জ্বালানি তেল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: এএফপি
হরমুজ উন্মুক্ত করতে সময় চাইলেন ট্রাম্প, সহায়তার ঘোষণা জেলেনস্কির!

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় সচল করা নিয়ে নতুন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আর সামান্য কিছু সময় পেলে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণালি উন্মুক্ত করতে এবং সেখানকার তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হবে। ট্রাম্পের এই বার্তার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হরমুজ প্রণালি সচল করতে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।   জেলেনস্কি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল সচল করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউক্রেন মধ্যপ্রাচ্যের এই জলপথ উন্মুক্ত করতে প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি সচল করতে ড্রোন ইন্টারসেপ্টর (ড্রোন ধ্বংসকারী ব্যবস্থা), সামরিক কনভয় এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম প্রয়োজন হবে, যা ইউক্রেন সরবরাহ করতে পারে। যদিও ইউরোপ ও ন্যাটোর সদস্যরা এই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে জেলেনস্কির এই অবস্থান ওয়াশিংটনের জন্য নতুন আশার আলো হিসেবে দেখা দিচ্ছে।   এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন মিত্রদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন, তখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সামরিক অভিযানের বাস্তবতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তবে এর মধ্যেই এএফপি-র তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের মালিকানাধীন ও মাল্টার পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘ক্রিবি’ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। ইরান এই নৌপথটি কার্যত বন্ধ রাখলেও ফরাসি জাহাজটির সফলভাবে পারস্য উপসাগর থেকে বেরিয়ে আসা বিশ্ব অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘আরেকটু সময় পেলেই হরমুজ খুলে তেল নিতে পারব’, ট্রুথ সোশালে ট্রাম্পের দাবি!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আরও কিছু সময় পেলে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় উন্মুক্ত করতে সক্ষম হবে এবং সেখান থেকে তেল আহরণ করতে পারবে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই খবরটি প্রকাশ করে জানিয়েছে, ট্রাম্পের এমন বক্তব্য বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “আরেকটু সময় পেলে আমরা সহজেই হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে, তেল তুলে নিয়ে বিপুল অর্থ উপার্জন করতে পারি। এটা বিশ্বের জন্য আনন্দের হবে।” তবে ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই স্পর্শকাতর নৌপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে তা উন্মুক্ত করবে বা কোন তেলের কথা তিনি বুঝিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শক্ত অবস্থানের মুখে ট্রাম্পের এই দাবি কতটা বাস্তবসম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে পাঁচ সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় ধস নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সংঘাত নিরসন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে ট্রাম্পের ওপর প্রবল চাপ বাড়ছে। ট্রাম্পের এই নতুন ঘোষণাকে সেই চাপের মুখে এক ধরনের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
তেল পাচার ও কৃত্রিম সংকট রোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি ও চোরাচালান রোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৮ মার্চ) সংসদ ভবনে সরকারি দলীয় সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, অসাধু চক্রের তৎপরতা ও সীমান্ত দিয়ে তেল পাচার বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিরুনি অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   বৈঠকে জানানো হয়, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশে দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই; ইতিমধ্যে ২ লাখ মেট্রিক টনের জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে এবং সমপরিমাণ তেল আসার পথে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তেলের বাজার মনিটরিং করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামীকাল সংসদ অধিবেশনে জ্বালানিমন্ত্রী এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখবেন।   এছাড়া বৈঠকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন, সংরক্ষিত নারী আসন ও বিভিন্ন বিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চিফ হুইপ জানান, সংসদ সদস্যদের এলাকাভিত্তিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এখন থেকে প্রতি মাসে এ ধরনের ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। বৈঠকের শুরুতে স্পিকারের সহধর্মিণীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয় এবং সাম্প্রতিক বাস ও ট্রেন দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি।
অবৈধ জ্বালানি তেলের তথ্য দিলে পাওয়া যাবে পুরস্কার

দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে সরকার কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। এবার থেকে যেকোনো ব্যক্তি যদি তেল অবৈধভাবে মজুত রাখার স্পষ্ট তথ্য দেয়, তবে তাকে পুরস্কৃত করা হবে, জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।   শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকালে মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। সূত্র অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বাজার তদারকির জন্য ইতোমধ্যেই দেশের সব জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। যারা অবৈধ মজুতদারি বন্ধে তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন, তাদের জন্য শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হবে। মন্ত্রণালয় সাধারণ নাগরিকদের স্পষ্ট অভিযোগ ও পরামর্শ দেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।   এদিকে, অবৈধ মজুতদারি প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে অভিযান শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে ৩০টি ড্রামে মজুত করা প্রায় ৬ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করা হয়েছে।   মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুত প্রতিরোধের জন্য জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে দেশের সব তেল ডিপো, পেট্রল পাম্প ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের নিবিড় নজরদারিতে আছে। জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হবে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘তেল নেই’ বোর্ড টানানো, ভেতরে মিললো ৯৭৮৩ লিটার মজুত জ্বালানি

‘তেল নেই’ লিখে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হলেও ভেতরে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি মজুত রাখার অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে একটি ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।   শুক্রবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকির মুন্সির নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে পার্বতীপুর ইউনিয়নের বড়দাদপুর এলাকার মেসার্স বার্দাস এন্ড সিস্টার্স ফিলিং স্টেশনে এ অনিয়ম ধরা পড়ে।   অভিযানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে ২ হাজার ৩৬৮ লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার ৭৬০ লিটার ডিজেল এবং ৩ হাজার ৬৫৫ লিটার অকটেন মজুত রয়েছে। মোট ৯ হাজার ৭৮৩ লিটার জ্বালানি থাকা সত্ত্বেও তা বিক্রি না করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠে।   এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে।   উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সি বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি তেল বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অনিয়ম করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
সিরাজগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু
একদিনের তেল দুই ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে: জ্বালানিমন্ত্রী

দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় পাম্পে তেল দুই ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।   শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদে ৬৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী বলেন, “ইরান যুদ্ধের আগে পাম্পগুলোতে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ হতো, এখনো সেই একই পরিমাণ সরবরাহ করা হচ্ছে। আগে এক থেকে দেড় দিন সময় লাগত বিক্রি হতে, এখন দুই ঘণ্টার মধ্যেই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে।”   মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক আছে। তাই কোনো তেল সংকটের আশঙ্কা নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, “কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে মজুতদারি ও কালোবাজারির চেষ্টা করছে। সরকার এসব অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।”   তিনি জনগণকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। গুজবে কান দেবেন না। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররা মনিটরিং করছেন।”   এছাড়া মন্ত্রী দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও বক্তব্য দেন। তিনি জানান, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন হচ্ছে, ফলে লোডশেডিং নেই। প্রধানমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং তাই তিনি সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেছেন।   পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামসহ নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তি: ডিজেল ও জেট ফুয়েল নিয়ে দেশে এলো নতুন জাহাজ

বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহে চাপের সময় ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের জাহাজটি এই চালান নিয়ে আসে।   বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, চীনের প্রতিষ্ঠান ইউনিপেকের সঙ্গে চুক্তির আওতায় এই জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সরবরাহ অনিশ্চয়তার মধ্যে এই চালান কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে।   বিপিসি জানায়, আমদানি করা ডিজেল পরিবহন ও শিল্প খাতে ব্যবহৃত হবে। অন্যদিকে জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হবে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ বিলম্বের কারণে সম্প্রতি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে।   এ মাসে মোট ১৭টি জাহাজে জ্বালানি আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত এসেছে ৯টি। বাকি কয়েকটি জাহাজের সূচি এখনও অনিশ্চিত রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী জাহাজটি দেশে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে জ্বালানির বড় কোনো সংকট নেই। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।   বিপিসি সাধারণত সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি করে থাকে। দেশে বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর একটি অংশ অপরিশোধিত তেল, যা মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে; বাকিটা পরিশোধিত অবস্থায় বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়।   দেশে জ্বালানি ব্যবহারের বড় অংশই ডিজেলনির্ভর। কৃষি সেচ, পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর ব্যবহার বেশি হওয়ায় সরবরাহে সামান্য ঘাটতিও দ্রুত প্রভাব ফেলে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৩ দিনের ডিজেল ও ২৫ দিনের জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ইলেকট্রিক গাড়ি
বৈশ্বিক তেলের বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা: চিনা ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতাদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা এবং দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি চীনের ধুঁকতে থাকা ইলেকট্রিক ভেহিকেল বা ইভি শিল্পে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় অপরিশোধিত তেলের দাম গত সপ্তাহে ব্যারেল প্রতি ১১৯ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। তেলের এই রেকর্ড দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠলেও এটি চীনের ইভি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় ধরণের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে এশীয় দেশগুলো যেখানে জ্বালানি সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি সেখানে পেট্রোল চালিত গাড়ির বিকল্প হিসেবে এখন চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।   চীনা ইভি ব্র্যান্ডগুলো বর্তমানে নিজ দেশে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধির মন্থর গতির কারণে বড় ধরণের চাপের মুখে ছিল। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম তাদের জন্য বিদেশের বাজার দখলের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে যখন বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে এবং গ্যাসোলিনের দাম মানুষের বাজেটের বাইরে চলে যাচ্ছে তখন চীনা সাশ্রয়ী ইলেকট্রিক গাড়িগুলো সাধারণ ভোক্তাদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। এটি কেবল চীনের ইভি শিল্পের প্রবৃদ্ধিকেই ত্বরান্বিত করবে না বরং বৈশ্বিক বাজারে তাদের আধিপত্যকেও আরও সুদৃঢ় করবে।   বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে এই তেলের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী অটোমোবাইল শিল্পে এক আমূল পরিবর্তন আসবে। চীন ইতিমধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম ইভি রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি তাদের এই অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ করে দিচ্ছে। যদিও বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে তবুও চীনা কোম্পানিগুলো তাদের উন্নত প্রযুক্তি এবং অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের কারণে বিশ্ববাজারে দ্রুত নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। আগামী কয়েক মাসে এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির নতুন মডেলগুলোর আধিপত্য আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি তেল সরবরাহ ২৫% বেশি, আতঙ্কিত না হয়ে সাশ্রয়ের আহ্বান মন্ত্রীর

দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সংযত ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সোমবার গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশে প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল সংগ্রহ না করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।   মন্ত্রী বলেন, সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্টরা দিন-রাত কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি তেলের মূল্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও সরকার এখনো ভোক্তাপর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধি করেনি। বরং বেশি দামে আমদানি করেও ভর্তুকি দিয়ে সরবরাহ বজায় রাখা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ না পড়ে।   সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা রক্ষায় জনগণের সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সবাই যদি প্রয়োজন অনুযায়ী তেল ব্যবহার করেন, তাহলে সংকট তৈরি হবে না। মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের মজুত একটি চলমান প্রক্রিয়া, যেখানে নিয়মিত আমদানি ও সরবরাহ অব্যাহত থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু পাম্প বন্ধ থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।   আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ও অনুমতির জটিলতার কারণে অনেক দেশই জ্বালানি সরবরাহে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সম্ভাব্য পাম্প বন্ধের খবর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নানা ধরনের আশঙ্কা তৈরি হলেও বাস্তবে দেশে তেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। তিনি পুনরায় সবাইকে ধৈর্য ধরার এবং সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কথা বলেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।  ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধাবস্থাতেও দেশে তেলের দাম অপরিবর্তিত: অর্থমন্ত্রী

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।   রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের মেহেদিবাগে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব সরকার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। বর্তমান সময়ে নতুন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।   অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে ঈদযাত্রার সময় কোথাও তেলের সংকট হয়নি এবং পরিবহন খাতের ভাড়া বৃদ্ধিও ঘটেনি। তিনি বলেন, এবারের ঈদ উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে। পোশাক খাতের শ্রমিকদের আগাম বেতন পরিশোধের ফলে কোনো অসন্তোষ দেখা দেয়নি, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি ইতিবাচক সংকেত।   সরকারের জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, নিম্নবিত্ত ও কৃষকদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণ মওকুফ এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য চলমান ভাতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি সবাইকে সংযম, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী: তেলের দাম ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বৃহস্পতিবার জানান, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম। এ মন্তব্য তিনি এমন সময়ে করলেন যখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত তীব্র হতে পারে, যা তেলের বাজারকে অস্থির করতে পারে।'   রাইট মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, “এ ধরনের পরিস্থিতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে আমাদের এখন মনোযোগ সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং সমস্যার সমাধানের দিকে বেশি।”   এর আগে বুধবার ইরানের সামরিক বাহিনী খাতামুল আম্বিয়ার মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।   এছাড়া ক্রিস রাইট আরেকটি সাক্ষাত্কারে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজ পারাপারে পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারছে না, তবে চলতি মাসের শেষ নাগাদ এটি সম্ভব হওয়ার “বেশ সম্ভাবনা” রয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়ায় এই জলপথে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ববাজারের তেল ও শেয়ারবাজারকে আরও অস্থির করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে যুক্তরাষ্ট্র; দাবি ট্রাম্পের

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে দেশটি "প্রচুর অর্থ উপার্জন" করে। তবে এই আর্থিক লাভের চেয়েও বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাকেই নিজের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন তিনি।   মেরিল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প সরাসরি ইরানকে "শয়তান সাম্রাজ্য" হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য তথা সমগ্র বিশ্বের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক শক্তিতে সমৃদ্ধ হতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই তার প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। আর্থিক মুনাফার চেয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।   ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সাম্প্রতিক কঠোর বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ট্রাম্পের এমন কড়া বার্তা ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ট্রাম্পের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখা এবং ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। জ্বালানি বাজারের অস্থিরতাকে পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন সরাসরি সামরিক ও কৌশলগত নিরাপত্তার দিকেই বেশি নজর দিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বিদ্যুৎ ও তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই: প্রতিমন্ত্রী

দেশে জ্বালানি তেল বা বিদ্যুতের কোনো সংকট নেই এবং এই মুহূর্তে এগুলোর দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনাও সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে জ্বালানি তেলের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।   মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি সংকট নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে গত কয়েকদিন ধরে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন ও রেশনিংয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছিল। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও সরকার এখনই দাম বাড়ানোর কথা ভাবছে না। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট শুরুর পর থেকেই সরকার জনদুর্ভোগ কমাতে কাজ করে যাচ্ছে।”   গত সপ্তাহে পেট্রোল পাম্পগুলোতে উপচে পড়া ভিড় প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত পাঁচ দিনে স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। তবুও মানুষের উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। তিনি এই পরিস্থিতিকে ‘পেনিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে কেনা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এই অস্বাভাবিক চাহিদার পেছনে যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। বরং মানুষের উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কই বেশি কাজ করেছে। আমাদের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তাই অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।”   প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার বর্তমানে জ্বালানি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে এর প্রভাব যেন সাধারণ মানুষের ওপর না পড়ে, সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভারত থেকে পাইপলাইনে দেশে আসছে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশে আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাঠানো হচ্ছে। এটি সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।   বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিপিসি সূত্র জানায়, পাইপলাইনের মাধ্যমে এই প্রথম চালান দেশে পৌঁছানো শুরু হয়েছে এবং এটি জ্বালানি তেলের মজুত স্বাভাবিক রাখা এবং সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।   সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি করার ফলে পরিবহন খরচ ও সময় সাশ্রয় হবে। এর আগে, গত রবিবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ-ভারত পাইপলাইন ব্যবহার করে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।   দেশে ডিজেলের মজুদ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার জন্য সরকারের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
করোনা মহামারির পর সর্বোচ্চ বাড়ল তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এক ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে প্রায় ১০৮.৭৭ ডলারে পৌঁছেছে।   করোনা মহামারির পর ২০২০ সালের পর থেকে একদিনে তেলের দামে এটিই সবচেয়ে বড় উত্থান বলে জানা গেছে। এর আগেও গত সপ্তাহে তেলের দাম প্রায় ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে জ্বালানির বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে হতে পারে। একই সঙ্গে কিছু তেল স্থাপনায় ক্ষতি, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   বিশ্বের অন্যতম বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব লোহিত সাগর হয়ে তেলের রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে শিপিং তথ্য বলছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ হয়, তার ঘাটতি পূরণে এই উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।   এএনজেড ব্যাংকের সিনিয়র পণ্য কৌশলবিদ ড্যানিয়েল হাইন্স জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু উৎপাদক দেশে তেলের মজুত বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমানো হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে অনেক তেলকূপ বন্ধ করে দিতে হতে পারে। এতে শুধু উৎপাদনই কমবে না, সংঘাত শেষ হওয়ার পরও স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরে পেতে সময় লাগবে। ফলে তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকতে পারে।   এদিকে জেপিমরগানের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রুস কাসমান বলেছেন, বিশ্ব অর্থনীতি এখনও মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যার বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।   তার মতে, স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে রাজনৈতিকভাবে স্থায়ী সমাধান না হলে বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় ৮০ ডলারের আশপাশে উচ্চ অবস্থানে থাকতে পারে।   তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ০.৬ শতাংশ কমে যেতে পারে এবং ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি প্রায় ১ শতাংশ বাড়তে পারে। আর যদি সংঘাত আরও বিস্তৃত হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তেলের দাম ১২০ ডলারেরও বেশি হয়ে যেতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৯, ২০২৬ 0
হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন। ছবি: সংগৃহীত
দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই: মন্ত্রী

কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও বাংলাদেশে এখনো কোনো সংকট দেখা দেয়নি।   শনিবার (৭ মার্চ) কুমিল্লা স্টেডিয়াম জিমনেসিয়ামে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি কুমিল্লা জেলা শাখার পরিচিতি সভা, ইফতার ও দোয়ার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।   মন্ত্রী জানান, দেশে আগামী এক মাসের চাহিদা পূরণ করার মতো জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী চালানবাহী জাহাজ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এ কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।   ঈদ উপলক্ষে মার্কেটগুলোতে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা না করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন কঠিন সময় পার করছে। তাই বিদ্যুতের অপচয় কমিয়ে সবাইকে হিসাব করে চলতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অপচয় রোধে সচেতন হওয়া জরুরি।   মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। দেশের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তিনি পেয়েছেন। এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন, যাতে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে কুমিল্লার মানুষের মুখ উজ্জ্বল করতে পারেন।   কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) মো. মোস্তাক মিয়া, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সংগঠনের মহাসচিব মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া এবং কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু।   অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল খন্দকার। এছাড়া সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মঞ্জুরুল আলম ভূইয়া মঞ্জুরের পরিচালনায় কুমিল্লার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। আলোচনা শেষে দোকান মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি হেলাল উদ্দিন কুমিল্লা জেলার নবগঠিত কমিটির নেতাদের পরিচয় করিয়ে দেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
তেল পাচার ঠেকাতে পঞ্চগড় সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে সীমান্তপথে বাংলাদেশ থেকে তেল পাচারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পঞ্চগড় সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।   শনিবার (৭ মার্চ) সকাল থেকে পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর এবং ভারতের ফুলবাড়ি সীমান্তে বিজিবির কঠোর তৎপরতা দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিজিবির ডগস্কোয়াটসহ আমদানি-রফতানির সব ধরনের যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকায় কড়া দায়িত্ব পালন করছেন সদস্যরা।   বিজিবি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় দামের পার্থক্যের সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে পঞ্চগড় সীমান্তে নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।   বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী পঞ্চগড় ব্যাটালিয়ন (১৮ বিজিবি) তাদের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং সন্দেহভাজন যানবাহন ও মালামালের ওপর কঠোর তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার, অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন এবং গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।   পঞ্চগড়-১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস জানান, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত, ভুটান ও নেপাল থেকে আসা পাথরবাহী ট্রাকগুলোর ওপর নিবিড় নজরদারি ও মনিটরিং করা হচ্ছে। বন্দরে প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় ট্রাকগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি করা হচ্ছে, যাতে কোনোভাবেই অবৈধভাবে জ্বালানি তেল পরিবহন বা পাচারের সুযোগ না থাকে।   তিনি আরও বলেন, দেশের জ্বালানি সম্পদ সুরক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্ত এলাকায় কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৭, ২০২৬ 0
সৌদি আরামকোর রাস তানুরা তেল শোধনাগার আবারও অজ্ঞাত প্রোজেক্টাইল আঘাত হেনেছে। ফাইল ছবি
রাস তানুরা শোধনাগারে ফের হামলা, তেল সরবরাহে বিঘ্ন নেই বলে দাবি

সৌদি আরব–এর রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো–র রাস তানুরা তেল শোধনাগারে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৪ মার্চ) চারটি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।   রাস তানুরায় আরামকোর সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ শোধনাগার এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি টার্মিনাল অবস্থিত। দুই দিন আগে একটি ড্রোন হামলার কারণে স্থাপনাটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় বলে একটি সূত্র জানিয়েছিল। তার পরপরই আবারও অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইলের আঘাত হানার খবর পাওয়া গেল।   সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ড্রোনের মাধ্যমে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে এতে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রও দাবি করেছে, তেল সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।   হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ইরান–এর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাকসহ উপসাগরীয় প্রধান তেল উৎপাদক দেশগুলো এই নৌপথ ব্যবহার করতে পারছে না।   সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শত শত জাহাজ প্রণালীর দুই পাশে নোঙর করে অপেক্ষা করছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, জাহাজ নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অতিক্রমের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট নৌযান লক্ষ্য করে গুলি চালানো হবে। কৌশলগত স্থাপনা পারস্য উপসাগর তীরবর্তী সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত রাস তানুরা স্থাপনাটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূত্রগুলোর দাবি, হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে কিছু অপরিশোধিত তেল লোহিত সাগর উপকূলের দিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে আরামকো।   এর আগে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদির আবকাইক ও খুরাইস তেল স্থাপনায় বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির অর্ধেকের বেশি তেল উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। ২০২১ সালেও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী রাস তানুরায় হামলা চালায়, যা রিয়াদ বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর ব্যর্থ আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।   সর্বশেষ এই হামলার পর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৪, ২০২৬ 0
রাজধানী হাভানায় পেট্রল পাম্পের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন একজন বয়স্ক ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন চাপে কিউবা: খাদ্য–জ্বালানি সংকটে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

খাদ্য ও জ্বালানির তীব্র সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কিউবা। মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক নীতি ও চাপের ফলে দেশটির অর্থনীতি কার্যত থমকে গেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম CNN।   এক দশক আগে ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Barack Obama কিউবার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করলে দেশটিতে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল। সে সময় মার্কিন পর্যটকদের ঢলে পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য গতি আসে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর প্রশাসনিক নীতির ফলে কিউবা এখন জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন পদক্ষেপ এবং মেক্সিকোর বিরুদ্ধে শুল্কচাপের কারণে কিউবায় তেলের সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।   পর্যটন খাতে ধস জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে পর্যটন খাতেও। জেট ফুয়েলের অভাবে রাশিয়া ও কানাডা থেকে ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। যুক্তরাজ্য ও কানাডা তাদের নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় কিউবা ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। বাতিল হয়েছে বার্ষিক ‘হাবানোস সিগার উৎসব’, যা দেশটির জন্য বড় বৈদেশিক মুদ্রার উৎস ছিল। জ্বালানি সংকটে খনি প্রতিষ্ঠান শেরিট ইন্টারন্যাশনালও কার্যক্রম স্থগিত করেছে।   জীবনযাত্রা অচল প্রায় এক কোটি মানুষের দেশ কিউবায় পরিস্থিতি ক্রমেই সংকটময় হয়ে উঠছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বহু স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে, কর্মীদের ছাঁটাই বা সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলো সীমিত সেবা দিচ্ছে। জ্বালানি সংকটে আবর্জনা অপসারণ বন্ধ হয়ে অনেক এলাকায় ময়লার স্তূপ জমেছে। রাতে রাজধানী হাভানার অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অন্ধকারে ডুবে থাকে।   রাজনৈতিক অবস্থান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio বলেছেন, কিউবার সঙ্গে কোনো আলোচনা হলে তা কমিউনিস্ট নেতৃত্বের ক্ষমতা ছাড়ার বিষয়কে ঘিরেই হতে পারে। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ভর্তুকিনির্ভর কিউবার অর্থনৈতিক মডেল এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে।   অন্যদিকে কিউবার প্রেসিডেন্ট Miguel Díaz-Canel জনগণকে ‘সৃজনশীল প্রতিরোধ’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে খাদ্য পরিবহন ব্যাহত হতে পারে, তাই স্থানীয়ভাবে যা উৎপাদন সম্ভব তা-ই ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে।   খাদ্য সংকট তীব্রতর কিউবার অধিকাংশ খাদ্য আমদানিনির্ভর। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হিমাগার সচল রাখা সম্ভব না হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান খাদ্য আমদানি বন্ধ করেছে। ফলে বাজারে ফল ও সবজির দাম দুই থেকে তিনগুণ বেড়ে গেছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কিউবা একটি গভীর মানবিক সংকটের মুখে পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0