ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

জাতীয় সংসদ ভবন। ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ — সভাপতিত্ব কে করবেন

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ–এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী ১২ মার্চ। নতুন সংসদের এই অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে অধিবেশনের শুরুতে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।   নির্বাচন–পরবর্তী নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় এবং প্রথমেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু এবার বিদায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতি নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।   গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এরপর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান এ এম এম নাসির উদ্দীন।   এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্বের বিষয়টি এখনো আলোচনা হয়নি। আগামী কার্যক্রম সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হবে।   সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, কোনো সদস্য অধিবেশনের অন্তত এক ঘণ্টা আগে অন্য কোনো সদস্যকে স্পিকার পদে নির্বাচনের জন্য সংসদ সচিবের কাছে লিখিত প্রস্তাব দিতে পারেন। প্রস্তাবটি তৃতীয় কোনো সদস্যের সমর্থনসহ জমা দিতে হয়। প্রস্তাবিত ব্যক্তি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নিতে সম্মত—এমন ঘোষণাও সংযুক্ত থাকতে হবে।   তবে কেউ নিজের নাম প্রস্তাব বা সমর্থন করতে পারবেন না এবং নিজের নির্বাচনের সময় সভাপতিত্বও করতে পারবেন না।   দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ছিলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন এবং এরপর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে।   সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদের প্রথম বৈঠকে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হবে। কোনো পদ শূন্য হলে সাত দিনের মধ্যে অথবা সংসদ বৈঠকরত না থাকলে পরবর্তী প্রথম বৈঠকে তা পূরণ করতে হবে।   সংসদ গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির মনোনীত (প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে) কোনো ব্যক্তি স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে পারেন।   সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার কিংবা সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের অনুপস্থিতিতে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে প্রস্তাবের মাধ্যমে একজনকে সভাপতিত্বের জন্য নির্বাচিত করা যেতে পারে।   এবারের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি কারো নাম মনোনীত করবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংবিধান ও সংসদের বিধি অনুসরণ করেই প্রথম অধিবেশন পরিচালনা করা হবে।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ১২ মার্চের অধিবেশনের দিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফাইল ছবি
তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনে কাকে মনোনয়ন দেবে বিএনপি?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭—দুটি আসনে বিজয়ী হন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সংবিধান অনুযায়ী একাধিক আসনে নির্বাচিত হলেও একজন সংসদ সদস্য কেবল একটি আসন রাখতে পারেন। সে অনুযায়ী তিনি ঢাকা-১৭ আসন রেখে বগুড়া-৬ আসনটি নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে ছেড়ে দেন। ফলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।   এখন প্রশ্ন—বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন?   বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র বগুড়া জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন জানান, দলীয় প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তফসিল ঘোষণার পর দলের হাইকমান্ড যথাসময়ে প্রার্থিতা ঘোষণা করবে।   তিনি বলেন, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসন ঐতিহ্যগতভাবে জিয়া পরিবারের শক্ত ঘাঁটি। অতীতে এসব আসনে বিএনপির প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।   সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কয়েকটি নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ডা. জোবাইদা রহমান, ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর (পাভেল), বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র রেজাউল করিম (বাদশা), সাবেক সভাপতি একেএম মাহবুবুর রহমান, সাইফুল ইসলাম এবং সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার।   তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।   নির্বাচনের ফলাফল গত নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমান ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী পান প্রায় ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট।   ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থীরা ধারাবাহিকভাবে বিজয়ী হন। বিশেষ করে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়ী হন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।   উপনির্বাচনে জিয়া পরিবারের কেউ প্রার্থী হবেন, নাকি স্থানীয় কোনো নেতা—সে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বগুড়া-৬ আসনের ভোটার ও রাজনৈতিক মহল।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর করায় ড. ইউনূসকে ধন্যবাদ ইইউর
শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য ড. ইউনূসকে ধন্যবাদ দিয়েছে ইইউ, নতুন প্রধানমন্ত্রীরও অভিনন্দন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপি’র কাছে সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফের অভিনন্দন জানিয়েছেন তারা।   ইইউ-এর বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আমাদের অবিচল অংশীদার, বৃহত্তম রপ্তানি বাজার এবং ২০২৫ সালে এফডিআইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। আমরা অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সম্পৃক্ততা আরও সম্প্রসারণের অপেক্ষায় রয়েছি।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পাঁচ আসনে ধানের শীষের জয়, তবু মন্ত্রিসভায় জায়গা পেল না নোয়াখালী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিজয় অর্জনের পরও নতুন মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর কোনো প্রতিনিধি স্থান না পাওয়ায় দলীয় নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক হতাশা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।   দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালের পর একতরফা নির্বাচনগুলো বাদ দিলে নোয়াখালীর অধিকাংশ আসনই বরাবরই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দখলে ছিল। এমনকি ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলের ভরাডুবির মধ্যেও জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে জয় আসে। এবারের নির্বাচনে পাঁচটি আসনে বিজয়ী হওয়ায় স্থানীয় নেতা–কর্মীদের মধ্যে আশা তৈরি হয়েছিল যে অন্তত একজন হলেও মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-১ আসনে এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী-২ আসনে জয়নুল আবদিন ফারুক, নোয়াখালী-৩ আসনে বরকতউল্লা বুলু, নোয়াখালী-৪ আসনে মো. শাহজাহান এবং নোয়াখালী-৫ আসনে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন। শুধুমাত্র নোয়াখালী-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী এনসিপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।   জয়নুল আবদিন ফারুক সর্বোচ্চ ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বরকতউল্লা বুলু ও মো. শাহজাহান পাঁচবার করে নির্বাচিত হয়েছেন। মাহবুব উদ্দিন খোকন দ্বিতীয়বার এবং মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।   স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় সব সরকারেই নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব ছিল মন্ত্রিসভায়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সময় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে এবারও জেলার মানুষ একই ধরনের প্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশা করেছিলেন।   জেলা সদরের শ্রীপুরের বাসিন্দা ক্রীড়া সংগঠক মো. জহীর উদ্দিন বলেন, পাঁচটি আসনে ধানের শীষের বিজয়ের পর আমরা আশা করেছিলাম, নোয়াখালীর পরীক্ষিত নেতাদের কেউ না কেউ মন্ত্রী হবেন। দেশনায়ক তারেক রহমান-এর কাছে আমাদের এ প্রত্যাশা রইল।   ব্যবসায়ী আশরাফুল এজাজ বলেন, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা হয়েছে, এটি ইতিবাচক। তবে নোয়াখালী থেকে কাউকে না রাখায় আমরা আশাহত।   জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, নোয়াখালী বরাবরই দলকে আসন উপহার দিয়েছে। এত বর্ষীয়ান নেতা থাকার পরও এবার মন্ত্রী না হওয়াটা দুঃখজনক। লন্ডনপ্রবাসী সাংবাদিক সাহেদ শফিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, দুঃসময়ে রাজপথে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের কেউই মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাননি।   গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য আব্দুজ জাহের বলেন, অন্তত দুই-তিনজন মন্ত্রী হওয়ার আশা ছিল। বর্ধিত মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হলে বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসবে।   জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর বলেন, হৃদয়টা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত। আমাদের প্রতি সুবিচার করা হয়নি। নেতা–কর্মীদের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত ছিল।   তবে হতাশার মধ্যেও অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন মন্ত্রিসভা দক্ষতার পরিচয় দেবে এবং ভবিষ্যতে বর্ধিত মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হতে পারে। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর কেউ স্থান না পাওয়ায় জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও মূল্যায়নের দাবি উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ১১ দলের বিজয় থামানোর দাবি: মিয়া গোলাম পরওয়ার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে সূক্ষ্ম ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ এবং ভোটারদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য জোট। সোমবার বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত সমাবেশে জোটের নেতারা এসব অভিযোগ করেন।   জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, নির্বাচনের দিন প্রশাসনকে ব্যবহার করে ‘ডিপ স্টেট’ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের নামে দেশের মানুষকে বোকা বানানো হয়েছে, এবং নির্বাচনের ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে প্রভাবিত করা হয়েছে।   খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ পরিকল্পিতভাবে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে নির্বাচিত প্রার্থীদের জাতীয় সংসদে যাওয়ার পথে বাধা তৈরি হয়। এছাড়া নির্বাচনের পর জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর দমন-পীড়ন, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, শারীরিক লাঞ্ছনা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।   খুলনা-৫ আসনে হেরে যাওয়া জামায়াতের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনে অনিয়ম করে ১১-দলীয় প্রার্থীদের বিজয় থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি নির্বাচনের পর সহিংসতার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের দাবি জানান।   জোটের অন্যান্য নেতারা বিএনপিকে ‘ভুল পথ’ থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানান। ঢাকা-১২ আসনের বিজয়ী জামায়াত প্রার্থী সাইফুল আলম মিলন বলেন, দেশে সুষ্ঠু গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের জন্য পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হবে।   সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা বায়তুল মোকাররম থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
কুষ্টিয়ায় বিএনপি যুবদলের দুই নেতা বহিষ্কার, চাঁদাবাজি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করার অভিযোগে কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের দুই নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।   বহিষ্কৃতরা হলেন কুমারখালী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. জাকারিয়া আনসার মিলন এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলকর্মী মো. হানিফ কবিরাজ।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন–এর সিদ্ধান্তে মো. জাকারিয়া আনসার মিলনকে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। অপরদিকে মো. হানিফ কবিরাজকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি-আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের জন্য প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।   এ ঘটনায় খাজানগর কবর হাট এলাকায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে হানিফ কবিরাজের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেনা সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
নির্বাচনের নামে ভোট ডাকাতি, এলডিপি’র জয়ের সুযোগ লোপ পেয়েছে: কর্নেল (অব.) অলি আহমদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ–এর নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যোগ দিয়ে সাতটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও একটিতেও জয় পায়নি দলটি।   নিজের নির্বাচনী দুর্গ চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনেও পরাজয় বরণ করেছেন তার ছেলে ওমর ফারুক। নির্বাচন-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল অলি আহমদ বলেন, নির্বাচনের নামে আমাদের ধোঁকা দেওয়া হয়েছে, সমগ্র জাতিকে বোকা বানানো হয়েছে। দিন-রাত সমানতালে ভোট ডাকাতি হয়েছে। যেসব প্রার্থী সাড়ে ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে বেশি ভোট পেয়েছেন, তাদের ব্যালটে ডাবল সিল মেরে বাতিল করা হয়েছে। কোথাও ভোট কম পড়লে নতুন করে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করা হয়েছে। এসব কাজে অনেক প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সরাসরি জড়িত, যা দেশদ্রোহিতার শামিল।   নিজের ছেলে ওমর ফারুকের পরাজয় প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওমর ফারুককে ভোট দিলেও প্রশাসন সেই ভোট ‘হাইজ্যাক’ করে তাকে হারিয়ে দিয়েছে। তিনি এটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ন্যক্কারজনক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।   সংবাদ সম্মেলনে অলি আহমদ জামায়াতে ইসলামীসহ জোটের শরিকদের প্রতি একীভূত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এখন আমরা ১১ দলীয় নির্বাচনী সমঝোতায় আছি। তবে এই ঐক্যকে সুদৃঢ় করতে আমাদের নতুন নাম ও নতুন প্রতীক প্রয়োজন। এলডিপির ‘ছাতা’, জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ কিংবা ‘শাপলা কলি’ নয়—সবাইকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এক ছাতার নিচে আসতে হবে। এতে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরো শক্ত হবে এবং দলগুলোর মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি দূর হবে।   অলি আহমদ জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ১৪০০ মেধাবী সন্তান জুলাই আন্দোলনে শাহাদাত বরণ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও হাজার হাজার প্রাণ ঝরেছে। আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। কেউ এসে হেলায় হেলায় রাজত্ব করবে আর আমরা বসে থাকব, তা হতে পারে না।   সর্বশেষে তিনি দাবি করেন, এলডিপি’র প্রার্থীরা হারেননি, বরং কারচুপির মাধ্যমে তাদের হারানো হয়েছে এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন এখনও এলডিপির পাশে রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মালা দেন নেতা-কর্মীরা। আজ রোববার বিকেলে খুলনা নগরের লোয়ার যশোর রোডের শঙ্খ মার্কেট এলাকায়। ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নেতা–কর্মী উপস্থিতি, খুলনা বিএনপির তীব্র ক্ষোভ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিনের মাথায় খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নেতা–কর্মীদের উপস্থিতি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মাল্যদানকে কেন্দ্র করে খুলনা মহানগর বিএনপি তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে।   রোববার রাতে নগর বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।   রোববার বিকেলে খুলনা নগরের লোয়ার যশোর রোডের শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগ জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো একদল নেতা–কর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়। এই সময় তাঁরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মালা দেন। উপস্থিতরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।   ঘটনার পর সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। এছাড়াও কাঠের দরজা ও কাগজপত্রে আগুন জ্বালানো হয়।   খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড উসকানিমূলক ও সুপরিকল্পিত চক্রান্তের ইঙ্গিত দেয়। এটি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল এবং নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা জড়িতদের অবিলম্বে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।   মাল্যদানের সময় কার্যালয়ে উপস্থিত এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের নেতা–কর্মীদের উদ্যোগে সেখানে প্রবেশ করা হয়। প্রায় ২৫–৩০ জন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু কোনো উল্লেখযোগ্য নেতা ছিলেন না।   উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর খুলনা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এর এক দিন আগে, ৪ আগস্ট, মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল। এরপর থেকে জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে কাউকে যেতে দেখা যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
৩০ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জামায়াতের, নেওয়া হচ্ছে আইনি পদক্ষেপ

আজ শনিবার বিকেলে ঢাকার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে ৩০টি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানানো হয়েছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, পুনর্গণনার আগ পর্যন্ত এসব আসনে ঘোষিত বিজয়ী প্রার্থীদের শপথ স্থগিত রাখারও দাবি জানিয়েছে দলটি।   দাবিকৃত আসনগুলো হলো—ঢাকা ৭, ৮, ১০, ১৩ ও ১৭; পঞ্চগড়-১; ঠাকুরগাঁও ২; দিনাজপুর-৩ ও ৫; লালমনিরহাট-১ ও ২; গাইবান্ধা-৪; বগুড়া-৩; সিরাজগঞ্জ-১; যশোর-১; খুলনা-৩ ও ৫; বরগুনা-১ ও ২; ঝালকাঠি-১; পিরোজপুর-২; ময়মনসিংহ-১, ৪ ও ১০; কিশোরগঞ্জ-৩; গোপালগঞ্জ-২; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫; চাঁদপুর-৪; চট্টগ্রাম-১৪ এবং কক্সবাজার-৪।   জুবায়ের অভিযোগ করেছেন, এই আসনের ফলাফল ইচ্ছাকৃতভাবে বদলে দেওয়া হয়েছে যাতে জামায়াত ও ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীরা হারতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কিছু কর্মকর্তা এই কাজের সঙ্গে জড়িত।   সংবাদ সম্মেলনে দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আবদুল হালিম এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল।   ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী আব্দুল মান্নানও অভিযোগ করেছেন যে ভোট গণনায় ‘কারসাজির’ মাধ্যমে তাকে হারানো হয়েছে।   জুবায়ের জানান, বিষয়টি নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে নিরঙ্কুশ জয় তারেক রহমানের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এ ফলাফল ঘোষণা করেন।   ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের সব কটির ফলাফলে তারেক রহমান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতের বগুড়া শহর শাখার আমির আবিদুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট।   বগুড়া পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। ভোট পড়েছে ৭১ দশমিক ৩ শতাংশ।   এর আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই আসনে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচিত হয়েছিলেন।   গণভোটের ফলাফল একই আসনে অনুষ্ঠিত গণভোটে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৯৫ হাজার ৭৮২টি। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৭৯ এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৮০ হাজার ২০৩টি।   ঢাকা-১৭ আসনেও জয় ঢাকা-১৭ আসনেও বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন তারেক রহমান। তিনি পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৮২৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৮৪০ ভোট। ব্যবধান ৭ হাজার ৯৮৫ ভোট।   বগুড়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, বগুড়া-৬ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৪ হাজার ২৯ জন এবং ভোটের হার ৭১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এ আসনে তারেক রহমানের বিপরীতে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
সুন্দরগঞ্জে জাতীয় পার্টির নির্বাচনী সভায় শামীম হায়দার পাটোয়ারী
দেশ বাঁচাতে পারে জাতীয় পার্টি: শামীম হায়দার

জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, একটি দল দেশটাকে পাকিস্তান বানাতে চায়। তারা মা-বোনদের অসম্মান করছেন এবং আজকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক পরিবর্তন করছেন। এই দেশটাকে বাঁচাতে পারে একমাত্র জাতীয় পাটি। সেই সঙ্গে সুন্দরগঞ্জের মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারবে জাতীয় পার্টি। তাই লাঙলে ভোট দিতে হবে। মঙ্গলবার রাতে ধুবনী কঞ্চিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জাতীয় পার্টির নির্বাচনী সভায় প্রাধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।    তিনি বলেন, এই সরকার দেশ চালাতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। মবের ভয়ে এই সরকার বিচার করতে পারছেন না। যারা ৭১ এর চেতনাকে ধুলিসাৎ করেছেন, তাদের বিচার এই দেশের মাটিতে হবে। দেশের জন্য সকল রাজনৈতিক দল আন্দোলন করেছে। সকল দলের ভুলত্রুটি আছে, সেজন্য কোনো দলকে নিষিদ্ধ করা রাজনৈতিক সমাধান হতে পারে না।    শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, দেশে সুশাসন নেই। দেশ একটি ক্লান্তি লগ্নে দাড়িয়ে আছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য জাতীয় পার্টিকে ভোট দিতে হবে। দেড় বছরে সরকার এই দেশকে নরকে পরিণত করেছে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থেকে মবকে মোকাবিলা করার আহ্বান জানান। সুন্দরগঞ্জের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য লাঙলে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাতে হবে। তাহলে সুন্দরগঞ্জের মানুষ শান্তিতে থাকতে পারবেন।    জাপা মহাসচিব বলেন, নির্বাচিত হলে ধুবনী কঞ্চিবাড়িকে একটি আলাদা উপজেলা করব। এটি আমার একটি অসমাপ্ত কাজ।    সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পাটির সাবেক এমপি মো. ওয়াহেদুজ্জামান সরকার বাদশা, উপজেলা জাতীয় পাটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান মন্ডল প্রমুখ। 

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
রাজনীতিতে আর মাস্তানি চলবে না: মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমিরে মজলিস মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, রাজনীতিতে আর মাস্তানি চলবে না। যারা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করবে, তাদের শক্ত হাতে প্রতিরোধ করা হবে।   তিনি বলেন, দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে শাসনের নামে এ দেশের মানুষকে শোষণ করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের চেতনায় সবাই আজ একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ দেখতে চায়। ১৮ কোটি মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।   সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুর-২ আসনের নগরকান্দা এম এন একাডেমি মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   নির্বাচনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে মামুনুল হক বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে প্রশাসনকে জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে। জনসভায় তিনি ফরিদপুর-২ আসনে রিকশা প্রতীকের প্রার্থী শাহ আকরাম আলীর পক্ষে ভোট চান।   সভায় জেলা জামায়াতে ইসলামী ও দশ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর বক্তব্য শুরু হলেও এর আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
সিরাজগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলীতে বিসিক শিল্প পার্ক এলাকায়
যারা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের ‘গুপ্ত’ বলবেন: তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন কোনো ষড়যন্ত্র করে কেউ আবার আপনাদের ভোটের অধিকারকে কেড়ে নিয়ে যেতে না পারে। অনেকেই এসে আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। যারা আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, দেখামাত্র তাদের বলবেন, গুপ্ত তোমরা। কারণ, তাদের গত ১৬ বছর আমরা দেখি নাই। তারা ওদের সঙ্গে মিশে ছিল, যারা ৫ তারিখে পালিয়ে গিয়েছে।’   আজ শনিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলীতে বিসিক শিল্প পার্ক এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জনসভায় সিরাজগঞ্জের ছয়টি ও পাবনার পাঁচটি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন বিএনপির চেয়ারম্যান।   তারেক রহমান বলেন, ‘এই যে আপনারা লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ এখানে একত্র হয়েছেন। আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আমি হয়তো প্রতিপক্ষ সম্পর্কে অনেক কথা বলতে পারতাম; কিন্তু তাতে আপনাদের কোনো লাভ হতো না। বাংলাদেশের মানুষ এখন জানতে চায়, দেখতে চায় যে কোন রাজনৈতিক দল কী পরিকল্পনা গ্রহণ করবে দেশ ও জনগণের জন্য। বিএনপি আপনাদের সামনে পরিকল্পনা দিয়েছে এবং এই মুহূর্তে বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যেই দলের অভিজ্ঞতা আছে কীভাবে দেশকে সুন্দরভাবে সামনের দিকে পরিচালিত করতে হয়। মানুষ তার ওপরেই ভরসা করে, যার অভিজ্ঞতা আছে। এসব গুণ একমাত্র বিএনপির ভেতরেই আছে।’   বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় যেমন কৃষি আছে, তেমন ছোট ছোট মিল-কারখানা আছে। এই মুহূর্তে কৃষিকে যেমন আমাদের টেনে ওঠাতে হবে, কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে হবে, একই সঙ্গে লক্ষ লক্ষ তরুণ–যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন নতুন শিল্প পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে আমাদের এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। যেহেতু উত্তরাঞ্চল কৃষির সঙ্গে জড়িত বেশি, সে জন্য আমরা সেই ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় থেকে শুরু করে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত সমগ্র উত্তরাঞ্চলে আমরা কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে চাই।’   তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যদি তাঁতের কথা বলি, আমরা যদি লুঙ্গির কথা বলি, রঙের কথা বলি, প্রথমেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সিরাজগঞ্জ-পাবনার এই এলাকার কথা। এ এলাকার বহু মানুষ তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত। এই তাঁতশিল্পের উৎপাদিত পণ্য আমরা ইনশা আল্লাহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হব এবং আগামী দিনে আমরা তা–ই করতে চাই।’   মা-বোনদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের আরও অনেক কাজ করতে হবে। আমাদের মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে হবে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময় আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে যে সারা বাংলাদেশে নারীদের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য উনি একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তারপর ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি হয়ে গিয়েছে। এখন আগামী বিএনপি সরকার আপনাদের এই মায়েদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চায়। এ জন্যই আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি মায়ের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই, যেই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ধীরে ধীরে আমরা মায়েদের, গৃহিণীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলব ইনশা আল্লাহ।’   কৃষকদের নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে চাই। কৃষক ভাইয়েরা সারা দিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন এবং তাঁদের পরিশ্রমের ফলেই সারা বাংলাদেশের মানুষ দুই বেলা, তিন বেলা ভাত খেয়ে বেঁচে থাকেন। এই কৃষক ভাইদের পাশে আমরা দাঁড়াতে চাই। প্রয়োজনীয় সার, কীটনাশক, ফসলের বীজ আমরা তাঁদের হাতে, ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই, যাতে করে মধ্যখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়া কোনো সুবিধা না পায়। সেই জন্য কৃষক ভাইদের জন্য আমরা একটি কৃষক কার্ড দিতে চাই।’   তরুণদের কর্মসংস্থানের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘তরুণ সমাজের যুবকদের কর্মসংস্থানের কথা আমি বলেছি। বর্তমানে তরুণ সমাজের বহু সদস্য আছে, যারা আইটিতে কাজ করে। তাদের আমরা বিশেষভাবে ট্রেনিং দিতে চাই। একইভাবে এই এলাকার বহু মানুষ বিদেশে যায়; কিন্তু তাদের কোনো ট্রেনিং থাকে না। আমরা চাই, সিরাজগঞ্জ এবং পাবনায় ট্রেনিং সেন্টার, ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট তৈরি করতে, যার ফলে আমরা আমাদের বেকার ভাইদের সেখানে ট্রেনিং দিয়ে বিদেশে পাঠাতে চাই। যাতে তারা বিদেশে ভালো বেতনে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।’   ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা আরেকটি কাজ করতে চাই। আমাদের বিভিন্ন মসজিদ–মাদ্রাসার খতিব, ইমাম সাহেবসহ মুয়াজ্জিন সাহেবরা এবং অন্যান্য ধর্মেরও যাঁরা ধর্মগুরু আছেন, তাঁরা অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করেন। আমরা চাই, তাঁদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে এবং তাঁদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক একটি সম্মানের ব্যবস্থা করতে।’   ধানের শীষে ভোট চেয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘১২ তারিখে আপনারা ধানের শীষকে বিজয়ী করলে ১৩ তারিখ থেকে ধানের শীষ এই কাজগুলো শুরু করবে ইনশা আল্লাহ। এর বাইরে রাস্তাঘাটগুলো নষ্ট হয়ে গিয়েছে, স্কুল–কলেজগুলো নষ্ট হয়ে গিয়েছে, হাসপাতালগুলোতে ঠিকভাবে ডাক্তার-ওষুধ-নার্স নাই, সেগুলোর কাজেও ইনশা আল্লাহ আমরা হাত দেব।’

ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পারাপারের বিনিময়ে ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার ফেরত চাইল ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0