যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে গত সপ্তাহে লাগা আগুন টানা ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জ্বলেছে। এতে রণতরিতে থাকা বহু সেনা ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাবিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সোমবার (১৭ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত সপ্তাহে রণতরীটির লন্ড্রি (কাপড় ধোয়ার জায়গা) অংশে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এর আগে মার্কিন নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই যুদ্ধজাহাজে আগুন লাগলেও সেটি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনাটি যুদ্ধসংক্রান্ত নয় এবং এতে দুই নাবিক আহত হয়েছেন, তবে তাদের আঘাত জীবননাশের মতো গুরুতর নয় বলেও জানানো হয়। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সময় লোহিত সাগরে মোতায়েন করা ১ লাখ টন ওজনের এ রণতরির সামরিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি বলে নৌবাহিনী দাবি করেছে। তবে ১৩ বিলিয়ন (১ হাজার ৩০০ কোটি) ডলার মূল্যের এ রণতরীতে থাকা প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ক্রু ও বিমান সেনার অবস্থা বর্তমানে ‘চরম অস্বস্তিকর’। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ফলে অন্তত ৬০০ নাবিক তাদের থাকার জায়গা হারিয়েছেন। তারা এখন রণতরীর টেবিল বা মেঝেতে ঘুমাচ্ছেন। এছাড়া লন্ড্রি পুড়ে যাওয়ায় অনেকেই কাপড় ধুতে পারছেন না। পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরের দায়িত্বে থাকা মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন। ১০ মাস ধরে মোতায়েন থাকা এ রণতরীটিতে টয়লেট সমস্যাও প্রকট হয়ে উঠেছে। এনপিআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে এর টয়লেট মেরামতে বারবার বাইরে থেকে সাহায্য নিতে হয়েছে। গত জুন মাসে ভার্জিনিয়ার নরফোক বন্দর ছাড়ার পর থেকে রণতরীটি আটলান্টিক, ভূমধ্যসাগর ও ক্যারিবীয় অঞ্চল হয়ে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যদি এই মোতায়েন এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত গড়ায়, তবে তা হবে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর কোনো মার্কিন রণতরীর দীর্ঘতম মোতায়েন।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করেছেন তারা ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করে দিয়েছেন, তা মিথ্যা। তিনি বলেন, যদি তার সাহস থাকে, তাহলে পারস্য সাগরে জাহাজ আনুক। মুখপাত্র আরও বলেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে বাধা থাকায় পারস্য সাগরে পৌঁছানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালী ইরানের দ্বারা বন্ধ রয়েছে এবং এটি এখনও অবরুদ্ধ। ওমান সাগরের পথ ব্যবহার করে পারস্য সাগরে যেতে হয়, যা ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন। আলি মোহাম্মদ নাইনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত যেসব মিসাইল ব্যবহার করেছি, সেগুলো এক দশক আগে তৈরি করা। গত বছরের জুনে ১২ দিনের সংঘাতের পর আমরা নতুন মিসাইল তৈরি করেছি, তবে সেগুলো এখনও ব্যবহার করা হয়নি। বিপ্লবী গার্ডের এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির উত্তরে ইরানের শক্তি প্রদর্শনের একটি নির্দেশ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। শনিবার (১৪ মার্চ) দেশটির নৌবাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং কুয়েতে এই অভিযান পরিচালনা করে। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ-প্রধান অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবুধাবির আল-ধাফরা, কুয়েতের আল-আদিরি এবং বাহরাইনের শেখ ঈসা সামরিক ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন বাহিনীর ওপর কয়েক দফায় এই হামলা চালানো হয়। মূলত ওই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক উপস্থিতি লক্ষ্য করেই এই আক্রমণ পরিচালনা করেছে ইরানি নৌবাহিনী। অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি জানান, এই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত প্যাট্রিয়ট রাডার ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং বিমানের জ্বালানি মজুত রাখার বিশাল ট্যাংকগুলো। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে ইরানের এই সরাসরি সামরিক অভিযান ওই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে অতিরিক্ত সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে আরও প্রায় ২,২০০ মার্কিন মেরিন এবং নৌবাহিনীর তিনটি উভচর যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা। কর্মকর্তারা বলেছেন, এই বাহিনী একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের অংশ, যা দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়। প্রয়োজনে স্থল, আকাশ ও সমুদ্র—তিন দিক থেকেই সামরিক সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে এই ইউনিটের। তারা আরও জানান, এই মোতায়েনের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি স্থলযুদ্ধে নামছে। বরং সামরিক কমান্ডারদের হাতে অতিরিক্ত বিকল্প রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে ওঠায় যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে ওই অঞ্চলে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
লোহিত সাগরে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক এবং বিশ্বের বৃহত্তম পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ (USS Gerald R. Ford)-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে দুই জন নৌ-সেনা আহত হয়েছেন। ইউএস নেভাল ফোর্সেস সেন্ট্রাল কমান্ড (৫ম ফ্লিট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে জানায়, ১২ মার্চ রণতরীটির প্রধান লন্ড্রি রুমে (কাপড় ধোয়ার স্থান) আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন জাহাজের কর্মীরা। নৌবাহিনী স্পষ্ট করেছে যে, এই অগ্নিকাণ্ড কোনো যুদ্ধকালীন হামলা বা শত্রুদেশের আক্রমণের কারণে ঘটেনি। এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, "আগুনের কারণ যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট নয় এবং এটি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জাহাজের প্রপালশন প্ল্যান্ট (ইঞ্জিন কক্ষ) বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো যন্ত্রাংশের ক্ষতি হয়নি।" আহত দুই নৌ-সেনার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তারা জাহাজে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র সমর্থনে লোহিত সাগরে মোতায়েন রয়েছে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও রণতরীটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সচল (Fully Operational) রয়েছে এবং এর সামরিক কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলে পেন্টাগন জানিয়েছে। ২০১৭ সালে কমিশন লাভ করা এই রণতরীটি মার্কিন নৌবাহিনীর প্রযুক্তির এক অনন্য নিদর্শন। প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই জাহাজটি বর্তমানে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। ঘটনার বিস্তারিত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন নৌ কর্তৃপক্ষ।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি বাস ও একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চার জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকাল ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে আট জনের মরদেহ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। বাকি চার জনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পাল। ডা. সুকান্ত কুমার পাল বলেন, দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে চারটি মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে এবং আহত কয়েকজনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মেহনাজ মোশাররফ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক শিশুসহ আট জনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং তাদের মৃত অবস্থায় আনা হয়। বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি মো. জাফর আহমেদ জানান, নৌবাহিনীর বাসটি মোংলা থেকে ছেড়ে এসেছিল। বেলাই ব্রিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন নারীসহ চার জন নিহত হন। স্থানীয়রা মাইক্রোবাসে থাকা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। নিহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন এবং মাইক্রোবাসটি খুলনা থেকে মোংলার দিকে যাচ্ছিল। নিহতদের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। হতাহতদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও জানাতে পারেনি পুলিশ।
ওমান উপকূলে হরমুজ প্রণালীতে একটি থাই বাণিজ্যিক জাহাজে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওমান উপকূল থেকে প্রায় ১৩ নটিক্যাল মাইল দূরে সংঘটিত এই হামলায় জাহাজটি মারাত্মক সংকটে পড়লে ওমানের রাজকীয় নৌবাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে ২০ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (ওএনএ) জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত সকল নাবিকই থাইল্যান্ডের নাগরিক। হামলার ফলে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা ওমান নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় রয়েছে। ঠিক কী কারণে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রসীমায় এমন হামলার ঘটনায় ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরানের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ 'দেনা' ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় 'নৃশংসতা' চালানোর অভিযোগ তুলেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক কঠোর বার্তায় জানিয়েছেন, এই হঠকারী সিদ্ধান্তের জন্য ওয়াশিংটনকে 'তীব্র অনুশোচনা' করতে হবে। আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ইরানি উপকূল থেকে প্রায় ৩,২০০ কিলোমিটার দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করছিল যুদ্ধজাহাজটি। ভারতীয় নৌবাহিনীর অতিথি হিসেবে প্রায় ১৩০ জন নাবিক নিয়ে এটি সেখানে অবস্থানরত ছিল। কোনো প্রকার আগাম সতর্কতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র জাহাজটিতে হামলা চালায় বলে তিনি দাবি করেন। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যে বিপজ্জনক নজির স্থাপন করল, তার ফল মোটেও ভালো হবে না। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ইরানি নৌবাহিনীর একটি ফ্রিগেট (মাঝারি রণতরী) ডুবির ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে দেশটির নৌবাহিনী। বুধবার শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিথা হেরাথ দেশটির পার্লামেন্টে এক বিবৃতিতে জানান, ‘আইরিস দেনা’ নামক ওই ইরানি যুদ্ধজাহাজটিতে মোট ১৮০ জন নাবিক ছিলেন। জাহাজটি থেকে বিপদসংকেত পাওয়ার পর শ্রীলঙ্কার সামরিক বাহিনী দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের মধ্যে যারা আহত হয়েছেন, তাদের চিকিৎসার জন্য দক্ষিণাঞ্চলের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে জাহাজটি ঠিক কী কারণে ডুবতে শুরু করেছিল, সে বিষয়ে শ্রীলঙ্কা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেরাথ কেবল জানিয়েছেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি নৌবাহিনীর এই ফ্রিগেটটি শ্রীলঙ্কার গল উপকূলে অবস্থানকালে ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন হয় এবং জরুরি সংকেত পাঠায়। বাকি নাবিকদের অবস্থা ও জাহাজটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনীর ৯টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে। তার পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এই জাহাজগুলোর মধ্যে কিছু “বেশ বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ” ছিল। তিনি আরও লিখেছেন, “আমরা বাকিগুলোর পেছনেও লেগেছি তারা খুব শীঘ্রই সমুদ্রের তলদেশে যাবে। আলাদা একটি হামলায় তাদের নৌ-সদর দপ্তরও প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে তাদের নৌবাহিনী এখনও কার্যক্রম চালাচ্ছে।” এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও সতর্ক নজরে রাখার প্রয়োজনীয়তা উঠেছে। সূত্র: আলজাজিরা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নৌবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সাক্ষাৎকালে দেশের জলসীমার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং সমুদ্রসম্পদ রক্ষায় নৌবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া নৌবাহিনীর বর্তমান সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন নৌবাহিনী প্রধান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের প্রশংসা করেন। সমুদ্রসীমা সুরক্ষায় বাহিনীর সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি আগামী দিনেও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নৌবাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দেশ এবং জাতি সশস্ত্র বাহিনীর দিকে তাকিয়ে আছে, মানুষের প্রত্যাশা একটি অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান। আমরা দেশ ও জাতিকে একটি উদাহরণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে চাই। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বরগুনা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সংলগ্ন নৌ ক্যাম্পে বাহিনীর অফিসার এবং সদস্যদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। নৌবাহিনী প্রধান বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সিভিল প্রশাসনের সমন্বয় খুবই গভীর এবং দৃঢ়। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন মাঠে থাকায় অঞ্চলভিত্তিক চ্যালেঞ্জ, সুবিধা-অসুবিধাসমূহ সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। তাই সব বাহিনীর সমন্বয়ে একটি সুষ্ঠু এবং সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দেন নৌবাহিনী প্রধান। নিরাপদে কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স এবং ব্যালট পৌঁছানো থেকে শুরু করে ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে আশ্বাস দেন অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। পরে দুপুর একটায় বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ এর বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হন তিনি। সভায় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি, বরগুনা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, র্যাব, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুপুর পৌনে ১২টায় হেলিকপ্টারযোগে বরগুনা সার্কিট হাউজ মাঠে আসেন নৌপ্রধান।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।