স্বাক্ষর ত্রুটিতে বাতিল হতে পারে এইচ-১বি ও গ্রিন কার্ড আবেদন
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বাক্ষর সংক্রান্ত নতুন কঠোর নীতি চালু করতে যাচ্ছে ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনপত্রে স্বাক্ষরের সামান্য ত্রুটিও আবেদন বাতিলের কারণ হতে পারে, যা আবেদনকারীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১০ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নীতির আওতায় কোনো আবেদন ফর্মে বৈধ স্বাক্ষর না থাকলে তা গ্রহণ পর্যায়েই বাতিল করা হবে অথবা পরবর্তী যাচাই পর্যায়ে নাকচ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে আবেদন ফি ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও থাকবে না।
সংস্থাটি বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া বা অননুমোদিত স্বাক্ষরের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফটওয়্যার-নির্ভর স্বাক্ষর, কপি-পেস্ট করা ছবি বা অনুমোদনহীন ব্যক্তির স্বাক্ষর ব্যবহারের কারণে যাচাই প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছিল।
নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, হাতে লেখা স্বাক্ষর অথবা মূল স্বাক্ষরের পরিষ্কার স্ক্যান কপি গ্রহণযোগ্য হবে। তবে টাইপ করা নাম, ডিজিটালভাবে তৈরি স্বাক্ষর, সিগনেচার স্ট্যাম্প কিংবা অনুমোদনহীন ব্যক্তির দেওয়া স্বাক্ষর গ্রহণযোগ্য হবে না।
এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে এইচ-১বি ভিসা ও কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদন প্রক্রিয়ায়। এসব আবেদন সাধারণত প্রতিষ্ঠান বা আইনজীবীদের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়, যেখানে স্বাক্ষর সংক্রান্ত ছোট ত্রুটিও বড় জটিলতা তৈরি করতে পারে।
ইউএসসিআইএস আরও জানিয়েছে, আবেদন জমা দেওয়ার পরেও যদি কোনো পর্যায়ে স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়, তাহলে পুরো আবেদন বাতিল করা হতে পারে। এমন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে, ফলে আবেদনকারীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের অনুমতি বা অভিবাসন স্ট্যাটাস ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আবেদনকারী ও নিয়োগদাতা উভয় পক্ষকে আরও সতর্ক হতে হবে। প্রতিটি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমোদন নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা জরুরি হয়ে উঠবে।
নতুন নীতির বিষয়ে জনমত গ্রহণ চলবে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত। তবে একই দিন থেকেই এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, ফলে প্রস্তুতির সময় সীমিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreচিকিৎসাশিক্ষা ও গবেষণার জন্য হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে দান করা মরদেহ থেকে অঙ্গ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ চুরি করে কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় বড় অঙ্কের সমঝোতায় যাচ্ছে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর করা মামলার নিষ্পত্তিতে ৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার দিতে সম্মত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। মঙ্গলবার বোস্টনের একটি স্টেট কোর্টের বিচারক প্রাথমিকভাবে এই ক্লাস অ্যাকশন সেটেলমেন্ট অনুমোদন করেছেন। ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মর্গের সাবেক ম্যানেজার সেড্রিক লজ। প্রায় তিন দশক সেখানে কাজ করা লজের বিরুদ্ধে গবেষণা ও চিকিৎসাশিক্ষার জন্য দান করা মরদেহ থেকে মাথা, মুখমণ্ডল, মস্তিষ্ক, ত্বক ও হাতসহ বিভিন্ন অংশ চুরি করে বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। গত ডিসেম্বরে তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেন ফেডারেল বিচারক। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২০১৮ সাল থেকে মরদেহের বিভিন্ন অংশ চুরি করছিলেন লজ। হার্ভার্ডের বোস্টন মর্গ থেকে সেগুলো নিয়ে যাওয়া হতো নিউ হ্যাম্পশায়ারের গফসটাউনে তার বাড়িতে। পরে স্ত্রী ডেনিস লজের সহযোগিতায় বিভিন্ন ক্রেতার কাছে সেগুলো বিক্রি করা হতো। কিছু মানবদেহের অংশ ম্যাসাচুসেটস, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও পেনসিলভানিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছিল। তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, চুরি করা মানবদেহের অংশগুলোর কিছু পরবর্তী সময়ে আবারও লাভের জন্য বিক্রি করা হয়। মামলার নথিতে আরও ভয়াবহ কিছু ঘটনার বর্ণনা উঠে আসে। প্রসিকিউটররা জানান, এক ক্রেতার কাছে মানুষের ত্বক দেওয়া হয়েছিল, যা প্রক্রিয়াজাত করে চামড়ায় পরিণত করা হয়। একটি মানুষের মুখমণ্ডলও বিক্রি করেছিলেন লজ ও তার স্ত্রী। এই ঘটনায় ২০২৩ সালে সেড্রিক লজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে মামলা করতে শুরু করেন মরদেহ দানকারী ব্যক্তিদের স্বজনরা। তাদের অভিযোগ ছিল, প্রিয়জনদের মরদেহ সম্মান ও যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হলেও হার্ভার্ড প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। পরিবারগুলোর মামলায় হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তোলা হয়। তাদের দাবি ছিল, বছরের পর বছর লজের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি। প্রথমে মামলাগুলো খারিজ হয়ে গেলেও পরে ম্যাসাচুসেটস সুপ্রিম জুডিশিয়াল কোর্ট সেগুলো পুনরুজ্জীবিত করে। আদালত মনে করেন, দান করা মরদেহ ব্যবস্থাপনায় হার্ভার্ড সৎ বিশ্বাসে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে এমন দাবি এগিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি বাদীদের রয়েছে। এরপর হার্ভার্ড ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারের এই সমঝোতা চূড়ান্ত হলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর দাবি নিষ্পত্তির জন্য অর্থ ব্যবহার করা হবে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিনের ডিন জর্জ ডেলি এবং মেডিকেল এডুকেশনের ডিন বার্নার্ড চ্যাং বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিটিকে পাঠানো এক বার্তায় লজের কর্মকাণ্ডের কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, এই কাজ ছিল নিন্দনীয় এবং মেডিকেল কমিউনিটি হিসেবে হার্ভার্ডের মূল্যবোধের গুরুতর লঙ্ঘন। আর্থিক ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি সমঝোতার অংশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লজের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে নৈতিকভাবে নিন্দনীয় বলে স্বীকার করবে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল। একটি লাইভ ওয়েবিনারের মাধ্যমে পরিবারগুলোর কাছে এ বক্তব্য তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে একটি বার্ষিক স্কলারশিপ চালু করা হবে। চিকিৎসাশিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে নিজেদের মরদেহ দান করা ব্যক্তিদের সম্মানে এই স্কলারশিপ দেওয়া হবে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল বলেছে, এই ঘটনা তাদের অ্যানাটমিক্যাল গিফট প্রোগ্রামে মরদেহ দান করা ব্যক্তিদের প্রতি যে সম্মান রয়েছে, তার প্রতিফলন নয়। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর দুঃখ ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পরিবারগুলোর পক্ষে মামলায় যুক্ত আইনজীবী জন মরগান বলেছেন, এই সমাধানের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে যেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।
ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে ফুটবল মাঠে গণপিটুনি! প্রাণ গেল ১৯ বছরের তরুণের
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আইসিসি প্রেসিডেন্টের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
আলাস্কায় দলনিরপেক্ষ সিনেট প্রাইমারিতে সুলিভানকে পেছনে ফেললেন ডেমোক্র্যাট মেরি পেল্টোলা
যুক্তরাষ্ট্রে বিমানশিল্পে কর্মীর সংকট বাড়তে থাকায় মেট্রো আটলান্টার বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের পাইলট ও বিমানশিল্পের কর্মী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। জাতীয় বিমান দিবস উপলক্ষে বিমানশিল্পে কর্মীর ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিষয়টি সামনে এসেছে। জর্জিয়ার গুইনেট কাউন্টির ম্যাক্সওয়েল উচ্চবিদ্যালয়ের বিমান পরিচালনা কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের বিমান চালনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কর্মসূচিটির প্রশিক্ষক লিন্ডা মাইনর নিজেও ছোটবেলা থেকে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার বাবা ও ভাই বিমান চালাতেন এবং তার স্বামী ও ছেলেরাও বিমান চালনার সঙ্গে যুক্ত। ম্যাক্সওয়েল উচ্চবিদ্যালয়ের এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিমান চালনার প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আভা হিল জানান, কিশোর বয়সেই এমন প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, এ ধরনের সুযোগ না থাকলে পাইলটের সনদ অর্জন ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পেতে অনেক বেশি সময় লাগতে পারে। ফুলটন, ডিকালব ও ক্লেটন কাউন্টির স্কুল জেলাগুলোতেও বিমানচালনা বিষয়ক কর্মসূচি চালু রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন অনুমোদিত বিমানচালনা সিমুলেটর ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ নেয়। সিমুলেটরে প্রশিক্ষণের কিছু সময় পাইলটের সনদ অর্জনের প্রয়োজনীয় সময়ের হিসাবেও যুক্ত হতে পারে। এসব কর্মসূচির সাবেক শিক্ষার্থীদের কেউ বাণিজ্যিক ও সামরিক পাইলট হয়েছেন। কেউ বোয়িং ও লকহিড মার্টিনে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছেন। আবার কেউ ডেল্টা এয়ার লাইন্সের কারিগরি পরিচালনা বিভাগে যুক্ত হয়েছেন। বিমানশিল্পে নতুন কর্মীর প্রয়োজনীয়তা দ্রুত বাড়ছে। বোয়িংয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৪৫ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে চাহিদা পূরণ করতে প্রায় ২৫ লাখ নতুন বিমানশিল্প পেশাজীবীর প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার পাইলটের প্রয়োজন হতে পারে। তবে বিমানশিল্পে শুধু পাইলটেরই চাহিদা নেই। প্রকৌশলী, কেবিন ক্রু এবং বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রকদেরও প্রয়োজন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন এপ্রিল মাসের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, পরবর্তী তিন বছরে প্রায় ৭ হাজার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। লিন্ডা মাইনরের মতে, বিমানশিল্পকে শুধু পাইলটের পেশা হিসেবে দেখলে এই খাতের বড় একটি অংশ বাদ পড়ে যায়। বিমান তৈরি, যন্ত্রাংশ উৎপাদন, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। জর্জিয়াতেও বিমানশিল্প বড় কর্মসংস্থান ক্ষেত্রগুলোর একটি বলে জানান মাইনর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে বিমান তৈরি, যন্ত্রাংশ উৎপাদন, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো বিভিন্ন কাজের সুযোগ রয়েছে। গালফস্ট্রিম ও লকহিডের মতো প্রতিষ্ঠানও সেখানে বিমানশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। মাইনর মনে করেন, তার শিক্ষার্থীদের অর্জিত দক্ষতা ভবিষ্যতে বিমানশিল্পের ক্রমবর্ধমান কর্মী চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষার্থীদের কেউ ইতোমধ্যে বিমানচালক হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, আবার অনেকে বিমানশিল্পের অন্যান্য পেশার দিকেও এগিয়ে যেতে পারেন। জাতীয় বিমান দিবসের সময়ে আটলান্টার উচ্চবিদ্যালয়গুলোর এসব কর্মসূচি তাই ভবিষ্যৎ বিমানশিল্পের কর্মী তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। শিল্পে পাইলটের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়তে থাকায় শিক্ষার্থীদের স্কুল পর্যায় থেকেই প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
রোগীর লিভার ট্রান্সপ্লান্ট ঠেকানোর অভিযোগ, সেই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা
২০২৬ থেকে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পরও এই ৩ ভুলে আটকে যেতে পারে নাগরিকত্ব
আকাশে লুকিয়ে থাকা বিপদ, ক্যানসারে মৃত্যু ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়ার আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছেছেন মিশিগানের ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক আবদুল এল সাইদ। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রাইমারিতে কংগ্রেসওম্যান হেইলি স্টিভেন্সকে হারিয়ে মিশিগান থেকে ইউএস সিনেটের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হয়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা। নভেম্বরে রিপাবলিকান মাইক রজার্সকে হারাতে পারলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম ইউএস সিনেটর। মিশিগানে ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির ফল পরদিন নিশ্চিত হয়। ভোট গণনা রাত পেরিয়ে বুধবার সকাল পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত খুব অল্প ব্যবধানে স্টিভেন্সকে পেছনে ফেলেন এল সাইদ। ফল ঘোষণার পর স্টিভেন্সও তাকে অভিনন্দন জানিয়ে সাধারণ নির্বাচনে সমর্থনের ঘোষণা দেন। এল সাইদের এই জয় শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্য নয়। মিশিগানের ওপেন সিনেট আসনটি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর একটি। বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসনটি এবার উন্মুক্ত হয়েছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে আসনটি ধরে রাখা ডেমোক্র্যাটদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাইমারি জয়ের পর নিজের পারিবারিক ইতিহাসও সামনে আনেন এল সাইদ। মিশরীয় বংশোদ্ভূত একটি পরিবারের সন্তান তিনি। তার বাবা মিশর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়ে ডেট্রয়েটে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন। এল সাইদ বলেছেন, তার বাবার সেই সিদ্ধান্ত না থাকলে পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো হয়তো তার জীবনও মিশরেই কাটত। কিন্তু অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচয়ের পাশাপাশি তার রাজনৈতিক অবস্থানই এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, রাজনীতিতে কর্পোরেট অর্থের প্রভাব কমানো, শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং ইসরায়েলসহ বিদেশি সামরিক বাহিনীতে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের বিরোধিতা তার প্রচারণার কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল। বিশেষ করে ইসরায়েল ইস্যুতে এল সাইদ ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হেইলি স্টিভেন্সের অবস্থানের মধ্যে বড় পার্থক্য ছিল। স্টিভেন্স ইসরায়েলের প্রতি জোরালো সমর্থনের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে এল সাইদ ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন, মার্কিন করদাতাদের অর্থ দেশের স্কুল, রাস্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন পূরণে ব্যয় হওয়া উচিত। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রাইমারিতে বিপুল পরিমাণ বাইরের অর্থও খরচ হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হিসাবে, এল সাইদের বিরুদ্ধে এবং স্টিভেন্সের পক্ষে কয়েক কোটি ডলার ব্যয় করে বাইরের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন। এর মধ্যে ইসরায়েলপন্থী সংগঠনগুলোর ব্যয়ও ছিল উল্লেখযোগ্য। তারপরও অর্থের লড়াইয়ে অনেক পিছিয়ে থেকেও জয় পেয়েছেন এল সাইদ। নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবে স্টিভেন্সের তুলনায় তিনি বড় ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন। এই ফলকে তাই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এল সাইদকে সমর্থন করেছিলেন ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজসহ প্রগতিশীল রাজনীতির কয়েকজন পরিচিত নেতা। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের একটি বড় অংশ স্টিভেন্সের পাশে ছিল। মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমারও প্রাইমারির শেষ দিকে স্টিভেন্সকে সমর্থন করেন। এ কারণে এল সাইদের জয়কে দলের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক কাঠামোর বিরুদ্ধে প্রগতিশীল অংশের একটি বড় সাফল্য হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ইসরায়েল নিয়ে তার অবস্থান অবশ্য তাকে রাজনৈতিক আক্রমণের মুখেও ফেলেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান নেতারা তার বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। এল সাইদ ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ইসরায়েল সরকারের নীতির সমালোচনা এবং ইহুদি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ এক বিষয় নয়। নিজের নির্বাচনী এলাকার ইহুদি বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। রাজনীতিতে আসার আগে এল সাইদের পরিচিতি তৈরি হয়েছিল জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে। তিনি চিকিৎসক নন, বরং জনস্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষিত একজন চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও প্রশাসক। ২০১৫ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ডেট্রয়েট হেলথ ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোনো শহরের জনস্বাস্থ্য বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়া সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তিদের একজন ছিলেন এল সাইদ। ডেট্রয়েটে দায়িত্ব পালনের সময় শিশু মৃত্যুহার কমানো, স্কুলশিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং স্কুলে সীসার ঝুঁকি শনাক্ত করার মতো বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য উদ্যোগে কাজ করেন তিনি। ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথমবার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি পান এল সাইদ। সেই নির্বাচনেও তার প্রচারণার মূল বিষয় ছিল সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো এবং রাজনীতিতে কর্পোরেট অর্থের প্রভাব হ্রাস করা। সে প্রাইমারিতে তিনি গ্রেচেন হুইটমারের কাছে পরাজিত হন। আট বছর পর এবার ইউএস সিনেটের প্রাইমারিতে সেই প্রগতিশীল রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নিয়েই বড় জয় পেয়েছেন তিনি। তবে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা এখনো সামনে। নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে এল সাইদের প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স। রিপাবলিকান প্রাইমারিতে রজার্স বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মনোনয়ন পেয়েছেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থনও তার সঙ্গে রয়েছে। মিশিগানকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাজ্যটিতে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। ফলে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয় পেলেও সাধারণ নির্বাচনে এল সাইদের সামনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা অপেক্ষা করছে। নভেম্বরের ফলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ও জড়িয়ে আছে। দেশটির প্রতিনিধি পরিষদে মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মুসলিম ইউএস সিনেটর নির্বাচিত হননি। সেই ইতিহাস পরিবর্তনের সুযোগ এখন আবদুল এল সাইদের সামনে। মাইক রজার্সকে হারাতে পারলে মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের এই সন্তান শুধু মিশিগানের নতুন সিনেটরই হবেন না, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে ইউএস সিনেটে প্রবেশ করবেন।
স্ত্রীকে বাঁচাতে দিয়েছিলেন কিডনি, ডিভোর্স চাইতেই ফেরত কিডনি চাইলেন স্বামী
নিউইয়র্কে ১৪ হাজার ফুট ওপরে বিয়ের শুরু, আকাশ থেকে লাফ দিয়ে নতুন জীবনে বর-কনে