আমেরিকা

লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ৪০তম ফোবানার স্কলারশিপ আবেদন গ্রহণ শুরু

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ০:১০
লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ৪০তম ফোবানার স্কলারশিপ আবেদন গ্রহণ শুরু
লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ৪০তম ফোবানার স্কলারশিপ আবেদন গ্রহণ শুরু

উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন “ফোবানা কনভেনশন” এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন লস অ্যাঞ্জেলেস/ইউনিভার্সাল সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে ফোবানার ৪০তম আসর।

 

এবারের কনভেনশনের আয়োজক সংগঠন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া (বিএসি)। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে “ফোবানা স্কলারশিপ অ্যাপ্লিকেশন” কার্যক্রম। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এ স্কলারশিপের আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১০ আগস্ট ২০২৬।

 

ফোবানা ওয়েবসাইট অনুযায়ী, স্কলারশিপ আবেদনকারীদের প্রথমত ক্যালিফোর্নিয়া স্টেটের বাসিন্দা হতে হবে, ২০২৬ এ হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশন সম্পূর্ণ করতে হবে এবং নিজেদের সম্পর্কে সর্বোচ্চ ৫০০ শব্দের একটি প্রবন্ধ জমা দিতে হবে। সেখানে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিতে তাদের অবদান, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম, বাংলা স্কুলে অংশগ্রহণ, বাংলাদেশ বিষয়ক গবেষণা বা কোর্স এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাগত লক্ষ্য তুলে ধরতে বলা হয়েছে।

 

তবে যেসব আবেদনকারীর এ ধরনের অভিজ্ঞতা নেই, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারী ২০২৬ সালের ১০ আগস্টের আগে ফোবানা ২০২৬ হোস্ট কমিটির জন্য অন্তত ২০ ঘণ্টা স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে এই শর্ত পূরণ করতে পারবেন।

 

এ ছাড়া আবেদনকারীদের অফিসিয়াল ট্রান্সক্রিপ্ট, জিপিএ ও ক্লাস র‌্যাংক, কমিউনিটি সম্পৃক্ততার সনদপত্র এবং একটি রঙিন ছবি জমা দিতে হবে। সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র scholarship@fobanaonline.com ঠিকানায় পাঠাতে বলা হয়েছে।

 

আয়োজকরা জানান, এবারের ফোবানা কনভেনশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রবিউল করিম বেলাল (পেনসিলভানিয়া)। কনভেনর হিসেবে রয়েছেন ড. জয়নুল আবেদিন (ক্যালিফোর্নিয়া) এবং এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খালেদ রউফ (ইলিনয়)।

 

এছাড়া ফোবানা ফাউন্ডেশন, ক্যালিফোর্নিয়ার সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার মো. ইকবাল। স্কলারশিপ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন এম মওলা দিলু এবং সহ-চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন ড. ইউনুস রাহি।

 

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের কনভেনশনে থাকছে ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, সেমিনার, সাহিত্য ও কবিতার আসর, ইয়ুথ ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ বিষয়ক আলোচনা, ট্যালেন্ট শো, ফোবানা স্কলারশিপ কার্যক্রম এবং দেশীয় খাবার ও কারুশিল্প প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজন।

 

এবারের ফোবানা কনভেনশনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “উত্তরণের পথে আগামীর প্রত্যয়ে প্রবাস বাংলাদেশ”।

 

ফোবানা, অর্থাৎ “ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা”, দীর্ঘদিন ধরে উত্তর আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সামাজিক বন্ধন এবং কমিউনিটি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আয়োজকরা আশা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি এবারের কনভেনশনে অংশ নেবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
টিকটকে ‘এক নম্বর’ দাবি ট্রাম্পের
টিকটকে ‘এক নম্বর’ দাবি ট্রাম্পের, পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি। তবে প্রকাশিত তথ্য ও পরিসংখ্যান তার এই বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না।   হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, নতুন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি টিকটকে ‘এক নম্বর’ অবস্থানে রয়েছেন। বক্তব্যের সময় তিনি মজা করে টিকটককে ‘টিক ট্যাক’ বলেও উল্লেখ করেন, যা উপস্থিতদের মধ্যে কিছুটা হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি করে।   তবে এর আগের দিন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প যে তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছিলেন, তাতে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ওই তথ্যচিত্রে তাকে টিকটকের ‘সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করা এবং সবচেয়ে বেশি দেখা বিশ্বনেতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ এই হিসাবটি কেবল বিশ্বনেতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, সব ব্যবহারকারী বা বিনোদন জগতের তারকাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়নি।   ফলে পপ তারকা টেইলর সুইফটের মতো ব্যক্তিত্ব ওই তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। একই সঙ্গে তাকে ১১তম অবস্থানে থাকার কোনো উল্লেখও ওই তথ্যচিত্রে পাওয়া যায়নি।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের পক্ষে দেখানো ৪২৫ বিলিয়ন ভিউ আসলে #ট্রাম্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ভিডিওর মোট দর্শকসংখ্যা। এতে তার নিজের অ্যাকাউন্টের ভিডিও ছাড়াও সাধারণ ব্যবহারকারীদের তৈরি সমর্থনমূলক, সমালোচনামূলক বা নিরপেক্ষ—সব ধরনের কনটেন্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে এই ভিউ সংখ্যা সরাসরি ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার নির্ভরযোগ্য সূচক হিসেবে ধরা যায় না।   অনুসারীর সংখ্যার দিক থেকেও ট্রাম্প উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে আছেন। বর্তমানে টিকটকে তার অনুসারী প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ, যেখানে টেইলর সুইফটের অনুসারী সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৩৫ লাখ। অর্থাৎ অনুসারীর সংখ্যায় সুইফট ট্রাম্পের প্রায় দ্বিগুণ এগিয়ে।   অন্যদিকে, টিকটকে সবচেয়ে বেশি অনুসারী থাকা নির্মাতাদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন ইতালিয়ান কনটেন্ট নির্মাতা খাবি লেইম, যার অনুসারী সংখ্যা ১৬ কোটিরও বেশি। তার পরেই অবস্থান করছেন চার্লি ডি’অ্যামিলিও এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার মি.বিস্ট।   সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প টিকটকের চীনা মালিকানা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়েও কথা বলেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তিনি বিশ্বনেতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করে থাকতে পারেন, কিন্তু টিকটকের সব ব্যবহারকারী বা সেলিব্রিটিদের মধ্যে ‘এক নম্বর’—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: সামা টিভি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৬ ২:৬
হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করলে কঠোর জবাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র: ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স

হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করলে কঠোর জবাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র: ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

‘ইরানের হত্যার তালিকায় আমি এক নম্বরে’—ট্রাম্পের দাবি

টেক্সাসের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জিনা হিনোজোসা( সংগৃহীত)

নির্বাচিত হলে টেক্সাসের প্রতিটি পরিবারকে ১,৫০০ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর

ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানে মার্কিন হামলা
ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানে মার্কিন হামলা, নিহত ৮ সেনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির পর দক্ষিণ ইরানে মার্কিন সামরিক হামলায় দেশটির অন্তত আটজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার (৮ জুলাই) ভোরে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাস ও বুশেহর এলাকায় একাধিক স্থানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে নিহতদের মধ্যে ইরানের বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, হামলার পর ওই এলাকাগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।   এ ঘটনার পরপরই তেহরান থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘দুঃসাহসিকতা’ হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই হামলা শুধু ইরানের বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো গাল্ফ অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বেলায়েতি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের মৌখিক সম্মতি অঞ্চলটিকে আবারও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তার ভাষায়, “আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম, এই অঞ্চল কোনো ছোট দেশের রাজনৈতিক জুয়ার ক্ষেত্র নয়। অতীতে যেমন দুঃসাহসিকতার জবাব দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতেও তাৎক্ষণিক ও উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে।”   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর সংলগ্ন কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এদিকে, এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৬ ০:১৮
ছবি: ক্যানসার আক্রান্ত ১৭ বছর বয়সী সাহারা মোরকুয়েচো (বামে) ও তার বোন কালিনা মোরকুয়েচো (সংগৃহীত)

ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৭ বছরের কিশোরীর ক্যানসার অপারেশন চলাকালেই হাসপাতাল কক্ষ থেকে উধাও পার্স-গয়না

দাদির ওপর হামলার ঘটনায় দণ্ডিত জর্ডান এলিংটন। ছবি: সংগৃহীত

৭৭ বছরের দাদির গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে হামলা, মিশিগানের যুবকের কারাদণ্ড

আয়রন লাংয়ের ওপর নির্ভরশীল যুক্তরাষ্ট্রের শেষ পোলিও জীবিত মার্থা অ্যান লিলার্ড। ছবি: সংগৃহীত

৭৩ বছর ‘আয়রন লাং’-এর সহায়তায় বেঁচে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের শেষ পোলিও রোগীর মৃত্যু

ছবি: অভিযুক্ত ভারতীয় পুলিশ কর্মকর্তা গুরিন্দরজিৎ সিং নাগরা(সংগৃহীত)
মিথ্যা হত্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক পরিবারের কাছে ৪ লাখ ডলার দাবি করেছে ভারতীয় পুলিশ

ওয়াশিংটন, ৮ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত একটি পরিবারের কাছ থেকে ৪ লাখ মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি এবং অর্থ না দিলে ভারতে থাকা তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ভারতের এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে ভারতের কাছে তার প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চাওয়া হবে।   মার্কিন আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের টান্ডা থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) গুরিন্দরজিৎ সিং নাগরা। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসরত একটি ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবারের কাছ থেকে ৪ লাখ ডলার দাবি করেন। পরিবারটি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে, ভারতে থাকা তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করার হুমকি দেওয়া হয়।   মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তা তার সরকারি পদমর্যাদার প্রভাব ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছেন। মামলাটি আন্তঃদেশীয় চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধসংক্রান্ত একটি বৃহত্তর তদন্তের অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।   মার্কিন বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। সে কারণে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে এনে বিচারের আওতায় আনতে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তবে প্রত্যর্পণের বিষয়টি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান আইনি চুক্তি এবং দুই দেশের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।   মামলায় অভিযোগ আনা হলেও এখন পর্যন্ত ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আইনি ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের মানেই তিনি দোষী—এমনটি নয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ২২:৫০
ছবি: বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (সংগৃহীত)

এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতির বিরুদ্ধে বড় অভিযান, তদন্তে নেমেছে ট্রাম্প প্রশাসন: জেডি ভ্যান্স

ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষা খাতে কোটি ডলারের জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের অর্থে বিলাসী জীবন, ক্যালিফোর্নিয়ায় কোটি ডলারের শিক্ষা জালিয়াতি ফাঁস

শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দণ্ডিত ভেনেসা এসকুইভেল। ছবি: সংগৃহীত

শিশুকে গরম গাড়িতে রেখে কাজে যান মা, মৃত্যুর ঘটনায় ২৫ বছরের কারাদণ্ড

0 Comments