বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন কোনো ষড়যন্ত্র করে কেউ আবার আপনাদের ভোটের অধিকারকে কেড়ে নিয়ে যেতে না পারে। অনেকেই এসে আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। যারা আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, দেখামাত্র তাদের বলবেন, গুপ্ত তোমরা। কারণ, তাদের গত ১৬ বছর আমরা দেখি নাই। তারা ওদের সঙ্গে মিশে ছিল, যারা ৫ তারিখে পালিয়ে গিয়েছে।’
আজ শনিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলীতে বিসিক শিল্প পার্ক এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জনসভায় সিরাজগঞ্জের ছয়টি ও পাবনার পাঁচটি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান বলেন, ‘এই যে আপনারা লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ এখানে একত্র হয়েছেন। আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আমি হয়তো প্রতিপক্ষ সম্পর্কে অনেক কথা বলতে পারতাম; কিন্তু তাতে আপনাদের কোনো লাভ হতো না। বাংলাদেশের মানুষ এখন জানতে চায়, দেখতে চায় যে কোন রাজনৈতিক দল কী পরিকল্পনা গ্রহণ করবে দেশ ও জনগণের জন্য। বিএনপি আপনাদের সামনে পরিকল্পনা দিয়েছে এবং এই মুহূর্তে বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যেই দলের অভিজ্ঞতা আছে কীভাবে দেশকে সুন্দরভাবে সামনের দিকে পরিচালিত করতে হয়। মানুষ তার ওপরেই ভরসা করে, যার অভিজ্ঞতা আছে। এসব গুণ একমাত্র বিএনপির ভেতরেই আছে।’
বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় যেমন কৃষি আছে, তেমন ছোট ছোট মিল-কারখানা আছে। এই মুহূর্তে কৃষিকে যেমন আমাদের টেনে ওঠাতে হবে, কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে হবে, একই সঙ্গে লক্ষ লক্ষ তরুণ–যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন নতুন শিল্প পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে আমাদের এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। যেহেতু উত্তরাঞ্চল কৃষির সঙ্গে জড়িত বেশি, সে জন্য আমরা সেই ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় থেকে শুরু করে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত সমগ্র উত্তরাঞ্চলে আমরা কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে চাই।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যদি তাঁতের কথা বলি, আমরা যদি লুঙ্গির কথা বলি, রঙের কথা বলি, প্রথমেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সিরাজগঞ্জ-পাবনার এই এলাকার কথা। এ এলাকার বহু মানুষ তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত। এই তাঁতশিল্পের উৎপাদিত পণ্য আমরা ইনশা আল্লাহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হব এবং আগামী দিনে আমরা তা–ই করতে চাই।’
মা-বোনদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের আরও অনেক কাজ করতে হবে। আমাদের মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে হবে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময় আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে যে সারা বাংলাদেশে নারীদের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য উনি একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তারপর ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি হয়ে গিয়েছে। এখন আগামী বিএনপি সরকার আপনাদের এই মায়েদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চায়। এ জন্যই আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি মায়ের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই, যেই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ধীরে ধীরে আমরা মায়েদের, গৃহিণীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলব ইনশা আল্লাহ।’
কৃষকদের নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে চাই। কৃষক ভাইয়েরা সারা দিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন এবং তাঁদের পরিশ্রমের ফলেই সারা বাংলাদেশের মানুষ দুই বেলা, তিন বেলা ভাত খেয়ে বেঁচে থাকেন। এই কৃষক ভাইদের পাশে আমরা দাঁড়াতে চাই। প্রয়োজনীয় সার, কীটনাশক, ফসলের বীজ আমরা তাঁদের হাতে, ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই, যাতে করে মধ্যখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়া কোনো সুবিধা না পায়। সেই জন্য কৃষক ভাইদের জন্য আমরা একটি কৃষক কার্ড দিতে চাই।’
তরুণদের কর্মসংস্থানের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘তরুণ সমাজের যুবকদের কর্মসংস্থানের কথা আমি বলেছি। বর্তমানে তরুণ সমাজের বহু সদস্য আছে, যারা আইটিতে কাজ করে। তাদের আমরা বিশেষভাবে ট্রেনিং দিতে চাই। একইভাবে এই এলাকার বহু মানুষ বিদেশে যায়; কিন্তু তাদের কোনো ট্রেনিং থাকে না। আমরা চাই, সিরাজগঞ্জ এবং পাবনায় ট্রেনিং সেন্টার, ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট তৈরি করতে, যার ফলে আমরা আমাদের বেকার ভাইদের সেখানে ট্রেনিং দিয়ে বিদেশে পাঠাতে চাই। যাতে তারা বিদেশে ভালো বেতনে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।’
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা আরেকটি কাজ করতে চাই। আমাদের বিভিন্ন মসজিদ–মাদ্রাসার খতিব, ইমাম সাহেবসহ মুয়াজ্জিন সাহেবরা এবং অন্যান্য ধর্মেরও যাঁরা ধর্মগুরু আছেন, তাঁরা অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করেন। আমরা চাই, তাঁদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে এবং তাঁদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক একটি সম্মানের ব্যবস্থা করতে।’
ধানের শীষে ভোট চেয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘১২ তারিখে আপনারা ধানের শীষকে বিজয়ী করলে ১৩ তারিখ থেকে ধানের শীষ এই কাজগুলো শুরু করবে ইনশা আল্লাহ। এর বাইরে রাস্তাঘাটগুলো নষ্ট হয়ে গিয়েছে, স্কুল–কলেজগুলো নষ্ট হয়ে গিয়েছে, হাসপাতালগুলোতে ঠিকভাবে ডাক্তার-ওষুধ-নার্স নাই, সেগুলোর কাজেও ইনশা আল্লাহ আমরা হাত দেব।’
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি আগামী বুধবার (৬ মে) শপথ গ্রহণ করবেন। জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে দুপুর ১২টায় তাকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এর আগে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমকে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্ধারিত সময়ের পরে যাওয়ায় প্রথমে তার মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করা হয়। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে ৪৯ জন সংসদ সদস্য গত ৩ মে শপথ গ্রহণ করেছেন। ওই দিন জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ১২ জন প্রার্থী শপথ নেন। নুসরাত তাবাসসুমের এই শপথে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জোটের আরও একজন সদস্য যুক্ত হচ্ছেন। জামায়াত জোটের জন্য বরাদ্দকৃত ১৩টি আসনের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষি ব্যাংক থেকে চাকরি ছাড়ার তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় মনিরা শারমিন নামের এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসিতে মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকার পর তিনি হাইকোর্টে আপিল করেন। তবে ৪ মে আপিল শুনানির কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের একজন বিচারক অপারগতা প্রকাশ করায় ৫ মে অপর একটি বেঞ্চে শুনানির কথা রয়েছে। তীব্র আইনি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে নুসরাত তাবাসসুমের শপথ নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। বুধবারের এই শপথমহলের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নারী আসনের শূন্যতা পূরণের প্রক্রিয়াটি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে।
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের জন্য গাড়ির সুবিধা চেয়ে এক মজার ও চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) সংসদে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানদের গাড়ি থাকলেও আমাদের ভাড়ায় গাড়ি চালাতে হয়, যা অত্যন্ত লজ্জার।" জনগণের কাছে যাওয়ার সুবিধার্থে তিনি সরকারের কাছে গাড়ির দাবি জানান। হাসনাতের এই ‘আবদারের’ প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন স্মরণ করিয়ে দিয়ে জানান, সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি নেবেন না—এমন সিদ্ধান্ত আগেই হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে কোনো বিহিত করা যায় কি না, তা নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দেন। ঠিক এই মুহূর্তেই বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে হাসনাতের পক্ষ সমর্থন করে রসিকতার সুরে বলেন, "ছোটদের কখনো ‘না’ বলতে নেই, তাদের আবদারে ‘হ্যাঁ’ বলতে হয়।" একই অধিবেশনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদ সদস্যদের জন্য প্রতিটি উপজেলা পরিষদে একটি করে ‘পরিদর্শন কক্ষ’ বরাদ্দের সরকারি আদেশ জারির ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এই কক্ষগুলো তৈরি করা হচ্ছে যেখানে এটাচ বাথরুম ও আসবাবপত্র থাকবে। বসার জায়গা পেয়ে হাসনাত খুশি হলেও গাড়ির দাবি নিয়ে সংসদের এই প্রাণবন্ত আলোচনা এখন রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চিত হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। দলটির প্রেস উইং সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সোমবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার শেষে মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্তভাবে ৩৬ জনকে মনোনীত করেছে। মনোনয়নপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন- সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা, রেজেকা সুলতানা ও নাদিয়া পাঠান পাপন। দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রায় এক হাজার ২৫টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হলেও জমা পড়ে প্রায় ৯০০টি আবেদন। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এর আগে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সাক্ষাৎকারে প্রার্থীরা তাঁদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, আন্দোলনে ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ত্যাগী, যোগ্য ও দক্ষ নারী নেত্রীদের সমন্বয়ে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তপশিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি শেষে ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আসন বণ্টনে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা একটি আসন পাবে।