দক্ষিণ আফ্রিকা

অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে উত্তপ্ত দক্ষিণ আফ্রিকা
অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে উত্তপ্ত দক্ষিণ আফ্রিকা, ৯০০-এর বেশি আটক

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে ৯০০-এর বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেশজুড়ে সংঘটিত বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে তাদের আটক করা হয় বলে বুধবার (১ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ প্রশাসন।   পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেদিন সারা দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১২০টি প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১০৮টি কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও অন্তত ১২টি স্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এসব জায়গায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং দোকানপাটে হামলার ঘটনা ঘটে।   পরিস্থিতি সামাল দিতে ওইসব এলাকায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করে পুলিশ। সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকেই বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় কয়েকজন নথিপত্রহীন অভিবাসীকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   গত কয়েক মাস ধরে দেশটিতে অভিবাসন ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছিল। কঠোর আইন প্রয়োগ ও ক্রমবর্ধমান সামাজিক চাপের মুখে ইতোমধ্যেই হাজার হাজার বিদেশি নাগরিক দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে গেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসীদের লক্ষ্য করে চলমান সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ, বেকারত্ব ও সামাজিক বৈষম্যের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোই এই অসন্তোষকে উসকে দিচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চললেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেশটির সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।   এই প্রতিবেদনটি আল জাজিরার তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
১৯ জুন পিটারম্যারিটজবার্গে 'মার্চ অ্যান্ড মার্চ' নামে একটি তৃণমূল নাগরিক সংগঠনের আয়োজিত অবৈধ অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ। ছবি: পিয়ের-এন্ডারস পিটারসন
অভিবাসীবিরোধী হামলার ভয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ছেন হাজারো মানুষ

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। দেশজুড়ে বিদেশিবিরোধী প্রচারণা ও সহিংসতার আশঙ্কার মধ্যে বহু অভিবাসী নিরাপত্তাহীনতায় দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেকেই সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন।   জোহানেসবার্গের উপকণ্ঠে বসবাসকারী মালাউইয়ের নাগরিক কাউঙ্গা নিয়ারেন্ডা জানান, দুই ব্যক্তি তাকে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছেন, “এখনই দেশ ছাড়ো, না হলে কফিনে ফিরতে হবে।” তিনি বলেন, “তারা জানতে চেয়েছিল আমি কবে দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ব। বলেছে, ৩০ জুনের পর এখানে আমাদের আর প্রয়োজন নেই। যদি না যাই, তাহলে জীবিত নয়, কফিনে করেই ফিরতে হবে।”   বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিভিন্ন আন্দোলন। এর মধ্যে ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’ এবং ‘অপারেশন দুদুলা’ সবচেয়ে সক্রিয়।   এসব গোষ্ঠীর অভিযোগ, বিদেশিরা দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে, অপরাধ বাড়াচ্ছে এবং জনসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। তারা ৩০ জুনের মধ্যে নথিবিহীন অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার আহ্বান জানায় এবং এরপর গণবিক্ষোভের কর্মসূচিও ঘোষণা করে।   অপারেশন দুদুলা বিদেশিদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা, পরিচয়পত্র যাচাই এবং বিদেশিদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধা দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আগেও সমালোচিত হয়েছে।   দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার ৩০ জুনের তথাকথিত ‘ডেডলাইন’কে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলা সরকারের নীতির প্রতিফলন নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, পদযাত্রা বা অন্য কোনো উপায়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।   তিনি আরও বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন জনসেবা ও শ্রমবাজারে চাপ সৃষ্টি করলেও দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার জন্য অভিবাসীদের বলির পাঁঠা বানানো উচিত নয়। পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিভিন্ন এলাকায় বিদেশিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।   মোসেল বেতে সহিংসতায় দুই মোজাম্বিক নাগরিক নিহত হন এবং ৫০টির বেশি ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। মোজাম্বিক সরকারের দাবি, বিদেশিবিদ্বেষী হামলায় তাদের মোট পাঁচ নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া পিটারমারিৎজবার্গে গণপিটুনিতে এক মালাউই নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাও তদন্ত করছে পুলিশ।   হামলার আশঙ্কায় শত শত অভিবাসী গির্জা ও মসজিদে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। দক্ষিণ আফ্রিকার সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে মালাউই, জিম্বাবুয়ে, ঘানা ও নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ১৩ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক হয় স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গেছেন, নয়তো তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে।   দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশিবিদ্বেষী সহিংসতা নতুন নয়। ২০০৮ সালের দাঙ্গায় অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছিলেন। ২০১৫ ও ২০১৯ সালেও একই ধরনের প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে দেশটিতে বেকারত্বের হার প্রায় ৩২ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ বেকারত্ব এবং সামাজিক বৈষম্যের কারণে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে।   তবে গবেষকদের মতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলো থেকে আসা কৃষ্ণাঙ্গ অভিবাসীরা। কারণ কম মজুরিতে কাজ করায় নিয়োগকর্তারা তাদের বেশি নিয়োগ দেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে।   ১৬ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসকারী মালাউইয়ের নাগরিক নিয়ারেন্ডা এখন দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার প্রশ্ন, “যারা প্রকৃত অর্থে দেশের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করছে, তাদের ছেড়ে কেন আমাদের মতো দরিদ্র আফ্রিকানদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে?”

Unknown জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা
‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারি: অভিশংসন ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট রামাফোসা

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারি ঘিরে শুরু হতে যাওয়া অভিশংসন প্রক্রিয়া থামাতে জরুরি ভিত্তিতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। আদালতের নথির বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তিনি পার্লামেন্টে সম্ভাব্য অভিশংসন ভোটাভুটি শুরুর আগেই বিষয়টি আদালতে নিষ্পত্তির আবেদন করেছেন।   রামাফোসার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, দুর্নীতি বা অসদাচরণের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত একটি স্বাধীন প্যানেলের দেওয়া পর্যবেক্ষণকে চ্যালেঞ্জ করতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ওই প্যানেলের সুপারিশে ত্রুটি রয়েছে এবং তা বাতিল হওয়া উচিত—এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের রায় আগে আসা প্রয়োজন।   ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারির সূত্রপাত ২০২০ সালে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট রামাফোসার মালিকানাধীন একটি খামারবাড়িতে বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরির ঘটনা ঘটে। সেই সময় একটি সোফার ভেতরে গোপন রাখা অর্থ খুঁজে পাওয়া যায় বলে জানা যায়, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।   রামাফোসা দাবি করেন, চুরি হওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার, যা মহিষ বিক্রির বৈধ আয়। তবে এত বড় অঙ্কের অর্থ কেন নগদে সোফার ভেতরে রাখা হয়েছিল এবং তা যথাযথভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল কি না—এ প্রশ্ন ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক।   অভিযোগের শুরু থেকেই এসব অনিয়মের কথা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য, পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বড় করে দেখানো হচ্ছে।   গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার সাংবিধানিক আদালত জানিয়েছিল, ২০২২ সালে পার্লামেন্টে অভিশংসন প্রক্রিয়া স্থগিত করতে যে ভোট হয়েছিল, তা আইনসম্মত ছিল না। ওই রায়ের পরই রামাফোসার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া পুনরায় সক্রিয় হয়।   এদিকে স্বাধীন প্যানেলের পর্যবেক্ষণের বিরুদ্ধে রামাফোসার করা আবেদনের শুনানি আগামী ২ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তই অভিশংসন প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।   ৭৩ বছর বয়সী সিরিল রামাফোসা ২০১৮ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং ক্ষমতাসীন আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ক্ষমতায় এলেও ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, অভিশংসন প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত পার্লামেন্টে ভোটে গেলে রামাফোসা রাজনৈতিকভাবে টিকে যেতে পারেন। তবে এই মামলা ঘিরে দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনীতিতে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
তিন লাল কার্ডের নাটকীয় উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা মেক্সিকোর

ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে মেক্সিকো। ঐতিহাসিকভাবে, শক্তিমত্তায় এবং সাম্প্রতিক ফর্মে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা মেক্সিকো নিজেদের ঘরের মাঠ আজতেকা স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলে। অন্যদিকে, তিন লাল কার্ডের এই নাটকীয় ম্যাচে দীর্ঘ সময় কম খেলোয়াড় নিয়ে খেলতে বাধ্য হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াইটি বেশ একপেশে হয়ে ওঠে।   ২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল, তবে সেবার দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের মাঠে মেক্সিকোকে রুখে দিলেও এবার মেক্সিকোর মাঠে তারা পেরে ওঠেনি।   এই জয়ের ফলে আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ম্যাচে নিজেদের অজেয় থাকার রেকর্ডটি (৬ জয়, ২ ড্র) আরও একবার অক্ষুণ্ণ রাখল হাভিয়ের আগিরের দল।   ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে স্বাগতিকরা। ভিআইপি গ্যালারিতে উপস্থিত মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম পার্দোসহ প্রায় ৮৩ হাজার দর্শকের উন্মাদনা স্বাগতিকদের আরও চাঙা করে তোলে।   মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় ইংলিশ ক্লাব ফুলহামের মেক্সিকান ফরোয়ার্ড রাউল হিমেনেজ গোলের দারুণ সুযোগ তৈরি করলেও দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রোনওয়েন উইলিয়ামসের নৈপুণ্যে সে যাত্রায় বেঁচে যায় সফরকারীরা।   তবে গোলের জন্য স্বাগতিকদের খুব বেশি সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়নি। ম্যাচের ৯ মিনিটেই ডি-বক্সের ভেতর ফাঁকায় বল পেয়ে এবারের আসরের প্রথম গোলটি করে মেক্সিকোকে এগিয়ে দেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস। ২৫ মিনিটে পানি পানের বিরতির পর মেক্সিকো আরও ছন্দময় ফুটবল খেললেও প্রথমার্ধে আর কোনো গোল পায়নি।   খেলার মূল নাটকীয়তা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির শুরু হয় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে। ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলতন সাম্পাইয়ো এই ম্যাচে মোট তিনবার লাল কার্ড বের করেন।   ৫০ মিনিটে মেক্সিকোর ব্রায়ান গুতিয়েরেসকে ফাউল করে প্রথম লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার ইয়াইয়া সিথোল, যার ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় সফরকারীরা। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৬৭ মিনিটে দারুণ এক হেডের মাধ্যমে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হিমেনেজ।   এর ঠিক এক মিনিট আগে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ইতিহাস গড়েন ১৭ বছর ৪০ দিন বয়সী গিলবার্তো মোরা, যিনি এবারের আসরের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার। এরপর ৮৪ মিনিটে টেম্বা জোয়ানেও লাল কার্ড দেখলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপদ আরও ঘনীভূত হয়।   তবে শেষ মুহূর্তে খুলিসো মুদাওকে বাজেভাবে ফাউল করে মেক্সিকোর সেজার মন্তেসও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। যদিও এই ঘটনা ম্যাচের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলেনি এবং শেষ পর্যন্ত স্বস্তির জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মেক্সিকো।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী তুমুল ক্ষোভ, আতঙ্কে দিন কাটছে প্রবাসীদের

দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার আলটিমেটাম এবং একের পর এক আন্দোলনের জেরে তীব্র আতঙ্ক ও বর্ণবাদী সহিংসতার শিকার হচ্ছেন সেখানে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকরা। 'মার্চ অ্যান্ড মার্চ' নামের একটি স্থানীয় আন্দোলনকারী সংগঠন অবৈধ অভিবাসীদের আগামী ৩০ জুনের মধ্যে দেশ ছাড়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। এই আন্দোলনের জেরে সৃষ্ট সহিংসতায় ইতিমধ্যে মে মাসের শেষের দিকে অন্তত ৫ জন মোজাম্বিকান নাগরিক নিহত হয়েছেন।   সহিংসতার মুখে দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন শহর থেকে মলাউই ও মোজাম্বিকের অসংখ্য নাগরিক সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন এবং অনেকে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানাচ্ছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘানা সরকার ইতিমধ্যে বিশেষ ফ্লাইটে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে। বছরের পর বছর ধরে বৈধভাবে বসবাস করা অভিবাসীরাও বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের চরম অনিরাপদ মনে করছেন, কারণ বৈধ কাগজপত্রও এই সহিংসতা থেকে রক্ষা করতে পারছে না।   দক্ষিণ আফ্রিকায় দীর্ঘদিন ধরেই খনিসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিবেশী দেশের অভিবাসী শ্রমিকরা কাজ করে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে বেকারত্বের হার ৪৩.১ শতাংশে পৌঁছানো এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে স্থানীয়রা এখন সব সমস্যার জন্য বিদেশি অভিবাসীদের দায়ী করছেন। বর্তমানে দেশটির প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে মাত্র ৩.৯ শতাংশ বা ২৪ লাখ মানুষ বিদেশি নাগরিক হলেও, স্থানীয় আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন এই সংখ্যা ১৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন।   চলতি বছর হতে যাওয়া স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কিছু ছোট রাজনৈতিক দল অভিবাসীবিরোধী এই সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এক টেলিভিশন ভাষণে বিষয়টিকে স্পর্শকাতর উল্লেখ করে বলেন, অবৈধ অভিবাসন নিয়ে নাগরিকদের উদ্বেগ যৌক্তিক এবং সরকার সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর হচ্ছে। তবে কোনো গোষ্ঠী যেন এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে দেশে আইনহীনতা ও সহিংসতা ছড়াতে না পারে, সে বিষয়ে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

তাবাস্সুম জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০