চীনা নাগরিকদের থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ওয়েবসাইট চালু করল তাইওয়ান
চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি ক্ষুব্ধ নাগরিকদের নিরাপদে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের সুযোগ করে দিতে একটি নতুন ওয়েবসাইট চালু করেছে তাইওয়ান। রবিবার এই ওয়েবসাইটটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করার কথা জানায় তাইওয়ান সরকার। গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত এই দ্বীপরাষ্ট্রটিকে চীন নিজেদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে, যার ফলে দীর্ঘদিন ধরেই উভয় দেশের মধ্যে ব্যাপক গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ানে চীনা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটেই পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এই অভিনব পদক্ষেপ নিল তাইপেই।
তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যুরো (এনএসবি) তাদের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের অর্থনীতি বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও সেখানে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত কঠোর রয়েছে। জীবনযাপন ও সমাজকেন্দ্রিক নানা সংকটের কারণে চীনা সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক মাত্রায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ইতিমধ্যেই অনেক চীনা নাগরিক তাইওয়ানের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এই উদ্যোগের প্রচারণায় এআই-চালিত একটি এক মিনিটের ভিডিও প্রকাশ করেছে এনএসবি। ভিডিওটিতে দেখানো হয়েছে, চীনে সরকারি কর্মকর্তারা কীভাবে একে একে গুম বা অপসারিত হয়ে যাচ্ছেন এবং একজন ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা এই পরিস্থিতির পরিবর্তন চেয়ে নতুন ওয়েবসাইটে তথ্য দিচ্ছেন।চীনে এই ওয়েবসাইটটি ব্লক করা থাকলেও ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করে অনেক নাগরিক এটিতে প্রবেশ করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাইওয়ানের নিরাপত্তা ব্যুরো দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত সব চীনা নাগরিককে সাহসের সঙ্গে পরিবর্তনের লক্ষ্যে তথ্য প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে।
তারা উল্লেখ করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মতো দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আধুনিক কৌশলের অনুকরণেই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে চীনও ঠিক একই ধরনের কৌশল নিয়েছিল, যেখানে তাইওয়ানের তথাকথিত 'বিচ্ছিন্নতাবাদীদের' সম্পর্কে তথ্য দিতে একটি ইমেইল ঠিকানা চালু করেছিল বেইজিং। তবে বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি বরাবরই জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করে তাইওয়ান বলে আসছে, কেবল দ্বীপটির স্বাধীন জনগণই তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার অধিকার রাখে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ভারত রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসরায়েলে অন্তত ২ হাজার ৫৯৬টি চালানে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির নতুন এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে মিডল ইস্ট আই। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ভারত সরকার বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত পাঠানো চালানগুলোর মধ্যে ছিল মেশিনগানের যন্ত্রাংশ, ১৫৫ মিলিমিটার কামানের গোলা, ড্রোনের ওয়ারহেড, সাঁজোয়া যানের উপাদান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম। অ্যামনেস্টির দাবি, এসব চালানের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৬৫ হাজার বিস্ফোরক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং প্রায় ৩ লাখ ৯১ হাজার ছোট অস্ত্রের যন্ত্রাংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। অ্যামনেস্টি বলেছে, তারা উন্মুক্ত বাণিজ্য তথ্য ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত রক্ষণশীল পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করেছে। ফলে প্রতিবেদনে উল্লেখিত সংখ্যার চেয়েও ভারতের প্রকৃত সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের পরিমাণ বেশি হতে পারে বলে সংস্থাটির ধারণা। প্রতিবেদনে ভারতের নয়টি কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) নির্দেশনা ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন বিবেচনায় ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনে সহায়তার শামিল হতে পারে। তিনি দেশগুলোর প্রতি সংঘাতপূর্ণ এলাকায় অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানান। প্রসঙ্গত, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি নিয়ে একাধিক দেশের নীতির সমালোচনা করে আসছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সরকার ও প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। তবে ভারতের বিরুদ্ধে অ্যামনেস্টির সর্বশেষ অভিযোগের বিষয়ে নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন সেনাদের ফোনের ভিডিওতেই গোপন তথ্যপাচ্ছে ইরান! ফোন ব্যাবহারে কড়াকড়ি, যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
চীন ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করলে 'আমি খুব হতাশ হব': ট্রাম্প
ভারতের জাতীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’ অবমাননায় সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল, রাজ্যসভায় নতুন বিল পাস
চীনে বিরল জিনগত সমস্যায় আক্রান্ত ছয় বছর বয়সী এক শিশুর চিকিৎসায় পরিবার প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় করেছিল। নতুন ধরনের জিন সম্পাদনা প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার পর তার অবস্থার উন্নতি হবে এমন আশাই দেখানো হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসার কয়েক দিনের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয়। পরে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রমাণ ছাড়াই চিকিৎসাটি মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে পরিবারকে পূর্ণাঙ্গভাবে জানানো হয়নি। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটির পরিবারের অনুরোধে তার প্রকৃত নাম প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে তাকে ‘মেই’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। মেই বিরল সিএইচডি৩ (CHD3) জিনের পরিবর্তনের কারণে স্নাইডার্স ব্লক-ক্যাম্পো সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিল। এ ধরনের রোগে আক্রান্ত শিশুদের সাধারণত বুদ্ধিবিকাশ, ভাষা ও শেখার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিলেও এটি সাধারণত প্রাণঘাতী নয় এবং সময়ের সঙ্গে দ্রুত অবনতি ঘটে না। মেইয়ের শিক্ষকরা তার লেখালেখি ও ভাষাগত দক্ষতার দুর্বলতার কথা অভিভাবকদের জানিয়েছিলেন। এরপর পরিবারটি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়। সেসময় গবেষক জিলং কিউ তাদের ‘বেস এডিটিং’ নামে অত্যাধুনিক জিন সম্পাদনা প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসার প্রস্তাব দেন। এটি এমন একটি প্রযুক্তি, যা এখনো বিশ্বজুড়ে পরীক্ষামূলক পর্যায়েই রয়েছে এবং মানুষের ওপর এর ব্যবহার খুবই সীমিত। সায়েন্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিউ নিজেও স্বীকার করেছিলেন যে খুব কম গবেষকই এই প্রযুক্তিতে দক্ষ। তবে তিনি অভিভাবকদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে তিনি এ ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ গবেষকদের একজন। জিন থেরাপিতে সাধারণত বিশেষ ধরনের ভাইরাস ব্যবহার করে কোষে জিন পৌঁছে দেওয়া হয়। কিন্তু মেইয়ের ক্ষেত্রে লক্ষ্য ছিল মস্তিষ্ক, যেখানে পৌঁছাতে রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধক (ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার) বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। সে কারণে চিকিৎসায় বিপুল পরিমাণ ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করাতে হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানুষের ওপর এই চিকিৎসা প্রয়োগের আগে গবেষককে ইঁদুর ও বানরের ওপর সফল পরীক্ষা দেখাতে হতো। কিউ পরিবারকে জানান, ইঁদুরের পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। পরে তিনি বানরের মস্তিষ্কের কিছু ছবি দেখিয়ে দাবি করেন, চিকিৎসাটি নিরাপদ এবং কার্যকর। তবে সায়েন্স যখন স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সেই তথ্য ও ছবি পর্যালোচনা করায়, তারা ছবিগুলোকে পর্যাপ্ত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য মনে করেননি। পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবরসায়নবিদ ডেভিড স্যান্ডার্স বলেন, উপস্থাপিত তথ্য এতটাই দুর্বল ছিল যে এর ভিত্তিতে মানুষের ওপর পরীক্ষা চালানোর মতো আত্মবিশ্বাস তৈরি হওয়ার কথা নয়। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মেইয়ের চিকিৎসার এক মাস আগে একই থেরাপি দেওয়া চারটি বানরের সবারই মাঝারি থেকে গুরুতর লিভারের ক্ষতি হয়। তাদের মধ্যে একটির কিডনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি জিন থেরাপির পরিচিত ও প্রাণঘাতী জটিলতা ‘থ্রমবোটিক মাইক্রোঅ্যাঞ্জিওপ্যাথি’-র লক্ষণ হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চিকিৎসা চালিয়ে নিতে গবেষক দলের পক্ষ থেকে পরিবারকে বিভিন্ন ফাউন্ডেশন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমনকি গবেষণা দলের কয়েকজন সদস্যের ব্যক্তিগত হিসাবেও অর্থ পাঠাতে বলা হয়। এর মধ্যে একটি গবেষণাগারের দায়িত্বে থাকা এক গবেষককে সরাসরি এক লাখ ৩০ হাজার ডলার দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে। এসব লেনদেন নিয়ে পরিবারের মধ্যেও ধীরে ধীরে উদ্বেগ তৈরি হয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চিকিৎসকরা পরিবারকে জানান, মেইয়ের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হতে পারে ভাইরাসবাহী উপাদানের বিরুদ্ধে শরীরে আগে থেকে অ্যান্টিবডি থাকা। তা ছাড়া চিকিৎসাটি ‘তুলনামূলকভাবে নিরাপদ’ বলেও তাদের আশ্বস্ত করা হয়। পরের মাসে মেইয়ের মেরুদণ্ডের তরলে বিপুল পরিমাণ ভাইরাস প্রবেশ করিয়ে চিকিৎসা শুরু হয়, যাতে তা মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে। চিকিৎসার কয়েক দিনের মধ্যেই মেইয়ের জ্বর দেখা দেয়। এরপর তার প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়, যা কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ইঙ্গিত ছিল। দ্রুত তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হলেও পরদিন তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের জরুরি নৈতিকতা কমিটির তদন্তে সিদ্ধান্ত হয়, চিকিৎসাজনিত জটিলতার কারণেই মেইয়ের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর কারণ হিসেবে থ্রমবোটিক মাইক্রোঅ্যাঞ্জিওপ্যাথির কথা উল্লেখ করা হয়, যা বানরের পরীক্ষাতেও দেখা গিয়েছিল। এ ঘটনার পর হাসপাতালকে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ ডলার জরিমানা করা হয়। আর যে চিকিৎসক পরিবারকে চিকিৎসাটি তুলনামূলক নিরাপদ বলেছিলেন, তাকে মৌখিক সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এদিকে মেইয়ের পরিবার গবেষক জিলং কিউকে তার গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের অনুরোধ জানায়। শুরুতে তিনি রাজি হলেও পরে পরিবারের সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখেননি। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সাময়িকী নেচার কিউর গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। তবে সেখানে মেইয়ের মৃত্যুর কোনো উল্লেখ ছিল না। পরিবার বিষয়টি নেচার কর্তৃপক্ষকে জানালেও সাময়িকীটি জানায়, অভিযোগগুলো তথ্যের নির্ভুলতার আওতার বাইরে পড়ে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সায়েন্স-এর প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই সাংহাই জিয়াও টং ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন জানিয়েছে, তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গবেষণায় নৈতিকতা, রোগীর সম্মতি, পরীক্ষামূলক চিকিৎসার নিরাপত্তা এবং গবেষণার তদারকি নিয়ে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ইতোমধ্যে নেচারে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের তথ্য ও ছবিগুলোর স্বাধীনভাবে পুনর্মূল্যায়নেরও দাবি জানিয়েছেন।
ফিলিপাইনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাছে চীনা যুদ্ধজাহাজের ভিডিও প্রকাশ, আলোচনায় মার্কিন ড্রোন
মানবাধিকার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে উ.কোরিয়া-রাশিয়ার সঙ্গে তুলনা, জাতিসংঘে ফ্রান্সের বক্তব্যের সময় মার্কিন প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট
যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি হামলায়, ইরাকে নিহত অন্তত ২০
ইরানকে চীন থেকে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র। সাম্প্রতিক সংঘাতের পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে এই পদক্ষেপকে। সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, ইরান চীনের তৈরি স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার চেষ্টা করছে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের বিমান ও ড্রোন মোকাবিলায় ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এই সরবরাহের পরিমাণ, সময়সূচি এবং আনুষ্ঠানিক চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সাধারণত সেনাদের দ্রুত মোতায়েনযোগ্য প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষ করে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও নিচু উচ্চতায় উড়তে সক্ষম বিমান প্রতিহত করতে এসব অস্ত্র ব্যবহৃত হয়। ইরান দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি সংগ্রহে নানা বাধার মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটি চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন অস্ত্র সরবরাহ হলে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে চীন বা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো গোপনীয় পর্যায়ে রয়েছে এবং সরবরাহ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে।
মিস্টারবিস্টের উদ্যোগ, ক্যানসারে আক্রান্ত ১০০ শিশুর চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন তারকারা
কাগজের বাক্স থেকে পাঁচ নবজাতকের দেহাবশেষ উদ্ধার, তদন্ত শুরু