আন্তর্জাতিক

প্রতিরক্ষা বাজেটে কাটছাঁট হলেও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে অনড় তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৫:৫৮
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

তাইওয়ানের বিরোধী দল নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্ট গত মাসে সরকারের প্রস্তাবিত ৪০ বিলিয়ন ডলারের সম্পূরক প্রতিরক্ষা বাজেটের মাত্র দুই-তৃতীয়াংশ অনুমোদন করেছে। তবে এরপরও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ থেকে ‘হাল ছাড়বেন না’ বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। মঙ্গলবার নিউ তাইপেইতে একটি সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শনকালে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

তাইওয়ান সরকার তাদের সামরিক আধুনিকীকরণ কর্মসূচিতে ড্রোনের পাশাপাশি অন্যান্য 'অ্যাসিমেট্রিক' (asymmetric) বা অসম সমরকৌশল ও যুদ্ধাস্ত্রের ওপর জোর দিচ্ছে। কিন্তু পার্লামেন্ট কেবল যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে বাজেট অনুমোদন দিয়েছে এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন ও মিসাইল খাতের তহবিল বাতিল করে দিয়েছে। মূলত, স্বশাসিত ও গণতান্ত্রিক তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করা চীনকে প্রতিহত করতেই এসব নিজস্ব প্রযুক্তির অস্ত্রের ওপর জোর দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট লাই।

 

বিশেষ প্রতিরক্ষা বাজেটে বড় ধরনের এই কাটছাঁট প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে জানান, এই পরিস্থিতিতে তারা কোনোভাবেই হার মানবেন না। সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় এবং অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলো যেন নির্বিঘ্নে এগিয়ে যায়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আলাদা বিশেষ আইন প্রস্তাব করা হবে। এছাড়াও, সম্পূরক বাজেট ও বার্ষিক সরকারি বাজেট বৃদ্ধির মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মিত্র দেশগুলোকে সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। সেই আহ্বানের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই প্রেসিডেন্ট লাই ২০৩০ সালের মধ্যে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা ব্যয় বর্তমান জিডিপির ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করতে চাইছেন। আনুষ্ঠানিক কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির এই পথে যুক্তরাষ্ট্রই তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মিত্র এবং প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ।

 

"দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতির" কথা মাথায় রেখে প্রেসিডেন্ট লাই জানান, তাইওয়ানের সামরিক বাহিনীকে অবশ্যই তাদের যুদ্ধপ্রশিক্ষণ আরও উন্নত করতে হবে এবং ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। চলতি মাসেই তাইপেইতে নিযুক্ত শীর্ষ এক মার্কিন কূটনীতিক পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, চীনের সাথে সামরিক ভারসাম্য বজায় রাখতে তাইওয়ানকে প্রতিরক্ষা খাতে "আরও বুদ্ধিমানের মতো ব্যয়" করতে হবে।

 

এক্ষেত্রে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহার থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি। এর পাশাপাশি মঙ্গলবার তাইপেইর আশেপাশের পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ রাডার স্টেশনগুলোও পরিদর্শন করেন প্রেসিডেন্ট লাই, যেগুলো মূলত চীনা সেনাবাহিনীর গতিবিধির ওপর সার্বক্ষণিক ও তীক্ষ্ণ নজর রাখে। তিনি বলেন, "আমি দেখেছি আমাদের সামরিক বাহিনীর সদস্যেরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা আকাশপথে নজরদারি চালাচ্ছেন, উত্তর তাইওয়ানের জলসীমায় সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করছেন এবং জরুরি গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছেন।

 

তাদের এই কাজ আমাদের সার্বিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সবচেয়ে দ্রুত ও নির্ভুল সহায়তা প্রদান করে থাকে।"

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরানের কাছে মাথা নত হলো ট্রাম্প, টিকে থাকল ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা

মাসের পর মাস বিমান হামলা, সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড এবং ইরানের বন্দরগুলো কার্যত অচল করে দেওয়া নৌ অবরোধের পর যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার ফলে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের শাসনব্যবস্থা বহাল থাকছে।   চুক্তির ফলে ওয়াশিংটন ইরানে সরকার পরিবর্তন বা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। অথচ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্তও তেহরানের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ দাবি করে আসছিলেন।   উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারকে (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।   চুক্তি অনুযায়ী, ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে রাজি হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে পেতে রাখা মাইন অপসারণ, কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা না করার প্রতিশ্রুতি এবং ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪১ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর নিয়ে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে।   চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, ওই ইউরেনিয়াম হস্তান্তর না হলে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না।   বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থায়নে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা হবে। যুদ্ধ ও বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।   তবে ট্রাম্প প্রশাসন এ অর্থকে ‘ক্ষতিপূরণ’ বলতে রাজি নয়। তারা এটিকে ‘আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ তহবিল’ হিসেবে উল্লেখ করছে।   চুক্তির অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ ছাড় করা হবে। পাশাপাশি অবিলম্বে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রির অধিকার ফিরে পাবে তেহরান।   অন্যদিকে এই চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ লুকাচ্ছে না ইসরায়েল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করা দেশটি চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার ব্যক্তিগত আলোচনায় এই সমঝোতাকে ‘গভীর হতাশাজনক’ বলে উল্লেখ করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   এদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের সেনারা অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান করবে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৭:৬
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ঐতিহাসিক চুক্তির খসড়া ইসরায়েলকে দেখতে দিল না ওয়াশিংটন

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে কঠোর পরিণতি, ইসরায়েলকে ইরানের হুঁশিয়ারি

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিরক্ষা বাজেটে কাটছাঁট হলেও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে অনড় তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট

ছবি: সংগৃহীত
হিজবুল্লাহ মোকাবিলায় ইসরায়েলের বিকল্প হিসেবে সিরিয়ার প্রেসিডেন্টকে চান ট্রাম্প

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিষয়টি সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা’র নিজেরই সামলানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অতিমাত্রায় সাধারণ বা বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে উল্লেখ করে ট্রাম্প এই পরামর্শ দেন।   তিনি মনে করেন, ইসরায়েল যদি সাধারণ মানুষকে হত্যা না করে এই সংকট মোকাবিলা করতে না পারে, তবে সিরিয়ারই এই দায়িত্ব নেওয়া উচিত।   ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ (G-7) শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া এক বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা’র ভূয়সী প্রশংসা করেন। ট্রাম্প বলেন, সিরিয়ার নতুন নেতা দেশ পরিচালনায় একটি অসাধারণ কাজ করছেন।   ট্রাম্পের মতে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসরায়েল যদি সবাইকে হত্যা না করে নিজের দায়িত্ব সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়, তবে সিরিয়াই এই কাজটি করবে এবং আল-শারা নিজেই তা করে দেখানোর সক্ষমতা রাখেন।   সাবেক বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার ক্ষমতায় আসা সাবেক এই বিদ্রোহী যোদ্ধাকে বেশ শক্ত প্রকৃতির নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।   ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, আহমেদ আল-শারা কোনো ‘বয় স্কাউট’ বা অনভিজ্ঞ ব্যক্তি নন, বরং হিজবুল্লাহর সাথে ডিল করার ক্ষেত্রে তিনি বেশ পটু ও দক্ষ। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সিরিয়ার এই নতুন নেতা হিজবুল্লাহকে মোটেও পছন্দ করেন না।   ফলে হিজবুল্লাহ দমনে ইসরায়েলের বিকল্প হিসেবে সিরিয়াই সবচেয়ে কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৫:২৭
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

পারমাণবিক অস্ত্র বানালে ইরানে নরক নেমে আসবে, চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

হরমোজ প্রণালিতে মাইন অপসারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্মতি চায় জার্মানি

ছবি: সংগৃহীত

কানাডায় মে মাসে বাড়ি বিক্রি বেড়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ, দাম কিছুটা কম

ছবিঃ এ এফ পি
লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় বেসামরিক প্রাণহানির কড়া সমালোচনা করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের এই যুদ্ধ 'অতিরিক্ত দীর্ঘ' হয়েছে এবং এর ফলে অসংখ্য বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।   মঙ্গলবার ফ্রান্সে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, "ইসরায়েল অনেক দিন ধরেই হিজবুল্লাহর সাথে লড়ছে এবং এতে বহু মানুষ মারা গেছে।" এত ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের আর কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।   ইসরায়েলি সামরিক কৌশলের সমালোচনা করে ট্রাম্প আরও বলেন, "কাউকে খোঁজার জন্য প্রতিবার পুরো একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ওই ভবনগুলোতে এমন অনেক মানুষ থাকেন, যাদের সবাই হিজবুল্লাহর সদস্য নন।" তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইসরায়েল যদি বাকি সাধারণ মানুষকে হত্যা না করে তাদের অভিযান পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়, তবে এই লড়াইয়ে তাদের বদলে সিরিয়ার এগিয়ে আসা উচিত।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, লেবাননে হিজবুল্লাহর মোকাবিলা করার জন্য তিনি ইসরায়েলকে সিরিয়ার হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এড়িয়ে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে দামেস্ক আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে।   সিরিয়ার বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর দেশটির নতুন প্রশাসন স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আহমেদ আল-শারা।   সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় ট্রাম্প তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট এরদোগান এবং আরও কয়েকজনের সহায়তায় সিরিয়ার নেতৃত্ব দেশটিকে ঐক্যবদ্ধ করতে 'অসাধারণ কাজ' করছে।   সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, "তিনি হয়তো নিষ্কলঙ্ক কোনো সাধু ব্যক্তি (স্কাউট বয়) নন, তবে তিনি পরিস্থিতি সামাল দিয়ে অসাধারণ কাজ করেছেন এবং তিনি খুবই দক্ষ।" ট্রাম্পের এই মন্তব্য সিরিয়ার নেতৃত্বের প্রতি ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান আস্থারই ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি, প্রতিবেশী লেবাননে হিজবুল্লাহর প্রভাব খর্ব করার ক্ষেত্রে দামেস্ককে সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণে পরিবর্তনেরও স্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১২:১৮
বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ | ছবি: সংগৃহীত

‘নামাজ পড়তে হলে বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে যান’, দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক

ছবি: ফাইল ফটো

ভবানীপুরের নির্বাচনি ফল চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ছবি: সংগৃহীত

২ বছরে ৬৩ হাজার শিক্ষার্থীকে ভুল রেজাল্ট দেওয়ায় IELTS কর্তৃপক্ষকে ৮ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা

0 Comments