ট্রাম্পের চুলে হঠাৎ এত পরিবর্তন কেন? লাস ভেগাসের ছবি ঘিরে নতুন আলোচনা
৫ আগস্ট লাস ভেগাসে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুলকে আগের কয়েকটি উপস্থিতির তুলনায় বেশি ঘন ও উঁচু দেখায়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার চুলের ধরন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
এর কয়েক দিন আগে নিউ জার্সিতে প্রবল বাতাসের মধ্যে ট্রাম্পকে বিমানবন্দরের রানওয়ে দিয়ে হাঁটার সময় তার চুল উড়ে যেতে দেখা যায়। ওই ভিডিওতে মাথার কিছু অংশের ত্বক তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান হওয়ায় সেটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে। দুই সময়ের ছবি পাশাপাশি দিয়ে অনেকে ট্রাম্পের চুলের দৃশ্যমান পার্থক্য নিয়ে নানা মন্তব্য করেন।
তবে শুধু ছবি দেখে ট্রাম্প উইগ বা হেয়ারপিস ব্যবহার করছেন কি না, তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। চুলের বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের রং, স্টাইলিং পণ্য, হেয়ার ফাইবার এবং আলোর পার্থক্যেও একই ব্যক্তির চুলকে এক ছবিতে বেশি ঘন ও অন্য ছবিতে পাতলা দেখাতে পারে।
যুক্তরাজ্যের কনসালট্যান্ট ট্রাইকোলজিস্ট ইভা প্রাউডম্যানের মতে, ট্রাম্পের চুলে বয়সজনিত পুরুষদের সাধারণ চুল পড়ার বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। তার ভাষ্য, বয়স বাড়ার সঙ্গে চুল স্বাভাবিকভাবেই পাতলা হতে পারে।
প্রাউডম্যানের মতে, লাস ভেগাসের ছবিতে চুল বেশি ঘন দেখানোর পেছনে হেয়ার ফাইবারের ব্যবহার থাকতে পারে। এসব ফাইবার প্রাকৃতিক চুলে লেগে চুলকে সাময়িকভাবে ঘন দেখাতে পারে। চুলে রং করার ফলেও একই ধরনের দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে পারে। গাঢ় রঙের চুলে মাথার ত্বক কম দৃশ্যমান হওয়ায় চুল তুলনামূলকভাবে বেশি ঘন মনে হয়।
চুল পুনরুদ্ধার বিশেষজ্ঞ দিনা কালেসও মনে করেন, চুলে নতুন করে রং করা হলে সেটি ছবিতে বেশি ঘন দেখাতে পারে। ধূসর চুল গজিয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আগের রঙের তুলনায় চুল পাতলা বা অসমান দেখাতে পারে। ট্রাম্পের পরিচিত গভীর সাইড পার্ট এবং চুল সাজানোর ধরনও একেক সময় চুলের ঘনত্বের ভিন্নতা তৈরি করতে পারে।
ট্রাম্পের চুল নিয়ে আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। কয়েক দশক ধরেই তার স্বর্ণালি চুল ও বিশেষ ধরনের কম্বওভার যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির আলোচিত বিষয়।
১৯৮০-এর দশকের ছবিতে তরুণ ট্রাম্পকে তুলনামূলকভাবে ঘন চুল ও সাইড-সুইপড স্টাইলে দেখা যায়। নিউইয়র্কের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় তার পরিচিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলের বিশেষ স্টাইলটিও আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ১৯৮০-এর দশকের শেষ ও ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে যে ধরনের চুলের স্টাইল তার পরিচিতি তৈরি করে, পরবর্তী কয়েক দশকেও সেটির বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
২০০৪ সালে এনবিসির ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হওয়ার পর ট্রাম্পের চুল আরও বেশি মানুষের নজরে আসে। তার স্বর্ণালি রঙের চুল ও কম্বওভার তখন জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে তিনি উইগ বা হেয়ারপিস ব্যবহার করেন কি না, তা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা গুঞ্জন রয়েছে। ট্রাম্প অবশ্য এসব দাবি বারবার নাকচ করেছেন।
২০১৫ ও ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় নামার পর তার চুল নিয়ে আগ্রহ আরও বাড়ে। বিভিন্ন সমাবেশ ও জনসম্মুখে উপস্থিতির ছবি থেকে তার চুলের স্টাইল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে নানা আলোচনা হয়।
২০১৬ সালে ‘দ্য টুনাইট শো’-তে ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানিয়ে উপস্থাপক জিমি ফ্যালন ক্যামেরার সামনে তার চুল এলোমেলো করে দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে ট্রাম্পের চুল নিয়ে দীর্ঘদিনের নানা গুঞ্জনকে অনুষ্ঠানে হাস্যরসের বিষয়ও করা হয়।
২০১৮ সালে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় বাতাসে ট্রাম্পের চুল উড়ে যাওয়ার একটি ভিডিওও ব্যাপক আলোচনায় আসে। একই বছর কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে বক্তব্য দেওয়ার সময় নিজের চুল নিয়ে রসিকতা করে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি মাথার টাকের অংশটি আড়াল করতে অনেক চেষ্টা করেন।
ট্রাম্পের চুল নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট বা হেয়ারপিসের সম্ভাবনার কথা তুললেও এসব দাবির কোনোটি নিশ্চিত নয়। ২০২৩ সালে নিউইয়র্কের কসমেটিক সার্জন গ্যারি লিংকভ দাবি করেছিলেন, ট্রাম্প পাঁচটি আলাদা হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি করিয়ে থাকতে পারেন। তবে এ দাবিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
চুল বিশেষজ্ঞদের মতে, লাস ভেগাসের সাম্প্রতিক ছবিতে চুল বেশি ঘন দেখানোর ব্যাখ্যা হিসেবে হেয়ার ফাইবার, চুলের রং এবং স্টাইলিংই বেশি সম্ভাব্য কারণ। শুধু ছবি বা ভিডিও দেখে কোনো চিকিৎসা বা কসমেটিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
ট্রাম্পের কয়েক দশকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তার বক্তব্য, নীতি ও বিতর্কের পাশাপাশি তার চুলও যে জনআগ্রহের একটি স্থায়ী বিষয় হয়ে আছে, সাম্প্রতিক লাস ভেগাসের ছবিকে ঘিরে নতুন আলোচনা আবারও সেটিই সামনে এনেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যারের সাসেক্স কাউন্টিতে হরিণ শিকারে বেরিয়ে ভুলবশত এক নারীকে গুলি করে হত্যা করেছেন ম্যারিল্যান্ডের এক বৃদ্ধ শিকারি। ডেলাওয়্যার স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, মর্মান্তিক এই ঘটনায় ৭৪ বছর বয়সী ওয়াল্টার মুরহেড নামের ওই শিকারির বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যাসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে সাউথ ওল্ড স্টেট রোডের কাছের একটি খোলা মাঠে এই প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ৩৯ বছর বয়সী সান্তোস মারিয়া চিলল সোটো এক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও দুই শিশুর সঙ্গে ওই মাঠ দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় দূরে থাকা মুরহেড নড়াচড়া দেখতে পান এবং হরিণ ভেবে নিজের রাইফেল থেকে গুলি ছোড়েন। গুলির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পাঠায়। তবে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ নিশ্চিত হয় যে মুরহেডই গুলি চালিয়েছিলেন এবং তাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যা, অপরাধ সংঘটনের সময় আগ্নেয়াস্ত্র কাছে রাখা এবং ফার্স্ট-ডিগ্রি বেপরোয়া আচরণের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। পরবর্তীতে জাস্টিস অব দ্য পিস কোর্টে হাজির করার পর ৪৩ হাজার ডলারের নগদ বন্ড জমা দেওয়ার শর্তে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রীর ময়নাতদন্তের বীভৎস বর্ণনা শুনে আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ক্যালেব ফ্লিন
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে গু লি, দুই বছর পর আদালতে দোষী সাব্যস্ত হা মলাকারী
হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধের পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত’ বললেন জেডি ভ্যান্স
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সন্দেহভাজন এক চীনা গুপ্তচরের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা একটি পরিবার মার্কিন রাজনীতিকদের ৪৪ লাখ মার্কিন ডলার রাজনৈতিক অনুদান দিয়েছে। এই বিপুল অর্থ গ্রহণ করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিওসম, ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সম্প্রতি অবমুক্ত হওয়া এফবিআইয়ের গোপন নথি এবং রাজ্য ও ফেডারেল নির্বাচনী প্রচারণার আর্থিক হিসাব থেকে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। এর ফলে মার্কিন রাজনীতিতে বিদেশি রাষ্ট্রের পরোক্ষ প্রভাব বিস্তারের চলমান বিতর্কটি নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় ম্যাকডোনাল্ডসের ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসা থেকে কোটি কোটি ডলার আয় করেছে ইন (Yin) পরিবার। এই পরিবারের প্রধান চে চিয়েন ইন (সি.সি. ইন) এবং তার ভাই হেনরি ইন ‘এশিয়ান প্যাসিফিক আমেরিকান পাবলিক অ্যাফেয়ার্স’ (APAPA) নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সি.সি. ইন একসময় সন্দেহভাজন চীনা গুপ্তচর ক্রিস্টিন ফাংয়ের (যিনি ফাং ফাং নামেও পরিচিত) সঙ্গে পেশাগতভাবে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া, হেনরি ইন গত এক দশকে চীনের ‘ইউনাইটেড ফ্রন্ট’-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন বলে জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ পেয়েছেন। এটি মূলত চীনা সরকারের বিদেশি প্রভাব বিস্তারের কাজে নিয়োজিত একটি বিশেষ শাখা। রেকর্ড অনুযায়ী, ইন পরিবার ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্য পর্যায়ের রাজনীতিতে প্রায় ৩০ লাখ এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের প্রচারণায় আরও সাড়ে ১৪ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে, যার সুবিধাভোগীদের মধ্যে নিওসম, কমলা হ্যারিস ও কংগ্রেস সদস্য রো খান্নার মতো হেভিওয়েট নেতারা রয়েছেন। এমনকি ২০২৩ সালে চীনে গ্যাভিন নিওসমের সফরের পেছনেও এই পরিবারের ভূমিকা ছিল। তবে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সি.সি. ইন জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ভালোবাসেন এবং যেকোনো বিদেশি সরকারের হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানান। তার দাবি, শুধু এশীয় বংশোদ্ভূতদের নেতৃত্ব বিকাশে সাহায্য করতে এবং গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ বাড়াতেই তিনি ওই সংগঠনটি গড়ে তুলেছিলেন। এখন পর্যন্ত হেনরি ইন বা তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে গুপ্তচরবৃত্তির কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের ইউনাইটেড ফ্রন্ট এভাবেই সাধারণত সফল ও প্রভাবশালী মার্কিন নাগরিকদের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক স্থাপন করে। অনুদান ও উপহারের মাধ্যমে সখ্যতা গড়ে তুলে পরবর্তীতে তারা মার্কিন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চালিয়ে থাকে।
নিউ মেক্সিকোতে জন্মদিনের কেনাকাটা শেষে আর ফেরা হলো না, বন্যায় দাদি-নাতনিসহ নি হত ৩
হোয়াইট হাউসে ৬০ লাখ ডলারের নতুন হ্যালিপ্যাড উদ্বোধন ট্রাম্পের, কিন্তু সম্প্রচারে নেই কোনো টিভি নেটওয়ার্ক
টেক্সাসের মা দান করলেন ২ হাজার ৬৪৫ লিটারের বেশি বুকের দুধ, গড়লেন নতুন বিশ্ব রেকর্ড
ফ্লোরিডার টামারাকের ৫৭ বছর বয়সী জয় ইয়ভেট হোল্ডারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি একটি বৃদ্ধের পম্পানো বিচের বাড়ি ৩ লাখ ৪৫ হাজার ডলারে বিক্রি করে বিক্রির অর্থের ৩ লাখ ১৯ হাজার ৪৭ ডলার নিজের ও অন্যদের ব্যবহারের জন্য সরিয়ে নিয়েছেন। ব্রোওয়ার্ড শেরিফের কার্যালয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বৃদ্ধের নিজের বিষয়ে সম্মতি দেওয়ার সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও হোল্ডার তার সম্পত্তির ওপর ক্ষমতা নেওয়ার জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ব্যবহার করেন। ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে হোল্ডারের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার ডলার বা তার বেশি মূল্যের প্রবীণ ব্যক্তি বা প্রতিবন্ধী প্রাপ্তবয়স্কের আর্থিক শোষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগটি ফ্লোরিডা আইনে প্রথম শ্রেণির গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হোল্ডারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তিনি আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। ব্রোওয়ার্ড শেরিফের কার্যালয়ের গোয়েন্দা জনাথন আর. মাসরির সম্ভাব্য কারণসংক্রান্ত হলফনামা অনুযায়ী, হোল্ডার ২০২২ সালের ২৪ মার্চ ওই বৃদ্ধের সক্ষমতা নিয়ে অনুষ্ঠিত একটি প্রাপ্তবয়স্ক সুরক্ষা-সংক্রান্ত শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। ওই শুনানির নথি অনুযায়ী, বৃদ্ধ নিজের বিষয় পরিচালনা এবং সেবার বিষয়ে সম্মতি দেওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। গোয়েন্দার অভিযোগ, বিষয়টি জানা সত্ত্বেও হোল্ডার ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বরের দিকে একটি স্থায়ী পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নেন। এরপর ওই ক্ষমতাপত্র ব্যবহার করে হোল্ডার পম্পানো বিচের সাউথ সাইপ্রেস রোডে থাকা বৃদ্ধের বাড়ি বিক্রির ব্যবস্থা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হলফনামায় বলা হয়েছে, বাড়িটির চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ডলার। ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডা টাইটেল অ্যান্ড এসক্রো সার্ভিসেস এলএলসি ৩ লাখ ১৯ হাজার ৪৭ ডলার একটি সিটিব্যাংক হিসাবে পাঠায়। ওই হিসাবটি হোল্ডার ও বৃদ্ধের যৌথ নামে ছিল। গোয়েন্দার অভিযোগ, জয় হোল্ডার ও রে হোল্ডার ওই অর্থ নিজেদের ব্যক্তিগত সুবিধায় ব্যবহার করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জয় হোল্ডার তার পরিচ্ছন্নতা ব্যবসার মাধ্যমে অর্থের একটি অংশ ঘোরান। ওই ব্যবসার নাম ‘জয়’স ক্লিনিং’। ফ্লোরিডার করপোরেট নথি অনুযায়ী, জয় হোল্ডার প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক ও নিবন্ধিত এজেন্ট। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি রাজ্যে নিবন্ধিত হয় এবং বর্তমানে সক্রিয় হিসেবে তালিকাভুক্ত। মামলার নথিতে আরও একটি গাড়ি হস্তান্তরের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালে বৃদ্ধ নিজের অর্থে ৩১ হাজার ৫৬৩ দশমিক ৯২ ডলারে একটি ২০১৭ সালের নিসান ম্যাক্সিমা কিনেছিলেন। গোয়েন্দার অভিযোগ, ২০২৩ সালের ১৬ জুনের দিকে রে হোল্ডার ওই বৃদ্ধকে গাড়িটি তার নামে হস্তান্তরের একটি বিক্রয় দলিলে স্বাক্ষর করান। তদন্তকারীর দাবি, রে হোল্ডার জানতেন বা জানা উচিত ছিল যে ওই ব্যক্তি লেনদেনে সম্মতি দেওয়ার সক্ষমতা রাখতেন না। এরপর ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ফ্লোরিডার শিশু ও পরিবারবিষয়ক দপ্তরের একজন তদন্তকারী বৃদ্ধের খোঁজ নিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। হলফনামা অনুযায়ী, রে হোল্ডার ও রিয়ানা অ্যাশলিন মারিয়া হোল্ডারকে ওই পরিদর্শনের কথা আগেই জানানো হয়েছিল। গোয়েন্দার অভিযোগ, তারা সেদিন বৃদ্ধকে অরল্যান্ডো নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাকে বলা হয়, তিনি তার বোনের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। আদালতের কর্মী, তদন্তকারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বৃদ্ধের কাছে পৌঁছানোর প্রচেষ্টায় রিয়ানা বাধা দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউটরদের ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ সালের অভিযোগপত্রে অভিযোগিত কর্মকাণ্ডের সময়কাল ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বলা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ৩০ জানুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় এবং ১৭ সেপ্টেম্বর তা কার্যকর করা হয়। মামলাটি আদালতে সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে ব্রোওয়ার্ড শেরিফের কার্যালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হোল্ডারের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অভিযোগের মধ্যে বাড়ি বিক্রির অর্থ ব্যবহার, গাড়ি হস্তান্তর এবং বৃদ্ধের সঙ্গে সুরক্ষা সংস্থার যোগাযোগে বাধা দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে। সূত্র: ওয়েলথ অব গিকস
বাল্টিমোরে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামফলক ফেরাতে মেরিল্যান্ড বিএনপির উদ্যোগ
এআইয়ের ডেটা সেন্টার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষোভ, আটকে গেল ৬৮ বিলিয়ন ডলারের ৪৫ প্রকল্প