সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

তামিলনাড়ু

প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগে ভারতের সাবেক সেনা কর্মকর্তা বাবুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
প্রেমিকার কাছে প্রতিরক্ষার গোপন তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ভারতের সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

ভারতের প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য প্রেমিকার কাছে সরবরাহের অভিযোগে দেশটির সেনাবাহিনীর সাবেক এক ক্যাপ্টেনকে গ্রেপ্তার করেছে তামিলনাড়ু পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম বাবু (৫২)। তিনি একসময় ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিওতে কাজ করেছেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তাঁর কাছ থেকে সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট নারীর পরিচয়, জাতীয়তা এবং তথ্যগুলো অন্য কারও কাছে পাঠানো হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।   সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তামিলনাড়ুর ভেলোর অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিরুভান্নামালাই জেলার আরানির কাছাকাছি একটি গোপন আস্তানায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করেন তদন্তকারীরা। পরে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহের অভিযোগের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সম্ভাব্য বিদেশি সংযোগের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।   পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এক নারীর সঙ্গে বাবুর ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, প্রেমের সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ওই নারী ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে থাকতে পারেন। তবে তাঁদের মধ্যে কত দিন ধরে যোগাযোগ ছিল এবং ঠিক কী ধরনের তথ্য আদান-প্রদান হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে তথ্যগুলো কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা বিদেশি সংস্থার কাছে পৌঁছেছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।   ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নারীর পরিচয় নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। তিনি পাকিস্তানের নাগরিক কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। তাঁর জাতীয়তা ও অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এ জন্য হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষের কাছে যোগাযোগের ইন্টারনেট প্রটোকল ঠিকানাসংক্রান্ত তথ্য চাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের। এসব তথ্য পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের উৎস সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যেতে পারে।   তবে অনলাইনে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেলেই ওই নারীর জাতীয়তা কিংবা কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হবে, এমন নয়। তদন্তকারীদের এখনো তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বাবুর সঙ্গে যোগাযোগের উদ্দেশ্য এবং প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত কোনো তথ্য অন্যত্র পাঠানো হয়ে থাকলে তার প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ওই নারীকে পাকিস্তানি নাগরিক কিংবা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই।   এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য অনুমোদন ছাড়া অন্য কাউকে সরবরাহ করা যায় না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত বাবু আগে ডিআরডিওতে কর্মরত ছিলেন। এ কারণে তাঁর পূর্ববর্তী পেশাগত দায়িত্ব এবং প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি কোন সময়ে ডিআরডিওতে কাজ করেছেন এবং সেখানে কী ধরনের দায়িত্ব পালন করতেন, সে সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাবু ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোলন্দাজ রেজিমেন্টে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৯৪ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। পরবর্তী সময়ে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তদন্তকারীরা তাঁর সামরিক কর্মজীবন এবং পরবর্তী পেশাগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান অভিযোগের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করছেন।   গ্রেপ্তারের পর বাবুকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীরা তাঁর যোগাযোগের তথ্য এবং ডিজিটাল নথি পরীক্ষা করছেন। এর মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানের পরিধি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং সম্ভাব্য বিদেশি যোগাযোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অভিযোগ স্বীকার করেছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   তদন্তে আরও জানার চেষ্টা চলছে, প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত যে তথ্য সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো বাবুর কাছে কীভাবে এসেছিল। তিনি আগে কর্মরত থাকার সময় এসব তথ্য পেয়েছিলেন, নাকি পরবর্তী সময়ে অন্য কোনো মাধ্যমে সংগ্রহ করেছিলেন, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। একইভাবে তথ্যগুলো কতটা সংবেদনশীল এবং সেগুলো প্রকাশের ফলে কোনো নিরাপত্তাগত ক্ষতি হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   অভিযুক্ত বাবুর বিরুদ্ধে কোন নির্দিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে কিংবা আদালতে হাজির করার পর কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, সেটিও জানা যায়নি। ফলে পুলিশের সন্দেহ ও গ্রেপ্তারের ঘটনাকে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করতে হবে।   আপাতত সংশ্লিষ্ট নারীর পরিচয় শনাক্ত, ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের অভিযোগ যাচাইয়ের কাজ চলছে। পুলিশ সম্ভাব্য বিদেশি গোয়েন্দা সংযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই নারীর জাতীয়তা কিংবা কোনো বিদেশি সংস্থার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়নি। তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির ভিত্তিতে ঘটনার বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইসলাম গ্রহণ করা ছেলেকে ওমরাহ পালনে মক্কায় পাঠাল তামিলনাড়ুর হিন্দু পরিবার
ইসলাম গ্রহণ করা ছেলেকে ওমরাহ পালনে মক্কায় পাঠাল তামিলনাড়ুর হিন্দু পরিবার

ভারতের তামিলনাড়ুতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা এক তরুণের ওমরাহ পালনের খরচ তাঁর হিন্দু পরিবার বহন করেছে বলে সামাজিক মাধ্যমে একটি ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচারিত বিবরণ অনুযায়ী, ছেলের ধর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে বাধা না দিয়ে পরিবার তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে সম্মান জানিয়েছে। এমনকি পবিত্র মক্কায় ওমরাহ পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণ খরচও দিয়েছে।   সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি আলোচনায় এসেছে। ছবিটি বিমানবন্দরে ওই তরুণকে বিদায় জানানোর মুহূর্তের বলে দাবি করা হচ্ছে। ছবির সঙ্গে দেওয়া বিবরণে বলা হয়েছে, পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি নিরাপদ যাত্রার জন্য প্রার্থনাও করেছেন।   প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর একটি হিন্দু পরিবারে জন্ম নেওয়া তরুণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ধর্ম পরিবর্তনের পরও পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বজায় থাকে। পরিবারের সদস্যরা তাঁর নতুন ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখানোর সিদ্ধান্ত নেন।   এরই ধারাবাহিকতায় তরুণটি ওমরাহ পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করলে পরিবার তাঁর যাতায়াতের খরচ বহন করে বলে দাবি করা হচ্ছে।   সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটি ধর্মীয় সহাবস্থান ও পারিবারিক সম্প্রীতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। ভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যেও পারিবারিক সম্পর্ক এবং একে অন্যের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।   তবে প্রচারিত বিবরণে ওই তরুণ কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তামিলনাড়ুর কোন এলাকার বাসিন্দা তাঁরা, কবে ওই তরুণ ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং কখন ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন, সে সম্পর্কেও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।   একইভাবে পরিবারের পক্ষ থেকে ভ্রমণের সম্পূর্ণ খরচ বহনের দাবিটিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বিমানবন্দরের ছবিটির মূল উৎস ও তোলার সময় সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   ফলে সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটি প্রশংসিত হলেও এর বিস্তারিত বিবরণ এখনো যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।   ধর্মীয় পরিচয়ের পার্থক্য সত্ত্বেও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্পর্ক বজায় রাখার যে বার্তা ছবিটির মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, সেটিই মূলত সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যোগ্য নবজাতকদের এক গ্রাম ওজনের সোনার আংটি দেওয়ার নতুন কর্মসূচি চালু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
তামিলনাড়ুতে সরকারি হাসপাতালে জন্মালেই নবজাতক পাবে সোনার আংটি

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যোগ্য নবজাতকদের এক গ্রাম ওজনের সোনার আংটি দেওয়ার নতুন কর্মসূচি চালু হয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানো এবং হাসপাতালে সন্তান জন্মদানে পরিবারগুলোকে উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে সোমবার কর্মসূচিটি চালু করা হয়। রাজ্য সরকারের তথ্য বিভাগের বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।   তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় কর্মসূচিটির উদ্বোধন করেন। এর আওতায় সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী নবজাতকদের এক গ্রাম ওজনের একটি করে সোনার আংটি দেওয়া হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাতৃত্বকে সম্মান জানানো, নারীর স্বাস্থ্যকে উৎসাহিত করা এবং সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার বাড়ানো এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২২ জুন ২০২৬ বা তার পর তামিলনাড়ুর সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুরা এই কর্মসূচির আওতায় আসবে। প্রাথমিক পর্যায়ের জন্য রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার সোনার আংটি সংগ্রহ করেছে। ফলে কর্মসূচিটি শুধু ভবিষ্যতে জন্ম নেওয়া শিশুর জন্য নয়, নির্ধারিত তারিখের পর সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যোগ্য নবজাতকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।   এই কর্মসূচির পেছনে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবহারে পরিবারগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। বিশেষ করে সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে পরিবারগুলোকে সরকারি হাসপাতাল বেছে নিতে উৎসাহিত করার একটি প্রণোদনা হিসেবে আংটি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে প্রসবের সঙ্গে এই উপহারকে যুক্ত করে নবজাতকের পরিবারকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।   কর্মসূচিটি তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গেও যুক্ত। দলটি চলতি বছর তামিলনাড়ুর ক্ষমতায় আসে। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া কর্মসূচিগুলোর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানে জন্ম নেওয়া শিশুদের সোনার আংটি দেওয়ার বিষয়টিও ছিল। পরে সেটিই সরকারি কর্মসূচি হিসেবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।   তামিলনাড়ু সরকারের এই উদ্যোগ এমন সময়ে চালু হলো, যখন রাজ্যটিতে জন্মসংখ্যা নিয়ে আলোচনাও রয়েছে। ২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় রাজ্যে প্রায় ৪৫ হাজার কম জন্ম নথিভুক্ত হয়েছিল বলে আনাদোলুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার।   সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য এক গ্রাম সোনার আংটি দেওয়ার এই উদ্যোগকে রাজ্য সরকার জনস্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করছে। একই সঙ্গে নারীর স্বাস্থ্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবকে উৎসাহিত করার বিষয়টিও কর্মসূচির ঘোষিত উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে।   প্রাথমিক পর্যায়ে ১ লাখ ২৮ হাজার আংটি সংগ্রহের তথ্য থেকে বোঝা যায়, কর্মসূচিটি বড় পরিসরে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে এর মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রসবের হার বা জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা ভবিষ্যতে কর্মসূচির বাস্তবায়ন ও পরিসংখ্যানের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা যাবে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
বিধানসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীল হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন থালাপতি বিজয়। ছবি: সংগৃহীত
নারীদের অপমান করলে ছাড় নয়, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি থালাপতি বিজয়ের

নারীদের নিয়ে অবমাননাকর বা কুরুচিকর মন্তব্য কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে সতর্ক করেছেন ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক কারণে তীব্র সমালোচনা করা যেতে পারে, তবে নারীদের অসম্মান করে কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়। বিধানসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি সেই স্বাধীনতা ব্যবহারে দায়িত্বশীল হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।   বিজয় বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অধিকার। তবে সেই স্বাধীনতা কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। রাজনৈতিক সমালোচনার ক্ষেত্রে ব্যক্তি, নারী বা অন্য কাউকে হেয় না করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক কারণে সমালোচনা করা গেলেও কোনো নারীকে অসম্মান করে বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়।   তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যটির রাজনীতিতে নারীদের নিয়ে অশালীন ও বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জনসমক্ষে কথা বলার সময় ঘরে থাকা নারীদের, বিশেষ করে মা ও বোনের মর্যাদার কথা মনে রাখার আহ্বান জানান তিনি। নারীদের নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার কথাও বলেন বিজয়।   বিজয় আরও বলেন, তিনি আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, তার পেছনে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পরিবারের নারীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নারীদের নিয়ে অশালীন বা মানহানিকর মন্তব্য করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। রাজনৈতিক বক্তব্যের ক্ষেত্রেও নারীদের সম্মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী।   বিজয়ের এই বক্তব্য এসেছে বিরোধীদলীয় নেতা উদয়নিধি স্টালিনের বিরুদ্ধে অভিনেত্রী তৃষাকে নিয়ে কথিত দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্যের বিতর্কের কয়েক দিন পর। আগস্টে কাবেরী নদী নিয়ে একটি প্রতিবাদ সভায় উদয়নিধি এমন একটি মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা তৃষাকে ইঙ্গিত করে করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।   তবে ডিএমকে দাবি করেছে, উদয়নিধির বক্তব্য সম্পাদনা করে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। দলটির দাবি, উদয়নিধি তাঁর বক্তব্যে তৃষার নাম উচ্চারণ করেননি। এ নিয়ে বিতর্কের পর বিষয়টি তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনায় আসে।   ঘটনার পর পুলিশ উদয়নিধিকে হেফাজতে নেয়। পরে মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারীদের নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য, মন্তব্যের ভাষা এবং এর আইনি পরিণতি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।   বিধানসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় বিজয় অতীতের ঘটনাগুলোর কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একই বিরোধী দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে আগেও নারীদের অপমানের অভিযোগ উঠেছিল। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতাকে একই বিধানসভায় অপমান করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   অন্যদিকে, বিধানসভার অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় উদয়নিধি বিজয়ের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী ডিএমকের বিরুদ্ধে একাধিক ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন। তবে বিরোধী দলকে এসব অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।   উদয়নিধি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রায় ১১ মিনিট পুলিশ বিভাগ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তারা নীরবে শুনেছেন। এরপর তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হলেও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগ করলেই তা সত্য হয়ে যায় না। যেকোনো অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকতে হবে।   নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের বিষয়ে বিজয়ের সতর্কবার্তার পাশাপাশি উদয়নিধির বক্তব্যে রাজনৈতিক অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগের বিষয়টিও সামনে এসেছে। বিজয় নারীদের সম্মান বজায় রেখে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং অশালীন বা মানহানিকর মন্তব্যের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।   অন্যদিকে, উদয়নিধি মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে ডিএমকের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের সমালোচনা করে সেগুলোর পক্ষে প্রমাণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ফলে বিধানসভায় বিজয়ের বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন অবস্থান সামনে এসেছে।   সূত্র: এনডিটিভি

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রেমিকের নতুন বাইকের শখ পূরণ করতে ৯ ভরি স্বর্ণ চুরির অভিযোগ উঠেছে ১৯ বছর বয়সী এক কলেজছাত্রীর বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত
প্রেমিককে নতুন বাইক কিনে দিতে স্বর্ণ চুরির অভিযোগ, কলেজছাত্রী গ্রেপ্তার

ভারতের তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর জেলার পোল্লাচিতে বাবার বন্ধুর বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী এক কলেজছাত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, চুরি করা স্বর্ণ বিক্রি করে পাওয়া অর্থ দিয়ে প্রেমিকের জন্য নতুন মোটরসাইকেল কিনে দেন তিনি।   গ্রেপ্তার তরুণীর নাম আর. জয় প্রিন্সি। তিনি পোল্লাচি গভর্নমেন্ট আর্টস কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পুলিশের দাবি, গত ১৬ আগস্ট প্রিন্সি তার বাবার বন্ধু এইচ. তামিলসেলভানের বাড়িতে যান। এ সময় বাড়ির আলমারিতে রাখা প্রায় ৭২ গ্রাম স্বর্ণালংকার চুরি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বাংলাদেশি হিসাবে এটি প্রায় ৬ ভরি ২ আনা স্বর্ণ।   পরে চুরি করা স্বর্ণ পোল্লাচির একটি জুয়েলারি দোকানে প্রায় আড়াই লাখ রুপিতে বিক্রি করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, সেই অর্থ দিয়েই নিজের প্রেমিক ২০ বছর বয়সী জনাগান শিবার জন্য একটি নতুন মোটরসাইকেল কেনেন প্রিন্সি।   নতুন মোটরসাইকেল কেনার পর শোরুমে প্রিন্সি ও তার প্রেমিকের উদযাপনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে।   এদিকে স্বর্ণালংকার খোয়া যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে তামিলসেলভান পোল্লাচি ইস্ট থানায় অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ প্রিন্সিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি চুরির কথা স্বীকার করেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।   এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়। তবে প্রিন্সির প্রেমিক জনাগান শিবা এখনও পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
সরকারি কোটায় ভর্তি হওয়া মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের পুরো টিউশন ফি বহনের ঘোষণা দিয়েছে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় সরকার। ছবি: সংগৃহীত
মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের স্নাতক শিক্ষার পুরো খরচ দেবে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় সরকার

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় সরকারের নেতৃত্বাধীন সরকার সরকারি কোটায় ভর্তি হওয়া মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায়ের পুরো টিউশন ফি বহনের ঘোষণা দিয়েছে। এই সুবিধার আওতায় বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা শিক্ষা খরচে সরকারি সহায়তা পাবেন।   সরকারি, অনুদানপ্রাপ্ত এবং স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই সুবিধা কার্যকর হবে। কলা, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসা, কৃষি ও আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করা মুসলিম নারী শিক্ষার্থীরা এই সহায়তার আওতায় থাকবেন।   এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে ২০ কোটি রুপি বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারি কোটায় ভর্তি হওয়া মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায়ের টিউশন ফি বহনের জন্য এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।   শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের সহায়তার পাশাপাশি স্কুলছাত্রীদের জন্য বৃত্তির পরিধি বাড়ানোর ঘোষণাও দিয়েছে সরকার। মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে চেন্নাইয়ে একটি নতুন নারী কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   এ ছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পদের জন্য সুদমুক্ত অর্থায়নের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পদ উন্নয়নে এই অর্থায়ন ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।   তরুণদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে যুবকদের দক্ষতা প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   সরকারের ঘোষিত বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায়ের পুরো টিউশন ফি বহনের বিষয়টি অন্যতম। সরকারি কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য কলা, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসা, কৃষি ও আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে এই সহায়তা দেওয়া হবে।   প্রাথমিকভাবে ২০ কোটি রুপি বরাদ্দের পাশাপাশি স্কুলছাত্রীদের বৃত্তি সম্প্রসারণ, চেন্নাইয়ে নতুন নারী কলেজ স্থাপন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পদের জন্য সুদমুক্ত অর্থায়ন এবং তরুণদের দক্ষতা প্রশিক্ষণের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
থালাপতি বিজয় । ছবি: সংগৃহীত
কংগ্রেসের সমর্থনে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়

ভারতের তামিলনাড়ু রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়, যিনি ভক্তদের কাছে ‘থালাপতি’ নামে পরিচিত, তার দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) সরকার গঠনের পথে এগিয়ে রয়েছে।   সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪ আসনের মধ্যে টিভিকে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দলে পরিণত হয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন, ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলে গেছে।   এই অবস্থায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস টিভিকেকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তামিলনাড়ু প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানা গেছে, নতুন সরকারে অংশীদার হিসেবে কংগ্রেস মন্ত্রিসভায় দুটি মন্ত্রী পদসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব চাইতে পারে।   দীর্ঘদিন ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতি ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৬৭ সালের পর থেকে এই দুই দলই পালাক্রমে ক্ষমতায় ছিল। এবারের নির্বাচনে সেই ধারায় পরিবর্তন এসেছে।   টিভিকে ডিএমকেকে পেছনে ফেলে এবং এআইএডিএমকেকে তৃতীয় স্থানে নামিয়ে সরকার গঠনের অবস্থানে পৌঁছেছে। চেন্নাইয়ে দলীয় বৈঠকের পর জানা গেছে, আগামী ৭ মে বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন মন্ত্রীও শপথ নেবেন।   এদিকে বামপন্থী দলসহ ছোট দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে টিভিকে। এসব দলের সমর্থন পেলে একটি স্থিতিশীল জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হবে।  

Unknown মে ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০