সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#দক্ষিণক্যালিফোর্নিয়া

অন্টারিও স্পোর্টস এম্পায়ারের বিশাল ক্রীড়া মাঠ
বেসবল থেকে রাগবি, এক জায়গায় ৪০টিরও বেশি মাঠ নিয়ে যাত্রা শুরু অন্টারিও স্পোর্টস এম্পায়ারের

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় চালু হয়েছে বিশাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স অন্টারিও স্পোর্টস এম্পায়ার। প্রায় ১৯০ একর জমিতে গড়ে ওঠা এই ক্রীড়াকেন্দ্রে রয়েছে ৪০টিরও বেশি মাঠ। বেসবল, সফটবল, ফুটবল, সকার ও রাগবিসহ বিভিন্ন খেলার আয়োজনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে পুরো স্থাপনাটি। রকি পর্বতমালার পশ্চিমে এ ধরনের সবচেয়ে বড় যুব ক্রীড়াকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে প্রকল্পটি।   ক্যালিফোর্নিয়ার ইনল্যান্ড এম্পায়ার অঞ্চলের অন্টারিও শহরে অবস্থিত এই কমপ্লেক্সটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে ২৪ অক্টোবর। এটি নির্মাণ ও পরিচালনার মাধ্যমে স্থানীয় ক্রীড়া কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে খেলোয়াড়, দল ও দর্শকদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটিকে ঘিরে পর্যটন, হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্রীড়াকেন্দ্রটিতে রয়েছে ২০টি বহুমুখী খেলার মাঠ, ১৪টি যুব বেসবল মাঠ এবং বেসবল ও সফটবলের জন্য আটটি পূর্ণাঙ্গ মাঠ। এ ছাড়া রয়েছে দুটি চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যায়ের বেসবল মাঠ এবং ফুটবল ও রাগবির জন্য চারটি মাঠ। বিভিন্ন বয়সের খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, স্থানীয় লিগ, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা এবং বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা মাথায় রেখে এসব সুবিধা তৈরি করা হয়েছে। এত বড় পরিসরের ক্রীড়া আয়োজনের ফলে একই সময়ে একাধিক খেলা পরিচালনা করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে যুব ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বিভিন্ন শহর থেকে আসা দলগুলোর জন্য মাঠের স্বল্পতা কমাতে পারে এই স্থাপনা। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্য ও দর্শকদের জন্যও এখানে সময় কাটানোর সুযোগ থাকবে। কমপ্লেক্সের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো ছয়তলা পার্কিং ভবন। এতে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। দর্শকদের মাঠের খেলা দেখার অভিজ্ঞতা আরও আকর্ষণীয় করতে স্থাপন করা হয়েছে ১৫২ ফুট দীর্ঘ ও ৫১ ফুট চওড়া বিশাল ডিজিটাল পর্দা। বিভিন্ন খেলা ও অনুষ্ঠান চলাকালে এটি ব্যবহার করা যাবে। অন্টারিও শহরের অর্থায়নে নির্মিত এই ক্রীড়াকেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে স্পোর্টস ফ্যাসিলিটিজ কোম্পানিজ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহরটির ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নত করার পাশাপাশি নতুন দর্শনার্থী আকৃষ্ট করা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। স্পোর্টস ফ্যাসিলিটিজ কোম্পানিজের প্রধান নির্বাহী জেসন ক্লেমেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে পশ্চিম উপকূলের ক্রীড়া অবকাঠামোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। নতুন এই কমপ্লেক্স সেই চিত্র বদলে দিতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে অঞ্চলটিতে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। অন্টারিও শহরের সিটি ম্যানেজার স্কট ওচোয়া ২০২৫ সালে প্রকল্পটি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, এটি নগর পরিষদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রতিফলন। তাঁর মতে, আধুনিক এই ক্রীড়াকেন্দ্র পরিবারগুলোর একত্র হওয়া, খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা এবং পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করবে। শহর কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, আগামী কয়েক দশক ধরে এটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে কাজ করবে। কমপ্লেক্সটির অবস্থানও দর্শনার্থীদের জন্য সুবিধাজনক। অন্টারিও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে প্রায় ১০ মিনিটের দূরত্বে রয়েছে এটি। আশপাশে ছয় হাজারের বেশি হোটেল কক্ষ থাকায় দূরবর্তী শহর থেকে আসা খেলোয়াড় ও তাঁদের পরিবারের থাকার ব্যবস্থা করা তুলনামূলক সহজ হবে। ফলে একাধিক দিনের টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রেও স্থানটি সুবিধা দিতে পারে। এ ছাড়া ক্রীড়াকেন্দ্রটির পাশেই রয়েছে ৬ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতার বেসবল স্টেডিয়াম, যেখানে খেলবে লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্সের সিঙ্গেল-এ পর্যায়ের সহযোগী দল অন্টারিও টাওয়ার বাজ়ার্স। এর ফলে যুব ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং পেশাদার পর্যায়ের বেসবল একই এলাকায় উপভোগ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রকল্পটির আশপাশে আরও পর্যটন ও আতিথেয়তা সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছর সেখানে ২৩০ কক্ষের একটি হোটেল চালুর প্রত্যাশা করা হচ্ছে। হোটেলটি চালু হলে মাঠের কাছেই থাকার সুযোগ পাবেন দূর থেকে আসা খেলোয়াড়, তাঁদের পরিবার এবং টুর্নামেন্টের দর্শকেরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খেলাধুলার পাশাপাশি সংগীত, বিনোদন, শিশুদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন রাখা হয়েছিল। পুরো প্রকল্পের লক্ষ্য শুধু মাঠ তৈরি করা নয়; বরং খেলাধুলা, বিনোদন ও পারিবারিক কর্মকাণ্ডকে এক জায়গায় এনে অন্টারিওকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় কমেছে নতুন চাকরির সুযোগ
ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির বাজারে চরম সংকট, কমছে সুযোগ বাড়ছে প্রতিযোগিতা

ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির বাজারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক কমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাজ্যটির গড় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে একই সময়ে জাতীয় হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। চাকরির সুযোগের হার বলতে মাসের শেষ কর্মদিবসে বিদ্যমান খালি পদকে মোট কর্মী ও খালি পদের সমষ্টির শতাংশ হিসেবে হিসাব করা হয়। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর জেওএলটিএস জরিপে চাকরির সুযোগ, নিয়োগ এবং কর্মী ছাঁটাইসহ শ্রমবাজারের বিভিন্ন সূচক পরিমাপ করা হয়।  ক্যালিফোর্নিয়ার এই হার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২১ সালে রাজ্যটির গড় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২২ সালে তা বেড়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও ২০২৩ সালে কমে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে হারটি ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।  ২০২৫ সালের অক্টোবরেও ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ৬ লাখ ৬৪ হাজার চাকরির সুযোগ ছিল। তবে ওই মাসে রাজ্যটির চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে জাতীয় হার ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগের মাসে ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।  তবে চাকরির সুযোগ কম থাকা মানেই নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, এমন নয়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মোট চাকরির সুযোগ ছিল প্রায় ৭২ লাখ ৭১ হাজার এবং জাতীয় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে নিয়োগের হার ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং ছাঁটাই ও চাকরিচ্যুতির হার ছিল ১ শতাংশ।  সাম্প্রতিক শ্রমবাজারের আরেকটি চিত্রও দেখা যাচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে শ্রম বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বেকার ভাতার আবেদন সামান্য কমে ২ লাখ ৬ হাজারে নেমেছে। একই সময়ে আগস্টে দেশটিতে ১ লাখ ৬২ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ে নিয়োগের গতি কিছুটা বাড়লেও রাজ্যভেদে চাকরির সুযোগের চিত্র এক নয়।  ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরি খুঁজছেন এমন কর্মীদের জন্য তাই শুধু মোট চাকরির সংখ্যা নয়, কোন খাতে নিয়োগ বাড়ছে, কোন এলাকায় সুযোগ বেশি এবং নিয়োগের প্রবণতা কীভাবে বদলাচ্ছে, সেদিকেও নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চাকরির সুযোগের হার কম থাকলে একটি পদের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়তে পারে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা তীব্র হতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট চাকরিপ্রার্থীর ক্ষেত্রে এর প্রভাব কতটা হবে, তা পেশা, দক্ষতা ও স্থানীয় শ্রমবাজারের ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে সামগ্রিকভাবে চাকরির সুযোগ এখনো কয়েক মিলিয়নের পর্যায়ে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, মহামারির পরের উচ্চ চাকরির সুযোগের সময়ের তুলনায় নিয়োগের বাজার অনেক বেশি স্বাভাবিক পর্যায়ে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনামূলক কম চাকরির সুযোগের হার রাজ্যটির চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
সংবাদ সংগ্রহের সময় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এনবিসি সাংবাদিকের
এনগেজমেন্টের এক বছরের মধ্যেই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এনবিসি সাংবাদিকের

লস অ্যাঞ্জেলেসে সংবাদ সংগ্রহের সময় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলেসের সাংবাদিক এলিয়ানা মোরেনো। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চ্যাটসওয়ার্থ এলাকায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় মোরেনোর সঙ্গে হেলিকপ্টারের পাইলট জর্জ মার্সিনিউ এবং মাটিতে থাকা আরও একজন প্রাণ হারান। ওই সময় হেলিকপ্টারটি কাছাকাছি একটি বাস দুর্ঘটনার খবর সংগ্রহ করছিল। এলিয়ানা মোরেনো এনবিসি৪ ও টেলিমুন্ডো ৫২-এর জন্য আকাশপথে সংবাদ সংগ্রহ করতেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে চ্যাটসওয়ার্থের নর্থ মেসন অ্যাভিনিউ এলাকায় নিউজ হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। এরপর হেলিকপ্টারটিতে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলে থাকা আরও কয়েকটি গাড়ি ও দুটি স্টোরেজ কনটেইনারও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে এলিয়ানা ও পাইলট জর্জ মার্সিনিউ কাছাকাছি একটি মেট্রো বাস ও একটি এসইউভির সংঘর্ষের খবর কভার করছিলেন। ওই সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত দুজন প্রাণ হারান এবং ছয়জন আহত হন। একই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে একাধিক নিউজ হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলের ওপর অবস্থান করছিল। এর কিছুক্ষণ পরই এনবিসির নিউজচপার৪ বিধ্বস্ত হয়। মোরেনো দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার পরিচিত আকাশপথের সংবাদ প্রতিবেদকদের একজন ছিলেন। তিনি চ্যাপম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রচার সাংবাদিকতা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০১০ সালে তিনি অ্যাঞ্জেল সিটি এয়ারের হেলিকপ্টার টিমে যুক্ত হন। পরে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেন। পাইলট জর্জ মার্সিনিউয়ের সঙ্গে ২০২৩ সাল থেকে নিয়মিত উড়ছিলেন তিনি। ব্যক্তিজীবনেও নতুন অধ্যায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মোরেনো। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাণ হারানোর এক বছরেরও কম সময় আগে তাঁর বাগদান হয়েছিল। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থেমে গেল। দুর্ঘটনার খবরটি এনবিসি৪-এর সরাসরি সম্প্রচারের মধ্যেই সহকর্মীদের কাছে পৌঁছে যায়। পরে সম্প্রচারে মোরেনো ও মার্সিনিউয়ের প্রাণ হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সহকর্মীরা তাঁদের দীর্ঘদিনের সহকর্মী হিসেবে স্মরণ করে শোক প্রকাশ করেন। এনবিসি৪ ও টেলিমুন্ডো ৫২ এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ৭০ জনের বেশি ফায়ারফাইটার ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আরও দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে কয়েক ঘণ্টায় প্রায় ৯০টি ক্ষুদ্র ভূমিকম্প
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ৯০টি ক্ষুদ্র ভূমিকম্প, লস অ্যাঞ্জেলেসের বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ৯০টি ক্ষুদ্র ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত লেনক্স ও ওয়েস্টমন্টের আশপাশে এসব কম্পন রেকর্ড করা হয়। ভূমিকম্পগুলোর মাত্রা ছিল ১ দশমিক ০ থেকে ২ দশমিক ৭। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, কম্পনের ধারাটি শুক্রবার রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে শুরু হয়ে শনিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলে। বেশিরভাগ ভূমিকম্পই ছিল খুবই ছোট। তবে লস অ্যাঞ্জেলেসের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা হালকা কম্পন অনুভব করার কথা জানিয়েছেন। ভূমিকম্পগুলোর কেন্দ্র ছিল নিউপোর্ট-ইংলউড ফল্ট জোনের কাছাকাছি। এই ফল্টটি কালভার সিটি থেকে নিউপোর্ট বিচ পর্যন্ত বিস্তৃত। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর একই ফল্ট জোনের কাছে ৩ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ক্রেনশ, হান্টিংটন পার্ক, বেল, ওয়েস্ট অ্যাডামস, মিড-সিটি ও গার্ডেনাসহ দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা হালকা কম্পন অনুভব করার কথা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ভূমিকম্পের এই ধারাকে ‘সিসমিক সোয়ার্ম’ বা ‘ভূমিকম্পের ঝাঁক’ বলা হচ্ছে। ইউএসজিএসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একই ছোট এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একাধিক ভূমিকম্প ঘটলে এবং সেগুলো কোনো স্পষ্ট প্রধান ভূমিকম্পের পরবর্তী আফটারশক না হলে, সেটিকে সাধারণত ‘সোয়ার্ম’ বলা হয়। তবে এসব ক্ষুদ্র ভূমিকম্পকে বড় ভূমিকম্পের নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ইউএসজিএস বলছে, ছোট ভূমিকম্পের এমন ধারার পর বড় ভূমিকম্প হবেই—এমন নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দেওয়ার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। একই সঙ্গে সংস্থাটি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ধারার আচরণ পরিবর্তনশীল হওয়ায় কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। নিউপোর্ট-ইংলউড ফল্ট নিয়ে অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের আগ্রহ রয়েছে। আগের গবেষণায় এই ফল্টে অতীতে ৭ মাত্রার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে বর্তমান ক্ষুদ্র ভূমিকম্পের ধারাকে এমন বড় ভূমিকম্পের সরাসরি সংকেত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। এদিকে, ১৮ ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ে কয়েক ডজন ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে এবং ঘটনাগুলো নিউপোর্ট-ইংলউড ফল্ট জোনের কাছে কেন্দ্রীভূত ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ভূমিকম্পের ঝাঁক কয়েক দিন বা আরও দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। অর্থাৎ, দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসে একসঙ্গে এতগুলো ছোট ভূমিকম্প বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করলেও এ মুহূর্তে এটিকে বড় ভূমিকম্প আসার নিশ্চিত সংকেত বলা যাচ্ছে না। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় এমন ঘটনা বাসিন্দাদের জরুরি প্রস্তুতির গুরুত্ব আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০