যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে টেসলা গাড়ি ২৫০ ফুট গভীর খাদে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক ধর্মেশ প্যাটেলের বিরুদ্ধে আনা হত্যা চেষ্টার সব অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে আদালত। আদালতের নির্দেশে দুই বছরের মানসিক স্বাস্থ্য ডাইভারশন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর এই সিদ্ধান্ত আসে। ৪৫ বছর বয়সী ধর্মেশ প্যাটেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান মাটেও কাউন্টির ডেভিলস স্লাইড এলাকায় হাইওয়ে-১ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের টেসলা গাড়িটি ২৫০ ফুট গভীর খাদে ফেলে দেন। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় গাড়িটি নিচের পাথুরে সৈকতে আছড়ে পড়লেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান তিনি, তার স্ত্রী নেহা প্যাটেল এবং তাদের দুই সন্তান। উদ্ধারকর্মীরা গাড়ি কেটে তাদের বের করেন। তদন্তের শুরুতে প্যাটেলের স্ত্রী তদন্তকারীদের জানান, তার স্বামী ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়িটি খাদে ফেলেছিলেন। অন্যদিকে প্যাটেল প্রথমে দাবি করেন, টায়ারের সমস্যার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। পরে স্যান মাটেও কাউন্টির প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যাচেষ্টার তিনটি অভিযোগ দায়ের করেন। বিচার চলাকালে প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা যুক্তি দেন, ঘটনার সময় ধর্মেশ প্যাটেল গুরুতর বিষণ্নতা ও মানসিক বিভ্রমে ভুগছিলেন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, তিনি বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে অযৌক্তিক ভয়ের মধ্যে ছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে আদালত তাকে ক্যালিফোর্নিয়ার মানসিক স্বাস্থ্য ডাইভারশন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেন। দুই বছর ধরে চিকিৎসা, নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন, ওষুধ গ্রহণ এবং আদালতের নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত সফলভাবে পালন করার পর চলতি মাসে স্যান মাটেও কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্ট তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ খারিজ করে দেয়। আদালত তার পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দেন। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসা স্যান মাটেও কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি স্টিভ ওয়াগস্টাফ বলেন, হত্যা চেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রেও মানসিক স্বাস্থ্য ডাইভারশন কর্মসূচির মাধ্যমে ফৌজদারি অভিযোগ খারিজ হওয়ার সুযোগ থাকা নিয়ে তার আপত্তি রয়েছে। তার মতে, এ ধরনের মামলায় আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। ডেভিলস স্লাইডের এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। একদিকে একটি পরিবারের অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়ার ঘটনা, অন্যদিকে মানসিক অসুস্থতা এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। আদালতের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর সেই বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে।
বিশ্বের অন্যতম বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বিক্রিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই তিন মাসে কোম্পানিটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গ্রাহকদের কাছে প্রায় ৫ লাখ গাড়ি সরবরাহ করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। শক্তিশালী এই ফলাফলকে টেসলার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। কোম্পানির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত টেসলা মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার ১২৬টি গাড়ি গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৮৪ হাজার ১২২টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৯৬ হাজার বেশি গাড়ি সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সময়ে টেসলা উৎপাদন করেছে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৭৫৮টি গাড়ি। বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পে ডেলিভারির সংখ্যাকেই বিক্রয়ের প্রধান সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর এ দিক থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকের ফলাফল বাজারের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, টেসলার বিক্রি বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। ইউরোপে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা পুনরুদ্ধার, চীনের বাজারে ধারাবাহিক বিক্রি বৃদ্ধি, নতুন সংস্করণের মডেল ওয়াইয়ের জনপ্রিয়তা এবং বিভিন্ন দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য সরকারি প্রণোদনা কোম্পানিটির বিক্রি বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু অঞ্চলে জ্বালানির উচ্চ মূল্যও অনেক ক্রেতাকে বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করেছে। চীনের বাজারেও টেসলার ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জুন মাসে সাংহাই কারখানায় তৈরি টেসলার গাড়ির বিক্রি ও রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা কোম্পানির বৈশ্বিক বিক্রিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তবে শক্তিশালী ডেলিভারি প্রতিবেদন প্রকাশের পরও শেয়ারবাজারে টেসলার শেয়ারদরে কিছুটা চাপ দেখা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা আগেই শেয়ারের দামে প্রতিফলিত হয়েছিল। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর কোম্পানির আসন্ন আর্থিক প্রতিবেদন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি, স্বয়ংচালিত সফটওয়্যার এবং রোবোট্যাক্সি প্রকল্পের অগ্রগতির দিকে। আগামী ২২ জুলাই টেসলা তাদের দ্বিতীয় প্রান্তিকের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। তখন কোম্পানির আয়, মুনাফা এবং বছরের বাকি সময়ের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে স্বয়ংক্রিয় বা ‘সেলফ-ড্রাইভিং’ মোডে থাকা একটি আধুনিক টেসলা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আচমকা একটি আবাসিক ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েছে। এই ভয়াবহ ও নজিরবিহীন সড়ক দুর্ঘটনার সময় ঘরের ভেতরে থাকা এক নারী গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে টেক্সাসের কেটি এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। রোববার (২১ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তদন্ত কর্মকর্তাদের বরাতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবিসি নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেক্সাসের কেটি এলাকায় মাইকেল বাটলার নামের এক ব্যক্তি নিজের টেসলা মডেল-৩ গাড়িটি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি চালানোর সময় চালক সেটিকে স্বয়ংক্রিয় অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেমে দিয়ে রেখেছিলেন। পথিমধ্যে গাড়িটি হঠাৎ করেই নিজের সুনির্দিষ্ট লেন ছেড়ে সম্পূর্ণ বাইরে চলে যায় এবং তীব্র গতিতে সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে সোজা রাস্তার পাশে থাকা একটি আবাসিক ভবনে সজোরে আঘাত করে। টেসলা গাড়িটির গতি এত বেশি ছিল যে, সেটি মুহূর্তের মধ্যে ওই বাড়ির শক্ত ইটের দেয়াল ভেঙে সরাসরি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। হ্যারিস কাউন্টির শেরিফ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি অফিশিয়াল বিবৃতিতে এই দুর্ঘটনার রোমাঞ্চকর ও ভয়াবহ বিবরণ দিয়ে জানানো হয়েছে, চালক মাইকেল বাটলার যখন গাড়িটি চালাচ্ছিলেন, তখন টেসলার স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেমটি সচল বা অপারেটিং মোডে ছিল। গাড়িটি অত্যন্ত উচ্চ গতিতে একটি ইটের তৈরি আবাসিক বাড়ির দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং সে সময় ঘরের ভেতরে অবস্থান করা এম. আভিলা নামের এক সাধারণ নারীকে সরাসরি প্রচণ্ড শক্তিতে আঘাত করে। গাড়িটির সরাসরি ধাক্কায় ওই নারী ঘরের ভেতরেই মারাত্মকভাবে পিষ্ট হয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরক এই দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় উদ্ধারকারী দল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় এম. আভিলাকে তাৎক্ষণিকভাবে একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছু সময় পরেই কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘরের ভেতরে থাকা একজন নিরীহ মানুষের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো টেক্সাস অঙ্গরাজ্য জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ এবং গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। টেক্সাসের স্থানীয় তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার সময় টেসলা গাড়ির চালক মাইকেল বাটলার নিজেও বেশ কিছুটা শারীরিক জখম ও আঘাত পেয়েছেন। তবে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরের ভেতর কোনো ধরণের মাদক বা অ্যালকোহলের উপস্থিতি অর্থাৎ মাতাল হওয়ার কোনো লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর থেকেই চালক বাটলার স্থানীয় পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের সব ধরণের তদন্ত কাজে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। টেসলার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শেরিফ কার্যালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির গাড়ি নিয়ে ঘটা এই মারাত্মক দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনে তাদের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি চলমান রয়েছে। তবে শনিবার বিকেল পর্যন্ত এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় চালক মাইকেল বাটলার বা টেসলা কোম্পানির বিরুদ্ধে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টেসলা গাড়ির স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং মোডের নিরাপত্তা এবং এর প্রযুক্তিগত নিখুঁত কার্যকারিতা নিয়ে দেশটিতে নতুন করে বিভিন্ন ধরণের বিতর্ক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
টেক্সাসের ক্যাটি শহরে একটি টেসলা গাড়ি আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে সজোরে ধাক্কা দিলে ঘরের ভেতরে থাকা এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি স্বয়ংক্রিয় চালনা সহায়তা ব্যবস্থার মাধ্যমে চলছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। শনিবার হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৮টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, মাইকেল বাটলার নামের এক ব্যক্তি তার টেসলা মডেল-৩ গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় গাড়িটিতে একটি স্বয়ংক্রিয় চালনা সহায়তা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেরিফের কার্যালয়ের ভাষ্য, গাড়িটি নির্ধারিত লেনে চলতে ব্যর্থ হয় এবং একপর্যায়ে সড়ক ছেড়ে পাশের একটি আবাসিক বাড়ির দিকে চলে যায়। পরে উচ্চগতিতে বাড়িটির দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় বাড়ির ভেতরে অবস্থান করছিলেন এম. আভিলা নামে এক নারী। গাড়ির আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দ্রুত তাকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, একটি গাড়ি দ্রুতগতিতে আবাসিক এলাকার সড়ক দিয়ে ছুটে গিয়ে বাড়িটিতে আঘাত হানে। তবে ভিডিওটির সত্যতা ও দুর্ঘটনার সঙ্গে এর সম্পর্ক তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করছেন কর্মকর্তারা। স্থানীয় প্রশাসনের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, দুর্ঘটনার ফলে বাড়িটির সামনের অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইটের দেয়াল ভেঙে গাড়িটি ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চালক মাইকেল বাটলারও আহত হয়েছেন। তবে তার মধ্যে মাদক বা অ্যালকোহল সেবনের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রে টেসলার স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি দেশটির জাতীয় মহাসড়ক নিরাপত্তা প্রশাসন (এনএইচটিএসএ) টেসলার পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় চালনা ব্যবস্থা নিয়ে পৃথক তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক চালনা সহায়তা প্রযুক্তি সড়ক নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক হলেও এসব ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই প্রযুক্তি সক্রিয় থাকলেও চালকের সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় স্বয়ংক্রিয় চালনা সহায়তা ব্যবস্থা ঠিক কীভাবে কাজ করছিল এবং চালকের ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণকে দায়ী করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে হ্যারিস কাউন্টি কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা লাখ কোটিপতির মর্যাদার কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তাঁর মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের বহুল আলোচিত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) শেয়ারবাজারে আসার পর মাস্কের মোট সম্পদের মূল্য ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন আর্থিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। স্পেসএক্স বৃহস্পতিবার আইপিওর জন্য প্রতি শেয়ারের মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলারের একটি আইপিওর পথ তৈরি হয়েছে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিওগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ব্লুমবার্গ ও ফোর্বসের ধনকুবেরদের তালিকা অনুযায়ী, মাস্ক আগেই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিলেন। তবে স্পেসএক্সের আইপিও তাঁর সম্পদের পরিমাণকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। স্পেসএক্সের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাস্ক কোম্পানিটির প্রায় অর্ধেক শেয়ারের মালিক। এর মধ্যে এমন কিছু শেয়ারও রয়েছে, যা নির্দিষ্ট কর্মদক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে যুক্ত। আইপিও মূল্য অনুযায়ী স্পেসএক্সে তাঁর শেয়ারের মূল্য প্রায় ৮৬৭ বিলিয়ন ডলার। এর সঙ্গে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলায় তাঁর মালিকানাধীন শেয়ারের মূল্য যোগ করলে দুই প্রতিষ্ঠানে মাস্কের মোট অংশীদারত্বের মূল্য ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি দাঁড়ায়। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মাস্কের ট্রিলিয়নিয়ার মর্যাদা নির্ভর করছে তাঁর সম্পদ কীভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে তার ওপর। স্পেসএক্সের কিছু শেয়ার ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে মহাকাশভিত্তিক তথ্যকেন্দ্র স্থাপন এবং মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি গড়ে তোলার মতো উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। এসব শর্তাধীন শেয়ার বাদ দিলে মাস্ক এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রিলিয়নিয়ার নন বলে ধরা হতে পারে। তবে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম আরও সামান্য বাড়লে তিনি কাগজে-কলমে ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, স্পেসএক্স ও টেসলায় মাস্কের শেয়ারের সম্মিলিত মূল্য মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের মোট সম্পদের চেয়েও ১০ গুণের বেশি। বর্তমানে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ বিশ্বের পরবর্তী চার শীর্ষ ধনী ব্যক্তির সম্মিলিত সম্পদের প্রায় সমান। এদের মধ্যে রয়েছেন গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন। আইপিওর আগে প্রকাশিত আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শুরু থেকে স্পেসএক্স প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার লোকসান করেছে। কোম্পানিটির ভাষ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ প্রযুক্তিতে বড় ধরনের বিনিয়োগের কারণে এই লোকসান হয়েছে। মাস্কের পারিশ্রমিক কাঠামোও প্রচলিত করপোরেট ব্যবস্থার তুলনায় ভিন্ন। তিনি সাধারণত বেতন নয়, বরং উচ্চাভিলাষী ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে যুক্ত শেয়ারভিত্তিক পুরস্কার পান। টেসলার ক্ষেত্রেও তাঁর বেশ কিছু পারিশ্রমিক কর্মদক্ষতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর নির্ভরশীল। শুক্রবার থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা স্পেসএক্সের শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবেন। আর যদি কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১৪০ ডলারে পৌঁছে যায়, তাহলে অতিরিক্ত শর্তাধীন শেয়ারগুলো হিসাবের বাইরে রাখলেও মাস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।
পেছনের ক্যামেরায় ত্রুটিজনিত সমস্যার কারণে প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৬৮টি গাড়ি বাজার থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার (রিকল) ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (NHTSA) বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ত্রুটির ফলে রিভার্স গিয়ারে থাকাকালীন ক্যামেরার ছবি দেরিতে আসতে পারে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। টেসলার এই রিকল তালিকায় রয়েছে ২০১৭ এবং ২০২১-২০২৩ সালের মডেল ৩, ২০২০-২০২৩ সালের মডেল ওয়াই এবং ২০২১-২০২৩ সালের মডেল এস ও মডেল এক্স সিরিজের নির্দিষ্ট কিছু গাড়ি। এসব গাড়িতে ‘২০২৬.৮.৬’ সফটওয়্যার সংস্করণ ব্যবহার করা হচ্ছে। এনএইচটিএসএ জানিয়েছে, রিয়ারভিউ ক্যামেরার ছবি সময়মতো না আসা ফেডারেল নিরাপত্তা মানদণ্ডের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তবে এই ত্রুটি সংশোধনে গাড়ি মালিকদের কোনো ওয়ার্কশপে যেতে হবে না। টেসলা ইতিমধ্যে একটি ‘ওভার-দ্য-এয়ার’ (OTA) সফটওয়্যার আপডেট প্রকাশ করেছে, যা বিনামূল্যে ডাউনলোড ও ইনস্টল করা যাবে। এই আপডেটের মাধ্যমে ক্যামেরার বিলম্বিত ছবি আসার সমস্যাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান হয়ে যাবে। আগামী ৩ জুলাই থেকে টেসলা ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি মালিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিফিকেশন চিঠি পাঠানো শুরু করবে। এর বাইরে কোনো প্রশ্ন থাকলে গ্রাহকদের টেসলার কাস্টমার সার্ভিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, টেসলার পক্ষ থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই পদক্ষেপটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবেই নেওয়া হয়েছে।
ইলেকট্রিক গাড়ির জগতে বিপ্লব ঘটানো ইলন মাস্কের কোম্পানি টেসলা এবার সাধারণ গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নতুন একটি প্রজেক্টে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই নতুন মডেলটি হবে একটি কমপ্যাক্ট এসইউভি (SUV), যা বর্তমানে বাজারে থাকা টেসলার জনপ্রিয় মডেল ‘মডেল ওয়াই’ (Model Y) এর চেয়ে আকারে ছোট হবে। ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটির দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৪.২৮ মিটার। দীর্ঘদিন ধরে সাশ্রয়ী মূল্যের গাড়ির জন্য টেসলা ভক্তরা অপেক্ষায় থাকলেও মাঝে রোবোট্যাক্সি এবং হিউম্যানয়েড রোবট প্রজেক্টের দিকে বেশি নজর দিয়েছিল কোম্পানিটি। তবে সম্প্রতি আবারও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে গাড়ি আনার পরিকল্পনা শুরু করেছে তারা। এই নতুন মডেলটির উৎপাদন মূলত চীনে শুরু হবে, তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের কারখানাতেও এটি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। কম্পোনেন্ট এবং যন্ত্রাংশ নিয়ে ইতিমধ্যেই সরবরাহকারীদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে টেসলা কর্তৃপক্ষ। যদিও এর আগে ২৫ হাজার ডলার মূল্যের একটি সাশ্রয়ী মডেলের প্রজেক্ট স্থগিত করা হয়েছিল, তবে বর্তমান বাজারের প্রতিযোগিতা এবং ইলেকট্রিক গাড়ির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করে টেসলা এই নতুন পথে হাঁটছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।