ইতালির সাম্প্রতিক বিচার বিভাগীয় গণভোটে ‘না’ জয় পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট সরকার প্রথম বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। এই ফলাফলের পর তার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
ক্ষমতায় আসার পর এটি বর্তমান সরকারের প্রথম উল্লেখযোগ্য পরাজয়। এই ফলাফলকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলো মেলোনির ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সেক্রেটারি এলি শ্লিন একে ‘বিকল্প সংখ্যাগরিষ্ঠতা’র ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
গণভোটের এই ফলাফলের পর মেলোনির সামনে কয়েকটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাতারেল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পার্লামেন্টে পুনরায় আস্থা ভোট নেওয়ার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত। ২০১৬ সালে মাত্তেও রেনজি গণভোটে হেরে পদত্যাগ করলেও মেলোনির ক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা কম বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া আগাম নির্বাচন দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সংবাদমাধ্যম রেপুব্লিকার তথ্য অনুযায়ী, দুর্বল অবস্থানে থেকে মেয়াদের শেষ পর্যন্ত যাওয়ার পরিবর্তে আগাম নির্বাচন দিয়ে বিরোধীদের অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলতে পারেন তিনি।
অন্যদিকে, নতুন নির্বাচনি আইন প্রণয়নও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ইতালিতে বিরোধীদের উত্থানের প্রেক্ষাপটে বিজয়ী জোটকে বড় ধরনের ‘মেজোরিটি বোনাস’ দেওয়ার মতো আইন আনার চিন্তা করছে সরকার।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এই ফলাফলকে সরকারের বিরুদ্ধে জনমতের প্রতিফলন হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে মেলোনির দল ব্রাদার্স অব ইতালি জোটভিত্তিক শক্তিশালী বোনাস ব্যবস্থার পক্ষে মত দিচ্ছে।
বর্তমানে পদত্যাগের সম্ভাবনা কম থাকলেও মেলোনিকে এখন পার্লামেন্ট ও জনগণের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখার প্রমাণ দিতে হবে। বিরোধীরা নতুন জোট গঠনের আগেই তিনি কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা প্রশমনে আবারও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে চীন। সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে এক ফোনালাপে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধের চেয়ে আলোচনা সবসময়ই উত্তম। বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়াং ই সব পক্ষকে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে শান্তি আলোচনা শুরু করার সুযোগ লুফে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ফোনালাপে ওয়াং ই গুরুত্বারোপ করেন যে, সব ধরনের জটিল ইস্যু বা 'হটস্পট' বিষয়গুলো শক্তিপ্রয়োগের পরিবর্তে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত। চীনের এমন অবস্থানের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি জানান, তেহরান কেবল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং চলমান সংঘাতের একটি ব্যাপক ও স্থায়ী সমাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই সাথে তিনি চীনের মানবিক সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। উল্লেখ্য যে, ইরানের পক্ষ থেকেই এই ফোনালাপের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। চীন ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলেও বেইজিং ইতিমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে তারা তেহরানের সাথে একমত নয়। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে বেইজিং এখন নিরবচ্ছিন্নভাবে যুদ্ধবিরতির ওপর জোর দিচ্ছে।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ঈদের আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়েছে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়। জনপ্রিয় টিকটক ইনফ্লুয়েন্সার সানা জাভেদকে তার স্বামী মোহাম্মদ সাদিক প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) ইসলামাবাদের ডিএইচএ ফেজ-২ এলাকার একটি মার্কেটের পার্কিংয়ে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। নিহত সানা জাভেদ টিকটকে ‘আউট লোফারা’ নামে অত্যন্ত পরিচিত ছিলেন। ঘাতক স্বামী মোহাম্মদ সাদিক পাকিস্তান পুলিশের একজন সাবেক কনস্টেবল, যাকে আগেই শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শী এক নিরাপত্তা রক্ষী জানান, হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে তিনি মার্কেটের পার্কিংয়ে গিয়ে লাল পোশাক পরিহিত সানাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঠিক সেই মুহূর্তে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাদিক নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি চালিয়ে দেন। হুমাক পুলিশ স্টেশন ঘটনাস্থল থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল এবং তিনটি বুলেটের খোসা উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জের ধরেই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। উল্লেখ্য, এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ইসলামাবাদে এটি দ্বিতীয় কোনো হাই-প্রোফাইল নারী টিকটকার খুনের ঘটনা। এর আগে গত বছরের জুনে সানা ইউসুফ নামে অপর এক টিকটকারকে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় হত্যা করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন চালাচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরুর আগে আরব সাগরে মার্কিন যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং বেশ কয়েকটি ডেস্ট্রয়ারসহ ব্যাপক সমরাস্ত্র মোতায়েন করা হয়। হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েন থাকলেও কূলকিনারা না পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র পরে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড আরব সাগরে পাঠানোর চেষ্টা করে। তবে মাঝপথে এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং লোহিত সাগর থেকে রণতরী ফিরে আসে। রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের পর লোহিত সাগর থেকে ভূমধ্যসাগরে ফেরার পথে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডকে গ্রিসের একটি সামরিক ঘাঁটিতে নেওয়া হয় মেরামতের জন্য। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, রণতরী গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সৌদা বে নৌঘাঁটিতে ফিরে এসেছে। এই রণতরী মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অংশ হিসেবে মোতায়েন ছিল। ফেব্রুয়ারিতে গ্রিসে পৌঁছানোর আগে ১২ মার্চ রণতরী লন্ড্রিতে অগ্নিকাণ্ডের খবর দেয়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন ক্রু আহত হন। রণতরী তখন খাদ্য, জ্বালানি ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করছিল।