- প্রচ্ছদ
- Topic
জননিরাপত্তা
নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত ও পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র টাইমস স্কয়ার। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে আসেন। চারপাশে থাকে পুলিশের টহল, নজরদারি ক্যামেরা ও নানা ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা। তারপরও গত তিন বছরের কম সময়ে টাইমস স্কয়ার ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক প্রাণঘাতী ঘটনার খবর সামনে এসেছে। প্রকাশ্যে যাচাই করা ঘটনাগুলোর হিসাবে এ সময়ে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রাণঘাতী তিনটি ঘটনা ঘটে। পশ্চিম ৪৩তম সড়কের কাছাকাছি একটি আবাসিক ভবনে ছুরিকাঘাতে ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন। একই বছর টাইমস স্কয়ারের কাছাকাছি এক সহকর্মীর ঘুষিতে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান ট্যাক্সি বিভাগের কর্মী এফরেইন পাতিনো গুয়েরা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে টাইমস স্কয়ারের একটি হোটেলের সামনে হামলার শিকার ২৩ বছর বয়সী লেসলি টোরেসও মারা যান। ২০২৫ সালে ৪৫ টাইমস স্কয়ার হোটেল থেকে পড়ে ৩৯ বছর বয়সী এমানুয়েল ভেলেজের মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করেছিল। একই বছরের নভেম্বরে পশ্চিম ৪৯তম সড়ক ও সপ্তম অ্যাভিনিউয়ের কাছে ২৩ বছর বয়সী ডেভন সিলভাকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হলে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ওই বছর টাইমস স্কয়ারে গুলির ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছিলেন, তবে তারা প্রাণে বেঁচে যান। ২০২৬ সালের মে মাসে টাইমস স্কয়ারের ৪৩তম সড়কে ছুরিকাঘাতে মারা যান ৩৯ বছর বয়সী লিওনিদাস বায়েজ। আর সর্বশেষ ৩১ আগস্টের ঘটনায় প্রাণ হারান ৩২ বছর বয়সী ব্যাংক অব আমেরিকার সহসভাপতি এরিন পিয়াচেন্তি। একই ঘটনায় একজন ৬৮ বছর বয়সী ব্যক্তি আহত হন। পরে ছুরি হাতে পুলিশের দিকে এগিয়ে গেলে পুলিশের গুলিতে সন্দেহভাজন পামেলা সিসনেরোসও নিহত হন। ফলে ২০২৪ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাচাই করা এসব প্রাণঘাতী ঘটনায় মোট আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এই হিসাবে হামলার শিকার ব্যক্তি, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তি এবং পুলিশের গুলিতে নিহত সন্দেহভাজন সবাই অন্তর্ভুক্ত। তবে এটি টাইমস স্কয়ারের জন্য পুলিশের আলাদা কোনো সরকারি মোট হিসাব নয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ সাধারণত বৃহত্তর এলাকার ভিত্তিতে অপরাধের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। তাই এই সংখ্যা প্রকাশ্যে যাচাই করা টাইমস স্কয়ার ও সংলগ্ন এলাকার প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর সমন্বিত হিসাব। বিশ্বের আলো ঝলমলে এই পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের ভিড়, পুলিশি উপস্থিতি ও ব্যাপক নজরদারির মধ্যেও বারবার প্রাণঘাতী ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, টাইমস স্কয়ার আসলে কতটা নিরাপদ?
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর এক ডেলিভারি চালককে নগ্ন অবস্থায় বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়া ওই দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান বাড়ির মালিক কিয়ান্তে ম্যাটলক। ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ আগস্ট হিউস্টনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে, হোমস্টেড এলাকার কাছাকাছি ম্যাটলকের বাড়িতে। ম্যাটলক জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির ভেতরে বসে ভিডিও গেম খেলছিলেন। তার মেয়েও তখন বাড়িতে ছিল। মেয়ের কাছ থেকে ফোনে একটি নোটিফিকেশন আসার কথা জানতে পেরে ম্যাটলক বুঝতে পারেন, তার খাবারের অর্ডার পৌঁছে গেছে। এরপর তিনি বাড়ির রিং নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে গিয়ে অস্বাভাবিক দৃশ্যটি দেখতে পান। ফুটেজে দেখা যায়, খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর ডেলিভারি চালকটি বাড়ির বাইরে নগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন। দৃশ্যটি দেখে তিনি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না বলে জানান ম্যাটলক। ম্যাটলক নিয়মিত ডোরড্যাশ ব্যবহার করেন। তবে ওই দিনের খাবার তিনি আর গ্রহণ করেননি। পরে ডোরড্যাশ কর্তৃপক্ষ তার অর্ডারের অর্থ ফেরত দেয়। ঘটনার বিষয়ে ডোরড্যাশের সঙ্গে যোগাযোগ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ২৬ হিউস্টন। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র ঘটনাটিকে অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর ডোরড্যাশ সরাসরি ম্যাটলকের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং সংশ্লিষ্ট চালকের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। ডোরড্যাশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের যৌন হয়রানি বা অনুপযুক্ত আচরণ তারা মেনে নেয় না। ঘটনার তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজন হলে তাদের সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, তাদের অ্যাপের মাধ্যমে জমা পড়া অভিযোগগুলো ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি বিভাগ পর্যালোচনা করে। ডেলিভারির সময় কোনো গ্রাহক অস্বাভাবিক বা উদ্বেগজনক আচরণের মুখে পড়লে দ্রুত অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে। কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে অনিরাপদ মনে হলে স্থানীয় পুলিশকে জানানোর পরামর্শও দিয়েছে ডোরড্যাশ। তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা থাকলে জরুরি নম্বরে ৯১১-এ ফোন করতে বলা হয়েছে। এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে হিউস্টন পুলিশের সঙ্গেও কথা বলেছে ফক্স ২৬। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাড়ির বাসিন্দারা এ ধরনের ঘটনা ঘটলে পুলিশকে জানানো এবং ঘটনার সম্ভাব্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা উচিত। এর মধ্যে রিং ক্যামেরা, দরজার ক্যামেরা কিংবা বাড়ির অন্য কোনো নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য ফৌজদারি অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে সে জন্য আগে ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রয়োজন এবং এরপর পুলিশ তদন্ত করে দেখবে ঠিক কী ঘটেছিল। ফক্স ২৬ জানিয়েছে, টেক্সাসের আইনে এ ধরনের আচরণ কোন পরিস্থিতিতে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তা জানতে তারা একজন আইন বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও কথা বলার চেষ্টা করছে। ঘটনাটি আবারও বাড়িতে খাবার বা পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সময় নিরাপত্তা ক্যামেরার গুরুত্ব সামনে এনেছে। বিশেষ করে ডেলিভারি কর্মীর আচরণ নিয়ে কোনো উদ্বেগ তৈরি হলে ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: ফক্স ২৬ হিউস্টন (FOX 26), প্রতিবেদক লেসলি ডেলাসবোর।
স্কটল্যান্ডের ওয়েস্টার রসে হাঁটতে বেরিয়ে হাজারো মৌমাছির ঝাঁকের হামলার শিকার হন এক মা ও তার দুই বছরের ছেলে। শরীরে ১৫০টিরও বেশি হুল ফোটার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দুজনকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার এক বছর পরও তারা মানসিক আঘাত থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনসমাগমপূর্ণ স্থানে মৌচাক স্থাপনের নিয়ম কঠোর করার দাবিও উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টাইমস ও পিপল ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ২৯ জুন স্কটল্যান্ডের ওয়েস্টার রসের পুলিউয়ে এলাকায় হাঁটছিলেন রোজি কার্কনেস ও তার দুই বছরের ছেলে জেমি। পথ দিয়ে একটি গাড়ি যাওয়ার সময় রোজি রাস্তার পাশে সরে দাঁড়ান। সেখানেই ছিল কয়েকটি মৌচাক, যেখানে মৌপালকেরা কাজ করছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মাথায় একটি মৌমাছি অনুভব করেন। এরপর মুহূর্তের মধ্যে তার হাত ও শরীর মৌমাছিতে ঢেকে যায় এবং ঝাঁকের আক্রমণে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরিস্থিতির মধ্যে ছেলেকে নিয়ে কাছের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে সক্ষম হন রোজি। বাড়ির মালিক তাদের ভেতরে নিয়ে যান। পরে তিনি রোজির মা সুসান কার্কনেসকে জানান, রাস্তার পাশে ছোট্ট জেমিকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত মৌমাছিতে ঢেকে থাকতে দেখার দৃশ্য তিনি কোনো দিন ভুলবেন না। সাহায্য করতে গিয়ে ওই ব্যক্তিও মৌমাছির হুলের শিকার হন। বাড়ির ভেতরে গোসলের পানিতে শরীর থেকে মৌমাছি সরানোর চেষ্টা চলাকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছান জরুরি সেবাকর্মীরা। এক পর্যায়ে শিশুটি গলায় আটকে থাকা মৌমাছির কারণে বমি করতে শুরু করে। পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে মা ও শিশুকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তাদের কিডনির জটিলতা, বিষক্রিয়াজনিত পেশির খিঁচুনি, তীব্র ফোলাভাব এবং ত্বকের সংক্রমণের চিকিৎসা দিতে হয়েছে। ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও পড়েছে তাদের জীবনে। চিকিৎসকদের মূল্যায়নে মা ও ছেলে দুজনই পরবর্তীতে আঘাত-পরবর্তী মানসিক চাপজনিত সমস্যায় (পিটিএসডি) আক্রান্ত হন। রোজি আগে থেকেই কিছু অ্যালার্জির কারণে জরুরি ইনজেকশন সঙ্গে রাখতেন। এই ঘটনার পর ভবিষ্যতে মৌমাছির হুল আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন। রোজির মা সুসান কার্কনেস এই ঘটনাকে "ভয়ের চলচ্চিত্রের দৃশ্যের মতো" বলে বর্ণনা করেছেন। ঘটনার প্রায় এক বছর পর তিনি স্কটিশ পার্লামেন্টে একটি আবেদন জমা দেন। সেখানে জনসমাগমপূর্ণ স্থানে নতুন নিরাপত্তা আইন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত মৌচাক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা, বাধ্যতামূলক সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং জনপথ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে মৌচাক রাখার বিধান চালুর দাবি জানানো হয়েছে। আবেদনে সুসান অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় মৌপালকেরা মৌচাকে কাজ করলেও সেখানে কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা নিরাপত্তা বেষ্টনী ছিল না। মৌমাছিগুলো উত্তেজিত হয়ে আক্রমণাত্মক আচরণ শুরু করলে তার মেয়ে ও নাতি হামলার মুখে পড়েন। তিনি আরও দাবি করেন, মৌপালক তার মেয়ের চিৎকার শুনলেও সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মৌপালকের কোনো বক্তব্য প্রকাশিত হয়নি। এদিকে স্কটিশ মৌপালক সমিতি জানিয়েছে, জনপথ বা শিশুদের চলাচলের কাছাকাছি মৌচাক না রাখাই নিরাপদ। পাশাপাশি স্কটিশ সরকার বলেছে, মৌমাছির কারণে জনসাধারণের ক্ষতি বা ঝুঁকি সৃষ্টি হলে বিদ্যমান আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা চলতি বছর এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসতে পারে। স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অন ক্রিমিনাল জাস্টিস (সিসিজে)-এর নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের প্রথমার্ধে দেশটির ৩০টি বড় শহরে হত্যাকাণ্ড গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমেছে। এই ধারা বছরের বাকি সময়ও অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক হত্যাকাণ্ডের হার শতাধিক বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে পৌঁছাতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর প্রায় ২১৫টি কম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুধু হত্যাকাণ্ডই নয়, মোট ১৩ ধরনের অপরাধের মধ্যে ৯টির হার কমেছে। এর মধ্যে রয়েছে গুরুতর হামলা, গাড়ি ছিনতাই এবং আবাসিক এলাকায় চুরির মতো অপরাধ। তবে দোকান থেকে পণ্য চুরি, গার্হস্থ্য সহিংসতা, যৌন নিপীড়ন এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধে সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। সিসিজের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যাডাম গেল্ব বলেন, এই ইতিবাচক পরিবর্তন শুধু কোনো একটি শহর বা রাজনৈতিক নেতৃত্বের ফল নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল পরিচালিত, ভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার শহরেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে এর পেছনে জাতীয় পর্যায়ের বিস্তৃত কিছু কারণ কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সহিংস অপরাধের প্রাণঘাতী হওয়ার হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গুরুতর সহিংস ঘটনার মধ্যে মৃত্যুর হার ২৩ শতাংশ কমেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে সহিংসতা ঘটলেও আগের তুলনায় প্রাণহানি কম হচ্ছে। একই সঙ্গে আবাসিক চুরির ঘটনা বছরে ১৩ শতাংশ এবং ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। তবে এই ইতিবাচক চিত্র সব শহরে এক রকম নয়। ৩০টি শহরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে হত্যাকাণ্ড বেড়েছে। ভার্জিনিয়ার নরফোকে হত্যাকাণ্ড ৬৪ শতাংশ এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ডালাসসহ কয়েকটি শহরেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে একক কোনো কারণ নেই। মাদকের ব্যবহার কমে আসা, মহামারির পর স্থানীয় সরকারগুলোতে অতিরিক্ত ফেডারেল অর্থায়ন, তরুণদের জন্য সামাজিক কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং সহিংসতা প্রতিরোধমূলক উদ্যোগের মতো একাধিক বিষয় একসঙ্গে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকদের মতে, এই প্রবণতা ভবিষ্যতের জননিরাপত্তা নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে কাজ করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে অবস্থিত রকাওয়ে সৈকতের অত্যন্ত বিপজ্জনক ও জরাজীর্ণ কাঠের জেটিগুলো (পিলিং) অবশেষে আগামী নভেম্বর মাস থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ প্রায় ৭০ বছরের পুরোনো এই 'মৃত্যুফাঁদ' অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে, যা স্থানীয়দের কাছে ‘ডেথ জেটি’ নামে পরিচিত। মার্কিন সেনা প্রকৌশলী দল (ইউএস আর্মি কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্স) এই নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সৈকতে প্রাণ হারানো ভুক্তভোগীদের পরিবার। তাদের মতে, আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে এই সিদ্ধান্ত আসতে অনেক দেরি হয়ে গেছে, যা আরও বহু আগেই করা সম্ভব ছিল। সৈকতের এই পুরোনো কাঠের কাঠামো ও জেটিগুলো দীর্ঘ বছর ধরে সাঁতারু এবং সার্ফারদের জন্য অন্যতম বড় আতঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। জোয়ারের সময় এগুলো পানির নিচে পুরোপুরি তলিয়ে যাওয়ায় ওপর থেকে দেখা যায় না, যার ফলে অবচেতনভাবেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন পর্যটকেরা। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে রকাওয়ে সৈকতের এমনই একটি জেটিতে বন্ধুদের সাথে বসে থাকা অবস্থায় পা পিছলে তীব্র স্রোতে তলিয়ে যায় ১৮ বছর বয়সী তরুণ জন মুনোজ। পরবর্তীতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হলে শরীরে জেটির পিলিংয়ের আঘাতের তীব্র চিহ্ন পাওয়া যায়। মুনোজের মৃত্যুর পর সাত বছর কেটে গেলেও এতদিনে জেটি অপসারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার বোন ইয়েনেসনিয়া রদ্রিগেজ। তিনি জানান, প্রশাসনের এই উদাসীনতার কারণে তাদের পরিবারের একটি অংশ চিরতরে মারা গেছে এবং প্রতি বছরই এই সৈকত একের পর এক প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। রকাওয়ে সৈকতে জেটির কারণে মৃত্যুর ঘটনা কেবল এটিই নয়। গত গ্রীষ্মেও রিস পার্কের রকাওয়েতে সার্ফিং করার সময় বোর্ডের দড়ি বা লিশ এই জরাজীর্ণ কাঠের জেটির সাথে পেঁচিয়ে গিয়ে সেবাস্টিয়ান লাসাওসা রজার্স নামের এক সার্ফারের মৃত্যু হয়। এর আগে ২০০৯ এবং ২০১০ সালেও একই ধরনের দুর্ঘটনায় আরও দুই সার্ফার প্রাণ হারিয়েছিলেন। ২০২০ সালেও একবার এই বিপজ্জনক পিলিংগুলো উপড়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ঠিকাদারদের গাফিলতি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সেই প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়ে। বর্তমান নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর মাস থেকে নতুন ঠিকাদার খোঁজার কাজ শুরু হবে এবং নভেম্বরের মধ্যে মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হতে পারে। তবে প্রশাসনের অতীতের রেকর্ড এবং বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা এখনও কিছুটা সন্দিহান এবং তারা এই প্রাণঘাতী সমস্যার দ্রুত স্থায়ী সমাধান দাবি করছেন।
দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, বিশেষ করে কুমিল্লা-য় রেলক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বগুড়া-য় ট্রেন দুর্ঘটনার পর শনিবার দিবাগত রাতে কুমিল্লায় এই ভয়াবহ সংঘর্ষে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এসব দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ দ্রুত উদ্ঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এদিকে কুমিল্লার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং একটি করেছে জেলা প্রশাসন। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া ফেনী, হবিগঞ্জ ও জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতিও শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র ঈদের আনন্দঘন সময়ে এসব দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। প্রতিটি প্রাণই মূল্যবান এবং প্রতিটি মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি আরও বলেন, জনগণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। রেলক্রসিং ব্যবস্থাপনা, সেতুর নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পরিবহন খাতের দুর্বলতা চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।