ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর দেশব্যাপী শুরু হওয়া রাজনৈতিক সহিংসতার কঠোর সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ। শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বিএনপিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদী কায়দায় দমনের চেষ্টা করা হলে ছাত্র-জনতা তা মেনে নেবে না।
এস এম ফরহাদ তাঁর পোস্টে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ যেভাবে ফ্যাসিবাদের পথ বেছে নিয়েছিল, বর্তমান বিএনপির আচরণেও সেই একই ছায়া দেখা যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬-এর এই নির্বাচনে ৫৪ শতাংশ ভোট এবং ২০৯টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপি এখনই ভিন্নমতের ওপর চড়াও হতে শুরু করেছে।
ডাকসু জিএস অভিযোগ করেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে দেশের শতাধিক স্থানে ভিন্নমতের ভোটারদের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। এতে অসংখ্য মানুষ গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি একজনকে হত্যার খবরও পাওয়া গেছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডগুলো আড়াল করতে সুপরিকল্পিতভাবে সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বিএনপিকে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে ফরহাদ বলেন, “আওয়ামী লীগ ১৫ বছর সময় নিয়েছিল ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে, আপনারা কি তার চেয়েও কম সময় নেবেন? স্বাগতম এই পথে!” তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, জুলাই বিপ্লবের উত্তরসূরিরা আবারও জীবন দিতে প্রস্তুত। “এবার আবু সাঈদরাও প্রস্তুত আছে। জীবন দেবে, কিন্তু পুরনো ফ্যাসিবাদের কোনো নতুন রূপ এই জমিনে মেনে নেওয়া হবে না ইনশাআল্লাহ,” বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নির্বাচন পরবর্তী এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ডাকসু জিএসের এমন কড়া অবস্থান দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণ ছাত্র-জনতার মাঝে আবারও প্রতিরোধের মানসিকতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই দেশব্যাপী রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ তুলে বিএনপির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি দাবি করেছে, নতুন সরকার গঠনের আগেই বিএনপি দেশে ‘নতুন ফ্যাসিবাদের’ রাজত্ব কায়েম করতে চাইছে। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম বিএনপি জনগণের রায়কে সম্মান জানাবে। কিন্তু তারা রেশ কাটতে না কাটতেই ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা শুরু করেছে। বিএনপি কোথায় কোথায় সন্ত্রাস চালাচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ ডকুমেন্টেশন আমরা করছি। খুব শীঘ্রই দেশের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে প্রজেক্টরের মাধ্যমে এসব অপকর্মের তথ্যচিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।” সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য দেওয়া হয়। ছাত্রশক্তি দাবি করে, গত দেড় বছরে দলটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে প্রায় আড়াইশো নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন এবং নির্বাচনের পর সেই ধারা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদাস্সির বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিজয় মিছিলের পরিবর্তে দোয়া মাহফিলের নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে— ঢাকায় হচ্ছে মিলাদ আর রংপুরে-পঞ্চগড়ে তৃণমূল পর্যায়ে চলছে ঘরবাড়ি দখল ও আগুন দেওয়ার রাজনীতি। ৫ আগস্টের পর মানুষ যখন শোকরানা নামাজ পড়ছিল, তখনও তারা জমি দখলে ব্যস্ত ছিল।” সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় যে, রংপুর, পঞ্চগড়, হাতিয়া, বাগেরহাট ও বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর আক্রমণ চালানো হলেও বিএনপির হাইকমান্ড সম্পূর্ণ নীরব। এমনকি গণমাধ্যম এই হামলাগুলোকে ‘সংঘর্ষ’ হিসেবে প্রচার করে অপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা করছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ছাত্রনেতারা। তাহমিদ আল মুদাস্সির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা জুলাই বিপ্লবের পর নতুন কোনো দানব দেখতে চাই না। বিএনপি হামলা চালানোর পরও একটি বিশেষ গোষ্ঠী তাদের আড়াল করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যদি এভাবে নাগরিকদের ওপর রক্তক্ষয়ী হামলা চলতে থাকে, তবে ছাত্র-জনতা আবারো শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।” সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা মহানগর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন পরবর্তী এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেশের আগামীর স্থিতিশীলতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
রাবি প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটে ‘না’ ভোট দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের সেক্রেটারি সর্দার জহুরুল ইসলাম। সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) তিনি পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) আসনের ভোটার হিসেবে গণভোটে ‘না’ সিল মারে এবং তার ব্যালট ফেসবুকে শেয়ার করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরদার জহুরুল ইসলাম বলেন, “ভোট দেওয়া তো স্বাধীনতা। যার যেটা ভালো লাগবে সে সেটায় ভোট দেবে। এখানে বাকস্বাধীনতা থাকতে হবে। আমার ‘না’ ভালো লাগছে, তাই ‘না’ দিয়েছি।”
রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী হাসানুর রহমান সহপাঠীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনার মামলা করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে শিক্ষা জীবনে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৫ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে পুঠিয়া উপজেলার রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পোল্লাপুকুর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে শান্ত ইসলাম নামের শিক্ষার্থী নিহত হন। আহতদের মধ্যে আরও দুজন মারা যান। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ ও সাধারণ জনতার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিক্ষার্থীরা লাশ সুরক্ষিত স্থানে স্থানান্তর করেন। সেনাবাহিনীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে মামলার জন্য বেলপুকুর থানায় গেলে, হাসানুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বিশ্বাস করে, মানবিক ও ন্যায্য দৃষ্টিতে বিষয়টি মূল্যায়ন করলে সমাধান সম্ভব। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়েছে, হাসানুর রহমানকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে শিক্ষা জীবনে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। মোঃ গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি