আমেরিকা

জো বাইডেনের বিশেষ ক্ষমায় যাবজ্জীবন থেকে মুক্তি, এক বছর না পেরোতেই ফের অর্থ পাচার চক্রে জড়ালেন স্মিথ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৬:৪৩
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিশেষ ক্ষমায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে মুক্তি পাওয়া এক ব্যক্তি আবারও মাদক পাচার এবং অবৈধ অর্থ লেনদেনের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছেন। ৫৫ বছর বয়সী ল্যাকেন্টো ব্রায়ান স্মিথ নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এই যাত্রায় তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সম্প্রতি মিশিগানের ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাকে গ্রেপ্তারের পর মামলার নথি উন্মুক্ত করা হয়।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০০৬ সালে বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচার এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার দায়ে জুরি বোর্ড স্মিথকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি, হোয়াইট হাউস ছাড়ার ঠিক কয়েকদিন আগে জো বাইডেন তার সাজা মওকুফ করেন। এরপর একই বছরের জুলাই মাসে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ৮ বছরের শর্তসাপেক্ষ মুক্তির (সুপারভাইজড রিলিজ) অধীনে টেক্সাসের হিউস্টনে বসবাস শুরু করেন তিনি। প্রোবেশন অফিসের অনুমতি নিয়েই তিনি সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

তবে মুক্তির পর নতুন জীবনের সুযোগ পেয়েও তিনি পুরনো পথে হাঁটা শুরু করেন। আইআরএস (IRS) ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনের স্পেশাল এজেন্ট জোসেফ ম্যাকের দায়ের করা ৩৩ পৃষ্ঠার অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউএস ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) এক ছদ্মবেশী এজেন্টের ফাঁদে পা দেন স্মিথ। ওই আন্ডারকভার এজেন্ট নিজেকে অর্থ পাচারকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।

 

স্মিথ তাকে জানান, তিনি টেক্সাসে থাকলেও তার মূল ব্যবসা মিশিগানে চলছে। এরপর মিশিগানের মাস্কেগনে থাকা তার এক সহযোগীর মাধ্যমে একটি ওয়ালমার্ট স্টোরের পার্কিং লটে ছদ্মবেশী আরেক নারী এজেন্টের কাছে ৮০ হাজার ডলারের অবৈধ অর্থ হস্তান্তর করেন স্মিথ। পরবর্তীতে এই অর্থ মেক্সিকোর ব্যাংকে পাচার করা হয়। এমনকি স্মিথ ওই এজেন্টের কাছে গর্ব করে বলেছিলেন, গত ২০ বছর আগে তিনি যখন রাস্তায় ছিলেন তখন বেশ বড় মাপের ব্যবসায়ী ছিলেন এবং কারাগারে বসেও সপ্তাহে ২০ কিলোগ্রাম কোকেন পাচার নিয়ন্ত্রণ করতেন।

 

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ভয়ংকর কর্মকাণ্ড চালানোর মধ্যেই গত ১৬ জুলাই স্মিথ আদালতে তার শর্তসাপেক্ষ মুক্তির মেয়াদ কমানোর আবেদন করেছিলেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তিনি একটি ট্রাকিং কোম্পানি খুলেছেন এবং সমাজের একজন ইতিবাচক ও উৎপাদনশীল সদস্য হিসেবে নতুন জীবন শুরু করেছেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমাকে দ্বিতীয় সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও লিখেছিলেন, তিনি আইন মেনে সৎ জীবনযাপন করছেন এবং এই সুযোগকে হেলায় হারাতে চান না। যদিও তার এই আবেদনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি আদালত, তবে তার আগেই মাদক ও অর্থ পাচারের নতুন অভিযোগে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়লেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৫০ বছর বয়সী ফর হায়ার গাড়িচালক রুহুল আমিন
নিউইয়র্কে যাত্রী নামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশি চালক, হামলাকারী এখনো পলাতক

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে যাত্রী নামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৫০ বছর বয়সী ফর হায়ার গাড়িচালক রুহুল আমিন। শুক্রবার ভোরে ফোর্ট গ্রিন এলাকায় একটি ছোটখাটো সড়ক দুর্ঘটনার পর সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে এক ব্যক্তি তার গাড়ির কাছে এসে মুখে গুলি করে পালিয়ে যায়। অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।   নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্স তাকে এমডি আমিন নামে শনাক্ত করেছে। বাংলাদেশি কমিউনিতে তিনি রুহুল আমিন নাসির নামে পরিচিত বলে কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে।   পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোর ৪টার কিছু পর ব্রুকলিনের ফোর্ট গ্রিনের নর্থ পোর্টল্যান্ড অ্যাভিনিউ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সে সময় আমিন রাতের শিফটে কাজ করছিলেন।   সিবিএস নিউইয়র্ক ও এনওয়াইওয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাত্রী নামানোর সময় আমিনের গাড়ির সঙ্গে একটি মেডিকেল পরিবহন ভ্যানের ছোটখাটো সংঘর্ষ হয়। এরপর সেখানে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন আমিন।   পুলিশ সূত্রের বরাতে এনওয়াইওয়ান জানায়, বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে পাশের হুইটম্যান হাউসেস এলাকা থেকে এক ব্যক্তি বেরিয়ে এসে আমিনের গাড়ির কাছে যায়। ওই ব্যক্তি গাড়ির জানালায় নক করার পর তাকে গুলি করে। গুলিটি আমিনের মুখের ডান পাশে লাগে।   গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আমিনকে নিউইয়র্ক প্রেসবিটারিয়ান ব্রুকলিন মেথডিস্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। শনিবার সকালে নিউজ ১২ জানিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।   নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্সের প্রতিষ্ঠাতা ফার্নান্দো মাতেও এনওয়াইওয়ানকে জানান, আমিন বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন এবং বর্তমানে কুইন্সে বসবাস করেন। স্ত্রী ও সন্তানদের জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি প্রায় ১৬ বছর ধরে গাড়ি চালিয়ে আসছেন।   ঘটনার পর নিউইয়র্ক সিটি ট্যাক্সি অ্যান্ড লিমোজিন কমিশন চালকের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, লাইসেন্সধারী চালকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয় এবং প্রত্যেক চালকের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে কাজ করার অধিকার রয়েছে।   নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্স জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহের মধ্যে কর্মরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হওয়া এটি দ্বিতীয় চালকের ঘটনা। আমিনের পরিবারের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হামলাকারীকে শনাক্ত করতে তথ্যের জন্য পুরস্কার ঘোষণার পরিকল্পনাও রয়েছে সংগঠনটির।   পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পর বন্দুকধারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। শনিবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। হামলাকারীর পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা জানতে তদন্ত চলছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৮:৫২
১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে মর্টগেজ রেট

যুক্তরাষ্ট্রে স্বপ্নের বাড়ি কেনা এখন আরও কঠিন, ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে মর্টগেজ রেট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পানিশূন্য শহর হতে পারে টেক্সাসের করপাস ক্রিস্টি

পানি শেষ হওয়ার কাউন্টডাউন শুরু, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পানিশূন্য শহর হতে পারে টেক্সাসের করপাস ক্রিস্টি

জর্জিয়ায় গাড়ির কিস্তি এখন বাড়িভাড়ার সমান, মাসে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ডলারের বেশি

জর্জিয়ায় গাড়ির কিস্তি এখন বাড়িভাড়ার সমান, মাসে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ডলারের বেশি

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
১৪ বছরের কিশোরী হত্যা মামলায় মার্কিন পপ তারকা, আদালতে গর্ভপাত ও লাশ খণ্ডিত করার দাবি

মার্কিন পপ তারকা এবং টিকটক সেনসেশন ডেভিড বার্ক, যিনি সংগীত জগতে 'ডি-ফোর-ভিডি' (D4vd) নামে পরিচিত, তার বিরুদ্ধে ১৪ বছর বয়সী কিশোরী সেলেস্ট রিভাস হার্নান্দেজকে হত্যার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালতে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শুনানিতে এই মামলার ভয়াবহ সব তথ্য উপস্থাপন করা হয়।   আদালতে দেখানো টেক্সট মেসেজের সূত্র ধরে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর আগে মাত্র ১৩ বছর বয়সেই ডেভিডের মাধ্যমে গর্ভবতী হয়ে পড়েছিল ওই কিশোরী এবং পরবর্তীতে তার গর্ভপাত করানো হয়। প্রসিকিউটরদের দাবি, কিশোরীটি তাদের দীর্ঘদিনের গোপন যৌন সম্পর্কের কথা ফাঁস করে ডেভিডের মিলিয়ন ডলারের ক্যারিয়ার ধ্বংস করার হুমকি দিলে তাকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।   আদালতে প্রসিকিউটররা জানান, হত্যার পর সেলেস্টের মৃতদেহ টুকরো টুকরো করে ডেভিডের গ্যারেজে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পুলিশি তদন্তে গ্যারেজ থেকে উদ্ধার হওয়া রক্তের দাগের সঙ্গে সেলেস্টের ডিএনএ মিলে যায়। হত্যার প্রায় পাঁচ মাস পর, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে হলিউড হিলস থেকে উদ্ধার হওয়া ডেভিড বার্কের নিবন্ধিত একটি টেসলা গাড়ির ট্রাঙ্ক থেকে ওই কিশোরীর খণ্ডিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। শুনানিতে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ডেভিডের আইফোন থেকে তাদের প্রায় তিন ডজনের বেশি ছবি উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো এতটাই আপত্তিকর যে তা উন্মুক্ত আদালতে দেখানো সম্ভব নয়। ওই ছবিগুলোতে সেলেস্টের বয়স ছিল মাত্র ১৩ ও ১৪ বছর। এই ভয়াবহ চিত্র ও বর্ণনা শুনে আদালতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত কিশোরীর বাবা-মা।   ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ড. গ্রান্ট হো শুনানিতে জানান, সেলেস্টের শরীরের উপরিভাগে দুটি গভীর ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যার একটি তার লিভার এবং অন্যটি পাঁজরে আঘাত হেনেছিল। তবে মৃতদেহ এতটাই পচে গিয়েছিল যে, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময় নিশ্চিতভাবে বলা অত্যন্ত কঠিন। চিকিৎসকের মতে, মৃতদেহটি অন্তত কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে সেখানে পড়ে ছিল।   এদিকে, ডেভিড বার্ক তার বিরুদ্ধে আনা হত্যা, শিশু যৌন নির্যাতন এবং মৃতদেহ বিকৃত করার সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং অতিরিক্ত পচনশীলতার কারণে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও ড্রাগ টেস্টের ফলাফল সঠিক তথ্য দিচ্ছে না।   উল্লেখ্য, 'ডি-ফোর-ভিডি' নামে ডেভিড বার্ক টিনএজার হিসেবেই অনলাইনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। ইন্ডি রক, আরঅ্যান্ডবি এবং লো-ফাই পপের সংমিশ্রণে গাওয়া তার গানগুলো টিকটক, সাউন্ডক্লাউড এবং স্পটিফাইতে বিপুল সাড়া ফেলে। তার ২০২২ সালের হিট গান 'রোমান্টিক হোমিসাইড' এক বিলিয়নেরও বেশি বার প্লে হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেলেস্টকে হত্যার ঠিক দুই দিন পরই তার প্রথম পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম 'উইদার্ড' প্রকাশিত হয়েছিল। ক্যারিয়ারের এমন স্বর্ণযুগে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তার গোটা সংগীত জীবনকে এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৭:১০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ট্রেনের কনটেইনারে ৭ অভিবাসীর মর্মান্তিক মৃ ত্যু, অভিযুক্ত ১১

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

'ইহুদিদের অধীনে কাজ নয়': বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের পরও ক্যাম্পাসে ফিরছেন শিক্ষার্থী

ভাড়ামুক্ত মেট্রোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় লস এঞ্জেলেসের মেয়র কারেন ব্যাস

ভাড়ামুক্ত মেট্রোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় লস এঞ্জেলেসের মেয়র কারেন ব্যাস

সাইবার প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর যুক্তরাষ্ট্র, ভিসা হারাতে পারেন পরিবারের সদস্যরাও
সাইবার প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর যুক্তরাষ্ট্র, ভিসা হারাতে পারেন পরিবারের সদস্যরাও

সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা ও ডিজিটাল চাঁদাবাজির মতো ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অপরাধ দমনে নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সরকার সম্প্রতি একটি নতুন বৈশ্বিক ভিসা নিষেধাজ্ঞা নীতি ঘোষণা করেছে, যার মাধ্যমে কেবল অভিযুক্ত সাইবার অপরাধীরাই নয়, বরং তাদের নিকটাত্মীয়রাও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।   মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের ধারা ২১২(এ)(৩)(সি)-এর অধীনে এই কঠোর নীতি কার্যকর করা হচ্ছে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাইবার অপরাধ দমনের এক বৃহত্তর ও সমন্বিত উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   মার্কিন সরকারের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অনলাইন বিনিয়োগ প্রতারণা এবং বিশেষ করে চীনের আন্তঃদেশীয় অপরাধী চক্রগুলোর দ্বারা পরিচালিত সাইবার প্রতারণা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল হুমকিতে পরিণত হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসব প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে শুধু ২০২৪ সালেই মার্কিন নাগরিকদের অন্তত ১০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।   এর পাশাপাশি সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ ব্যবহার করে মানব পাচার, দুর্নীতি এবং আন্তর্জাতিক অর্থপাচারের মতো গুরুতর অপরাধগুলোকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসন আরও জানিয়েছে, শিশু-কিশোররাও এসব অপরাধের নির্মম শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে পরিচালিত ‘সেক্সটর্শন’ বা ‘রোমান্স স্ক্যাম’-এর ফাঁদে পড়ে অনেক মার্কিন পরিবার চরম আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।   এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ‘আমেরিকান নাগরিকদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ, প্রতারণা ও শোষণমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৪৩৯০-এ স্বাক্ষর করেছেন। এই নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতেই নতুন ভিসা নীতিটি চূড়ান্তভাবে চালু করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ভিসা নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সাইবার অপরাধীদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে অর্থনৈতিক অবরোধ, ফৌজদারি মামলা দায়ের, সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।   এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, যারা সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সর্বস্বান্ত করছে, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযুক্তদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদেরও ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলোর ওপর প্রচণ্ড মনস্তাত্ত্বিক ও আইনি চাপ সৃষ্টি করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে সাইবার অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৬:০
অ্যারিজোনায় রোবটের ধাক্কায় মেরুদণ্ড ভাঙল ৭৩ বছরের বৃদ্ধার, ন্যায়বিচার চেয়ে আদালতে পরিবার

অ্যারিজোনায় রোবটের ধাক্কায় মেরুদণ্ড ভাঙল ৭৩ বছরের বৃদ্ধার, ন্যায়বিচার চেয়ে আদালতে পরিবার

ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যালটের ভাষা বদলে সমালোচনার মুখে অ্যাটর্নি জেনারেল

যুক্তরাজ্যে বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষ, প্রতি ৫ দিনে হামলার শিকার একটি মসজিদ

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি , কংগ্রেসম্যান রো খান্না  এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

মামদানির নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আহ্বানে এবার সুর মেলালেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান রো খান্না

0 Comments