ট্রাম্পের কড়া মন্তব্য: ‘বাইডেনের জন্য আমার খারাপ লাগে না, সহানুভূতির দরকার নেই’
ক্যানসারে আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুরোনো একটি মন্তব্য নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, বাইডেনের স্টেজ ফোর প্রোস্টেট ক্যানসারের কারণে তার প্রতি সহানুভূতি না দেখাতে মার্কিনিদের বলেছিলেন ট্রাম্প। তবে বক্তব্যটির মূল ভিডিও ও সরকারি ট্রান্সক্রিপ্ট যাচাই করে দেখা যায়, ট্রাম্প কথাগুলো বললেও তিনি ওই সময় সরাসরি বাইডেনের ক্যানসারের কথা উল্লেখ করেননি।
ট্রাম্প মন্তব্যটি করেছিলেন ২০২৫ সালের ৩০ মে হোয়াইট হাউসে ইলন মাস্ককে সঙ্গে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে। এর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে, ১৮ মে বাইডেনের অফিস থেকে তার প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে বাইডেন প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে কথা বলছিলেন ট্রাম্প। একপর্যায়ে বাইডেন সম্পর্কে তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট তার রাজনৈতিক জীবনে মোটামুটি মধ্যপন্থী ছিলেন, তবে তিনি একজন ‘ভয়ংকর’ ব্যক্তি।
এরপর ট্রাম্প বলেন, ‘আপনার যদি তার জন্য খারাপ লাগে, তাহলে এতটা খারাপ লাগার দরকার নেই। কারণ তিনি ভয়ংকর।’
বাইডেন তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও অন্য অনেক মানুষের ক্ষতি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প। এরপর তিনি বলেন, ‘তাই তার জন্য আমার সত্যিই খারাপ লাগে না।’
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বাইডেনের ক্যানসার বা তার চিকিৎসার কথা সরাসরি উল্লেখ করেননি। সরকারি ট্রান্সক্রিপ্টেও দেখা যায়, মন্তব্যটি এসেছিল বাইডেন প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘ বক্তব্যের মধ্যে।
ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘বাইডেনের ক্যানসারের জন্য সহানুভূতি দেখাতে নিষেধ করেছেন ট্রাম্প’ এমন সরাসরি ব্যাখ্যা পুরোপুরি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ট্রাম্প যে বাইডেনকে ‘ভয়ংকর’ বলেছেন এবং তার জন্য নিজের সহানুভূতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন, সেটি ভিডিও ও সরকারি নথিতে নিশ্চিত। কিন্তু তিনি ওই মন্তব্যের মাধ্যমে বিশেষভাবে বাইডেনের ক্যানসারকেই বোঝাচ্ছিলেন কি না, তা বক্তব্যের প্রেক্ষাপট থেকে স্পষ্ট নয়।
বাইডেনের ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার খবর প্রকাশের পর ট্রাম্পের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্ন। ১৮ মে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বাইডেনের চিকিৎসাজনিত খবর শুনে তিনি ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প দুঃখিত। একই সঙ্গে বাইডেনের দ্রুত ও সফল আরোগ্য কামনা করেন।
পরদিন থেকেই অবশ্য বাইডেনের ক্যানসার কখন শনাক্ত হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন ট্রাম্প। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন, বাইডেনের অসুস্থতার তথ্য আগে থেকেই জানা ছিল কি না।
বাইডেনের অফিস ২০২৫ সালের মে মাসে জানায়, তার প্রোস্টেট ক্যানসার হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসকেরা ক্যানসারটির গ্লিসন স্কোর ৯ এবং গ্রেড গ্রুপ ৫ হিসেবে শনাক্ত করেন, যা রোগটির উচ্চমাত্রার আক্রমণাত্মক ধরন নির্দেশ করে। তবে ক্যানসারটি হরমোন সংবেদনশীল হওয়ায় কার্যকর চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে বলেও সে সময় জানানো হয়েছিল।
নিজের চিকিৎসা নিয়ে পরে বাইডেন জানিয়েছিলেন, চিকিৎসকেরা তার পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী এবং তিনি চিকিৎসা শুরু করেছেন।
এক বছরের বেশি সময় আগের ট্রাম্পের ওই বক্তব্য এখন আবার ভাইরাল হওয়ায় এর সঙ্গে বাইডেনের ক্যানসারকে সরাসরি যুক্ত করে বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। তবে মূল বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট বলছে, ট্রাম্প বাইডেনের প্রতি সহানুভূতি না থাকার কথা বলেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেই মুহূর্তে তিনি ক্যানসারের প্রসঙ্গ তোলেননি। তাই বক্তব্যটির রাজনৈতিক ও চিকিৎসাজনিত প্রেক্ষাপট আলাদা করে দেখা জরুরি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের গ্রোসারি বা মুদি পণ্যের বাজারে গ্রাহকদের সেরা ভ্যালু প্রদানের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি কৌশল অনুসরণ করে কস্টকো (Costco) এবং অ্যালডি (Aldi)। কস্টকো যেখানে মেম্বারশিপ-ভিত্তিক ওয়্যারহাউস মডেলের মাধ্যমে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে, অ্যালডি সেখানে ডিসকাউন্ট সুপারমার্কেট ফরম্যাটের সুবিধা দিয়ে থাকে। তবে উভয়েরই উদ্দেশ্য একটাই—সাশ্রয়ী মূল্যে সেরা পণ্য পেতে আগ্রহী গ্রাহকদের মন জয় করা। ইউগভ ব্র্যান্ডইনডেক্সের (YouGov BrandIndex) সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, সামগ্রিক ভ্যালু পারসেপশনের দিক থেকে মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৩৮ নিট স্কোর নিয়ে অ্যালডিকে (৩৫) পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছে কস্টকো। তবে বিভিন্ন প্রজন্মের ক্রেতাদের মনোভাব বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যানে বেশ কিছু চমকপ্রদ পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। বাজেট-সচেতন এই দুটি ব্র্যান্ডের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধানটি দেখা যায় জেন-জি (Gen Z) বা তরুণ প্রজন্মের ক্রেতাদের ক্ষেত্রে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়, জেন-জি ক্রেতাদের কাছে কস্টকোর ভ্যালু স্কোর ছিল ৪৪, যেখানে অ্যালডির স্কোর ছিল ৩২—অর্থাৎ ১২ পয়েন্টের স্পষ্ট ব্যবধান। মিলেনিয়ালদের (Millennials) মধ্যেও ৯ পয়েন্টের ব্যবধান (৪৩ বনাম ৩৪) নিয়ে কস্টকো এগিয়ে থাকলেও, জেনারেশন এক্স (Gen X) ক্রেতাদের ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো; সেখানে ৩৩ স্কোর পাওয়া কস্টকোর চেয়ে ৩৫ স্কোর নিয়ে এগিয়ে আছে অ্যালডি। অন্যদিকে, বেবি বুমারস+ (Baby Boomers+) প্রজন্মের কাছে ব্র্যান্ড দুটির অবস্থান সমান (উভয়েরই স্কোর ৩৭)। তবে সামগ্রিক হিসাবের বাইরে ২০২৬ সালজুড়ে জেন-জি প্রজন্মের পছন্দের ক্ষেত্রে বেশ উত্থান-পতন দেখা গেছে। উভয় রিটেইলারের জন্যই জেন-জি ক্রেতারা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইউগভ প্রোফাইলসের তথ্যমতে, বর্তমানে কস্টকোর মোট গ্রাহকের ১৮ শতাংশ এবং অ্যালডির ১৩ শতাংশই হলেন প্রাপ্তবয়স্ক জেন-জি মার্কিনি। বছর শুরুতে এই প্রজন্মের মাঝে কস্টকোর ব্যাপক আধিপত্য (৪৬ বনাম ২৭ স্কোর) থাকলেও, বছর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই লড়াই আরও তীব্র হয়। জানুয়ারির শেষে অ্যালডি তাদের স্কোর ৪০-এ উন্নীত করে কস্টকোর (৪৯) সঙ্গে ব্যবধান ৯ পয়েন্টে নামিয়ে আনে। গ্রীষ্মের শুরুতে (৭ জুন) কস্টকো আবারও ৫১ স্কোর নিয়ে অ্যালডির (৩৩) চেয়ে অনেক এগিয়ে যায়, কিন্তু জুন থেকে আগস্টের মধ্যে কস্টকোর স্কোর ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে (আগস্টের শেষে তা ৩৮-এ দাঁড়ায়)। একই সময়ে অ্যালডির স্কোর তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল (আগস্ট শেষে ৩৩)। ফলে বছরের শুরুর দিকের তুলনায় বর্তমানে জেন-জি ক্রেতাদের কাছে ব্র্যান্ড দুটির ভ্যালু পারসেপশনের ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে কস্টকোর ধারাবাহিক অবনমন এবং অ্যালডির ধীরগতির উত্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আসন্ন ছুটির মৌসুমে জেন-জি ক্রেতাদের সেরা ভ্যালু ব্র্যান্ডের মুকুট নতুন কারও মাথায় উঠতে পারে।
আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আশ্রয়প্রার্থীকে বিতাড়ন, ট্রাম্প প্রশাসন দোষী সাব্যস্ত
ক্যালিফোর্নিয়ায় বৃষ্টিভেজা রাতে ডাস্টবিনের পাশে ফেলে যাওয়া হয়েছিল নবজাতক, অবশেষে গ্রেপ্তার মা
যুক্তরাষ্ট্রে কমলা হ্যারিসকে এড়িয়ে চলছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা, প্রচারণায় বাড়ছে অস্বস্তি
পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে ৮০ বছর আগে পড়ালেখা ছেড়ে দিতে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়ার পল লিটলকে। ১৯৪৬ সালে ডালাস সেন্টার হাইস্কুল থেকে তার স্নাতক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিবারকে সহায়তা করতে কাজ শুরু করায় আর পড়াশোনা শেষ করা হয়নি। অবশেষে ৯৮ বছর বয়সে এসে সেই অসম্পূর্ণ অধ্যায়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেলেন হাইস্কুলের ডিপ্লোমা সনদ। সম্প্রতি ডালাস সেন্টারের একটি নার্সিং হোমে লিটলকে চমকে দিতে হাজির হন স্থানীয় ডালাস সেন্টার-গ্রাইমস স্কুল জেলার কর্মকর্তারা। সেখানে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ১৯৪৬ সালের শ্রেণির জন্য সম্মানসূচক ডিপ্লোমা। এত বছর পর ডিপ্লোমা হাতে পেয়ে লিটল জানান, অবশেষে তিনি স্নাতক হওয়ার অনুভূতি পাচ্ছেন। স্কুলজীবন শেষ করতে না পারলেও শিক্ষার সঙ্গে লিটলের সম্পর্ক কখনো শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন তিনি কৃষিকাজ করেছেন। নিজের প্রয়াত স্ত্রী এলেনরকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোকে গুরুত্ব দিয়েছেন। প্যানোরামা হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সহায়তা করতে তিনি বহু বছর ধরে অর্থ দিয়ে আসছেন। প্যানোরামা স্কুল জেলার তত্ত্বাবধায়ক কেসি হিউবনার জানান, গত ১৫ থেকে ১৮ বছরে লিটল শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে আর্থিক সহায়তা করেছেন। তার সহায়তায় ১৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এগিয়ে নেওয়ার এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে তাকে বিশেষভাবে পরিচিত করেছে। ডালাস সেন্টারে ফিরে নার্সিং হোমে থাকার সময়ও শিক্ষার প্রতি তার এই আগ্রহ অব্যাহত ছিল। নিজের যে স্কুলে পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ হয়নি, সেই ডালাস সেন্টার-গ্রাইমস শিক্ষা ফাউন্ডেশনে তিনি ৫০ হাজার ডলার দান করেছেন। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে। স্কুল জেলার তত্ত্বাবধায়ক স্কট ব্লুম বলেন, ১৯৪৬ সালের শ্রেণির জন্য লিটলকে সম্মানসূচক ডিপ্লোমা দিতে পারা তাদের জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত। স্কুল কর্তৃপক্ষের মতে, শিক্ষার্থীদের জন্য তার দীর্ঘদিনের আর্থিক সহায়তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও প্রভাব ফেলবে। লিটল নিজেও শিক্ষার গুরুত্বের কথা বলেছেন। তার মতে, স্কুলের শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের পড়াশোনা শেষ করতে না পারলেও অন্যদের শিক্ষাজীবনে সহায়তা করে গেছেন তিনি। এ কারণেই ৯৮ বছর বয়সে পাওয়া ডিপ্লোমা শুধু তার নিজের শিক্ষাজীবনের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বীকৃতিই নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য তার দীর্ঘদিনের অবদানেরও একটি বিশেষ স্বীকৃতি হয়ে উঠেছে। ১৯৪৬ সালে যে ডিপ্লোমা পাওয়ার কথা ছিল, সেটি হাতে পেতে পল লিটলকে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় আট দশক। পরিবারকে সহায়তা করার জন্য কৈশোরে পড়ালেখা ছাড়লেও শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ এবং শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার মানসিকতা কখনো থেমে থাকেনি। ৯৮ বছর বয়সে এসে সেই অসমাপ্ত অধ্যায় অবশেষে পূর্ণতা পেল।
ট্যাক্স রিটার্নে নাগরিকত্ব বা ওয়ার্ক পারমিটের তথ্য দিতে হতে পারে, ২০২৬ সালের খসড়া ফর্মে নতুন প্রশ্ন
শিক্ষা সফরে মর্মান্তিক মৃত্যু, ১০ বছরের শিক্ষার্থী ও তরুণী শিক্ষিকার প্রাণ গেল আইওয়ার লেকে
২৫ কোটি ডলারের মামলায় আইফোন ক্রেতাদের ক্ষতিপূরণের আবেদন শুরু, জানুন বিস্তারিত
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইডে ম্যানহোল দিয়ে শহরের ভূগর্ভস্থ স্যুয়ার ব্যবস্থায় ঢুকে মূল্যবান জিনিসপত্র খোঁজার অভিযোগে কুইন্সের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। ২৫ সেপ্টেম্বর পুলিশ জানায়, কেভিন রদ্রিগেজ ও স্যামুয়েল রেভেরনের বিরুদ্ধে ট্রেসপাসিং ও কনস্পিরেসির অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ও আদালতের নথি অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর ভোরে পার্ক অ্যাভিনিউ ও ইস্ট ৬১ স্ট্রিটের কাছে একটি ম্যানহোলের ঢাকনা খুলে ছয়জনের একটি দল ভূগর্ভস্থ স্যুয়ার ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। নজরদারি ক্যামেরায় তাদের ম্যানহোলে নামতে দেখা যায়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর কয়েকজনকে একই ম্যানহোল দিয়ে বের হয়ে আসতে দেখা যায়। পরে তারা দুটি গাড়িতে করে এলাকা ছেড়ে যায়। কুইন্সবরো ব্রিজ পার হওয়ার সময় গাড়িগুলোর লাইসেন্স প্লেট ও ভেহিকল শনাক্তকারী তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ। সেই তথ্যের ভিত্তিতে গাড়ির মালিক হিসেবে রদ্রিগেজ ও রেভেরনকে শনাক্ত করা হয়। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে দুজন পুলিশকে জানান, তারা স্যুয়ার ও স্টর্ম ড্রেনে ভেসে আসা মূল্যবান জিনিস খুঁজতে ম্যানহোলে ঢুকেছিলেন। তাদের মধ্যে একজন সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী খোঁজার কথাও বলেছেন বলে আদালতের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে। যে এলাকায় ম্যানহোলটি রয়েছে, সেটি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অবস্থান করা একটি হোটেলের কাছাকাছি হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ও ফেডারেল এজেন্টরা এলাকায় অতিরিক্ত তল্লাশি চালালেও কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া যায়নি। শুক্রবার ম্যানহাটন ক্রিমিনাল কোর্টে হাজির হয়ে রদ্রিগেজ ও রেভেরন নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে দোষী নন বলে জানান। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাদের অভিযোগগুলো জামিনযোগ্য না হওয়ায় দুজনকেই জামিন ছাড়াই মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রেভেরনকে সুপারভাইজড রিলিজ এবং রদ্রিগেজকে নিজের দায়িত্বে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কে ম্যানহোল ও স্যুয়ার ব্যবস্থায় অনুমতি ছাড়া মানুষের প্রবেশের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার সামনে এসেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার কয়েকটিতে মানুষ স্টর্ম ড্রেন ও স্যুয়ার ব্যবস্থায় ভেসে আসা স্ক্র্যাপ মেটাল ও মূল্যবান জিনিস খুঁজতে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপার ইস্ট সাইডের ঘটনাটিও একই ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের নিয়ম সীমিত ও ডিভি লটারিতে বড় পরিবর্তন চেয়ে সিনেটে নতুন বিল
শুল্কের ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ফেরত পেল কস্টকো, কমাচ্ছে প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম