- প্রচ্ছদ
- Topic
ট্রান্সজেন্ডার
বাংলাদেশের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার সংবাদ পাঠিকা তাসনুভা আনান শিশিরের বিয়ের ঘোষণা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ১০ জুলাই তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাথাভর্তি সিঁদুর, শাঁখা-পলা পরা ছবি প্রকাশ করে বিয়ের খবর জানান। এরপর থেকেই তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য, কটূক্তি ও ট্রলের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। তাসনুভা আনান শিশির ২০২১ সালের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বৈশাখী টেলিভিশনে সংবাদ পাঠের মাধ্যমে দেশের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার সংবাদ পাঠিকা হিসেবে ইতিহাস গড়েন। তার সেই অভিষেক দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং মূলধারার গণমাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। সম্প্রতি বিয়ের ঘোষণার পর প্রকাশিত ছবিতে সনাতন ধর্মীয় রীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত সিঁদুর ও শাঁখা-পলা পরিহিত অবস্থায় তাকে দেখা যায়। এর জেরে সামাজিক মাধ্যমে তার ধর্ম, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং বৈবাহিক জীবন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ বিষয়ে তাসনুভা আনান শিশির আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। তাসনুভা আনান শিশির দীর্ঘদিন ধরেই বৈষম্য ও সামাজিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে সোচ্চার। সংবাদ পাঠিকা হওয়ার আগেও তিনি একজন অধিকারকর্মী, অভিনয়শিল্পী ও সমাজকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাকে সামাজিক বুলিং, বৈষম্য ও মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একজন ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয়, বৈবাহিক জীবন কিংবা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত তার নিজস্ব অধিকার ও স্বাধীনতার অংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক বা অপমানজনক মন্তব্য অনলাইন হয়রানির পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাসনুভা আনান শিশিরের বিয়ের খবর ঘিরে যেমন অভিনন্দনের বার্তা এসেছে, তেমনি সমালোচনা ও ট্রলও দেখা গেছে। ঘটনাটি আবারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সামাজিক সহনশীলতা এবং অনলাইনে দায়িত্বশীল আচরণের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে লড়তে ইচ্ছুক ট্রান্সজেন্ডার ও ইন্টারসেক্স অ্যাক্টিভিস্ট অ্যাশলি ওয়েব বিতর্কে এক উদ্ভট উত্তর দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এক বিতর্কে সঞ্চালক তার যোগ্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অত্যন্ত অসংলগ্ন উত্তর দেন। ওয়েব জানান, তিনি এর আগেও কয়েকবার নির্বাচনে লড়েছেন, যদিও কখনো জিততে পারেননি। নিজের যোগ্যতার বর্ণনায় তিনি নিজেকে গীতিকার ও লেখক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে তিনি জনগণের সঙ্গে কোনো প্রতারণা করবেন না। এছাড়া তিনি নিজেকে একজন 'ক্ষুব্ধ নাগরিক' হিসেবে দাবি করে বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি একজন 'ক্ষুব্ধ সিনেটর' হবেন, যা হয়তো সবার জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়াবে। এক্সে (সাবেক টুইটার) ছড়িয়ে পড়া তার এই উত্তরের ভিডিওটি ইতোমধ্যেই সাড়ে সাত লাখেরও বেশি মানুষ দেখেছেন। মেইনের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী গ্রাহাম প্ল্যাটনারের বিরুদ্ধে তার সাবেক এক প্রেমিকা ধর্ষণের অভিযোগ আনলে তিনি চলতি মাসের শুরুতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন। প্ল্যাটনার এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করলেও তার বিদায়ে দলে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়। প্ল্যাটনারের শূন্যস্থানে আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের বিপক্ষে লড়তে অ্যাশলি ওয়েবসহ মোট ১২ জন প্রার্থী ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়নের দৌড়ে রয়েছেন। এই তালিকায় মেইনের সেক্রেটারি অব স্টেট শেনা বেলোস, মেইন বিয়ার কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ড্যান ক্লেবান এবং লেখক ক্রিস্টিনা লিবি-র মতো ব্যক্তিরাও রয়েছেন। চলতি মাসের শেষে দলের সম্মেলনে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। এদিকে, অ্যাশলি ওয়েবের এমন অসংলগ্ন উত্তরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ। রক্ষণশীল রাজনীতিক ডেভ রুবিন এক্সে ওয়েবের পারফরম্যান্স নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। আরেকজন মন্তব্যকারী ওয়েবের বক্তব্যকে ২০০৪ সালের কাল্ট-ক্লাসিক সিনেমা 'নেপোলিয়ন ডাইনামাইট'-এর স্ক্রিপ্টের সঙ্গে তুলনা করেছেন। অনেকেই তার এই জবাবকে 'টুইলাইট জোন'-এর মতো অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছেন। তবে নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে ওয়েব জানিয়েছেন, মেইনের সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে সরাসরি লড়াই করতেই তার এই নির্বাচনে আসা এবং তিনি সেই জনসমর্থন কাজে লাগাতেই কাজ করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে ক্যাসিনোতে বড় ধরনের এক হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে পুলিশ। বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবরুদসহ ৩৬ বছর বয়সী অ্যালিসন হাওলেট নামের এক ট্রান্সজেন্ডারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জন্মসূত্রে পুরুষ হলেও অ্যালিসন একজন নারী হিসেবেই জীবনযাপন করেন। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার হুমকি, মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে হামলা, গাড়ি ও অস্ত্র চুরি এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়াসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অ্যালিসনের সাবেক স্ত্রী পুলিশকে ফোন করে জানান যে, অ্যালিসন তার গাড়ি চুরি করে পালিয়েছে এবং গাড়িতে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, অ্যালিসন সম্ভবত পুলিশের গুলিতে নিজের মৃত্যু (সুইসাইড বাই কপ) অথবা কোনো বড় ধরনের হত্যাযজ্ঞ চালানোর পরিকল্পনা করেছেন। সাবেক স্ত্রীর ফোনে থাকা ট্র্যাকিং প্রযুক্তির সাহায্যে পুলিশ গাড়িটির অবস্থান শনাক্ত করে এবং সানসেট স্টেশন হোটেলের একটি গ্যারেজে গাড়িটি খুঁজে পায়। গ্যারেজে পৌঁছানোর পর পুলিশ কর্মকর্তারা দেখেন, অ্যালিসন গাড়ির ভেতরে উচ্চস্বরে গান বাজাচ্ছেন এবং গাড়ি থেকে বের হওয়ার নির্দেশ বারবার অমান্য করছেন। একপর্যায়ে দীর্ঘক্ষণ পর তিনি পুলিশের কাছে পান করার জন্য পানি চান। আর এই সুযোগটিই কাজে লাগান উপস্থিত চৌকস পুলিশ কর্মকর্তারা। অ্যালিসন পানির বোতল নিতে হাত বাড়াতেই কর্মকর্তারা তার হাত চেপে ধরে তাকে গাড়ি থেকে টেনে বের করেন। এ সময় তাকে কাবু করতে পুলিশ টেজার (Taser) ব্যবহার করে। গ্রেপ্তারের পরপরই পুলিশ দেখতে পায়, অ্যালিসন একটি হ্যান্ডগানের ওপর বসে ছিলেন এবং পেছনের সিটেই একটি এমপি৫ (MP5) সাবমেশিনগান রাখা ছিল। পরবর্তীতে গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ আরও ২২টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং শত শত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। শুধু তাই নয়, হেন্ডারসনে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও ৩০টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, গ্রেনেড লঞ্চার অ্যাটাচমেন্ট, সাইলেন্সার ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ছিল। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অ্যালিসন গত কয়েক বছর ধরেই এ ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের একটি অডিও রেকর্ডিংয়ে তাকে এফবিআই গ্রেপ্তার না করলে বড় ধরনের হত্যাযজ্ঞ চালানোর হুমকি দিতে শোনা যায়। এই ঘটনার পর শহরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট মেয়েদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণে আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। ৬-৩ ভোটের রায়ে আদালত বলেছে, এসব আইন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর সমান সুরক্ষা (Equal Protection) ধারার লঙ্ঘন করে না। এ রায়কে ট্রান্সজেন্ডার অধিকার, স্কুল-কলেজ পর্যায়ের ক্রীড়া নীতি এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর ক্ষমতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবার দেওয়া এ রায়ের ফলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি অঙ্গরাজ্যে মেয়েদের ক্রীড়ায় জন্মগতভাবে পুরুষ হিসেবে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে আরোপিত একই ধরনের বিধিনিষেধ আরও শক্ত আইনি ভিত্তি পেল। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত লিখেছেন বিচারপতি ব্রেট কাভানফ। তিনি বলেন, এ ধরনের বিরোধে জড়িত অধিকাংশ জৈবিক নারী ও ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থী কিশোর বা তরুণ। তারা খেলাধুলায় অংশ নিতে চায় এবং সেই আগ্রহ সম্মানের দাবিদার। তিনি আরও বলেন, এই বিতর্কের কোনো পক্ষের শিক্ষার্থীই সামাজিকভাবে একঘরে হওয়া বা বিদ্বেষের শিকার হওয়ার যোগ্য নয়। মামলায় দুই ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেট পৃথকভাবে আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার আইন চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। তাদের দাবি ছিল, এসব আইন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর সমান সুরক্ষা বিধান এবং বৈষম্যবিরোধী আইনের পরিপন্থী। তবে শুনানির সময় আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মেয়েদের ক্রীড়ার সুরক্ষার স্বার্থে অঙ্গরাজ্যগুলোর নীতির পক্ষে অবস্থান নেন। তারা উল্লেখ করেন, ফেডারেল আইনেও ক্রীড়াক্ষেত্রে জৈবিক লিঙ্গভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসের সুযোগ রয়েছে। আইডাহোর মামলায় বোইসি স্টেট ইউনিভার্সিটির ট্র্যাক ও ক্রস-কান্ট্রি অ্যাথলেট হতে আগ্রহী ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থী লিন্ডসে হেকক্স রাজ্যের ‘ফেয়ারনেস ইন উইমেনস স্পোর্টস অ্যাক্ট’-এর বিরুদ্ধে মামলা করেন। তার অভিযোগ ছিল, আইনটি সংবিধানের সমান সুরক্ষা বিধান লঙ্ঘন করছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার মামলায় ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থী বেকি পেপার-জ্যাকসনের পক্ষে তার মা ‘সেভ উইমেনস স্পোর্টস অ্যাক্ট’-এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করেন। মামলায় সংবিধানের পাশাপাশি ১৯৭২ সালের টাইটেল নাইন আইনের ব্যাখ্যাও উঠে আসে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করলেও পরবর্তী সংশোধনের মাধ্যমে ক্রীড়াক্ষেত্রে জৈবিক লিঙ্গভিত্তিক বিভাগ রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই দুই মামলা, ‘লিটল বনাম হেকক্স’ এবং ‘ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া বনাম বি.পি.জে.’, প্রথমবারের মতো মেয়েদের ক্রীড়ায় ট্রান্সজেন্ডার অংশগ্রহণের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ করল। এর আগে গত বছর সুপ্রিম কোর্ট অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ট্রান্সজেন্ডার-সংক্রান্ত অস্ত্রোপচার ও হরমোন চিকিৎসা সীমিত বা নিষিদ্ধ করার অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনও বহাল রেখেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।