জো বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের কড়া মন্তব্য: ‘বাইডেনের জন্য আমার খারাপ লাগে না, সহানুভূতির দরকার নেই’

ক্যানসারে আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুরোনো একটি মন্তব্য নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, বাইডেনের স্টেজ ফোর প্রোস্টেট ক্যানসারের কারণে তার প্রতি সহানুভূতি না দেখাতে মার্কিনিদের বলেছিলেন ট্রাম্প। তবে বক্তব্যটির মূল ভিডিও ও সরকারি ট্রান্সক্রিপ্ট যাচাই করে দেখা যায়, ট্রাম্প কথাগুলো বললেও তিনি ওই সময় সরাসরি বাইডেনের ক্যানসারের কথা উল্লেখ করেননি।   ট্রাম্প মন্তব্যটি করেছিলেন ২০২৫ সালের ৩০ মে হোয়াইট হাউসে ইলন মাস্ককে সঙ্গে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে। এর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে, ১৮ মে বাইডেনের অফিস থেকে তার প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।   সংবাদ সম্মেলনে বাইডেন প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে কথা বলছিলেন ট্রাম্প। একপর্যায়ে বাইডেন সম্পর্কে তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট তার রাজনৈতিক জীবনে মোটামুটি মধ্যপন্থী ছিলেন, তবে তিনি একজন ‘ভয়ংকর’ ব্যক্তি।   এরপর ট্রাম্প বলেন, ‘আপনার যদি তার জন্য খারাপ লাগে, তাহলে এতটা খারাপ লাগার দরকার নেই। কারণ তিনি ভয়ংকর।’   বাইডেন তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও অন্য অনেক মানুষের ক্ষতি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প। এরপর তিনি বলেন, ‘তাই তার জন্য আমার সত্যিই খারাপ লাগে না।’   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বাইডেনের ক্যানসার বা তার চিকিৎসার কথা সরাসরি উল্লেখ করেননি। সরকারি ট্রান্সক্রিপ্টেও দেখা যায়, মন্তব্যটি এসেছিল বাইডেন প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘ বক্তব্যের মধ্যে।   ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘বাইডেনের ক্যানসারের জন্য সহানুভূতি দেখাতে নিষেধ করেছেন ট্রাম্প’ এমন সরাসরি ব্যাখ্যা পুরোপুরি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ট্রাম্প যে বাইডেনকে ‘ভয়ংকর’ বলেছেন এবং তার জন্য নিজের সহানুভূতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন, সেটি ভিডিও ও সরকারি নথিতে নিশ্চিত। কিন্তু তিনি ওই মন্তব্যের মাধ্যমে বিশেষভাবে বাইডেনের ক্যানসারকেই বোঝাচ্ছিলেন কি না, তা বক্তব্যের প্রেক্ষাপট থেকে স্পষ্ট নয়।   বাইডেনের ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার খবর প্রকাশের পর ট্রাম্পের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্ন। ১৮ মে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বাইডেনের চিকিৎসাজনিত খবর শুনে তিনি ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প দুঃখিত। একই সঙ্গে বাইডেনের দ্রুত ও সফল আরোগ্য কামনা করেন।   পরদিন থেকেই অবশ্য বাইডেনের ক্যানসার কখন শনাক্ত হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন ট্রাম্প। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন, বাইডেনের অসুস্থতার তথ্য আগে থেকেই জানা ছিল কি না।   বাইডেনের অফিস ২০২৫ সালের মে মাসে জানায়, তার প্রোস্টেট ক্যানসার হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসকেরা ক্যানসারটির গ্লিসন স্কোর ৯ এবং গ্রেড গ্রুপ ৫ হিসেবে শনাক্ত করেন, যা রোগটির উচ্চমাত্রার আক্রমণাত্মক ধরন নির্দেশ করে। তবে ক্যানসারটি হরমোন সংবেদনশীল হওয়ায় কার্যকর চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে বলেও সে সময় জানানো হয়েছিল।   নিজের চিকিৎসা নিয়ে পরে বাইডেন জানিয়েছিলেন, চিকিৎসকেরা তার পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী এবং তিনি চিকিৎসা শুরু করেছেন।   এক বছরের বেশি সময় আগের ট্রাম্পের ওই বক্তব্য এখন আবার ভাইরাল হওয়ায় এর সঙ্গে বাইডেনের ক্যানসারকে সরাসরি যুক্ত করে বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। তবে মূল বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট বলছে, ট্রাম্প বাইডেনের প্রতি সহানুভূতি না থাকার কথা বলেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেই মুহূর্তে তিনি ক্যানসারের প্রসঙ্গ তোলেননি। তাই বক্তব্যটির রাজনৈতিক ও চিকিৎসাজনিত প্রেক্ষাপট আলাদা করে দেখা জরুরি।

তাবাস্সুম আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন তথ্য জানিয়েছেন তার ছেলে হান্টার বাইডেন। ছবি: সংগৃহীত
জো বাইডেনের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে যন্ত্রণাদায়ক ক্যানসার

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রোস্টেট ক্যানসার হাড়সহ শরীরের আরও কয়েকটি অংশে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তার ছেলে হান্টার বাইডেন। তিনি বলেছেন, রোগটি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি তার বাবার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে। খবর সিএনবিসি নিউজ ও বিবিসির।   বিবিসির ‘নিউজনাইট’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হান্টার বাইডেন ৮৩ বছর বয়সী বাবার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, ক্যানসারটি হাড়ে এবং শরীরের আরও কিছু স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে মেটাস্টেসিস বলা হয়, অর্থাৎ মূল স্থান থেকে ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে যাওয়া।   হান্টার বলেন, পরিস্থিতি পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন। তার ভাষায়, এই রোগটি খুবই যন্ত্রণাদায়ক এবং এটি বিভিন্নভাবে তার বাবাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তবে এত কিছুর পরও জো বাইডেন এখনো ঘরের বাইরে যাচ্ছেন, নিজের কাজ করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তার দায়িত্ববোধ ও বিশ্বাস ধরে রেখেছেন।   ২০২৫ সালের মে মাসে হোয়াইট হাউস ছাড়ার চার মাসেরও কম সময় পর জো বাইডেন প্রকাশ্যে জানান, তিনি আক্রমণাত্মক ধরনের প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। সে সময়ই চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, রোগটি তার হাড়েও ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর তিনি হরমোন থেরাপি ও রেডিয়েশনসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা গ্রহণ করেন।   ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জো বাইডেন। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং স্বাস্থ্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও গণমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা হয়েছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন।   প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার পরও বাইডেন জনজীবন থেকে পুরোপুরি সরে যাননি। চলতি বছরের জুনে তিনি শিকাগোতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ওবামা প্রশাসনে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।   একই সাক্ষাৎকারে হান্টার বাইডেন তার বিরুদ্ধে থাকা মামলায় বাবার দেওয়া রাষ্ট্রপতির ক্ষমা নিয়েও কথা বলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বের শেষ দিকে জো বাইডেন ছেলে হান্টারকে ক্ষমা করেন। এর ফলে অস্ত্র ও করসংক্রান্ত ফেডারেল মামলায় দেওয়া দণ্ডও সেই ক্ষমার আওতায় পড়ে।   উল্লেখ্য, এর আগে একাধিকবার জো বাইডেন বলেছিলেন, প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি ছেলের মামলায় হস্তক্ষেপ করবেন না। তবে দায়িত্ব ছাড়ার আগে তিনি সেই অবস্থান পরিবর্তন করে ক্ষমার সিদ্ধান্ত নেন।   জো বাইডেনের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবারের এই মন্তব্যের পর তার স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তার চিকিৎসা পরিকল্পনা বা ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যগত অগ্রগতি নিয়ে চিকিৎসক বা পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
বাবার এই বেদনাদায়ক অসুস্থতা পুরো পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন হান্টার। ছবি: সংগৃহীত
জো বাইডেনের হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ক্যান্সার,কষ্টের কথা জানালেন ছেলে হান্টার

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রোস্টেট ক্যান্সার হাড়সহ শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এতে তিনি উল্লেখযোগ্য ব্যথার মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে হান্টার বাইডেন।   বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাবার শারীরিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন হান্টার। তিনি বলেন, ক্যান্সারটি মেটাস্টেসিস হয়ে হাড়ে এবং শরীরের আরও কিছু অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে রোগটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও দুর্বল করে দিচ্ছে।   হান্টার বলেন, বাবার অসুস্থতা পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, বাইডেন খুব কমই নিজের কষ্টের কথা বলেন। বরং অসুস্থতার মধ্যেও তিনি নিজের মতো করে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন।   ২০২৫ সালের মে মাসে বাইডেনের প্রোস্টেট ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার কথা প্রকাশ্যে আসে। পরে তার কার্যালয় জানায়, ক্যান্সারটি হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। হোয়াইট হাউস ছাড়ার কয়েক মাস পরই তার এই রোগ শনাক্ত হয়।   প্রোস্টেট ক্যান্সার পুরুষদের মধ্যে অন্যতম সাধারণ ক্যান্সার। তবে শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে এটি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বাইডেনের ক্ষেত্রে রোগটি হাড়ে ছড়িয়ে পড়ায় চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।   হান্টার জানান, অসুস্থতার মধ্যেও তার বাবা গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে প্রকাশ্যে কথা বলছেন। তার ভাষায়, বাইডেন এখনো ‘নিজের কাজ করে যাচ্ছেন’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তার বিশ্বাস অটুট রয়েছে।   বাইডেনের বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে অবশ্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই রাজনৈতিক বিতর্ক ছিল। বিশেষ করে ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় তার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ওই বছরের জুলাইয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড় থেকে সরে দাঁড়ান।   ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব হস্তান্তর করে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউস ছাড়েন বাইডেন। এরপর কয়েক মাসের মধ্যেই তার ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে।   বাবার অসুস্থতার পাশাপাশি তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়েও কথা বলেছেন হান্টার। বাইডেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে সময়কাল ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি স্মৃতিকথা প্রকাশের প্রস্তুতিও চলছে।   ‘Promise Me, America’ নামের বইটি প্রকাশ করবে Little, Brown and Company। বইটির প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ নভেম্বর ২০২৬—মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রায় দুই সপ্তাহ পর।   বইটিতে বাইডেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের পাশাপাশি অর্থনীতি, কোভিড-১৯ মহামারি, আফগানিস্তান ও ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা থাকবে। তিনি কেন পুনর্নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং পরে কেন সরে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই বিষয়ও বইটিতে তুলে ধরার কথা রয়েছে।   হান্টার বলেন, তার বাবার অসুস্থতা দেখা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। তবে রোগের প্রভাবের মধ্যেও বাইডেনের দেশের প্রতি আগ্রহ ও বিশ্বাস কমেনি।   হান্টারের বক্তব্যে একই সঙ্গে সামনে এসেছে একটি পরিবারের কঠিন বাস্তবতা এবং একজন সাবেক প্রেসিডেন্টের জনজীবনে সক্রিয় থাকার চেষ্টা। ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ের মধ্যেও বাইডেন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে নিজের অবস্থান তুলে ধরে যাচ্ছেন।

তাবাস্সুম আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
জো বাইডেনের বিশেষ ক্ষমায় যাবজ্জীবন থেকে মুক্তি, এক বছর না পেরোতেই ফের অর্থ পাচার চক্রে জড়ালেন স্মিথ

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিশেষ ক্ষমায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে মুক্তি পাওয়া এক ব্যক্তি আবারও মাদক পাচার এবং অবৈধ অর্থ লেনদেনের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছেন। ৫৫ বছর বয়সী ল্যাকেন্টো ব্রায়ান স্মিথ নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এই যাত্রায় তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সম্প্রতি মিশিগানের ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাকে গ্রেপ্তারের পর মামলার নথি উন্মুক্ত করা হয়।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০০৬ সালে বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচার এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার দায়ে জুরি বোর্ড স্মিথকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি, হোয়াইট হাউস ছাড়ার ঠিক কয়েকদিন আগে জো বাইডেন তার সাজা মওকুফ করেন। এরপর একই বছরের জুলাই মাসে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ৮ বছরের শর্তসাপেক্ষ মুক্তির (সুপারভাইজড রিলিজ) অধীনে টেক্সাসের হিউস্টনে বসবাস শুরু করেন তিনি। প্রোবেশন অফিসের অনুমতি নিয়েই তিনি সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   তবে মুক্তির পর নতুন জীবনের সুযোগ পেয়েও তিনি পুরনো পথে হাঁটা শুরু করেন। আইআরএস (IRS) ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনের স্পেশাল এজেন্ট জোসেফ ম্যাকের দায়ের করা ৩৩ পৃষ্ঠার অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউএস ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) এক ছদ্মবেশী এজেন্টের ফাঁদে পা দেন স্মিথ। ওই আন্ডারকভার এজেন্ট নিজেকে অর্থ পাচারকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।   স্মিথ তাকে জানান, তিনি টেক্সাসে থাকলেও তার মূল ব্যবসা মিশিগানে চলছে। এরপর মিশিগানের মাস্কেগনে থাকা তার এক সহযোগীর মাধ্যমে একটি ওয়ালমার্ট স্টোরের পার্কিং লটে ছদ্মবেশী আরেক নারী এজেন্টের কাছে ৮০ হাজার ডলারের অবৈধ অর্থ হস্তান্তর করেন স্মিথ। পরবর্তীতে এই অর্থ মেক্সিকোর ব্যাংকে পাচার করা হয়। এমনকি স্মিথ ওই এজেন্টের কাছে গর্ব করে বলেছিলেন, গত ২০ বছর আগে তিনি যখন রাস্তায় ছিলেন তখন বেশ বড় মাপের ব্যবসায়ী ছিলেন এবং কারাগারে বসেও সপ্তাহে ২০ কিলোগ্রাম কোকেন পাচার নিয়ন্ত্রণ করতেন।   আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ভয়ংকর কর্মকাণ্ড চালানোর মধ্যেই গত ১৬ জুলাই স্মিথ আদালতে তার শর্তসাপেক্ষ মুক্তির মেয়াদ কমানোর আবেদন করেছিলেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তিনি একটি ট্রাকিং কোম্পানি খুলেছেন এবং সমাজের একজন ইতিবাচক ও উৎপাদনশীল সদস্য হিসেবে নতুন জীবন শুরু করেছেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমাকে দ্বিতীয় সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও লিখেছিলেন, তিনি আইন মেনে সৎ জীবনযাপন করছেন এবং এই সুযোগকে হেলায় হারাতে চান না। যদিও তার এই আবেদনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি আদালত, তবে তার আগেই মাদক ও অর্থ পাচারের নতুন অভিযোগে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়লেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
মেরিক গারল্যান্ডকে নিয়োগ দেওয়া বাইডেন প্রশাসনের “সবচেয়ে বড় ভুল” ছিল বলে মন্তব্য করলেন হান্টার বাইডেন। ছবি: সংগৃহীত
জো বাইডেন প্রশাসনের ‘সবচেয়ে বড় ভুল’ প্রকাশ করলেন ছেলে হান্টার বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন তার বাবার প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ডকে নিয়োগ দেওয়া ছিল বাইডেন প্রশাসনের “সবচেয়ে বড় ভুল”।    সম্প্রতি ‘আই’ভ হ্যাড ইট’ নামের একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে হান্টার বাইডেন গারল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন বিচার বিভাগের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হামলার ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।    হান্টার বাইডেন বলেন, তার ব্যক্তিগত বিষয় বাদ দিয়েও তিনি মনে করেন, মেরিক গারল্যান্ডের নেতৃত্বই ছিল তার বাবার প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্তগুলোর একটি। তার দাবি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করতে গিয়ে গারল্যান্ড অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ধীরগতির অবস্থান নিয়েছিলেন।    হান্টার আরও অভিযোগ করেন, একদিকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলেছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্যাপিটল হামলার ঘটনায় যথেষ্ট কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, ৬ জানুয়ারির ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ ছিল এবং এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল। মেরিক গারল্যান্ড ২০২১ সালের  প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার সময় বিচার বিভাগ সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, হান্টার বাইডেনসহ বেশ কয়েকটি আলোচিত তদন্ত পরিচালনা করে। এসব তদন্ত ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।    হান্টার বাইডেনের নিজের বিরুদ্ধেও কর ও অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগে ফেডারেল তদন্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার ছেলেকে ক্ষমা করে দেন, যা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা হয়।    গারল্যান্ডের সমর্থকেরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় রাজনৈতিক চাপ এড়িয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। তবে সমালোচকেরা অভিযোগ করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনায় তার পদক্ষেপ ছিল ধীর।

তাবাস্সুম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
বাইডেনের নতুন বই নিয়ে জিমি ফ্যালনের রসিকতা, ‘শেষের পাতাগুলো যেন কমলা হ্যারিসের লেখা’

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আসন্ন স্মৃতিকথা প্রকাশ নিয়ে তুমুল রসিকতা ও কটাক্ষ করেছেন জনপ্রিয় লেট-নাইট শো ‘দ্য টুনাইট শো’-এর সঞ্চালক জিমি ফ্যালন। বুধবার রাতে সম্প্রচারিত শোতে বাইডেনকে নিয়ে করা ফ্যালনের এই ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক হাস্যরসের খোরাক জুগিয়েছে।   সম্প্রতি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১৭ নভেম্বর অর্থাৎ মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক দুই সপ্তাহ পর জো বাইডেনের রাজনৈতিক স্মৃতিকথা ‘প্রমিজ মি, আমেরিকা’ প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এই বইটিতে তাঁর প্রেসিডেন্সি এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী দৌড় থেকে নাটকীয়ভাবে সরে দাঁড়ানোর নেপথ্যের অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও জটিল হিসাব-নিকাশের না-বলা গল্পগুলো উন্মোচিত হবে।   টুনাইট শো চলাকালীন বইটির প্রচ্ছদ পর্দায় প্রদর্শন করে জিমি ফ্যালন বেশ কিছু কৌতুক ছুড়ে দেন। তিনি রসিকতা করে বলেন, “বইটি একজন ঘোস্ট রাইটার বা ছদ্মনামধারী লেখক লিখেছেন, যাঁর নাম জো বাইডেন।” বাইডেনের বয়স ও স্মৃতিশক্তিকে ইঙ্গিত করে এই কমেডিয়ান আরও বলেন, এটি বাইডেনের লেখা দ্বিতীয় বই, যার প্রথমটি ছিল গ্রিক মহাকাব্য ‘দ্য ওডিসি’।   তিনি উপহাসের সুরে বলেন, প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তাঁর যা যা মনে আছে, তা নিয়েই মূলত এই বই; সুতরাং এটি বড়জোর তিন পৃষ্ঠার একটি বই হতে পারে। ফ্যালন এখানেই থেমে থাকেননি, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে এই রসিকতায় টেনে এনে তিনি বলেন, “বইটি কিছুটা অদ্ভুত, কারণ শেষের দিকে মনে হবে এর প্রতিটি পাতা যেন কমলা হ্যারিসের লেখা।” তবে এই কৌতুকের বিষয়ে জো বাইডেনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   এর আগে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় জো বাইডেন নিজেই এই স্মৃতিকথা প্রকাশের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি জানান যে তাঁর ক্যানসারের চিকিৎসা চলছে এবং তিনি বর্তমানে বেশ ভালো আছেন। বইটির বিষয়বস্তু নিয়ে বাইডেন বলেন, এটি মূলত একটি জাতি হিসেবে আমেরিকার মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জগুলো এবং কোভিড মহামারি মোকাবিলা, অর্থনীতি পুনর্গঠন, ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিল হামলার পর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আফগানিস্তানের দীর্ঘতম যুদ্ধের অবসান এবং ন্যাটোকে শক্তিশালী করার মতো বড় বড় সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা।   তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির সাবেক শীর্ষ তহবিল সংগ্রাহক লিন্ডি লি এই বইটির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পরাজয়ের ক্ষত যখন কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে, ঠিক তখন এই বই প্রকাশ করে বাইডেন নিজের ও দলের ক্ষতি করছেন। তাঁর মতে, বয়স ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের মাঝেও কেন তিনি আবার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তার ব্যাখ্যা দেওয়াটা এখন ডেমোক্র্যাটদের জন্য কেবলই পুরোনো ক্ষত নতুন করে জাগিয়ে তুলবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: পডকাস্টে বাইডেনকে নিয়ে মন্তব্য, সমালোচনার মুখে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স
জো বাইডেনের আইসক্রিম খাওয়া নিয়ে জেডি ভ্যানসের মন্তব্যে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নিয়ে করা এক মন্তব্যের জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন।   সম্প্রতি সম্প্রচারিত জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘দ্য জো রগান এক্সপেরিয়েন্স’-এ অংশ নিয়ে ভ্যান্স বাইডেন প্রশাসনের সাবেক কর্মীদের সমালোচনা করতে গিয়ে বলেন, তার মতে বাইডেনকে এমনভাবে আইসক্রিম খেতে দেখানো হতো, যা ছিল “সবচেয়ে অদ্ভুত ও ইঙ্গিতপূর্ণ” উপস্থাপনা। তিনি বলেন, “আমি যেটা বুঝতে পারিনি, সেটা হলো খারাপ স্টাফ ওয়ার্ক। তারা তাকে এমনভাবে আইসক্রিম খাওয়াত, যা ছিল কল্পনা করা যায় এমন সবচেয়ে অদ্ভুত ও ইঙ্গিতপূর্ণ।”    ভ্যান্সের এ মন্তব্যের পর পডকাস্টের সঞ্চালক জো রগান বলেন, তিনি আগে বিষয়টি সেভাবে খেয়ালই করেননি এবং এটিকে “খারাপ অপটিকস” বা জনসমক্ষে উপস্থাপনার দুর্বল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।    মন্তব্যটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবহারকারী ভ্যান্সকে ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেন যে, একটি সাধারণ আইসক্রিম খাওয়ার দৃশ্যকে তিনি অপ্রয়োজনীয়ভাবে “ইঙ্গিতপূর্ণ” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এ নিয়ে অসংখ্য মিম ও সমালোচনামূলক পোস্টও প্রকাশিত হয়।    তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্টে দাবি করা হয়, ভ্যান্স নাকি বাইডেনের আইসক্রিম খাওয়াকে “যৌনতার সঙ্গে” যুক্ত করেছেন। কিন্তু পডকাস্টের সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারে তিনি এমন কোনো বক্তব্য দেননি। তিনি “suggestive” বা “ইঙ্গিতপূর্ণ” শব্দটি ব্যবহার করলেও সরাসরি যৌনতা বা “sex” শব্দের উল্লেখ করেননি। ফলে এ ধরনের দাবিকে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা বা রাজনৈতিক সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, সরাসরি উদ্ধৃতি হিসেবে নয়।    প্রায় তিন ঘণ্টার ওই সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, জেফ্রি এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের যোগাযোগ কৌশল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়েও কথা বলেন। তবে নীতিগত আলোচনার চেয়ে বাইডেনের আইসক্রিম খাওয়া নিয়ে তার মন্তব্যই সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
মেরিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী গালায় মূল বক্তব্য রাখছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন | ছবি: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের বিশেষ সম্মেলনে যোগ দিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রথম ‘ফাইট ব্যাক অ্যান্ড উইন’ শীর্ষ সম্মেলন ও গালা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ২০২৬ সালের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নেতা ও কর্মীদের চাঙ্গা এবং প্রস্তুত করতেই মেরিল্যান্ড ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শনিবার আরুন্ডেল মিলসের ‘লাইভ! ক্যাসিনো’তে এই বর্ণাঢ্য সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।   দিনব্যাপী আয়োজিত এই সম্মেলনে মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট নেতারা লবিং ও অ্যাডভোকেসি, বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায়ের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী প্রচারণার নানা সংস্থানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ধারাবাহিক প্যানেল আলোচনার আয়োজন করেন। এছাড়া সান্ধ্যকালীন একটি বিশেষ অনুষ্ঠানেরও ব্যবস্থা করা হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল দলের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং আগামী নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত করা।   ওয়াশিংটন ডিসির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া হিসেবেই মূলত এই বিশেষ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়েছে বলে দলের নীতিনির্ধারকেরা জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে মেরিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুর বলেন, এটি আমাদের জন্য কেবল প্রতিহত করার সুযোগ নয়, বরং সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি অনন্য সুযোগ। একই সুর মিলিয়ে মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন বলেন, আমরা ইতিহাসকে নতুন করে লিখব না এবং আমরা কখনোই ঘড়ির কাঁটাকে পেছনে ঘুরাব না।   এই সম্মেলনটি মেরিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটিক সরকারের বিগত দিনগুলোর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পর্যালোচনারও একটি বড় ক্ষেত্র ছিল। বাল্টিমোরের মেয়র ব্র্যান্ডন স্কট বলেন, আমরা আমাদের বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে আরও শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যকর এলাকা গড়ে তুলছি। গভর্নর ওয়েস মুর তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মেরিল্যান্ডের ইতিহাসে শিশু সুরক্ষায় এবারই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষানবিস ও বাণিজ্য কর্মসূচিতেও ব্যাপক বিনিয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে রাজ্যে শিক্ষক শূন্যতা ৬০ শতাংশ কমেছে।   গভর্নর মুর আরও মনে করিয়ে দেন যে, কি ব্রিজ ধসের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাল্টিমোর বন্দর পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাট সরকার দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। দলের এই সাফল্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করেন মেরিল্যান্ডের শীর্ষ নেতারা। সম্মেলনে বাইডেন সাম্প্রতিক নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বিভিন্ন আসনে জয়লাভের কথা উল্লেখ করে নেতাকর্মীদের প্রশংসা করেন।   জো বাইডেন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, তিনি সারাজীবন ডেমোক্র্যাটদের অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এই লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিনি আরও বলেন, আমরা অতীতেও অনেক অন্ধকার এবং কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছি। তবে আমেরিকান জনগণের একটি বড় গুণ হলো তারা কখনো হাল ছাড়ে না এবং আমরাও এখন হাল ছাড়তে পারি না। এই দেশে কোনো পরাজয় মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই, আমি আপনাদের পাশে সবসময় আছি।

তাবাস্সুম জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ট্রাম্পকে কড়া ভাষায় আক্রমণ, মঞ্চ ছাড়ার সময় পথ খুঁজতে গিয়ে বিড়ম্বনায় বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মেরিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। তবে বক্তব্য শেষ হওয়ার পর মঞ্চ ছাড়ার পথ খুঁজতে গিয়ে কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   শনিবার বাল্টিমোরের কাছে হ্যানোভারের লাইভ! ক্যাসিনো অ্যান্ড হোটেলে আয়োজিত মেরিল্যান্ড ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ‘ফাইট ব্যাক অ্যান্ড উইন’ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ৮৩ বছর বয়সী বাইডেন।   বক্তব্যে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন। বাইডেন অভিযোগ করেন, ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে ন্যাটোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি হোয়াইট হাউসে নতুন বলরুম নির্মাণের পরিকল্পনাকে তিনি ‘ব্যক্তিগত অহমিকার প্রকল্প’ বলে মন্তব্য করেন।   বক্তৃতার শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংকট মোকাবিলার সক্ষমতার কথা তুলে ধরেন বাইডেন। এরপর মঞ্চ ছাড়তে গিয়ে তিনি একপাশে তাকিয়ে দিকনির্দেশনা চান। পরে দুই দিকেই ইশারা করে কোন পথে নামবেন তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। সঠিক পথ বুঝে নেওয়ার পর দর্শকদের দিকে পিঠ রেখে মঞ্চ ত্যাগ করেন।   এর কয়েকদিন আগেই শিকাগোতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রেসিডেনশিয়াল লাইব্রেরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন বাইডেন। ওই অনুষ্ঠানেও সমাপ্তির সময় তাকে কিছুটা বিভ্রান্ত দেখা যায়। সে সময় তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের নাতনিকে খুঁজছিলেন। পরে সাবেক ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন তাকে পথ দেখান।   শনিবারের বক্তব্যে বাইডেন টেলিপ্রম্পটার ব্যবহার করেন। বক্তব্যের সময় কয়েকবার কাশি দিতেও দেখা যায় তাকে। তিনি দাবি করেন, তার প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান সময়ের তুলনায় ভালো ছিল।   ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বাইডেন বলেন, তিনি হোয়াইট হাউসে ফিরে এসে বিভিন্ন ব্যক্তিগত প্রকল্প বাস্তবায়নে মনোযোগ দিচ্ছেন। হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ে বলরুম নির্মাণ, কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম যুক্ত করা এবং ন্যাশনাল মলের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কারের উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন তিনি।   বাইডেন আরও অভিযোগ করেন, হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন এবং এ বিষয়ে তার কোনো লজ্জাবোধ নেই। এর আগে প্রেসিডেন্ট থাকাকালেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান ও জনসমাবেশে মঞ্চে চলাফেরা বা দিকনির্দেশনা নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কয়েকটি ঘটনা আলোচনায় এসেছিল।   বর্তমানে বাইডেন স্টেজ-৪ প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যদিকে সাবেক ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন তার নতুন বইয়ের প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন। বইটিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিতর্কে বাইডেনের পারফরম্যান্স দেখে প্রথমে তার মনে হয়েছিল, তিনি হয়তো স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন।

Unknown জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০