নৌবাহিনী

মার্কিন যুদ্ধজাহাজে খাবারের মান নিয়ে নতুন অভিযোগ
মার্কিন যুদ্ধজাহাজে খাবারের মান নিয়ে নতুন অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে নৌবাহিনীর সরবরাহ ব্যবস্থা

মার্কিন নৌবাহিনীর রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনে নাবিকদের খাবারের মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সামরিক গবেষক ও লেখক সেথ হার্প সামাজিক মাধ্যমে নাবিকদের পাঠানো কয়েকটি খাবারের ছবি প্রকাশ করার পর এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।   প্রকাশিত ছবিগুলোতে পরিবেশন করা খাবারের পরিমাণ ও উপস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ দেখা যায়। তবে ছবির ভিত্তিতে খাবারের পুষ্টিমান বা সামগ্রিক খাদ্যব্যবস্থার মান নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।   ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছে। রণতরীটি দীর্ঘ সময় মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে।   ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন দীর্ঘ মেয়াদে মোতায়েন থাকার সময় নাবিকদের কাজের চাপ, সরবরাহ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মতো বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নতুন করে জর্জ ওয়াশিংটনের খাবারের ছবি সামনে আসায় মার্কিন নৌবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের প্রস্তুতি ও রসদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।   সামরিক গবেষক সেথ হার্প তাঁর পোস্টে খাবারের ছবিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটের আকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তবে তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশ রাজনৈতিক মন্তব্য ও মতামত; এগুলোকে সরাসরি প্রমাণিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   ইরানকে ঘিরে সামরিক অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর রসদ ব্যবস্থাপনায়ও পরিবর্তন এসেছে। ইরানের হামলার পর বাহরাইনে থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের কিছু অংশ ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটির দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   দিয়েগো গার্সিয়া ভারত মহাসাগরের একটি প্রত্যন্ত দ্বীপ। মূল ভূখণ্ড থেকে এর দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় সেখানে খাবার, জ্বালানি, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা তুলনামূলক জটিল।   এর মধ্যেই ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে নতুন করে দীর্ঘ দূরত্বে মোতায়েন করা হচ্ছে। ফলে রণতরীটির নাবিকদের জন্য খাবার ও অন্যান্য সরবরাহ কতটা নিয়মিত রাখা সম্ভব হচ্ছে, তা নিয়ে নজর বাড়ছে।   তবে খাবারের কয়েকটি ছবি থেকেই পুরো জাহাজের খাদ্য বা সরবরাহ ব্যবস্থার চিত্র পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া সামগ্রিক সংকটের মাত্রা নিশ্চিত করাও কঠিন।   ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের নতুন দায়িত্ব এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘ মোতায়েন—দুই ঘটনাই এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্য ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর একসঙ্গে একাধিক কৌশলগত চাপ তৈরি হয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
স্পেনের ভবিষ্যৎ রানি লিওনরের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ
স্পেনের ভবিষ্যৎ রানি লিওনরের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ, প্যারাট্রুপার হিসেবে গড়লেন ইতিহাস

স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্সেস লিওনর তিন বছরের সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সে প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে দেশের রানি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি।    প্রশিক্ষণের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি ছিল প্যারাশুট প্রশিক্ষণ। ২০২৬ সালের জুনে মুরসিয়ার আলকান্তারিয়া বিমানঘাঁটির মেন্দেজ পারাদা মিলিটারি প্যারাশুট স্কুলে বেসিক প্যারাশুট কোর্স শেষ করেন লিওনর। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে তিনি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে একাধিক প্যারাশুট জাম্প করেন। এর মধ্যে রাতের জাম্পও ছিল। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ‘কাজাদোর পারাকাইদিস্তা’ বা প্যারাশুট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সামরিক সদস্যের ব্যাজ পান।   এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে মুরসিয়ার সান হাভিয়েরের জেনারেল এয়ার অ্যান্ড স্পেস অ্যাকাডেমিতে যোগ দিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণের তৃতীয় ধাপে প্রবেশ করেন লিওনর। সেখানে বিমান চালনার প্রশিক্ষণও নেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি প্রথমবার এককভাবে একটি পিলাটাস পিসি-২১ প্রশিক্ষণ বিমান উড়ান।    ২০২৬ সালের জুনে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বাবার সঙ্গে একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইটেও অংশ নেন তিনি। স্পেনের রাজপরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক প্রশিক্ষণের পুরো প্রক্রিয়ায় লিওনরকে তিন বাহিনীর বিভিন্ন ধরনের সামরিক দায়িত্ব ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে পরিচিত করা হয়েছে।    তবে সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ হলেও লিওনরের প্রস্তুতি এখানেই শেষ হচ্ছে না। স্পেনের রাজপরিবার জানিয়েছে, সামরিক ক্যারিয়ারের পর তিনি মাদ্রিদের কার্লোস থ্রি ইউনিভার্সিটিতে পলিটিক্যাল সায়েন্সে পড়াশোনা করবেন। চার বছরের এই ডিগ্রিতে রাজনীতি, আইন, অর্থনীতি, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হবে।    ভবিষ্যতে স্পেনের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে লিওনরের। ২০২৭ সালের জুলাইয়ে তিনি স্পেনের সেনাবাহিনী ও এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সে লেফটেন্যান্ট এবং নৌবাহিনীতে নেভাল এনসাইন হিসেবে কমিশন পাওয়ার কথা রয়েছে।    লিওনরের সামরিক প্রশিক্ষণকে স্পেনের রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি সিংহাসনে বসলে প্রায় দেড়শ বছর পর স্পেনে আবার একজন নারী শাসক হিসেবে রাজত্ব করবেন।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
সান ডিয়েগোতে হিংসার জেরে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও তার গৃহহীন প্রেমিককে হ ত্যা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শিশুধর্ষণের অভিযোগ
সান ডিয়েগোতে হিংসার জেরে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও তার গৃহহীন প্রেমিককে হ ত্যা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শিশুধর্ষণের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা প্রেমিকা ও তার প্রেমিককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবকের বিরুদ্ধে এবার বেরিয়ে এসেছে আরও ভয়ংকর তথ্য। জোড়া খুনের অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই ৩৩ বছর বয়সী রায়ান ওয়েসলি প্রফিট নামের ওই যুবকের বিরুদ্ধে দুজন শিশুকে যৌন নির্যাতনের নতুন অভিযোগ গঠন করেছেন প্রসিকিউটররা।   আদালত সূত্রে জানা গেছে, রায়ানের বিরুদ্ধে শিশু নিগ্রহ ও যৌন নির্যাতনের মোট ১৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুর সঙ্গে যৌন মিলন এবং ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুর ওপর জোরপূর্বক বিকৃত যৌনাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই জঘন্য অপরাধগুলো সংঘটিত হয়েছিল।   তবে এই শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলোর সাথে সাম্প্রতিক জোড়া খুনের কোনো সম্পর্ক নেই এবং দুটি মামলা সম্পূর্ণ আলাদাভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। রায়ানের বিরুদ্ধে আনা একটি অভিযোগে বলা হয়েছে যে, সে এক শিশুর ওপর মারাত্মক শারীরিক নির্যাতনও চালিয়েছিল। যদিও আদালতে নতুন করে যুক্ত হওয়া এই শিশু নির্যাতনের অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে রায়ান।   চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনাটি ঘটে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। পুলিশ জানায়, একটি 'ওপেন রিলেশনশিপ' বা উন্মুক্ত সম্পর্কের চুক্তির অংশ হিসেবে ২৮ বছর বয়সী নৌবাহিনীর নাবিক কোর্টনি চ্যান্ডলার তার ২৭ বছর বয়সী গৃহহীন প্রেমিক নিকোলাস ম্যাকক্লুরকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। নিকোলাস প্রায় দেড় সপ্তাহ ধরে তাদের সাথেই ওই বাড়িতে থাকছিলেন।   কিন্তু একপর্যায়ে রায়ান তাদের সম্পর্ক নিয়ে ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠে এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে বন্দুক নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়। প্রসিকিউটররা জানান, ম্যাকক্লুর বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে রায়ান তাকে লক্ষ্য করে তিনবার গুলি চালায় এবং এরপর প্রেমিকা চ্যান্ডলারকেও নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। চ্যান্ডলার আগেই বুঝতে পেরেছিলেন যে রায়ানের কাছে বন্দুক রয়েছে, যা তিনি টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে তার এক বন্ধুকে জানিয়েছিলেন।   হত্যার পর রায়ান নিজেই ৯১১ নম্বরে কল করে জরুরি সেবায় খবর দেয়। পুলিশ সামরিক ওই কমপ্লেক্সের ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিঁড়িতে বসে তাকে নির্লিপ্তভাবে বিয়ার পানরত অবস্থায় দেখতে পায়। গত বৃহস্পতিবার আদালতে প্রথম মাত্রার দুটি হত্যার অভিযোগেও রায়ান নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছে। বর্তমানে তাকে কোনো জামিন ছাড়াই কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। এদিকে নিহত চ্যান্ডলারের পরিবারের সহায়তায় 'গোফান্ডমি'-তে একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হয়েছে, যেখানে এই নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে একজন স্নেহময়ী বোন, কন্যা এবং নাতনি হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসী সেনা I ছবিঃ আল জাজিরা
আমেরিকার জন্য যুদ্ধ করেও ‘আমেরিকান’ হতে পারলেন না; এখন বিতাড়নের মুখে অভিবাসী সেনা

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হয়ে তিনবার ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন মেক্সিকান বংশোদ্ভূত বেনিটো মিরান্ডা হার্নান্দেজ। সামরিক সেবার বিনিময়ে তাকে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, আজ তিনি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চিরতরে বিতাড়িত হওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন।   সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোতে মার্কিন ফেডারেল কোর্টহাউসের সামনে হার্নান্দেজের মুক্তির দাবিতে জড়ো হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন মানবাধিকার কর্মী। 'ব্ল্যাক ডিপোর্টেড ভেটেরানস অব আমেরিকা'-এর প্রতিষ্ঠাতা জেমস স্মিথ সেখানে হার্নান্দেজের পদক পরা একটি ছবি দেখিয়ে তার মুক্তির জোর দাবি জানান।   শিশু বয়সে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা হার্নান্দেজ সামরিক জীবন শেষে সাধারণ জীবনে ফিরতে চরম মানসিক সংগ্রামের মুখোমুখি হন। এর জেরে মাদক সংক্রান্ত এক মামলায় জড়িয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন তিনি। গত ১৪ জুন তার সাজার মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু কারাগার থেকে বের হয়ে অপেক্ষারত মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার বদলে তাকে সরাসরি আটক করে আইস হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তাকে সান দিয়েগোর ওটে মেসা ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অপরাধের রেকর্ড থাকা অভিবাসীদের বিতাড়নের যে কড়া নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, হার্নান্দেজের আটক তারই একটি অংশ। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, যুদ্ধফেরত এসব সেনারা চরম মানসিক অবসাদ ও ট্রমাতে ভুগে অনেক সময় অপরাধে জড়িয়ে পড়েন, যার কারণে তারা এই কঠোর নীতির সবচেয়ে বড় শিকারে পরিণত হচ্ছেন।   'রিপ্যাট্রিয়েট আওয়ার প্যাট্রিয়টস'-এর প্রেসিডেন্ট ড্যানিৎজা জেমসের মতে, মার্কিন সরকার অভিবাসী সেনাদের কোনো মূল্যায়নই করে না, বরং তাদেরকে কেবল 'ব্যবহারযোগ্য বস্তু' বা ডিসপোজেবল হিসেবেই বিবেচনা করে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে অন্তত ৩৪ জন সাবেক মার্কিন সেনাকে বিতাড়নের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।   নাগরিকত্বের আশায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেও আইনি দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেকেই সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। ২০০৬ সালে যখন হার্নান্দেজকে নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়, ততদিনে তার বিরুদ্ধে অপরাধের রেকর্ড যুক্ত হওয়ায় তার আবেদন বাতিল হয়ে যায়। বর্তমানে আইস ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি হার্নান্দেজ চরম হতাশায় দিন পার করছেন।   আনাহেইম থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সান দিয়েগোতে ছেলেকে দেখতে আসা মা মারিয়া মিরান্ডা আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জানান, তারা যেন একটি পাখির ডানা কেটে তাকে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলেছে। তার ছেলের সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা আজ পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন।
পারমাণবিক সক্ষমতায় নৌবাহিনী জোরদার করছে উত্তর কোরিয়া, আসছে আরও বড় যুদ্ধজাহাজ

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার পাশাপাশি আরও বড় আকারের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বুধবার (২৪ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৩ জুন) নামফো বন্দরে একটি নবনির্মিত যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কিম জং উন। সেখানে তিনি বলেন, নৌবাহিনীকে পারমাণবিক শক্তিতে সজ্জিত করার কর্মসূচি নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে এবং এটি দেশের প্রতিরক্ষা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   কিম জানান, গত বছর চালু হওয়া প্রায় ৫ হাজার টন ওজনের যুদ্ধজাহাজের পর খুব শিগগিরই আরেকটি নতুন জাহাজ বহরে যুক্ত করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে ১০ হাজার টন ধারণক্ষমতার কৌশলগত যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের কাজ শুরু হবে। তার ভাষায়, দেশের পারমাণবিক শক্তিকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   উত্তর কোরিয়া আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল, নতুন প্রজন্মের এসব যুদ্ধজাহাজে অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা থাকবে। গত এপ্রিলে এমন একটি জাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পরীক্ষাও সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন কিম জং উন, যা দেশটির সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়।   বিশ্লেষকদের মতে, কিমের এই ঘোষণা মূলত দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটি কৌশলগত বার্তা। সম্ভাব্য সংঘাতের পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ প্রতিহত করতে নিজেদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেই পিয়ংইয়ং এ ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে।   সম্প্রতি ক্ষমতাসীন দলের এক বৈঠকেও দ্রুত সামরিক আধুনিকায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন কিম। ওই বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।   উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই উত্তর কোরিয়া নিজেদেরকে শক্তিশালী পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা আরও জোরদার করেছে। নতুন এই নৌ-সামরিক পরিকল্পনা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   সূত্র: জাপান টাইমস

নীলুফা নিশাত জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইংলিশ চ্যানেলে ব্রিটিশ নৌযানের কাছে রুশ যুদ্ধজাহাজে গুলি, ক্ষুব্ধ স্টারমার

ইংলিশ চ্যানেলে একটি ব্রিটিশ পতাকাবাহী নৌযানের কাছে রুশ নৌবাহিনীর একটি ফ্রিগেটের ‘হুঁশিয়ারি গুলি’ ছোড়ার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘটনাটিকে “বেপরোয়া” এবং “গভীরভাবে উদ্বেগজনক” বলে মন্তব্য করেছেন।   বুধবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তিনি বলেন, রুশ নৌবাহিনীর জাহাজের এমন আচরণ “ঘটা উচিত ছিল না”। তার ভাষায়, “এটি বেপরোয়া। নৌযানে থাকা দম্পতি নিশ্চিতভাবে ভীষণ আতঙ্কিত হয়েছিলেন।”   ঘটনার সময় ‘ব্রাইট ফিউচার’ নামের ব্রিটিশ পতাকাবাহী একটি ইয়ট ইংলিশ চ্যানেলে চলছিল। ইয়টটিতে থাকা নাবিক জেন কেলভি বিবিসিকে জানান, রুশ যুদ্ধজাহাজটি শুরুতে পাঁচবার হর্ন বাজিয়ে সতর্ক সংকেত দেয়, এরপর ছোট অস্ত্র দিয়ে হুঁশিয়ারি গুলি ছোড়ে।   তিনি বলেন, নৌযান দুটি কোনোভাবেই সংঘর্ষের পথে ছিল না। তার দাবি অনুযায়ী, পরিস্থিতি তখনই উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন গুলি ছোড়া হয়, যা “সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়” ছিল।   তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। তাদের দাবি, ইয়টটি বিপজ্জনকভাবে যুদ্ধজাহাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল এবং একাধিক রেডিও সতর্কবার্তার পরও অবস্থান পরিবর্তন করেনি। পরে সংঘর্ষ এড়াতে সতর্ক গুলি ছোড়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত ইয়টটি দিক পরিবর্তন করে।   যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুলিটি সরাসরি নৌযানকে লক্ষ্য করে নয়, বরং সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। স্টারমার আরও বলেন, ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল যখন দুই দিন আগে ইংলিশ চ্যানেলে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি তেলবাহী জাহাজ আটক করে যুক্তরাজ্যের বাহিনী।   ঘটনার সময় রুশ ফ্রিগেট ‘অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচ’-কে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজ এইচএমএস মার্সি পর্যবেক্ষণ করছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   এখন পর্যন্ত দুই পক্ষই ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী নিজেদের অবস্থান সঠিক বলে দাবি করছে। তবে বিষয়টি ঘিরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Unknown জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি।  ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন নৌ-অবরোধের হুমকি ‘হাস্যকর’: ইরানের নৌবাহিনী প্রধান

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নৌ-অবরোধের হুমকিকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি। রোববার (১২ এপ্রিল) তেহরানে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রতিটি পদক্ষেপ ইরানের নৌবাহিনীর কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া এই হুমকিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘লজ্জাজনক পরাজয়’ আড়াল করার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, ঘোষিত সময় অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও ইরান তা গুরুত্ব দিচ্ছে না।   শাহরাম ইরানি বলেন, ইরানের নৌবাহিনী এই অঞ্চলে উপস্থিত বিদেশি সামরিক শক্তির প্রতিটি গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার পর এমন হুমকি তাদের দুর্বলতাই প্রকাশ করছে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক কমান্ডারদের ওপর হামলার পর শুরু হওয়া উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ইরানের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে চলা পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইরান ১০ দফা প্রস্তাব দেয়, যার মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি ছিল।   তবে ২১ ঘণ্টার আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা হয়নি। ইরানি প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার অভাবের কথা জানিয়ে চুক্তি ছাড়াই তেহরানে ফিরে যায়। এরপরই ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন।   ইরানের নৌবাহিনী প্রধানের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং তাদের নৌবাহিনী প্রয়োজনীয় জবাব দিতে সক্ষম। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবরোধ কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

Unknown এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণ শুরু করল মার্কিন নৌবাহিনী

শনিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী থেকে সমুদ্র মাইন অপসারণের কাজ শুরু করেছে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও প্রণালীটির কিছু অংশে জাহাজ চলাচল এখনো বিপজ্জনক থাকায় এই বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ 'ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই. পিটারসন' এবং 'ইউএসএস মাইকেল মারফি' বর্তমানে আরব উপসাগরে অবস্থান করছে। সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) কর্তৃক পেতে রাখা মাইনগুলো পরিষ্কার করে জলপথটিকে সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, "আমরা আজ থেকে একটি নতুন এবং নিরাপদ জাহাজ চলাচলের পথ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছি। খুব শীঘ্রই এই নিরাপদ রুটের তথ্য আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক শিল্প সংস্থাগুলোর সাথে শেয়ার করা হবে, যাতে বিশ্ব বাণিজ্য পুনরায় স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে।" প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে এই পদক্ষেপকে বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি আমেরিকার একটি "উপহার" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যের স্বার্থেই আমেরিকা এই ঝুঁকি গ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সিএনএন-এর তথ্যমতে এ পর্যন্ত মাত্র ৩০টির মতো জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করতে পেরেছে। মাইনের পাশাপাশি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান থাকায় পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আরব সাগর থেকে বাংলাদেশীসহ ১৮ নাবিককে উদ্ধার করলো পাকিস্তানের নৌবাহিনী

উত্তর আরব সাগরে এক ভয়াবহ বিপদ থেকে ১৮ জন নাবিককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পাকিস্তানের নৌবাহিনী। যান্ত্রিক ত্রুটি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মুখে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজ 'গোল্ড অটাম' (GOLD AUTUMN) থেকে এই নাবিকদের উদ্ধার করা হয়।  অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হলো, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, জাহাজটি থেকে জরুরি সংকেত পাওয়ার পরপরই নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধার করা নাবিকদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধারকৃত ১৮ জন নাবিককেই ইতিমধ্যে করাচি বন্দরে নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে এবং নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার (প্রত্যাবাসন) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর এমন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালীতে টোল আদায় করতে চায় ইরান: সংকটে মার্কিন ৫ম নৌবহর!

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত হিসেবে তেহরান দুটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।  ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তেহরান এখন থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর 'টোল' বা মাশুল আরোপ করতে চায়। একই সাথে, অঞ্চলটি থেকে সমস্ত মার্কিন যুদ্ধকালীন বাহিনী প্রত্যাহারের দাবিও জোরালো করেছে তারা। এই পরিস্থিতিতে সবচাইতে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—এই টোল কি মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর ওপরও প্রযোজ্য হবে? বাহরাইনে সদর দপ্তর অবস্থিত মার্কিন ৫ম নৌবহরের (5th Fleet) জন্য এটি একটি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। কারণ, এই নৌবহরটি পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর, লোহিত সাগর এবং ভারত মহাসাগরের বিশাল জলসীমার নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। হরমুজ প্রণালী ছাড়াও সুয়েজ খাল এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোর নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক কলিন কোহ-এর মতে, যদি ইরান সফলভাবে টোল আদায় শুরু করে, তবে পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক প্রবেশাধিকার মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। তার মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেন্টকমের (CENTCOM) পুরো অবস্থান পরিবর্তন না করেন, তবে এই টোল ব্যবস্থা মেনে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
গত ২৫ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত
আরব সাগরে যৌথ নৌ মহড়া করছে পাকিস্তান ও চীন

পাকিস্তান নৌবাহিনী ও চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি যৌথভাবে পরিচালিত সামুদ্রিক মহড়া “সি গার্ডিয়ান-৪” সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করা, খবর দিয়েছে সামা টিভি।   পাকিস্তানের সামরিক তথ্যমাধ্যম ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন (আইএসপিআর) জানিয়েছে, মহড়াটি ২৫ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ছিল করাচিতে পাঁচ দিনের “পোর্ট ফেজ” এবং উত্তর আরব সাগরে দুই দিনের “সি ফেজ”।   করাচি বন্দরে চীনা নৌবাহিনীর জাহাজকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয় পিএনএস তাইমুর দ্বারা।   পোর্ট ফেজে দুই দেশের প্রতিনিধি দল পারস্পরিক মতবিনিময়, নৌ স্থাপনা পরিদর্শন, পেশাগত আলোচনা এবং বিভিন্ন সেমিনার আয়োজন করে, যা বোঝাপড়া বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।   সি ফেজে যৌথ সামরিক মহড়া এবং কৌশলগত অনুশীলনের মাধ্যমে দুই নৌবাহিনীর কার্যকর সমন্বয় আরও উন্নত করা হয়।   মহড়ার শেষ দিনে আরব সাগরে যৌথ টহলের মাধ্যমে মহড়ার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এটি আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতি দুই দেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

সাপ মারতে জাপানে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশি বেজি

সাপ মারতে জাপানে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশি বেজি, সেই বেজি নিধনেই লেগেছে ৪৫ বছর

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০