তারা সব বুঝে।   ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার আয়োজিত এক আলোচনা সভায় শফিকুর রহমান বলেন, পরিবর্তিত বাংলাদেশে শাসক বদলালেও শোষণ থেমে যায়নি। আমরা চাই, দেশ গণতান্ত্রিক ট্রেনের মতো চলুক। তবে প্রশাসনিক পদে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে লোক বসানো হচ্ছে, যা সংবিধানবিরোধী। আমরা তা মেনে নিই না।   বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, আপনারা বলছেন সংবিধান মেনে চলব, কিন্তু ভোটের অধিকার জনগণের, আপনার নয়। যদি ভোটকে অগ্রাহ্য করার চেষ্টা করা হয়, দেশের মানুষ তার প্রতিকার নিতে প্রস্তুত।   একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও সামরিক বাহিনী জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে দমাতে চেয়েছিল। তারা খুন, লুণ্ঠন ও ধ্বংস চালালেও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা নিঃশেষ হয়নি। দেশের পতাকা ও মানচিত্রের মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে পারলে ভালো হতো, কিন্তু নেতৃত্বের ব্যর্থতা, লোভ ও দুর্নীতি তা ব্যাহত করেছে।   দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শুধু টাকা হাতানোর জন্যই নয়, মানুষের অধিকার হরণ, অযোগ্যদের যোগ্য স্থানে বসানো এবং যোগ্যদের অবমাননা সবচেয়ে বড় দুর্নীতি। যতক্ষণ এটি সমাজ থেকে চলে যাবে না, স্বাধীনতার সুফল ভোগ সম্ভব নয়।   আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব ও উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সবুর ফকির। সঞ্চালক ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ। প্রধান অতিথি ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সভা শুরু হয় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর মহানগর শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনায় দেশাত্মবোধক গান “এই দেশ আমার বাংলাদেশ” পরিবেশন করা হয়।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ছবি: সংগৃহীত
গণভোটে ‘না’ জয়, প্রথম বড় ধাক্কায় চাপে ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি

ইতালির সাম্প্রতিক বিচার বিভাগীয় গণভোটে ‘না’ জয় পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট সরকার প্রথম বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। এই ফলাফলের পর তার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।   ক্ষমতায় আসার পর এটি বর্তমান সরকারের প্রথম উল্লেখযোগ্য পরাজয়। এই ফলাফলকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলো মেলোনির ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সেক্রেটারি এলি শ্লিন একে ‘বিকল্প সংখ্যাগরিষ্ঠতা’র ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।   গণভোটের এই ফলাফলের পর মেলোনির সামনে কয়েকটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাতারেল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পার্লামেন্টে পুনরায় আস্থা ভোট নেওয়ার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত। ২০১৬ সালে মাত্তেও রেনজি গণভোটে হেরে পদত্যাগ করলেও মেলোনির ক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা কম বলেই ধারণা করা হচ্ছে।   এছাড়া আগাম নির্বাচন দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সংবাদমাধ্যম রেপুব্লিকার তথ্য অনুযায়ী, দুর্বল অবস্থানে থেকে মেয়াদের শেষ পর্যন্ত যাওয়ার পরিবর্তে আগাম নির্বাচন দিয়ে বিরোধীদের অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলতে পারেন তিনি।   অন্যদিকে, নতুন নির্বাচনি আইন প্রণয়নও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ইতালিতে বিরোধীদের উত্থানের প্রেক্ষাপটে বিজয়ী জোটকে বড় ধরনের ‘মেজোরিটি বোনাস’ দেওয়ার মতো আইন আনার চিন্তা করছে সরকার।   ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এই ফলাফলকে সরকারের বিরুদ্ধে জনমতের প্রতিফলন হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে মেলোনির দল ব্রাদার্স অব ইতালি জোটভিত্তিক শক্তিশালী বোনাস ব্যবস্থার পক্ষে মত দিচ্ছে।   বর্তমানে পদত্যাগের সম্ভাবনা কম থাকলেও মেলোনিকে এখন পার্লামেন্ট ও জনগণের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখার প্রমাণ দিতে হবে। বিরোধীরা নতুন জোট গঠনের আগেই তিনি কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0