সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর কেন্দ্রীয় সংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার দুই নেতাকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে। অব্যাহতি পাওয়া দুজন হলেন—ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী তানভীর বারী হামিম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের ভাই মাহদীজ্জামান জ্যোতি। মঙ্গলবার সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের পাঠানো পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অধীন কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিমকে সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্য বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাহদীজ্জামান জ্যোতিকেও একই কারণে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শেখ তানভীর বারী হামিমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয় ছাত্রদল। পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখিত জবাব না দেওয়ার কথা জানান। তাঁর দাবি, বড় কোনো অপরাধ না থাকা সত্ত্বেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকজপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল ও কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার আয়োজন করাকে কেন্দ্র করেই শোকজ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা যদি মনে করেন তিনি ভুল করেছেন, তবে তা মেনে নেওয়ার কথাও জানান তিনি। অন্যদিকে মাহদীজ্জামান জ্যোতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়। বহিষ্কারের নোটিশের পর হামিম ফেসবুকে লিখেছেন, তিনি দলের একজন কর্মী হিসেবে গর্বিত। প্রসঙ্গত, ডাকসু নির্বাচনের পর থেকেই সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ ও নবীন নেতাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরির আলোচনা রয়েছে। ডাকসুতে ছাত্রদলের প্যানেলে ভিপি পদে নির্বাচন করা আবিদুল ইসলাম খান ও তানভীর বারী হামিমকে ঘিরে সাংগঠনিক চেইন অব কমান্ড নিয়ে ভেতরে ভেতরে মতপার্থক্যের কথাও শোনা যাচ্ছে।
ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei–এর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে University of Dhaka–এ। রোববার (১ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম। জানাজা শেষে ডাকসুর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ভিসি চত্বর থেকে শুরু হয়ে হলপাড়া ঘুরে টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে আবু সাদিক কায়েম বলেন, মুসলিম বিশ্বে বিভাজনই আজকের সংকটের মূল কারণ। তিনি বাংলাদেশ থেকে মুসলিম বিশ্বের যুবসমাজ ও রাষ্ট্রপ্রধানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। বক্তারা ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, রাখাইন ও ইরানের প্রসঙ্গ তুলে বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ করেন। তাঁরা পশ্চিমা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং ইরানের ইসলামী বিপ্লবকে একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। ডাকসুর নেতারা আরও বলেন, একটি দেশের সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক নীতির পরিপন্থী।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হত্যাযজ্ঞের মামলায় অভিযুক্ত কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি এবং নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন পাওয়ার ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এই বিচারিক প্রক্রিয়া ও দেশের বর্তমান প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। সাদিক কায়েম তার পোস্টে অভিযোগ করেন, একদিকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের জামিন দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের কার্যালয়গুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় যোদ্ধাদের বিরুদ্ধেই সুক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বা 'নীল নকশা' চলছে। তিনি একে ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করে সতর্ক করে বলেন, এই আত্মঘাতী পদক্ষেপের পরিণতি থেকে কেউই রেহাই পাবে না। বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক রদবদলের পর বিশেষ মহলের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানকে অন্যায্য সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। এটি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল। এভাবে চলতে থাকলে জাতি আবারও দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আলোচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী (স্বতন্ত্র) শামীম হোসেন বেসরকারি নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড লিটারেচার বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেছেন। মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শামীম হোসেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কথা রেখেছি, শিক্ষকই হয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ।’ শামীম হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে তিনি সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। নির্বাচনে তিনি ৩ হাজার ৮৮৪ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। তবে ভোটের প্রচার-প্রচারণায় ব্যতিক্রমী বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতির কারণে সে সময় তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন চলছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর বর্তমান শীর্ষ দুই নেতা ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদ এবার সরাসরি মেয়রের লড়াইয়ে নামতে পারেন। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং ছাত্রশিবিরের একজন শীর্ষ নেতার বক্তব্যে এই সম্ভাবনার বিষয়টি জোরালো হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানিয়েছেন, "সাদিক কায়েম এবং এস এম ফরহাদকে নিয়ে ইতোমধ্যেই দলের ভেতর ও জোটের পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সব ঠিক থাকলে সাদিক কায়েম ঢাকা উত্তর এবং এস এম ফরহাদ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে লড়তে পারেন।" যদিও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে এই দুই তরুণ ছাত্রনেতার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি রাজধানীর রাজনীতিতে নতুন এক উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন ঘিরে আরও কিছু হেভিওয়েট ও আলোচিত নাম সামনে আসছে। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর নাম আলোচনায় থাকলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা তিনি সংসদের উচ্চকক্ষে (সিনেট) মনোনিবেশ করার সম্ভাবনাই বেশি। অন্যদিকে, সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে সরকার গঠনের পর দলটি ঢাকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে শক্তিশালী প্রার্থী দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে তরুণ নেতৃত্বের প্রতি সাধারণ মানুষের যে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন এই সিটি নির্বাচনে ঘটবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর দেশব্যাপী শুরু হওয়া রাজনৈতিক সহিংসতার কঠোর সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ। শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বিএনপিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদী কায়দায় দমনের চেষ্টা করা হলে ছাত্র-জনতা তা মেনে নেবে না। এস এম ফরহাদ তাঁর পোস্টে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ যেভাবে ফ্যাসিবাদের পথ বেছে নিয়েছিল, বর্তমান বিএনপির আচরণেও সেই একই ছায়া দেখা যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬-এর এই নির্বাচনে ৫৪ শতাংশ ভোট এবং ২০৯টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপি এখনই ভিন্নমতের ওপর চড়াও হতে শুরু করেছে। ডাকসু জিএস অভিযোগ করেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে দেশের শতাধিক স্থানে ভিন্নমতের ভোটারদের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। এতে অসংখ্য মানুষ গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি একজনকে হত্যার খবরও পাওয়া গেছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডগুলো আড়াল করতে সুপরিকল্পিতভাবে সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিএনপিকে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে ফরহাদ বলেন, “আওয়ামী লীগ ১৫ বছর সময় নিয়েছিল ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে, আপনারা কি তার চেয়েও কম সময় নেবেন? স্বাগতম এই পথে!” তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, জুলাই বিপ্লবের উত্তরসূরিরা আবারও জীবন দিতে প্রস্তুত। “এবার আবু সাঈদরাও প্রস্তুত আছে। জীবন দেবে, কিন্তু পুরনো ফ্যাসিবাদের কোনো নতুন রূপ এই জমিনে মেনে নেওয়া হবে না ইনশাআল্লাহ,” বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। নির্বাচন পরবর্তী এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ডাকসু জিএসের এমন কড়া অবস্থান দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণ ছাত্র-জনতার মাঝে আবারও প্রতিরোধের মানসিকতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর ভিপি সাদিক কায়েম। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটছে। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতাকর্মীরা এসব হামলার সঙ্গে জড়িত এবং বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি লিখেছেন, “আমরা আশা করি প্রত্যেক নির্বাচিত প্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ দায়িত্বশীল আচরণ করবেন এবং তাঁদের নির্বাচনী এলাকাসহ সর্বত্র সংঘাতের রাজনীতি বন্ধ করে ভিন্নমতের সবার জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবেন।” প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডাকসু ভিপি। তিনি অভিযোগ করেন, হামলা বন্ধে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। পরিস্থিতির অবনতি হলে ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২১২টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), ৭৭টিতে জয়ী হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৮টিতে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সংঘাত এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদের হুমকির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। আবু সাদিক কায়েম তাঁর পোস্টে দাবি করেন, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা নৃশংস হামলা পরিচালনা করছে। এর পাশাপাশি দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভিন্নমতের অনুসারী শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হওয়া এবং তাঁদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। তিনি নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও জয়ী রাজনৈতিক দলের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আমরা আশা করি, নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ তাঁদের নির্বাচনী ক্ষেত্রসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে সংঘাতের রাজনীতি বন্ধ করবেন। ভিন্নমতের সবার জন্য একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন তাঁদের প্রধান দায়িত্ব।" হামলা বন্ধে প্রশাসনের নির্লিপ্ততার কড়া সমালোচনা করে ভিপি সাদিক আরও বলেন, "একের পর এক হামলা চলতে থাকা এবং সাধারণ নাগরিকদের রক্ত ঝরানোর ঘটনাপ্রবাহে প্রশাসন কেন নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এভাবে যদি অরাজকতা চলতে থাকে, তবে আমরা সাধারণ ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলব।" বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, "জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে কোনোভাবেই সন্ত্রাসবাদ ও মাফিয়াতন্ত্র কায়েম হতে দেওয়া হবে না ইনশাআল্লাহ।" নির্বাচনের পর উদ্ভূত এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন করে সাহস সঞ্চার করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ ও শিক্ষা অঙ্গনের অস্থিরতা নিয়ে এক নিবিড় বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রখ্যাত অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন। তাঁর মতে, গত কিছুদিন ধরে দেশে একটি বিশেষ রাজনৈতিক হাইপ তৈরির চেষ্টা চলেছিল, যার নেপথ্যে ছিল সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। ড. কামরুল হাসান মামুন দাবি করেন, দেশজুড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট মতাদর্শের উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগের মূল উদ্দেশ্যই ছিল ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে একটি বিশেষ ছাত্র সংগঠনকে বিজয়ী করা। তিনি বলেন, “অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতের ভিসি নিয়োগ দিয়ে ডাকসুসহ দেশের ছাত্র সংসদগুলোতে বিজয়ী করে একটি রাজনৈতিক হাইপ তৈরির চেষ্টা আমরা দেখেছি। এতে জনমনে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে দেশ কি আফগানিস্তানের পথে যাচ্ছে কি না কিংবা দেশ মব (Mob) সংস্কৃতিতে ঢুকে পড়বে কি না।” প্রশাসনের উচ্চপদে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পুনরায় নিয়োগদানকেও তিনি এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছেন। এছাড়াও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ‘বট বাহিনী’ বা কৃত্রিম প্রচারকদের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষায়, “এই বট বাহিনীরা মূলত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, যারা মুক্তমত প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করেছিল। শিল্প-সংস্কৃতি, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ওপর বড় ধরনের আঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এমনকি ক্যাম্পাসে নারীদের পোশাক ও চলাফেরার ওপর একটি অদৃশ্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। দেশের সাধারণ মানুষ তাদের রায়ের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে আপাত রক্ষা করেছে।” নির্বাচন প্রসঙ্গে অধ্যাপক মামুন বিএনপির ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “এই নির্বাচনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হলো বিএনপির মুক্তিযুদ্ধের দিকে ঝুঁকে পড়া। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার পর থেকে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের ওপর আস্থা রাখা এর একটি বড় প্রমাণ।” তবে বিশাল এই বিজয়ে দলটিকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, “ভূমিধস বিজয় বাংলাদেশে এই প্রথম নয়। এর আগেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এমন জয় পেয়েছে। তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আকাশে না উড়ে মাটির কাছাকাছি থাকা। দেশকে মাথায় রেখে কাজ করলেই কেবল দেশের এবং দলের মঙ্গল হবে। দেশ এক বিশাল ক্রান্তিকাল থেকে রক্ষা পেলেও আগামীর পথ চলায় সামান্য ভুল বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।”
ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর সংঘটিত নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম। অন্যথায় সারা দেশে ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আবারও সর্বাত্মক আন্দোলনের মাধ্যমে রাজপথ দখলের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে ঝালকাঠিতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে আয়োজিত এক নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সাদিক কায়েম বলেন, "শহীদ উসমান হাদি হত্যার প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো মূল হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনা হয়নি। আজ যমুনার সামনে ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ মানুষের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় শহীদ আবু সাইদ ও শহীদ ওয়াসিমের উত্তরসূরীরা আবারও রাজপথে নেমে আসবে এবং ছাত্র-জনতার শক্তিতে রাজপথ প্রকম্পিত হবে।" তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবিপ্লবী ও আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। ভারতীয় তাবেদাররা আবারও চক্রান্তের জাল বুনছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "দিল্লির তাবেদার ও ভারতীয় আগ্রাসনের পক্ষে যারা দাঁড়িয়ে আছে, এবার তাদের রুখে দেওয়ার সময় এসেছে। দেশের ছাত্র-জনতাকে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।" বক্তব্য শেষে তিনি ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার নির্দেশদাতা ও সরাসরি জড়িতদের দ্রুততম সময়ে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দেশ থেকে সকল প্রকার চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নির্মূল করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। গত রবিবার রাতে ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকার শ্যামপুরে আয়োজিত এক নির্বাচনি পথসভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডাকসু ভিপি বলেন, "জামায়াতে ইসলামীতে দুর্নীতির কোনো স্থান নেই। অতীতের কোনো সরকার দেশকে দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বানালেও, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশ হবে সমৃদ্ধ, উন্নত এবং একটি মানবিক বাংলাদেশ। এখানে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের কোনো ঠাঁই হবে না।" দেশবাসীকে ধোঁকায় না পড়ে বিবেক দিয়ে বিচার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "আমাদের আমির ডা. শফিকুর রহমানের অতীত কার্যক্রম দেখুন। বন্যা, ভূমিকম্প কিংবা করোনাকালীন দুর্যোগ—মানুষের প্রতিটি বিপদে তিনি সবার আগে ছুটে গেছেন। এমন ইনসাফ কায়েমকারী নেতৃত্বের হাতে দেশ থাকলে বাংলাদেশ আর কখনো পথ হারাবে না।" পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ওই এলাকার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "ঢাকা-৪ এলাকায় গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা এবং উন্নত চিকিৎসার অভাব প্রকট। এখানে কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই, যার ফলে সাধারণ মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সৎ ও দক্ষ নেতৃত্বের অভাবেই আজ এই জনপদ অবহেলিত।" সৈয়দ জয়নুল আবেদীন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট দিয়ে একটি আধুনিক ও উন্নত ঢাকা-৪ গড়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। ঢাকা-৪ আসন কমিটির পরিচালক আব্দুর রহিম জীবনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের একটি এক্স পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্ট ঘিরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও বামপন্থি সংগঠনগুলো প্রতিবাদ মিছিলে নারীদের হাতে ঝাড়ু থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। তার প্রশ্ন, ঝাড়ু শুধু নারী নেত্রীর হাতে কেন, পুরুষের হাতে কেন নয়? রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজ আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিজ আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, ছাত্রদল এবং বামদের নারী নেত্রীরা আজ ঝাড়ু মিছিল করেছেন। কর্মজীবী নারীদের নিয়ে বাজে মন্তব্য অপ্রতিরোধ্য নারী জাতির প্রতি সরাসরি অসম্মান। নারী তার অধিকার নিয়ে বাঁচবে, লড়াই করবে। নারী কারো দাস হয়ে বাঁচবে না। ডাকসুর এ নেতা আরও বলেন, গৃহস্থালির কাজ শুধু নারীর একার নয়, হাতে ঝাড়ু ধরা শুধু নারীর দায়িত্ব নয়। ঝাড়ু কেন স্রেফ নারী নেত্রীর হাতে থাকবে, পুরুষ নেতার হাতে নয় কেন নয়? যুগের পর যুগ চলে আসছে নারীর প্রতি এ বৈষম্য! নারীকে দাসে রূপান্তরিত করার এ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বামেদের থেকে এটলিস্ট আমি এটা আশা করিনি। এ ছাড়াও নিজের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে তিনি বলেন, দেখেন আমি সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র , আমি সমাজ পর্যবেক্ষণ করে আমার কথা বলি। আমার কথা পলিটিকালি না নেওয়ার অনুরোধ করছি। ডাকসু সদস্য সর্বমিত্রের এ পোস্টে ১ ঘণ্টায় এক হাজারেরও বেশি ইতবাচক ও নেতিবাচক মন্তব্য জমা পড়ে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়তে কুমিল্লায় গর্জে উঠলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। শুক্রবার রাতে কুমিল্লার ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠে ১১ দলীয় জোটের এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। সাদিক কায়েম সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন, “শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজ আপনি স্বাধীনভাবে কাজ করছেন, কথা বলছেন। অথচ তাদের সেই রক্তের সম্মান দিতে এবং চব্বিশের আন্দোলনকে বাঁচিয়ে রাখতে আপনি কেন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলছেন না? আমরা কি তবে ধরে নেব আপনি হাসিনার সেই ফ্যাসিবাদী কাঠামোকেই ভেতরে ভেতরে লালন করছেন?” বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জুলাই পরবর্তী দীর্ঘ দেড় বছর পর দেশে ফিরে আপনি ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলছেন, অথচ আপনার দলের নেতাকর্মীরাই আজ আমাদের মা-বোনেদের ওপর হামলা করছে, তাঁদের বিবস্ত্র করার হুমকি দিচ্ছে। আমরা আপনার দেওয়া ওই ভুয়া ফ্যামিলি কার্ড চাই না, আমরা প্রতিটি পরিবারের সদস্য বা ‘ফ্যামিলি মেম্বার’ হতে চাই।” এ সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, “আমাদের আমিরে জামায়াত, আগামীর রাষ্ট্রপ্রধান গত ১৭ বছরে দেখিয়েছেন কীভাবে ১৮ কোটি মানুষের ফ্যামিলি মেম্বার হতে হয়। তিনি মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন, কোনো কার্ডের প্রলোভন দেখাননি।” ভিপি সাদিক কায়েম হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা গণভোটে ‘না’ ভোটের দালালি করছে বা নীরব থেকে ফ্যাসিবাদের দোসরদের সুযোগ করে দিচ্ছে, তাদের জুলাই প্রজন্ম কোনোভাবেই ক্ষমা করবে না। তিনি চব্বিশের বিপ্লবকে চূড়ান্ত রূপ দিতে এবং রাষ্ট্র সংস্কার নিশ্চিত করতে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর জন্য সিলেটবাসীর মতো কুমিল্লাবাসীকেও উদাত্ত আহ্বান জানান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাদিক কায়েমের এই সরাসরি আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে এই অনড় দাবি আগামী নির্বাচনের আগে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করছে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে জনমত গড়তে এবার সিলেটে গর্জে উঠলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক বিশাল গণজমায়েতে তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন। সাদিক কায়েম সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “আপনারা কি সেই হাসিনা হতে চান? তাহলে স্পষ্ট করে বলে দিন। মনে রাখবেন, হাসিনাকে যেভাবে বিদায় করেছি, যেভাবে লাত্থি দিয়ে ভারতে পাঠাই দিছি, ঠিক সেভাবেই আমরা আপনাদের সঙ্গেও ডিল করব।” তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল পর্দার আড়ালে থেকে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা মূলত স্বাধীন বাংলাদেশে আবার দিল্লির আধিপত্য ফিরিয়ে আনার একটি গভীর চক্রান্ত। বক্তব্যে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, “‘না’ মানে হচ্ছে ভারতের দালালি করা, দিল্লির পদলেহন করা এবং আবার স্বাধীন বাংলাদেশে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো বিভীষিকার বন্দোবস্ত করা। এই ‘না’ ভোট মানেই হলো বিচারিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আবারও জাতীয় নেতাদের শহীদ করার সুপরিকল্পিত নীল নকশা।” এসময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভূমিকার সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, “আমাদের সম্মানিত তারেক রহমান বিভিন্ন জায়গায় বক্তৃতা দিচ্ছেন। কিন্তু লক্ষ্য করছি, সেই মঞ্চগুলো থেকে একবারের জন্যও ‘হ্যাঁ’-এর সপক্ষে কোনো স্লোগান বা বক্তব্য আসছে না। আমরা কি তবে ধরে নেব আপনি ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন? মনে রাখবেন, ‘না’ মানেই হলো হাসিনা, ‘না’ মানেই মোদি এবং ‘না’ মানে হাসিনার সেই ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে রাষ্ট্রের ভেতরে জিয়ে রাখা।” জুলাই প্রজন্মের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিয়ে তিনি বলেন, “চব্বিশের বীর শহীদদের রক্ত এখনো শুকায়নি। জুলাই প্রজন্ম বেঁচে থাকতে ফ্যাসিবাদি রাজনীতি ও ‘না’-এর পক্ষে দালালি করা কাউকে এদেশের মাটিতে কোনো জায়গা দেওয়া হবে না।” সবশেষে তিনি সিলেটের প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে গণজোয়ার তৈরির আহ্বান জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে সরস্বতী পূজার অনুষ্ঠানে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমকে লক্ষ্য করে ব্যঙ্গাত্মক গান বাজানোর ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতারা। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতের এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দীন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক বিবৃতিতে রায়হান উদ্দীন এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে লেখেন, “জগন্নাথ হলের মাঠে সরস্বতী পূজার পবিত্র অনুষ্ঠানে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমকে ব্যঙ্গ করে রচিত গান বাজিয়ে নাচানাচি করা হয়েছে। একটি ধর্মীয় উৎসবে এমন গানের প্রাসঙ্গিকতা কী, তা আমার বোধগম্য নয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সুস্থ ধারার রাজনৈতিক সমালোচনা বা ব্যঙ্গ করার অধিকার সবার থাকলেও ধর্মীয় মঞ্চকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ঘৃণা ছড়ানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় যখন নতুন স্বপ্নের দিকে এগোচ্ছে, তখন জগন্নাথ হলে এই ধরণের নিম্নরুচির প্রবণতা শুরু হওয়াকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করেন তিনি। এই ঘটনার পেছনে কোনো বিশেষ মহলের উসকানি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জোর দাবি তুলেছেন রায়হান উদ্দীন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, জগন্নাথ হল প্রশাসন এবং পূজা কমিটি এই ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দিচ্ছে কি না, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, ভিপি সাদিক কায়েমের ব্যক্তিগত ও বিশেষ উদ্যোগেই এ বছর ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি হলের প্রত্যেকটির জন্য ১ লক্ষ টাকা করে বিশেষ অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই অনুদান ব্যবহার করে বর্ণাঢ্য আয়োজনের সুযোগ পাওয়ার পরও খোদ আয়োজকদের একাংশের এমন আচরণ বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে এক ধরণের বিভেদ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, এ ধরণের ঘটনা ক্যাম্পাসের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সৌহার্দ্যকে বিনষ্ট করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস