ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “রাস্তা হতে হবে একদম সিধে। মুই কিন্তু রাডার ফিট করছু। সবদিকে নজর আছে আমার। কে কী করছেন, সব জানি।” সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে রায়পুর ইউনিয়নে নেহা নদী পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি স্পষ্ট করে জানান, দলের ভেতরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর ক্ষমতায় এলেও নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে শীর্ষ নেতৃত্ব কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এদিন বক্তব্যে ফখরুলের কণ্ঠে ছিল কঠোরতা। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সামান্য বিচ্যুতিও বরদাশত করা হবে না। এমন হলে নেতৃত্ব হারানোর পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। একদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ফেরানোর তাগিদ, অন্যদিকে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেন, সামনে কঠিন সময় আসছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম বাড়বে এবং এর সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তেল সংকট নিয়ে মানুষের ক্ষোভের বিষয়টি স্বীকার করলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানান তিনি। পাম্প ভাঙচুর বা অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের উদ্দেশে বলেন, মব বা উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে কঠোরভাবে দমন করা হবে। কোনোভাবেই আইনের বাইরে গিয়ে শক্তি প্রয়োগ করতে দেওয়া হবে না। ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছু মানুষ ধর্মের কথা বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, বেহেশতের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে ভুল পথে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ হলেও ধর্ম নিয়ে ব্যবসা পছন্দ করে না। তিনি বলেন, কাজের মাধ্যমেই মানুষের সেবা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সৎ জীবনযাপন ও হালাল উপার্জনের মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব, রাজনৈতিক স্লোগানে নয়। কৃষকদের সহায়তায় দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, কৃষি ঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ফ্যামিলি কার্ডের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে, যার আওতায় সারা দেশে কয়েক কোটি নারীকে আনা হবে। পাশাপাশি ২০ হাজার খাল খননের মেগা প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করার কথাও জানান তিনি। এদিনের কর্মসূচিতে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা ও পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ঢুকে নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, হরিপুর উপজেলার মেদিনী সাগর বিএম মহাবিদ্যালয়-এ পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। পরীক্ষা চলাকালে উপজেলা বিএনপি সভাপতি জামাল উদ্দিন ২৫–৩০ জন নেতা-কর্মীর সঙ্গে ইউএনও কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানান। অভিযোগ রয়েছে, পরে তারা ইউএনও ও কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল ও কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান। ভিডিওতে দেখা যায়, জামাল উদ্দিন ইউএনওকে অভিযুক্ত করে বলেন, আপনি নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্য শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্টদের নিয়োগ দেবেন, আমরা তা মানব না।” ইউএনও রায়হানুল ইসলাম এই সময় জানান, “এই অফিস চব্বিশ ঘণ্টা খোলা থাকে। অধ্যক্ষ যদি কিছু অবৈধ দেখতে পান, বোর্ডকে জানান। মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও তার লোকজন পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যান। আমি চেষ্টা করেছি কাগজপত্র ফিরিয়ে আনতে।” হরিপুর ইউএনও রায়হানুল ইসলাম বলেন, “উচ্ছৃঙ্খল আচরণের ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জামাল উদ্দিন দাবি করেছেন, ইউএনও নিয়োগ পরীক্ষার সময় পয়সা লেনদেন করেছেন, এবং এ বিষয়টি জানিয়ে তিনি সেখানে যান। তার দাবি, পরে কাগজপত্র অফিসে ফেরত রাখা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (১ মার্চ) সকাল ৯টায় ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় হাসপাতালের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী জানান, হাসপাতালটি ঘুরে দেখে তিনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ পেয়েছেন। তবে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “এখানে একটি মেডিকেল কলেজ করার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে হয়েছে এবং স্থানও নির্ধারণ করা হয়েছে। মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা হলে এ অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা আরও বিস্তৃত ও উন্নত হবে।” তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ চালু হলে বর্তমান ২৫০ শয্যার হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে, যাতে জেলার সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় চাহিদার তালিকা দিতে বলা হয়েছে। সরকারিভাবে সেসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হাসপাতালে একটি অতিরিক্ত লিফট স্থাপনের কথাও জানান তিনি। মন্ত্রী হাসপাতালের সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও যেন জেলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত করা যায়, সে লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে কর্মরতদের বিষয়টিও পর্যালোচনায় রয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমাদের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ হয়েছে। আশা করছি, ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে।”
বর্তমান সরকার গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সে লক্ষ্যেই যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে তৃণমূল পর্যায় থেকেই কাজ শুরু হয়েছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর আগের তুলনায় দেশের পরিস্থিতি অনেক ভালো হয়েছে। পুলিশ হত্যার তদন্ত প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিজ আসনের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওবাসীর অব্যাহত সমর্থনে তিনি সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন এবং এই ভালোবাসার কাছে তিনি ঋণী। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁও–১ (সদর) আসনের আংশিক ফলাফলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এগিয়ে আছেন। এখন পর্যন্ত ঘোষিত ৩৫টি কেন্দ্রের ফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৯ হাজার ১০১ ভোট। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে অর্জন করেছেন ২৫ হাজার ৯৭৬ ভোট। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খাদিমুল ইসলাম পেয়েছেন ৭০৫ ভোট। উল্লেখ্য, এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৮৫টি।
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ আটকের ঘটনায় জেলায় চরম উত্তেজনা ও রাজনৈতিক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের মাত্র এক দিন আগে ঘটা এই ঘটনাকে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ এবং ‘নির্বাচন প্রভাবিত করার অপকৌশল’ হিসেবে অভিহিত করেছে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জোটের প্রার্থী ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মো. দেলাওয়ার হোসেন প্রশাসনের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এটি একটি সাজানো নাটক যা কেবল জামায়াতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্যই করা হয়েছে। দেলাওয়ার হোসেন সংবাদ সম্মেলনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে বলেন, “ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ২২ কোটি টাকার ঋণ মওকুফ নিয়ে কোনো তদন্ত নেই, বিভিন্ন জায়গায় অন্য দলের প্রার্থীরা টাকা বিলিয়ে ধরা পড়লেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অথচ একজন প্রবীণ নেতা যখন তাঁর বৈধ ব্যবসায়িক অর্থ নিয়ে ফিরছিলেন, তখন সেটিকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন— কেন তাকে ঢাকা বিমানবন্দরে আটক করা হলো না? সৈয়দপুরে এসে এই ‘আটক নাটক’ প্রমাণ করে এটি একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। এদিকে বেলাল উদ্দিন প্রধানের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃত টাকা মূলত পোশাক শিল্পের বকেয়া আদায় এবং নতুন অর্ডারের অগ্রিম হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছিল। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে গার্মেন্টস ও বুটিক ব্যবসার লেনদেনের জন্যই তিনি ঢাকা গিয়েছিলেন। পরিবার দাবি করেছে, এর আগেও তিনি একইভাবে বড় অঙ্কের টাকা ব্যবসার প্রয়োজনে বহন করেছেন, কিন্তু কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এবার তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নাজেহাল করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “একটি কুচক্রী মহল সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। ব্যবসায়িক লেনদেনকে অপরাধ হিসেবে চালিয়ে দিয়ে সংগঠনের জয়যাত্রা থামানো যাবে না।” উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের সভাপতি সায়েদ আহাম্মদ সাইফি, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক রফিকুল আলম, সদস্য সচিব খলিলুর রহমানসহ জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। নির্বাচনের চূড়ান্ত লগ্নে উত্তরাঞ্চলের এই হেভিওয়েট নেতার আটক হওয়ার ঘটনা এখন টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। সাধারণ ভোটারদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— এটি কি আসলেও আইনি প্রক্রিয়া নাকি পর্দার আড়ালের কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ?
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এক চাঞ্চল্যকর অভিযানে ৭৪ লাখ নগদ টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের সিসিইউ-তে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বেলাল উদ্দিন বর্তমানে হৃদরোগ বিভাগের সিসিইউ-১-এ চিকিৎসাধীন। তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ডা. আজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি হার্ট অ্যাটাক করেছেন। উচ্চ রক্তচাপের কারণে তাঁর হার্টবিট অস্বাভাবিক রয়েছে এবং বর্তমানে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষাপট: বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান বেলাল উদ্দিন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা জামায়াতের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মান্নান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তল্লাশি চালিয়ে তাঁদের ব্যাগ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা জব্দ করে। সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল আলম রেজা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে বেলাল উদ্দিন প্রথমে ৫০ লাখ টাকার কথা বললেও গণনা শেষে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া যায়। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিবাদ: এই ঘটনাকে সুপরিকল্পিত ‘প্রহসন’ ও ‘মানসিক নির্যাতন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, বেলাল উদ্দিন একজন ব্যবসায়ী এবং কাস্টমসের নিয়ম মেনেই টাকা বহন করছিলেন। রংপুর মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি কেএম আনোয়ারুল হক কাজল দাবি করেন, ষাটোর্ধ্ব এই প্রবীণ নেতাকে আটকের পর যে ধরনের ব্যবহার ও মানসিক চাপ দেওয়া হয়েছে, তাতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে আটক নেতার দাবিগুলো (গার্মেন্টস ব্যবসা সংক্রান্ত) বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। নির্বাচনের মাত্র এক দিন আগে এমন বিপুল অর্থ উদ্ধারের ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিনকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্তা এবং নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এস কে জাহিদুল ইসলামের মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনার মাধ্যমে একটি পরিকল্পিত ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বা নাটক সাজানো হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, বেলাল উদ্দিন মূলত তাঁর ব্যবসায়িক কাজের জন্য নগদ অর্থ নিয়ে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। ঢাকা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং কাস্টমস বিভাগ যথাযথ তল্লাশি শেষে তাঁকে এই অর্থ বহনের অনাপত্তি ও ছাড়পত্র প্রদান করে। কিন্তু সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই তাঁকে হেনস্তা করা হয়। বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার এস কে জাহিদুল ইসলাম ওই জামায়াত নেতাকে অমানবিক নির্যাতন করেছেন, যার ফলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বর্তমানে তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হচ্ছে। জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, এসপি জাহিদুল ইসলাম সাবেক ডিবি প্রধান ও বর্তমানে ভারতে পলাতক মনিরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন এবং তিনি অতীতেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজানোর মতো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জামায়াত জানায়, একটি বিশেষ মহল এই ঘটনাকে ‘নির্বাচনী টাকা’ হিসেবে প্রচার করে মিডিয়া ফ্রেমিং করার চেষ্টা করছে। তারা সাংবাদিকদের এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের এবং কোনো প্রকার মিথ্যা প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে নির্বাচনি এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। জামায়াতে ইসলামী অবিলম্বে এসপি জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার এবং তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাসহ আটকের ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ বলে দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা আমির একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং বিমানবন্দরের মতো নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থানে এমন ঘটনা ‘সাজানো’ সম্ভব নয়—এ দাবি অযৌক্তিক। তাঁর অভিযোগ, দলকে বিতর্কিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এহসানুল মাহবুব আরও অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে, যাতে ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারেন। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট নেতার নির্বাচনি এলাকায় বুথ ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে এবং সারা দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে এজেন্টদের সরিয়ে দেওয়া ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটছে। প্রশাসনের একটি অংশ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর আগে বুধবার দুপুরে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বেলাল উদ্দিনকে আটক করে। তাঁর কাছ থেকে অন্তত ৫০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। পুলিশ সূত্র জানায়, তিনি ঢাকা থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুরে পৌঁছান। বিমানবন্দর ত্যাগের সময় তাঁর চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ তাঁকে থামায়। পরে তল্লাশিতে তাঁর বহন করা ব্যাগে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই ব্যাগে ৫০ লাখ টাকা থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার হওয়া অর্থ সবার উপস্থিতিতে গণনা করা হবে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথমে সৈয়দপুর থানায় নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে সেনা হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। আটক বেলাল উদ্দিন প্রধান ঠাকুরগাঁও শহরের পূর্ব হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে।
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে আটক করা হয়েছে। আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাকে হেফাজতে নেন। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই বিপুল অর্থ উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর পৌঁছান বেলাল উদ্দিন প্রধান। নিয়মিত তল্লাশির সময় তার বহনকৃত হ্যান্ড ব্যাগ থেকে প্রায় ৬০ লাখ বাংলাদেশি টাকা পাওয়া যায়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে এত বিশাল অঙ্কের নগদ অর্থ বহন করাকে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিক আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে, এই আটকের ঘটনা ও অর্থ ব্যবহারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রচারিত তথ্যকে সরাসরি ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তার কাছে থাকা অর্থ কোনোভাবেই নির্বাচনী কাজে ব্যবহারের জন্য ছিল না। তিনি মূলত একজন ব্যবসায়ী এবং এটি ছিল তার ব্যবসায়িক লেনদেনের টাকা। নির্বাচনের মাত্র এক দিন আগে বড় অঙ্কের অর্থ উদ্ধারের এই ঘটনাটি স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। বর্তমানে আটককৃত নেতা ও উদ্ধারকৃত টাকার উৎস সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অধিকতর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ধর্মের নামে একটি রাজনৈতিক দল সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চরম অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জামালপুর ইউনিয়নের ভগদগাজি বাজারে আয়োজিত এক নির্বাচনি পথসভায় তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রচারণার কঠোর সমালোচনা করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, "দেশের প্রখ্যাত আলেমরাও এখন জামায়াতে ইসলামীর অপপ্রচারকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আপনারা জানেন, বাবুনগরী সাহেব পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন যে জামায়াতকে ভোট দেওয়া নাজায়েজ। এমনকি চরমোনাইয়ের পীর সাহেবও এই দলটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী দল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।" নির্বাচনি প্রচারণায় ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহারের নিন্দা জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যাওয়া যাবে—নাউজুবিল্লাহ! একটা নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিলে কি কেউ বেহেশতে যেতে পারে? এমন দলকে ভোট দিয়ে আমরা আমাদের ঈমান নষ্ট করতে পারি না।" তিনি ভোটারদের বিশেষ করে মা-বোনদের কোনো ধরনের ধর্মীয় বিভ্রান্তিতে না পড়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান। বক্তব্যে তিনি আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই নির্বাচন দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়নের লড়াই। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তারেক রহমানকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। পথসভায় স্থানীয় বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি মহাসচিবের এমন আক্রমণাত্মক বক্তব্য পুরো জেলায় রাজনৈতিক আলোচনার নতুন মোড় দিয়েছে।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে এবং এনজিও থেকে নেওয়া নারীদের কিস্তির ঋণের দায়িত্ব সরকার নেবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নে নির্বাচনি পথসভায় তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষকদের কৃষি ঋণ সুদসহ মাফ করে দেওয়া হবে। আর নারীদের জন্য ভালো খবর—আপনারা এনজিও থেকে কিস্তিতে ঋণ নেন না? তারেক রহমান বলছেন, ওই ঋণ সরকার নিয়ে নেবে। আমরা যখন সরকারে ছিলাম, তখন ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মাফ করেছিলাম এবং ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করেছিলাম। এবারের নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে এবার ভালো নির্বাচন হবে। সবাই ভোট দিতে পারবে। ভালো মানুষ ও ভালো দলকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার সুযোগ আছে। আপনারা সবাই ভোট দিতে চান। তিনি বলেন, আমাদের দরকার এমন সরকার যার অভিজ্ঞতা আছে এবং আমানতের খেয়ানত করে না। প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এবার আওয়ামী লীগ নেই, নৌকা মার্কা নেই—এবার দাঁড়িপাল্লা। দাঁড়িপাল্লা অনেক আগে থেকে রাজনীতি করে আসছে, কিন্তু প্রশ্ন অন্য জায়গায়। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি। এক কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। আমার ঠাকুরগাঁওয়ের বাড়িতে বিদ্যুতের তারসহ সবকিছু পাকিস্তানিরা খুলে নিয়ে গিয়েছিল। বহু মানুষ হত্যা করা হয়েছে, মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি হয়েছে। যারা বাংলাদেশকে মানতে চায়নি, শুধু বাংলাদেশ নয়—পাকিস্তান ও চায়নি—তাদের কী করে ভোট দেব? মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। এ দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে বিভাজনের রাজনীতি বড় বাধা। যারা ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করে, তারা এলে দেশের স্বার্থের বিরোধী বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি যখন মন্ত্রী ছিলাম, তখন কারো কাছ থেকে এক কাপ চাও গ্রহণ করিনি। সভায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।