ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নৌ-অবরোধের হুমকিকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি। রোববার (১২ এপ্রিল) তেহরানে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রতিটি পদক্ষেপ ইরানের নৌবাহিনীর কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া এই হুমকিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘লজ্জাজনক পরাজয়’ আড়াল করার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, ঘোষিত সময় অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও ইরান তা গুরুত্ব দিচ্ছে না।
শাহরাম ইরানি বলেন, ইরানের নৌবাহিনী এই অঞ্চলে উপস্থিত বিদেশি সামরিক শক্তির প্রতিটি গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার পর এমন হুমকি তাদের দুর্বলতাই প্রকাশ করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক কমান্ডারদের ওপর হামলার পর শুরু হওয়া উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ইরানের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে চলা পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইরান ১০ দফা প্রস্তাব দেয়, যার মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি ছিল।
তবে ২১ ঘণ্টার আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা হয়নি। ইরানি প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার অভাবের কথা জানিয়ে চুক্তি ছাড়াই তেহরানে ফিরে যায়। এরপরই ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন।
ইরানের নৌবাহিনী প্রধানের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং তাদের নৌবাহিনী প্রয়োজনীয় জবাব দিতে সক্ষম। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবরোধ কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে সমুদ্রপথে নৌ অবরোধ কার্যকর করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) গ্রিনিচ মান সময় রাত ৮টা থেকে এ অবরোধ শুরু হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার (জেএমআইসি)। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এ তথ্য প্রকাশ করেছে। জেএমআইসির জারি করা এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময় থেকে ইরানের সব সমুদ্রবন্দর, তেল টার্মিনাল এবং উপকূলীয় এলাকাকে এই অবরোধের আওতায় আনা হবে। বিশ্বের যেকোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজের ক্ষেত্রেই এ নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে, ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনুমতি ছাড়া অবরুদ্ধ এলাকায় প্রবেশ কিংবা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজকে থামিয়ে দেওয়া, গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করা বা প্রয়োজন হলে জব্দ করা হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্দেশনা অমান্য করলে বলপ্রয়োগেরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে অন্য দেশের জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জেএমআইসি। সংস্থাটি বলেছে, ইরান ব্যতীত অন্য দেশের গন্তব্যে যাওয়া বা সেখান থেকে আসা জাহাজের স্বাভাবিক যাতায়াতে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অবরোধ মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। কারণ, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল পরিবহন হয়ে থাকে। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে এখনো ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়া এবং ইরানের পক্ষ থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের দাবি ঘিরে সোমবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের চাপ দেখা গেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আবারও বাড়িয়ে দিয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৯ ডলারে পৌঁছায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। নিরাপদ বিনিয়োগের খোঁজে বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ডলারের দিকে ঝুঁকেছেন। এর ফলে ডলারের মান শক্তিশালী হয়েছে এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলনও বেড়েছে। একই সময়ে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন দেখা যায়। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের ওপর চাপ বেশি ছিল। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ রুটে যেকোনো অস্থিরতা বিশ্ব জ্বালানি বাজার, পরিবহন ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির ওপর দ্রুত প্রভাব ফেলে। ইরান জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে একই ধরনের দাবির বিরোধিতা করে বলেছিল, আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতেও উভয় পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে, ফলে বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় আছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ার কেভিন ওয়ার্শ কংগ্রেসে প্রথমবারের মতো সাক্ষ্য দেওয়ার আগে বাজারে সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মূল্যস্ফীতির তথ্যও বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে। জ্বালানির দাম আরও বাড়লে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার নিয়ে ফেডের অবস্থান কঠোর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয় বা হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন আরও ব্যাহত হয়, তাহলে শুধু জ্বালানির দামই নয়, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন খরচ এবং ভোক্তা মূল্যও নতুন করে চাপে পড়তে পারে। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য বিশ্বাস করে পশুর জন্য ব্যবহৃত একটি কৃমিনাশক ওষুধ সেবনের পর যুক্তরাজ্যের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ক্যানসারের চিকিৎসা বা প্রতিরোধে কার্যকর বলে প্রচারিত ওই ওষুধ মানুষের জন্য অনুমোদিত নয় এবং এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণও নেই বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন। ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী লি রেডপাথ নামের ওই ব্যক্তি ফেনবেনডাজল (Fenbendazole) নামের একটি অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক বা পরজীবীনাশক ওষুধ টানা কয়েক সপ্তাহ সেবনের পর গুরুতর লিভার বিকল হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে গত বছরের ২৯ এপ্রিল ক্যামব্রিজের অ্যাডেনব্রুকস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তদন্তে জানা যায়, লি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্ট দেখে বিশ্বাস করেছিলেন, ফেনবেনডাজল ক্যানসার প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় উপকারী হতে পারে। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি ইউক্রেনভিত্তিক এক অনলাইন সরবরাহকারীর কাছ থেকে ওষুধটি সংগ্রহ করেন। ফেনবেনডাজল মূলত পশুর অন্ত্রের বিভিন্ন ধরনের পরজীবী ও কৃমি দূর করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি মানুষের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত নয় এবং ক্যানসারের চিকিৎসায় এর কার্যকারিতা প্রমাণিত নয়। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের হান্টিংডনে অনুষ্ঠিত এক করোনারের তদন্তে লির দীর্ঘদিনের সঙ্গী লরেন লল সাক্ষ্য দেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য দেখে লি মনে করেছিলেন ওষুধটি নিরাপদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে অনেক মানুষ এটি ব্যবহার করছেন। লরেন বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই লি ওষুধটি সেবন শুরু করেছিলেন। তার মতে, এ ধরনের ওষুধ অনলাইনে সহজলভ্য হওয়ায় অনেক মানুষ পূর্ণ তথ্য না জেনেই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তিনি আরও জানান, তার ধারণা লি মৃত্যুর আগে হয়তো প্রায় দুই বছর ধরে অনিয়মিতভাবে এই ওষুধ গ্রহণ করছিলেন। তদন্তে অ্যাডেনব্রুকস হাসপাতালের লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. গুইলিম ওয়েব স্পষ্টভাবে জানান, মানুষের ক্যানসার প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় ফেনবেনডাজলের কোনো প্রমাণিত উপকারিতা নেই। তিনি বলেন, এ ধরনের দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। হাসপাতালের নথি অনুযায়ী, লিকে গত বছরের ১২ এপ্রিল গুরুতর লিভার সমস্যার লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার সময় তিনি চিকিৎসকদের জানান যে, অনলাইনে ক্যানসারবিরোধী গুণের দাবি দেখে তিনি ফেনবেনডাজল কিনে সেবন করছিলেন। ময়নাতদন্তে দেখা যায়, লিভারের গুরুতর ক্ষতির পাশাপাশি কিডনিও অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, লির আগে থেকেই অ্যালকোহলজনিত লিভার সিরোসিস ছিল। তবে করোনারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফেনবেনডাজলজনিত লিভারের বিষক্রিয়াই ছিল তার মৃত্যুর প্রধান কারণ, যা শেষ পর্যন্ত লিভার ও কিডনি বিকলের দিকে নিয়ে যায়। ক্যামব্রিজশায়ার ও পিটারবরোর সহকারী করোনার ক্যারোলিন জোনস বলেন, ফেনবেনডাজল অত্যন্ত শক্তিশালী কৃমিনাশক ওষুধ এবং এটি মানুষের জন্য কখনো যে মাত্রায় বা যে সময় পর্যন্ত ব্যবহারের কথা ভাবা হয়নি, লি তার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় ও দীর্ঘ সময় ধরে এটি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, লি নিজের স্বাস্থ্যের উন্নতির উদ্দেশ্যে ওষুধটি গ্রহণ করেছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্তের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতিতেই তার মৃত্যু হয়েছে। লরেন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে আনুষ্ঠানিক সতর্কতামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের অনুরোধ জানালেও করোনার জানান, সে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, অনলাইনে এ ধরনের ওষুধ সহজে কেনাবেচার বিষয়টি উদ্বেগের। তদন্ত শেষে লির মৃত্যুকে 'মিসঅ্যাডভেঞ্চার' বা অনিচ্ছাকৃত ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ফলে সংঘটিত মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর অনেকগুলোরই বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকে না। কোনো ওষুধ বা বিকল্প চিকিৎসা গ্রহণের আগে অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সূত্র: দ্য সান, যুক্তরাজ্য; করোনারের তদন্তে উপস্থাপিত তথ্য