যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে মধ্যস্থতার পর এবার উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজন মেটাতে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের উদ্যোগে দেশটির পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাকেন্দ্রের মধ্যে নীরবে আলোচনা চালানো হচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিবিয়ায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই উদ্যোগ সফল হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১১ সালে ন্যাটো সমর্থিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই দেশটি কার্যত পূর্ব ও পশ্চিম—এই দুই অংশে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে চলা এই অচলাবস্থা নিরসনে বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক মহল উদ্যোগ নিলেও স্থায়ী সমাধান আসেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন এবং লিবিয়া নিয়ে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতার বিষয়েও অবগত আছেন। একই সঙ্গে সৌদি আরবও এই শান্তি প্রচেষ্টায় সমর্থন দিচ্ছে। জানা গেছে, গত বছরের শেষদিকে লিবিয়ার দুই পক্ষই পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা চাওয়ার পর এই প্রক্রিয়ার সূচনা হয়।
প্রস্তাবিত একটি খসড়া পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, “গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল কনসেনসাস অ্যান্ড প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল” কাঠামোর অধীনে ৩৬ মাসের একটি অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষমতা ভাগাভাগির ব্যবস্থা গড়ে তোলা হতে পারে। এতে জাতিসংঘ স্বীকৃত পশ্চিমাঞ্চলীয় সরকারের প্রধান আবদুলহামিদ দ্বিবাহ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলীয় লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির ডেপুটি কমান্ডার সাদ্দাম হাফতারকে প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান করার প্রস্তাব রয়েছে।
দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্র ও অবকাঠামোর বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে থাকায় সাদ্দাম হাফতারের পিতা এবং লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির প্রধান খলিফা হাফতারকে বাজেট ব্যবস্থাপনায় বিশেষ কর্তৃত্ব দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি কার্যকর রাখতে পাকিস্তান সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলেও পরিকল্পনায় উল্লেখ আছে। তবে পাকিস্তানি একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবটি এখনো প্রাথমিক আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও সময় লাগতে পারে।
গত মাসে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির রাওয়ালপিন্ডিতে সাদ্দাম হাফতারের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর কয়েকদিন পর হাফতার ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, লিবিয়ার নেতাদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে ওয়াশিংটন স্বাগত জানায় এবং দেশটির একতা রক্ষায় সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, লিবিয়ার রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, মিশর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বড় শক্তিগুলোর প্রভাব বেশি হলেও পাকিস্তান একটি তুলনামূলক নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। দেশটির সঙ্গে লিবিয়ার উভয় পক্ষেরই যোগাযোগ ও সম্পর্ক থাকায় মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে এটি একটি সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেছে।
জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পাকিস্তান পূর্বাঞ্চলীয় বাহিনীর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং তাদের কাছে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ও সুপার মুশাক প্রশিক্ষণ বিমান সরবরাহ করেছে। একই সময়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় সরকারও পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় সরকারের প্রধান সমর্থক তুরস্ক ও কাতারও এই মধ্যস্থতায় পাকিস্তানকে উৎসাহ দিচ্ছে। তবে ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ইনফরমমির পরিচালক তারেক মেগেরিসি সতর্ক করে বলেছেন, কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেই তা দীর্ঘস্থায়ী হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তিনি উদাহরণ হিসেবে রুয়ান্ডা ও কঙ্গোর মধ্যে গত বছরের একটি চুক্তির কথা উল্লেখ করেন, যা অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে যায়।
এদিকে এখনো পর্যন্ত পাকিস্তান, লিবিয়ার কোনো পক্ষ বা সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: এনডিটিভি
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অ্যামাজনের ডেলিভারি ড্রোন এক গ্রাহকের প্যাকেজ বাড়ির সুইমিং পুলে ফেলে দিয়েছে। ঘটনাটি ভিডিওতে ধারণ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রিচমন্ডের বাসিন্দা লিন্ডসে অস্টেন জানান, ড্রোনের মাধ্যমে প্যাকেজ আসার নোটিফিকেশন পাওয়ার পর তিনি বাইরে গিয়ে পুরো ঘটনাটি নিজের চোখে দেখেন। অস্টেনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির পেছনে ড্রোনের শব্দ শুনে তিনি বাইরে আসেন। এরপর ড্রোনটি সুইমিং পুলের ওপর অবস্থান নিয়ে নিচের দিকে প্যাকেজটি ছেড়ে দেয়। প্যাকেজটি সরাসরি পানিতে পড়ে যাওয়ায় তিনি হতবাক হয়ে যান। ঘটনার ভিডিওতেও দেখা যায়, ড্রোনটি প্যাকেজ নিয়ে বাড়ির পেছনের এলাকায় আসে। এরপর সুইমিং পুলের ওপর থেকে প্যাকেজটি ছেড়ে দিলে সেটি সোজা পানিতে গিয়ে পড়ে। অস্টেন বলেন, প্যাকেজটি পানিতে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে তিনি একেবারেই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। এমন অভিজ্ঞতার পর ভবিষ্যতে আবার ড্রোনের মাধ্যমে প্যাকেজ নিতে তিনি আগ্রহী নন বলেও জানান। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন অ্যামাজন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ড্রোনের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সেবা আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। কোম্পানিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ৫০০টি মার্কিন শহরে এই সেবা চালুর লক্ষ্য রয়েছে। অ্যামাজনের এই ড্রোন ডেলিভারি ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো ছোট আকারের পণ্য দ্রুত গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ড্রোনগুলো সর্বোচ্চ প্রায় ৫ পাউন্ড বা ২ দশমিক ৩ কেজি ওজনের প্যাকেজ বহন করতে পারে। নির্দিষ্ট এলাকায় অর্ডার দেওয়ার পর প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই সেবা পরিচালনা করা হয়। অ্যামাজনের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে বিরল একটি ত্রুটি হিসেবে দেখা হয়েছে। কোম্পানির মুখপাত্র অ্যালি পেইন জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা থেকে পাওয়া তথ্য কাজে লাগিয়ে ড্রোন ডেলিভারি ব্যবস্থা আরও উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ড্রোন ডেলিভারি মূলত এমন শহরতলি ও আবাসিক এলাকায় পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ঘনবসতি, উঁচু ভবন কিংবা বড় বিমানবন্দরের মতো জটিলতা তুলনামূলক কম। তবে ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন, নিরাপত্তা বিধি এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক শর্তও মানতে হয়। ড্রোনের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রযুক্তি দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও সঠিক জায়গায় প্যাকেজ নামানো এবং পণ্য অক্ষত রাখার বিষয়টি এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। টেক্সাসের এই ঘটনাটি সেই প্রযুক্তির বাস্তব ব্যবহারে নির্ভুলতার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। অ্যামাজনের ড্রোন ডেলিভারি সেবা যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই গ্রাহকের বাড়িতে নিরাপদ ও নির্ভুলভাবে প্যাকেজ পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে নজর বাড়ছে। সুইমিং পুলে প্যাকেজ পড়ে যাওয়ার এই ঘটনাও সেই চ্যালেঞ্জেরই একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
বাগদাদের আকাশে ক্ষতবিক্ষত যুদ্ধবিমান, হাইড্রলিক নষ্ট হওয়ার পরও উড়িয়ে নিরাপদে ফিরলেন নারী পাইলট
ইসরায়েলি পতাকা প্রদর্শন করায় আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডে স্বর্ণজয়ী কিশোরের সনদ বাতিল
ইমরান খান মুক্তি পেলে সেনাপ্রধানের সঙ্গে সংঘাতে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ঘনিষ্ঠ সহযোগীর
পূর্ব লন্ডনের একটি পার্কে প্রথম ডেটে গিয়ে তারার আকাশ দেখার সময় এক তরুণীকে ছুরি দেখিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় দুই আফগান নাগরিককে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট বার্কিং পার্কে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনায় খান আগাহ ও নূরুল্লাহ আহমদজাই নামে দুই ব্যক্তি তরুণী ও তাঁর সঙ্গে থাকা পুরুষকে আক্রমণ করেন। আদালতে মামলার বিচার শেষে দুজনকেই একাধিক গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ওই তরুণী ও তাঁর সঙ্গে থাকা পুরুষ সেদিন প্রথমবারের মতো দেখা করেছিলেন। তাঁরা পার্কে বসে তারার আকাশ দেখছিলেন। ওই সময় দুজন হামলাকারী তাঁদের কাছে গিয়ে আক্রমণ শুরু করেন। একজন হামলাকারী ওই পুরুষের গলায় ছুরি ধরে তাঁকে ভয় দেখান এবং পুলিশকে খবর দিলে হত্যার হুমকি দেন। অন্যজন তরুণীকে ধর্ষণ করেন। পরে দুজন নিজেদের ভূমিকা বদলে নেন এবং পালাক্রমে ওই তরুণীকে যৌন নির্যাতন করেন বলে আদালতে জানানো হয়। মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ভয়াবহ ছুরি দেখিয়ে সংঘটিত যৌন হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। আদালতকে জানানো হয়, হামলাকারীরা ওই নারী ও তাঁর সঙ্গীকে সম্পূর্ণ অপরিচিত অবস্থায় আক্রমণ করেছিলেন। তরুণীকে আদালতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে হয়। দীর্ঘ ও কঠিন জেরার মধ্যেও তিনি ঘটনার বিষয়ে সাক্ষ্য দেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাঁর সাহসের প্রশংসা করা হয়। দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখানো, যৌন নিপীড়ন এবং বেআইনিভাবে আটকে রাখাসহ একাধিক অভিযোগ ছিল। বিচার শেষে দুজনকেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালতের কার্যক্রমে আরও উঠে আসে, নূরুল্লাহ আহমদজাই ২০২৩ সালে ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন। পরে তিনি সরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকা আবাসনে ছিলেন। তাঁর আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল বলে মামলার তথ্য থেকে জানা যায়। খান আগাহ কীভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। দুজনের সাজা পরে ঘোষণা করার কথা রয়েছে। আদালতের সাম্প্রতিক কার্যক্রমেও তাঁদের মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নথিভুক্ত হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা মেগান লেলিয়ট ভুক্তভোগী নারীর সাহসের প্রশংসা করেছেন। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছে। সাজা ঘোষণার পর দুই আসামিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি পূর্ব লন্ডনে পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে মামলার সঙ্গে অভিবাসন পরিস্থিতির বিষয়টি যুক্ত হলেও অপরাধের দায় ব্যক্তিগতভাবে দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তির ওপরই বর্তায়।
মানুষের ক্যানসারের চিকিৎসায় সুস্থ হলো ১৫ ফুটের অজগর, বিশ্বে প্রথমবারের মতো নতুন চিকিৎসা
ইসরায়েলের বিধিনিষেধে গাজায় জমজমাট কালোবাজার: মুনাফা লুটছে ইসরায়েলি সেনা ও ব্যবসায়ীরা, নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা
আয়ারল্যান্ডে ১৯ শতকের দুর্গ কিনলেন মার্ক জাকারবার্গ, মূল্য হতে পারে ৩০ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত
লন্ডনের ৩৫ বছর বয়সী অ্যাম্বার উইলিয়ামসের জীবনে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলেছে অসহ্য ব্যথা, একের পর এক চিকিৎসা আর অনিশ্চয়তা। তার দাবি, তীব্র মাসিকের ব্যথাকে বছরের পর বছর স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস ও পিত্তথলির সমস্যার সন্দেহে তার অ্যাপেন্ডিক্স ও গলব্লাডার অপসারণ করেন। পরে এসব অস্ত্রোপচারও তার দীর্ঘদিনের ব্যথার প্রকৃত কারণ খুঁজে দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের জুলাইয়ে পরীক্ষায় ধরা পড়ে ব্যাপক এন্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডেনোমায়োসিস। উইলিয়ামসের সমস্যা শুরু হয় মাত্র ১১ বছর বয়সে, প্রথম মাসিকের সময়। ১৪ বছর বয়সের মধ্যে ব্যথা এতটাই বেড়ে যায় যে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যেত। চিকিৎসকের কাছে একাধিকবার যাওয়ার পরও তাকে বলা হতো, মাসিকের সময় এমন ব্যথা স্বাভাবিক। কয়েক বছর জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ ব্যবহার করেও খুব একটা উপকার পাননি বলে জানান তিনি। ২০১২ সালে ২১ বছর বয়সে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে জরুরি বিভাগে গেলে চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস সন্দেহ করেন। তার অ্যাপেন্ডিক্স অপসারণ করা হয়। কিন্তু পরে উইলিয়ামসের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে জানানো হয় যে অ্যাপেন্ডিক্সে উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ অস্ত্রোপচারের পরও তার মূল সমস্যার কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি। এরপরও বছরের পর বছর পেট ও পেলভিক ব্যথা চলতে থাকে। ২০১৬ সালে চিকিৎসকেরা গলস্টোন ও প্যানক্রিয়াটাইটিসের কথা জানান। সে সময় তার গলব্লাডারও অপসারণ করা হয়। উইলিয়ামসের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর তাকেও বলা হয়েছিল যে অঙ্গটিতে উল্লেখযোগ্য সমস্যা পাওয়া যায়নি। এই সময় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। তিনি অতিরিক্ত রক্তপাত, বমি ও তীব্র ব্যথার কথা জানিয়েছেন। এমনকি ব্যথায় অজ্ঞান হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি। একপর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও তার শারীরিক সমস্যার যোগসূত্র খোঁজা হয় এবং তাকে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে তার ভাষ্য। প্রকৃত রোগের সন্ধান পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও কয়েক বছর। ২০২৫ সালে স্বামীকে নিয়ে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও সফল না হওয়ার পর তিনি ফার্টিলিটি সেবার দ্বারস্থ হন। সেখানে একজন বিশেষজ্ঞ তার দীর্ঘদিনের উপসর্গ ও এন্ডোমেট্রিওসিস নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠান। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ল্যাপারোস্কোপি করার পর চিকিৎসকেরা ব্যাপক এন্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডেনোমায়োসিস শনাক্ত করেন। অস্ত্রোপচারের সময় তার ডিম্বাশয় পেলভিক দেয়ালের সঙ্গে জোড়া লেগে থাকার মতো জটিল অবস্থাও পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এন্ডোমেট্রিওসিস এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেখানে জরায়ুর ভেতরের আবরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বেড়ে ওঠে। এর ফলে তীব্র মাসিকের ব্যথা, অতিরিক্ত রক্তপাত, দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথা, পেট ফাঁপা এবং সন্তান ধারণে সমস্যা হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, প্রজননক্ষম বয়সী নারীদের প্রায় ১০ শতাংশ, অর্থাৎ আনুমানিক ১৯ কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। সংস্থাটি বলছে, রোগটির কারণে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও বন্ধ্যাত্বসহ জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রেই রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। অন্যদিকে অ্যাডেনোমায়োসিসে জরায়ুর যে টিস্যু সাধারণত জরায়ুর ভেতরের আস্তরণ তৈরি করে, সেটি জরায়ুর পেশির দেয়ালের ভেতরে প্রবেশ করে। এর অন্যতম লক্ষণ তীব্র মাসিকের ব্যথা ও অতিরিক্ত রক্তপাত; কারও কারও ক্ষেত্রে পেলভিক ব্যথা ও যৌনমিলনের সময় ব্যথাও হতে পারে। উইলিয়ামসের ঘটনা চিকিৎসাব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। তবে তার ক্ষেত্রে অ্যাপেন্ডিক্স ও গলব্লাডার অপসারণকে চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিতভাবে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলা যায় কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন মেডিকেল মূল্যায়নের তথ্য প্রতিবেদনে নেই। তাই বিষয়টি তার নিজের অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখা উচিত। দীর্ঘদিনের ব্যথা শেষ পর্যন্ত তার কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনেও বড় প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন উইলিয়ামস। এখনো মাসিকের প্রথম কয়েক দিন তিনি সর্বোচ্চ মাত্রার ব্যথা অনুভব করেন এবং নিয়মিত ব্যথানাশকের ওপর নির্ভর করতে হয় বলে জানান। সন্তান ধারণের সক্ষমতার ওপর দীর্ঘদিনের রোগের কী প্রভাব পড়েছে, সেটি নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন। তার অভিজ্ঞতা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, তীব্র ও বারবার ফিরে আসা মাসিকের ব্যথাকে শুধু ‘স্বাভাবিক’ বলে এড়িয়ে যাওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, এমন ব্যথা যদি দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে, অতিরিক্ত রক্তপাত বা দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথার সঙ্গে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ।
যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-কানাডার বাইরে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে বিকল্প ঠিকানা খুঁজছেন অভিবাসীরা
১৮ বছর ধরে খুঁজেও হারানো গুহার সন্ধান পাননি, ফিরে পেয়ে দেখলেন ভেতরেই মেঘ, নদী আর জঙ্গল!