ভারতের তামিলনাড়ু রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়, যিনি ভক্তদের কাছে ‘থালাপতি’ নামে পরিচিত, তার দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) সরকার গঠনের পথে এগিয়ে রয়েছে।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪ আসনের মধ্যে টিভিকে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দলে পরিণত হয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন, ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলে গেছে।
এই অবস্থায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস টিভিকেকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তামিলনাড়ু প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানা গেছে, নতুন সরকারে অংশীদার হিসেবে কংগ্রেস মন্ত্রিসভায় দুটি মন্ত্রী পদসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব চাইতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতি ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৬৭ সালের পর থেকে এই দুই দলই পালাক্রমে ক্ষমতায় ছিল। এবারের নির্বাচনে সেই ধারায় পরিবর্তন এসেছে।
টিভিকে ডিএমকেকে পেছনে ফেলে এবং এআইএডিএমকেকে তৃতীয় স্থানে নামিয়ে সরকার গঠনের অবস্থানে পৌঁছেছে। চেন্নাইয়ে দলীয় বৈঠকের পর জানা গেছে, আগামী ৭ মে বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন মন্ত্রীও শপথ নেবেন।
এদিকে বামপন্থী দলসহ ছোট দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে টিভিকে। এসব দলের সমর্থন পেলে একটি স্থিতিশীল জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
চেক প্রজাতন্ত্রে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের অর্থায়নব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রস্তাবকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। সরকারের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে দেশটির পাবলিক মিডিয়ার কর্মীরা এক দিনের ‘সতর্কতামূলক’ ধর্মঘট পালন করেছেন। সোমবার রাজধানী প্রাগে চেক টেলিভিশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়। এর আগের দিনও একই দাবিতে সেখানে বড় ধরনের সমাবেশ হয়। কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, যা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে চলমান বিক্ষোভের ধারাবাহিকতার অংশ। ধর্মঘটকারীদের অভিযোগ, সরকারের প্রস্তাবিত নতুন অর্থায়নব্যবস্থা কার্যকর হলে চেক টেলিভিশন ও চেক রেডিওর স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের আশঙ্কা, প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ বাবিসের নেতৃত্বাধীন সরকার গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, লাইসেন্স ফি পদ্ধতি বাতিল করে পাবলিক মিডিয়াগুলোকে সরাসরি রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে অর্থায়ন করা হবে। গত সপ্তাহে দীর্ঘ আলোচনার পর মন্ত্রিসভা এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেয়। তবে এতে অর্থায়নের পরিমাণ ২০০৮ সালের স্তরে নামিয়ে আনার প্রস্তাব রয়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, মাত্র এক বছর আগে পূর্ববর্তী সরকার ১৭ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এই খাতে অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বাবিস দাবি করেছেন, নতুন ব্যবস্থা নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য ন্যায্য হবে এবং এতে গণমাধ্যমগুলো আরও দক্ষভাবে পরিচালিত হবে। তবে সমালোচকদের মতে, রাষ্ট্রীয় বাজেটনির্ভরতা বাড়লে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগও বেড়ে যাবে। তারা হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে সতর্ক করেছেন, যেখানে অনুরূপ পদক্ষেপের ফলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম পর্যবেক্ষক সংস্থাও চেক সরকারের এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এ ধরনের পরিবর্তন রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ধর্মঘট চলাকালে চেক টেলিভিশনের কয়েকটি অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট পরে প্রচার শুরু হয় এবং পর্দায় কাউন্টডাউন প্রদর্শন করা হয়। এ সময় সাংবাদিকরা কালো পোশাক পরে ‘আমরা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নই’ এবং ‘স্বাধীনতা মানে খরচ নয়’ লেখা ব্যানার হাতে প্রতিবাদ জানান। নতুন পরিকল্পনা কার্যকর হলে আগামী বছর পাবলিক মিডিয়ার বাজেট প্রায় ১৫ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা। এতে শত শত কর্মী ছাঁটাই এবং বহু অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেডিও ও টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি ঘিরে দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে, এবং সরকার ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে এই বিরোধ কীভাবে সমাধান হবে, সেদিকে এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলেরও।
ইরানের জব্দ থাকা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেছেন, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আলোচনার মাধ্যমে এই সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে এবং এটি দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বৃহত্তর সমঝোতা স্মারকের তাৎক্ষণিক ফলাফল। সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গালিবাফ বলেন, “জব্দ থাকা ১২ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সুইজারল্যান্ডে চূড়ান্ত হয়েছে।” তিনি জানান, এই ১২ বিলিয়ন ডলার মূলত ৬ বিলিয়ন ডলারের দুটি পৃথক অংশ নিয়ে গঠিত, যা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকের আওতায় তেহরান যে বড় অর্জনগুলো নিশ্চিত করেছে, এই অর্থ ছাড় তার অন্যতম। চুক্তির অংশ হিসেবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন গালিবাফ। তিনি বলেন, চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল রপ্তানি, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার থাকবে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং, বীমা এবং পরিবহন খাতেও এই শিথিলতার প্রভাব পড়বে। গালিবাফের মতে, এই সমঝোতা শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এটি সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক উপসহকারী সচিব হেনরি এংশার এই পরিস্থিতিকে চুক্তির বাস্তবায়নের প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “দুই পক্ষই এখন এমন একটি অবস্থান তুলে ধরতে চায়, যাতে বোঝায় তারা আলোচনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বা অন্তত ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।” তার মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারসহ বিভিন্ন জাহাজের চলাচল স্বাভাবিক হওয়া চুক্তি বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে। “অর্থপ্রবাহ শুরু হওয়া এবং তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা—এটাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূচক,” বলেন তিনি। বিশ্লেষকদের ধারণা, ওয়াশিংটন ও তেহরান একদিকে দ্রুত কিছু বাস্তব সুবিধা নিশ্চিত করতে চাইছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানও শক্তিশালীভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক সম্পদ বিভিন্ন দেশে আটকে রয়েছে। সাম্প্রতিক এই অগ্রগতি সেই জটিল অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েল সীমান্তের কাছে একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ অস্ত্র কারখানার সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। সংস্থাটির অভিযোগ, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এই স্থাপনাটি ব্যবহার করে উন্নত ড্রোন তৈরি ও পরিচালনা করত, যার পেছনে ইরান-এর আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা ছিল। ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল সোমবার (২২ জুন) এক প্রতিবেদনে জানায়, দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল জৌন গ্রামে একটি সুড়ঙ্গপথের সন্ধান পায় আইডিএফ। ইসরায়েলি সীমান্ত থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওই সুড়ঙ্গ দিয়ে প্রবেশ করে সেনারা পাহাড়ের নিচে নির্মিত একটি বড় ভূগর্ভস্থ স্থাপনা খুঁজে পায়। আইডিএফের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকশ মিটার দীর্ঘ এই সুড়ঙ্গের গভীরে, প্রায় ২৯ মিটার নিচে অবস্থিত অস্ত্রভান্ডারটি বিস্ফোরণরোধী বিশেষ ইস্পাতের দরজায় সুরক্ষিত ছিল। ভেতরে ড্রোন তৈরির উপযোগী একাধিক কক্ষ, সংরক্ষণাগার ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, গত এক দশকে ইরানের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই স্থাপনাটি গড়ে তোলা হয়। চোরাইপথে আনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে সেখানে ড্রোন তৈরি করা হতো এবং সেগুলো দিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ছিল। অভিযান চালিয়ে ওই স্থান থেকে প্রায় ৫০টি ড্রোন এবং প্রায় আট টন বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ। পাশাপাশি পাহাড়ের দক্ষিণাংশে ড্রোন উৎক্ষেপণের জন্য ব্যবহৃত একটি বিশেষ লঞ্চিং পয়েন্টও শনাক্ত করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধার করা ড্রোনগুলো দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি ছিল। এই অভিযানের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর সেই সক্ষমতা অনেকটাই নষ্ট করা গেছে। সম্প্রতি আইডিএফ ওই ভূগর্ভস্থ স্থাপনার কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের সেখানে নিয়ে গিয়ে পুরো এলাকা পরিদর্শনের সুযোগও দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে এখনো হিজবুল্লাহ বা ইরান-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিতে পারে, বিশেষ করে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।