ডাকসু

সাদিক কায়েম
একটি দলের মতো দেশকে দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করবে না জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দেশ থেকে সকল প্রকার চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নির্মূল করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। গত রবিবার রাতে ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকার শ্যামপুরে আয়োজিত এক নির্বাচনি পথসভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।   ডাকসু ভিপি বলেন, "জামায়াতে ইসলামীতে দুর্নীতির কোনো স্থান নেই। অতীতের কোনো সরকার দেশকে দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বানালেও, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশ হবে সমৃদ্ধ, উন্নত এবং একটি মানবিক বাংলাদেশ। এখানে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের কোনো ঠাঁই হবে না।"   দেশবাসীকে ধোঁকায় না পড়ে বিবেক দিয়ে বিচার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "আমাদের আমির ডা. শফিকুর রহমানের অতীত কার্যক্রম দেখুন। বন্যা, ভূমিকম্প কিংবা করোনাকালীন দুর্যোগ—মানুষের প্রতিটি বিপদে তিনি সবার আগে ছুটে গেছেন। এমন ইনসাফ কায়েমকারী নেতৃত্বের হাতে দেশ থাকলে বাংলাদেশ আর কখনো পথ হারাবে না।"   পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ওই এলাকার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "ঢাকা-৪ এলাকায় গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা এবং উন্নত চিকিৎসার অভাব প্রকট। এখানে কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই, যার ফলে সাধারণ মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সৎ ও দক্ষ নেতৃত্বের অভাবেই আজ এই জনপদ অবহেলিত।"   সৈয়দ জয়নুল আবেদীন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট দিয়ে একটি আধুনিক ও উন্নত ঢাকা-৪ গড়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। ঢাকা-৪ আসন কমিটির পরিচালক আব্দুর রহিম জীবনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
সর্বমিত্র চাকমা । ফাইল ছবি
নারী নেত্রীদের ‘ঝাড়ু মিছিল’ নিয়ে সর্বমিত্রের প্রতিক্রিয়া

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের একটি এক্স পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্ট ঘিরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও বামপন্থি সংগঠনগুলো প্রতিবাদ মিছিলে নারীদের হাতে ঝাড়ু থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। তার প্রশ্ন, ঝাড়ু শুধু নারী নেত্রীর হাতে কেন, পুরুষের হাতে কেন নয়? রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজ আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।   রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিজ আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন তিনি।   ফেসবুক পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, ছাত্রদল এবং বামদের নারী নেত্রীরা আজ ঝাড়ু মিছিল করেছেন। কর্মজীবী নারীদের নিয়ে বাজে মন্তব্য অপ্রতিরোধ্য নারী জাতির প্রতি সরাসরি অসম্মান। নারী তার অধিকার নিয়ে বাঁচবে, লড়াই করবে। নারী কারো দাস হয়ে বাঁচবে না।   ডাকসুর এ নেতা আরও বলেন, গৃহস্থালির কাজ শুধু নারীর একার নয়, হাতে ঝাড়ু ধরা শুধু নারীর দায়িত্ব নয়। ঝাড়ু কেন স্রেফ নারী নেত্রীর হাতে থাকবে, পুরুষ নেতার হাতে নয় কেন নয়? যুগের পর যুগ চলে আসছে নারীর প্রতি এ বৈষম্য! নারীকে দাসে রূপান্তরিত করার এ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বামেদের থেকে এটলিস্ট আমি এটা আশা করিনি।   এ ছাড়াও নিজের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে তিনি বলেন, দেখেন আমি সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র , আমি সমাজ পর্যবেক্ষণ করে আমার কথা বলি। আমার কথা পলিটিকালি না নেওয়ার অনুরোধ করছি।   ডাকসু সদস্য সর্বমিত্রের এ পোস্টে ১ ঘণ্টায় এক হাজারেরও বেশি ইতবাচক ও নেতিবাচক মন্তব্য জমা পড়ে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ 0
সাদিক কায়েম
শহীদদের রক্তের সম্মান দিতে হলে আপনাকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কথা বলতে হবে: সাদিক কায়েম

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়তে কুমিল্লায় গর্জে উঠলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। শুক্রবার রাতে কুমিল্লার ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠে ১১ দলীয় জোটের এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।   সাদিক কায়েম সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন, “শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজ আপনি স্বাধীনভাবে কাজ করছেন, কথা বলছেন। অথচ তাদের সেই রক্তের সম্মান দিতে এবং চব্বিশের আন্দোলনকে বাঁচিয়ে রাখতে আপনি কেন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলছেন না? আমরা কি তবে ধরে নেব আপনি হাসিনার সেই ফ্যাসিবাদী কাঠামোকেই ভেতরে ভেতরে লালন করছেন?”   বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জুলাই পরবর্তী দীর্ঘ দেড় বছর পর দেশে ফিরে আপনি ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলছেন, অথচ আপনার দলের নেতাকর্মীরাই আজ আমাদের মা-বোনেদের ওপর হামলা করছে, তাঁদের বিবস্ত্র করার হুমকি দিচ্ছে। আমরা আপনার দেওয়া ওই ভুয়া ফ্যামিলি কার্ড চাই না, আমরা প্রতিটি পরিবারের সদস্য বা ‘ফ্যামিলি মেম্বার’ হতে চাই।”   এ সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, “আমাদের আমিরে জামায়াত, আগামীর রাষ্ট্রপ্রধান গত ১৭ বছরে দেখিয়েছেন কীভাবে ১৮ কোটি মানুষের ফ্যামিলি মেম্বার হতে হয়। তিনি মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন, কোনো কার্ডের প্রলোভন দেখাননি।”   ভিপি সাদিক কায়েম হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা গণভোটে ‘না’ ভোটের দালালি করছে বা নীরব থেকে ফ্যাসিবাদের দোসরদের সুযোগ করে দিচ্ছে, তাদের জুলাই প্রজন্ম কোনোভাবেই ক্ষমা করবে না। তিনি চব্বিশের বিপ্লবকে চূড়ান্ত রূপ দিতে এবং রাষ্ট্র সংস্কার নিশ্চিত করতে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর জন্য সিলেটবাসীর মতো কুমিল্লাবাসীকেও উদাত্ত আহ্বান জানান।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাদিক কায়েমের এই সরাসরি আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে এই অনড় দাবি আগামী নির্বাচনের আগে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
হাসিনার মতোই লাত্থি দিয়ে বিদায় করা হবে: ‘না’ ভোটের সমর্থকদের সিলেটে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের হুঁশিয়ারি

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে জনমত গড়তে এবার সিলেটে গর্জে উঠলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক বিশাল গণজমায়েতে তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন।   সাদিক কায়েম সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “আপনারা কি সেই হাসিনা হতে চান? তাহলে স্পষ্ট করে বলে দিন। মনে রাখবেন, হাসিনাকে যেভাবে বিদায় করেছি, যেভাবে লাত্থি দিয়ে ভারতে পাঠাই দিছি, ঠিক সেভাবেই আমরা আপনাদের সঙ্গেও ডিল করব।” তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল পর্দার আড়ালে থেকে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা মূলত স্বাধীন বাংলাদেশে আবার দিল্লির আধিপত্য ফিরিয়ে আনার একটি গভীর চক্রান্ত।   বক্তব্যে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, “‘না’ মানে হচ্ছে ভারতের দালালি করা, দিল্লির পদলেহন করা এবং আবার স্বাধীন বাংলাদেশে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো বিভীষিকার বন্দোবস্ত করা। এই ‘না’ ভোট মানেই হলো বিচারিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আবারও জাতীয় নেতাদের শহীদ করার সুপরিকল্পিত নীল নকশা।”   এসময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভূমিকার সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, “আমাদের সম্মানিত তারেক রহমান বিভিন্ন জায়গায় বক্তৃতা দিচ্ছেন। কিন্তু লক্ষ্য করছি, সেই মঞ্চগুলো থেকে একবারের জন্যও ‘হ্যাঁ’-এর সপক্ষে কোনো স্লোগান বা বক্তব্য আসছে না। আমরা কি তবে ধরে নেব আপনি ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন? মনে রাখবেন, ‘না’ মানেই হলো হাসিনা, ‘না’ মানেই মোদি এবং ‘না’ মানে হাসিনার সেই ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে রাষ্ট্রের ভেতরে জিয়ে রাখা।”   জুলাই প্রজন্মের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিয়ে তিনি বলেন, “চব্বিশের বীর শহীদদের রক্ত এখনো শুকায়নি। জুলাই প্রজন্ম বেঁচে থাকতে ফ্যাসিবাদি রাজনীতি ও ‘না’-এর পক্ষে দালালি করা কাউকে এদেশের মাটিতে কোনো জায়গা দেওয়া হবে না।” সবশেষে তিনি সিলেটের প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে গণজোয়ার তৈরির আহ্বান জানান।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ভিপি সাদিক কায়েম ও রায়হান উদ্দীন
জগন্নাথ হলে সরস্বতী পূজার অনুষ্ঠানে ডাকসু ভিপিকে নিয়ে ব্যঙ্গ: রায়হান উদ্দীনের তীব্র নিন্দা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে সরস্বতী পূজার অনুষ্ঠানে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমকে লক্ষ্য করে ব্যঙ্গাত্মক গান বাজানোর ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতারা। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতের এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দীন।   শনিবার (২৪ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক বিবৃতিতে রায়হান উদ্দীন এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে লেখেন, “জগন্নাথ হলের মাঠে সরস্বতী পূজার পবিত্র অনুষ্ঠানে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমকে ব্যঙ্গ করে রচিত গান বাজিয়ে নাচানাচি করা হয়েছে। একটি ধর্মীয় উৎসবে এমন গানের প্রাসঙ্গিকতা কী, তা আমার বোধগম্য নয়।”   তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সুস্থ ধারার রাজনৈতিক সমালোচনা বা ব্যঙ্গ করার অধিকার সবার থাকলেও ধর্মীয় মঞ্চকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ঘৃণা ছড়ানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় যখন নতুন স্বপ্নের দিকে এগোচ্ছে, তখন জগন্নাথ হলে এই ধরণের নিম্নরুচির প্রবণতা শুরু হওয়াকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করেন তিনি।   এই ঘটনার পেছনে কোনো বিশেষ মহলের উসকানি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জোর দাবি তুলেছেন রায়হান উদ্দীন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, জগন্নাথ হল প্রশাসন এবং পূজা কমিটি এই ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দিচ্ছে কি না, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।   বিস্ময়কর বিষয় হলো, ভিপি সাদিক কায়েমের ব্যক্তিগত ও বিশেষ উদ্যোগেই এ বছর ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি হলের প্রত্যেকটির জন্য ১ লক্ষ টাকা করে বিশেষ অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই অনুদান ব্যবহার করে বর্ণাঢ্য আয়োজনের সুযোগ পাওয়ার পরও খোদ আয়োজকদের একাংশের এমন আচরণ বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে এক ধরণের বিভেদ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, এ ধরণের ঘটনা ক্যাম্পাসের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সৌহার্দ্যকে বিনষ্ট করতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

যুক্তরাষ্ট্রে ধেয়ে আসছে বিশাল বরফ ও তুষার ঝড় — সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত থেকে কম বিপদগ্রস্ত রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।   CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।   সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।

নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়ল

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি।   এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে।   প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল।   অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।   সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী, সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানিরা

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার :  এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।   প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল

Top week

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র
আমেরিকা

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0