বাংলাদেশ

অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে সেবা খাতে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন: টিআইবি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:৩
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও আধা-সরকারি সেবা খাতে এক বছরে মোট ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি এ হিসাব তুলে ধরেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

 

টিআইবি জানায়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নমুনা কাঠামো ব্যবহার করে দেশের আটটি বিভাগের গ্রাম ও শহরাঞ্চল থেকে দুই ধাপে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ১ হাজার ১৪৯টি এলাকা নির্বাচন করা হয়। জরিপে ১৮টি নির্দিষ্ট সেবা খাতের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালেও একই ধরনের জরিপ পরিচালনা করেছিল সংস্থাটি।

 

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৩ সালের মতো ২০২৫ সালেও পাসপোর্ট ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সেবায় দুর্নীতির হার সবচেয়ে বেশি। পাসপোর্ট সেবা গ্রহণকারীদের ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং বিআরটিএ সেবা গ্রহণকারীদের ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ ঘুষ বা দুর্নীতির শিকার হয়েছেন বলে জরিপে উঠে এসেছে।

 

এ দুই খাতের পর দুর্নীতির মাত্রা বেশি পাওয়া গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, কৃষি, ভূমি এবং বিচারসংশ্লিষ্ট সেবায়। এসব খাতে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণও তুলনামূলকভাবে বেশি।

 

তবে প্রতিবেদনে একটি ইতিবাচক দিকও উল্লেখ করা হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। ২০২৫ সালে খানাপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১২৪ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম।

 

জরিপে অংশ নেওয়া ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার মনে করে, ঘুষ ছাড়া সরকারি সেবা পাওয়া এখনও অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও বিচারিক সেবায় উচ্চমাত্রার দুর্নীতি নাগরিকদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।

 

অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, কৃষি, স্থানীয় সরকার, ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পাসপোর্ট এবং বিআরটিএ খাতে দুর্নীতির প্রবণতা আগের মতোই রয়েছে অথবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেড়েছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্নীতির শিকার হলেও ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেনি। তাদের বড় অংশের ধারণা, পুরো ব্যবস্থাই দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ায় অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যাবে না।

 

অন্যদিকে, প্রায় অর্ধেক পরিবারেরই দুর্নীতির অভিযোগ কোথায় এবং কীভাবে করতে হয় সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা নেই। জরিপে দেখা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্পর্কে ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার জানলেও সরকারি অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস) সম্পর্কে মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার অবগত।

 

সচেতনতার অভাবের কারণে অভিযোগ দায়েরের হার অত্যন্ত কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হয়নি বা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।

 

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মতে, দুর্নীতির প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বিচারহীনতা, সচেতনতার অভাব এবং দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির পরিবর্তে সুবিধা লাভের সুযোগ।

 

গ্রাম ও শহরাঞ্চলের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চলের ৬৬ শতাংশ পরিবার ঘুষের শিকার হয়েছে, যেখানে শহরাঞ্চলে এ হার ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে শহরাঞ্চলের পরিবারগুলোকে ঘুষের পরিমাণের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো তাদের আয়ের অনুপাতে বেশি ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছে। পাশাপাশি নারী, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকারি সেবা গ্রহণের অভিজ্ঞতা আরও কঠিন।

 

টিআইবি জানায়, বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল সেবা চালু হলেও তা দুর্নীতি কমাতে প্রত্যাশিত মাত্রায় কার্যকর হয়নি। অনেক ক্ষেত্রেই সেবাগ্রহীতাদের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা ঘুষ ও দুর্নীতির সুযোগ বহাল রাখছে।

 

প্রতিবেদনটিতে সরকারি সেবা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি একটি কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
সমালোচিত রাস্তার দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী যাবেন তাই রং করা হয়েছিল একপাশ, অন্য পাশ মলিন থাকায় সমালোচনা

চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড় থেকে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কের ডিভাইডারের এক পাশে রং করা হলেও অন্য পাশ মলিন পড়ে থাকার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। রোববার ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে সড়কের দুই পাশের এই ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার সকাল থেকে ডিভাইডারের অপর পাশেও রং করার কাজ শুরু হয়েছে।   রোববার চট্টগ্রাম সফরে এসে হাটহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে সড়কপথে চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকার একটি হোটেলে যান তিনি। এ সময় তার যাতায়াতের জন্য নির্ধারিত সড়কের পাশটি পরিষ্কার করা এবং ডিভাইডারে রং করার বিষয়টি নজরে আসে।   স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত পাশটিতেই বিশেষভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ডিভাইডারে রং করার কাজ করা হয়েছে। বিপরীত পাশটি তখনও ময়লা-আবর্জনায় অপরিষ্কার এবং ডিভাইডারে রং করা হয়নি।   সোমবার সকালে সড়কটির হাটহাজারী থেকে অক্সিজেন পর্যন্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এক পাশে ডিভাইডার পুরোপুরি রং করা হয়েছে এবং সড়কটিও তুলনামূলক পরিষ্কার। অন্য পাশে ময়লা-আবর্জনা পড়ে রয়েছে এবং ডিভাইডারে রং করা হয়নি। তবে অক্সিজেন এলাকা থেকে ওই পাশেও রং করার কাজ শুরু করেছেন কয়েকজন শ্রমিক।   চৌধুরী হাট এলাকার বাসিন্দা কাজী নুরুল আজম বলেন, তিনি নিয়মিত অক্সিজেন থেকে চৌধুরী হাটে যাতায়াত করেন। রোববার সড়কে গিয়ে ডিভাইডারের এক পাশে রং করা এবং অন্য পাশে রং না করার বিষয়টি তার চোখে পড়ে। দুই পাশেই রং করা হলে সড়কটি আরও সুন্দর দেখাত বলে মন্তব্য করেন তিনি।   বালুচরা এলাকার বাসিন্দা মনসুর আলমের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের জন্য নির্ধারিত পাশটিতেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রং করার কাজ বেশি গুরুত্ব দিয়ে করা হয়েছে। কাজের বরাদ্দ ও ব্যয়ের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তবে তার এই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।   সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের দুই থেকে তিন দিন আগেই ডিভাইডারে রং করার কাজ শুরু হয়েছিল। বৃষ্টি ও অন্যান্য সমস্যার কারণে দুই পাশে একসঙ্গে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রথমে শুধু এক পাশের কাজ করা হয়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অপর পাশের কাজ শুরু হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুরু থেকেই ডিভাইডারের দুই পাশ রং করার পরিকল্পনা ছিল। বিভিন্ন সমস্যার কারণে কাজ শেষ করা যায়নি। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে কাজ শুরুর বিষয়টির কোনো সম্পর্ক নেই বলেও তিনি জানান।   কাজের ব্যয়ের বিষয়ে রঞ্জন কুমার বিশ্বাস বলেন, সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বরাদ্দ থেকেই কাজটি করা হচ্ছে। পুরো কাজ শেষ হওয়ার পর ব্যয়ের সঠিক হিসাব জানানো যাবে।   হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। সোমবার সকালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে এত দিন ডিভাইডারের দুই পাশে রং করার কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। সোমবার সকাল থেকে অপর পাশেও রং করার কাজ শুরু হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ৬:১৬
আমি আর কথা কমু না নে মা, আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা

‘আমি আর কথা কমু না নে মা, আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি’ সৌদিতে আগুনে দুই ভাই নিহত

সালমান শাহ ও খলনায়ক ডন। ছবি:সংগৃহীত

সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডন গ্রেপ্তার, নেয়া হচ্ছে আদালতে

বিএসএফের গুলিতে প্রাণ গেল বাংলাদেশি তরুণের

বিএসএফের গুলিতে প্রাণ গেল বাংলাদেশি তরুণের

ভারতীয়কে ধরে নিয়ো আসলো বাংলাদেশীরা। ছবি:সংগৃহীত
পঞ্চগড়ে বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ, ক্ষোভে ভারতীয়কে ধরে আনল গ্রামবাসী

পঞ্চগড় সীমান্তে বিএসএফের হাতে এক বৃদ্ধ বাংলাদেশি আটকের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে স্থানীয়রা। শনিবার সকালে ভুলবশত বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করলে গ্রামবাসী তাকে ধরে ফেলে। এর আগে এক বাংলাদেশিকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ থাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।   আটককৃত ওই ভারতীয় নাগরিকের নাম দীপঙ্কর গোপ (৩৫)। তিনি ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানার চাউলহাটি তশনপাড়া এলাকার মিশ্রিলাল গোপের ছেলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সকালে সীমান্তের কাঁটাতারের ওপাশে একটি চা-বাগানে কাজ করছিলেন দীপঙ্কর। কাজের এক পর্যায়ে তিনি ভুল করে বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা তাকে ধরে সাতমেরা ইউনিয়নের বিরাজোত এলাকায় নিয়ে আসেন। বর্তমানে ওই ভারতীয় নাগরিক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ ও স্থানীয়দের সার্বিক হেফাজতে নিরাপদে রয়েছেন।   এদিকে, ভারতীয় নাগরিককে আটকের পেছনে স্থানীয়দের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ কাজ করছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বুধবার সকালে সাতমেরা ইউনিয়নের বিরাজোত এলাকার বাসিন্দা মো. তমিজ উদ্দীন (৭৮) নিখোঁজ হন। তিনি গরু খুঁজতে গিয়ে সীমান্তের কাঁটাতারের কাছাকাছি চলে গেলে বিএসএফ তাকে ধরে নিয়ে যায়। তমিজ উদ্দীনের ছেলে আজাহার জানান, তার বাবা অত্যন্ত বয়স্ক একজন মানুষ, যিনি কানে কম শোনেন এবং ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না।   এমন শারীরিক অবস্থাসম্পন্ন একজন বৃদ্ধকে ধরে নিয়ে যাওয়ায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আজাহারসহ গ্রামবাসীর জোরালো দাবি, তমিজ উদ্দীনকে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত যেন আটক ভারতীয় নাগরিক দীপঙ্কর গোপকে হস্তান্তর করা না হয়।   এই জোড়া ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ তমিজ উদ্দীনকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আটক ভারতীয় নাগরিকের হস্তান্তরের বিষয়ে দ্রুতই বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক (ফ্ল্যাগ মিটিং) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ৮:৩৯
সন্তানদের সাথে একজন অসহায় মা। ছবি :সংগৃহীত

সন্তানের মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে মাথার চুল বিক্রি করলেন মা

প্রবাসীদের জন্য চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, রেমিট্যান্সে মিলবে ৩% প্রণোদনা

প্রবাসীদের জন্য চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, রেমিট্যান্সে মিলবে ৩% প্রণোদনা

দুই বছর পর দেশে ফেরার ইচ্ছা সাকিবের, নিরাপত্তা পেলে বিচার মোকাবিলার পাশাপাশি বিদায়ী সিরিজ খেলতে চান

দুই বছর পর দেশে ফেরার ইচ্ছা সাকিবের, নিরাপত্তা পেলে বিচার মোকাবিলার পাশাপাশি বিদায়ী সিরিজ খেলতে চান

সৌদির মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ
সৌদির মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ, ঈদের চেয়েও বড় আনন্দ খুলনার আলিমুলের

খুলনার ২১ বছর বয়সী আলিমুল ইসলাম সৌদি আরবের মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়ার খবরটি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে গত মাসে সুখবরটি পাওয়ার পর থেকেই আনন্দে সময় কাটছে তার।   আলিমুল বলেন, “এটা আমার কাছে ঈদের আনন্দের চেয়েও বড়। আমি আনন্দে অভিভূত। এই খুশি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”   তার এই অর্জনে বন্ধুরাও বেশ উচ্ছ্বসিত। কেউ কেউ তার চেয়েও বেশি আনন্দিত হয়েছেন বলে জানান আলিমুল। বিশেষ করে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্মৃতিবিজড়িত ভূমিতে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়াকে তিনি জীবনের বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন।   আলিমুল সৌদি সরকারের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২২ সালে ঘোষিত এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য ২৬৫টি পূর্ণ বৃত্তির সুযোগ রাখা হয়েছিল। বিজ্ঞান, প্রকৌশল, ইসলামিক স্টাডিজ, আরবি ভাষা ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।   সৌদি সরকারের এই বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, আবাসন ও খাবারের খরচ বহন করা হয়। পাশাপাশি যাতায়াতের বিমানভাড়া, বই কেনার জন্য বার্ষিক ভাতা এবং জীবনযাপনের খরচের জন্য মাসিক স্টাইপেন্ডও দেওয়া হয়।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও জানিয়েছে সৌদি আরব। গত মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন আবিয়াহ জানান, এই বৃত্তির সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০০ করা হবে।   এদিকে একই বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় এবার সৌদি আরবে পড়াশোনা শুরু করতে যাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোহাম্মদ হাসিব। তিনি কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রিতে আরবি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করবেন।   সৌদি আরবকে উচ্চশিক্ষার জন্য বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে হাসিব বলেন, দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে অনেকেই সম্মানজনক অবস্থানে কাজ করছেন। তার মাদ্রাসার সিনিয়র ভাই ও শিক্ষকদের অনেকেই সৌদি আরবে পড়াশোনা করেছেন। তাদের দেখে তিনিও সৌদি আরবে উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহী হন।   সৌদি আরবে গিয়ে আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি দেশটির সংস্কৃতির সঙ্গেও পরিচিত হতে চান হাসিব। পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চান তিনি। ভবিষ্যতে মাদ্রাসার শিক্ষক হয়ে অর্জিত জ্ঞান অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরবে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। বৃত্তির সুযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা এবং কিছু প্রোগ্রামে ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগও এ আগ্রহ বাড়ার অন্যতম কারণ।   অ্যাসোসিয়েশন অব সৌদি ইউনিভার্সিটি গ্র্যাজুয়েটস ইন বাংলাদেশের কোষাধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম আল-মাদানি আরব নিউজকে বলেন, কিছু বিষয়ে পড়াশোনার ক্ষেত্রে এখন আরবি ভাষায় দক্ষতা বাধ্যতামূলক নয়। আইইএলটিএস থাকলে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি মাধ্যমেও পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে সৌদি আরবের উচ্চশিক্ষা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।   সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্পর্কও শিক্ষার্থীদের আগ্রহের বড় কারণ। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করেন। পাশাপাশি মক্কা ও মদিনার প্রতি বাংলাদেশিদের গভীর ধর্মীয় ও আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।   আল-মাদানির মতে, এই ধর্মীয় ও আবেগের সম্পর্কও সৌদি আরবে পড়াশোনার প্রতি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ায়। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি হজ ও ওমরাহ পালনের সুযোগও শিক্ষার্থীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।   আলিমুল ও হাসিবের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য এই বৃত্তি শুধু বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নয়, বরং আর্থিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই নিজেদের স্বপ্ন পূরণের একটি বড় পথ। পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে অর্জিত শিক্ষা ও দক্ষতা সমাজ ও দেশের কাজে লাগাতে চান তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ১০:৩৩
র‍্যাব বিলুপ্ত করে গঠন হচ্ছে নতুন বাহিনী ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’

র‍্যাব বিলুপ্ত করে গঠন হচ্ছে নতুন বাহিনী ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’

আইসিইউতে হাতকড়া পরা ছবি নিয়ে ভাইরাল সেই আওয়ামী লীগ নেতা আর মারা গেছেন

আইসিইউতে হাতকড়া পরা ছবি নিয়ে ভাইরাল সেই আওয়ামী লীগ নেতা আর মারা গেছেন

কিস্তির টাকা নিয়ে ভয়ে গ্রাহকের গরু নিয়ে গেলেন এনজিও কর্মীরা

কিস্তির টাকা নিয়ে ভয়ে গ্রাহকের গরু নিয়ে গেলেন এনজিও কর্মীরা

0 Comments